প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪০
রাত্রি মনি
ঘরের আলো জ্বলে উঠতেই রিমের নিঃশ্বাস হঠাৎ থেমে গেল। পা দুটো যেন মাটিতে গেঁথে গেছে। বুকের ভেতর তীব্র ধকধকানি। চারপাশটা এক মুহূর্তে ভেসে উঠল এক অদ্ভুত ভয়ংকর দৃশ্যে বিশাল কাঁচঘেরা দেয়ালগুলোতে ঝুলছে শুধুই তার ছবি। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন কেউ ছিনিয়ে এনে এখানে বন্দি করে রেখেছে।
সামনের বড় স্ক্রিনে হঠাৎ ঝলসে উঠল লাইভ ফুটেজ
বাংলাদেশে তাদের বাড়ির প্রতিটি কোণা, রিমের রুম, কিচেন, বারান্দা, লন, এমনকি তার ওয়াশরুম পর্যন্ত! রিম শিউরে উঠল। ঠোঁটে চাপা চিৎকার জমে রইল।
তারপর চোখ পড়ল চারপাশে বড় বড় ফটো ফ্রেম গুলোতে, যেখানে___
ছোট্ট সাত বছরের রিম—স্কুলে প্রথম গান গেয়ে পুরস্কার হাতে হাসছে। টিনএজের রিম—হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে ব্যথায় কুঁকড়ে আছে। কলেজের রিম—প্রথম যখন একটা ছেলে তাকে প্রপোজ করেছে। বন্ধুদের সাথে ঘুরছে, হাসছে, ডায়রির পাতা জড়িয়ে বসে আছে, একা একা কাঁদছে। সবকিছু! তার জীবনের ইচ্ এন্ড এভরি মোমেন্ট- হাসি কান্না, এমনকি এমন মুহূর্তও দেয়ালে বাঁধাই করা, যা তার নিজেরই মনে নেই।
রিম বিস্ময়ে মুখে হাত চেপে ধরল। চোখে অবিশ্বাস আর আতঙ্ক একসাথে ঝলসে উঠল। তার বুক থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে এল একটা দীর্ঘ, কেঁপে ওঠা নিঃশ্বাস। তার মানে… এতদিন… সে ঠিকই ভেবেছিল! কেউ তাকে… সত্যিই প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত স্টক করেছে। আর সেটা…অন্য কেউ না সেই মনস্টার!!…
তার শরীরের ভেতর ঠান্ডা শিহরণ বয়ে গেল। একটা মানুষ কতটা বিকৃত, কতটা অবসেসড হলে এরকমভাবে কারো জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্রতম অংশ নিজের করে রাখে! এমনকি ন্যূনতম প্রাইভেসিটুকুও রেখে দেয়নি।
মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন ঘুরতে থাকল,
সে সাত বছরের রিমকে কিভাবে চিনল? তখন থেকেই কেন অনুসরণ করছে? কি সম্পর্ক তার সাথে?
ভয়ের সাথে সাথে চারপাশের দেয়ালগুলো যেন তার দিকে ঝুঁকে আসছে। শরীর কাঁপতে শুরু করল, চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। অচেতনেই ধীরে ধীরে সে এগোতে লাগল স্ক্রিনের দিকে। হঠাৎ তার পা আটকে গেল স্ক্রিনের সামনে রাখা আয়েশী রকিং চেয়ারে। সে ধপ করে পড়ে গেল মাটিতে।
চোখের সামনে তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য—
শেলফ থেকে একটা ভারী ফটো অ্যালবাম পড়ে আছে মেঝেতে। পুরোনো, ধুলো জমা, কালো কভার।
কাঁপা কাঁপা হাতে রিম সেটা তুলে নিল। তার বুকের ভেতর থেকে যেন এক অদৃশ্য হাত বেরিয়ে এসে শ্বাস চেপে ধরল। আঙ্গুল কাঁপতে কাঁপতে অ্যালবামের প্রথম পাতা উল্টাল সে…
অ্যালবামের প্রথম পাতায় চোখ পড়তেই রিম থমকে গেল। একজন ভদ্রমহিলা চেহারায় নিখাদ বাঙালি আভা। তার পাশে দাঁড়ানো এক বিদেশি চেহারার ভদ্রলোক। দু’জনের কোলে বসানো ছোট্ট পাঁচ বছরের এক বাচ্চা ছেলে। গোলুমোলু, ফর্সা, অদ্ভুত কিউট।
ছেলেটির গাল দুটো লালচে, ঠোঁটে দুষ্টু হাসি।
রিম ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল। মনে হচ্ছে কোথাও যেন আগে দেখেছে তাকে। কিন্তু মাথার ভেতর ধোঁয়াশা কোনো স্পষ্ট স্মৃতি ধরা দিচ্ছে না। পাতার পর পাতা উল্টে যায় রিমের আঙুল। প্রতিটি ছবিতে একই বাচ্চা ছেলেটি। কখনো মায়ের কোলে, কখনো একা, কখনো খেলনার সাথে। আর প্রতিটি ছবিতেই সেই শিশুর দুষ্টু হাসি। হঠাৎই পাতার ফাঁক থেকে এক টুকরো ছবি খসে মাটিতে পড়ল। রিম কাঁপা কাঁপা হাতে সেটা তুলে নিল।
তারপর…??
চারপাশ যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল। বুকের ভেতর তীব্র ধকধক। চোখ বড় হয়ে স্থির হয়ে গেল ছবির দিকে।সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক কিশোর ছেলে কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক ছোট্ট মেয়েকে। মেয়েটি খিলখিলিয়ে হাসছে, আনন্দে মাথা পিছিয়ে রেখেছে। আর কিশোর ছেলেটি মাথা উঁচু করে, অবাক মুগ্ধতায় তাকিয়ে আছে সেই হাসির দিকে। রিমের গলায় নিঃশ্বাস আটকে গেল। চোখ ঝাপসা হয়ে উঠল অশ্রুতে। বাচ্চা মেয়েটি আর কেউ নয় সে নিজে। আর সেই কিশোরটি তার রাজকুমার, তার প্রিন্সটেইল, তার “আরাত্র”।
এক মুহূর্তে তার বুক কেঁপে উঠল। হৃদয়ের গভীরে বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা নামটা হাওয়ার মতো ছুটে বেরিয়ে এল ঠোঁটের কোণে—“আরাত্র…”
শব্দটুকু যেন ভেঙে গেল ভেতরের সমস্ত শক্তি। চোখ বেয়ে টুপটুপ করে নেমে এলো অশ্রু। কিন্তু চোখ হঠাৎ আটকে গেল ছেলেটির চোখের দিকে। গভীর, নীলাভ ছটা অদ্ভুত চেনা, অচেনার সীমা ছুঁয়ে যাওয়া।
আকস্মিকভাবে রিম পাতা উল্টাতে লাগল দ্রুত। প্রতিটি ছবিতেই সেই একই চোখ, সেই একই গড়ন, একই আভা। তারপর হঠাৎ… মনে যেন বজ্রপাতের মতো ঝলসে উঠল এক মুখ। সেই নীলাভ চোখ, সেই হিংস্র দৃষ্টি, সেই মনস্টার! যে তাকে বন্দি করেছে, যার হাত থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছে বারবার। রিম ঝাপসা চোখে তাকিয়ে রইল। অশ্রু নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে। মনের কোনো এক কোণে জমে উঠলো হাহাকার।
“এতটা ভুল! এতটা ভুল কিভাবে করতে পারলো সে?
