Home প্রিয় মোনালিসা প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৫৯

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৫৯

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৫৯
নীতি জাহিদ

হঠাৎ করে ধকল যাচ্ছে মোনার উপর। মেয়ে, ঘুম, শরীর, খাওয়া দাওয়া, পড়াশোনা সব মিলিয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। অল্পতেই অস্থির হয়ে যাচ্ছে। চোখের নিচে তিন মাসেই কালি পড়ে গিয়েছে। আজ সারাদিন ঘুমাতে পারেনি। ঘুমিয়েছে আধ ঘন্টা হলো। মেয়েকে খাইয়ে আর জেগে থাকতে পারছে না। বারোটা না বাজতেই ঘুমে ঢলে পড়ছে। ইমরান এত টুকু বুঝে গিয়েছে বাবার পক্ষে ছেলে বড় করা যত সহজ ঠিক ততটাই কঠিন মেয়ে বড় করা। অথচ মিনহাজ অনায়াসে তার মেয়েকে তিলে তিলে বড় করে বিশ্বস্ততার সাথে ইমরানের হাতে তুলে দিয়েছে। ঠিক কতটা বিশ্বাস করেন একজন বাবা মেয়ের জামাইদের! তাদের সারাজীবনের সম্বল মুহুর্তেই আরেকটি ছেলের হাতে তুলে দেন?

ইশান যতটা শান্ত বাচ্চা ছিলো ঔশান ততটাই দূরন্ত। ঘড়িতে দেড়টা বাজে। মোনার চোখে রাজ্যের ঘুম, এর মাঝেই মেয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো। ধড়ফড়িয়ে ইমরান উঠে মেয়েকে কোলে নিলো। অন্তত আজকে একটু বউটা ঘুমিয়ে নিক। ঔশানকে সবচেয়ে বেশি ম্যানেজ কর‍তে পারে ইশান এবং তুশি। আইরিনের কাছেও থাকে তবে মাঝে মাঝে আইরিনকেও নাকানিচুবানি খাওয়ায়। ইমরান নিশব্দে মেয়েকে কোলে নিয়ে হাঁটছে। কেমন চোখ পাকিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়ের দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বললো,
– আম্মাজান, আপনার মা যদি জানতে পারে আপনি বাবার কিছু দোষ পেয়ে গিয়েছেন জেনেটিক্যালি বুঝতে পারছেন কেমন ভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে বাবাকে? এত পাতলা ঘুম কেনো আপনার আম্মা? মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখুন সারাক্ষণ আপনাকে নিয়ে ছুটোছুটিতে থাকে। মাকে সারাদিন একটু রেস্ট দিয়ে পাপা আসলে নাহয় পাপাকে জালাবেন। সব সহ্য করে নিব।
বাবা- মেয়ের বিজ্ঞ আলোচনার সাক্ষী কেউ নেই আজ আল্লাহ ছাড়া। বাবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে শুনতে মেয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছে কোলেই। আলতোভাবে মেয়েকে বিছানায় শুইয়ে দিলো। মেয়েকে শুইয়ে দিতেই মোনার ঘুম ভেঙে গেলো। ইমরানের তাকাতেই ইমরান ইশারায় বললো,

– শুষ… ঘুমাও। ডল ঘুমিয়েছে।
মোনা উঠে ডিভানের কাছে চলে গেলো। ইমরান উঠে পাশে গিয়ে বসে কাছে টেনে বললো,
– কি হয়েছে জান?
– শরীর চলছেনা৷ মেয়েটা শান্ত থাকেনা। ইশান,আপা আর তুশি আপু আছে বলে আমি রেহাই পাই। বিকেলে একটুও রেস্ট নেয়া যায়না। আমি এমন ছিলাম না ইমরান সাহেব। এখন টুকটাক দুষ্টুমি করি তবে আগে তো বাবার কাছে বড় হয়েছি। কখনো অভিযোগ শুনিনি। এই মেয়ে কার মতো হয়েছে?
ইমরান হেসে মোনাকে বুকে জড়িয়ে বললো,
– আমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে আমার পুতুলটা কেমন আমি কি বাবা হিসেবে অভিযোগ করবো? না তো! তবে কেনো তোমার বাবা করবে! কোনো বাবাই সন্তানদের নিয়ে অভিযোগ করতে পারেনা জান। ঔশান তো তোমার প্রথম বেবি তাই এমন লাগছে। ঠিক হয়ে যাবে।

