প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫৪
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
সময়টা সকাল ভোর।
আকাশে আজ সূর্যের ছিটেফোঁটাও নেই। কুয়াশা ঢাকা চারদিক। ঢাকাতে ভালোই শীত পড়ছে এইবার,যাকে বলে হার কাঁপানো শীত। কুয়াশার কারণে কিছুটি দেখা যাচ্ছে না চারপাশে। এই কুয়াশার মাঝে নাকি আজ সবাই পারি জমাবে বাগান বাড়িতে। ইসলাম এবং খান বাড়ির রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে মিনি সাইজের একটি বাস।
প্রায় আধঘন্টা পরেই সবাই তৈরি হয়ে বাড়ির বাহিরে গাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হলো। বাড়ির কর্তা কর্তি ছেলেমেয়েদের বিদায় জানাতে এসেছে। আনিসুল সাহেব পাশ ফিরে আজমেরী এবং আবিরা বেগম কে দেখে মুখ কুঁচকে ফেললো। তাদের পরনে হুডি আর জিন্স। এই বয়সে এসে তার মা – খালাদের ড্রেসআপ এইরকম দেখে আনিসুল সাহেব ভিতরে ভিতরে হতাশা প্রকাশ করলো।
সাবার সাথে টুকটাক কথা বলতে বলতে তাদের মাঝে এসে উপস্থিত হলো ইসলাম বাড়ির চার গোলমাল পার্টি, সাথে আরো একজন ও আছে তোয়া। তাদের পাঁচজনের পরনে ব্রাউন কালারের হুডি আর কালো জিন্স। গতকাল রাতে তাঁরা কেনা কাটা করতে গিয়েছিলো। আর সব জামাকাপড় ই এই পাঁচজন মিলিয়ে এনেছে। সবাই আড়চোখে পাঁচজনের দিকে তাকিয়ে আবার নিজেদের মধ্যে কথা বলতে লাগলো। আজমেরী বেগম চারজনের দিকে চোখ কুঁচকে তাকিয়ে বললো ” তোরা কাইল কপিং করবার গেছিলি আমারে কইলি না ক্যা?? আমারে কইলে আমিও তোগো মতো ওমন হুডা কিনা নিয়াইতাম।”
আজমেরী বেগম এর কথা শুনে চারজন বাঁকা চোখে তাঁর দিকে তাকালো। তোয়া বিরক্ত হয়ে চোখ মুখ কুঁচকে বললো ” ওও দাদী ওইটা হুডা না হুডি হবে।”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
তোয়ার কথায় আজমির বেগম বিরক্ত হয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে তোয়া কে এক এক ধমক দিয়ে বললো ” চুপ ছেরি। মাটির লগে কথা কয় যে ছেরি সেই ছেরি আবার আমারে হিগায় কোনডা হুডা।”
আজমেরী বেগম এর কথা শুনে তোয়া মুখ ফুলালো। টুকটাক কথা শেষ করে সবাই উঠে বাসে গিয়ে বসলো । কর্তা কর্তিরা সবাই কে আগেই বার বার বলে দিয়েছে চার বিচ্ছু দের দেখে রাখতে। সবাই তাদের কে চিন্তা মুক্ত থাকতে বলে বাসে উঠে বসলো। লামিয়া,তায়েব, তায়েবা , মাহির, মুখ বাঁকিয়ে উঠে গেলো বাসে। সবাই উঠতেই বাস ছেঁড়ে দিলো। বাস ছাড়তেই কর্তা কর্তিরা চলে গেলো বাড়ির ভিতরে।
বাস চলছে আপন গতিতে। মাহির, তায়েব, তায়েবা, নিজেদের ব্যাগ থেকে ছোট্ট খাটো একের পর এক বাদ্যযন্ত্র বের করছে। তা দেখে সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
” কিরে তোরা কী কোনো গানের প্রোগ্রামে যাচ্ছিস নাকি.??” বেশ অবাক হয়ে বললো আবির।
লামিয়া আবিরের দিকে না তাকিয়ে গিটারের নতুন তার লাগাতে লাগাতে বললো ” না পাশা খেলতে যাইতাছি। যাবেন আবির ভাই..?”
