প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৭
রাত্রি মনি
বিকেলের বৃষ্টিস্নাত আকাশ যেন পরেছে নতুন এক সরলতার আবরণ, প্রকৃতি শান্ত হয়ে উঠেছে স্নিগ্ধতায়। ক্যালাব্রিয়ার পাহাড়ের গা বেয়ে নামা কুয়াশা আঙ্গুরের বাগানকে ঢেকে রেখেছে স্বপ্নিল পর্দার মতো, আর টুপটাপ ফোঁটার শব্দে চারপাশে বাজছে নীরব কোনো সুর।
পেন্টহাউজের বিশাল কাঁচের জানালার পর্দা সামান্য সরে দিয়ে সেই দৃশ্য ভেসে আসছে ভেতরে। আধো আলোয় ঢাকা ঘরে বৃষ্টির পরের ম্লান আলো এসে পড়েছে বিশাল বিছানায়। সেখানে গভীর নিদ্রায় ডুবে আছে দু’জন। পুরুষটির নগ্ন পেটে মুখ গুঁজে নিস্তব্ধ হয়ে শুয়ে আছে মেয়েটি, যেন তার নিরাপত্তা খুঁজে পাচ্ছে সেই উষ্ণ দেহে। পুরুষটি তার শক্ত বাহু দিয়ে ঢেকে রেখেছে মেয়েটাকে, নিঃশ্বাসের ওঠানামা মিলেমিশে গেছে বাইরের স্নিগ্ধতার সঙ্গে।
আধো ঘুমের ঘোরে রিমের ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়া লালার ফোঁটা এসে থামল জেইনের শক্তপোক্ত পেটে। অবচেতনেই সে পেটে ঠোঁট ঘষে মুছে নিল ভেজাভাব, তারপর হাত দিয়ে আবার মুছে ফেলল ঠোঁট।আলোর পাতলা রেখা জানলার ফাঁক দিয়ে এসে তার মুখে পড়তেই চোখ দুটো কুঁচকে গেল, তারপর আধখোলা পাতার ফাঁকে ঝিলমিল করে উঠলো ঘুমকাতুরে দৃষ্টি। ঠোঁটের কোণে নিঃশ্বাস জমে আছে, হঠাৎ হাই টেনে মাথা কাত করে নিলো। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে ঝুলছে, হাত তুলে অবচেতনেই ঠিক করতে গিয়ে আবার জেইনকে আঁকড়ে ধরলো।
তারপর হালকা ভ্রু কুঁচকে যেন নিজের ভেতরেই প্রশ্ন করছে—”কোথায় আছি?”
একটু সময় লাগে আসলেই বোঝার জন্য।
অবশেষে শরীরটা ধীরে ধীরে টেনে উঠে বসল, ছোট্ট একটা বিরক্তির শব্দ বের হয়ে গেল ঠোঁট দিয়ে—
“উফ্…”
কিন্তু বসার সঙ্গে সঙ্গেই মাথার ভেতর বজ্রাঘাতের মতো ব্যথা ছড়িয়ে পড়ল। মনে হলো খুলিটা যেন ফেটে যাচ্ছে। চোখ মেলে রাখা কষ্টকর হয়ে উঠল, চারপাশটা যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। অস্পষ্ট দৃষ্টিতে পাশে তাকাতেই চোখে পড়ল জেইন অর্ধন*গ্ন অবস্থায় নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে। ভারী নিঃশ্বাসের সাথে বুক ওঠানামা করছে ধীর গতিতে। মুখে হালকা সন্তুষ্টির ছাপ।সেই দৃশ্য দেখে বুক ধক করে উঠল তার। আতঙ্কে যেন রক্ত জমে গেল শরীরে।
গত রাতের কথা মনে করার চেষ্টা করতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল ঝাপসা কিছু দৃশ্য, একটা ঘরে ঢোকা, ভুল করে জুস ভেবে কিছু একটা খাওয়া, তারপর মাত্তেয়োর সাথে বোতল নিয়ে টানাটানি। কিন্তু এরপর কী ঘটেছিল?, কিছুতেই মনে পড়ছে না। মনে করার চেষ্টা করলেই মাথায় যেন হাতুড়ির আঘাতের মতো ব্যথা নেমে আসছে।
কাঁপতে কাঁপতে যখন শরীর থেকে কম্ফোর্টার সরাতে গেল, তখনই বুঝল শরীরটা অদ্ভুত হালকা লাগছে। ভয়ে নিজের দিকে তাকাতেই তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। শরীরে ন্যূনতম কোনো কাপড়টুকুও নেই, সে পুরোপুরি ন*গ্ন। মুহূর্তেই তার বুক ধকধক করতে শুরু করল।
সে আর সেই মনস্টারটা, একই বিছানায়, একই আবরণে। আর কিছুক্ষণ আগেই তার মুখ গুঁজে ছিল সেই দানবের বুকে! বুকের ভেতর শীতল স্রোতের মতো ভয় ছড়িয়ে পড়ল। গলা শুকিয়ে গেল তার। সে কি ভুল কিছু করে ফেলেছে? সত্যিই কি সেই মনস্টারের সাথে…?
রিমের মাথা কাজ করছে না। চোখ ভিজে গেছে, ছোট্ট দেহটি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। তার কান্নার শব্দে জেইনের ঘুম হালকা হয়ে আসে। বিরক্তি ভরে সে মুখ কুঁচকে, আরাম করে রিমের কোমড় জড়িয়ে মুখ গুজে শুয়ে পড়ে।
রিম আরও জোরে ফুঁপিয়ে ওঠে। জেইন কিছুটা বিরক্ত হয়ে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে,
“উফফ্… একটু ঘুমাতে দাও না। এতো ডিস্টার্ব করো না। এমনিতেই সারারাত খুব জ্বালাতন করেছো! একটুও দুচোখের পাতা বন্ধ করতে পারিনি। খুব ক্লান্ত আমি। এখন একটু আরাম করে ঘুমাবো। একদম শব্দ করবে না।”
কান্না আরও তীব্র হয়। রিমের ছোট্ট হাত-পা ছটফট করতে থাকে। জেইন মাথা চেপে তুলে , ভ্রু কুঁচকে লাল লাল চোখ নিয়ে তাকায়। দেখেই মনে হচ্ছে ঘুম হয়নি সারারাত। সে জড়ানো কন্ঠে বলে,
“কি সমস্যা? এভাবে নাক ফুলিয়ে কাঁদছ কেন? সারারাত কসরত করার পর এখন শরীর ক্লান্ত লাগছে না?”