– ইশান ও কি এমন করতো?
– করতো তবে কম। বাচ্চাটা কিভাবে যেনো বাবার দুঃখ বুঝতো।
মোনা কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,
– তাই তো বলছি। আমার ছেলেটা অনেক ভালো। মেয়েটা দস্যি হবে।
– আমি আছি। হলে হোক দস্যি। ও দস্যিপনা না করলে কে করবে?
মোনা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে বললো,
– আপনি আমাকে আর ইশানকে বকা দেন কিন্তু ঔশানের ক্ষেত্রে কেইস উলটা হলো কেনো?
– কারণ ও আমার মেয়ে। এছাড়া ইশানের এখন বয়স বোনকে সামলে আদরে যত্নে বড় করার। আর কিছু বছর গেলে ওকেও আমি বিয়ে করিয়ে দিব।
– ইশান বা আমি কেউই দস্যি নই। আপনার মেয়েটা ওরকম হবে।
– হলে হোক। ইমরানের মেয়ে। এখন তুমি ঘুমাও।
– আচ্ছা ইমরান সাহেব, ইশানকে বিয়ে করালে আমরা শ্বশুর শাশুড়ী হয়ে যাব এত তাড়াতাড়ি?
– তা তো হবোই। এনিওয়ে তোমার না ঘুম পাচ্ছিলো?
– হঠাৎ করে ঘুমটা চলে গেলো। একটা কথা বলি?
– দুটো বলো।
মোনা হেসে উঠলো। কাচুমাচু করে বললো,

– একটা ইচ্ছে করছে। এমন না যে প্রি প্ল্যান ছিলো। হঠাৎ মনে হলো। কিন্তু সম্ভব না আমি জানি।
– কি ইচ্ছে?
– বকা দিবেন না তো?
– না।
– খোলা আকাশের নিচে বসে তারা দেখতে ইচ্ছে করছে, রাস্তায় হেঁটে আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে, রাতের অন্ধকারটাকে অনুভব করতে ইচ্ছে করছে। ভেজা মাটিতে হাঁটতে মন চাইছে। কিন্তু সব এখন স্বপ্ন। মেয়েটা…
কথা শেষ করতে না দিয়ে ইমরান বললো,
– একটু বসো। আমি আসছি।
মোনা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। ঠান্ডা বাতাস মন শীতল করে দিচ্ছে। সারাদিনের আবহাওয়া বেশ উত্তপ্ত থাকলে রাতের এই সময়টাতে পরিবেশ সিক্ত থাকে। দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে মোনা রুমে এলো। ঘুমু ঘুমু চোখের ইশানকে দেখে প্রশ্ন করলো,
– কি হলো বাবা, তুমি এখানে?
ইশান খাটে সরাসরি শুয়ে বললো,
– মা রেডি হয়ে নাও। পাপা বোনের জন্য ফরমুলা বানিয়ে আনছে। আমি বোনের কাছে আছি। দুশ্চিন্তা করোনা।
রুমে বেবি ফিডার হাতে নিয়ে ইমরান ঢুকলো। মোনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললো,
– যাও রেডি হও। ইশান আছে।
ইশান হাসছে। ইমরান ও হাসছে। ছলছল চোখে মোনা তাকিয়ে আছে বাবা-ছেলের দিকে। ইশান হঠাৎ করে বলে,

– মা প্যান্টের সাথে শার্ট বা টপ পরো। আজকে দেয়াল টপকাতে পারবে চাইলে।
ইমরান ছেলেকে বকা দিয়ে বলে,
– এ্যই ছেলে কুবুদ্ধি দিচ্ছিস কেনো মাকে?
– কোথায় কুবুদ্ধি দিলাম। মায়ের ইচ্ছের কথা মনে করিয়ে দিলাম। আগের বার তো পূরণ করতে পারেনি।
মোনা ছেলের মাথার চুল গুলো এলোমেলো করে দিয়ে বললো,
– ধন্যবাদ বাবা, আমার খুব ইচ্ছে করছিলো কিন্তু মাথা কাজ করেনা ইদানীং।
– ঘুরে এসো। এরপর আগের ফর্মে ফিরে এসো। আমার প্যারেন্টস মিটিং আছে কদিন পর। বোনকে নিয়ে চিল মুডে যাবে। চেহারা দেখেছো নিজের। আমার মা লাগে কম, বুয়া লাগে বেশি। একটুও সাজুগুজু করোনা। কেমন এলোমেলো থাকো। মন থেকে তুমি অনেক উইক হয়েছো যা তোমাকে মানায় না। আমার টেস্ট এক্সাম শেষ হলে আমরা একটা লং ট্যুর দিব। বোন ও বড় হয়ে যাবে ততদিনে তাই না পাপা?
ইমরান হেসে মাথা নাড়ালো। মোনা জিন্স আর লং শার্ট পরে মাথায় ওড়না পেচালো। বের হয়ে দেখে ইশান নেই রুমে। ইমরানকে প্রশ্ন করতেই বললো,

