Home প্রাণসঞ্জীবনী প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৬

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৬

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৬
রাত্রি মনি

“Fu*ck!!! Fu*ck!!! Fu*ck!!!…
একটা তীক্ষ্ণ গলা ফাটানো চিৎকার।
“You fu*cking ass*hole** সিগন্যাল পাঠানোর পরেও এতো দেরি হলো কেন? সবকটা useless fu*cking full. তোদের কলিজা কেটে র*ক্ত চু*ষে খাবো আমি। জানো*য়ারের বাচ্চা! যদি আমার ফায়ারফ্লাইয়ের কিছু হয় জ্যান্ত পুড়িয়ে মা’রবো সবকটাকে!”
দাঁতে দাঁত পিষে কথা গুলো বললো জেইন। তার কন্ঠে হিংস্র, তীক্ষ্ণ গর্জন। যা ‘সিসিলি’র ঘন জঙ্গলের নিস্তব্ধতা চিরে দিল। তার চোয়ালের পেশিগুলো পাথরের মতো শক্ত, নীলচে শিরাগুলো কপাল বেয়ে দড়ির মতো ফুলে উঠেছে। চোখ দুটো যেন নরকের দরজায় সরাসরি গলিত লাভা। সেই চোখের দিকে তাকানো মানে নিজের মৃত্যু পরোয়ানা নিশ্চিত করা।

তার সামনেই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে চারজন গার্ড এবং পাইলট। তাদের সকলের মুখে এখন আতঙ্কের জমাট বরফ। মৃত্যুভয় তাদের মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গিয়েছে, শরীর কাঁপছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। তাদের মনে হচ্ছে যেন তারা বাঘের থাবার নীচে। তাদের মধ্যে একজন, যার সাহস অন্য সবার চেয়ে কম, সে যেন শুধু নিয়মরক্ষার জন্যই মৃত্যু-আশঙ্কায় গলা দিয়ে কোনোমতে ঘড়ঘড় করে শব্দ বের হলো,
“সরি বস… একচুয়ালি জঙ্গলের গভীরে… সিগন্যাল ট্রেস করা প্রায় অসম্ভব… তাই…”
“আই ডোন্ট লাইক এনি ফা/কিং এক্সকিউজ! তোদেরকে তো পরে দেখে নিচ্ছি। প্রত্যেকের শরীর থেকে চামড়া তুলে ডায়নিং টেবিলে সাজাবো আমি! এখন হা করে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? জলদি হেলিকপ্টার স্টার্ট কর! এক সেকেন্ডও দেরি হলে তোদের লাশটা এখানে পড়ে থাকবে!”

পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ঘন কালো রঙের কদাকার, রাক্ষুসে হেলিকপ্টারটি যেন জেইনের ভেতরের অন্ধকার আত্মারই প্রতিচ্ছবি। সে আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করলো না। রিমের নিস্তেজ, প্রায় প্রাণহীন শরীরটাকে সে এক ঝটকায় তুলে নিলো। তার বুক তখন উত্তেজনার অস্থিরতায় এক রক্তক্ষয়ী আকাঙ্ক্ষা কাঁপছে—রিমকে বাঁচানোর জন্য সে এই মুহূর্তেই যেকোনো কিছুর গলা কাটতে পারে।
রিমকে নিজের বুকের সাথে এমনভাবে চেপে ধরলো যেন রিমের শরীরের প্রতিটি কণা তার নিজের অস্তিত্বের অংশ। এরপর তার শুষ্ক খয়েরী ঠোঁট থেকে রক্তপিপাসু পশুর মতো রিমের মুখমণ্ডল জুড়ে এলোপাথাড়ি চুম্বন ছড়িয়ে পড়লো। চুমুতে চুমুতে রিমের মুখ ভিজে লিকলিকে হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু জেইনের সেই উন্মত্ত স্পর্শের নেশা থামছে না। সে যেন রিমের প্রাণটা নিজের চুম্বনের মাধ্যমে টেনে নিজের ভেতরে নিতে চাইছে, যেন তার উষ্ণতাতেই রিমকে বাঁচাতে পারবে।

তারপর রিমকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে হঠাৎ অদ্ভুত কোমল আদুরে গলায় বলে উঠলো,
“কিচ্ছু হবে না তোমার, সোনা। ইউ উইল বি সেইফ। আই’ম হেয়ার with ইউ, অলওয়েজ।”
এই কোমলতা মুহূর্তেই একশো গুণ বেশি হিংস্রতায় বদলে গেল। সে মাথা তুলে পশুর মতো গর্জন করে উঠলো,
“হোয়্যার ইজ দ্য ফা/কিং ডক্টর!”
জেইনের সেই গর্জনে গার্ডদের আত্মা যেন শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। তাদের মুখ দিয়ে শব্দ বের হলো না, কেবল গলায় একটা ঘড়ঘড়ে আওয়াজ। তারা জানে, এখন উত্তর না দেওয়া মানে নিশ্চিতভাবে বীভৎস মৃত্যু। কম্পিত বুক নিয়ে, একজন কাঁপা গলায় কোনোমতে উচ্চারণ করলো,
“ব… বস… আমরা তো জানতাম না আপনারা এইভাবে… গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন! তাই… ডক্টরকে সাথে রাখা হয়নি।”

“Fu*ck! f*** fu*cking full! ইউ ফা/কিং ইডিয়টস!আমি তোদের বলিনি সবসময় যেন সাথে ডক্টর থাকে? ব্লা*ডি এ*স। দিজ ইজ সিসিলি পার্লেমো! এখানে যেকোনো সময় মৃত্যু এসে দরজায় কড়া নাড়ে! I have warned you repeatedly. But you all are ফা/কিং useless ফেলোনস্. এখনো হা করে দেখছিস কি?নাও ড্রাইভ ফার্স্ট এন্ড কল দ্যি ডক্টর। আমার হাউজে যাওয়ার আগেই যেন ডক্টর সেখানে উপস্থিত থাকে। আন্ডারস্ট্যান্ড ইউ ফা/কিং ডগস্!”
“ইয়.. ইয়েস বস। কিন্তু আকাশের অবস্থা… খুবই খারাপ। তাই পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।”
“হেই হোয়াট দা ফা*ক ইজ দিজ পাইলট। জালানা দিয়ে নিচে ফেলে দে এটাকে। দেয়ার’জ নো নিড ফর সাচ আ ফা/কিং ইডিয়ট! আমি নিজেই চালাতে পারবো।”
এই কথায় পাইলটের কলিজা শুকিয়ে কাঠ। মনে হলো তার শরীর থেকে আত্মাটা সত্যি সত্যি বেরিয়ে গেল। নিজের কপাল চাপড়াতে মন চাইছে তার। ভয়ে চোখ দুটো প্রায় কোটর থেকে বেরিয়ে আসার মতো অবস্থা। বেচারা বুক ভরে নিঃশ্বাস টেনে, যন্ত্রের মতো স্পিড বাড়ালো। তার কাঁপা বুক আর ফ্যাসফেসে গলা থেকে যেন মৃত্যুর ভয়ই বেরিয়ে এলো,
“তার কোনো প্রয়োজন নেই স্যার। আমি ফার্স্ট ড্রাইভ করছি।”