লামিয়ার কথা শুনে তায়েব, তায়েবা, মাহির হো হো করে হেঁসে উঠলো। আবির মুখ কালো করে সোজা হয়ে ঘুরে বসলো নিজের সিটে। ড্রাইভারের সাথে কথা বলছিলো শুভ্র। লামিয়ার কথা শুনে এগিয়ে এসে লামিয়ার সামনে এসে দাঁড়ালো। কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে লামিয়া গিটারের তার লাগাতে লাগাতে মাথা তুলে তাকাতেই দেখলো শুভ্র কপালে ভাঁজ ফেলে দাঁড়িয়ে আছে।
লামিয়া এক ভ্রু উঁচিয়ে বললো ” কি সমস্যা এভাবে সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?? পিছনে অনেক সিট খালি আছে গিয়ে বসুন।”
শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বললো ” পাশা খেলার জন্য দাঁড়িয়ে আছি।”
শুভ্রর কথা শুনে সবাই বড় বড় চোখ করে তাকালো শুভ্রর দিকে।
আবির পাশের সিটে থেকে হা হা করে হেসে বললো
” খেল ভাই এমন পাশা খেল জানি ওও পাশা খেলার নাম টাই ভুলে যায়।”
লামহা আবিরের পেটে কনু দিয়ে খোঁচা দিয়ে চোখ গরম করলো।
লামিয়া নিচের ঠোঁট কামড়ে ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো আবিরের দিকে। তারপর শুভ্রর দিকে তাকিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো ” আমার সামনে থেকে এখন ই দূরে সরে দাঁড়ান। নয়তো এসিড ছুঁড়ে আপনার মুখ পুড়িয়ে দিবো।”
পিছন থেকে লাবিব বিরক্ত হয়ে বললো ” এই তুই সবসময় এসিড এসিড করিস কেনো..? এসিড কি জানিস তুই….?”
লাবিব এর কথা শুনে তোয়া সিটের উপরে উঠে বললো বিরক্ত হয়ে বললো ” ওই শালা একটা ভুতের বাচ্চা।”
তোয়ার কথা শুনে সবাই আশ্চর্য চোখে তাকালো তোয়ার দিকে।
” এসিড ভুতের বাচ্চা কবে হলো..?” বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো আরিফ।
তোয়া আরিফের দিকে তাকিয়ে বললো ” আমিও জানি না কিন্তু ভুতের মুখ দেখো না কী জঘন্য। ওদের মুখে কেউ এসিড ছুঁড়ে দিয়েছিলো মনে হয় । আর দেখো না ভুতের রা মুখ দিয়ে পুড়িয়ে মারে। তাই এসিড হলো ভুতের বাচ্চা। ভুতের পেট থেকে বের হয়েছে এসিড।”
সবাই হাবার মতো তাকিয়ে আছে তোয়ার দিকে। তোয়ার কথা তাদের মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে পুরোটা।
সাফওয়ান তোয়ার কথা শুনে বললো ” বাহ্ বাহ কী উত্তর দিলি রে ছোট্ট বিচ্ছু। পুরো মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে। এ, বি, সি, ডি না পারা স্টুডেন্ট ও গ্যালিলিওর গ্যলিলি হয়ে গেলো। আমরা কী করলাম..?”
তোয়া সাফওয়ান এর দিকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুখ ফুলিয়ে বললো
” তুমি জানো আমি এ , বি সি, ডি পারি না..?”
” ওওও পারো বুঝি..?”