এত কাছে থেকেও চিনতে পারলো না সে তার আরাত্রকে! প্রথম থেকে শুধু মানুষটার হিংস্র রূপ দেখেই বিশ্বাস করেছিল সে জানোয়ার! সে এতটাই ঘৃন্য প্রভাব ফেলেছিল তার মনে যে কখনো ভাবনাতেই আসেনি, কখনো বুঝতেই পারেনি সে-ই মনস্টারটাই আসলে তার রাজকুমার…”
রিমের দৃষ্টি হঠাৎ আটকে গেল সেলফের উপর রাখা ছোট্ট রুপালি ব্রেসলেটটার দিকে। কাঁপতে থাকা হাতে সেটা তুলে নিল। তারপর বুকটা যেন কান্নায় ফেটে যাচ্ছে। এটাই সেই যুগল ব্রেসলেট। যেটা তার আরাত্র তাকে দিয়েছিল তার থেকে দূরে চলে যাবার সময়। আর আরাত্র বলেছিল—
“যতদিন এই ব্রেসলেট তোমার সাথে থাকবে, মনে করবে আমি তোমার কাছেই আছি।”
সেদিনের পর থেকে রিম কখনো সেটা নিজের থেকে আলাদা করে নি। যদি কখনো সেই ব্রেসলেটটা চোখের আড়াল হতো তাহলে মনে হতো তার অস্তিত্বই যেন হারিয়ে গেছে। রিমের আঙুল কাঁপতে কাঁপতে ব্রেসলেটটা বুকের সাথে চেপে ধরল। মনে পড়ল সেই দিনটা যেদিন সে এটা হারিয়ে ফেলেছিল, সেদিন পাগলের মতো কেঁদেছিল রিম। আর সে দিনই মনস্টারটা তাকে তুলে নিয়ে এসেছিল। আশ্চর্যের বিষয়, তার পর থেকে ব্রেসলেটটার কথা যেন বেমালুম ভুলেই গিয়েছিল সে। যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি তার স্মৃতি থেকে মুছে দিয়েছিল। কিন্তু যখন পালিয়ে রিশাবের কাছে ছিল তখন হঠাৎ সেই ব্রেসলেটটার কথা মনে পড়েছিল তার। তারপর যখন আবার সেই মনস্টারটা তাকে তুলে এনেছিল তখন আবার ভুলে গিয়েছিল সেই ব্রেসলেটের কথা।
এখন বুঝতে পারছে—
ভুলে যাওয়ার কারণটাই অন্যরকম। কারণ ব্রেসলেটটা যে তাকে দিয়েছিল, সেই মানুষটা তো তার কাছেই ছিল।তাহলে কিভাবে সেই মানুষটার শূন্যতা অনুভব করবে সে?
রিম দাঁতে দাঁত চেপে কান্না আটকে ধরতে চাইল। কিন্তু বুকের হাহাকার ছিঁড়ে গলায় উঠে আসল। অশ্রু গড়িয়ে পড়ল টপটপ করে।
“আমি-আমি চিনতেই পারলাম না…
আমার রাজকুমার… আমার আরাত্র…
তোমাকেই চিনতে পারলাম না…”
গলা যেন কেউ শক্ত করে চেপে ধরেছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। চোখ বুজে বুকের সাথে ব্রেসলেটটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল রিম। সারা দুনিয়া যেন মুহূর্তেই তার সামনে ভেঙে পড়ল।সে যাকে জানোয়ার বলে জেনেছে, ঘৃণার সীমা ছাড়িয়ে ঘৃণা করেছে… সেই-ই আসলে তার হারানো রাজকুমার তার আরাত্র……
“মাই লিটল স্পাই… শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দাগিরি করতে করতে এ রুমে এসেই পড়লে! আমার ছোট্ট স্পাই তো ভীষণ ধূর্ত! বাট…. আই’ম প্রাউড অফ ইউ।”
জেইনের কণ্ঠে ঠাণ্ডা ব্যঙ্গ, অথচ সেই ব্যঙ্গের ভেতর চাপা গর্বের রেখা লুকিয়ে আছে।
রিম ভিজে ওঠা চোখের জল তাড়াহুড়ো করে হাতের পিঠ দিয়ে মুছে ফেলে, হেঁচকি গিলে ফেলে। কান্নার ফলে তার চোখ দুটো লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। ধীরে ধীরে মুখ তোলে, সোজা তাকায় জেইনের দিকে।
জেইন ঠোঁট বাঁকিয়ে হালকা তাচ্ছিল্য হেসে বলে
“এখন তো আরও বেশি ঘৃণা হচ্ছে আমার ওপরে, তাই না?”
রিমের দৃষ্টি কাঁপতে থাকে। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে, পলক ফেললেই নদীর ঢেউয়ের মতো পানি উথলে পড়বে। কিন্তু সে নড়ছে না শুধু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জেইনকে দেখতে থাকে। যেন এই মানুষটাকে সে প্রথমবার নতুন করে দেখছে। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত তার দৃষ্টি বয়ে যায়। তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই ১৬ বছরের কিশোরের মুখ, অদ্ভুত নীলাভ দৃষ্টি, আর কাঁধে বসানো এক খিলখিল করা ছোট্ট মেয়ের হাসি রোদের আলোয় ঝলমল করছে। রিমের বুকের ভেতর জমে ওঠা কান্না দলা পাকিয়ে উঠছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
জেইন কিছুক্ষণ নীরব থাকে, তারপর হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নরম কণ্ঠে বলে,
“তোমার প্রাইভেসিতে হস্তক্ষেপ করার জন্য সরি… বাট নট সরি। কারণ আমার কাছে যেটা ঠিক মনে হয়েছে, আমি সেটাই করেছি। এর বাইরে তোমাকে আর কোনো এক্সপ্লেইনেশন দিতে পারবো না। এবার চলো এখান থেকে। রাত হয়েছে অনেক, সকালে ফ্লাইট আছে তোমার। এখন তোমার ঘুম প্রয়োজন।”
কণ্ঠে দৃঢ়তা, কিন্তু চোখের গভীরে অজানা এক ক্লান্তি। কথাটা বলে সে ঘুরে দরজার দিকে পা বাড়ায়। ঠিক সেই মুহূর্তে তার কানে মধুর মতো বেজে ওঠে কান্নায় ভেজা মিষ্টি এক ডাক
“আরাত্র…”
মুহূর্তেই জেইনের পা থমকে যায় দরজার ঠিক সামনে। নিস্তব্ধতার ভেতর তার নিঃশ্বাসের শব্দও যেন শোনা যায়। বুকের ভেতর হিমশীতল হাওয়া বইতে থাকে।
এক মুহূর্তে তার মাথার ভেতর ঝড়ের মতো ফিরে আসে ছোট্ট রিম, অস্থির পায়ে দৌড়ে এসে তার বুকে ধাক্কা খেয়ে ওঠে, ঠোঁট ফসকে তুতলানো ডাক,
“আলাতলো।”
সেই অস্পষ্ট উচ্চারণ যেন আজও বাজছে কানে। সাথে সাথেই জেইন চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে নেয়। বুকের ভেতর ধ্রিম ধ্রিম করে হাতুড়ির মতো বাজছে তার হৃদস্পন্দন। প্রতিটা ধাপ যেন তার হৃদয়ের দেয়ালে আঘাত করছে। এতো বছর পর আবার সেই ছোট্ট তুতলানো ডাকটা, সেই সুরভি মেশানো মিষ্টি স্বর, পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র আর সুমধুর কণ্ঠস্বরটা তার কানে এসে বাজল।
জেইন একবারে ফুসফুস ভরে বড় করে শ্বাস টেনে নিল। বুকের ভেতর অদ্ভুত কাঁপন। কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে তখনই পেছন থেকে এক ঝড়ের মতো উষ্ণতা এসে তাকে আঘাত করল।
রিম দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল তাকে। তার বুকের ওপর দুই হাত রেখে, পিঠে মুখ গুঁজে পরম আবেশে আঁকড়ে ধরেছে। যেন এই মানুষটাকে ছেড়ে দিলে পুরো পৃথিবীটাই হারিয়ে যাবে। এই মুহূর্তে জেইনের করা সব হিংস্রতা, রক্তাক্ত অতীত সব ভুলে গেছে রিম। সে এখন শুধু জানে এই মানুষটাই তার হারিয়ে যাওয়া রাজকুমার, তার আরাত্র।
জেইনের হৃদপিণ্ড এতটা জোরে লাফাচ্ছে যেন এখনই পুরো ঘরটা ফেটে যাবে। রিম আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে কান্না জড়িত গলায় বলে
“আরাত্র.. আমার আরাত্র, তুমি বলোনি কেন তুমিই আমার আরাত্র? আমি এত কাছে থেকেও চিনতে পারিনি তোমায়…”
জেইনের বুক সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মতো ওঠানামা করছে। তার চোখে তীব্র দ্বন্দ্ব। সে রিমের দুই হাত ছাড়িয়ে এক হেঁচকায় নিজের দিকে ঘুরিয়ে, ঠাণ্ডা কিন্তু ভাঙা গলায় বলে
“এসব কি বলছো তুমি? কে তোমার আরাত্র? আমি এই নামের কাউকে চিনি না। আই’ম এজে। অ্যা ফা*কিং ব্লা*ডি মনস্টার।”
রিম আবারও তাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল, চোখের জল গড়িয়ে পড়ে তার গালে। গলায় কাঁপা কণ্ঠস্বর
“না, না, না… আমি জানি তুমিই আমার আরাত্র…”
জেইনের চোখে তীব্রতা, কণ্ঠস্বর যেন ভিতরের দানবটা ভেঙে বেরিয়ে আসছে
“তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে। আমি কারও আরাত্র না। আই অ্যাম অ্যা ব্লা*ডি বি*স্ট। তোমার ভাষায় মনস্টার!”