– আসছে রুমে গিয়েছে কি যেন আনতে।
বাবার দিকে ফিরে ইশান বলে উঠলো,
– পাপা, ক্যাচ।
ইমরান হাত মেলে ধরতেই দেখলো ইশানের আর ওয়ান ফাইভ ভার্সন থ্রি এর চাবি। ছেলেকে কিনে দিয়েছে ঠিকই চালায় বেশির ভাগ সময় সোহান। ইমরানের আদেশ ইশান ভার্সিটি উঠলে বাইক পুরোপুরি চালাবে এর আগে নয়। এছাড়া লাইসেন্স ও করায় নি। বিছানায় শুয়ে বোনকে আলতো ধরে বাবা মাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
– হ্যাভ আ নাইচ ট্রিপ। বোনের জন্য চিন্তা করবেনা। আমি আছি। প্রয়োজন হলে আমি ফুফিকে বা রুবিনা আন্টিকে ডেকে নিব।
ইশান মায়ের দিকে ফিরে উড়ন্ত চুমু ছুঁড়ে বললো,
– এঞ্জয় মা। আর আসার সময় আমার জন্য যদি পারো কিছু খাবার এনো তোমার পছন্দের। তুমি যা খাও সবই আমি খাই তা তুমি জানো।
ছেলেকে আদর করে দিয়ে বললো,
– নিয়ে আসবো।
ইমরান তৈরি হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই ইশান মোনাকে বললো,
– মা, পাপার দিকে খেয়াল রেখো।
মোনা ইমরানের দিকে তাকাতেই ইমরান নিজের আপাদমস্তক চেক করে বললো,
– কেনো আমার কি হয়েছে? আমি তো আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ।
ইশান ভ্রু নাচিয়ে বলে,

– হুঁ তা তো দেখছি। হোয়াইট পোলো, ব্লু জিন্স, লেদার ওয়াচ, ডিপটিক ট্যাম ডাও পারফিউম। আহ! কি স্মেল। বুঝেছো না মা! আমি কি বুঝাতে চেয়েছি?
ছেলের ইশারা বুঝে ইমরান দাঁত খিঁচিয়ে বলে,
– ইশান ইট’স ঠু মাচ।
এক টানে গায়ের সাদা গেঞ্জিটা খুলে আলমারি থেকে কালো পোলো – শার্ট বের করে পরলো। ইশান আরো খেপিয়ে বলে,
– মা, দেখো দেখো এবার তো আরো বেশি লাগছে কালো তে। পুরাই হৃত্তিক রওশন সেজে যাচ্ছে। কার জন্য সাজ জিজ্ঞেস করো?
ছেলের দিকে তেঁড়ে আসলে মোনা মাঝে দাঁড়িয়ে বলে,
– অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই তো আপনার?
ইমরান মাথা কাত করে ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে,

– তোর মাকে খেপিয়ে কি সুখ পেলি আব্বা? আমাকে একটু বল, যেন আমিও একটু সুখ পাই।
– রাগ করোনা পাপা। তোমাকে এত ইয়াং লাগা ঠিক না। চারদিকে মহিলাদের অত্যাচারে এখন পুরুষ রা শান্তি পায় না। তোমার ভালোর জন্যই বললাম। মা সাবধানে থাকলে কেউ তোমার দিকে তাকাবেনা।
– দেখেছো মোনালিসা ছেলে কত্ত পাজি হয়েছে, আমি তোর বাপ লাগি।
মোনা কোমড়ে হাত দিয়ে বললো,
– ঠিকই তো বলেছে ছেলে। এখনকার দিনে ছেলের থেকেও বেশি বাপদের চোখে চোখে রাখতে হয়। আর আপনাকে তো আরো বেশি৷
ইশান দুজনকে থামিয়ে বললো,
– হয়েছে থামো তোমরা। ভালো বুদ্ধি দিই শুনো, মাওয়া নিয়ে যাও মাকে। ইলিশ খাইয়ে আনো।
ঠোঁটের কোণে একপেশে হাসি দিয়ে বললো,
– বুদ্ধিটা তো চমৎকার। ওকে ডান। মোনালিসা যাবে?
– দূরে হয়ে যাবেনা?
ইশান আশ্বাস দিয়ে বললো,

– আরেহ মা যাও। এডভেঞ্চার জীবনে প্রয়োজন আছে। ডলের জন্য আমি আছি ইনশাআল্লাহ।
ইশান বোনকে ধরে চোখ বুজলো। পুনরায় বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
– আমাকে কি ঘুমোতে দিবে? এত দেরি করছো কেনো?
ইমরান বেরোনোর আগে প্রথমে ছেলের কপালে আদর দিয়ে পরে মেয়েকে আদর করলো। ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
– সাবধানে থেকো। কিছু লাগলে পাপাকে জানিও। ঠিক আছে।
– ওকে পাপা। চিন্তা করোনা।
পলক ঝাপটে বেরিয়ে গেলো দুজন। ইমরান রুমের দরজা টেনে শ্বাস ফেলে মোনাকে বললো,
– ইশানটা সব সামলে নিতে শিখে গিয়েছে তাই না মোনালিসা?
– আমি নিশ্চিন্ত। ঔশানের জন্য কেউ না থাকলে আমাদের অনুপস্থিতিতে ওর ভাই ঢাল হয়ে থাকবে যেমনটা আমার জন্য থাকে।
প্রাপ্তির হাসি ইমরানের ওষ্ঠে।

