Home প্রেমের পাঁচফোড়ন প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৩+১৪

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৩+১৪

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৩+১৪
Afnan Lara

মিস জানো Santu ভাইয়ার অনেক দুঃখ,সে কদিন বাদেই মন খারাপ করে থাকে,কাল বিকালে আমি যখন মাম্মির সাথে ছাদে গেছিলাম গাছে পানি দেওয়ার জন্য তখন দেখলাম মন খারাপ করে দোলনায় বসে আছে
কেন?
জানি না তো,আমি অনেক জিজ্ঞেস করেছি,বলে না আমাকে
ওহ
আহানা মিষ্টিকে পড়িয়ে বাসায় ফিরার সময় তার চোখে পড়লো ১০তলা বিল্ডিংটার একটু দূরে কচু গাছের ক্ষেত
আহানা কচু গাছ অনেক খুঁজে এখন পেয়েছে,কচু গাছের পাতা সিদ্ধ করে মসলা দিয়ে রাঁধলে খুব ভালো লাগে এবং এটা অনেক উপকারী,বিশেষত চোখের জন্য

আহানা চুপিচুপি গিয়ে একটা একটা করে পাতা ছিঁড়তে লাগলো
অনেকগুলো পাতা নিয়ে রোডে এনে রাখলো,,আরও ২/৩টা নিলে বেশ হতো,২দিনের জন্য রান্না করতে পারতাম আমি
আহানা আবার ভিতরে গিয়ে পাতায় হাত দিতে গিয়ে পায়ের দিকে নজর গেলো তার,ইয়া বড় বড় দুটো জোঁক আরামসে নিশ্চুপ ভাবে তার রক্ত চুষে যাচ্ছে যা এতক্ষণ সে টেরই পায়নি
চিৎকার দিয়ে মাটিতে বসে পড়লো আহানা,কি করবে কোথায় যাবে বুঝতেসে না
চোখ বন্ধ করে বসে আছে,সকাল ৭টায় তো ঢাকার অভিজাত এলাকার মানুষদের রাস্তায় চোখেই পড়ে না,আর সেই অভিজাত এলাকায় সে চিৎকার করেও মানুষ পাবে না
শান্ত কানে ইয়ারফোন দিয়ে জগিং করতে করতে যাচ্ছে রোড দিয়ে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

গানের তালে তালে মাথা হেলিয়ে দুলিয়ে কচু ক্ষেতের দিকে একবার তাকিয়ে আবার আরেকদিকে তাকিয়ে থেমে গেলো,এক মিনিট কাকে দেখলাম?
শান্ত আবারও তাকালো সেদিকে,আহানা চোখ বন্ধ করে ক্ষেতের মাঝখানে বসে আছে,ভয়ে বিড়বিড় করে কিসব বলতেসে মনে হচ্ছে
কানের থেকে ইয়ারফোনটা খুলতে খুলতে শান্ত সেদিকে এগিয়ে গেলো
এই মেয়ে?মাথা ঠিক আছে তোমার??এরকম জঙ্গলের ভিতরে গিয়ে মাটিতে বসে কি করতেসো তুমি?
প্লিস আমাকে বাঁচান
কি হয়েছে?আশেপাশে কোনো গুণ্ডাপাণ্ডা তো দেখতেসি না আমি
আরে আমার পা😭
শান্ত এগিয়ে এসে তাকিয়ে দেখলো আহানার পায়ের পাতাতে একটা জোঁক আরেকটা পায়ের টাকনুর উপরে,বড় বড়

😭এগুলাকে সরান না প্লিস
তুমি এখানে আসতে গেসো কেন,আর মাঝখানে কেনোই বা আসলা?
আহানা জবাব না দিয়েই পড়ে যাচ্ছে
– লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জুয়ালিমিন
শান্ত হাত দিয়ে জোঁক সরাতে যেতেই আহানা চিৎকার দিয়ে বললো এই কি করতেসেন,হাত দিয়ে ধরতেসেন কেন আপনি!!!
হাত দিয়ে ধরে সরাতে ইজি হবে বুঝছো?
শান্ত হাত লাগাতেই আহানা ভয়ে শান্তর টি- শার্ট টেনে ধরলো
ঐ দেখো তোমার ঘাড়ে একটা
আহানা আর থাকতে পারবে না,শান্তর মুখে এ কথা শুনে এগিয়ে এসে শান্তর কাছে গিয়ে বসে পড়লো ভয়ে
প্লিস ঘাড় থেকে সরান,