সে এক মুহূর্ত থেমে বড় নিঃশ্বাস টেনে নিজের ভেতরের ঝড় সামলানোর চেষ্টা করে বললো,
“অনেক হয়েছে। এবার রুমে চলো। রেস্ট করতে হবে তোমার। নাহলে জার্নি করতে পারবে না। যেতে হবে তো তোমাকে…”
রিম মাথা নাড়িয়ে, তার আঙুলের আঁকড়ে ধরা শক্তি বাড়তে লাগল। তার কণ্ঠস্বর এখন আর্তনাদের মতো তীব্র জেদ মেশানো
“না, না, না… আমি কোত্থাও যাবো না। তোমাকে ছেড়ে এক মুহূর্তও কোত্থাও যাবো না আমি। সারাজীবন তোমার সাথেই থাকবো। তুমি যেখানে থাকবে আমিও সেখানেই থাকবো। হোক সেটা স্বর্গ কিংবা নরক!”
জেইনের বুক ভারী হয়ে আসে। তার কণ্ঠে বিষণ্ণতা আর নিষ্ঠুর দৃঢ়তা মিশে যায়
“কিন্তু সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। তোমাকে যেতেই হবে। আমার সাথে থাকলে তুমি ভালো থাকবে না।”
রিমের চোখ বেয়ে অবিরাম পানি পড়ছে। তার বুকটা ফেটে যাচ্ছে কান্নায়, রাগে, অভিমানে। হঠাৎই সে ফুঁসে ওঠে। দুই হাতে মুঠো করে টেনে ধরে জেইনের বুকের কালো শার্ট। শার্ট ছিঁড়ে ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে বাটন। উন্মুক্ত হয় শক্তপোক্ত পুরুষালী বুক। সেই উন্মুক্ত বুকে রিম যেন নিজের মধ্যে জমে থাকা সমস্ত রাগ ঢেলে দেয়। কিল, ঘুষি, নখের আঁচর আঘাতে আঘাতে জেইনের বুক কাঁপতে থাকে। প্রতিটি আঘাত যেন বছরের পর বছর জমে থাকা যন্ত্রণা আর ঘৃণার ফাটল। রিম ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে অস্ফুটে অভিমানী গলায় চিৎকার করে ওঠে,
“জানোয়ার!! শয়তান একটা!! কিচ্ছু বোঝে না। যখন আমি থাকতে চাইনি তখন আমাকে জোর করে আটকে রেখেছে। আর এখন যখন আমি থাকতে চাইছি, আমাকে দুরে পাঠিয়ে দিতে চাইছে। যা যা যা, তুই পঁচা! খুব খারাপ। আমাকে একটুও বোঝে না। খালি কষ্ট দেয়। মেরেই ফেলবো তোকে আজ। থাকবোই না তোর…”
একের পর এক আঘাত। রিমের প্রতিটি আঘাত যেন জেইনের বুক চিরে যাচ্ছে। ব্যথায় তার মুখ কুঁচকে যায়। কিন্তু রিমের পাগলামি, তার এই উন্মাদনা, শেষ পর্যন্ত জেইন আর সহ্য করতে পারে না। সে হঠাৎ রিমের হাত দুটো শক্ত করে ধরে এক ঝটকায় কাছে টেনে নিয়ে চেপে ধরে নিজের ঠোঁট ঠেসে দেয় রিমের ঠোঁটে।
মুহূর্তেই থেমে যায় রিমের ছটফটানি। তার চোখ বিস্ফারিত হয়, বুক ধড়ফড় করে। জেইনের উষ্ণ নিঃশ্বাস আর ঠোঁটের অমোঘ চাপ তার শরীরকে জমাট বেঁধে ফেলে। তারপর ধীরে ধীরে নিস্তব্ধতার ভেতর তার শরীর গলে পড়তে থাকে জেইনের বাহুর ভেতরে। এভাবেই বেশ কিছুক্ষণ পর জেইন ঠোঁট ছেড়ে হাঁপাতে শুরু করতেই রিমের ভেতরের ঝড় আবার জেগে ওঠে। তার হাত আবার উন্মাদের মতো আছড়ে পড়ে জেইনের বুকে। জেইন বিরক্ত হয়ে আবার তার ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরে, এবার কোমরে এক হাত রেখে অন্য হাত দিয়ে পেছন থেকে রিমের দুই হাত জড়িয়ে ফেলে, শক্ত করে।
রিম ছটফট করতে থাকে ছাড়া পাওয়ার জন্য। কিন্তু একসময় জেইনের গভীর, উন্মত্ত চুম্বন ধীরে ধীরে তাকে সম্পূর্ণ শান্ত করে দেয়। সেই চুম্বনে রিমের শরীরের প্রতিটি স্নায়ু যেন গলে যাচ্ছে। তার চোখ বুজে আসে, ঠোঁট নরম হয়ে যায়। নিজের সমস্ত অভিমান ভুলে সেও সাড়া দিতে শুরু করে। আবেশে, আবেগে, আকাঙ্ক্ষায়।
রিমের সাড়া পাওয়া মাত্র জেইনের তৃষ্ণা যেন আরও উন্মত্ত হয়ে ওঠে।সে আরও গভীরভাবে রিমকে নিজের মধ্যে মিশিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে লালার স্বাদ গ্রহণ করতে থাকে। রিমের নিঃশ্বাস, তার মিষ্টি স্বাদ সবটুকুই পান করতে থাকে। দু’জনেই দু’জনকে গিলে খাওয়ার মতো টেনে নিচ্ছে নিজের ভেতরে।
ধীরে ধীরে জেইন রিমের হাত ছেড়ে দেয়। রিমের এক হাত চলে যায় তার চুলের ভেতরে, অন্য হাত আঁকড়ে ধরে তার পিঠ। যেন এই মানুষটাকে নিজের ভেতরে মিশিয়ে দেবে, এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়বে না।
জেইন ঠোঁট সরাতেই রিম ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে থাকে। মরিয়া হয়ে ওঠে আরও পেতে চায়। সে নিজে থেকেই তার ঠোঁট আবার বসিয়ে দেয় জেইনের ভেজা লালচে খয়েরী ঠোঁঠে। খোঁজে সেই তৃষ্ণা, সেই স্বাদ।সেই স্বাদ যেন এক নিষিদ্ধ মাদক। রিমের এই পাগলামি যেন জেইনের কাছে আগুনে ঘি ঢালার মতো।
সে দুই হাতে রিমের গাল শক্ত করে চেপে ধরে এমন উন্মাদ চুমু খায়, যেন রিমের মুখে সে নিজের সমস্ত দহন, সমস্ত আসক্তি ঢুকিয়ে দেবে। যেন রিমকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলবে একটুও ফাঁক রাখে না। রিমের ঠোঁটের মিষ্টি স্বাদ তাকে পাগল বানিয়ে দিচ্ছে।
রিম হাঁপিয়ে উঠলে অবশেষে ধীরে ধীরে সে জেইনের কাছ থেকে নিজের ঠোঁট ছাড়িয়ে নেয়।বড় করে শ্বাস টেনে হাঁপাতে থাকে, বুকে ওঠানামা করে দ্রুত, মুখ লালচে, চোখ ভেজা। জেইনের বুকের মধ্যে তৃষ্ণা জমে ওঠে, ঘন ঘন শ্বাস টেনে আঠালো গলায় ফিসফিস করে বলে
“আরেকটু দাও না মজা লাগছে খুব। তুমি দিলে বেশি ভালো লাগে।”
লজ্জায় রিমের গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে ওঠে। সে লাজুক লতার মতো নুইয়ে পড়ে জেইনের বুকে। ঠিক তখনই জেইনের মুখ থেকে ব্যথাতুর আওয়াজ বেরিয়ে আসে
“আউচ…”
রিম মাথা উঁচিয়ে ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকায়। মুহূর্তেই চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়। চোখে চিকচিক করে ওঠে অশ্রুর রেখা। গলাটা হঠাৎ করেই ভারী হয়ে ওঠে।কান্না জড়িত গলায় ফিসফিস করে বলে,
“এসব কিভাবে হলো? এএগুলো… ?”