রিম আরও জোরে ফুঁপিয়ে ওঠে। জেইন এক ঝটকায় তার হাত ধরে হেঁচকা টানে ধপ করে বালিশে ফেলে দেয়। ধীরে ধীরে, নিজের শরীরের তাপ ছড়িয়ে দিতে দিতে, নগ্ন বুকে মুখ গুঁজে দেয়। নেশা দ্রব্যের মতো নিঃশ্বাসের সাথে রিমের শরীরের ঘ্রাণ টেনে নিয়ে বলে,
“The fragrance of your body has become even sweeter as it mixes with my own.”
তারপর রিমের উষ্ণ বুকে টুকরো টুকরো ভেজা চুমু দিয়ে বলে,
“নিজেও ঘুমাও আর আমাকেও ঘুমাতে দাও।”
রিম ছটফট করে হাত-পা নাড়াতে শুরু করে। জেইন শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরে, কণ্ঠে মৃদু নেশা মিশ্রিত,
“তুমি যে এতো পাজি! কাল রাত না থাকলে জানতেই পারতাম না। জ্বালিয়ে মেরেছো আমাকে। এখন একটু শান্তি চাই। ছটফট করো না, লক্ষ্মী।”
রিমের শরীর আরও অস্থির হয়ে ওঠে। মোচড়ামুচড়ি শুরু করে। জেইন তাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।হাতগুলো ধীরে ধীরে রিমের কোমর, পিঠ, এবং কোমরের পাশ ধরে আঁকড়ে ধরে। তারপর হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে,
“কি সমস্যা এমন করছো কেন? আমার কথা কানে যায়নি তোমার?”
রিমের শ্বাস আটকে আসে, গলার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে সে নাক টেনে বলে,
“ছাড়ুন আমাকে… কি করেছেন কাল আপনি আমার সাথে?”
জেইন এক ঝটকায় মাথা তুলে তাকায়, চোখ ভরা সন্দেহ, কন্ঠে বিস্ময়,
“রিয়েলি… আমি করেছি, আমি? আর ইউ কিডিং with মি? বলো যে তুমি করেছ। এই… ওয়েট ওয়েট… তোমার কি সত্যিই কিছু মনে নেই? লাইক, সিরিয়াসলি?”
রিম আরও জোরে কান্না করতে থাকে। জেইন ঠোঁট কামড়ে ফিসফিস করে নেশাক্ত গলায় বলে,
“এখন কান্না করে কি লাভ? যা হবার তা তো হয়েই গেছে। আর আমরা তো husband and wife আমাদের মাঝে এটা খুবই স্বাভাবিক।”
রিম তড়িৎ হাত দুটো কানে চেপে ধরে, চোখ দুটো খিচে বন্ধ করে ফেলে। ঠোঁট কাঁপছে। তার বুক ওঠানামা করছে অস্বাভাবিক দ্রুততায়। গলার স্বর কেঁপে গিয়ে ভাঙা ফিসফিসানি বের হয়
“চুপ করুন… প্লিজ চুপ করুন… আমি আর কিচ্ছু শুনতে চাই না…”
জেইন এক মুহূর্ত চুপ করে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। তারপর ঠোঁট কামড়ে হাসে। তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে কাল রাতের দৃশ্য…….
জেইন রিমকে নিয়ে সোজা নিজের রুমে ঢোকে।অন্ধকারে ঘরে শুধু ডিম লাইটের ক্ষীণ আলো জ্বলছে।দরজা বন্ধ হতেই বাতাসে যেন এক অদ্ভুত দমবন্ধ আবেশ ছড়িয়ে পড়ে।
সে রিমকে কালো সিল্কের বিছানায় বসিয়ে নিচু গলায় বলে,
“এখন একদম দুষ্টুমি করবে না। আমি যা বলবো চুপচাপ তাই করবে। ওকে?”
রিম আধো ঘুমে ঢুলুমুলু চোখে তার দিকে তাকায়। মাথা ভারী, শরীর যেন ভাসছে। সে হঠাৎ জেইনের বুকে মুখ গুঁজে দেয়। জেইন মুহূর্তে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফেলে। বুকের ভেতর যেন বোমা বিস্ফোরিত হচ্ছে। রিম তার ন*গ্ন বুকে ঠোঁট দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে থাকে, তারপর চোখ পিটপিট করে তাকায়,
“এমন গরম কেনো?”
জেইন শুষ্ক ঢোক গিলে গাঢ় গলায় বলে,
“কোনটা?”
রিম কোনো উত্তর না দিয়ে বিছানায় হাঁটু গেড়ে উঁচু হয়, জেইনের চোখের গভীরে দৃষ্টি গেঁথে আচমকা নিজের ঠোঁট চেপে ধরে জেইনের ঠোঁটে। মুহূর্তেই জেইন স্তব্ধ। বিস্ময়ের শিহরণে চোখ বড় হয়ে যায়। যেন শরীর পাথর হয়ে গেছে।
রিম তার ঠান্ডা হাত টেনে নিজের মসৃণ কোমরে রাখে। ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে আবেশি গলায় ক্ষীণ স্বরে বলে,
“কি হলো… করছেন না কেন?”
