Home প্রেমের পাঁচফোড়ন প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৭+২৮

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৭+২৮

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৭+২৮
Afnan Lara

তো দেখোনি তো এখন দেখে নাও,হুহ!!
কথাটা বলে শান্ত সামনের দিকে হাঁটা ধরলো
আহানা মুখ বাঁকিয়ে আরেক দিকে ফিরে হেঁটে চলে গেলো
শান্ত এদিকে আয় খাবার অর্ডার দিসি,এসে গেছে
আসতেসি ওয়েট
আহানা কই?
মহারানী ঐদিকে গেছে
যা নিয়ে আয়,ডাক দিসি শুনে না মনে হয় অনেকদূর চলে গেছে
আমি?ইমপসিবল,ও ঠিক করে কোনো কথাই বলতে পারে না
আমি হাত নাড়লেও বললে ওর সমস্যা,তাহলে ভাব কতটা পাগল হলে এমন করতে পারে
হইসে যা নিয়ে আয় না
শান্ত আবার সেদিকে গেলো
আহানা রোডের কিনারায় বসে বন ছিঁড়তেসে আর দূরে থাকা একটা কদমফুল গাছের দিকে চেয়ে আছে
এই যে মহারানী আসুন,রুপা নওশাদ ডাকতেসে আপনাকে

বেয়াদব
মহারাণী বলায় বেয়াদব বললে,তাহলে তুমিও বেয়াদব!👿
শান্ত চলে গেলো রাগ করে
আহানা ভেংচি কেটে সেও পিছন পিছন গেলো
ব্রু কুঁচকে শান্তর দিকে চেয়ে পিছে পিছে আসতেসে সে
এত এত এত বাতাস যে আহানা সহ উড়ে যাবে এমন অবস্থা
আহানা শান্তর দিকে চেয়ে হাঁটতেসিলো হঠাৎ এক বাতাসেই ওর গায়ের ওড়না উধাও
আরেহহহ!
শান্ত থেমে গিয়ে পিছন ফিরে তাকালো
আহানা শান্তকে ওর দিকে তাকাতে দেখে তাড়াতাড়ি চুল টেনে সামনে নিয়ে আসলো

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

হাহাহাহা,ধর্মের কল বাতাসে নড়ে
আহানা দাঁতে দাঁত চেপে বনের ভেতর চলে গেলো ওড়নার জন্য
শান্ত দাঁত কেলিয়ে মজা করে বললো আহানা?সুন্দরবনের একটা বাঘ চলে এসেছে মনে হয়,হলুদ হলুদ দেখা যাচ্ছে
আহানা ভয় পেয়ে সামনে তাকালো,সত্যি তো হলুদ কালারের কি যেন দেখা যাচ্ছে,আশেপাশের জঙ্গল দেখে হয়ত এখানে চলে এসেছে
আহানা চিৎকার করে ওড়না নিয়ে এক দৌড় মারলো,শান্তর পিছনে এসে ওর জ্যাকেট ধরে দাঁড়িয়ে পড়লো সে

আসলে ওটা ছিল কাকতাড়ুয়া,নিচে টমেটো গাছ অনেকগুলো বনের ভেতর,পাখি নষ্ট করতে পারে বলেই তাই হয়ত কৃষক কাকতাড়ুয়াটা বসিয়েছিল কিন্তু এত বাতাসের জোরে সেটা পড়ে গেছে তাই কিছুটা বাঘ বাঘ লাগতেসে,লাগারই কথা,কাকতাড়ুয়ার পরনে বাংলালিংক সিম কোম্পানির জামা,ডোরাকাটা
ভয়ে আহানার কলিজা কাঁপতেসে
শান্ত হেসে দিয়ে বললো তোমাকে বোকা বানানো ২মিনিটের ব্যাপার আমার কাছে বুঝলা!
মানে??
ওটা কাকতাড়ুয়া

আহানা রেগে শান্তর চুল টেনে দিয়ে চলে গেলো ওখান থেকে
শান্ত থ হয়ে আহানার চলে যাওয়া দেখছে,এই মেয়েটা মাঝে মাঝে এমন এমন কাজ করে আমি কিছু বলার বা করার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলি,আমার চুলই টেনে দিলো শেষমেষ?
রাগ না হয়ে ভালো লাগা কাজ করতেসে কেন,আমার তো রাগ হওয়ার কথা
শান্ত এগিয়ে গিয়ে আহানার হাত টেনে ধরলো
এই মেয়ে!
কি?
তুমি আমার চুল টানছো কেন?