জেইনের খোলা বুকে, কাঁধে, সম্পূর্ণ শরীরেই অগণিত লালচে ক্ষতচিহ্ন। পুরোনো, কিন্তু এখনো তাজা রক্তের আঁচড় যেন ফেটে আছে। দেখে মনে হচ্ছে কেউ নির্দয়ভাবে তার ওপর সমস্ত ক্ষোভ উগরে দিয়েছে।কোনো ব্যান্ডেজ নেই, নেই মলমের ছোঁয়া। মনে হচ্ছে সে ইচ্ছা করেই সেগুলো এভাবে রেখে দিয়েছে যেন ব্যথাটা তাকে প্রতিদিন শাস্তি দেয়।
রিমের বুক হুহু করে ওঠে। সে আলতোভাবে কাঁপা হাত বাড়িয়ে ক্ষতের ওপর ছুঁয়ে দেয়। সাথে সাথে জেইনের শরীর শক্ত হয়ে ওঠে। তার নিঃশ্বাস আটকে যায়, চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। ব্যথার তীব্রতায় খিচে চোখ বন্ধ করে ফেলে সে। রিমের আঙুলে কাঁপছে, চোখ ভিজে কুয়াশার মতো ঝাপসা হয়ে যায়।
সেই রাতে—-
ডাক্তার রিমকে চেকআপ করার পর, জেইন নিঃশব্দে নিজের সিক্রেট রুমে চলে আসে। কিন্তু তার বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে রিমের রক্তমাখা শরীর। শিরা-উপশিরায় যেন বিদ্যুৎ খেলে যায়। তার কপালের শিরাগুলো ফুলে ওঠে। নিঃশ্বাস ভারী হয়। তার ভেতরটা তীব্র অনুশোচনায় কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। বুকের ভেতর ঝড়। নিজেকে কেমন পাগল পাগল মনে হয়। দুই হাতে মাথা চেপে ধরে। ঘরের বাতাস যেন ঠান্ডা হয়ে গেছে অথচ তার ভেতরটা পুড়ছে আগুনের মতো। তার জন্যই আজ তার ফায়ারফ্লাই কষ্ট পাচ্ছে এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। সে এক ঝটকায় উল্টে ফেলে কাঠের সেল্ফ। ধাতব জিনিসপত্র মেঝেতে ছিটকে পড়ে, টুকরো টুকরো শব্দে চারদিক যেন বিদীর্ণ হয়ে যায়। হিংস্র পশুর মতো সে হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে,
“আআআআআআআআআআআআ………”
চিৎকারটা দেয়ালের প্রতিটি ইট, প্রতিটি কোনা থেকে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে। কক্ষে থাকা বাতাস পর্যন্ত ভারী হয়ে ওঠে। নিজের রাগ আর হতাশা সে কিছুতেই থামাতে পারে না।
দেয়ালের কোণ থেকে ঝুলানো চাবুকটা টেনে নেয়। নিজের বুকে, পিঠে, কাঁধে একের পর এক আঘাত করতে থাকে। প্রতিটি আঘাতের সাথে রক্তের সরু রেখা ফুঁড়ে বেরোয়। চামড়া ছিলে লালচে ক্ষতগুলো তাজা আগুনের মতো জ্বলতে থাকে। কিন্তু সে থামে না। শরীরের ব্যথা বাড়ে অথচ ভেতরের ক্ষোভ, যন্ত্রণা একটুও কমে না।
শেষে কাঁপা হাতে তুলে নেয় হাইড্রোক্লোরিক এসিড। ঠাণ্ডা কাচের বোতলটা তার তপ্ত আঙুলে কেঁপে ওঠে। একটানা নিঃশ্বাস নিতে না পেরে বুকের বাম পাশে ঢেলে দেয়।
হিসহিস করে পোড়ার শব্দ। ধোঁয়া ওঠে। যন্ত্রণায় শরীর থরথর করে কেঁপে ওঠে, ঘাম আর রক্ত মিশে তীব্র এক গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কাতর নয়নে, তবু দৃঢ়তায়, নিজের বুকের বাঁ পাশে লিখে দেয় এক অক্ষর — ‘R’।
হৃদপিণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র দহন। কিন্তু সেই দহনেই সে অনুভব করে এক অদ্ভুত শান্তি যেন কষ্টের মধ্যেই মুক্তি। ঠোঁটে ফুটে ওঠে এক বিকৃত হাসি, ঠাণ্ডা আর অমানবিক।
“পৃথিবীর যা কিছু আমার ফায়ারফ্লাইকে কষ্ট দেবে তা আমি ধ্বংস করে দেব,”
সে ফিসফিস করে বলে ওঠে,
“হোক সেটা আমি নিজেই……”
রিম ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। চোখে জল চিকচিক করে ওঠে। তার কণ্ঠ কাঁপা কাঁপা
“এসব কী করে হলো? কেন এভাবে নিজেকে আঘাত করেছো তুমি? বলো…”
জেইন নিঃশব্দে হাত বাড়িয়ে রিমের গালটা আলতো করে ছুঁয়ে দেয়। তার আঙুলে লেগে থাকে রিমের চোখের জল। নিচু গলায় বলে
“এই সামান্য আঘাত তো কিছুই না। তোমাকে কষ্ট দিয়ে এই বুকে যতটা যন্ত্রণা হচ্ছে, তার কাছে এসব তুচ্ছ…”
রিম ফুঁপিয়ে ওঠে। কণ্ঠে কান্নার দমক
“তাই বলে নিজেকে এভাবে আঘাত করবে তুমি!”
সে কেঁদে কেঁদে পাগলের মতো অস্থির হয়ে ওঠে।
“তুমি… তুমি ওষুধ লাগাওনি কেন? ইনফেকশন হয়ে যাবে তো। ওষুধ লাগাতে হবে…”
টানা বিরবির করতে থাকে রিম। রিমের ছটফটানি জেইনের বুকের ভেতর কেমন আগুন ধরিয়ে দেয়। সে এক টানে রিমকে শক্ত করে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। বুকের ভেতর ধুপধুপ করছে হৃদপিণ্ড। রিমের মাথার ওপর ছোট্ট করে একটা চুমু দিয়ে সে ফিসফিস করে বলে
“কিচ্ছু হবে না। কোনো ওষুধের প্রয়োজন নেই। শুধু আমাকে একটু শক্ত করে আঁকড়ে ধরো…
“তুমি আমার দুরারোগ্য রোগ, আবার সেই রোগের নিরাময়ক। তুমি আমার এমন এক বিষ, যা আমার শরীরে অমৃতের মত ছড়িয়ে পড়ে।তুমি আমার যন্ত্রণা, আবার সেই যন্ত্রণার গভীরে লুকোনো সুখ। তুমি একটু খানি জড়িয়ে ধরলেই,আমার সব ক্ষত মুছে যায়, মলমের প্রয়োজন নেই।এই শুকনো মরুভূমির মতো বুকটা তোমার একটুখানি ছোঁয়াতেই ফুলে ভরে ওঠে। তুমি শুধু কিছুক্ষণ জড়িয়ে রাখো, আমার সব ব্যথা সেরে যাবে…”
তার কণ্ঠে বিষাক্ত প্রেমের সুর যেন বিষের সাথে মিশে অমৃত হয়।
“বুকে জ্বলছে আগুন, চোখে স্বপ্ন তোরি,
তোর জন্যই বাঁচা, তোর জন্যই মরি।
কিভাবে আর তোকে বল বোঝাই…🎶
মনের কিনারে চলে আয়,
এলোমেলো করে দে আমায়…🎶”
রিম মুখ উঠিয়ে জেইনের দিকে ঘোর লাগা চোখে তাকায়। তার চোখে জল আর মোহের মিশেল। সে দু-হাত বাড়িয়ে জেইনের বুকের শার্টটা টেনে ছিঁড়ে ফেলে মেঝেতে। জেইনের বুকের ঠিক বা পাশে জ্বলজ্বল করছে এক গভীর ক্ষত সেখানে ভেসে উঠেছে খোদাই করা এক অক্ষর ‘R’
রিম মোহগ্রস্থের মতো মুখ ডুবিয়ে দিলো সেখানে। আলতো ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আমাকে মিশিয়ে নাও তোমার মাঝে, এমনভাবে যেন আমার নিঃশ্বাস আর তোমার নিঃশ্বাসের মাঝে কোনো সিমানা না থাকে।”
জেইন রিমের চুল মুঠোয় ধরে মুখটা টেনে তুললো। দুজনের চোখ একে অপরের দিকে লক হয়ে গেল। জেইন শুষ্ক ঢোক গিলে আঠালো গলায় ফিসফিসিয়ে বললো,
“ভুলে গেলে? আমি মানুষ না, জানোয়ার!! আমার ছোঁয়ায় যন্ত্রণা আছে। তুমি সহ্য করতে পারবে না।”
রিম নিজেকে আর আটকে রাখতে পারে না। বুকের ক্ষতের উপর ঝুঁকে সে ছোট ছোট চুম্বনে ভরিয়ে দেয় জেইনকে। তারপর গলার অ্যাডামস অ্যাপেলে ঠোঁট ডুবিয়ে কাঁপা স্বরে ফিসফিস করে ,
“আমি পেতে চাই এই মিষ্টি যন্ত্রণাটুকু। দগ্ধ হতে চাই। হারিয়ে যেতে চাই তোমার মাঝে। আমাকে পুরোপুরি তোমার করে নাও। শুধু তোমার।”
তারপর চোখ বুজে যায়। শরীর থরথর করে কাঁপতে থাকে। নিঃশ্বাসের সঙ্গে মিশে বেরিয়ে আসে এক আবেশময় সুর,
“Toote to toote teri baahon main ase
Jaise shaakhon se patte be-haya…🎶
Bikhre tujhi se aur simte tujhi main
To hi mera sab le gaya…🎶”