জেইনের গলায় শ্বাস আটকে আসে, কন্ঠ ফিসফিস করে কেঁপে ওঠে,
“উমহ্… কি?…”
রিম বিরক্ত হয়ে ঠোঁট ছেড়ে ফিসফিস করে,
“উফ্ফু… কিসি করুন। তখ……”
জেইনের ভেতরের সমস্ত বাঁধ একসাথে ভেঙে যায়। মুহূর্তেই সে বেপরোয়া ক্ষুধার্তের মতো ঠোঁট চেপে ধরলো। ওষ্ঠের সাথে ওষ্ঠ মিশিয়ে গভীর, উন্মাদ চুম্বনে ডুবে যায়। রিমের কোমর টেনে কাছে আনে, তার বেপরোয়া আঙুল এলোমেলোভাবে রিমের শরীরের পেছনের দিকে নি*ম্নভাগের নরম অংশে ঘুরতে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত চাপে রিমের ঠোঁট থেকে বেরিয়ে আসে অচেতন সুখময় গোঙানি।
সে আওয়াজ যেন জেইনের জন্য এক ধ্বংসাত্মক নেশা, ক্ষুধা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। শার্ট ভেদ করে রিমের পৃষ্ঠদেশে তার হাত ঘুরতে থাকে।
নেশাক্ত স্পর্শে রিম অস্থির হয়ে ওঠে, শরীর কাঁপতে থাকে। হাত নিজে থেকেই উঠে যায় জেইনের চুলে।যেন তাকে ছাড়াতে চাইছে আবার একইসাথে আরো গভীর করে টেনে নিচ্ছে। এই টানাপোড়েনে ঘর ভরে যায় এক ভয়ঙ্কর নেশায়। চোখ দিয়ে নোনা জল গড়িয়ে নামে। যন্ত্রণার নাকি তীব্র সুখের বোঝা যায় না। ঠোঁটে ঠোঁট, শ্বাসে শ্বাস, মুহূর্তটা হয়ে ওঠে অসহনীয়।
রিম হাঁপিয়ে ওঠে। শরীর কাঁপছে, যেন এই উষ্ণতা তাকে পুড়িয়ে ফেলছে। কিন্তু এ অনুভূতি থেকে মুক্তও হতে চাইছে না। যেন মৃত্যুও এভাবে চাই।
জেইনের কাঁপতে থাকা উষ্ণ জিহ্বা যখন রিমের ঠোঁট ভেদ করে ঢুকে পড়ে, তখন তার শরীরের প্রতিটা স্নায়ু বিদ্যুতের মতো ছটফট করে ওঠে। শ্বাস এতটাই আটকে আসে যে রিমের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। রিমের নিঃশ্বাস ধীর হয়ে এলে অবশেষে জেইন বাধ্য হয়ে ঠোঁট ছেড়ে দেয়।
রিম ঘন ঘন শ্বাস নিয়ে ধপ করে তার কাঁধে মাথা হেলিয়ে ভেঙে পড়ে। যেন তার শরীরের সমস্ত শক্তি কেউ নিঃশেষ করে দিয়েছে। জেইন রহস্যময়ী হেসে তাকে উষ্ণ বুকের সাথে মিশিয়ে রাখে।
কিছুক্ষণ পর রিমের কণ্ঠ নিস্তব্ধ হয়ে আসে। বুকের ভেতর শুধু হালকা ওঠা-নামা। তার মুখমণ্ডল শান্ত, ঠোঁটে মৃদু রক্তিম আভা। জেইন বুঝতে পারে , রিম গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে।
অস্বাভাবিক কোমলতায় জেইন তাকে আস্তে করে নিজের বাহু থেকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়। ভারী শ্বাসের শব্দে রিমের ছোট্ট দেহ কাঁপছে, যেন শিকারী নখ থেকে বেঁচে গিয়ে অচেতন নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে।
জেইনের চোখে তখন তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর অদ্ভুত মায়ার এক মিশ্র ছায়া। সে খুব আস্তে কম্ফোর্টার টেনে রিমের শরীর ঢেকে দেয়, তারপর তার নরম নাকের ডগায় ঠোঁট ছুঁইয়ে ছোট্ট চুমু খায়।
“ইশ্… আমার লক্ষীটা! এত্তো কিউট কেন? আগে জানলে রোজ তোমাকে শ্যাম্পেইন খাওয়াতাম। কিন্তু এটা তোমার শরীরের জন্য একদম ভালো না। যেটাতে তোমার ক্ষতি হবে, সেটার ছায়া আমি কখনোই তোমার গায়ে ঘেঁষতে দেবো না।”
তারপর সে ধীরে ধীরে শরীর সোজা করে উঠে দাঁড়াল। বাইরে থেকে এসেছে। গায়ে এখনো ধুলো, বারুদের গন্ধ আর রাতের অন্ধকার লেগে আছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা শরীরের কোনো একটা অঙ্গ ছটফট করছে। মনটা হাঁসফাঁস করছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। এই মুহূর্তে শরীর ঠান্ডা করা চাই। তার শরীরের প্রতিটি পেশী এই মুহূর্তে হট শাওয়ারের জন্য আকুল।
ওয়াশরুমে ঢুকতেই সাদা-কালো মার্বেল টাইলসে প্রতিধ্বনিত হলো তার ভারী পদক্ষেপ। চারপাশে হালকা বাষ্পের আবেশ, নীরবতায় পানির টুপটাপ শব্দ। বিশাল বাথটাবে ধীরে ধীরে এলিয়ে পড়তেই গরম জল ঢেকে দিল তার রুক্ষ শরীর। কপাল থেকে ঘাড় বেয়ে বাষ্প মিশে নামতে লাগল, যেন ক্লান্তি গলে গলে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ফেলল সে। মনের ভেতর হিংস্রতা আর অদ্ভুত প্রশান্তি , দুইয়ের দ্বন্দ্ব বাষ্পের ভেতর মিলেমিশে যাচ্ছে। সময় থমকে গেছে, শুধু জলের উষ্ণতা তার দেহে ছড়িয়ে দিচ্ছে এক ধরণের নেশা।
দীর্ঘক্ষণ পর উঠে দাঁড়াল। ভেজা চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ছে বুক বেয়ে নিচে। শরীরে বাথরোব না জড়িয়ে অলস ভঙ্গিতে কোমড়ে সাদা টাওয়াল পেঁচিয়ে নিল। তার ভেজা দেহ চকচক করছে, বুকের শিরাগুলো ফুলে ওঠা, দৃষ্টিতে হিংস্র আগুন।
ধীরে ধীরে দরজা ঠেলে বাইরে বেরোল সে। রুমে পা রাখতেই তার চোখ কুঁচকে গেল। রিম বিছানায় নেই! চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখতে পেল রিম উঁচু সেল্ফের উপর উঠে বসে আছে। জেইন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে, বুঝতে পারে না, এই মেয়েটা এতো উঁচুতে উঠলো কি করে!