শান্ত হেসে দিয়ে আহানার পায়ের জোঁক ২টো সরিয়ে ফেললো
কই ঘাড়ের টা সরিয়েছেন?
আহানার চোখ বন্ধ,শান্ত বললো সরিয়েছি
আহানা এবার হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো,উফ,পা কি জ্বালা করতেসে,উঠে দাঁড়াতেই শান্ত ১০০টা প্রশ্ন করে বসলো,এখানে কেন এসেছে আহানা,কিসের জন্যে এসেছে!
কচু পাতা নিতে এসেছিলাম আমি
তোমার কি এখন চড়ুই ভাতি খেলার বয়স?ছোটবেলায় আমি কচু পাতা দিয়ে শাক রান্না করে আমার পাতানো বউকে খাওয়াতাম,কাঁচা কাঁচা,সে খেয়েও নিতো,একটা বলদই ছিল
পাতানো বউ?
ছোটবেলায় সবার এমন পাতানো বউ থাকো,তোমার পাতানো বর নাই?
নাহ
ওহ তাহলে তোমাকে বুঝিয়ে লাভ নেই,এই পাতা দিয়ে কি করবা সেটা বলো
কি করবো আর,রান্না করবো

হোয়াটটটটট!!!রান্না?তোমার মাথা ঠিক আছে?এ বয়সে কচু পাতা রেঁধে চড়ুই ভাতি খেলবা তুমি?
না ধুর,বলতে তো দিবেন,আর এমন ভাব করেন কেন,জীবনে কচু পাতা রান্না করা খাননি?
নাহ, জীবনে এ প্রথম শুনলাম কচু পাতা রেঁধেও খাওয়া যায়,ও মাই গড!
এটা সিদ্ধ করে মসলা দিয়ে ভাজি করলে অনেক মজা
শান্ত নিচে তাকিয়ে দেখলো আহানার পায়ে আরেকটা জোঁক
শান্তর চাহনি দেখে আহানাও তার পায়ের দিকে তাকালো!
আহানা জোঁক দেখে আবারও চিৎকার করে শান্তর হাত চেপে ধরলো
প্লিস এটাকে সরান প্লিস!
এক শর্তে
কি শর্ত?
তুমি যে ডিস রান্না করবা আমার জন্য ও আনতে হবে
আচ্ছা আনবো, সরান প্লিস প্লিস

আমার হাত না ছাড়লে সরাবো কি করে?
আহানার এবার হুস আসলো সে শান্তর হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে রেখেছে
তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিলো ওর হাত
শান্ত ঝুঁকে এই জোঁকটাও সরিয়ে ফেলো দিলো
আহানা আর না দাঁড়িয়ে রোডের দিকে দৌড় মারলো,এখানে থাকা আর পসিবল না বাপরে বাপ
জোঁক ১০০টা ধরসে আমাকে
মনে থাকবে তো শর্তের কথা?

আহানা কচুপাতা যেগুলো তুলেছিল সেগুলো হাতে নিতে নিতে বললো ঠিক আছে আনবো
বাসায় ফিরে কচুপাতাগুলো কাটতে বসে পড়লো সে,ভালো করে ধুয়ে কেটে সিদ্ধ করে রেখে দিলো,ভার্সিটি থেকে এসে রাঁধবে
সেদিনের পিঠা ২টা ছিল,সেগুলো খেয়ে বের হলো বাসা থেকে,তখন সকাল ১০:১৪বাজে

আহানা রুপাকে নিয়ে ক্যামপাসে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে,শান্তকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না
আমাকে খুঁজতেসো?
আহানা চোখ বড় করে পাশে তাকিয়ে দেখলো শান্ত মুচকি হেসে ফোনে কথা বলতে বলতে চলে যাচ্ছে
কথাটা আমাকে বললো নাকি ফোনে যার সাথে কথা বলতেসে তাকে বললো?আজব লোক,কখন কি করে বুঝি না আমি
আজ শান্ত একটা কাজে চলে গেসে তাই আর আহানাকে টিউশনি যাওয়ার পথে ডিস্টার্ব করতে আসেনি
আহানা তো ভয়ে ভয়ে রোড পেরিয়ে চলে গেসে,যাক বাবা বাঁচলাম!
আল্লাহ এই বাঁদরটাকে সুবুদ্ধি দিয়েছে,আলহামদুলিল্লাহ
আহানা বাসায় ফিরে এসে সিদ্ধ করে রাখা কচু পাতাগুলো মসলা দিয়ে ভালো করে ভেজে নিলো,একটা ছোট বক্সে শান্তর জন্য আলাদা করে রেখে দিলো
মীম আপু বাসায় আছে আজকে,তার ডিউটি শেষ,আহানা উনার থেকে গোটা জিরা এক চামচ নিয়ে ভেজে কচুপাতার উপরে ছিঁটিয়ে দিলো,এতে করে স্বাদ হাজারগুন বেড়ে যায়
যাক হয়ে গেছে,কাল সকালে যাওয়ার সময় নিয়ে যাবো
পরেরদিন ভোরে আহানা বের হলো বক্সটা ব্যাগে নিয়ে,সোজা গিয়ে শান্তর বাসার দরজায় নক করলো
মনে হয় শান্ত ওর জন্যই অপেক্ষা করতেসিলো,নক করার ১০সেকেন্ডের মধ্যেই শান্ত এসে দরজা খুললো