গেটের খাঁজ কাটা বাড়তি স্ট্যান্ড গুলোতে পা দিয়ে গেট বেয়ে উঠে দেয়ালটা টপকেই ফেললো মোনা। ইমরান হাসছে। নিচে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে যেন পড়ে না যায়। গ্যারেজ থেকে বাইক বের করতেই জোয়াদ্দার এবং সলিম উঠে গেলো ঘুম থেকে। বাইকে উঠে বসলো মোনা। ইমরানের কোমড় জড়িয়ে বসলো। দুজনের মাথায় হেলমেট। প্রথমে পরতে না চাইলেও ইমরানের ধমক খেয়ে পরতে বাধ্য হলো। মটর বাইক ছুটছে মাওয়ার উদ্দেশ্যে। প্রায় অনেক বছর পর এভাবে জার্নি করছে।
নির্মল, চিন্তা মুক্ত এমন একটি ক্ষণের প্রতীক্ষায় ছিলো মোনা। শেষ কবে বাইকে চড়েছে মনে নেই। ছোট বেলায় মনে হয়। চাচ্চুর একটা বাইক ছিলো। পরে এক্সিডেন্ট হলে বাবা আর চালাতে দেয় নি।
ইমরানের পিঠে মাথা রেখে এসব ভাবছে মোনা। অকস্মাৎ মনে পড়ে গেলো মানুষটার পাগলামির কথা। যেদিন মেয়ে নিয়ে প্রথম এই বাড়িতে পা রাখলো সবার ঘটা করে পালন করা আয়োজনের পরো মোনাকে নিজেদের শয়নকক্ষে নিয়ে গিফটে ভরিয়ে দিয়েছিলো। এরপরো যেন তার হৃদয় শান্ত হলোনা, প্রতিমাসেই স্পেশাল কিছু না কিছু থাকে।
মাওয়া পৌঁছে ইলিশ, বেগুন ভাজা, ভর্তা খেয়ে সারা রাত নৌকা ভ্রমণে মগ্ন হলো। রাতের আকাশে তারা দেখেছে, ভেজা মাটিতে হেঁটেছে, চকলেট খেয়েছে, আজ একটা আইসক্রিম খেয়েছে অনেক মাস পর। প্রথমে ইমরান খেতে দিতে চায়নি। পরে একটা খাবে বায়না ধরলে বারণ করেনি। ফেরার পালা, রাস্তার পাশে ইমরান বাইক নিয়ে থামলো। প্রশ্ন করলো,

– ইচ্ছে পূরণ হলো?
মোনা হেসে বললো,
– কেনো আমার সব ইচ্ছে পূরণ করেন?
মোনাকে কাছে টেনে বললো,
– একদিন খুব খারাপ করে তোমার বডি নিয়ে আঘাত করে বলেছিলাম, আমি তোমার মাঝে আকর্ষণ বোধ করিনা। হয়তো তোমাকে দেয়া সর্বোচ্চ কষ্ট সেটাই হবে, এরপরই দেশ ছাড়লাম, তোমাকে ছেড়ে গেলাম।কিন্তু সত্যিটা তুমি জানো।
মোনা হেসে বললো,

– সত্যিটা কি?
মোনার দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে আছে। ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা। নজর সরিয়েও হাসছে ইমরান। মোনাও মাথা নামিয়ে হাসছে। মাওয়া সড়কে গাড়ি গুলো সাঁই সাঁই করে বাতাসের মত উড়ে যাচ্ছে। পাশে কপোত-কপোতী প্রেম করছে। মোনা পুনরায় বললো,
– সত্যিটা শুনতে মোনালিসার দু কান অপেক্ষায় আছে।
ইমরান বোকা হাসি দিচ্ছে। মনে হচ্ছে লজ্জা পাচ্ছে। মোমা ইমরানের দিকে তাকিয়ে বললো,
– ইয়া আল্লাহ, আপনি লজ্জা পাচ্ছেন?
– কোথায় লজ্জা পাচ্ছি?
– দেখেই বুঝতে পারছি। আপনি যে লজ্জাও পান তা তো জানা ছিলোনা ইমরান সাহেব।
মোনাকে কাছে টেনে প্রগাঢ় চুমু দিলো ডান গালে। সাথে সাথে বললো,
– সত্যি হচ্ছে এটা।
মোনা ব্যঙ্গ করে বলে,