ঘূর্ণিঝড়ের মতো হেলিকপ্টারের পাখা পাক খেয়ে নামলো পেন্টহাউজের টেরেসে। সেই ব্লেডের বাতাস যেন মৃত্যুর হিমশীতল নিঃশ্বাস।বাতাস এতটাই বেপরোয়া যে টেরেসের সাজানো বেশ কয়েকটা পটেড প্ল্যান্ট ছিটকে ছুড়ে পড়ে কংক্রিটে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। পাশের স্টিল রেলিং পর্যন্ত শো-শো শব্দে কাঁপছিল। আশেপাশে কোনো পশুপাখি ছিল না, যা ছিল, তারা আগেই ভয়ঙ্কর কোনো ইঙ্গিত পেয়ে পালিয়েছিল।
রিম তখনো জ্ঞানহীন। জেইনের বাহুতে তার নিথর শরীরটা একটুকরো রক্তমাখা কাপড়ের মতো ঝুলে আছে।জেইন হেলিকপ্টার থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল যেন উলঙ্গ আগুন থেকে বেরিয়ে আসা কোনো দানব। তার পা মাটিতে পড়তেই শব্দ হলো ‘থরররাং’, মনে হচ্ছিল যেন টেরেসের কংক্রিট ভেঙে যাবে।
লিফট পার করে কাঙ্ক্ষিত ফ্লোরে এসেই অস্থির বুক নিয়ে রিমকে আলতো ভাবে শুইয়ে দিল বিছানায়। তারপরই তার ভেতরের পশুটা মুক্ত হলো। তার চোখ আশেপাশের সবকিছু স্ক্যান করলো, তারপরই—
একটা তীক্ষ্ণ, রক্ত-হিম-করা গর্জন। এমন গর্জন যা শুনলে সিংহও থমকে দাঁড়ায়।

“হোয়ার ইজ দা ডাক্টর!!!!!!”
দেয়াল পর্যন্ত কেঁপে উঠল।
“আই সেইড আমরা ফিরে আসার আগেই যেন ডক্টর এখানে হাজির থাকে! তাহলে কোথায়???”
জেইন হিংস্র হায়েনার মতো পাশে থাকা গার্ডের গলার চামড়া লোহার শৃঙ্খলের মতো চেপে ধরল,
“এই কি বলেছিলাম তোদের আমি? হ্যাঁ? মরার শখ জেগেছে তাইনা? জানোয়ারের বাচ্চা!”
গার্ড টাকে হিংস্র পিশাচের মতো শূন্যে তুলে ছুড়ে ফেললো কাঁচের টেবিলের উপর। ছিটকে গিয়ে কাঁচের টেবিলের কোনায় মাথা ফেটে মাটিতে পড়লো। রক্ত স্রোতের মতো বেরিয়ে এলো। লোকটার শরীর ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। যেন মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে।জেইন ক্রোধে ফুঁসছে, তার নাক দিয়ে বেরোনো নিঃশ্বাস যেন লাভার উষ্ণ বাষ্প। এক ঝটকায় কাঁচের টি টেবিলটা হাতে তুলে নিয়ে সেটিকে বিকট শব্দে আছড়ে ফেললো। ভাঙার তীক্ষ্ণ ঝঙ্কারে পুরো ঘরটা কেঁপে উঠলো, যেন একটা ছোটখাটো ভূমিকম্প। মেঝেতে পড়ে থাকা লোকটা হামাগুড়ি দিয়ে পেছাতে লাগলো।

ঠিক তখনই সেখানে আগমন ঘটলো এক অপ্রত্যাশিত ব্যাক্তির। দড়জার সামনে দাঁড়িয়ে ইয়াশ! ছুটে আসার কারণে হাপাচ্ছে সমানে। মূলতঃ কাঁচ ভাঙ্গার শব্দেই ছুটে এসেছে সে। ভাঙা কাঁচ আর গার্ডের রক্তাক্ত দেহ দেখে তার বুঝতে বাকি রইলো না এই ষাঁড় আবার ক্ষেপেছে।
“কি হচ্ছে এখানে? এতো হাইপার হচ্ছিস কেন? ইজ এনিথিং রং?”
তার চোখ এরপর পড়লো বিছানায় রিমের দিকে। ছেঁড়া জামা, রক্তে ভেজা সাদা কাপড়ের মোড়ক। ইয়াশের ভ্রু কুঁচকে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চোখে মুখে।
“কি হয়েছে লিটল সিস্টারের?”

এক মুহুর্তে জেইনের কলারে হিংস্র থাবা বসায় ইয়াশ। রাগে কাঁপতে কাঁপতে গর্জন করে উঠলো,
“তুই মানুষ নাকি জানোয়ার! কি অবস্থা করেছিস মেয়েটার! কটা দিন একটু বাইরে ছিলাম। আর এর মধ্যেই……!! লিটল সিস্টারকে আমি আমার বোনের চেয়েও বেশি স্নেহ করি। ওর যদি কিছু হয় তাহলে তোর জান কুরবান করবো আমি। ভুলে যাবো যে তুই আমার ছোট বেলার বন্ধু!”
জেইন পাল্টা ভাবে হিংস্র থাবায় চেপে ধরে ইয়াশের গলায়।তার শক্তি হাড় গুঁড়ো করে দেওয়ার মতো,
“কিসের স্নেহ হ্যাঁ? দরদ দেখাস? দরদ! তোকে বলেছি না মা বলে ডাকবি! সি ইজ মাইন! ওর সাথে যা খুশি করবো আমি। তুই বলার কে? আমাদের মাঝখানে একদম নাক গলাতে আসবি না। ফা/কিং ডি/ক।”

গলা চেপে ধরার কারণে ইয়াশের চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার মতো হলো, মুখ বেগুনি হয়ে গেলো। জেইন একপ্রকার ছুঁড়ে ফেলে ইয়াশকে। ইয়াশ মেঝেতে পড়ে খুক খুক করে কাঁচের ওপর থুতু ফেললো। তার চোখ তখনো জ্বলছে। কিন্তু তার সমস্ত রাগ চাপা পড়লো যখন রিমের আর্তনাদের গোঙানি ভেসে এলো। জেইন পাগলের মতো ছুটে গেল রিমের কাছে। তার ভেতরের দানবটা মুহূর্তের জন্য অসহায় শিশুর রূপ নিলো। অস্থির কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“কি হয়েছে সোনা? কষ্ট হচ্ছে তোমার? খুব কষ্ট হচ্ছে, না? এইতো আমি আছি। আমার লক্ষী সোনা। আর একটু অপেক্ষা করো, ডক্টর এক্ষুনি চলে আসবে।”