নিন আপনার খাবার
শান্ত বক্সটা খুলে দেখলো শুধু কচু পাতার আইটেম টা সাথে আর কিছু নেই
একি??শুধু এটা?এটা যেটা দিয়ে খাব সেটা আনো নাই?
মানে?আপনি তো বলছেন এটা খাবেন,আবার সাথে অন্য কিছু আনতে হবে সেটা তো বলেন নাই
এটা কি দিয়ে খায়?
গরম ভাত
বুয়া তো ৯টা বাজা ছাড়া আসবে না,ততক্ষণ ওয়েট করার ধৈর্য্য আমার নেই,এক কাজ করো তুমি ভাত রেঁধে দাও আসো
কিহহ,আমি?আপনার মাথা ঠিক আছে?
কেন?কি সমস্যা?

আপনার মা কে বলেন
মা এখানে থাকলে তো আর তোমাকে বলতাম না
তার মানে আপনি বাসায় একা?আমি একা একটা ছেলের বাসায় যাব না
আমি কি তোমাকে খেয়ে ফেলবো নাকি?
খেতেও তো পারেন😒
উফ!!
তাহলে বোন থাকলে বোনকে বলেন
শুনো আমার বাসায় আমি, নওশাদ,সূ্র্য আর রিয়াজ থাকি
কিহহহহ?আমি যেখানে এতগুলো ছেলে আছে সেখানে যাবো?ইমপসিবল
মিষ্টিইইইইইইই!
কিই Santuuu?

মিষ্টির মা বললেন কি হয়েছে শান্ত?
আন্টি মিষ্টি আজ আহানার কাছে আমার বাসায় পড়লে কোনো সমস্যা আছে?আসলে আমার আহানার থেকে একটা assignment নেওয়ার আছে,নোট করে নিতে হবে
ওকে সমস্যা নেই,যাও মিষ্টি বই খাতা নিয়ে শান্ত ভাইয়ার বাসায় যাও
আহানা ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে,মিথ্যুক কোথাকার!
কি?মিষ্টি থাকলে তো আর আমি আর তুমি একা না তাই না?
আহানা মুখ বাঁকিয়ে মিষ্টিকে নিয়ে বাসার ভেতরে ঢুকলো
কি সুন্দর বাসা!!আল্লাহ গো!
মিষ্টি সোফায় গিয়ে বসে পড়লো খাতা কলম নিয়ে
আহানা ওকে একটা অংক করতে দিয়ে শান্তর দিকে তাকাতেই শান্ত বললো শুনো আমাদের ফ্রিজে ফ্রাইড রাইস আছে,ওটা দিয়ে এই ডিসটা খাওয়া যাবে?

কি বললেন?ফ্রাইড রাইস? সেটা কি?ভাজা ভাত?সেটা কেমনে খায়
কিহ?তুমি ফ্রাইড রাইস চিনো না?জীবনে খাও নাই?
না
পোলাও চিনো?
হ্যাঁ চিনি তো,ঐদিন মিরার বিয়েতে খেয়েছি
এর আগে খাও নাই?
না
ও মাই গড! ওকে ওয়েট
শান্ত ফ্রিজ থেকে ফ্রাইড রাইসের বাটিটা বের করে আহানাকে দেখালো
ওহহহ আচ্ছা এগুলো হলো পোলাও ভাজা তার সাথে সবজি,এটা বললেই হতো
আমি কি জানি তুমি উপকরন শুনে খাবার চিনো,নাম শুনো নয়
না না এটা দিয়ে কচু পাতা খাওয়া যাবে না,জীবনেও এমন নাম শুনি নাই,গরম ভাত দিয়েই খাওয়া যাবে
রাঁধতে পারো তো?
কেন পারবো না,আমাকে রান্নাঘর দেখিয়ে দিন
শান্ত রান্নাঘর দেখিয়ে দিলো,আহানা ভিতরে ঢুকেই অবাক হয়ে গেলো,ওমা রান্নাঘর দেখি সোফার রুমের চাইতেও সুন্দর😲,প্লেট,বাটি,গ্লাস রাখার একটা ওয়াল কেবিনেট,আহানা হা করে সেটাই দেখতেসে
তারপর পাতিল হাতে নিলো চাল ধোয়ার জন্য

এই যে শুনুন!!
শান্তর বুকে ধুক করে উঠলো আহানার ডাক শুনে
এগিয়ে এসে বললো এই খবরদার আমাকে এমন করে ডাকবা না একদম!
আহানা বিস্মিত হয়ে বললো কেন কি হয়েছে?
আমার কেমন যেন লাগে,আর তুমি এমন ভাবে ডাকতেসো যেন আমি তোমার বিয়ে করা বর!
আজব তো,আমি এতসব ভেবে ডেকেছি নাকি?আর আপনি এত উল্টা পাল্টা চিন্তাভাবনা নিয়ে থাকেন কেন?আমার ঠ্যাকা পড়ে নাই আপনাকে ভাত রেঁধে খাওয়ানোর,চাল কোথায় তা জানার জন্য ডেকেছি
এই বালতির ভিতরে
আহানা বালতির দিকে তাকাতেই ওর চোখ কপালে উঠে গেলো,এত বড় বালতি ভরা চাল!!

