Home প্রাণসঞ্জীবনী প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৮

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৮

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৮
রাত্রি মনি

রাত তখন গভীর। নিস্তব্ধতা যেন কানে কানে ফিসফিস করে কিছু বলতে চাইছে। ঘড়ির কাঁটা একটা কি দেড়টার ঘরে এসে থেমে আছে। করিডোরজুড়ে অন্ধকার, কোথাও কোথাও মৃদু আলো ঝলক দিচ্ছে। রিম সেই রহস্যময়ী কক্ষের সামনে থমকে দাঁড়ায়। বুকের ভেতর ধুকধুক শব্দ যেন বাইরেও শোনা যাচ্ছে।
হঠাৎ পেছন থেকে কারো ধাক্কা লাগতেই তার বুক কেঁপে ওঠে। গলা ফেটে চিৎকার বেরিয়ে আসার আগেই শক্ত হাত তার মুখ চেপে ধরে।

“ম্যাম, চিৎকার করবেন না প্লিজ… আমি মাহিন।”
রিমের চোখ বিস্ফারিত।
“মা…হিন? এখানে? কিভাবে সম্ভব…”
মাহিন তীব্র ফিসফিস স্বরে বলে,
“সব বলবো, কিন্তু এখন নয়। আগে স্যারকে খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের হাতে সময় খুব কম।”
ঠিক তখনই অন্ধকার ভেদ করে সামনে এসে দাঁড়ায় আরেকজন। শার্ট-প্যান্ট পরা, মুখে কঠিন অভিব্যক্তি। রিম বিস্মিত হয়ে বলে ওঠে,
“এই ছেলেটা কে?”
মাহিন ঠান্ডা স্বরে জবাব দেয়,

“ছেলে না। উনি হলেন মিস ক্যাথি। গার্ডের ছদ্মবেশে ঢুকেছি আমরা। সব প্ল্যান উনিই করেছেন।”
রিম কিছু বলার আগেই মাহিন তাকে থামিয়ে দিয়ে সতর্ক ভাবে বলে,
“ম্যাম, কথা বলার সময় নেই। এক সেকেন্ড দেরি মানে বিপদ। চলুন।”
তিনজন নিঃশব্দে করিডোর ধরে এগোতে থাকে। দূরে কোথাও জুতোর শব্দ ভেসে আসছে হয়তো গার্ডরা টহল দিচ্ছে। শ্বাস বন্ধ করে তারা একে একে দেয়ালের আড়াল বদলায়।
হঠাৎ রিম কেঁপে ওঠে। একটি দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে। বুকের ধুকপুকানি এত জোরে বেড়ে গেছে যেন দরজার অপর প্রান্ত থেকেও শোনা যায়। কণ্ঠে উৎকণ্ঠা মিশ্রিত ফিসফিস,

“এই রুমেই…এখানেই রিশাব আছে।”
ক্যাথির চোখ সরু হয়ে আসে। সন্দেহ মাখা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে,
“আর ইউ শিওর?”
রিম তৎক্ষণাৎ মাথা নাড়ে,
“হ্যাঁ! ভিডিওতে দেখেছি। কিন্তু রুমটা লক করা… আমরা খুলবো কিভাবে?”
ক্যাথি ঠোঁট হালকা বাঁকিয়ে বলে,
“ডোন্ট ওয়ারি। এইসব লক আমার কাছে শিশুদের খেলনা। এসব নিয়ে আমার অনেক অভিজ্ঞতা আছে।”
সে ঝুঁকে পড়ে দ্রুত আঙুল চালায়। ধাতব হাতলটা এক ঝটকায় ঘুরে যায় , “ক্লিক” । দরজা ধীরে ধীরে হা হয়ে খুলে যায়। রিম ও মাহিন বিস্ময়ে নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে থাকে।