সে এতটাই পাগলের মতো ছটফট করছে যেন রিমের প্রতিটি যন্ত্রণার কাঁটা তার নিজের হৃৎপিণ্ডকে বিঁধে দিচ্ছে।
ইয়াশ মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই উঠে দাঁড়ালো।কোমরের আঘাতের তীব্র ব্যথায় তার মুখ বিকৃত হয়ে গেলেও, সে নিজেকে সামলে নিলো। আজ সকালেই এলেনা, মাত্তেও আর তার প্লেন ইতালি ল্যান্ড করছে। কিন্তু হাউজে আসার পর ওদের দুজনের কারোর দেখা পায়নি তারা। ভয় পেয়ে গেছিল তারা ,কারণ জেইন কখনো রিমকে বাড়ির বাইরে বের করবে না, এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অবগত সে। কিন্তু পরে যখন মেইডের কাছে জানতে পারে তারা আসলে ঘুরতে বেরিয়েছে তখন কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়। কিন্তু তার পরেও মনের মধ্যে একটা শঙ্কা জমে ছিল। এখন রিমকে এ অবস্থায় দেখে সেই শঙ্কা যেন হিংস্রতায় জন্ম নিয়েছিল। মুহূর্তেই চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল নিজের বোনের ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ। তাই নিজেকে সামলাতে না পেরে অতর্কিতে হামলে করে জেইনের ওপর। কিন্তু এখন জেইনের এই অস্থিরতা দেখে বুঝতে পারছে জেইন রিমের কোনো ক্ষতি করেনি। করতে পারে না। তারা হয়তো বাইরে কোনো বিপদে পড়েছে।

“এই হারামির দল! কখন বলেছি ডক্টরের কথা! এখনো আসছে না কেন? সব কটা শুয়ো/রের বাচ্চা!!! কোথায় মরেছিস তোরা, হ্যাঁ? আমার ফায়ারফ্লাই.. আমার ফায়ার …ও কষ্ট পাচ্ছে দেখতে পাচ্ছিস না। ওর যদি কিছু হয়, জ্যান্ত কবর দিবো সব কটাকে।”
আবারো হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লো জেইন। সে দেয়াল থেকে ক্রস আকৃতির ভারী ও ধারালো কুঠারটা (Machete) হাতে তুলে নিলো। তার চোখ দুটো যেন নরকের গভীরতম গর্ত। কুঠার দেখে গার্ডের আত্মা শরীরের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম।জেইন তুফানের গতিতে সামনে এসে এক কোপ নামাতে উদ্যত হলে, ইয়াশ পেছন থেকে মরিয়া হয়ে জাপটে ধরলো তাকে।

“কী করছিস তুই! পাগল হয়ে গেছিস! শুধু শুধু বেচারার ওপর কসাইয়ের মতো হামলা চালাচ্ছিস কেন?”
“আমাকে ছাড় ইয়াশ, নয়তো তোকে কো/পাতেও এক সেকেন্ডও ভাববো না! ওদের দেখে শরীর জ্বলে যাচ্ছে আমার। কুকুরের দল একেকটা। ওরা কোনো কাজের না। অক্সিজেন নিয়ে পৃথিবীটাকে দূষিত করছে ওরা। আজকে ওদের মাংস কে/টে পৃথিবীর পলিউশন কমাবো আমি।”
ইয়াশ জেইনকে থামাতে পারছে না। জেইন শিকলে বাঁধা উন্মত্ত বাঘের মতো ছটফট করছে। ইয়াশ গার্ডটাকে চোখে ইশারা করে দ্রুত পালিয়ে যেতে বললো।সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে প্রাণ হাতে নিয়ে বিদায় নিল গার্ডটি। জেইনের সমস্ত রাগ এবার ইয়াশের ওপর ঝড়ে পড়লো।
“জানোয়ারের বাচ্চা!!! ছাড় আমাকে!!! তোদের কাউকে ছাড়বো না আমি!!! কাউকে না!!!এই শুয়ো/রের বাচ্চা এই!”

জেইন এক দৈত্যাকার ঝাঁকুনিতে ইয়াশের বাঁধন থেকে ছিটকে বেরিয়ে পড়লো। ইয়াশ আবারো ভয়াবহভাবে লুটিয়ে পড়লো মেঝেতে। কোমরে আঘাত পেয়ে তার মুখ যন্ত্রনায় কুঁচকে গেলো।
“শালা আমি তোর কোন জন্মের শত্রু রে? কিছু হলেই খালি তুলে আছাড় মারিস!”
জেইন বন্য জন্তুর মতো গর্জন করে উঠলো,
“চুপ!! জানোয়ারের বাচ্চা!!! দেখতে পাচ্ছিস না, আমার ফায়ারফ্লাই কষ্ট পাচ্ছে!”
হঠাৎ তার হিংস্র রূপ এক মুহূর্তে ভেঙে যায়। অসহায়ের মতো মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে সে।
“আমি আমি সহ্য করতে পারছি না ইয়াশ। আমার ফায়ার ফ্লাইয়ের কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। ওর কিছু হলে আমি কি করবো বল? কিভাবে বাঁচবো আমি? বুকে যন্ত্রণা হচ্ছে খুব। খুব বেশি যন্ত্রণা হচ্ছে। আমি আমার ফায়ার ফ্লাইয়ের কষ্ট দূর করতে পারছি না। কি করবো এতো ক্ষমতা দিয়ে আমি? কি লাভ এসবের? যা দিয়ে আমি আমার ফায়ার ফ্লাইয়ের কষ্টই দুর করতে পারছি না!”

সে এখন এই মুহূর্তে এক ছোট্ট শিশুর মত ভেঙে পড়েছে। যার কাছ থেকে তার প্রিয় খেলনা টা কেড়ে নেয়া হয়েছে। ইয়াশ শক্ত করে আগলে ধরে তাকে। আশ্বাস দিয়ে বলে,
“রিলেক্স একটু শান্ত হ। তোকে এভাবে ভেঙে পড়লে মানায় না। তুই তো এমন ছিলিস না। সকল পরিস্থিতিতে শান্ত মাথায় কাজ করতি‌। তাহলে এখন…!! দেখ এখন অনেক রাত।আর এটা ক্যালাব্রিয়া ঘন জঙ্গল, ডক্টরের আসতে একটু দেরি হতেই পারে!”
“শ্যাট-আপ! বাচ্চাদের মতো লেইম এক্সকিউজ দিবি না আমাকে।”
তার চোখের দিকে তাকাতেই ইয়াশের গলা শুকিয়ে যায়।‌ কন্ঠমনি নড়ে ওঠে। ভয়ে বারবার ঢোক গিলতে লাগলো সে।

“জঙ্গল হয়েছে সো হোয়াট??? এখানে আসার একশো একটা উপায় আছে। জাহাজ, হেলিকপ্টার সবকিছুর ব্যবস্থা আছে। আজকে আসতে দে ঐ ডাক্তারকে একবার চিকিৎসাটা হোক, তারপর ওর হাড় গুড়…..”
তার কথা শেষ হবার আগেই সেখানে একজন মেইল ডাক্তারকে দেখতে পাওয়া গেল। ব্রিটকেস হাতে, সাদা শার্ট ইন করা, চোখে কালো ফ্রেমের মোটা চশমা। জেইন ভ্রু কুঁচকে তাকালো,
“ও কে? আই সেইড আই নিড আ ফিমেইল ডক্টর। তাহলে এ, এখানে কিভাবে আসলো?”
পেছন থেকে ভয়ে ভয়ে এগিয়ে আসা গার্ডের হাঁটু দুটো ঠকঠক করে কাঁপছে। ঠান্ডার মধ্যেও কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়ছে। কাঁপতে কাঁপতে হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নিল বেচারা। মনে মনে একটাই প্রার্থনা করছে এ যাত্রায় যেন এই যমের দুয়ার থেকে বেঁচে ফিরতে পারে। ধরফর করা বুক নিয়ে ধীরে ধীরে বলে উঠলো,
“ব.ব..বস এতো রাত্রে ফিমেইল ডক্টর আসা সম্ভব নয়। তা..তা..তাই….”
ফণা তোলা সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে জেইন। ইয়াশ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
“তুই আগে বল! এই মুহূর্তে কোনটা বেশি জরুরি? রিমের সুস্থ হয়ে ওঠা, নাকি কে সুস্থ করলো সেটা! এমনিতেই অনেক বেশি লেইট হয়ে গেছে। আর বেশি লেইট করলে যেকোনো কিছু…”