” অবশ্যই পারি।”
পাশ থেকে আবির মুখ বাঁকিয়ে বললো ” ওওও তো পারে কি না ওইটা জিগ্যেস না করে ওর বস রা পারে নাকি জিগ্যেস করতো।”
আবিরের কথা শুনে লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা কপাল কুঁচকে তাকালো আবিরের দিকে। আবির মুখ বাঁকালো।
লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির একজন আরেকজনের দিকে তাকালো।
তারপর কোনো কথা বলে চুপচাপ সিটে বসলো। শুভ্র ও আর কিছু না বলে জাহিদের সাথে গিয়ে বসলো। বেশ কিছুক্ষণ নিরবতা। বাস চলছে আপন গতিতে। কুয়াশা কাটিয়ে ধরণীতে সূর্য উঠছে একটু একটু। হামিদা খাবারের ঝুঁড়ি থেকে খাবার বের করে একে একে সবাই কে দিচ্ছে। সেই সকালে না খেয়ে বের হয়েছে সবাই এখনো কারোর পেটে কিছু পরে নি। রাশেদা বেগম এক ঝুড়ি খাবার দিয়ে দিয়েছিলো যেতে যেতে ক্ষুধা লাগতে পারে সেই ভেবেই দিয়ে দিয়েছিলো। হামিদা সবাই কে খাবার দিলো। খেতে খেতে টুকটাক গল্প করতে লাগলো সবাই।
পুরোপুরি সূর্য উঠতেই সবাই বাসের জানালা খুলে দিলো। লামিয়া উঠে গিয়ে বাসের ছাদ খুলে দিয়ে উপরে উঠে মন ভরে নিঃশ্বাস নিলো। তারপর কিছু ভেবে নিচে নেমে কালো রঙের গিটার টা হাতে নিতেই সবাই লামিয়া র দিকে তাকালো। এতোক্ষণ সবাই বোরিং হচ্ছিলো কিন্তু এখন লামিয়ার হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছে এখন আর বোরিং হতে হবে না। গাড়ি ততক্ষনে গ্রামের রাস্তায় ঢুকে পরেছে। চারপাশে হলুদ সবুজে ঘেরা। রাস্তার চারপাশে গাছ গাছালি। হলুদ হলুদ সরিষা ফুল ফুটেছে চারপাশে। গ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য সবাই মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগলো। তখনই গিটারের টুংটাং শব্দ শোনা যেতেই সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে সামনে তাকাতেই লামিয়া গান ধরলো ” A B C D E F G H I
পাশ থেকে তায়েবা সিট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হুডির পকেটে হাত ঢুকিয়ে গেয়ে উঠলো ” J K L M N O P
তায়েবা শেষ হতেই তায়েব বলে উঠলো ” Q R S T Y V
শেষ হতেই মাহির গেয়ে উঠলো ” W X Y Z
মাহিরের শেষ হতে তোয়া লাফিয়ে শুভ্রর সামনে গিয়ে শুভ্রর গলা পেঁচিয়ে ধরে গেয়ে উঠলো ” I LOVE YOU
তোয়ার শেষ হতেই সবাই এবার এক সাথে তালে তাল মিলিয়ে গেয়ে উঠলো A B C D E F G H I J K L M N O P Q R S T Y V W X Y Z.
শেষ হতেই ছবি গালে হাত দিয়ে লাবিবের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো ” I LOVE YOU
এবার সাফওয়ান হামিদার দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো ” Chuttiyon ke yeh din hain suhaane, saathi tera yoon saath rahe.
আবির এবার উঠলো বসা থেকে। শুভ্রর কোল থেকে তোয়া কে নিজের কাঁধে নিয়ে গেয়ে উঠলো ” bachchon ke sang bachche phir ban jaayein, mauj mein jhoomein zara masti karein.
পাশ থেকে সাফওয়ান আবারো গেয়ে উঠলো ” Banke baadal, banke panchhi,udte raheinnnn..
পাশ থেকে তায়েবা বলে উঠলো ” kyaa baat hai jijaji…
সাফওয়ান থামতে আবারো সবাই এক সাথে গেয়ে উঠলো তাল মিলিয়ে। সামনে বসে আজমেরী,আবিরা বেগম এবং শফিকুল খান হাতে তালি দিয়ে উপভোগ করছে।
গ্রামীণ সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করতে শুভ্র ড্রাইভার কে ইশারা করতেই ড্রাইভার বাস থামালো। একে একে সবাই নেমে এলো গ্রামীণ সুন্দর রাস্তায়। সবাই বাস থেকে বের হতেই একটা শীতল বাতাস তাদের গা ছুঁয়ে দিয়ে গেলো। লামিয়া পায়ের জুতো খুলে খালি পায়ে রাস্তায় নেমে এলো। মাহির আবারো গিটার টুং টাং শব্দ করতেই লামিয়া হুডির পকেটে হাত রেখে মুচকি হেসে আবারো গেয়ে উঠলো ” Apne gaanv ki galiyon mein chalein hum..