আপনি আমাকে বাঘের ভয় দেখিয়েছেন তাই,আরও টানবো নাকি?
চুপ!
শান্ত আহানার কান টেনে ধরলো
আহহ ছাড়ুন আমার লাগতেসে ছাড়ুন
আর আমার চুল টানবা তুমি?
না না টানব না,ছাড়ুন
শান্ত আহানার কান ছেড়ে দিয়ে নওশাদের কাছে চলে গেলো
আহানা কান ডলতে ডলতে আসতেসে
কিরে শান্ত এমন বিশ্বজয়ের হাসি দিচ্ছিস কেন??

মানুষের কান টানতে জাস্ট জোস লাগে
রুপা কানে হাত দিয়ে বসে গেলো, নওশাদ এগিয়ে গেলো টানার জন্য
না প্লিস নওশাদ শয়তানি করবা না,শান্ত ভাইয়া!!এসব কি শিখান ওরে
হাহা,আরে যাই বলো শান্তর মত রাগ আমার নাই,আই লাভ ইউ সো মাচ রুপু
লাভ ইউ টু!!
খাওয়া দাওয়া করে রুপা আর আহানা রিকসায় করে আবার ফিরে গেলো,আহানা গেলো টিউশনির দিকে আর শান্ত,নওশাদ বাসায় ফিরে গেলো
আহানা বাসায় ফেরার সময় একটা ফেরিওয়ালার কাছে একটা আয়না দেখলো
এদিক ওদিক তাকিয়ে সেটা হাতে নিলো,খুব সুন্দর এটা

দাম কত?
৫০টাকা
ওহ,৫০টাকা তো বেশি,না থাক
আহানা আয়নাটা রেখে হেঁটে চলে আসলো বাসায়
রান্না করতে করতে আয়নাটার কথা ভাবতে লাগলো সে
আজ পর্যন্ত শখ করে কত কি পছন্দ হয়েছিল তার কোনো কিছুই কেনা হয়নি,আজকের আয়নাটা খুব পছন্দ হয়েছে,আমার কাছে ৫০টাকা ছিল,শান্তর দেওয়া,কিন্তু ওগুলা দিয়ে মাস চালাতে হবে তাই কিনি নাই,এভাবে আর তো জীবন চলে না,একটা চাকরির জন্য এপ্লাই করবো,১০হাজার বেতন হলে আমার ভালো মতই জীবন কেটে যাবে
এসব ভাবতে ভাবতে আহানা খাওয়া শেষ করে নিলো,সব গুছিয়ে রেখে বই নিয়ে বসলো,পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে গেলো সে

সকাল সকাল নামাজ পড়ে রেডি হয়ে আবারও হাঁটা ধরলো,একটা পিলারে পোস্টার দেখে থেমে গেলো সে
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি,একটা খাতা বের করে নাম্বার আর ঠিকানা লিখে নিলো,ব্যাস সময় করে একদিন গিয়ে দেখে আসবো,লাস্ট ডেট ২৩তারিখ
মিষ্টিদের বাসায় ঢুকার সময় নজর পড়লো শান্তর উপর,বারান্দায় দাঁড়িয়ে গুন্ডাদের মত চেয়ে আছে ওর দিকে
যাক বাবা বাঁচলাম তাহলে আজ লিফটে জ্বালাবে না আমাকে
আহানা ৫তলায় এসে মিষ্টিদের বাসায় চলে গেলো চুপচাপ,তাহলে কালকের কথা মাথায় ঢুকেছে,আমি যে বলছিলাম কম কথা বলতে আমার সাথে