সে ধীরে ধীরে রিমের দিকে এগোতেই, রিম ঝটপট করে কিছু একটা পেছনে লুকিয়ে ফেলে।জেইন সন্দেহোর চোখে তার দিকে তাকায়। এক ভ্রু উঁচু করে বলে,
“এখানে কি করছো তুমি? তোমাকে বলেছিলাম না একদম দুষ্টুমি করবে না! হাতে কি দেখি, কি লুকিয়েছো পেছনে?”
রিম ঠোঁট ফুলিয়ে দুহাত সামনে আনে। চোখ পিটপিট করে মুখে সরলভাব এনে মিষ্টি করে বলল,
“কিছু না তো। কিছুই লুকাইনি আমি বিশ্বাস করুন। আমি ফ্রিজ থেকে একটাও চকলেট নেইনি। ওগুলো খেলে তো দাঁতে পোকা হয়। আমি জানি তো। আমি তো শুধু এখানে বসে শুধু হাট্টিমাটিম খেলছিলাম।”
জেইন ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলল। “এই মেয়েটা একদমই নিষ্পাপ বাচ্চার মতো অভিনয় করছে!” সে রিমকে কোমলে কোলে তুলে নিল। রিম ছটফট করতে থাকে, পেছনে লুকানো চকলেটগুলো তুলে ধরতে চেষ্টা করে। জেইন সেটা দেখতে পেয়ে চোখ ছোট ছোট করে বলে,
“আপনি না বললেন, আপনি চকলেট নেননি! তাহলে এগুলো কোথা থেকে আসলো?”
রিম তার বুকে মুখ লুকিয়ে মিনমিনে গলায় বলে,
“আমি তো শুধু লুকিয়ে রাখছিলাম, যাতে আপনার চকলেট কেউ চুরি করতে না পারে।”
জেইন ঠোঁট টিপে নিজের হাসি সংবরন করে রাখে। রিমের ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা চকচকে চিহ্ন তার চোখ এড়িয়ে যায় না।
“তাই? তাহলে তোমার ঠোঁটে মিষ্টি দাগগুলো কোথা থেকে এলো?”
রিম মুখটা নিষ্পাপ বাচ্চার মতো করে চোখ পিটপিট করে তাকাল,
“কিচ্ছু না তো, বিশ্বাস করুন।”
“তাই? ঠিক আমি নিজেই চেক করে দেখছি।”
জেইন ধীরে ধীরে ঝুঁকে রিমের ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা চকলেট জিভ দিয়ে চেটে ফেলে। উষ্ণ স্পর্শে রিম শিহরণে কেঁপে উঠলো। শরীর থরথর করে কাঁপছে। ভয়ে সে জেইনের বুকে মুখ লুকিয়ে ফেললো।
জেইন হালকা গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“তুমি তো বলেছিলে চকলেট খাওনি। তাহলে এসব কি?”
রিম ঠোঁট ফুলিয়ে, অভিমানি গলায় বলল,
“বেশি খাইনি তো।”
তারপর হাতের আঙুল গুনে,
“১…২…৩…৬… না না ১৬ মাত্র ষোলটা খেয়েছি। বিশ্বাস না হলে গুনে দেখুন, প্যাকেটগুলো ওখানেই আছে।”
“তাই? মাত্র ষোলটা! তাহলে তো এতো কম খাওয়ার জন্য তোমাকে পানিশমেন্ট তো পেতে হবে, তাই না?”
রিম নাক ফুলিয়ে কেঁদে ওঠে,
“কি করবেন আপনি আমার সাথে?”
“সেটাতো একটু পরেই দেখতে পাবে।”
সাথে সাথে রিম জেইনের কাঁধে কামড় বসায়। জেইন চোখ কুঁচকে তাকে ছেড়ে দেয়। সেই সুযোগে রিম দ্রুত পালিয়ে যায়। জেইন কাঁধে হাত রেখে দেখে লাল দাগ হয়ে গেছে। ছোট্ট মেয়েটা তো ভীষণ ছলনাময়! আজ এই মেয়েকে কিছুতেই ছাড়বে না সে। সে ঠোঁট কামড়ে বলে,
“Run if you can, little rabbit….”
রিম ছোট ছোট পায়ে পুরো রুম জুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে। জেইনও বাচ্চাদের তার পিছনে ছোটা শুরু করল। রুমটা এত বড়ো যে তাদের ছুটাধাওয়ায় কোনো বাধা নেই। রিম চঞ্চল পায়ে ছুটতে ছুটতে মজা করে বললো,
“ধরতে পারবেন না! আপনি আমাকে ধরতে পারবেন না!”
জেইন ঠোঁট কামড়ে তাকে শাসিয়ে বলে,
“আজকে শুধু একবার ধরতে পারি, তারপর খবর করে ছাড়বো তোমার!”
হঠাৎ রিমের দৌড়ের গতি বেড়ে যায়। সে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলে,
“আআআআ… ধরুন আমাকে! ধরুনননন! আমার পা থামছে না…আআআ… আমার পাআআআ… আমার পা কোথায় চলে গেল? আআআ… আমাকে বাঁচাাাান!”
জেইন চোখ খিচে কানে হাত দিয়ে বলে,
“ওরে ছোট্ট দুষ্টু! তুমি কি সত্যিই মনে করো তোমার পা নিজে থেকে পালাবে?”
হঠাৎ জেইন ঝপ করে রিমকে জাপটে ধরল। ফট করে চোখের পলকে কোলে তুলে নিল। রিম হাত-পা ছোড়াছুড়ি করতে করতে চিৎকার করল,
“আআআ… নামান আমাকে! আআআ….”