গাইতে গাইতে এগিয়ে এসে রাশেদ, আরিফ এর হাত ধরলো। রাশেদ আরিফ হেঁসে বোনের কাঁধে হাত রেখে পাশে তায়েবা, মাহির,তায়েব, হামিদা, লামহা, ছবির দিকে তাকাতেই তাঁরা দৌড়ে এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রেখলো। মাহির শুভ্রর হাতে গিটার দিয়ে আসতেই শুভ্র হালকা হেঁসে গিটারে টুং টাং সুর তুলতেই হামিদা হেঁসে ভাইবোনদের দিকে গেয়ে উঠলো
” Bachapan ki yaadon mein khoya hai man…
হামিদা থামতেই লামহা গেয়ে উঠলো “Baahein thaame teen bhaaiyon ki..
লামহা থামতেই ছবি গেয়ে উঠলো
” Thumkegi phirr se unki behan..
ছবির গান শেষ হতেই হুট করেই মাহির লামিয়া কে আর তায়েব তায়েবা কে কাঁধে তুলে নিলো।
তায়েব আর মাহির হেঁসে ঢুলতে ঢুলতে সামনে এগোতে লাগলো। তখনই তায়েবা গান ধরলো ” Savan ke jhoolon se….
পিছন থেকে ছবি গেয়ে উঠলো
” Hoga milan….
তায়েব,তায়েবা, মাহির, লামিয়া পিছনে তাকাতেই দেখলো আরিফ ছবি কে কাঁধে তুলে নিয়েছে। তা দেখে সবাই হেঁসে উঠলো। তারপর বেশ কিছুক্ষণ রাস্তায় বসে বেশ হৈ হুল্লোড় করলো সবাই। গ্রামীণ এতো সুন্দর পরিবেশে এসে মন ডা বেশ ফুরফুরে হয়ে উঠেছে সবার। নাচ – গানের পালা শেষ করে সবাই একে একে উঠে বসলো বাসে। বাসেও বেশ হৈচৈ করতে করতে আসলো সবাই। হাসতে হাসতে ছবির চোখ বেঁয়ে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে নিচে পড়তেই লাবিব দ্রুত হাত পাততেই ছবির চোখের পানি টুপ করে লাবিব এর পাতের তালুতে পড়লো। ছবি ছলছল চোখে পাশ লাবিবের দিকে তাকাতেই লাবিব সবার আগে চরে টুপ করে ছবির কপালে একটা চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বললো ” প্রাণ সজনী এই আনন্দের দিনে চোখের পানি ফেলছিস কেনো..? এটা কী মানায় বল?? অকারণে চোখের পানি ফেলিস না প্লিজ। আর তোর যদি চোখের পানি এতোই ফেলতে মনে চায় আমাকে বল আমি তোর চোখের পানি ফেলতে সাহায্য করবো, তবে সেটা এখন নয় রাতে।”
” এতো সুখ আমার কপালে সইবে তো লাবিব ভাই..?” কান্না জড়িত কন্ঠে বললো ছবি।
” এমন কথা কেনো বলছিস প্রাণ আমার। আর সুখ সইবে না মানে ..? অবশ্যই সইবে। আমাদের এখনো সংসার করা বাকি, বাচ্চার মুখ দেখা বাকি। আর সুখ এখনো শুরু হয় নি। সুখ শুরু হবে আমাদের বাসরের পরে বুঝলি..?”
ছবি লাবিবের কথা শুনে বিরক্ত চোখে লাবিবের দিকে তাকাতেই লাবিব দুষ্টু হাসলো। ছবি বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে ঘুরে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
হৈচৈ করতে করতে বেশ ক্লান্ত হয়ে পৌঁছালো বাগান বাড়িতে। বিশাল বড় জায়গা জুড়ে এই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। বাস থেকে একে একে সবাই মানতেই দেখলো বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুজন মহিলা আর তিনজন পুরুষ। আজমেরী বেগম তাদের সামনে এগিয়ে যেতেই তাঁরা খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠলো। আজমেরী বেগম তা দেখে হেঁসে বললো ” কীরে কেমন আছোস তোরা..?”
সামনে থাকা মহিলা খুশি হয়ে বললো ” ভালা আছি খালাম্মা। আপনেগো আইতে অসুবিধা হয় নাই তো..?”