ক্যাথি ভেতরে প্রবেশ করে তাদের দুজনকেও প্রবেশ করতে বলে। ভেতরে ঢুকেই রিমের শরীর জমে যায়। এক মুহূর্তের জন্য পা যেন মেঝেতে গেঁথে গেছে। অন্ধকার ঘরে চেয়ারে বাঁধা রক্তাক্ত রিশাব। মুখে, বুকে, হাতে জমাট বাঁধা রক্ত। নিস্তেজ কিন্তু জীবিত। রিমের চোখ ভিজে ওঠে। দোষারোপের ভার যেন পুরো শরীরকে চেপে ধরে। মনে মনে ফেটে ওঠে ঘৃণা সেই মনস্টারটার প্রতি, যে এতটা নৃশংস হতে পারে।
ক্যাথি দ্রুত ঝুঁকে পড়ে বাঁধন খুলতে থাকে। রশি খুলে যেতেই রিশাব মাথা তুলতে চেষ্টা করে। নিভুনিভু চোখ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়। আর সামনে রিমকে দেখে তার মুখে ক্ষীণ আলো ছড়িয়ে পড়ে।
চোখ চিকচিক করছে, ঠোঁটে রক্তাক্ত ফাটল জুড়ে সামান্য হাসি ফুটে ওঠে। কণ্ঠে ভাঙা আবেগ,
“তুমি এসেছ… আমি জানতাম… তুমি আসবেই।”
ক্যাথির বুকটা কেঁপে ওঠে। অদৃশ্য ব্যথা গলার কাছে জমে ওঠে, একবারও তার দিকে তাকালো না রিশাব। যেন অস্তিত্বই নেই।
ঠিক তখনই মাহিন কণ্ঠ নামিয়ে চাপা আতঙ্কে বলে ওঠে,
“টাইম’স ওভার। এখনই এখান থেকে বের হতে হবে। এক সেকেন্ড দেরি মানেই মৃত্যু!”

মাহিনের কাঁধে ভর দিয়ে রিশাব ধীর পায়ে এগোচ্ছে। তিনজন একসাথে হাঁটতে হাঁটতে পেন্টহাউজের শেষ মাথায় এসে দাঁড়ায়। হঠাৎ রিম থমকে দাঁড়িয়ে বলে,
“এবার তোমরা এখান থেকে তাড়াতাড়ি চলে যাও। আমাকে আবার রুমে ফিরে যেতে হবে।”
রিশাব ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
“যেতে হবে মানে? কোত্থাও যাচ্ছ না তুমি? তুমি আমাদের সাথে যাবে, বাংলাদেশ।”
রিম তার দিকে তাকিয়ে নিস্পৃহ গলার বলল,
“না, আমি এখন যেতে পারবো না। আমার এখানে কিছু কাজ বাকি আছে। অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে। সেগুলো না জেনে কোত্থাও যাব না আমি। আমাকে ক্ষমা করবেন।”
আচমকা রিশাব রিমকে নিজের জীর্ণ বুকের সঙ্গে শক্ত করে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। গলার ভিতর মিশে আছে অস্থিরতা।

“না, না, তোমাকে এখানে একা রেখে কোত্থাও যাব না আমি। এই নরকের গহীন অন্ধকারে তোমাকে ফেলে যেতে পারব না, কখনোই না।”
ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে, করিডোরের নিস্তব্ধতা চিরে এক ভারী বুটের ‘ঠকঠক’ শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। সেই শব্দ কোনো সাধারণ মানুষের নয়, যেন স্বয়ং যমদূতের পদধ্বনি। অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে রক্তাভ চোখ আর এলোমেলো চুলে হাজির হলো মৃত্যুরাজ; জেইন! তাকে দেখা মাত্রই রিমের শিরদাঁড়া বেয়ে এক হিমশীতল স্রোত নেমে গেল। সে রিশাবের প্রবল বাহুবন্ধনী থেকে নিজেকে মুক্ত করার মরণপণ চেষ্টা চালাল, কিন্তু রিশাবের প্রবল জেদের কাছে সে বন্দি। বাঁধন এতটাই প্রবল যে নড়তে পারে না। রিমের শরীর আতঙ্কে জমে রয়েছে।

পেছন থেকে কয়েকজন গার্ড এসে মাহিন আর ক্যাথিকে ধরে আটকায়। জেইন ধীরপায়ে এগিয়ে আসে; তার প্রতিটি পদক্ষেপে পেন্টহাউজের মেঝেও যেন থরথর করে কাঁপছে। চোখে জ্বলছে তীব্র হিংসার আগুন। সে যতই সামনে আগায়, রিমের বুকের ধুকপুকানি ততই তীব্র হয়। জেইন রিশাবের একদম সন্নিকটে চলে আসে। এক মুহূর্তে জেইন ইন্দ্র বসুর মতো ঝাঁপিয়ে রিশাবকে রিমের ওপর থেকে টেনে নেয় ।রিম আর্তনাদ করে ওঠার আগেই জেইনের মুষ্টিবদ্ধ হাত রিশাবের মুখে আছড়ে পড়ল। প্রথম আঘাতটিই রিশাবের চোয়াল রক্তাক্ত করে দিল।জেইন যেন কোনো দানব—সে একের পর এক পৈশাচিক আঘাত চালিয়ে যেতে লাগল রিশাবের নিস্তেজ শরীরে। প্রতিটি ঘুঁষিতে হাড় ভাঙার শব্দ করিডোরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। রিশাবের মাথা চক্কর দিয়ে উঠল, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এল, কিন্তু জেইনের ক্রোধ যেন আগ্নেয়গিরির লাভা হয়ে ঝরছেই। রিশাবের রক্তে জেইনের হাত রঞ্জিত হলো, তবুও তার প্রহার থামল না; তার ক্রোধের জাল কিছুতেই ছিন্ন হচ্ছে না। আঘাত আরও হিংস্র হয়ে ওঠে।