তো?
আহানা চুপচাপ বালতি থেকে পাতিলে চাল নিলো,তারপর ধুয়ে ভাত বসিয়ে দিলো,এরপর এসে মিষ্টিকে পড়াতে বসে গেলো,শান্ত একবার এক রুমে পায়চারি করতেসে
সোফার রুমের সামনে ২টো রুম,একটাতে নওশাদ,সূর্য আর রিয়াজ থাকে আরেকটায় শান্ত থাকে
মিষ্টি তুমি কিছু খাবে?
গোলাপজাম খাবো
তাহলে মিষ্টি মিষ্টিকে খাবে
হু😁
শান্ত আহানার দিকে তাকাতেই আহানা বললো ও কিছু খাবে না
তোমাকে জিজ্ঞেস করি নাই আমি😒
শান্ত মিষ্টি এনে দিলো,মিষ্টি তার অংক করা শেষে করেই খাওয়া শুরু করে দিসে
আহানা ভাত দেখতে রান্নাঘরে এসে এদিক ওদিক দেখতেসে,কি বিশাল রান্নাঘর,২০জন লোক দাঁড়াতে তাদের কোনো সমস্যা হবে না

এই আমাকে এক কাপ কফি বানিয়ে দাও
কফি বানায় কেমনে?
জানো না?
না
কি জানো?তোমার আম্মু তোমাকে রান্নাবান্না শেখায় নি?
😒
শান্ত নিজে নিজে কফি বানালো,আহানার জন্য ও এক কাপ বানালো,কারন আহানা মিষ্টিকে পড়ানোর সময় ঝিমতেসিলো শান্ত দেখেছিল সেটা
মিষ্টির জন্য ভুলে কফি বানিয়ে ফেলসিলাম,বাট ও তো বাচ্চা মেয়ে এসব খায় না,লাইক ও করে না,বরং তুমি খাও এটা
আমি?
না তোমার ভূত!!
আহানা কফি এক চুমুক দিয়ে চোখ,ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
ইচচচ কি তিতা,আমাকে এসব কি খেতে দিসেন,এর চেয়ে তো রঙ চা ভালো
কফি তো এমনই হয়
না আমি খাবো না,এটাকে পানীয় আইটেম বানিয়েছে কে?,কি দেখে বানিয়েছে কে জানে!

ভাত রাঁধা হয়ে গেছে, আহানা একটা প্লেটে রান্না করা কচুপাতা নিয়ে ভাত বেড়ে ডাইনিং এ এনে রাখলো
শান্ত হাত ধুয়ে বসে ছিল সেই কখন থেকে
আহানা প্লেট রাখতেই মেখে এক লোকমা মুখে দিয়ে দিলো সাথে সাথে
উমমম এটা তো খুব টেস্টি,আরেহহ এটা তো পাতাবাটা
পাতাবাটা?
হ্যাঁ!আমার মা এই ডিসটা বানাতো কিছুদিন পরপর,আমি এটাকে পাতাবাটা বলতাম,একদম আমার মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ,সেম টু সেম,আমার মা ও এভাবে উপর দিয়ে জিরা গুড়া ছিঁটিয়ে দিতো
বানাতো মানে?এখন আর বানায় না?
শান্তর মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো মূহুর্তেই,নিচের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ খাবারটা শেষ করে উঠে চলে গেলো হাত ধোয়ার জন্য
আহানা ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে,কি বললাম,এভাবে রিয়েক্ট করলেন কেন উনি?
আহানা ভাবতে ভাবতে প্লেটটা নিয়ে ধুয়ে রেখে দিলো
আচ্ছা আমি যাই
শান্ত তার রুমে বিছানায় আরেকদিকে মুখ করে বসে আছে,কথা বলার মুড নেই তার
আহানা কথাটা বলে চলে গেলো মিষ্টিকে তাদের বাসায় দিয়ে এসে

আহানা বাসায় ফিরে দেখলো ৯টা ২০বাজে,এত দেরি?তাড়াতাড়ি করে ঘর গুছিয়ে আবার ভার্সিটিতে যেতে হবে
আহানা ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছে হঠাৎ ফোন আসলো আকাশের মায়ের,উনি বললেন আজ আকাশকে ২ঘন্টা বেশি পড়াতে,কাল ওর পরীক্ষা
আহানা ভেবে বললো কিন্তু আন্টি তাহলে তো আমার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যাবে
পিউকেও তো আজ ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পড়াবো বলেছি আমি,কারন পিউয়ের ও কাল পরীক্ষা,৫টা থেকে ৬টা লেগে যাবে আকাশদের বাসায় হেঁটে যেতে যেতে,তারপর আকাশকে ৬টা থেকে ২ঘন্টা পড়ালে তো ৮টা বেজে যাবে
আপনাদের বাসা তো দূরে
উনি বললেন রিকসা করে আসতে তো ৩০মিনিট লাগে
উনি তো আর জানেন না আহানা হেঁটে উনাদের বাসায় যায়,হেঁটে আসতে ৫০মিনিট লাগে প্রায়ই