আজমেরী বেগম হেঁসে বলল ” না না অসুবিধা হয় নাই।”
সামনে থাকা লোকটা হেঁসে বলল
” খালাম্মা আপনেরা আইবেন ওইডা বড় ভাইজান কাইলকা রাইতেই টেলিফোন কইরা কইয়া দিছিলো।”
টুকটাক কথা বলে সবার সাথে কৌশল বিনিময় করলো।
সামনে থাকা দুটো লোক এই বাড়িতে আছে বেশ কয়েক বছর হয়েছে। বেশ ভালো এবং বিশ্বস্ত লোক তারা। এবং তাদের পাশে যে দুটো মহিরা দাঁড়িয়ে আছে তাঁরা তাঁদের স্ত্রী।
পরিচয় পর্ব শেষ করে সবাই চলে গেলো বাড়ির ভিতরে।
বাড়ির ভিতরে যেতেই পুতু মিয়ার বউ জরিনা বেগম সবাই কে যার যার রুম দেখিয়ে দিতেই চলে গেলো সবাই সেই রুমে। লামিয়া দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সিঁড়ির দিকে তাকালো। তাঁর ইচ্ছে করছে না এই সিঁড়ি বেয়ে উপরে যেতে কারণ তখন খালি পায়ে রাস্তায় নামতেই কিসের কাঁটা যেনো পায়ে বিঁধে গিয়েছে। সেই কখন থেকে ব্যাথা করছে পা তবুও কাউকে কিছু নি লামিয়া। কিন্তু এখন আর পারছে না। ব্যাথায় পা মনে হচ্ছে ছিঁড়ে যাবে এখনো। ভেবেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সিঁড়িতে এক পা দিতেই কেউ তাকে শূন্য তুলে নিলো। লামিয়া চমকে মাথা তুলে তাকাতেই দেখলো শুভ্র শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। শুভ্র কে দেখে লামিয়া কিছু বললো না ধীরে ধীরে শুভ্রর বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলো। ব্যাথায় অবশ হয়ে আসছে তাঁর পা। হাঁটার শক্তি নেই শুভ্র যদি নিজে গাঁয়ে পরে তাঁকে কোলে করে রুমে দিয়ে আসে এতে মন্দ হবে না বেশ ভালোই হবে।
লামিয়া শুভ্রর বুকে মাথা রেখে আস্তে করে বললো ” প্লিজ রুমে দিয়ে আসুন শুভ্র ভাই। পরে এর জন্য আপনাকে দশ টাকা দিবো।”
শুভ্র লামিয়ার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকালো তাঁর দিকে। লামিয়া তা দেখে বললো ” দশ টাকা কম হয়ে গিয়েছে..? ঠিক আছে বিশ টাকা দিবো চলবে..?”
শুভ্র এবার ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকাতেই লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো ” ঠিক আছে ত্রিশ টাকা দিবো আর এক টাকাও বাড়াবো না।”
শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে কোনো কথা না বলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো।
” এতো টা অগোছালো কেন তুই ভ্রমর..?” উপরে উঠতে উঠতে শীতল গলায় বললো শুভ্র।
লামিয়া শুভ্রর বুকে মাথা রেখে চোখ বুজে ছোট্ট করে বললো ” আপনি গুছিয়ে দিবেন তাই আমি এতো অগোছালো।”
” নিজের যত্ন নেস না কেনো??”
” আপনি যত্ন করবেন বলে।”
” এতো পাগলামি করিস কেনো?”
” আপনি আমার পাগলামি তে সায় দেন বলে।”
” এতোটা ছন্নছাড়া হলে চলবে কী করে ভ্রমর..?”
” আপনি শুধু আগলে রাখুন।”
” যদি আমি না থাকি..?”
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫৩
” কোথায় যাবেন আপনি..?” লামিয়া চমকে উঠে মাথা তুলে প্রশ্ন করলো শুভ্র কে।
” তোর থেকে যদি অনেক দূরে সরে যাই। যদি আমার মৃত্যু হয়..?”
” আপনাকে ওই সাদা কাপড়ে দেখার আগে আমার মৃত্যু হোক।” কথাটা বেশ শক্ত গলায় বললো লামিয়া।
শুভ্র হাঁটা থামিয়ে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেঁসে কোনো কথা না বলে রুমে প্রবেশ করলো।

Plz তারাতারি দিন