জেইন ধমকের সুরে বলল,
“চুপ!!! একদম চুপ! অনেক বেশি জ্বালাও তুমি। আজকে তোমার ডানা দুটো ভাঙবো আমি।”
বলেই সে রিমকে শব্দ করে নরম বিছানায় ফেলে দিল। রিমের শরীর বাউন্স করে উঠল। নরম বিছানায় খুব ব্যথা না হলেও কোমড়ে সামান্য ব্যথা অনুভূত হলো। সে ঠোঁট ফুলিয়ে ন্যাকা স্বরে কেঁদে উঠল,
“এ্য্য্য্য্য্য্য্য্য… আমার কোমড় ভেঙে দিলো রে! কেউ বাঁচাও আমাকে… এ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য…”
জেইন বিরক্ত হয়ে ধমকে উঠল,
“চুপ!!! আর একবার চিৎকার করলে ঠাঁটিয়ে কান লাল করে দেবো, ইডিয়ট!”
রিম মুখ ফুলিয়ে ঠোঁটে আঙুল রেখে বিছানায় বসে রইল। জেইন বিছানায় উঠে বসতেই সে হুট করে ভঙ্গি পাল্টালো একটু স্টাইল করে আধশোয়া ভঙ্গিতে বসল।
ধীরে ধীরে ঘাড়ের এক পাশ থেকে শার্ট নামিয়ে দিলো।
আর নিচ থেকে উরুর ওপরের অংশ পর্যন্ত কাপড় টেনে তুললো। চোখের সামনে ঝকঝকে দৃশ্য , কলার বোনের ওপরে ছোট্ট কালো তিলটা যেন আলোর ঝলকানি দিচ্ছে। ফর্সা উরুর নরম অংশ দৃশ্যমান হতেই জেইনের গলা শুকিয়ে গেল।
সে শুষ্ক ঢোক গিলে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। চোখ সরাতে পারছে না। বুকের ভেতর অদ্ভুত দহন, শ্বাস অনিয়মিত হয়ে যাচ্ছে। কাঁপা হাত বাড়িয়ে ধীরে শার্টটা ঘাড়ে তুলে দিতে গেলো সে। কিন্তু রিম দুষ্টু হেসে আবার সেটি নিচে নামিয়ে দিল। জেইন যতবার শার্ট টেনে দেয়, রিম ততবার দুষ্টুমিভরা ভঙ্গিতে সেটা নামিয়ে ফেলে। যেন ইচ্ছে করেই তাকে উত্যক্ত করছে।
শেষে জেইন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুরে তাকাতেই রিম তার দিকে বালিশ ছুড়ে মারে। জেইন দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে। মেয়েটা আসলেই একটা “ডেভিল”। পরক্ষনেই জেইন তার দিকে পাল্টা বালিশ ছুড়ে মারে।
শুধু হয় দুজনের বালিশ যুদ্ধ। সাদা তুলোর ঝড় উড়তে থাকে পুরো ঘরে। যেন তুষার পাত। রিম খিলখিল করে হেসে ওঠে। জেইন চোখ রাঙিয়ে তাকে থামানোর চেষ্টা করে।
“স্টপ ইট বার্বিডল।”
কিন্তু রিম তার কোনো কথা মাথাতেই নেয় না। হাসতে হাসতে, ছোড়াছুড়ির মাঝে হঠাৎ ঠুস করে জেইনের কোমরের তোয়ালে খুলে গেল। মুহূর্তের মধ্যে দুজনেই থমকে গেল। তুলো উড়া বন্ধ হয়ে যায়, হাসি থেমে যায়।
রিম চোখ বড় বড় করে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঠোঁট ফাঁক হয়ে যায়।
“ওয়য়য়াউ…”
পরক্ষনেই খিলখিল করে উচ্চ শব্দে হেসে উঠলো। যেন ভীষণ মজার জিনিস দেখতে পেয়েছে সে। জেইন চোখের পলকেই তোয়ালে কুঁচকে কোমরে জড়িয়ে নেয়। রিম তার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে কৌতুহলী গলায় বললো,
“ওটা কি ছিল? আমি দেখবো।”
জেইন যেন কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে। এক সেকেন্ডে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। রিম এবার তোয়ালে টেনে ধরে জেদী কণ্ঠে বলে,
“আরে খুলুন না! একটু দেখতে দিন না। ওটা কি ছিল? আমি দেখবো।”
রিম টানাটানি করলে, জেইন বিরক্ত গলায় বলে ওঠে।
“এই মেয়ে, কি শুরু করেছো?”
কিন্তু রিম থামার মেয়ে নয়। চোখে কৌতূহলের ঝিলিক,
“উফ্… দিতে চান না কেন? আমি তো আগে কখনো দেখিনি! একটু দেখতে দিন না।”
জেইনের গলার রগ ফুলে ওঠে। দাঁতে দাঁত চেপে ধীরে ধীরে বলে,
“দেখার খুব শখ না? তাহলে দেখো… তারপর দেখবো কত হ্যান্ডেল করতে পারো।”
রিম কপালে ভাঁজ ফেলে, চোখ ছোট করে তাকায়।
“হ্যান্ডেল না করতে পারার কি আছে! আমি সব পারি। দরকার হলে কাঁচি দিয়ে ঠুস করে কেটে দেব। ব্যস, তাহলেই হয়ে যাবে।”
জেইনের রাগের মাত্রা যেন দ্বিগুন হাড়ে বেড়ে যায়। তার মুখ লাল হয়ে গেছে। রাগে না লজ্জায় বোঝা যাচ্ছে না। সে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“স্টুপিড গার্ল! কেউ নিজের ভবিষ্যৎ এভাবে কেটে ফেলে? ইচ্ছে তো করছে ঠাঁটিয়ে দুটো চড় মারি। কিন্তু শেষে আঘাতটা গিয়ে লাগবে আমার বুকেই।”
তারপর বিরক্তি চাপতে না পেরে জেইন বিছানা থেকে নেমে যায়। হাঁটতে হাঁটতে কাবার্ড খুলে একটা লাল রঙের থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট বের করে। তোয়ালের আড়ালে দ্রুত পরে ফেলে।
রিম তখনও বিছানায় বসে আছে, মুখ গম্ভীর করে। ঠোঁট ফুলিয়ে আছে, চোখে অভিমান জমে আছে।
“একটু দেখতে দিলে কি হতো! মনস্টার একটা… ভালো করে কিছুই দেখতে দিলো না।”
তারপরই অজান্তেই ঠোঁটের কোণে একটা লাজুক হাসি ফুটে ওঠে। বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ বেড়ে যায়। যাই হোক না কেন জিনিসটা সুন্দরই ছিল। ভাবতেই তার গাল, লাল টকটকে হয়ে যায়।
জেইন প্যান্ট পরে সামনে আসতেই রিম মুখ ফুলিয়ে অভিমান করে চুপচাপ বসে থাকে।জেইন পাত্তা না দিতেই সে হঠাৎ দুষ্টু হেসে “ঠুস” করে একটা বালিশ ছুড়ে মারে তার দিকে।
জেইন চোখ সরু করে তাকায়,
“আবার?”