আহানা হ্যাঁ বলে দিলো,কারন আকাশ সবসময় অংকতে ফেল করে,ম্যাথ বলতে কাঁচা সে,কাল ভালো করে বুঝিয়ে পড়িয়ে দিলে হয়ত পাস করতে পারবে
৮টার সময় তো সব অন্ধকার হয়ে যায়,হ্যাঁ তো বলে দিলাম কিন্তু বাসায় ফিরবো কি করে যদি পথে বিপদ হয়,
ভার্সিটিতে এসে ভেবে যাচ্ছে আহানা কি করে রাত করে বাসায় ফিরবে,যে গলি দিয়ে আসা লাগে সেটা অত্যান্ত নির্জন এলাকা,ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে
কিরে?কি এত ভাবিস?
নাহ কিছু না
আজ শান্ত ভার্সিটিতে আসে নাই মনে হয়,আমার কথায় এত কষ্ট পেলো?আমি কি এমন বললাম যে ভার্সিটিতেই আসলোনা,আজব!
বাবা আমি ব্যাংকের সব কাজ fulfill করে দিয়েছি,আর টেনসন নিও না ওকে?

ওকে☺
শুন!এবার ঈদে কিন্তু অবশ্যই আসবি আমার কাছে
আচ্ছা আসবো

২০,২১,২২,২৩!!
আহানা এদিক ওদিক তাকাচ্ছে,ওমা শান্ত নেই,হুর আমিও না
প্রতিদিন একই ঘটনা ঘটবে তা তো নয়
আহানা ২৪তম কদম ফেলার আগেই সামনে শান্ত এসে দাঁড়ালো
পরনে কালো টি-শার্ট তার উপর হলুদ জ্যাকেট,ইয়া লম্বু
আহানা হা করে উপরে তাকিয়ে আছে শান্তর মুখের দিকে চেয়ে
শান্ত বাবাকে বাই বলে ফোনটা পকেটে ঢুকালো

আহানা কি বলবে বুঝতেসে না,পাশ দিয়ে চলে যেতে নিতেই শান্ত বললো দাঁড়াও!
কি?
থ্যাংকস!
কেন?
আমাকে ঐ পাতাবাটা রেঁধে খাওয়ানোর জন্য
ওহ,সরি
সরি কেন?
আমি আপনাকে তখন আপনার মা কচুপাতা রেঁধে খাওয়ায় না কেন সেটা বলে কষ্ট দিয়েছিলাম
ইটস ওকে,তুমি তো সবটা জানো না

হুম,যাই
আহানা চলে গেলো ওখান থেকে
শান্ত ভার্সিটির দিকে গেলো তমালের সাথে কিছু কাজ আছে তার
৮টা বাজতে ১০মিনিট বাকি,আহানা বারবার ঘড়ি দেখতেসে
চারিদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছে,জানালা দিয়ে আহানা বারবার একটুখানি আলো চোখে পড়ে কিনা তা দেখার চেষ্টা করতেসে,নাহ একটু আলো ও নেই,আরও মনে হচ্ছে রাতের গভীরতা বেড়ে আসতেসে

৮টা বাজে আহানা আকাশদের বাসা থেকে বের হলো অবশেষে,ভয়ে ভয়ে কিছুটা জোরেই হেঁটে চলেছে সে,দুপাশে বিল্ডিং,মাঝখানে চিকন গলি,সেটা দিয়ে হেঁটে চলেছে সে
এখন পর্যন্ত কোনো বখাটে বা ছেলেদের আড্ডামহল চোখে পড়েনি তার
ভয়ে ভয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সে,আজ নিজেকে সবচেয়ে বেশি অসহায় মনে হচ্ছে আহানার
যে গলি দিয়ে আহানা হেঁটে যাচ্ছে সেই গলিটা যেখানে শেষ হয়ে আরেকটা গলি শুরু হবে ঠিক সেই জায়গায় ৫টা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে,ল্যাম্পপোস্টের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তাদের
আহানা তাদের দেখেছে এবং তারাও আহানাকে দেখেছে,নির্জন এলাকা বলে ছেলেগুলো বাদে আশেপাশে কোনো মানুষ চোখে পড়তেসে না