– বিয়ের বাড়ির বখাটে ছেলেরা তোমার সুন্দর ফিগার দেখে আকর্ষণ বোধ করতে পারে। আমি করিনা। নায়িকা নিয়ে ঘর করেছি। আরো কি কি যেন ছিলো…
– পাজি মেয়ে। উঠো বাইকে। চলো ফিরতে হবে আমাদের।
– ভুলবোনা এসব আমি মনে রাখবেন?
– এত আদর পেয়েও ভুলবেনা? হায়রে মেয়ে মানুষ। কলিজা কেটে রান্না করে দিলেও বলবে লবন কম।
বাইকে উঠতেই মেঘ করেছে চারদিকে। ইমরান জোরে টান দিলো। গন্তব্য চমৎকার কিছু অবাক করা প্রতিক্ষণের যা মোনার জন্য।
ভোরের সূর্য উঁকি দিচ্ছে। আশপাশটা কেমন অপরিচিত লাগছে মোনার। পথটা গ্রামের পথ ধরেছে। বাইক থামিয়ে ইমরান নামতে বললো। মোনা নেমে ভালো করে লক্ষ্য করলো চারদিকে কেমন শূন্য। দূরে কয়েকটা বাড়ি এবং অসংখ্য গাছ। যেখানটাতে বাইক থেমেছে সেই জায়গায় কারুকার্য শোভিত গেটওয়ে। গেটের পাশে বড় বড় দুটো বাগানবিলাস। চারপাশে রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গোলাপি, হলুদ ফুল গুলো। যেন মোনার জন্যই আজ তাদের ফোঁটা। মোনার হাত ধরে ইমরান গেটে কড়া নাড়লো। ছুটে এসে ভেতর থেকে খুলে দিলো কেউ একজন। গেটের ভেতর পা রাখতেই মোনার মনে হলো এই কোন ভূ-স্বর্গোদ্যান? সুঘ্রাণে শোভিত চারপাশ, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। সামনে শুধু ফুল আর ফুল।
আশেপাশে অনেক মানুষ যারা ভোর থেকে কাজ শুরু করেছে পরিচর্যার। সকলে সালাম জানালো। মোনার হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ইমরান। হাজারো গোলাপের মাঝখানে মোনাকে দাঁড় করিয়ে বললো,

– ফুলের রানীকে পেয়ে পরিপূর্ণতা পেলো ফুলের রাজ্য।
চারদিকে এত গোলাপ এরপর গাঁদা, ডালিয়া,অর্কিড,টিউলিপ,গন্ধরাজসহ অসংখ্য প্রজাতির ফুল। অন্যদিকে থরে থরে সাজানো জাপানিজ পিটুনিয়া। রঙের দুনিয়া। ইমরান একটু দূরে সরে গিয়ে বললো,
– শুভ জন্মদিন বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ফুলটি। আপনার স্বামী গত এক বছর ধরে যত্ন করে প্রস্তুত করেছে আপনার জন্য এই রাজ্য। সামান্য উপহার টুকু গ্রহন করলে তার আত্না শান্তি পাবে।
আবেগাপ্লুত মোনা কেঁদে দিলো। ইমরান পাশ থেকে এসে বুকে টেনে বললো,
– পাগলী কাঁদছো কেনো? দেখো তুমি কাঁদলে ওরাও কাঁদবে।
আচমকা আকাশ কালো হলো। মুষলধারে বৃষ্টি নামলো। মোনা উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো,
– ভিজি?
চোখের পলক ঝাপটে ইমরান সায় দিলো। আজ এই উড়ন্ত প্রজাপতির ডানা কাটতে ইচ্ছে করছে না। উড়ুক ডানা মেলে,হাসুক প্রাণ খুলে। মোনা দুহাত মেলে ধরলো। ইশারায় বাগানের মালীদের সবাইকে ভেতরে পাঠিয়ে দিলো ইমরান। মোনা প্রফুল্ল হয়ে গেয়ে উঠলো,