জেইনের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছে। বুক উঠানামা করছে তীব্র ঢেউয়ের মতো। শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত, অস্বাভাবিক। সে না পারছে রিমকে থামাতে, না পারছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। তার শরীর ঘামতে শুরু করেছে, কপালের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে, চোখে ধূসর ছায়া নেমে এসেছে।
রিমকে বুকের কাছ থেকে টেনে তুলতেই রিম তাকে আবার জোকের মতো জড়িয়ে ধরে, এমনভাবে যেন ছেড়ে দিলে অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে।জেইন তার দুই বাহু ধরে নিজের থেকে ছাড়িয়ে বলে,
“ভেবে বলছো তো? আমি হিংস্র, জানোয়ার, পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট এক নরপশু।”
“আমি জানি।”
“আমি এগ্ৰেসিভ। রেগে গেলে নিজেকে সামলাতে পারি না।”
“আমি আছি তো, সামলে নিবো।”
“আমার কাছে থাকলে সারাজীবন বন্দী হয়ে থাকতে হবে তোমায়।”
“আমি রাজি।”
“রোজ আমার দেয়া বিষাক্ত যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।”
“করবো।”
এতক্ষণে যেন চারপাশের সবকিছু থেমে গেছে, শুধু তাদের দু’জনের নিঃশ্বাস আর শরীরের তাপ।
কথাগুলো শেষ হওয়ার আগেই রিম নিজের তুলতুলে ঠোঁট দুটো জেইনের দু-ঠোঁটে চাপিয়ে দেয়। সেই ঠোঁটে লেগে থাকে রক্তের মতোই গরম পাগলামিতে ভরা এক স্পর্শ।
জেইনের মুখে তখন ফুটে ওঠে এক রহস্যময়, শয়তানি হাসি যেন নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পেরেছে এক বিকৃত জানোয়ার। সেই হাসির ফাঁক দিয়ে ঝলসে ওঠে তার চোখের পাগলামি, যা রয়ে যায় রিমের চোখের আড়ালে।
রিম তার রেসপন্স না পেয়ে হঠাৎ দু’হাতে জেইনের চুল শক্ত করে টেনে ধরে। এক মুহূর্তেই জেইনের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে বেপরোয়া ঘোড়ার মতো অস্থিরতা। সে হঠাৎ রিমের ঠোঁটে ঝাঁপিয়ে পড়ে গভীর, ক্ষুধার্ত, আগুনে ভরা এক চুম্বন। রিমকে সে উঁচু করে নিজের কোলে তুলে নেয়। রিমের দুই হাত তার গলায় আর দুই পা কোমরে জড়িয়ে আছে। জেইনের বেপরোয়া হাতের এলোমেলো স্পর্শে রিম অস্থির হয়ে উঠছে, শরীরের প্রতিটি কোষ যেন কাঁপছে, নিঃশ্বাস গরম হয়ে যাচ্ছে। জেইন তাকে নিজের স্পর্শ দিয়ে জ্বালিয়ে তুলছে। তার হাতের স্পর্শ এতটাই প্রগাঢ় যে রিম অচেতনেই চুম্বনের মাঝে জেইনের ঠোঁট শক্ত করে কামড়ে দেয়।
জেইন হঠাৎ ঠোঁট ছেড়ে হাঁপাতে থাকে। ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা রক্ত টুকু বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মুছে ফেলে। তার নিঃশ্বাস কেঁপে উঠছে ঘন ঘন। অস্থির হয়ে উঠেছে জেইন। শরীরের রক্ত গরম হয়ে উঠেছে। নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
জেইন এক পা পিছিয়ে পেছনে থাকা রকিং চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ে। কোলে তখনো রিম কাঁপা শরীরে কুঁকড়ে আছে। রিমের সরু কোমর জেইনের দুই উরুর মাঝখানে আটকে গেছে, তার দুই পা জড়িয়ে আছে জেইনের কোমড়ে। নিঃশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ভারী, বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। জেইনের চোখ জ্বলজ্বল করছে অদম্য কামনায়। পেছন থেকে হাত গলিয়ে সে রিমের জামার চেইন খুলে দ্রুত ঘাড় থেকে টেনে নামিয়ে দেয় জামা।
ঘাড় থেকে কাপড় নামতেই জেইন উন্মত্তের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল রিমের ওপর। অগণিত ক্ষুধার্ত চুম্বনে তার গলা, কাঁধ আর বুকের উপরিভাগ ভরিয়ে তুলল। রিমের মসৃণ ত্বক ভিজে উঠল তার উষ্ণ স্পর্শে। ঠোঁটের প্রতিটি চুম্বন আর দাঁতের আলতো ঘর্ষণ রিমের শরীরে জাগাল এক অদ্ভুত শিহরণ, চুমুর তীব্রতায় সে হঠাৎ হঠাৎ কেঁপে উঠছিল। বুক ওঠানামা করছিল প্রবলভাবে, শ্বাস দ্রুত ও ছিন্নভিন্ন হয়ে বেরিয়ে আসছিল। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সে জেইনের সিল্কি চুল শক্ত করে মুঠো করে ধরল। তার চোখে ভয়, লজ্জা, আর এক অদ্ভুত অনুভূতির মিশ্রণে অশ্রু জমে উঠল।
জেইন যেন শান্তি খুঁজে পাচ্ছিল না। অধৈর্য হয়ে জামাটা আরও একটু নামিয়ে দিতেই জামার ফাঁকে উঁকি দিল রিমের পার্পেল রঙের ইনার। জেইনের দৃষ্টি ধীরে ধীরে নেমে এসে রিমের ফর্সা বুকের মাঝে খোদাই করা, ছোট্ট লালচে ‘A’ অক্ষরটির ওপর স্থির হলো। তার কাছে তা যেন রিমের পবিত্র সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক। তার চোখ গভীর মোহাচ্ছন্নে আবিষ্ট হয়ে স্থির হয়ে আছে রিমের বুকের মাঝে। সে ধীরে ধীরে ঘাড় থেকে স্ট্র্যাপ নামিয়ে আনলো।অবাধ্য মুখ ডুবিয়ে দিল রিমের উষ্ণ ব*ক্ষ-অরণ্যে। এক দীর্ঘ, গভীর শ্বাস নিল জেইন; রিমের গায়ের সেই নিজস্ব ঘ্রাণে তার মস্তিস্কের কোষে কোষে এক প্রকার তীব্র নেশা ছড়িয়ে পড়ল। সেই নেশা তাকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে দিচ্ছিল। কেমন নেশাগ্রস্তের মতো চুমু খেতে শুরু করল সে। ঠোঁটের বেসামাল স্পর্শে রিমের হাত-পা শিরশির করে উঠল। শরীর যেন অবশ হয়ে আসছে। বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল এক অদ্ভুত সুখ ব্যাথায় ভরা অনুভূতি। চুমুর পাশাপাশি ছোট ছোট কামড়ে ভরিয়ে দিতে লাগল জেইন। বিষাক্ত শিহরণে রিম দিশেহারা।
তার গলা, ঘাড়, বুক প্রতিটা জায়গায় জেইনের দেওয়া প্রণয়চিহ্নের রক্তিম আভায় ছেয়ে গেছে। সেই ফর্সা চামড়ায় লালচে ছোপগুলো যেন সাদা পাথরের ওপর ঝরে পড়া কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি, যা জেইনের চোখে রিমের সৌন্দর্যকে সহস্র গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছিল। জেইন ক্রমশ আরও উন্মাদ, আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছিল; আজ সে সম্পূর্ণ রিমেতে মগ্ন। ছোট্ট শরীরে জেইনের প্রগাঢ় স্পর্শ সামলাতে রিম নাভিশ্বাস তুলছিল। জেইনের প্রতিটি গভীর ছোঁয়া রিমের নিঃশ্বাসকে রুদ্ধ করে দিচ্ছিল, হৃৎপিণ্ড যেন পিঞ্জর ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে। এক অসহ্য ঘোরের মধ্যে দুলতে দুলতে, আধো-বোজা চোখে রিমের কণ্ঠ চিরে এক অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে এলো,
“Stop…please…”
জেইন ধীরে ধীরে মুখ তুলে রিমের দিকে তাকাল।তার দুচোখে তখন কালবৈশাখীর মেঘের মতো ঘনীভূত হয়ে আছে এক তীব্র মাদকতা। রিমের ভীতসন্ত্রস্ত মুখচ্ছবির ওপর তার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ছে।সে রিমের ইনারের স্ট্র্যাপে এক আঙুল ঢুকিয়ে অধৈর্যভাবে নিচু গলায় বলল,
“Open it for me ‘Sona’… I just can’t wait.”