আহানা ছেলেগুলোকে পেরিয়ে চলে গেলো,কিন্তু তার মনে হচ্ছে কেউ তাকে ফলো করছে,পিছনে তাকাতেই আহানার মনে হলো ভয়ে জ্ঞান হারাবে এখন,সেই ৫টা ছেলেগুলো কিভাবে তাকিয়ে আছে তার দিকে,তার পিছু পিছু আসতেসে
আহানা এখন কি করবে,ওর যদি কোনো ক্ষতি করে ফেলে
আহানা হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলো,খুব জোরে হেঁটে যাচ্ছে সে
কিন্তু না!!ছেলে ৫টার মধ্যে ২জনই সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো

ককককি আআআআমমমমার পপপথ আটকিয়েছেন কককেন?
কেন জানো না?একা পথে সুন্দরি নারী দেখলে হাতছাড়া কি করে করি বলো
আহানা এদিক ওদিক তাকালো,সম্ভবত সে এখন ঐ রোডে যেখানে এক পাশে একটা ডোবা আর আরেকপাশে মাঠ
অন্ধকারে ঠিকমত বুঝা যায় না ভালো করে,কিন্তু একটা পিলার দেখে আহানা আন্দাজ করলো সে এখন কোথায়
ছেলেগুলো আরও কাছে আসতেসে,আহানা সরে দাঁড়ালো,পিছনে বাকি ৩জন,বাজে ভাষায় গান গাইতেসে তারা
আহানা সুযোগ খুঁজতেসে পালিয়ে যাওয়ার,কারন এখানে চিৎকার দিয়েও কাউকে পাবে না সে জানে,কারন বাসা বাড়ি পিছনে ফেলে এসেছে সে,এই জায়গাটা যে গলির জন্য তার কাছে নির্জন মনে হতো এটাই সেই গলি

আহানা তার সামনের ২টো ছেলের পাশে ফাঁক দেখে সময় নষ্ট না করে এক দৌড় দিলো,যার পাশ দিয়ে দৌড় দিলো সে আহানাকে ধরার জন্য ওর কাঁধ ধরতে গেলো
কিন্তু আহানা খুব জোর গতিতে দৌড় মেরেছিলো
যার কারণে ছেলেটার হাতটা আহানার হাতের উপর দিয়ে স্লিপ খেয়ে গেলো
তার নখের আঁচড়ে আহানার হাতের উপরিভাগ ছড়ে গেছে,এতই জোরে ধরতে গিয়েছিল যে আহানার জামাও ছিঁড়ে গেছে কিছুটা হাতার উপর দিয়ে

আহানা প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে,এখন তার ইজ্জত আগে পরে বাকি সব
দৌড়াতে দৌড়াতে একটা বিল্ডিং এর পিছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়লো সে
ছেলেগুলো অন্ধকারে ঠিক বুঝতে পারলো না আহানা কোনদিকে গেছে
আহানা হাঁপাতে হাঁপাতে উঁকি দিয়ে দেখলো ছেলেগুলো এখনও রোডে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে আর কিসব বলতেসে

৫মিনিট ধরে আহানা চুপচাপ বিল্ডিংটার পিছনে দাঁড়িয়ে রইলো ছেলেগুলো চলে যাওয়া পর্যন্ত,ওরা চলে যেতেই আহানা রোডে এসে ভালো করে চারিদিক দেখে ক্ষিপ্রগতিতে বাসায় ফিরে আসলো
রাত ৯টা ৩০বাজে,আজ খুব বাঁচা বেঁচেছি আমি,হাত খুব ব্যাথা করতেসে
জামা খুলতেই আহানা চমকে উঠলো তার হাতে ৪ আঙ্গুলের আঁচড় দেখে
জামাও ছিঁড়ে গেছে,থাক আমার মানসম্মানের কাছে এগুলা কিছু না
জামাটা ধুয়ে মেলতে গিয়ে আকাশের দিকে তাকালো সে
হঠাৎ খুব কান্না পেয়ে গেলো,কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়লো সে
আমার এই দুনিয়াতে কেন কেউ নেই?কেন আমার পরিবার নেই?আমাকে এত এতিম কেন বানালে?এত অসহায় কেন বানালে?কি দোষ করেছিলাম আল্লাহ?এতদিন ধরে কত মানুষের পশুত্ব চেহারা সামনে এসেছে সবসময় নিজের ইজ্জত বাঁচিয়ে রেখেছি আমি আর এখন তো মনে হয় নিজের এই সম্মানটুকুও শেষ হয়ে যাবে,কেন আমি একাই কষ্ট পাই,কেন সবসময় আমার সাথেই এমন হয়,না মা আছে না বাবা আছে,না ভাইবোন আছে,আমাকে দেখে রাখার জন্য কাউকে পাঠালে না তুমি,আমার নিজের উপর নিজের দায়িত্ব দিয়েছো তুমি