অসহায়ত্বের চরম শিখরে পৌঁছে রিম আর স্থির থাকতে পারল না। সে আছড়ে পড়ল জেইনের পায়ের কাছে, দুই হাতে তার হাঁটু জড়িয়ে ধরে বুকফাটা আর্তনাদে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো,
“দোহাই লাগে আপনার! ওনাকে ছেড়ে দিন প্লিজ। আমি, আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি সারা জীবন আপনার বন্দিনী হয়ে থাকব। আপনি যা বলবেন, আমি তাই করব। শুধু ওনাকে প্রাণভিক্ষা দিন।”
জেইন কয়েক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। তার মুষ্টিবদ্ধ হাত কাঁপছে, বুকের ভেতর দাউদাউ করে জ্বলছে হিংসার লেলিহান শিখা। সে সজোরে এক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নিজের ভেতরের আদিম দানবটাকে সংযত করার ব্যর্থ চেষ্টা করল। তারপর হঠাৎ এক হ্যাঁচকা টানে রিমের চুলের মুঠি ধরে তার মুখটা নিজের ন*গ্ন লালাভ চোখের সামনে টেনে আনল। দাঁতে দাঁত চেপে, প্রতিটি শব্দ তপ্ত সীসার মতো চিবিয়ে চিবিয়ে সে বলল,

“বন্দিনী তো তুমি আমার সত্তার প্রতিটি অণুতে আজীবন বন্দি হয়ে থাকবে। সেটা তোমার ভবিতব্য, তোমার ললাটলিখন। কী ভেবেছিলে? সামান্য কিছু ঘুমের ওষুধ খাইয়ে এই এজেকে অচেতন করে তুমি ওই ফাটাস্টারের হাত ধরে পালাবে? যেখানে দশ-বারোটা মরণঘাতী ইনজেকশন আমার স্নায়ুকে টলাতে পারে না, সেখানে ওই সামান্য ওষুধ আমাকে ঘুম পাড়াবে? সাচ্… অ্যা… ব্লাডি ফুল! তুমি শুধু একবার মুখ ফুটে বলতে—আমি তোমার হাতের ছোঁয়ায় ওই ওষুধের বদলে বিষও অম্লানবদনে পান করে নিতাম। কিন্তু তুমি আমার বিশ্বাসের গায়ে কুঠারাঘাত করলে! আমার সহস্র বারণ তুচ্ছ করে তুমি আবারও ওই লোকটার বাহুবন্ধনীতে আশ্রয় নিলে?”
জেইনের কণ্ঠস্বর এবার হিংস্র গর্জনে রূপ নিল, রিমের চুলের মুঠিতে তার হাতের বাঁধন আরও শক্ত হলো। ব্যথায় রিমের শরীর কুঁকড়ে গেল, কিন্তু জেইনের চোখে তখন কেবল প্রলয়।

“হাউ ডিড হি ডেয়ার? ওর সাহস কী করে হলো আমার ফায়ারফ্লাইকে স্পর্শ করার? এতদিন ওকে দয়ার দান হিসেবে বাঁচিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আজ ও আমার ধৈর্যের শেষ বাঁধটা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। আজ আমি ওর অস্তিত্বকেই পঙ্গু করে দেব। ও আর কোনোদিন কোনো নারীকে ছোঁয়ার যোগ্য থাকবে না।”
রিম চুলের ব্যথায় কুঁকড়ে আছে। চোখ থেকে ঝরছে অবিরাম অশ্রুধারা। সে জানে এবার আর এই হিংস্র মনস্টারের হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। শাস্তি বাধ্যতই হবে। তবু সে রিশাবকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা চালায়।আবার বিধবস্ত কণ্ঠে মিনতি করতে থাকে রিশাবকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ। জেইনের হৃদয় অটল, রক্তচক্ষু নিয়ে কঠোর অক্ষরে গার্ডদের দিকে ফিরে এক বীভৎস পৈশাচিক আদেশ দিল,