রিম শুষ্কভাবে ঢোক গিলল। তার বুকের ভেতর হৃদপিণ্ড ধকধক করছে। প্রথমবারের হিংস্রতার কথা মনে পড়তেই আতংকে গলা শুকিয়ে গেল। কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“আ-আমার ভয় করছে…”
জেইনের দৃষ্টি তখন অন্ধকারের মতো গভীর আর অতল। সে ঠোঁট কামড়ে গাঢ় নেশাক্ত কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“Don’t worry Barbie doll… This time I will drive you very slowly. একটুও ব্যথা পাবে না তুমি। Tonight I’ll be gentle.”
বলেই জেইন ক্ষুধার্ত তৃষ্ণায় একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ল রিমের আরক্তিম ওষ্ঠদ্বয়ে। এত শক্ত, এত গভীর, যেন পুরো পৃথিবী থেকে আলাদা করে নিতে চাইছে তাকে। রিম ছাড়া পেতে চেষ্টা করল, কিন্তু জেইনের সুদৃঢ় আলিঙ্গন তাকে মুহূর্তেই পিষ্ট করল।তার নরম গোলাপি ঠোঁট পুরোপুরি গিলে নিল জেইন। গভীর তৃষ্ণায় শুষে নিতে লাগল ঠোঁটের মধ্যকার অমৃত সুধা।
চুমুর তীব্রতায় রিমের চোখ বুজে গেল, গাল বেয়ে নেমে এল অশ্রু। তার কণ্ঠ থেকে ভাঙা গোঙানি বেরিয়ে এল, শরীর আরও অস্থির হয়ে উঠল। শ্বাস-প্রশ্বাস এলোমেলো। জেইনের ঠোঁট, জিভ, দাঁতের ছোঁয়ায় সে পুরোপুরি কাঁপতে লাগল। অবশেষে রিমের প্রতিরোধ গলে গেল। শরীর কেঁপে উঠল, আবেশে সে-ও ঠোঁট মেলাল। এই আশকারা জেইনের ভেতরের উন্মাদনাকে আরও ভয়ংকর করে তুলল।স্থান-কাল-পাত্রের সমস্ত বোধ হারিয়ে গেল এক নিমিষে। জেইনের অবাধ্য হাত এলোমেলোভাবে ঘুরে বেড়াতে লাগল রিমের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে। এক হাত ধীরে ধীরে রিমের পিঠ ছুঁয়ে নেমে এল কোমর পর্যন্ত। অন্য হাতে নিচের দিকের নরম অংশে চাপ দিতেই রিমের ঠোঁট থেকে অজান্তেই বেরিয়ে এল এক মৃদু সুখময় গোঙানি। ছোট্ট গোঙানির শব্দে জেইনের উন্মাদনা বহুগুণ বেড়ে গেল। সে দ্রুত পেছনে হাত গলিয়ে ইনারের হুক খুলে দিতেই, রিম লজ্জায় ঝড়ের বেগে দুই হাত আড়াআড়ি করে নিজের উন্মুক্ত ব*ক্ষপট আড়াল করার বৃথা চেষ্টা করলো। জেইন ঠোঁট কামড়ে বাঁকা হাসল, রিমের হাত দুটো সরিয়ে দিয়ে সে তার কানের কাছে গাঢ় কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলল,
“আজ তুমি নিজে থেকে আমার কাছে ধরা দিয়েছ। এখন যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার তৃষ্ণা মিটবে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড় পাবে না তুমি। আজ থেকে প্রত্যেকটা রাত আমার বেসামাল প্রণয়াকাঙ্ক্ষাকে সামলানোর জন্য প্রস্তুত হও।”
রিমের লজ্জাবনত মুখমণ্ডল মুহূর্তেই রক্তিম, রাগে আর অনুরাগের সংমিশ্রণে এক অপূর্ব আভা ধারণ করল। তার শরীরের প্রতিটি কোষে এক অচেনা সুখের কম্পন অনুভূত হচ্ছিল, যা তাকে একাধারে ভীত আর ব্যাকুল করে তুলছে। রিমের এই আরক্তিম লজ্জা জেইনের ভেতরের সুপ্ত কামনার আগুনে যেন পারদ ঢেলে দিল। জেইনের সেই নেশাতুর দৃষ্টি তখনো স্থির হয়ে আছে রিমের উন্মুক্ত ব*ক্ষপটের ওপর—সেখানে যেন এক পবিত্র উপত্যকা বিমূর্ত হয়ে আছে। সে অতৃপ্ত চোখে রিমের শরীরের প্রতিটি ভাঁজ মেপে নিচ্ছিল, যেন কয়েক জনমের জমাট বাঁধা তৃষ্ণা সে এই একটি মুহূর্তেই শুষে নিতে চায়।
রিম লজ্জায় মস্তক অবনত করে রইল; জেইনের সেই গভীর, কামুক চোখে চোখ রাখার সাধ্য তার নেই। ওই দৃষ্টির তীব্রতা যেন তার শরীরকে এক সম্মোহনী অবশতায় জমাট বাঁধিয়ে দিচ্ছে। তার নিঃশ্বাস ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে, আর উন্মুক্ত ব*ক্ষপটের দ্রুত ওঠানামা জেইনের ভেতরের অস্থিরতাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। জেইন আর নিজেকে সংবরণ করতে পারল না। সে তার তর্জনী দিয়ে নেশাগ্ৰস্থের মতো আলতো করে নাকের নিচে ঘষে নিল, শুষ্ক ওষ্ঠদ্বয় জিভ দিয়ে সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল রিমের ওপর। তার স্পর্শগুলো এখন আরও বেসামাল, আরও উদ্ধত। জেইনের উত্তপ্ত ঠোঁট রিমের শরীরের নিষিদ্ধ ও কোমল স্থানগুলোতে বিচরণ করতে শুরু করল, রিম বৈদ্যুতিক ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠল। দাঁতের সূক্ষ্ম ঘর্ষণ আর উষ্ণ জিভের সিক্ত পরশে রিমের মসৃণ ত্বক যেন এক নতুন অনুভূতির জোয়ারে ভিজে উঠল। জেইন তার বুকের সেই সুডৌল শৈলশিখরে মুখ ডুবিয়ে দিল। চারপাশে লেহন করে নিবিড়ভাবে ঠোঁট ছোঁয়াতেই ছটফট করে উঠল রিম। শরীরের প্রতিটি লোমকূপ এক অলৌকিক শিহরণে দাঁড়িয়ে গেল। এক অস্থির যন্ত্রণাময় সুখের ঘোরে রিমের কণ্ঠ থেকে অস্পষ্ট কিছু শব্দ বেরিয়ে এল, তার শ্বাস-প্রশ্বাস তখন ঝোড়ো হাওয়ার মতো উত্তাল।
রিম দিশেহারা হয়ে জেইনের ঘন চুলগুলো খামচে ধরল। সে একদিকে যেমন এই অসহ্য তীব্র স্পর্শ থেকে মুক্তি চাইছিল, অন্যদিকে এক গভীর অতৃপ্ত তৃষ্ণায় জেইনকে নিজের আরও ভেতরে টেনে নিচ্ছিল। তাদের উত্তাল নড়াচড়ায় রকিং চেয়ার টলমল করে দুলছিল। রিম কোনোমতে কাঁপা গলায় ফিসফিসিয়ে উঠল,
“এটা ভীষণ নড়ছে… রুমে চলো প্লিজ।”
জেইন রিমের বুকের সুউচ্চ চূড়ায় নিজের ভ্যাম্পায়ারের মতো ধারালো দাঁত দিয়ে এক ছোট্ট কিন্তু গভীর কামড় বসিয়ে দিল। যন্ত্রণার এক তীক্ষ্ণ ঝিলিক রিমের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল, সে কুঁকড়ে গেল ব্যথায়। জেইন সেই ক্ষতস্থানেই আবার গাঢ় এক চুম্বনে প্রলেপ দিয়ে মুখ তুলল। চোখে মাতাল করা নেশা, কণ্ঠে মাদকতা। সে ফিসফিস করে বলল,
“So what? ই*ন্টিমেট হওয়ার জন্য এটা একেবারে পারফেক্ট প্লেস। এন্ড ডোন্ট ওয়ারি এখানে কেউ আসবে না। This room is soundproof baby. So বাইরে থেকে তোমার চিৎকারও কেউ শুনতে পাবে না।”
জেইনের চরম নির্লজ্জ লাগামছাড়া কথা রিমকে এক নিমিষে লজ্জার সাগরে ডুবিয়ে দিল। সে জেইনের প্রশস্ত বুকে নিজের মুখ লুকিয়ে ফেলল, জেইন ঠোঁট কামড়ে ক্রুর হাসল।রিমের কোমল শরীরটাকে নিজের বলিষ্ঠ বাহুপাশে আরও নিবিড়ভাবে পিষ্ট করে এক অনাস্বাদিত অনুভূতির অতল সমুদ্রে ডুব দিল।রিম কুঁকড়ে গেল।তার ধারালো নখগুলো অবশ হয়ে জেইনের জেইনের কাঁধে গভীর ভাবে বসে গেল।চোখের কোণে জমে উঠল অশ্রু, মিষ্টি যন্ত্রণা আর অদ্ভুত সুখের।