পারলে পারবো না পারলে মরবো তাই না?
মরতেও দাও না,মরন দাও না আমার!!
আহানা চোখ মুছতে মুছতে উঠে দাঁড়ালো,চুপচাপ খাটের উপর এসে বসে আছে সে,কচুর তরকারি আছে,ভাত রেঁধে খেতে হবে
না খেলে নষ্ট হয়ে যাবে,ভাত বসিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো সে
পরেরদিন ভোরে রোবটের মত হেঁটে যাচ্ছে আহানা

গন্তব্য স্থান মিষ্টিদের বাসা,রাস্তা খালি তাও বারবার গা শিউরে উঠছে তার,এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে হাঁটতেসে সে,বুকের ভেতর ধরফর ধরফর করেই যাচ্ছে,থামাথামি নেই কোনো,কেন এমন হচ্ছে,আচ্ছা আমি আজ আবার আকাশদের বাসার ওদিকে যাব কি করে,যদি ছেলেগুলো আবারও এসে যায়,ভাবতে ভাবতে লিফটের দরজা খুলে গেলো,আহানা অন্যমনস্ক হয়ে লিফট থেকে বের হচ্ছে ধীর গতিতে
শান্ত লিফটের সামনেই ছিল,নিচে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল এতক্ষণ
হঠাৎ লিফটের দরজাটা আটকে যেতে লাগলো,আহানা এখনও বের হয়নি,দরজার মাঝ বরাবর সে
শান্ত চোখ বড় করে হাত এগিয়ে নিয়ে আহানাকে টান দিয়ে বের করে আনলো লিফট থেকে

আর ইউ আউট অফ ইউর মাইন্ড?
আহানা চমকে এদিকে ওদিক তাকিয়ে ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করলো
কি?কথার উত্তর দিচ্ছো না কেন?
আহানা এখনও বুঝতেসে না কি হচ্ছে,কি নিয়ে কথা বলতেসে শান্ত,কাল সারা রাত ঘুমাতে পারেনি আহানা ভয়ের চোটে,এখন একটা ঘোরের মধ্যে আছে সে
শান্ত আহানার কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে বললো কি হয়েছে তোমার?
আহানা কেঁপে উঠলো ব্যাথায় কারন আঁচড় যেখানে লেগেছিল শান্ত সেটাই চেপে ধরে আছে
আহানা শান্তর হাত সরিয়ে একটু পিছিয়ে গেলো,চুল ঠিক করে বললো না কিছু না
তারপর মিষ্টিদের বাসায় চলে গেলো
এই মেয়েটার মাঝে মাঝে কি হয় আমি বুঝি না!!
আহানা ভার্সিটিতে এসে মনমরা হয়ে বসে আছে
রুপা বারবার জিজ্ঞেস করতেসে কি হয়েছে

আহানা আর কষ্ট চেপে রাখতে পারলো না,কেঁদেই দিলো
ক্লাসের সবাই অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে
কিরে এমন করে কাঁদছিস কেন,দেখি আমার দিকে তাকা,আহানা?কি হয়েছে তোর?কেউ কিছু বলেছে?
আহানা চোখ মুছে পাশে তাকিয়ে দেখলো সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে
এখানে আর না থেকে বেরিয়ে চলে গেলো সে
রুপা ডাকতে ডাকতে আসতেসে পিছন পিছন
আহানা চলে যাচ্ছে ভার্সিটির থেকে
শান্ত বাইকে বসে যখন বাসায় ফেরার জন্য বাইক ঘুরালো তখনই দেখলো আহানা বের হয়ে যাচ্ছে জোরে হেঁটে হেঁটে
রুপা আর আহানার সাথে দৌড়ে না পেরে ক্যামপাসের মাঝপথেই থেমে গেলো