“এই ছেলের দুই হাত এসিড দিয়ে ঝলসে কেটে ফেল।তারপর ওর ওই পঙ্গু শরীরটাকে টেনে হিঁচড়ে বাংলাদেশে ফেলে দিয়ে আসবি। ও যেন জন্মান্তরেও এই ক্যালাব্রিয়া তো দূর, সমগ্র ইতালির মাটি ছোঁয়ার কথা চিন্তা করলেই ভয়ে আত্মা কেঁপে ওঠে!”
তার ইশারাতেই গার্ডরা তিনজনকে টেনে ভেতরের দিকে নিয়ে গেল। ভারী কাঠের দরজাটা রুদ্ধ হওয়ার শব্দে যেন পুরো পেন্টহাউজের বাতাস থমকে গেল। জেইন তখন এক উন্মত্ত ঝড়; হিতাহিত জ্ঞানহীন এক পশু। রিমের বাহু ধরে এক হেঁচকা টানে তাকে হিঁচড়ে নিয়ে এল বার কাউন্টারের ভেতর। নিদয়ভাবে তার তুলোর মতো নরম শরীরটা ছুড়ে দিল সোফার ওপর। রিম কনুইয়ে আঘাত পেয়ে যন্ত্রণায় মুখ বিকৃত হয়ে গেল, কিন্তু প্রতিবাদ করার ক্ষমতা তার নেই।
জেইন অস্থির। চারপাশে পায়চারি করছে, চোখে খুনখুনে আগুন। নিজেকে পাগল মনে হচ্ছে তার, মাথার ভেতর ঘুরছে কেবল একটিই চিন্তা। রিমের গায়ে এখনও রিশাভের ছোঁয়া লেগে আছে। আর সেটা তাকে যেভাবেই হোক মুছে ফেলতে হবে।

সে আচমকা রিমকে টেনে তুলে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল। ধাতব শব্দে রিমের কবজিতে ঠাণ্ডা লোহার হ্যান্ডকাফ আটকে গেল—পাথরশীতল দেয়ালের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় রিম পড়ে রইলো।
জেইন হঠাৎ এক হিংস্র জানোয়ারের মতো রিমের শরীর থেকে টি-শার্ট আর ট্রাউজার অবলীলায় টেনে ছিঁড়ে ফেলল। মুহূর্তেই রিমের ফর্সা শরীর অনাবৃত হয়ে পড়ল, কেবল এক টুকরো কালো লঞ্জারির আড়ালে ঢাকা রইল তার লজ্জাটুকু। যা জেইনের চোখে আগুন জ্বালিয়ে দিল আরও তীব্রভাবে।
বারের বেগুনি আলোয় রিমের ফর্সা শরীর ঝলসে উঠছে, আর জেইনের চোখ ক্ষুধার্ত শিকারীর মতো তাতে আটকে আছে। ধীরে ধীরে পিছিয়ে সে ক্ষুধার্ত শিকারীর মতো তার প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি শিরদাঁড়া গিলে খাচ্ছে দৃষ্টি দিয়ে। তার দৃষ্টির ভাঁড়ে রিম কেঁপে উঠল ঘৃণায়, শরীর শিরশির করে উঠল। নিজেকে আড়াল করতে চায়,কিন্তু হাত বাঁধা, সে অসহায়।

জেইন ধপ করে সোফায় বসে পড়ল। রিমের অর্ধন*গ্ন শরীরে দৃষ্টি রেখে রক্তলাল ওয়াইনের বোতল তুলে একের পর এক চুমুক দিতে লাগল। প্রতিটি চুমুকে মনে হচ্ছে সে ওয়াইন নয়, রিমকেই আস্বাদন করছে। চোখে-মুখে পাগল করা নেশা, কিন্তু সেটা অ্যালকোহলের নয়, রিমের।
বোতল খালি হলো, কিন্তু ভেতরের যন্ত্রণা একটুও কমল না। বরং আরও হিংস্র হয়ে উঠল তার শ্বাস। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল, ভারী পদক্ষেপে রিমের দিকে এগোতে লাগল। রিমের ঊর্ধ্ববক্ষ তখন আতঙ্কে দুলছে, প্রতিটি শ্বাস দ্রুত আর অসংলগ্ন যা জেইনের উত্তেজনাকে আরও উন্মত্ত করে তুলছে।
সে রিমের কাছাকাছি এসে ঝুঁকে পড়ল গলায়, গভীরভাবে মুখ ডুবিয়ে দিল। যেন রক্তপিপাসু নেকড়ে শিকারীর প্রথম কামড় নিচ্ছে। রিম চোখ শক্ত করে বন্ধ করে মুখ ঘুরিয়ে নিল ঘৃণায়।তার শরীরের প্রতিটি লোমকূপ যেন এই ছোঁয়ায় বিদ্রোহ করছে।