বলে সেও আর দেরি না করে বালিশ তুলে রিমের দিকে ছুড়ে মারে। রিম খিলখিল করে হেসে কুঁকড়ে পড়ে যায় বিছানায়। হাসির শব্দে যেন পুরো ঘর আলোয় ভরে ওঠে।
জেইন হঠাৎ থেমে যায়। তার চোখ আটকে থাকে রিমের হাসিমাখা মুখে। কতই না প্রাণবন্ত, কতই না সুন্দর লাগছে তাকে। এক মুহূর্তে সব রাগ, বিরক্তি কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়।
ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে, এক হেঁচকায় রিমের কোমর জড়িয়ে নিজের বুকের কাছে টেনে আনে। চোখে চোখ রেখে মাদকতায় ভরা গলায় আস্তে আস্তে গেয়ে ওঠে,
“Ek ho gaye hum… aur tum…” 🎶
রিম লাজুক হেসে শরীর মুচড়ে তার থেকে ঘুরে বলে,
Humma.. humma.. humma..
জেইন আবার তাকে হেঁচকা টানে নিজের বুকে ফেলে দেয়। ঘাড়ে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে,
To udd gayi neende re…
রিম ঠোঁটের স্পর্শে কেঁপে ওঠে। লাজুক কন্ঠে ফিসফিস করে বলে,
Hey…. Humma….
জেইনের হাত রিমের শার্ট ভেদ করে মসৃণ পেটে ছুঁয়ে যায়। ঠান্ডা, খড়খড়ে স্পর্শে রিম কেঁপে ওঠে। শিরশিরানি বুকের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে।
ধীরে ধীরে স্পর্শটা আরও গভীর, আরও গাঢ় হতে থাকে। জেইনের আঙুলে যেন এক অদৃশ্য খেলা, যা রিমকে নিঃশ্বাস ফেলতে বাধ্য করে।
সে কোমড় শক্ত করে চেপে ধরে নিচু হয়ে বসে। শার্টটা আলতো করে উঁচু করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় তার মসৃণ পেটে। রিম ঝাকুনি দিয়ে ওঠে, জেইনের চুলগুলো খপ করে মুঠোয় চেপে ধরে।
জেইন মাথা তুলে তাকায়। ডিম লাইটের আলোতে দেখা যায় রিমের বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। ঠোঁট হালকা কাঁপছে, চোখ বুজে ফেলা রিমকে এক মুহূর্তে যেন অপ্সরীর মতো লাগছে।
জেইনের ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে। চোখে অদ্ভুত মোহ, কণ্ঠে মাদকতা। সে আস্তে আস্তে গেয়ে ওঠে,
“Khili chandni jaisa yeh badan…
Janam mile tumko…
Mann mein socha tha jaisa roop tera,
Aaya nazar humko…” 🎶
রিমের শরীর অস্থির হয়ে উঠেছে। শিরশিরে অনুভূতিতে বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিচ্ছে। ঠোঁট হালকা ফাঁক হয়ে গেছে, নিঃশ্বাস ভারী, কাঁপা কাঁপা।
ধীরে ধীরে সে ঝুঁকে আসে জেইনের দিকে। কণ্ঠে কাঁপন, গলায় মাদকতা,
“Sitam khuli khuli…
Ye sanam gori gori…
Ye baahein karti hai yoon…” 🎶
তারপর সে জেইনের বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলে। বুকের ভেতর ধপধপ করা স্পন্দনে জড়িয়ে ধরে জেইনকে।
চোখ বুজে ফিসফিস করে গেয়ে ওঠে,
“Humein tumne jab gale lagaya…
To kho hi gaye hum…” 🎶
জেইনের ঠোঁট রিমের বুকে ডুবে যায়। ঠোঁটের ভেজা স্পর্শ পেতেই রিম তাকে ধাক্কা মেরে বিছানায় ফেলে দেয়। জেইন ব্যালেন্স হারিয়ে “ধপ!” করে পড়ে যায়। রিম দুষ্টু চোখে তাকিয়ে বিছানার উপর দাঁড়িয়ে লাফালাফি শুরু করে। তার শরীর বাউন্স করে ওঠে প্রতিবার, চুল এলোমেলো হয়ে বাতাসে উড়ে যায়।
জেইন কিছুক্ষণের জন্য তাকিয়ে থাকে মুগ্ধ হয়ে। তারপর নিজেও এক লাফে উঠে দাঁড়ায়। সে যেন হিংস্র মাফিয়া থেকে হুট করে বাচ্চা হয়ে যায়। সেও রিমের সাথে লাফাতে শুরু করে।
রিমের খিলখিল হাসি পুরো ঘরটাকে মাতিয়ে রাখে। জেইনও অবচেতনেই প্রাণখোলা হাসি দিয়ে ওঠে।
কে বিশ্বাস করবে এই রক্তপিপাসু মাফিয়ার এমন দিক আছে, এত প্রাণবন্ত, এত হাসিখুশি এক রূপ যা শুধুই রিমের জন্য।
দুজনেই ক্লান্ত হয়ে শেষে ধপ করে বিছানায় লুটিয়ে পড়ে। নিঃশ্বাসে ক্লান্তি, তবু হাসি কারো মুখ থেকে সরছে না।
হঠাৎ রিম পাশ ফিরে জেইনের মুখের উপর ঝুঁকে আসে। জেইনের বুকের ধড়ফড় যেন থেমে যায়। রিম কপাল থেকে ধীরে ধীরে আঙুল বুলিয়ে স্লাইড করতে করতে নিচে নামায়, গাল পেরিয়ে গলার কাছে এসে থামে। আড্যাম’স অ্যাপেলে আঙুল থামাতেই জেইন অস্থির হয়ে যায়।
রিম ঝুঁকে সেখানে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। জেইনের শরীর কেঁপে ওঠে, বড় করে ঢোক গিলে ফেলে। রিম ধীরে ধীরে তার ওপর থেকে উঠে যায়, ঠোঁট কামড়ে দুষ্টু হেসে আঙুল নাড়িয়ে তাঁকে ইশারায় কাছে ডাকে। তারপর দ্রুত কম্ফোর্টারের নিচে ঢুকে যায়।
জেইনের হৃদস্পন্দন যেন কানে বাজছে। এক মুহূর্তও অপেক্ষা করতে পারে না। এক্ষুনি এই মেয়েকে চাই। দ্রুত কম্ফোর্টারের ভেতরে ঢুকে পড়ে। অন্ধকার কম্ফোর্টারের ভেতর থেকে ভেসে আসে জেইনের ব্যথাতুর কন্ঠ,
“আউচ!! কি করছো?….”