“কু*ত্তার বাচ্চাআআআআ! জা*নোয়ারের বাচ্চা! শুয়ো*রের বাচ্চা! ইউ ব্লা*ডি অ্যা*স! তোকে বলেছি না, ওর নাম মুখে নিবি না! জা*নোয়ার! মনে হচ্ছে আমার হাতেই জান কবজ করতে চাস তুই, শুয়ো*রের বাচ্চা!”
গলার মধ্যে হিংস্র থাবায় ইয়াশের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। রুদ্ধশ্বাসে কাঁপতে কাঁপতে সে বলে উঠলো,
“ঠিক আছে, আমার আব্বা! আপনার বউয়ের নাম এই জনমে আর মুখে নেব না আমি! যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে আমার!”
তারপর গলায় চেপে ধরা জেইনের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলে উঠলো,
“এবার তো ছাড়। মায়ের কষ্ট হচ্ছে তো! ডক্টর দাঁড়িয়ে আছে!”
জেইনের শক্ত হাতের বাঁধন আলগা হয়ে আসে। ইয়াশ কে ছেড়ে রিমের পাশে গিয়ে বসে পড়ে। মাথাটা আলতো করে তুলে নেয় নিজের উরুর উপর। তারপরেই দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ডক্টরের দিকে। এমন ভাবে তাকিয়েছে যেন গিলে খাবে এখুনি। ডক্টর কেঁপে ওঠে। এখানে এসে মনে হচ্ছে ফেঁসে গেছে বেচারা।
“ওকে সুস্থ করে দে এক্ষুনি। নয়তো তুই অসুস্থ হয়ে যাবি। মাইন্ড ইট।”
ডাক্তারের এবার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। এখনি কিভাবে সুস্থ করবে সে। দেখে তো একেবারে ক্রিটিক্যাল কেস মনে হচ্ছে। সে শুষ্ক ঢোক গিলে কাঁপতে কাঁপতে সামনে এগিয়ে আসে। পাশের টেবিলে ব্রিফকেস রেখে প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি বের করে নেয়।

“আপনাকে উঠতে হবে, আদারওয়াইজ আমি চেকআপ করতে পারবো না।”
জেইন হিংস্র লাল লাল চোখ নিয়ে তাকাতেই গলা শুকিয়ে যায় লোকটার। মনে হচ্ছে প্যান্ট ভিজে যাবে।
“ঠিক আছে, কোনো ব্যাপার না আমি এভাবেই চেকআপ করে নিচ্ছি।”
সে কম্পিত হাতে চেকআপ করতে নিলে,
“সাবধানে ওর যেন একটুও ব্যথা না লাগে। ব্যথা সহ্য করতে পারে না ও।কষ্ট হয় ওর, কান্না করে দেয়। আর আমি ওর কান্না সহ্য করতে পারি না। তাই বলছি ওর যদি একটুও ব্যথা হয় তাহলে তোর কলিজা ছিঁড়ে পায়েশ রান্না করবো আমি।”
ওপাশ থেকে ইয়াশ বলে ওঠে,

“ডিউড কলিজা দিয়ে পায়েশ না কিমা করা যায়।”
ব্যস ডাক্তারের প্যান্ট ভিজে যাওয়ার উপক্রম। জেইন ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
“ছ্যহ্ এসব কি। এই কোন ছাগলকে তুলে এনেছিস! ছিঃ ইয়াক। আই হেইট দিস। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করে ফোট এখান থেকে। ফালতু যত্তোসব!”
কাঁপতে কাঁপতে শ্বাস আটকে চিকিৎসার সমস্ত কাজ করলো লোকটা। ব্যান্ডেজ করতে নিলে জেইন ঠাস করে কানের নিচে একটা বাজিয়ে দিল, মাথা ভনভন করে উঠলো লোকটার। কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। টকটকে লাল হয়ে গেছে।

“হেই ডোন্ট টাচ্ হার বডি। ইটস্ সো সফট। ইয়োর হ্যান্ডস আর সো রাফ অ্যান্ড ডার্টি। কিপ ডিসটেন্স!”
ডাক্তার বিরক্ত হলো,
“তাহলে আপনিই করে নিন না সব, আমাকে কেন ডেকেছেন!”
“তোকে ট্রেজানের খাবার বানাবো তাই। ইডিয়ট সর সামনে থেকে। আমি নিজেই ওর ব্যান্ডেজ করতে পারবো।”
ডাক্তার অবাক না হয়ে পারে না। এতোক্ষণ যাবত সব করলো সে চেকআপ, ড্রেসিং, ইনজেকশন পুশ, স্যালাইন,ব্লাড। আর এখন ব্যান্ডেজের বেলায় এতো নাটক! ডাক্তারের কাছে মনে হচ্ছে এ ব্যাটা নির্ঘাত কোনো পাগল। মেন্টাল হসপিটাল থেকে পালিয়ে এসেছে তাই এমন সব উদ্ভট আচরণ করছে। সে দ্রুত কাজ গুছিয়ে ওষুধপত্র বুঝিয়ে বললো,

“ক্ষতগুলো অনেক গভীর।আজকে জ্ঞান ফেরার সম্ভাবনা খুব কম। কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে কিছু বলা যাচ্ছে না। কালকে আবারো চেকআপ করতে হবে। আর নিয়মিত ড্রেসিং করতে হবে। আমি এবার আসি।”
“এক মিনিট।”
দড়জার সামনে পা রাখতেই জেইন হিমশীতল কন্ঠে বলে উঠলো,
“যতক্ষণ না পর্যন্ত ওর জ্ঞান ফিরছে, এই হাউজের বাইরে এক পা-ও রাখবি না তুই।”
তারপর ইয়াশের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ইয়াশ, ওকে নিয়ে যা। গেস্ট রুমের প্রয়োজন নেই, বেসমেন্টের পাশে সেই অন্ধকার ঘরটায় ঢুকিয়ে দে।”

সদ্য শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে জেইন। পুরু, নরম বাথরোবটা কোনোমতে জড়ানো তার শরীরে। ভিজে সিক্ত চুলগুলো কপালে লেপ্টে আছে, সেখান থেকে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে মেঝের মার্বেলে। গভীর গর্তে ডোবা চোখ দুটোতে রাজ্যের ক্লান্তি আর এক অসহনীয় শূন্যতা। ধীর, ক্লান্ত পদক্ষেপে এগিয়ে গেল সে। রিম শুয়ে আছে নিথর, পাণ্ডুর হয়ে। তার মাথার সামনের টেবিলে রাখা স্ট্যান্ড থেকে স্যালাইনের স্বচ্ছ ফোঁটাগুলো টুপটুপ করে নেমে চলেছে তার রগে। মুখটা ভীষণ ফ্যাকাসে, রক্তশূন্যতায় যেন শ্বেত পাথরের মতো দেখাচ্ছে।
জেইন তার পাশে গিয়ে বসে পড়লো। কিছুক্ষণ শ্বাসরুদ্ধকর নীরবতা। জেইন ঝুঁকে গিয়ে রিমের বরফ শীতল কপালে একটা গভীর, দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিল। তার ভাঙা গলা থেকে ফিসফিস করে বেরিয়ে এলো শব্দগুলো, যা কেবল সেই ঘরের বাতাসই শুনতে পেল

“তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো, সোনা… আই মিসড ইউ… খুব, খুব বেশি…”
জেইনের উষ্ণ নিঃশ্বাসের পরশে রিমের চোখের পাতাটা সামান্য নড়ে উঠলো, কিন্তু সে চোখ খুলতে পারলো না। জেইন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। আলতোভাবে রিমকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে পড়লো, নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল তার শারীরিক ঘ্রাণে। এই ঘ্রাণটাই এখন তার একমাত্র ব্যক্তিগত নেশা, শ্বাসরুদ্ধকর আসক্তি। সে রিমের ঘাড় আর চুলের ভাঁজে ঘ্রাণ টেনে ছোট ছোট, অস্থির চুম্বনে ভরিয়ে দিতে লাগল।
অচেতন অবস্থাতেও রিমের শরীরে এক সূক্ষ্ম ঝাঁকুনি খেলে গেল।ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে জেইন, তার সমস্ত সংযম যেন ভেঙে যাচ্ছে। সে রিমের বুকের কাছে আলতোভাবে জড়ানো নাইট ড্রেসটা সরিয়ে দিল… তার দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল বুকের মাঝে—সেই ‘A’ চিহ্নিত অক্ষরটির ওপর।

তার গলা শুকিয়ে কাঠ, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠলো এক আদিম ক্ষুধায়। এ যেন সেই নিষিদ্ধ দৃশ্য, যা তাকে আরো বেশি উন্মত্ত করে তোলে। সে আবারো মুখ ডুবিয়ে দিল সেই অংশে। উষ্ণ জিভ দিয়ে তীব্র লেহন করে অস্থিরভাবে এলোপাথাড়ি চুমু দিতে লাগলো। রিম অচেতন অবস্থাতেই এক গভীর, অজ্ঞাত তাড়নায় কেঁপে উঠলো। জেইনের ভেতরের অন্ধকার আকাঙ্ক্ষা যেন বাঁধ মানছে না। সে ধীরে ধীরে চুমু দিতে দিতে নিচের দিকে নামতে লাগল… আরো গভীরে…
ঠিক সেই মুহূর্তে দরজায় এক বুলেটের মতো কড়াঘাতের শব্দ!

শব্দটা জেইনের মাথায় যেন এক আঘাত হানলো। তার চোখ দুটো সঙ্গে সঙ্গে লাল আগুনের মতো জ্বলে উঠলো। এই মুহূর্তে এমন ডিস্টার্ব পছন্দ হলো না তার! সে আবারো রিমের দিকে মগ্ন হতে চাইলো, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয়বারের কড়াঘাতের শব্দ। এবারে তার মাথায় রক্ত উঠে গেল। সে ধীরে কম্ফোর্টার দিয়ে সযত্নে ঢেকে দিল রিমের শরীরটা। নিজের রাগ সামলে খুলে দিল দড়জা।
সামনে ইয়াশের সুদর্শন তীক্ষ্ণ চোয়াল। কিন্তু এ সময়ে তাকে দেখে জেইনের শরীরের প্রতিটি রোমকূপ যেন রাগে জ্বলে উঠলো।
“ফা/ক এখানে, এতো রাতে, কি চাই তোর! জানিস না কাপলসরা এই সময় ব্যক্তিগত টাইম স্পেন্ড করে!”
জেইনের কণ্ঠস্বর হিংস্র, যেন এক্ষুণি সে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ইয়াশ ভ্রু কুঁচকে শীতল, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একবার বিছানার দিকে তাকালো।
“অসুস্থ মেয়েটার সাথে কি ব্যক্তিগত টাইম স্পেন্ড করছিলিস তুই! তোর শ্বাস এমন ভারী কেন?”
তার কণ্ঠে সন্দেহ।
“সেটা তোর না জানলেও চলবে।কি চাই বল?”
জেইন দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“তোর সাথে কথা আছে আমার। সিক্রেট রুমে চল।”
“তুই যা। আমি আসছি।” জেইন দরজা আড়াল করে দাঁড়ালো।
ইয়াশ তখনো সন্দেহ নিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইল। জেইন ভ্রু কুঁচকে তাকালো,
“ওয়াট?”
“কিছু না। আমি যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি আসিস।”

“ওখানকার কি অবস্থা?”
“ZR’ company এর CFO—(Chief Financial Officer): যিনি কোম্পানির সমস্ত ফিন্যান্স, বাজেট, ইনভেস্টমেন্ট ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট দেখেন; গত ৭ বছরে কোম্পানি থেকে প্রায় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। কোম্পানির সমস্ত ফাইলের হিসেবে গরমিল রয়েছে।”
ছোট্ট একটা কক্ষ। চারপাশ গভীর অন্ধকারে মোড়ানো, যেন পৃথিবীর সমস্ত আলো শুষে নিয়েছে এই ঘর। কেবল এক কোণে রাখা ল্যাম্প লাইটের মৃদু, হলদে আভাটুকু কোনোমতে অন্ধকারকে ছিন্ন করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। সেই আবছা আলোয় সোফায় পায়ের উপর পা তুলে হেলান দিয়ে বসে আছে জেইন, তার ভঙ্গিতে এক ধরণের শীতল, অপ্রতিরোধ্য অহংকার। যেন পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারবে না।
তার হাতে একটি ব্লু-রাস্পবেরীর ইলেকট্রিক সিগারেট। সে ঠোঁটে টেনে নিচ্ছে আর তার মুখ থেকে বের হওয়া ধোঁয়াগুলো কুণ্ডলী পাকিয়ে এক অদ্ভুত জ্যামিতিক নকশা তৈরি করছে, যা দ্রুতই মিশে যাচ্ছে ঘরের স্থবির বাতাসে। সেই ধোঁয়ার কোনো ঝাঁঝালো গন্ধ নেই, বরং এক ধরণের টক-মিষ্টি, মোহময় সুবাস চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ঘরের চাপা উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলছে।
তার সামনে, ঠিক একই ভঙ্গিমায়, কিন্তু উত্তেজনার এক ভিন্ন স্তরে বসে আছে ইয়াশ। তার মুখটা ভীষণ গম্ভীর, চোয়াল শক্ত হয়ে টানটান, যেন ভেতরে ভেতরে এক তীব্র ঝড় বইছে। তার তীক্ষ্ণ চোখ দুটো জেইনের নির্বিকার মুখের দিকে স্থির।
কিন্তু জেইন সম্পূর্ণ নির্বিকার, তার চোখে নেই কোনো প্রতিক্রিয়া। সে যেন বহু বছর আগেই এসব আবেগের ঊর্ধ্বে চলে গেছে। সে ঠোঁট থেকে ইলেকট্রিক সিগারেটটি নামালো। এক প্রশান্তময়, ধীর টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়লো শূন্যে। তারপর শীতল, নিস্পৃহ কণ্ঠে বললো,