ধীরে ধীরে মুখ তুলল জেইন। চোখে মাতাল দৃষ্টি, ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের বাঁকা হাসি। নিজের তিন আঙুলে রিমের মুখ তুলে ধরে নিজের মুখের বরাবর করে ফিসফিস করে বলল
“ঘৃণা হচ্ছে… না? খুব ঘৃণা হচ্ছে! আমি ছুঁলেই শরীর জ্বলে যায়… আর সেই ফাটাস্টার যখন ছুঁয়েছিল, তখন কেমন লেগেছিল বলো? খুব ভালো লেগেছিল, তাই না? কী আছে ওর মধ্যে, যা আমার নেই? ও যখন ছুঁয়েছিল…. খুব ইনজয় করেছিলে তুমি? মজা পেয়েছিলে, না? কি ইচ্ছে করছে জানো? ইচ্ছে করছে তোমার এই তুলতুলে শরীরটা এসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে। যাতে কেউ আর কোনদিন তাকানোর সাহস না পায়!”
রিম তীব্র ঘৃণায় জ্বলে উঠল। চোখ দিয়ে গড়গড় করে জল পড়তে লাগল। নিজের শরীরকে, নিজের অস্তিত্বকে নিয়ে এত নোংরা উপহাস সহ্য করতে পারছিল না সে। অন্তরের এক কোণে মনে হচ্ছিল, হয়তো মরে গেলেই মুক্তি পাবে। ক্ষোভে কাঁপতে কাঁপতে ফিসফিস করে বলল,

“হ্যাঁ… ঘৃণা হচ্ছে আমার। প্রচুর ঘৃণা হচ্ছে। দিন এসিড দিয়ে জ্বালিয়ে। সেটাও ভালো! আপনার ছোঁয়ায় জ্বলে যাচ্ছে শরীর…”
জেইন মুহূর্তেই তার চুলের মুঠি শক্ত করে মুঠোয় ধরে মুখটা আরো কাছে টেনে নিলো। চোখে অদ্ভুত উন্মত্ততা,
“আমার ছোঁয়ায় জ্বলছে, হুম? অনেক জ্বালা তোমার শরীরে তাই না? তাইতো ওর কাছে গিয়েছিলে, শরীরের জ্বালা কমাতে। ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছেই পূর্ণ হবে। আজ আমি তোমার শরীরের সমস্ত জ্বালা কমিয়ে দেব। আজ তোমার এই সুন্দর শরীরে শুধু আমার ছাপ থাকবে। আমি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পুরুষের কথা ভাবতেও কেঁপে উঠবে তুমি। তোমার নিঃশ্বাসে, তোমার শরীরের প্রতিটি কোণে থাকবে শুধু আমার চিহ্ন।”
বলেই জেইন রিমের উষ্ণ বক্ষস্থলে মুখ ডুবিয়ে দিল। রিম থরথর করে কেঁপে উঠল, চোখে ভয়, অসহায়ত্ব আর ঘৃণার মিশ্রণ। জল চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল, তার কান্নার শব্দে জেইন বিরক্ত হয়ে মুখ উঠিয়ে নিল।
হঠাৎ সে কালো টেপ নিয়ে রিমের মুখে লাগিয়ে দিল।

“এখনই তোমার কান্নার শব্দ শুনতে চাই না। তার জন্য সারারাত পড়ে আছে। যখন আমি চাইব, তখনই কাঁদবে তুমি।”
জেইন তার হাত দিয়ে এলোমেলোভাবে রিমের শরীর স্পর্শ করতে লাগল। যেন প্রতিটি নিষিদ্ধ স্পর্শ দিয়ে অন্য কারও ছোঁয়া মুছে দিতে চাইছে। রিম সহ্য করতে পারছিল না, তার দাঁড়ানোর শক্তি, তার প্রতিরোধ সবই নিঃশেষ হয়ে গেছে।
হঠাৎ জেইন ক্ষুধার্ত পশুর মতো নিচে ঝুঁকে পড়ল। রিমের অনাবৃত, শ্বেতশুভ্র শরীরের যেখানেই তার নজর পড়ল, সেখানেই সে বসিয়ে দিতে লাগল হিংস্র কামড়। দাঁতের সেই লালচে, রক্তাক্ত ছাপগুলো রিমের সুকোমল ত্বকে এক একটা কলঙ্কের মতো বিঁধে রইল। অসহ্য যন্ত্রণায় রিম ছটফট করে উঠল; তার বুক চিরে এক আকাশ সমান চিৎকার বেরিয়ে আসতে চাইল। কিন্তু ওষ্ঠাধরে লেগে থাকা কালো টেপ সেই আর্তনাদকে কণ্ঠনালীতেই শ্বাসরুদ্ধ করে দিল। কেবল এক করুণ, বিদীর্ণ গোঙানি ঘরের গুমোট হাওয়াকে আরও ভারী করে তুলল।