“তিলের বার্গার খাচ্ছি।”
“তাই? তাহলে আমিও খাই?”
“কোথায়?”
“তোমার ঠোঁটে….”
একটু পরেই রিমের গলার কাঁদো কাঁদো স্বর শোনা যায়,
“আহহ্” কামড়ে দিলেন কেন? ব্যথা পেয়েছি।”
“তুমি যখন কামড়ে ছিলে তখন?……..
এএএই কি করছো? খুলছো কেন?”
“গরম লাগছে খুব।”
বলেই রিম জেইনকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। ন*গ্ন বুকের উষ্ণ স্পর্শে জেইনের রক্ত চলাচল দ্রুত হয়ে যায়। গলা থেকে বের হয় কাঁপা স্বর,
“আমারও লাগছে। সো হ…ট!”
“তাহলে খুলে ফেলুন।”
“সত্যিই খুলে ফেলবো কিন্তু?”
“আচ্ছা শুনুন না, আমার একটা প্রশ্ন আছে। আচ্ছা বলুন তো, হাতি এতো মোটা আর বড় কিন্তু পিঁপড়ে এতো ছোট হয় কেন?”
“হোয়াট!! এই সময়, এই ধরনের আজগুবি প্রশ্ন কোত্থেকে আসে তোমার মাথায়?”
“উফ্ বলুন না।”
“কারন পিঁপড়ে ডিম পাড়ে আর হাতি বাচ্চা দেয়।”
তারপর সে একটু ভাবুক হয়ে বলে,
“আচ্ছা ঘোড়া ডিম পাড়ে না। কিন্তু সবাই কেন বলে, ঘোড়ার ডিম!’
রিমের আজগুবি প্রশ্নে হতবুদ্ধি হয়ে যায় জেইন,
“কারন সবার মাথায় তোমার মত বুদ্ধি নেই।”
কিছুক্ষণ জেইন রিমের কোনো শব্দ শুনতে পায় না। শুধু নিঃশ্বাসের শান্তি। হঠাৎ নাক টানার ছোট্ট শব্দ শুনে তার চোখ কুঁচকে যায়। ধীরে কম্ফোর্টার উঠিয়ে দেখে, রিম গভীর ঘুমে শব্দ করে নাক টানছে।
জেইন বুঝতে পারে এটা অ্যালকোহলের প্রভাব। হালকা হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে সে রিমের উষ্ণ বুকে মুখ ডুবিয়ে শুয়ে পড়ে।
কিন্তু যতই সে আরাম খুঁজে নিতে চায়, রিমের নাক ডাকার ছোট্ট শব্দ তাকে শান্তি দেয় না। তার ঘুম হারাম হয়ে যায়।………..
রিমের ফোপানোর শব্দ জেইনের ধ্যান ভাঙে। চোখ ধীরে ধীরে গড়িয়ে নামে রিমের লাল হয়ে ওঠা মুখ থেকে গলিয়ে নেমে এসে থেমে যায় তার অরক্ষিত বুকের উপর। সে ঠোঁট কামড়ে ফিসফিস করে বলে,
“বিলিভ মি তোমার এভাবে দেখে ভীষণ bad boy হতে ইচ্ছে করছে আমার। রাতের অসম্পূর্ণ কাজটা এখন সেরে ফেলি?”
রিম কেঁপে উঠে তড়িঘড়ি করে কম্ফোর্টার টেনে নিল গায়ে। তার গলা শুকিয়ে গেল। তারপর এক সেকেন্ড তার মাথায় ক্যাঁচ করে “অসম্পূর্ণ কাজ”, তার মানে? জেইন তার অস্থিরতা ধরে ফেলে। বালিশে হেলান দিয়ে ঠোঁট কামড়ে একরকম নেশাভরা চোখে তাকায়, তারপর ফিসফিস করে বলে,
“Relax, বার্বিডল… রাতে কিছুই হয়নি। শুধু…একটু ছোঁয়া ছুঁয়ি। Just a touch… nothing more.”
এক মুহূর্ত থমকে থেকে রিম হালকা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কিন্তু সেই স্বস্তি যেন পুরোপুরি সত্যি হতে পারছে না।জেইনের দৃষ্টি তখনও তার উপর আঁকড়ে আছে।
পেন্টহাউজের ড্রয়িং রুমে বসে ইয়াশ। প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে তার। কখন থেকে বসে আছে। অথচ সেই মহারাজ তাকে জরুরি তলবে ডেকে বউ নিয়ে রুমে রুমে দরজা লাগিয়ে বসে আছে।
সে এদিক ওদিক চোখ ঘুরিয়ে দেখছে। এলেনাকেও কোথায় দেখতে পাচ্ছে না। রুমেও গিয়েছিল কিন্তু সেখানেও নেই মেয়েটা। কোথায় গেছে কে জানে? সারাদিন শুধু কাজ, কাজ আর কাজ। নিজের যত্ন নেয়ার সময়ও নেই একটু।
অস্থির হয়ে ওঠে ইয়াশ আর কতক্ষন এভাবে বসে থাকবে? একবার কি হতচ্ছাড়াটার রুমে নক করে দেখবে? না না বাবা! বউ সাথে আছে এসময় বিরক্ত করলে ঠাস ঠুস লাগিয়ে দেবে। কিন্তু এ সময়ে হঠাৎ কি এমন জরুরি প্রয়োজনে ডাকলো তাকে?