“এই সামান্য তুচ্ছ খবরগুলো, আমি প্রথম দিন থেকেই জানি। এগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় বা ইচ্ছে আমার নেই।”
তারপর একটু থেমে আরও একটা টান দিলো সিগারেটে।
“নতুন কোনো ‘আপডেট’ থাকলে বল। আর না থাকলে… এই আলোচনার এখানেই শেষ।”
“চোধুরী ম্যানশনে গিয়েছিলি তুই?”
কিছুক্ষণ নিরব থেকে ধীরস্থির ভাবে মুখ খুললো জেইন,
“হ্যাঁ।”
“আমাকে কিছু জানাস নি কেন?”
“বিশেষ প্রয়োজন মনে হয়নি।”
“আঙ্কেল’কে কেন মারলি?”
“তুই নিশ্চয়ই সবটা জেনেই এসেছিস।”
“তোর কি মনে হয় আন্টি সত্যিই……”
“আমি নিজের চোখে দেখেছি সবটা। কিভাবে অবিশ্বাস করবো বল?”
“চোখের দেখা তো সবসময় সত্যি হয় না।”
“সত্যিটা জানতেই তো এতো কিছু!”
ইয়াশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“তুই কি এ সপ্তাহেই মিশনে যাওয়ার প্ল্যান করছিস?”
“হ্যাঁ। সাথে তুই আর এলেনাও যাচ্ছিস। মার্কো আর লুকা’কে স্পেশালি তৈরি থাকতে বলবি। হ্যাকিং এর সব কাজ গুলো ওদের কেই করতে হবে।এবারের প্ল্যান কোনো ভাবেই ফেল হতে দেয়া যাবে না। সমস্ত শক্তিশালী ফোর্স চাই আমার।”

চোখের পলকে কেটে গেছে আরও চারটি দিন। রিম এখন অনেকটাই চনমনে, যদিও হাঁটা-চলায় এখনো সামান্য জড়তা। এই ক’টা দিন জেইন তাকে আগলে রেখেছে চোখের তারার মতো। তাকে নিজের থেকে এক মুহূর্তের জন্যও আলাদা করেনি। তার সমস্ত দেখাশোনা, ড্রেসিং, ব্যান্ডেজ—থেকে শুরু করে সমস্ত পরিচর্যা করেছে সে নিজ হাতে।
জানালার খোলা থাই গ্লাস ভেদ করে রোদের তীব্র ঝলক মুখে পড়তেই তন্দ্রা কেটে যায় রিমের। ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে বসলো।ঘরে জেইনকে দেখতে না পেয়ে তার মনটা একটু খুঁতখুঁত করে উঠলো—আজকাল ঘুম থেকে উঠে মানুষটার মুখ দেখতে না পেলে একদমই ভালো লাগে না তার। মন খারাপ নিয়ে সে নিজেই সাবধানে ওয়াশ রুমের দিকে এগিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসেও দেখল জেইন নেই। দরজাটাও বাইরে থেকে লক করা।একা থাকা এবং জেইনকে কাছে না পাওয়ার এই অনুভূতিতে তার মন আরও ভারী হয়ে উঠলো।
হঠাৎই পেটের ভেতর গুড়গুড় করে উঠলো ক্ষিদের যন্ত্রণায়। রুমে থাকা ডাবল ডোর ফ্রিজটি খুলতেই তার মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল। ফ্রিজ শুধু তাজা ফলমূল আর স্বাস্থ্যকর খাবারে ভর্তি। জেইন নিশ্চিতভাবেই তার প্রিয় চকলেট, আইসক্রিম আর মিষ্টিজাতীয় সব জিনিস সরিয়ে রেখেছে। এই অসুস্থ শরীরে রিমকে এসব খেতে দেবে না সে। কিন্তু এই মুহূর্তে রিমের মন চাইছে একটু মিষ্টি কিছু।

তার দৃষ্টি পড়লো ফ্রিজের তাকে রাখা কনডেন্সড মিল্কের কৌটোটির উপর। লোভ সামলাতে না পেরে হাতে তুলে নিয়ে আলতো করে আঙুল ডুবিয়ে লোভনীয়ভাবে চেটে নিল কিছুটা।সেই ঘন, মিষ্টি অংশটুকু জিভে ছুঁইয়েই তার মনটা ভরে উঠলো। সে একবার ভাবলো রেখে দেবে, আবার হাত থেমে গেল। আরও কিছুটা চেটে নিল। এভাবেই বারবার রাখতে গিয়েও থেমে গেল সে। শেষমেশ, আর নিজেকে বোঝাতে পারলো না। পুরো কৌটোটা নিয়েই সে বিছানায় ফিরে বসে পড়লো। একটু একটু করে চেটে চেটে খেতে শুরু করলো।
ঠিক তখনই, দরজার লক খুলে গেল। ঘরে প্রবেশ করলো জেইন। রিম বিদ্যুৎ গতিতে কৌটোটা নিজের পেছনে লুকিয়ে ফেললো। জেইনের চোখে তখন সন্দেহের রেখা, কপাল সামান্য কুঁচকে উঠেছে। সে বিছানায় রিমের সামনে এসে হাঁটু মুড়ে ফ্লোরে বসে পড়লো।

গভীর, অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে সে রিমকে পুরোপুরি স্ক্যান করতে থাকলো। রিমের পরনে এখনো রাতের হালকা সিল্কের নাইট ড্রেস, খয়েরী রঙের ড্রেসটা ফর্সা ত্বকের সাথে মিশে আছে পুরোপুরি। তার শরীরের প্রতিটা বাঁক যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গলার কাছের অনেকটা অংশই উন্মুক্ত, যার ফলে দৃশ্যমান হয়ে আছে তার বুকের সেই মেয়েলি সৌন্দর্য। জেইন এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে। চোখ ঘুরেফিরে এসে থামে রিমের ঠোঁটের কোণে—একটু আগেই মিষ্টি স্বাদে ভিজে ওঠা সেই ওষ্ঠদ্বয়।
জেইন তার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আলতো করে রিমের ঠোঁটের কোণ মুছে নিলো—সেখানে লেগেছিল কনডেন্সড মিল্কের সামান্য আঠালো রেশ। সেই আকস্মিক স্পর্শে রিম ভয়ে পিছিয়ে যেতে চাইলো, কিন্তু জেইন খপ করে তার হাত ধরে ফেললো। তার হাতেও সামান্য আঠালো অনুভব হলো।তার কণ্ঠস্বরে সামান্য কাঠিন্য,
“কি খাচ্ছিলে তুমি?”
রিম ক্ষীণ স্বরে, চোখ নামিয়ে বললো।
“ক.. কিছু না তো!”
“মিথ্যে বলবে না একদম! দেখি….”