পড়ানো শেষ করে বের হয়ে এদিক ওদিক চেয়ে আহানা ভাবতে লাগলো সামান্য আমার কথায় এত গুরুত্ব দিবে??আজ ডিস্টার্ব করতেই আসলো না,Strange!হুমমমমম
আহানা শান্তর বাসার দরজার দিকে তাকাতে তাকাতে চলে যাচ্ছে গিয়ে একজনের বুকের সাথে ধাক্কা লেগে গেলো তার
চোখ বড় করে চেয়ে দেখলো শান্ত একটা ভাব নিয়ে চেয়ে আছে ওর দিকে
আহানা শান্তর থেকে একটু দূরে সরে দাঁড়ালো
আআআআপনি!
হুম,চলো
কোথায়?
আমার বেডরুমে
শান্ত আহানার হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে

এই এই আপনার মাথা ঠিক আছে তো,হাত ছাড়ুন বলতেসি,বাঁচাও বাঁচাও কে আছো
শান্ত আহানার মুখ চেপে টেনে বাসার ভিতর নিয়ে গেলো
এই মেয়ে তোমাকে একদিন বলসি না তোমার প্রতি আমার interest নেই তাহলে এরকম করো কেন,এত চিল্লাও কেন?
interest না থাকলে আমাকে এখন এখানে আনার মানে টা কি?
শুনো,আমি তোমাকে ২হাজার টাকা দিসি রাইট?
তো?টিউশনির টাকা পেলে ফেরত দিব সেটা
শুনো আমি ঐ টাকা নিব না,তাহলে বলো কি করবে
কি করবো জোর করে আবার দিয়ে যাব
নো,তুমি এমনটা করলে তোমাকে আমি লিফটে আটকায় রাখবো গোটা ২ঘন্টা

তো আপনি কি চান!!!
আমি চাই তুমি রোজ সকালবেলা আমার জন্য নাস্তা বানাও
ইহহহহ মগেরমুলুক পাইসে,ইমপসিবল,আমার খেয়ে কাজ নাই আমি আপনাকে রেঁধে খাওয়াবো,আমি কি বুয়া নাকি
আমি তো বলিনি তুমি বুয়া,আচ্ছা রান্না করতে না পারলে আমাকে এই মূহুর্তে ২হাজার টাকা ফেরত দাও
আপনি খুব খারাপ একটা লোক,টাকা দিয়েছিলেন এসব করার জন্য??
নাহ,তোমার তো উচিত নিজ থেকে আমাকে রেঁধে খাওয়ানোর,আমি তোমাকে টাকা দিয়ে হেল্প করেছিলাম
আপনার তো বাসায় বুয়া আছেই তাহলে আমি কেন রাঁধবো?
৪দিন রাঁধবা বেশি না,শুধু সকালে,বুয়া সিক 😒নাহলে আমার কাজ নাই তোমাকে জোর করার
তো আমি নাহয় সকালে রেঁধে দিব,বাকি বেলা?

হোটেলে খাব,অর্ডার করবো
তাহলে সকালের টাও অর্ডার করে নেন,আমি আপনাকে আপনার টাকা কাল ফেরত দিব রুপার থেকে নিয়ে
শান্ত এবার খুব রেগে গেছে,সামান্য সকালের রান্না দিয়ে এত কথার পেঁচ লাগাতে হবে সে জানত না
আহানার হাত ধরে টেনে কাছে নিয়ে এসে বললো কি সমস্যা তোমার??
রেঁধে দিলে মরে যাবে তুমি??
না মরবো না,কিন্তু আপনার আর আরও কয়েকটা ছেলের সাথে এক বাসায় থেকে রান্না করবো না আমি কখনও
এখন হাত ছাড়ুন আমার,বাসায় ফিরতে হবে আমাকে
ছাড়বো না বাসায় গিয়ে দেখাও তো
বাঁচাও বাঁচাও
শান্ত আহানার হাত ধরে টেনে সোফায় দুম করে ফেললো
চেঁচাও!আরও জোরে
শান্ত তার শার্টে হাত দিতেই আহানা চোখ ইয়া বড় করে সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো

আআআআপপনি বলছিলেন না আমার প্রতি আপনার interest নেই,তাহলে এখন এসব কি?
ঠিক বলসো,interest নেই,আমার গরম লাগছে তাই জামা খুলতেসি,তুমি কি যেন বলতেসিলা?
আহানা দাঁতে দাঁত চেপে দরজা খুলতে যেতেই শান্ত ওর সামনে এসে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো
বুয়া নেই তো ভাঁড়া বুয়া আনেন না,আমার পিছে লাগছেন কেন
শান্ত রেগে আহানার কাঁধ চেপে ধরে ঝাঁকিয়ে বললো তোমার রান্না আমার ভালো লাগে,আমি তোমার হাতের রান্নাই খাব,বুঝেছো?
আহানা চুপ করে থেকে বললো ঠিক আছে,আজ সকাল শুধু,কাল আমি আপনার টাকা ফেরত দিয়ে দিব,হাত ছাড়ুন এখন
শান্ত হাত ছেড়ে দিলো আহানার
আহানা রান্নাঘরে গিয়ে রান্না করতেসে
আর শান্ত একটা বল নিয়ে দেয়ালে মারতেছে,সেটা ব্যাক করে ওর কাছেই ফিরে আসতেসে আবার
এই মেয়েটা এত এত এটিটিউড নিয়ে ঘুমায় কি করে,আমি শাহরিয়ার শান্ত ওকে চান্স দিতে চাইলে সবসময় ফেলে দেয়,এত সাহস!!

আর আমিও কম না আমি ওকে পাত্তা কেন দিচ্ছি,হুম বেশি পাত্তা দেওয়ায় এমন করতেসে,ভাবসি টাকা দেওয়ার ভয়ে রেঁধে দিবে কিন্তু না এগেইন এটিটিউড,আমারই দোষ প্রথম যেদিন চড় মেরেছিল সেদিনই বুঝা উচিত ছিল যে এ কোন টাইপের মেয়ে,এর হাসবেন্ড যে হবে তার জীবন ত্যানাত্যানা করে দিবে
আহানা রান্না শেষ করে হাত ধুয়ে পিছন ফিরতেই দেখলো শান্ত মুখ ফুলিয়ে ওর দিকে চেয়ে আছে
রান্না শেষ
গুড
শান্ত আহানার হাত টেনে নিয়ে চলে গেলো তারপর দরজা খুলে বাসা থেকে বের করে দিলো,ওর ব্যাগটা ওর হাতে দিতে দিতে বললো নাও তোমার ব্যাগ আর বের হও এখান থেকে,তোমার টাকা লাগবে না আমার,তোমার ভাব তোমার কাছেই রাখো
আহানা হা করে শান্তর মুখের দিকে চেয়ে আছে,কি বলছে ছেলেটা,এত সুন্দর করে নাস্তা বানাই দিলাম একটা থ্যাংকস তো দিলোই না উল্টো আমাকে বাসা থেকে বের করে দিলো
জানেন আপনি খুব খারাপ একটা লোক,খুব খারাপ!
আহানা শান্তকে বকতে বকতে চলে গেলো
শান্ত ঠাস করে দরজা লাগিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো
রুটি, ভাজি আর ডিম অমলেট বানিয়ে রেখে গেছে আহানা
শান্ত মুচকি হেসে এক প্লেটে রুটি ভাজি আর ডিম নিয়ে ডাইনিং এ গেলো,আহানাকে ইচ্ছে করে রাগ দেখিয়েছে যাতে ও এটিটিউড কম দেখাতে পারে
তৃপ্তি করে নাস্তা করতেসে সে,নওশাদ আর রিয়াজ ব্রাশ নিয়ে শান্তর পিছনে এসে শান্তর হাবভাব লক্ষ করছে

ছেলেটার হলোটা কি??এমন করছে কেন
যে ছেলে সকাল ১১টা ছাড়া ঘুম থেকে উঠতো না সে ভোর ৬টায় উঠে!
আবার যে ছেলে চিকেন ছাড়া সকালের নাস্তা করতো না সে জাস্ট রুটি আর ডিম,ভাজি দিয়ে নাস্তা করছে
রিয়াজ একটা চিমটি দে তো,আমি কি স্বপ্ন দেখতেসি নাকি!!
আউচচচচচ,এত জোরে চিমটি দিলি কেন
চিমটি তো চিমটিই হয় নওশাদ!
কিরে তোরা এমন দল বেঁধে এখানে দাঁড়িয়ে কি করিস??
নাহ কিছু না,সূর্যের চারপাশে গ্রহের ঘুরাফিরা দেখি এই আর কি,তুই এটা বল বুয়া তো সিক তাহলে এত রান্না করলো কে?
আ,,,,
কে?
মিষ্টির আম্মু দিয়ে গেছে
ওহহ