জেইন এবার শব্দ করে রিমের হাতের বাঁধন খুলে দিল।মুক্তি পাওয়া মাত্রই রিম এক আহত বাঘিনীর মতো জেইনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার দুর্বল হাত দুটো দিয়ে জেইনের পাথুরে বুকে আঘাতের পর আঘাত করতে লাগল সে।সেই আঘাতে ছিল আজন্মের ঘৃণা আর অবমাননার ক্ষোভ। রিমের চোখ দিয়ে তখন শ্রাবণের ধারার মতো অশ্রু নামছে, যা জেইনের উগ্রতাকে এক বিন্দুও প্রশমিত করতে পারল না।
জেইন এক ঝটকায় রিমের অবাধ্য কবজি দুটো মুঠোবন্দি করে স্থির করে দিল। ভয়ংকর এক নিষ্ঠুর কণ্ঠে ফিসফিসি করে বলল,

“আজ তোমাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরোপুরি ভেঙে ফেলছি ততক্ষণ পর্যন্ত থামবো না আমি।আজ এই রাত সাক্ষী থাকবে—তুমি কার, আর কার অধিকারে তোমার এই নিশ্বাসটুকুও আবর্তিত হয়!”
জেইন হঠাৎ এক ঝটকায় রিমকে মেঝেতে ফেলে দিল।দামি পারস্য মোলায়েম কার্পেট থাকলেও ধাক্কায় রিমের শরীর কেঁপে উঠল। শরীরের প্রতিটি জোড়ায় যেন বিদ্যুতস্পৃষ্ট যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ল। কিন্তু জেইনের চোখে তখন কোনো করুণা নেই; সে তখন এক ক্ষুধার্ত বুনো নেকড়ে, যে তার শিকারকে তিলে তিলে ছিঁড়ে খেতে উদ্যত।

জেইন খু*খার জন্তুর মতো উন্মত্ত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল রিমের শরীরে।রিমের ঘাড়, গ্রীবা আর ঊর্ধ্বব*ক্ষস্থলে সে বসিয়ে দিতে লাগল অজস্র দংশন। প্রতিটি কামড় যেন এক একটা বিষের তীরের মতো রিমের রক্তে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল। রিম কেবল ছটফট করছিল—মাটির ওপর আছড়ে পড়া এক ছিন্নমূল লতার মতো। তার চোখের অশ্রুধারা কার্পেটের তন্তুতে মিশে যাচ্ছিল, আর জেইনের এই আদিম উন্মাদনা রিমকে এক অতল অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল, যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ হয়তো আর খোলা নেই।
জেইন আচমকা এক ঝটকায় রিমের ওষ্ঠাধর থেকে কালো টেপটি ছিঁড়ে নিল। সাথে সাথে টানটান ত্বকে ছড়িয়ে গেল প্রচণ্ড জ্বলুনি, যেন আগুনের হল্কা কেউ লেপে দিয়েছে সেখানে। রিম যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠতেই জেইন তার তপ্ত নিঃশ্বাস রিমের কানের লতিতে ঠেকিয়ে ফিসফিসিয়ে উঠল,

“Scream if you want… Tonight I will make you forget your own name… And… you will only remember my name.”
তারপর কোনো সতর্কতা ছাড়াই জেইন ধপ করে রিমের ওপর বসে পড়ল। নিজের শরীর থেকে কালো শার্টটা টেনে খুলে, ছুঁড়ে ফেলল দূরে। মুহূর্তেই তার শক্তপোক্ত পুরুষালি বুক আর টান টান শক্ত আট ভাঁজের পেশি স্পষ্ট হয়ে উঠল রিমের আতঙ্কিত চোখের সামনে।রিমের শ্বাস-প্রশ্বাস তখন ঝোড়ো বাতাসের মতো অশান্ত। তার বুক ওঠানামা করছে ভয়ে। জেইন যখন প্যান্টের বেল্টের হুক খুলতে লাগল, রিম ভাঙা গলায় শব্দ করে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল
“কি করতে চাইছেন… আপনি?”
জেইনের ঠোঁটে হালকা এক তাচ্ছিল্যের বাঁক। চোখে ঝলসে উঠল হিংস্র ক্ষুধা। ঠান্ডা অথচ ধারালো কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল

“সেটাই… যেটা আরও অনেক আগেই করা উচিত ছিল আমার। আজ তোমাকে পুরোপুরি নিজের দখলে নেব আমি। তোমার শরীর, তোমার নিঃশ্বাস, তোমার প্রতিটা চিহ্ন সব হবে কেবল আমার।”
রিমের শরীর যেন হিমশীতল বরফ হয়ে গেল। এক অজানা এবং নিশ্চিত সর্বনাশের আশঙ্কায় তার কণ্ঠনালী রুদ্ধ হয়ে এল। ঠিক সেই মুহূর্তে জেইন এক উন্মত্ত উন্মাদনায় রিমের শরীরের শেষ আবরণ, একহাতে তার কালো ব্রা টেনে ছিঁড়ে ফেলল। ছিঁড়ে যাওয়ার শব্দটা ঘরের নিস্তব্ধতায় তীক্ষ্ণ হয়ে বাজল। লজ্জায় রিম খিচে চোখ করে বন্ধ করে ফেলল। কিন্তু জেইনের চোখে জ্বলছে আগুন, এক ক্ষুধার্ত শিকারির ক্ষুধা, যা কোনো আবরণ মানতে জানে না।
সে এক ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল রিমের অনাবৃত ব*ক্ষস্থলে। বুকের নরম উঁচু অংশে মুখ ডুবিয়ে দিল। দাঁতের হিংস্র কামড়ে রিমের আত্মাসহ চিৎকার বেরিয়ে এলো, যন্ত্রণায় ফেটে যাওয়া এক আদিম চিৎকার। কিন্তু জেইন থামল না। বরং সেই চিৎকারেই সে খুঁজে পেল এক বিকৃত সুখ, এক নেশা।

হঠাৎই জেইনের চোখের মণিতে নেমে এলো অমাবস্যার চেয়েও ঘনীভূত এক অন্ধকার ছায়া। তার অবয়বে ফুটে উঠল এক পৈশাচিক স্থিরতা—যেন সে কোনো এক চূড়ান্ত এবং ভয়াবহ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। পকেট থেকে এক ঝটকায় সে বের করে আনল তার তীক্ষ্ণ ফোল্ডিং ড্যাগার। ব্লেড খুলতেই ঠান্ডা ধাতবের ঝিলিক রিমের আতঙ্কিত চোখে প্রতিফলিত হলো।জেইন কোনো দ্বিধা ছাড়াই ব্লেডের ধারালো আগা রিমের অনাবৃত বক্ষস্থলে চেপে ধরল। মুহূর্তেই রিমের হৃৎস্পন্দন থমকে গেল, এক অবশ করা আতঙ্ক তার শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ল।

কোনো সতর্কতা ছাড়াই জেইন ব্লেডটি টেনে নামার রিমের সুকোমল ত্বকের ওপর দিয়ে। তীব্র যন্ত্রণায় রিমের শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠল, তার ফুসফুস চিরে এক অস্ফুট গোঙানি বেরিয়ে এল। ফর্সা ত্বকের বুক চিরে উষ্ণ, গাঢ় লাল রক্ত ঝরতে শুরু করল অবাধ্য ধারায়। সেই রক্তাক্ত ক্ষতস্থানে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল এক অক্ষর— ‘A’।
জেইন থেমে গেল। তার চোখে ছড়িয়ে পড়ল এক বিকৃত শান্তি, যেন সে অবশেষে তার শিকারে নিজের চিহ্ন এঁকে দিল। তার রক্তমাখা আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দিল সেই চিহ্ন। ঠোঁট ঝুঁকিয়ে রিমের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো,

“এটা কোনো ক্ষত নয়… এটা আমার মালিকানার সীল। আজ থেকে সারাজীবন তুমি বহন করবে আমার নামের এই যন্ত্রণা।”
তার ওষ্ঠাধর ধীরে ধীরে নেমে এলো সেই রক্তমাখা ক্ষতের ওপর। রিমের উষ্ণ রক্তে রঞ্জিত হলো জেইনের ঠোঁট। এরপর কোনো অবকাশ না দিয়েই সেই রক্তাক্ত ঠোঁট দুটো সে সজোরে চেপে ধরল রিমের কম্পিত ওষ্ঠাধরে। এক উন্মাদ, হিংস্র চুম্বন যা শ্বাসরুদ্ধ করে দিল রিমকে—যেখানে ভালোবাসার লেশমাত্র নেই, আছে কেবল গ্রাস করার এক আদিম আকাঙ্ক্ষা।