– যদি ডেকে বলি
এসো হাত ধরো
চলো ভিজি
আজ বৃষ্টিতে
এসো গান করি মেঘো মল্লারে
করুনাধারা দৃষ্টিতে।।
গান শুনে ইমরান থমকে গেলো। এগিয়ে গিয়ে মোনার হাত ধরলো। এর আগে বেশ কয়েকবার সবাই গান গাইলেও মোনা কখনোই গায় নি। গানের প্রতিটি চরণে উপলব্ধি করছে মোনার অনুভূতি। এই মেয়েটা পানির মতো স্বচ্ছ। অনুভূতি লুকায় না, আড়াল করেনা। যখন যেখানে যেভাবেই থাকুক না মন খুলে উজাড় করে ভালোবাসতে জানে। এই ভালোবাসা অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা নিয়ে ইমরান জন্মায় নি। তাই বলেই হয়তো নিজের চেয়ে অর্ধেক বয়সের মোনালিসাতে আটকে গিয়েছিলো, আর সেই বন্ধন দঁড়িতে বাঁধা সাধারণ কোনো গেরো নয় যে টান দিলে খুলে যাবে। পবিত্র বন্ধন। যার জন্য ছিলো জন্ম জন্মান্তরের প্রতীক্ষা।
অঝোর ধারায় বর্ষণ। ভিজে একাকার দুজন। ঠান্ডার ভয়ে একপাশে সরে এসেছে ইমরান। মোনা ভিজে চলেছে। দূর থেকে মুগ্ধ হয়ে দেখছে স্বীয় রমনীকে।
বাড়ির জন্য ইলিশ পার্সেল নিলো। ভোরের দিকে বাড়ি ফিরলো দুজন। আজ ঔশান ভাইয়ের সাথে নিরবে ঘুমিয়েছে। বাড়ি এসেই পুরো বাড়ি সাজানো মোনার জন্য। সব আত্নীয়দের নিয়ে, মেয়েকে নিয়ে এবারের জন্মদিন কেটে গেলো আনন্দে।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে বড় হতে থাকলো ঔশান। সবার আদরে আহ্লাদে মেয়ে বিগড়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও মায়ের শাসনের কাছে হেরে যায় সব আহ্লাদীপনা। ইশান বার বার ফোন দিচ্ছে। ঔশানকে তৈরি করে বের হতে হবে ইশানের ভার্সিটির প্রোগ্রামের উদ্দেশ্যে। স্টেজ প্রোগ্রাম আছে। ছেলের বেশিরভাগ প্রোগ্রামে মোনাই এটেন্ড করে। ইমরান ব্যস্ত থাকে নতুবা দেশের বাইরে থাকে। এছাড়া কেনো যেন ইমরান নিজ থেকেই বুয়েটের সমস্ত প্রোগ্রাম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। প্রথম দিকে ইশানের বুয়েটে ভর্তি হওয়া নিয়েও ঘোর আপত্তি ছিলো। ইমরানের কথা হলো, এত পড়াশোনার চাপ নেয়ার প্রয়োজন নেই। ভার্সিটি থেকে পড়ুক। মোনা এবং ইশতিয়াকের জন্য ইশান ভর্তি হতে পেরেছে। ইশানের আগ্রহ দেখে ইমরান বারণ করেনি আর।
কাল থেকে ইশান মাকে বলেছে যেন বোনকে ছাড়া না যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরে ডোরিমন দেখা যার কাজ সে আজ নিজের মেক আপ পাউজ নিয়ে সাজা শুরু করেছে ভাইয়ের ভার্সিটি যাবে বলে। মোনা আতঙ্কে আছে এই বিচ্ছুকে নিয়ে গেলে না জানি কি ঝামেলায় পরতে হয়। সুতির একটা জামা পরিয়ে দিলো। বাইরে বেশ কড়া রোদ। কান্নাকাটি করে জামা খুলে ফেলেছে। পঁচা জামা পরবেনা। ছুটে গিয়ে একটা পিংক গাউন বের করেছে। মোনা রেগে গেলে বললো,

– তুমিও পরেছো পিংকি শাড়ি। ডোরিও পরবো পিংকি জামা।
– তোমার আমার সাথে কি? গরমের মাঝে এই গাউনটা পরলে গা জ্বলবে ডোরি।
– গরমের মাঝে এই শাড়িটা কেনো পরেছো?
– তোকে নিবোই না যাহ। থাক তুই ফুফি আর চাচীর কাছে।
আইরিন আর তুশি রুমে ঢুকে দেখে মা মেয়ে ঝগড়া করছে। আইরিনকে দেখে কান্না জুড়ে দিয়েছে। আইরিন মোনাকে ধমকে বললো,
– কিরে মোনা, কাঁদাচ্ছিস কেনো আমার ডোরিকে?
– আপা প্রশ্রয় দিও না তো। কাঁদানো লাগে এটাকে, শুধু শুধুই বায়না ধরে। গরমের মাঝে এটা কি পরেছে দেখো।
ফুফির দিকে গাল ফুলিয়ে বলে,
– দেখো ফুফি ডোরি গাউন পরেছে। পাপা বলে ডোরি প্রিন্সেস। ডোরি’স মাদার কুইন। আর এখন নিজে কুইন সেজে আমাকে বুয়া বানাচ্ছে।
মোনা দাঁত খিচিয়ে বলে,
– মুখটা কিভাবে চলে দেখেছো? ওকে বুয়া কে বানাইছে? সুতি জামা পরিয়েছি যেন গরমে এলার্জির প্রবলেম টা নয়।
এর মাঝে ইশান ফোন দিচ্ছে। তুশি এদের মা মেয়ের তর্ক দেখে ঔশানের সুতি জামাটে মোনার ব্যাগে ভাঁজ করে ঢুকিয়ে দিয়ে বললো,
– হয়েছে আর বকোনা গরম লাগলে চেঞ্জ করে দিও। আমি জামা ভেতরে দিয়েছি।
ঝগড়া শেষে দুজনই বেরিয়ে পড়লো। গাড়ি চালাচ্ছে আজ সজীব। মোনাকে দেখে সালাম দিয়ে বললো,
– ভাবী আজ আপনাদের আমি নিয়ে যাবো। রবিন স্যারকে নিয়ে বের হয়েছে।
– কোনো সমস্যা নেই ভাইয়া। চলুন।
গাড়িতে উঠেই ঔশান বললো,