কতটা বেয়াদব হলে এমন কাজ করতে পারে মানুষ,আমার রাজি হওয়াই ঠিক হয়নি,শুধু শুধু সময় নষ্ট আমার!
আহানা ভাত রেঁধে আলু ভেজে সেটা দিয়ে খেলো,তারপর চুল আঁচড়িয়ে বেরিয়ে পড়লো ভার্সিটির উদ্দেশ্যে,কাল তো শুক্রবার,টিউশনি আছে ভার্সিটি নাই,শান্তি
শান্তি বলতে গিয়ে মনে হলো ঐ অশান্তের কথা,এখন থেকে ওরে অশান্ত ডাকবো,হুমমমম!!
ভার্সিটিতে এসে আহানা দেখলো শান্ত তমালের সাথে কি নিয়ে হাসাহাসি করতেসে ওকে দেখে হাসি থামিয়ে সানগ্লাসটা পরে আরেকদিকে ফিরে বসলো
ছেলেটা এত স্বার্থপর!!👿আবার ভাব ও দেখাচ্ছে আমাকে

আহানা রেগেমেগে ক্লাসে গিয়ে ধুপ করে বেঞ্চে বসে পড়লো,রুপা ফোনে কথা বলতে বলতে আসতেসে এদিকে
আহানা ওর হাত ধরে ওকে বসিয়ে বললো ২হাজার টাকা দিতে পারবি আমাকে??আমার খুব দরকার
আচ্ছা,নে আমার কাছে এখনই আছে,জামা কিনার জন্য আনছিলাম,জামা পরেও কিনতে পারবো,তুই এখন রাখ এটা
আহানা টাকা নিয়ে সোজা হেঁটে গেলো শান্তর কাছে
নিন আপনার টাকা,এরপর থেকে আমাকে কোনোদিন টাকা দিয়ে সাহায্য করতে আসবেন না,এটাকে সাহায্য বলে না,আপনি যেটা করেছেন সেটা আপনারই ফায়দার জন্য করেছেন তা আজ প্রমান হয়ে গেছে,সো নিন,আর কখনও আমার সাথে লাগতে আসবেন না,বুঝছেন মিঃ অশান্ত?
আহানা টাকা গুলো শান্তর হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো
শান্ত টাকা মুঠো করে ফেলে দিলো নিচে,রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে,এই মেয়েটা এত এত ভাব কাকে দেখায়,আমাকে কি চিনে না!!

শান্ত ভাই আর কত সহ্য করবা??দেখলে না ডেইলি তোমাকে ইনসাল্ট করে তারপরেও তুমি চুপ করে আছো কি জন্যে সেটাই মাথায় ঢুকে না
শান্ত বাইকে বসে চলে গেলো ভার্সিটি থেকে
এর আবার কি হলো,করতে বললাম আহানার টাইট
আর সে চলে গেলো বিনা ফাইটেই??আজব তো
তুই থাম তো রিয়াজ,শান্ত ওর ভালো নিজে বুঝে,জাস্ট নিজেকে কনট্রোল করতে চলে গেছে সে,মুড ঠিক হলে আবার আসবে
ভার্সিটি তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়ে দিলো,আহানা রুপাকে বাই বলে কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে এসে কয়েকটা ফুল কুড়ালো তারপর বসে বসে মালা বানালো সেগুলো দিয়ে
নিজের মত করে মাথায় হাতে ফুলের ornaments বানিয়ে লাগালো,এসব শান্তি নিয়ে করার একটাই কারণ সেটা হলো আহানা শান্তকে ভার্সিটি থেকে চলে যেতে দেখেছে তাই আরামসে সে সময় কাটাচ্ছে একা একা
টিউশনি ৩টা থেকে,এখন বাজে ১টা,তাই মন মত কাজ করে যাচ্ছে সে,আজ আর শয়তানটা জ্বালাতেও আসবে না,আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে

আহানা গাছ ধরে চরকার মত ঘুরে যাচ্ছে,মাথার উপর লাল ফুল তার সাথে সবুজ পাতা,পাখির কলরব,কি শান্তিটাই লাগতেসে বলে বুঝানো যাবে না,ছোটবেলায় ফিরে গিয়েছি মনে হচ্ছে
আহানা ঘুরতে ঘুরতে কারোর পা দেখে থেমে গেলো,এতক্ষণ ঘুরতে ঘুরতে মাথা ঘুরাচ্ছে তার,মাথা ধরে ঠিক করে দাঁড়িয়ে পা থেকে চোখ তুলে মাথার দিকে তাকালো,শান্ত দাঁড়িয়ে আছে হাতে হকিস্টিক নিয়ে
আহানা মাথা ধরে দাঁড়াতে পারছে না,ভূতে ধরছিল বলে বাচ্চাদের মত গাছ ধরে এতক্ষণ ঘুরছিল,এখন ঠিকমত দাঁড়াতেও পারছে না সে,ধুপ করে নিচে মাটিতে বসে গেলো
শান্ত এগিয়ে এসে ওর সামনে দাঁড়ালো
আহানা মাথা ধরে ওর দিকে চেয়ে বললো কি?আপনি?এখানে কেন?

শান্ত হকিস্টিকটা আহানার হাতের সাথে লাগিয়ে বললো কাউকে হসপিটালে ভর্তি করাতে এসেছি
আহানা ঢোক গিলে একটু পিছিয়ে গেলো,তারপর কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো আমি কি করসি?আপনিই তো টাকা ফেরত চেয়েছিলেন!!
শান্ত হকি স্টিকটা দিয়ে একটু চাপ দিলো আহানার হাতে
আহানা হাত সরিয়ে এদিক ওদিক তাকালো,জনমানবশূন্য এরিয়া,হওয়ারই কথা,ভার্সিটি তো ছুটি হয়ে গেছে
আহানা একটু পিছিয়ে গেলো
শান্ত নিচু হয়ে আহানার সামনে ওর মুখ নিয়ে স্টিকটা দিয়ে আহানার মাথার থেকে ফুলের ক্রাউনটা ফেলে দিতে দিতে ফিসফিসিয়ে বললো মেরে ভূত বানাই দিব,কেউ জানতেও পারবে না
আহানা চোখ তুলে তাকিয়ে বললো সরি,আপনাকে আমি সকালে রেঁধে দিব সত্যি

লাগবে না
তাহলে কি লাগবে?
তোমার ভাঙ্গা হাড্ডি
আপনি আমাকে মারবেন??
হ্যাঁ সে জন্যই তো আসলাম
আহানা ভয়ে কেঁদেই দিলো,শান্তর চোখে মুখের আগুন দেখে সে ভয় পেতে বাধ্য হয়েছে,শান্তকে দেখে সিরিয়াস মনে হচ্ছে
শান্ত স্টিকটা উপর করে এত জোরে এক বাড়ি দিলো!
আহানা মাথায় হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে
শান্ত গাছের পাশে থাকা একটা সিমেন্টের পিলারে বাড়ি দিয়েছিল,আহানা ভেবেছে তাকে মেরেছে
আহানা কেঁদেই চলেছে
শান্ত আহানার কান্না দেখে হাত থেকে হকিস্টিকটা ফেলে দিলো