শান্ত এবার চিন্তায় পড়লো কি হয়েছে তা জানার জন্য

আজ আর কদম গুনে নাই আহানা চোখ মুছতে মুছতে হাঁটতেসে সে
কৃষ্ণচূড়া গাছটার কাছে এসে হাঁটার গতি কমিয়ে দিলো
এই রোডটাতে মানুষের চলাচল একদম কম,বলতে গেলেই একদমই নেই
কারন এটা ভার্সিটির পেছনের রোড
আহানা নিচে রাস্তায় বসে কেঁদে যাচ্ছে,কেউ নেই সে জানে তাই চিৎকার করে কাঁদতেসে,সে চাইলেই টিউশনি ছেড়ে দিতে পারে কিন্তু ছেড়ে দিলে তাকে রাস্তায় বাসা বানাতে হবে এসব ভেবে কাঁদতেসে সে,আর টিউশনি না ছাড়লে সেই ছেলেগুলোর মুখোমুখি হতে হবে আবারও
শান্ত থ হয়ে আহানার কান্না দেখছে,কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না সে,পাবে কি করে,কি করে সান্ত্বনা দিবে সেটার কোনো কূল কিনারা সে খুঁজেই পাচ্ছে না
বাতাসে গাছের কৃষ্ণচূড়া ফুল ঝরে আহানার গায়ে, সামনে পড়তেসে একের পর এক
আজ আহানা হাত পাতে নি,তার খেয়ালই নেই তার প্রিয় ফুল ঝরে পড়ে যাচ্ছে
শান্ত কৃষ্ণচূড়া গাছটার পাশের একটা নাম না জানা গাছের শেকড়ে বসেছে
আহানা নিচের দিকে তাকিয়ে হাতপা গুটিয়ে কেঁদেই চলেছে,এই কান্নার থামাথামি নেই কোনো
শান্ত ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে এদিক ওদিক তাকিয়ে আবার আহানার দিকে তাকাচ্ছে,আবার ভাবতেসে কি কারন হতে পারে
সে আহানার খুব কাছে,আহানা টেরও পায়নি,কারন শান্ত একটুও নড়তেসে না,যেটা নড়তেসে সেটা হলো ওর চোখের পাতা,আহানাকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরক করছে সে
আহানা মুখ তুলে লেকটার দিকে তাকিয়ে আছে,আর চোখ দিয়ে নিঃশব্দে পানি গড়িয়ে পড়তেসে তার
লেকটার ওপাশে ঘন গাছগাছালি,আহানা সেটাই দেখতেসে

শান্ত এবার দেখলো আহানার চোখের পানি গড়িয়ে ওর থুতনির উপরের ঘাড়ো কালো রঙের তিলটার উপর দিয়ে বেয়ে নিচে পড়ে যাচ্ছে,শান্ত সেটা দেখে নড়ে উঠলো,তারপর মুখ খুললো
আবার কানের দুল হারিয়েছে বুঝি?
আহানা চমকে পাশে তাকিয়ে দেখলো শান্ত ওর থেকে একটু দূরে গাছের শেকড়ে বসে চেয়ে আছে ওর দিকে
ব্যাপারটা বুঝতে পেরে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট টা ভিজিয়ে হাত দিয়ে মুখটা ভালো করে মুছে দাঁড়িয়ে পড়লো সে
আপনি এখানে?
আমার প্রশ্নের জবাব পেলাম না,তাহলে তোমার প্রশ্নের জবাব কেন দিব?
আহানা মুখটা নিচু করে ব্যাগ কাঁধে নিতে নিতে বললো কানের দুল তো কানেই আছে
পালাতে যেতেই শান্ত সামনে হাত দিয়ে ওর পথ আটকালো
আহানা শান্তর চোখে চোখ রাখতেই ওর আরও জোরে কান্না পাচ্ছে,দাঁত মুখ খিঁচে ওড়নাটা মুঠো করে চেপে ধরে কান্না থামানোর চেষ্টা করতেসে সে

কাঁদো,আমি দেখি
না কিছু হয়নি,হাত সরান,আমার টিউশনিতে দেরি হচ্ছে
কিছু না হলে কেউ চিৎকার করে কাঁদে না
আমার পার্সোনাল লাইফে ইনটারফেয়ার করার অধিকার আমি আপনাকে দিই নাই
আমাকে কেউ অধিকার দেয় না,আমার অধিকার আমি নিজে তৈরি করি,তুমি আমাকে না বললে আমি তোমাকে এখান থেকে যেতে দিব না

আহানা ঘাপটি মেরে রাস্তার মাঝখানে বসে আছে সেই কখন থেকে
শান্ত তার পিছনে গাছটার শেকড়ে বসে একের পর এক ইটের কণা লেকটাতে টুকুর টুকুর করে ফেলতেসে
আহানা বিরক্ত হয়ে পিছন ফিরে শান্তর দিকে তাকালো
কি?আগে বলে দিলে আমি তো আর এভাবে বোরিং টাইম স্পেন্ড করতাম না তাই না?
আহানা ব্যাগ নিয়ে হাঁটা ধরলো
শান্ত উঠে জ্যাকেট টেনে ঠিক করে দৌড়ে আহানার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো
কি সমস্যা আপনার?চিৎকার করে মানুষ ডাকবো?
ডাকো না,কে মানা করেছে?তোমার চিৎকারে আমি এসেছি আর কেউ আসবে না

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১১+১২

আহানা নিচের দিকে তাকিয়ে আবারও কাঁদা শুরু করে দিলো
কাঁদলে কাঁদুক আমার কিছু না,কিন্তু থুতনির উপরের তিলটার উপর দিয়ে পানি গড়িয়ে যায় কেন,আর ব্যাপারটা আমি কেন সহ্য করতে পারতেসি না!
শান্ত হাত উঠিয়ে আহানার হাত ধরে বললো কি হয়েছে সেটা খুলে বলতে
আহানার কালকের কথা মনে পড়তেই গা কেঁপে উঠলো শান্তর টাচে,হাত জোরে টান দিয়ে ছাড়িয়ে নিলো সে,
পিছিয়ে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৫+১৬