– চাচ্চু ডোরেমন।
সজীব ডোরেমনের থিম সং চালু করলো,
ঔশান ঠোঁট মিলাচ্ছে,
কন্না কটো ইই না
ডেকিটারা ইই না
আন্না ইউম্মে কন্না ইউমে
ইপ্পা ই আরু কেডোওওও
মিন্না মিন্না মিন্না
কান্না এটেএ কে রে রুউউ
ফুশি গিনা পোক্কে ডে
কান্না এটেএ কে রে রুউউ।
সোওরাও জিউনি নবিতা ই না
আ আ আ টোট্টেমো ডাইসুকি
মোনা আর সজীব ও ঔশানের সাথে তাল মেলাচ্ছে..
ডোরায়েমন…

ইশান প্রোগ্রাম শেষে জানালো দুপুরের খাবারের জন্য রেস্টুরেন্টে যাবে। পৌঁছে মোনাকে বললো,
– পাপাকে কল দিয়ে আসতে বলি মা?
– বলো। দেখো মিটিং আছে কিনা?
ইমরান জানালো কিছুক্ষনের মাঝে আসছে। ওরা এর মাঝে খাবার অর্ডার করে নিলো। মাকে বললো,
– মা তুমি কি একটু মিসেস কাকনের সাথে কথা বলবে আরেকবার? সিমি কিন্তু ঝামেলা করছে। আজ তো একটু বেশিই করে ফেলেছে। মেয়ে না হলে আজ আমি চড় দিতাম।
– কি করেছে?
– ওর কিছু কাজিন এসেছে। সবাইকে দেখিয়ে বলেছে ও নাকি আমার বিশেষ কেউ?
মোনা হেসে বললো,

– বাবা আবেগ, ছোট মানুষ তো। তুমি তো বুঝো।
– আমার পছন্দ না ওকে।
– তাহলে অন্য কাউকে পছন্দ করে নাও। ও সরে যাবে।
– উঁহু এখন না। আর দুটো বছর সময় দাও। গ্র্যাজুয়েশন টা শেষ হোক।
– ঠিক আছে দেখছি আমি।
ইমরান এসে মাত্র রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেছে। এর মাঝে ঔশান ছুটে গিয়ে বাবার কোলে। মেয়েকে কোলে তুলে বললো,
– কেমন এঞ্জয় করলে ভাইয়ার প্রোগ্রাম?
– ভাইয়ার গান সুন্দর আর সব পঁচা।
ইমরানকে দেখে দুজনই সালাম দিলো। ইমরান হেসে বললো,
– প্রিন্স তুমি তো সার্টিফিকেট পেয়ে গিয়েছো বোনের কাছ থেকে।
ইশান হাসতে হাসতে বলে,
– পাপা আজকে প্রোগ্রামেও এই কাজ করেছে। মা তো ওর মুখ চেপে ধরে রেখেছে। আমার গানের সময় চিৎকার দিয়ে বলেছে ভাইয়া খুব সুন্দর। ওয়াও। বিউটিফুল। আর অন্যদের সময় চিৎকার দিয়ে বলেছে, ছিহঃ পঁচা। নামো। আমার ভাইয়া আরেকটা গান গাইবে।
মোনা থামিয়ে বললো,

– থামো তোমাদের বাপ – বেটার প্রশ্রয়ে এটা ফাজিল হচ্ছে। আমার মান সম্মান কিছু রইলো না। ইশানের ফ্রেন্ডের মায়েরা আমার দিকে কিভাবে যেন তাকিয়ে ছিলো। ছিহঃ। আমি অনেক এমবারেসিং ফিল করেছি। এত বললাম, চুপ করো। পালটা আমাকে বলে। ওদের নাচ বন্ধ করতে বলো। ওরা ইয়াক নাচছে।
ইমরান মেয়ের দিকে মেকি রাগ করে তাকিয়ে বললো,
– আম্মা, এসব করেছেন আজ? ভেরি ব্যাড। মা কষ্ট পেয়েছে না?
– ওরা নাচতে পারেনা। স্টেজে কেনো উঠেছে?
ইশান উত্তর দিলো,
– ওদের ভুল হয়েছে ডল। নাচ শিখে উঠা উচিত ছিলো।
মোনা ইশানকে বকা দিয়ে বললো,
– প্রশ্রয় দিবেনা ইশান। প্রয়োজন হলে দু চারটা চড় থাপ্পড় দিবে। বেশি হচ্ছে। ম্যানার না শিখলে তো সমস্যা।
– হয়েছে মা থামো। আমি দেখবো।
খাবার খেতে খেতে ঔশান উঠে ভাইয়ের পাশে চলে গেলো। ভাইয়ের খাবার টেস্ট করবে। গোলাপী জামদানীতে মোনাকে চমৎকার লাগছে। ইমরান মোনার পাশে বসে কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বললো,
– অনেক দিন পর পূর্ণিমার চাঁদের দেখা পেলাম।
মোনা খাবারের প্লেটে তাকিয়ে অধর কোণে হাসি রেখে বললো,
– আপনি কি আর এখন চাঁদ খোঁজেন। মেয়ে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।
– ও তাই! চাঁদ তো এখন আমার কাছে ধরা দেয় না। আমার আগের চাঁদই ভালো ছিলো। মুখ ফুটে কিছু বলতে হতোনা। এখনের চাঁদ তো অমাবস্যার মতো। মেঘে ঢাকা।