রিমের আর শুয়ে থাকতে ভালো লাগছিল না। শরীরের ভেতর অদ্ভুত অস্বস্তি কিন্তু বিছানা ছেড়ে নামতেও পারছিল না, সে পুরোপুরি ন*গ্ন। বুক ধকধক করতে লাগল। পাশ ফিরে তাকাতেই চোখ আটকে গেল সামনে রাখা একখানা সাদা সিল্কের নাইট ড্রেস!
ভ্রু কুঁচকে চোখ ঘুরিয়ে তাকালো জেইনের দিকে। মনস্টারটা চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান করছে। রিম বুঝতে পারছে এই পোশাকটা ওর হাতেই এসেছে। ঠোঁট কামড়ে গাল লাল হয়ে উঠল। তাড়াহুড়ো করে কমফোর্টারের নিচেই ড্রেসটা গায়ে জড়িয়ে নিল। সাদা সিল্ক তার গায়ে গলে গিয়ে শরীরের প্রতিটা কার্ভ আরও স্পষ্ট করে তুলল।
নিঃশব্দে বিছানা থেকে নামল। পা টিপে টিপে এগিয়ে গেল বারান্দার দিকে। থেমে, জেইনের দিকে তাকিয়ে মুখ ছোট করে বলল
“আমি বারান্দায় যাবো।”
জেইন চোখ খুলল না। ভারী কণ্ঠে শুয়ে শুয়ে শুধু বলল,
“হ্যাঁ… যাও।”
রিম ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“ডোর লক করা।”
জেইন কোনো শব্দ করল না। অলসভাবে হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর থেকে রিমোটটা চাপল- ক্লিক, সাথে সাথেই বারান্দার গ্লাসডোরের লক খুলে গেল।
রিম চঞ্চল পায়ে ভেতর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় পা রাখল। কিন্তু প্রথম স্টেপেই তার পা দুটো থমকে গেল, চোখ বড় বড় হয়ে গেল। মুখ হাঁ হয়ে গেল বিস্ময়ে।
এটাই প্রথম সে এ রুমের বারান্দায় এসেছে। আর দৃশ্যটা যেন সরাসরি তার স্বপ্ন থেকে তুলে আনা। যেন ছোট্ট এক স্বর্গ। এক পাশে নীলাভ কাঁচের টাইলসে মোড়ানো বড় একটা সুইমিং পুল, জলের মধ্যে বৃষ্টির ফোঁটার পরশ এখনো ছোট ছোট ঢেউ তুলছে। পুলের এক কোণে ভাসছে কিছু সুগন্ধি ফুলের পাপড়ি, হালকা আলোয় ঝিকমিক করছে তার গায়ে জমে থাকা ফোঁটা।
পুলের পাশেই কাঠের ডেকের উপর সাজানো আছে ছাউনি দেওয়া সাদা চেয়ার-টেবিল সেট, টেবিলের উপর রাখা কাঁচের ফুলদানি ভর্তি সাদা লিলি আর লাল গোলাপ। সেখানে বসলে মনে হয়, শহরের কোলাহল থেকে বহু দূরে নিরিবিলি কোনো ভিলা রিসর্টে বসে আছো।
অন্য পাশে সাজানো আছে বিদেশি গাছপালা—অর্কিড, ফার্ন, পাম ট্রি আর ল্যাভেন্ডারের টবে ভরা সবুজে ঘেরা কোণা। টবের পাশে ছোট্ট পাথরের স্ট্যান্ডে সাজানো রঙ-বেরঙের টিউলিপ আর সূর্যমুখীর গাছ, যেগুলো বৃষ্টির পর যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
বারান্দার মাঝ বরাবর ঝুলছে একটি প্রশস্ত দোলনা, কাঠের তৈরি, তার উপরে নরম কুশন আর কম্বলের মতো কাপড় বিছানো। দোলনায় বসলে সামনের দৃশ্যটা আরও রূপকথার মতো লাগে।
চারপাশের রেলিং জুড়ে ছোট ছোট লাইটিং, যেগুলো হালকা হলুদ আলোয় জ্বলে উঠছে। বৃষ্টির পর সেগুলো যেন আরও উজ্জ্বল ও ঝলমলে দেখাচ্ছে, প্রতিটি ফোঁটার প্রতিফলনে আলো নাচছে।
রিম খুশিতে আত্মহারা হয়ে দৌড়ে গিয়ে দোলনায় বসে হালকা দুলতে থাকে। চারপাশে ফুলের মাতাল করা গন্ধ, ঠাণ্ডা হাওয়ায় তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছিল। কিছুক্ষণ পর সে উঠে দাঁড়াল। নীলচে পানির পুল যেন তাকে অদ্ভুতভাবে টানছিল। সামনে গিয়ে পা ডুবিয়ে বসল। ঠাণ্ডা জলে পা ভিজিয়ে শিশুর মতো হাত চুবিয়ে আঁকিবুঁকি করতে লাগল। চোখে যেন শান্তির স্বপ্ন জেগে উঠল।
প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৬ (২)
কিন্তু হঠাৎ পেছন থেকে পায়ের শব্দ।রিম ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই—ঠাস!
মুহূর্তেই শরীরটা ভারী শব্দে জলে আছড়ে পড়ল। ঠাণ্ডা পানির ধাক্কায় বুকটা জমে গেল, শ্বাস আটকে এল। সে সাঁতার জানে না। চোখ অন্ধকার হয়ে আসছিল, হাত-পা ছুঁড়ে হাবুডুবু খেতে লাগল। মুখে মুখে পানি ঢুকে দম বন্ধ হয়ে আসছে। চোখ বিস্ফারিত, গলা থেকে অসহায় চিৎকার ভেসে এলো
“আআআ… বাঁচাননন! বাঁচান আমাকে, আমি… আমি সাঁতার জানি না!”