নিভৃত সেই কক্ষে তখন দুজনের দেহের উত্তাপ আর এলোমেলো নিঃশ্বাস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। রিমের শরীর কাঁপতে লাগল, শ্বাস ভেঙে বেরোতে লাগল, আর ঠোঁট ফাঁক হয়ে বের হতে লাগল ফিসফিসি শব্দ। নিঃশ্বাসের শব্দে ঘর ভরে উঠল মৃদু, ভারি, আর অব্যক্ত কিছু অনুভূতিতে।
বাইরে পৃথিবী নিঃস্তব্ধ, শুধু তাদের হৃদস্পন্দনের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল একে অপরের মাঝে। রাত যত গভীর হচ্ছিল, জেইনের ভেতরের সেই আদিম উন্মাদনা যেন ততই সহস্রগুণ বেড়ে যাচ্ছিল। রিম এক সময় অসহ্য তীব্রতায় মৃদু স্বরে গোঙিয়ে উঠল, তার আঙুলগুলো খামচে ধরল জেইনের পিঠের পেশি। ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এল এক সিক্ত, ব্যথাতুর স্বর,
“আহহ্! একটু আস্তে…. It’s hurts.”
জেইন মুহূর্তের জন্য থমকাল। তার নিজের নিঃশ্বাস তখন ঝোড়ো বাতাসের মতো তপ্ত আর দ্রুত। সে ঘোর লাগা চোখে রিমের দিকে তাকালো, মুখে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে মেয়েটার। শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে চলছে। চোখের কোণে চিকচিক করছে অশ্রুর রেখা। অথচ জেইনের ভেতরে তখনো উত্তাল ঝড় বইছে। তার রিমকে আরও চাই। সে রিমের চোখের জল নিজের ঠোঁট দ্বারা শুষে নিল। রক্তিম ঠোঁটে শব্দ করে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে, গাঢ় নেশাতুর কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“আর এ-একটু সহ্য করো সোনা, এইতো হয়ে যাবে।”
রিম উত্তর দেওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে; সে আরও নিবিড়ভাবে জেইনকে আঁকড়ে ধরল। তার এই মৌন সমর্পণ জেইনের ভেতরের দাবানলকে আরও উসকে দিল। তার ঠোঁটে ফুটে উঠল বাঁকা হাসি। সে রিমকে নিজের অস্তিত্বের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিয়ে আবার সেই উত্তাল অনুভূতির জোয়ারে ভেসে গেল। রিমের শরীর জুড়ে তখন আবেশের অদৃশ্য ঢেউ। যন্ত্রণা আর সুখের মিশ্রণে মুখ থেকে ভেসে এল ভাঙা গোঙানির সুর। জেইনের চোখে তখন এক ধরনের তৃপ্তি আর উন্মাদনা, যেন সে অবশেষে খুঁজে পেয়েছে নিজের স্বর্গ।
আকাশ তখনও আধো আঁধার। দূরে সমুদ্রের ঢেউ ভাঙার শব্দে যেন নিঃশ্বাস নিচ্ছে পুরো প্রকৃতি। ঠিক সেই মুহূর্তে দিগন্তরেখা ধীরে ধীরে লালচে আভায় জ্বলে উঠল। এক ফালি সূর্যের আগুনমাখা আলো ভেঙে দিল রাতের শেষ পর্দা। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এলো সোনালি ঝিলিক, জলভরা পাতায় ঝকমক করে উঠল মুক্তার মতো শিশির। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ভেজা মাটির গন্ধ আর অচেনা শান্তির আবেশ।
সবকিছু নিস্তব্ধ, অথচ এক অপার্থিব মন্ত্রমুগ্ধ সুরে ভরে উঠল ক্যালাব্রিয়ার ভোর।
বারান্দার পুলের পাশে দোলনায় আধশোয়া দু’টি নগ্ন দেহ সিল্কের চাদরে মোড়া। জেইনের খোলা বুকের ওপর পরম আবেশে হেলান দিয়ে চোখ বুজে আছে রিম। হালকা বাতাসে চাদরটা সরে যাচ্ছিল, জেইন ধীরে হাত বাড়িয়ে সেটাকে রিমের গায়ে আরও শক্ত করে জড়িয়ে দিয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে নিল।
রিমের চোখে ঘুম ভর করেছে, তবুও ভোরের আলো ওঠার আগের এই মুহূর্তটুকু জেইনের সঙ্গে উপভোগ করার লোভেই সে জেগে আছে। জেইন সামান্য ঝুঁকে তার কপালে আলতো একটা চুমু এঁকে দেয়। রিম মুখ উঁচু করে তাকায় তার দিকে।
তখনই চোখে পড়ে জেইনের গলার বাঁ পাশে, ঠিক কানের নিচে খোদাই করা একটা ছোট্ট ট্যাটু। কৌতূহলী আঙুল বাড়িয়ে সেটা ছুঁয়ে দেখে রিম। আধো ঘুমভরা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে,
“আরাত্র…”
জেইন চোখ বুজেই গাঢ় আবেশী গলায় উত্তর দেয়,
“হুমম্…”
“এটা কিসের ট্যাটু? কী লেখা আছে এখানে?”
জেইন তার দুই বাহুর নিচে হাত গলিয়ে রিমকে বুকের সঙ্গে আরও জড়িয়ে নিল। গাঢ় হুইস্কির মতো ঘন কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“ROSEN।”
রিম বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তাকায়। এই একই শব্দ লেখা ছিল সেই দড়জার গায়েও। ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়,
“এটার মানে কী?”
জেইন চোখ বন্ধ রেখেই নিরুদ্বেগ গলায় বলে,
“রিমের জেইন…”
রিমের বুক ধুকধুক করে উঠছে। লজ্জায় রক্তিম হয়ে গেছে তার গাল দুটো। জেইন নেশাভরা চোখে তাকিয়ে থাকে। মনে হয় এই টমেটোর মতো গাল দুটো এখনই কামড়ে ছিঁড়ে নেবে। সে হঠাৎ রিমের গাল দুটো দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে ঠাস ঠাস শব্দ করে দুটো চুমু খায়।
রিম লজ্জায় নেতিয়ে পড়ে, চোখ নামিয়ে ছোট ছোট আঙুল দিয়ে জেইনের বুকের ওপর আঁকিবুঁকি করতে থাকে।
তার চোখ পড়ে জেইনের বুকের সেই গভীর ক্ষতে যেখানে খোদাই করা ‘R’। শুষ্ক ঢোক গিলে রিম আলতো করে সেখানে ঠোঁট ছোঁয়ায়। জেইনের নিঃশ্বাস থেমে যায়, বুক ওঠা-নামা হয়ে ওঠে অস্থির।
রিমের গলায় অভিমান জমে উঠে
“তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে কেন? কতো কষ্ট পেয়েছিলাম আমি, তুমি জানো? প্রতিদিন শুধু ভাবতাম তুমি আসবে। কিন্তু তুমি আর এলে না। আর যখন এলে, এমনভাবে এলে যে আমি তোমাকে চিনতেই পারলাম না! তুমি আমাকে ছেড়ে একা কিভাবে থেকেছো? তোমার কি আমার কথা একটুও মনে পড়েনি?… আরাত্র…”
জেইন মৃদু স্বরে বলে,
“হুমমম…”
রিম চোখ ভিজিয়ে ফেলে
“চলো না আমরা এখান থেকে দূরে কোথাও চলে যাই যেখানে কোনো হিংস্রতা থাকবে না, কোনো রক্তপাত থাকবে না, শুধু থাকবে আমাদের ভালোবাসার একটা ছোট্ট ঘর। একদম ফেইরি টেলের মতো। যেখানে আমরা খুব সুখে থাকবো।”
“It’s not possible.”