জেইন আলতো করে রিমের পিছন থেকে কনডেন্সড মিল্কের কৌটোটা হাতে তুলে নিলো। তার মুখে সামান্য বিরক্তি,
“তোমাকে বলেছিলাম না অসুস্থ শরীরে এসব আনহেলদি খাবার খাবে না। সবসময় আমার কথার এমন অবাধ্য কেন হও তুমি, বলোতো?”
রিম মুখ ফুলিয়ে অভিমানী স্বরে বললো,
“একটুই তো খেয়েছি। বেশি না বিশ্বাস করো। মিষ্টি খেতে খুব ইচ্ছে করছিল…”
জেইনের ঠোঁটে এবার শয়তানি বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সে রিমের কানের কাছে মুখ ঘেঁষে,গাঢ় নেশাক্ত কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“রিয়েলি? ডু ইউ লাইক কনডেন্সড মিল্ক?”
জেইনের নিঃশ্বাস রিমের কানে লাগতেই রিমের সমস্ত শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো। সে চোখ বন্ধ করে শক্ত করে বিছানার চাদর খামচে ধরলো। জেইনের মাদকতা মেশানো স্বর আরও গভীর হলো,
“এসব তো ক্যামিক্যাল মেশানো। আমার কাছে পিউর অরগ্যানিক কনডেন্সড মিল্ক আছে। তুমি চাইলে তোমায় খাওয়াতে পারি। ডু ইউ ওয়ান্না টেস্ট ইট?”

তার ওষ্ঠদ্বয় আলতো করে পুরোপুরি গ্রাস করে নিল রিমের কানের তুলতুলে লতি। রিমের তনু মনে যেন মুহূর্তেই এক তীব্র, নিয়ন্ত্রণহীন ঝড় বয়ে গেল। বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো তার শরীর কেঁপে উঠলো। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসতে শুরু করলো।চোখের পাতা আপনা-আপনি বুজে এলো, হাত থেকে ফসকে গেল বিছানার চাদর। তার প্রতিক্রিয়া দেখে জেইন ক্রুর হাসলো।সে খুব ধীরে রিমের কানের লতি থেকে নিজের ঠোঁট সরিয়ে আনলো, কিন্তু তার নিশ্বাস তখনো রিমের উষ্ণ ত্বকের ওপর আছড়ে পড়ছে। সে ঠোঁট কামড়ে গাঢ় হুইস্কির কন্ঠে ফিসফিস করে বললো,
“I can guarantee that once you taste it, it will stay in your mouth for the rest of your life. And you will want to have that taste again and again.”
রিম প্রথমে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। পরমুহূর্তেই কথাটার গভীর অর্থ বুঝতে পেরে লজ্জায় নুইয়ে গেল। তার মুখ রক্তিম। মুখ কুঁচকে নাক ছিটকিয়ে সে মৃদুস্বরে উত্তর দেয়,
“ছিহ্! তোমার মুখে কিছুই আটকায় না।”

রিমের অস্ফুট উত্তর আর অসহায় চাহনি দেখে জেইন ক্রুর হেসে ঠোঁট কামড়ে ধরলো। পরমুহূর্তেই, তার দৃষ্টি আবারো থমকে গেল রিমের মিষ্টি আঠালো স্পর্শ লেগে থাকা, মধুর মতো নরম ঠোঁটে। শ্বাস যেন বুকেই আটকে গেল তার। ঠোঁট ফাঁক হয়ে ধীরে ধীরে ঘন শ্বাস বেরোতে লাগলো, চোখে তখন এক তীব্র নেশা।
এই চোখ, এই নিঃশ্বাস এর মানে খুব স্পষ্ট করেই বুঝতে পারছিল রিম। এই ক’দিনে জেইনের ভেতরের সেই বাঁধভাঙা সত্তা সম্পর্কে সে বেশ ভালো ধারণা পেয়ে গেছে। আশঙ্কায় তার বুক কেঁপে উঠলো। জেইন সেই কম্পিত, অর্ধউন্মুক্ত ব*ক্ষদেশের দিকে তাকালো—আর সেই কম্পন জেইনের চোখে পৌঁছাতেই তার নেশা আরও বেশি তীব্র, আরও গভীর হয়ে উঠলো।রিম শুকনো গলায় ঢোক গিলে নরম কাঁপা কণ্ঠে বললো,
“এ-এভাবে কি দেখেছো? তোমাকে, দেখে মনে হচ্ছে তুমি নেশা করে এসেছো!”
জেইন যেন পুরোপুরি এক অন্ধকার কামনার নেশায় ডুবে গেছে। তার নিঃশ্বাস ঘন ঘন চলছিল। সে নিজের শুষ্ক, লালচে খয়েরি ঠোঁটটাকে জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে খুব নিচু গভীর স্বরে বললো,

“না, এখনো করিনি। তবে এবার করবো।”
তার পর একটু থেমে আরও গভীর শ্বাস টেনে বললো,
“তুমি থাকতে আলাদা করে নেশার প্রয়োজন হয় না আমার। তোমাকে দেখলেই হয়ে যায়।”
রিম কাঁপানো শ্বাস নিয়ে কিছু বলতে যাবে, কিন্তু তার আগেই জেইন তার ঠোঁট জোড়া দখল করে নিলো। গভীর উন্মত্ততায় আশ্লেষে ডুবে গেল। ততক্ষণাৎ রিমের হাত চলে গেল জেইনের চুলের ভাঁজে, নিজেকে সামলানোর এক নিষ্ফল চেষ্টায় সে আঁকড়ে ধরলো তার চুলে। জেইন তার ঠোঁট দুটো পরম আশ্লেষে, যেন এক দুষ্প্রাপ্য সুধা, ধীরে ধীরে শুষে নিতে থাকলো।জেইনের চুমুর চাপ এতটাই বিদ্যুতের মতো তীব্র—যে তার পুরো শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। জেইনের চুলের ভাঁজে তার আঁকড়ে ধরা হাতের বাঁধন শক্ত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে আরও বেশি গভীরে টেনে নিতে থাকে রিমের তুলতুলে ঠোঁট। রিম ঠোঁট শক্ত করে চেপে রেখেছিল। জেইন তার কাঙ্ক্ষিত রেসপন্স না পেয়ে সামান্য বিরক্ত হলো। হঠাৎই কুট করে একটা কষ্টদায়ক কামড় বসিয়ে দেয় রিমের নিচের ঠোঁটে।

যন্ত্রণা আর আকস্মিকতায় শ্বাস ছাড়তেই মৃদু ফাঁক হয়ে যায় রিমের ঠোঁট। ঠিক সেই সুযোগে জেইন মুহূর্তের মধ্যে তার জিভ নিয়ে নেয় নিজের আয়ত্তে। ধীরে ধীরে, গভীর আশ্লেষে দমবন্ধ করা তীব্রতায় সেই মিষ্টি লালার স্বাদ গ্রহণ করতে লাগলো। রিমের চোখের কোণ বেয়ে তখন গড়িয়ে পড়লো এক ফোঁটা উষ্ণ অশ্রু।
জেইন একবার রিমের জিভ পরম তৃপ্তিতে শুষে নিতে থাকে, আর একবার তার ঠোঁটে উন্মত্তের মতো চুমু খেতে থাকে। রিম নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়টুকুও পায় না। তার নিঃশ্বাসের সবটুকুই বন্দী হয়ে গেল জেইনের বুকে।তার মুখ থেকে শুধু অস্ফুট গোঙানির শব্দ বের হতে থাকে। জেইনের উষ্ণ, উত্তপ্ত শ্বাস তার ফুসফুসে ঢুকে শরীরের প্রতিটা শিরা-উপশিরায় মিষ্টি যন্ত্রণার শিহরণ ছড়িয়ে দিচ্ছে।