রিম ছটফট করল, যন্ত্রণায় কাঁপল।তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল জেইনের বলিষ্ঠ বেষ্টনীতে।কিন্তু জেইনের ঠোঁট এক মুহূর্তও ছাড়ল না। তার উন্মাদ চুম্বন ভেঙে পড়ল রিমের গলা, বুক, পেট, শরীরের প্রতিটি কোমল কোনায়। প্রতিটি চুম্বনের সাথে মিশে থাকল দাঁতের ছোট ছোট চিহ্ন, এক অমোচনীয় ছাপ।
আজ সে কেবল রিমের শরীর চায় না, সে চায় তার আত্মাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে। সে রিমরে শরীর তার আত্মা নিজের সম্পূর্ণ দখলে রাখতে চায়। তার ধৈর্যের সব বাঁধন ভেঙে পড়ল। সে এক আদিম লীলা খেলায় মত্ত হয়ে গেল।যেখানে কেবল শিকারি আর শিকার, আর কিছুই নয়।
রিমের শরীর অবসন্ন, কিন্তু তবুও প্রতিরোধের শেষ চেষ্টা করছে। হাত দিয়ে জেইনের হাত ঠেকাতে চায়, পা দিয়ে সরতে চায়, কিন্তু প্রতিটা চেষ্টাই ব্যর্থ। জেইনের হাত নেমে গিয়ে শক্ত করে চেপে ধরছে তার পিঠ, যেন তাকে ভেঙে নিজের ভেতরে মিশিয়ে ফেলবে।

রিমের চোখ আধখোলা। দৃষ্টি কুয়াশাচ্ছন্ন হলেও সে দেখতে পাচ্ছে জেইনের মুখাবয়ব যেখানে একসাথে খেলছে পৈশাচিক তৃপ্তি আর উন্মাদনা।
কক্ষের চার দেয়ালের মাঝে সময়ের কোনো হিসেব নেই, ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দ আজ স্তব্ধ। এখানে আছে কেবল স্পন্দন । কখনো ধীর, কখনো হিংস্র। রিম অনুভব করল, তার শ্বাস পুরোপুরি জেইনের ছন্দের সাথে বাঁধা পড়ে গেছে।
দীর্ঘক্ষণ পর জেইন ধীরে ধীরে থামল। কিন্তু সেই থামা কোনো মুক্তি নয়, বরং হিসেবি বিরতি। তার ঠোঁট রিমের ঘর্মাক্ত কানের লতি স্পর্শ করে ফিসফিস করল,
“This is not the end… Tonight, I’ll make sure you never forget who you belong to.”
বাইরে চাঁদের আলো ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকল। কিন্তু সেই আলো কোনো মুক্তি আনল না। বরং জানাল এই রাত এখনও শেষ হয়নি। এবং সকাল পর্যন্ত রিমের প্রতিটা শ্বাস, প্রতিটা কাঁপুনি, প্রতিটা শব্দ সবই জেইনের সম্পত্তি।আজ রাতে জেইন কেবল রিমের শরীর নয়, সে রিমের প্রতিটি মুহূর্তের ওপর নিজের একচ্ছত্র আধিপত্যের মোহর এঁকে দিয়েছে।

দুপুর বারোটার সময়, ক্যালাব্রিয়ার ঘন জঙ্গলের বুক চিরে সোনালি রোদ নেমে আসে। পেন্টহাউসের বিশাল কাচঘেরা জানালাগুলোতে আলো ঢুকে প্রথমে ঘরের ভেতরে নরম ঝিলিক ছড়ায়, ধীরে ধীরে সেই ঝিলিক তীব্র হয়ে ওঠে।

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৭ (২)

রোদের আলো মুখে পড়তেই জেইনের চোখ কুঁচকে যায়। মাথায় তীব্র যন্ত্রণা, শরীরে অসহনীয় ক্লান্তি। সকালে কিছুক্ষণ আগেই চোখ লেগে এসেছিল, তবুও ঘুম এখনো তার ভেতর থেকে পালায়নি। সে বিরক্ত হয়ে চোখ পিটপিট করতে থাকে, কিন্তু চোখ খুলতেই বিস্ময় এবং আতঙ্ক।
সাদা টাইলসের ফ্লোর রক্তে ভেসে গেছে। পাশে নিথর শীতল অবস্থায় পড়ে আছে রিম। বা হাতের শিরা কাটা ডান হাতের কাছে পড়ে আছে রক্তে ভেজা ধারালো ছুরি।………………

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৯