– আস্তে বাচ্চারা সামনে।
– এই যে এই বাহানাই। আর কিছু বলবোই না।
ইমরান রাগ করে খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। মোনা হেসে ধীর আওয়াজে বললো,
– আজ রাতে চাঁদ আপনার।
ইশান এর মাঝে বলে উঠলো,
– পাপা আমি ডলকে নিয়ে বাসায় চলে যাবো। তুমি আর মা সরাসরি চলে যাবে ওখানে তাই না! কালকের মিটিং আমি আর সোহান ভাইয়া এটেন্ড করে নেব। এঞ্জয়।
– কোথায়?
– মা বলো নি?
মোনা মাথা নাড়লো। ইমরান অবাক হয়ে মোনার দিকে তাকাতেই বললো,
– সারপ্রাইজ?
ইমরান হাসছে। কি ছিলো সেই হাসিতে। মোনা মুগ্ধ হয়ে দেখছে। আগামীকাল সারপ্রাইজ হিসেবে ভেবেছিলো মোনাকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসবে ফিফ্থ ম্যারেজ এনিভার্সারি উপলক্ষে। অথচ মোনা নিজেই সারপ্রাইজ রেডি করে রেখেছে।
যাওয়ার সময় ইশানকে দু টেবিল সামনে গিয়ে কাউকে সালাম দিতে দেখে মোনা আর ইমরান দাঁড়িয়ে পড়লো। অনন্যা আশাই করেনি এখানে ইমরান আসবে। ইশান অনন্যাকে প্রশ্ন করলো,
– আন্টি ভালো আছেন?
অনন্যা আমতা আমতা করে বললো,

– হ্যাঁ তুমি।
ইশান সাদা পাঞ্জাবি পরা বয়স্ক লোককে সালাম দিয়ে বললো,
– আংকেল রাইট! আমি আন্টির ফ্রেন্ডের ছেলে। এই যে আমার পাপা এবং মা।
ইমরান, মোনা কিছুটা ইতস্তত বোধ করলো। অনন্যার হাসবেন্ড হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলো ইমরানের সাথে। কথা শেষ করে বের হওয়ার সময় ইশান অনন্যাকে বললো,
– আন্টি বাসায় আসবেন আংকেলকে নিয়ে। আংকেল ইয়্যু আর সো স্মার্ট এন্ড বোথ অফ ইয়্যু আর নাইস কাপল। মেড ফর ইচ আদার।
মোনা ইশানকে টেনে নিয়ে এলো। অনন্যাকে মা/রা খোঁচা টা অনন্যা স্পষ্ট বুঝেছিলো। বছর পাচেক আগে প্রোগ্রামে মোনা এবং ইমরানকে যা যা বলেছিলো তার আজ রিটার্ন দিলো ইশান। অনন্যার বয়সের তুলনায় স্বামীর বয়স ও কম নয়। দেখেই মনে হচ্ছে সিক্সটি ফাইভ হবে। মানুষ নিজের খুঁত চোখে দেখেনা, অথচ অন্যের পিছনে লাগতে কোনো দ্বিধাবোধ নেই। ইমরান আর মোনা দুজনই লজ্জায় পড়ে গিয়েছে। ছেলেকে ইমরান বললো,
– ইশান কাজ টা ভুল করেছো।
প্রত্যুত্তরে ইশান বললো,

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৫৮

– পাপা, আ’ম নট আ কিড এনিমোর। নাও টুয়েন্টি থ্রি। টিট ফর ট্যাট। তোমরা হয়তো ভুলে গিয়েছো। আমি ভুলিনি। উনি মাকে বলেছিলেন, কচি মেয়ে রূপ দেখিয়ে ইমরানকে ফাঁসিয়েছে। উনার কপাল ভালো আমি বলিনি, উনার বুড়া স্বামীর টাকা দেখে উনি ফেঁসেছেন। পারিবারিক শিক্ষায় আঙুল উঠতো তাই চুপ ছিলাম।
ঔশানকে কোলে নিয়ে বাবা মায়ের সামনে দিয়ে হেঁটে চলে গেলো। ইমরান মোনার দিকে তাকাতেই মোনা চোখের পলক ঝাপটে বললো,
– ঠিক হয়ে যাবে। সময় দিন।
দীর্ঘ শ্বাস ইমরানের। সে জানে ঠিক হবেনা। কারণ রক্ত কথা বলে।

প্রিয় মোনালিসা শেষ পর্ব