আর সহ্য করতে না পেরে সে খামচে টেনে ধরে জেইনের চুল। তবুও জেইন থামতে পারে না। তার পিপাসা যেন মিটছে না কিছুতেই। যেন হাজার বছরের তৃষ্ণা জমে আছে বুকে। সে রিমের জিভ ধীরে, টেনে নিতে থাকে—
এতটাই গভীর, এতটাই নেশাময়… যেন তার ভেতরের সবটুকু অস্তিত্ব নিজের মধ্যে টেনে নিচ্ছে।
রিম এবার যন্ত্রণায় শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠলো। চোখ বেয়ে আরও বেশি পানি গড়িয়ে পড়ল। তার এই ফোঁস ফোঁস কান্নার শব্দে জেইনের ঘোর কাটল। সে ধীরে ধীরে ছেড়ে দিলো রিমের ঠোঁট জোড়া।
কান্নায় রিমের গাল আর নাক টকটকে লাল হয়ে গেছে। জেইন তাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো। রিমের চোখের কোনে জমে থাকা অশ্রুটুকু সে নিজের ঠোঁট দ্বারা সযত্নে শুষে নিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“কাঁদছো কেন? মেরেছি তোমায়? আদরই তো করলাম!”
রিম ফুঁপিয়ে ওঠে,

“তোমার আদর আমার সহ্যের বাইরে! এভাবে কেউ করে? আমি নিঃশ্বাস নিতে পারি না। একটু তো কোমল হতে পারো!”
“কি করবো বলো? তোমাকে একবার কাছে পেলে নিজের মধ্যে থাকি না আমি। আমার একরোখা সত্তা, আমার নিয়ন্ত্রণ সব হারিয়ে যায়। চাইলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।”
হঠাৎ রিম বক্ষভাজে তীব্র চাপ অনুভব করলো। চোখ বুজে বিছানার চাদর খামচে ধরলো সে। জেইন একদিকে তার ঘাড়ে মুখ গুজে দিয়ে নেশাগ্ৰস্থের মতো চুমু খাচ্ছে। অন্যদিকে এক হাতে বুকে ধীরে ধীরে চাপ প্রয়োগ করছে। রিম ঠোঁট ফাঁক করে অসহায় ভাবে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো।
“থামো আমি সহ্য করতে পারছি না।”
জেইনের হাতের চাপ আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠলো। রিমের ঠোঁটের ফাক গলে ফিসফাস শব্দ বেরোতে লাগলো। বুকের অসহনীয় চাপে যন্ত্রণায় ফুঁপিয়ে উঠলো।
“আহহ্ ছাড়োহ্… ছাড়ো প্লিজ। আমি মরে যাচ্ছি।”

জেইন হাতের চাপ অব্যাহত রেখেই রিমকে কোলে তুলে নিলো। ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে বেডের পাশে রাখা উঁচু কাঁচের ড্রেসিং টেবিলের উপর বসিয়ে দিল। তারপর নিজে, নিচে ঝুঁকে বসে পড়লো। রিমের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো রিম চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ফেলছে। কাঁপতে কাঁপতে আঁকড়ে ধরেছে ড্রেসিং টেবিলের আয়না। জেইন নেশাক্ত চোখে তাকিয়ে তার দুই ঊরুতে হাত রেখে পা দুটো ফাঁক করে দিতেই,রিম সম্পূর্ণরূপে তার সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেল।চমকে চোখ খুলে তাকালো রিম। তার শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক। বুক ওঠানামা করছে সমান তালে। কাঁপতে কাঁপতে ফিসফিস করে আতঙ্কিত ধরফর করা বুক নিয়ে বলল,

“ক-কি করবে তুমি?”
জেইন তার গভীর, নেশালো দৃষ্টি রিমের উপর স্থির রেখে, অত্যন্ত ধীর গতিতে তার সিল্কের নাইট ড্রেসটা উপরের দিকে তুলতে লাগলো। তার কণ্ঠস্বর তখন ভেজা, লোভাতুর,
“I want to li*ck your middle part, su*ck your sweet b*bs, and then fu*ck your p*sy until you climax.”
রিম চোখ বড় বড় করে তাকালো। অনবরত মাথা ঝাঁকিয়ে না বোঝাতে চাইলো। তার চোখে তখন তীব্র অনুনয়। কিন্তু জেইন তার কোনো কথাই শুনলো না। ঠোঁট ভিজিয়ে কামনা মেশানো গাঢ় কন্ঠে ফিসফিস করে বললো,
“Please, I have been hungry for a long time. Being away from you for so long feels like the life has gone out of my body. প্লিইজ সোনা…. এখন একটু কষ্ট করে সহ্য করো নাও। প্রমিস এরপর পুরো এক ঘন্টা আর জ্বালাবো না তোমাকে। শান্তিতে থাকতে দিবো।”
রিম অবাক না হয়ে পারলো না। মনে মনে সে ভাবলো, ‘বাহ্ এক ঘণ্টা! একটু বেশিই হয়ে গেল না!’— কিন্তু তার সেই ভাবনার মাঝেই শরীরটা তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠলো। জেইনের অধরের গভীর স্পর্শে তার তখন প্রায় মরি মরি অবস্থা।

সে অসহনীয় যন্ত্রণায় চোখ-মুখ খিঁচে শক্ত করে খামচে ধরলো জেইনের চুল। জেইনকে ছাড়ানোর জন্য সে ছটফট করতে লাগলো, কিন্তু জেইন তাকে ছাড়ছেই না কিছুতে। তার অসহ্য লাগছিল, ভীষণ কান্না পাচ্ছিল। জেইন তখন নিজের আকাঙ্ক্ষায় পুরোপুরি মগ্ন।
আর ঠিক তখনই! দরজায় প্রচণ্ড কড়াঘাতের শব্দ।
রিম চমকে উঠলো। জেইনের পিঠে এলোমেলোভাবে আঘাত করতে শুরু করলো। কাজে এমন অপ্রত্যাশিত বাধা পেয়ে বিরক্ত হলো জেইন, তার চোখ দুটো মুহূর্তে কুঁচকে গেল। সে রিমের হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরলো, তাকে নীরব থাকার ইঙ্গিত দিয়ে।

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৫

কিন্তু আবারো দরজায় কড়াঘাতের শব্দ। রিম কান্না জড়ানো ভেজা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“ছাড়ো… বাইরে কেউ দরজায় নক করছে।”
তখন আবারো দরজায় কড়াঘাতের সেই তীক্ষ্ণ শব্দ জেইনের মাথায় হাতুড়ির মতো আঘাত করলো। এবারে জেইনের চোখ দুটো টলটলে আগুনে জ্বলে উঠলো। তার নেশা আর কামনার তীব্রতা এক লহমায় হিংস্র ক্রোধে রূপান্তরিত হলো। রিমকে ছেড়ে দিয়ে সে দাঁতে দাঁত চেপে, চিৎকার করে উঠলো,
“ফা*ক! হু দা ফা*ক কাম টু বদার মি এট দিস টাইম…..”

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৭