রিম অভিমান নিয়ে ভ্রু কুঁচকে কান্নাজড়িত গলায় বলে,
“কিন্তু কেন?”
জেইনের চোখে হালকা ছায়া নেমে আসে। গলাটা আরও গভীর, আরও গাঢ়,
“কারণ এটা অন্ধকার জগত। এখানে প্রবেশের পথ যতটা সহজ, বের হওয়ার পথ ততটাই কঠিন। একবার এখানে ঢুকলে আর বের হওয়ার কোনো উপায় নেই।
আমি যেখানেই যাই না কেন, এই অন্ধকার জগত আমাকে তাড়া করে ফিরবে, সব জায়গায়।”
রিমের চোখ থেকে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে। ঠোঁট কেঁপে ওঠে,
“আমার জন্যেও এই অন্ধকার জগত ছাড়তে পারবে না তুমি?”
জেইন শান্ত অথচ ভয়াবহ নিরুদ্বেগ কণ্ঠে বলে
“না…”
রিমের কণ্ঠ কাতর আর ভাঙা
“তুমি কি আমাকে একটুও ভালোবাসো না?”
জেইনের গলা ঠান্ডা, বরফের মতো
“না।”
রিমের বুক এক মুহূর্তের জন্য ধক করে উঠল।
“তাহলে রাতে সবগুলো কি ছিল?”
জেইনের গলায় নীরস, সরল উত্তর
“জাস্ট ফিজিক্যাল নিডস্। নাথিং মোর।”
রিমের গলায় কণ্ঠ ভরে কান্নার দলা পাকিয়ে উঠল, বিশ্বাস করতে পারছে না নিজের কানকে। ভেতর থেকে ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠল। সে জেইনের বুকের মধ্যে জমে থাকা রক্তারি ক্ষতটায় আঙুল ঠেসে শক্তভাবে চেপে ধরল। ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
“তাহলে তুমি আমার নাম বুকের মধ্যে লিখে রেখেছো কেন?”
জেইন অমনোযোগীভাবে বলে,
“কে বললো এটা তোমার নাম? এটাতো এমনিই।”
রিম দাঁত কিঁচকিয়ে উঠল। হঠাৎ করেই সে কামড়ে ধরল জেইনের কাঁধ। জেইনের চোয়াল সংকুচিত হল, চোখ বুঁজে বড় করে নিশ্বাস টেনে নিল
“উফ্ রাতে মন ভরেনি তোমার? এখন আবার শুরু করছো! উফ্, ব্যথা পাচ্ছি ছাড়ো।”
রিম রাগে কাঁপতে কাঁপতে দাঁত গজগজ করে বলল,
“ছাড়বো না।”
জেইন ক্রুর হেসে বলল,
“ঠিক আছে, যত ইচ্ছে কামড়াও। চাইলে শুধু এখানে না, ওটাও কামড়ে দিতে পারো। একটু কষ্ট হবে ঠিক, বাট আমি সহ্য করে নিবো।”
রিম নাক-মুখ কুঁচকে উঠল,
“ছিঃ আপনি কি নোংরা…”
জেইন এক হাতে তার ঘাড়টা ধরে চাপ দিল গলার স্বর হঠাৎ মৃদু কঠোর হয়ে উঠল,
“এই, হঠাৎ ‘তুমি’ থেকে ‘আপনি’তে চলে এলে কেন? জাস্ট সেইড তুমি।”
রিম মুখ ফুলিয়ে জবাব দিল,
“বলবো না।”
জেইনের কণ্ঠে তখন এক অদ্ভুত সঙ্কেত,
“আমার কথা না শুনলে কিন্তু শাস্তি পেতে হবে তোমাকে।”
রিম মুখ কুঁচকে হালকা রাগ দেখিয়ে বলল,
“আমি ভয় পাই না।”
জেইন ধীরে ধীরে ঠোঁটে শয়তানি হাসি ফুটিয়ে তুলল,
“তাই? লেট’স সি…”
জেইনের বরফশীতল হাত হঠাৎ রিমের ন*গ্ন বুকের নরম অংশে তীব্র চাপ প্রয়োগ করতেই রিম ব্যথায় ফুঁপিয়ে উঠল,
“আহহ্… জানোয়ার! ব্যথা পাচ্ছি…”
জেইনের চোখে তৃপ্তির ঝিলিক। তবুও ধীরে ধীরে হাতের চাপ কমিয়ে এনে আলতো বুলাতে লাগল। তার গলাটা গাঢ়, নেশাতুর,
“তাহলে ‘তুমি’ করে বলো… তোমার মুখে শুনতে আমার ভীষণ মিষ্টি লাগে।”
রিম ভ্রু কুঁচকে, অভিমানভরা গলায় বলল,
“আমি অভিমান করেছি তোমার সাথে।”
জেইন ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কেন?”
রিমের কাছ থেকে কোনো উত্তর এলো না। সে মুখ ফুলিয়ে আছে। জেইন অস্থির হয়ে কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল,
“এই… শোনো না, আরেকবার করি না প্লিজ।”
রিম অবাক চোখে তাকাল তার দিকে,
“কি?”
জেইন ঠোঁট কামড়ে ঝুঁকে এল, রিমের কানের গায়ে ফিসফিস করে বলল,
“সে**।”
রিম ঝটকা খেয়ে ফিসফিস করে উঠল,
“ছিহ্…”
জেইন ঠোঁটে খেলা করা শিকারি হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ছিঃ কি? তোমার ভালো লাগে না?”
রিম মুখ রাঙা করে চোখ শক্ত করে বন্ধ করল, তারপর লজ্জায় মুখ গুঁজে দিল জেইনের বুকের গভীরে। জেইনের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এল। তৃষ্ণার্ত কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“একটু করি না… এইবার বেশি সময় নেব না, প্রমিস। খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে…”
রিম ভয়ে কেঁপে উঠলো। সারারাত জেইন তাকে একটুও ছাড় দেয়নি। শেষমেষ যখন রিমের দৃষ্টি নিভু নিভু হয়ে আসে তখন জেইন অবশেষে থেমে যায়। তার শরীরে এখনো অসহ্য ব্যথা ছড়িয়ে আছে। সে দ্রুত মাথা নাড়িয়ে ‘না’ বোঝায়।
জেইনের চোখ দুটো লালচে, নিশ্বাস ভারী, যেন ভেতর থেকে ক্ষুধার্ত জন্তুটা বেরিয়ে আসছে। সে কাতর অথচ তৃষ্ণার্ত গলায় বলল
“এএকটু করবো তো… এইবার, ব্যথা দেবো না তোমাকে প্রমিস। পরে পেইনকিলার খাইয়ে দেব। দেখবে, সব ব্যথা গায়েব হয়ে যাবে।”
রিম ভয়ে শুষ্ক ঢোক গিলে ফেলল। তার কাছে জেইন আজ অচেনা, অস্বাভাবিক। তাকে দেখে মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে তার নেশা প্রয়োজন না করলে সে পুড়ে যাবে। রিম মিনমিনে কণ্ঠে অনুরোধ করল,
“উমহ্… এখন না প্লিজ…”
জেইন তার মুখের কাছে ঝুঁকে এল। গলাটা আরও ভারী আর নেশাতুর, রিম চোখ শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল…
প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৯
“বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জন্নিবনাশ-শাইতান, ওয়া জন্নিবিশ-শাইতানা মা রাযাকতানা।”
“আআআআআআআআআ…”
একটা দীর্ঘ আর্তনাদ যেন ভোরের নিস্তব্ধ আকাশ চিরে ছুটে গেল।