আহানা?আমি তোমাকে মারতে যাব কেন
শান্ত আহানার পাশে গিয়ে বসলো
তোমাকে মেরে আমার তো লাভ হবে না কোনো,জাস্ট তোমাকে এটা বুঝাতে এসেছি আমি তোমাকে যেটা দিব সেটা আমাকে ফেরত দিবা না কখনও,নিজের কাছে রাখবা,আমি জানি এটা তোমার আত্নসম্মান বাট তার পরেও আমি যা দিই তা আলাদা,আমার গুলা রাখতে তুমি এত আত্নসম্মান দেখাইও না,বুঝছো?
শান্ত পকেট থেকে রুমাল নিয়ে আহানার দিকে বাড়িয়ে ধরলো
আহানা ওড়না দিয়ে চোখ মুছতেসে
আমি তো ভাবিনি তুমি সামান্য এতেই এত ভয় পেয়ে যাবে,কান্না ও করে দিবে
ভেরি ফানি,মুখে বড়বড় কথা বলে এখন সামান্য স্টিক দেখে এত ভয় পেলে?
আজ যদি আমার জায়গায় অন্য কেউ হতো?এভাবেই কান্না করতে?নিজেকে নিজে সেভ করার টেকনিক শিখো বুঝছো!
তুমি এই টেকনিকটা ঠিক পারো না,টিউশনিতে যাওয়ার সময়ও কতগুলো ছেলের সাথে তুমি লড়তে পারোনি,পালিয়ে এসেছো

তার মানে আপনি ওদের বলেছেন আমার জন্য প্রতিদিন রিকসা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য?
শান্ত মাথা চুলকিয়ে হেসে বললো তো কি করবো,তোমার ও তো একটা সেফটি দরকার
এতদিন চলছি আমি,কারোর সেফটি লাগবে না আমার
জেদ বেশি তোমার,এই জেদের বসে নিজেকে সেফ করতেই পারবা না কোনোদিন,জেদ কমাও আহানা
আপনাকে জ্ঞান দিতে হবে না,যান এখান থেকে
এটা তোমার জায়গা?দলিল করা নাকি তোমার নামে?
আহানা উঠে চলে যেতে নিতেই শান্ত ওর হাত ধরে আবার বসিয়ে দিলো
আমি কথা বলতেসি না?চুপ করে বসে আমার কথা শুনো
নাও তোমার ২হাজার টাকা,রাখো লাগবে না আমার

মায়ের হাতের রান্না খেয়েছি ১০বছর আগে,মা মারা যাওয়ার দিন সকালে উঠে আমাদের সবার মানার সত্ত্বেও লুকিয়ে যখন আমি আর বাবা ঘুমে মগ্ন ছিলাম তখন তিনি আমার পছন্দের চিকন কারী,রুটি,ভাজি,ডিম সব তৈরি করেছিলেন,আমি খাওয়ার সময় খুব বকেছিলাম তাকে
আফসোস!সেদিন বিকালেই মাকে হারিয়ে ফেলসিলাম
খাবারগুলো আমি চেটে চেটে খেয়েছিলাম সেদিন,একটুও ফেলতে দেইনি,আজও সকালের নাস্তা হাতে নিলে মায়ের মুখটা ভেসে উঠে,বুয়া বা অন্য কেউ কি আর মায়ের হাতের রান্নার মত করে রাঁধতে পারে?
কিন্তু আমি তোমার হাতের রান্নায় পুরোটা না হলেও কিছুটা মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ পেয়েছি,জাস্ট কাল মনটা মায়ের হাতের রান্না খাওয়ার জন্য আকুপাকু করসিলো,বুয়াও সিক ছিল তাই তোমাকে বলেছি,সরি এটার জন্য
তোমার টিউশনি তো ৩টা থেকে সবে ১:৩০বাজে,এতক্ষণ কি করবে? লাঞ্চ করবা না?

আহানা শান্তর কথায় ইমোশনাল হয়ে গেছে,নিজেকে কনট্রোল করে বললো নাহ আমি কখনও লাঞ্চ করি না
কেন?লাঞ্চের সাথে কোনো পূর্বশত্রুতামি আছে নাকি?
লাঞ্চ করলে ডিনারে ভাত জুটবে না
শান্ত কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো,নিচ থেকে একটা কঙ্কর নিয়ে পানিতে ছুঁড়ে মারলো
যে টিউশনি করাতে গিয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায় সেটা বাদ দিয়ে দাও,আমি তোমাকে একটা জব দিব,এমনি এমনি তো টাকা নিবে না
ইহহহ,কি জব শুনি

আমাদের ডেইলি একজন স্যারের ক্লাস করতে হয়,মোঃ সাইফুদ্দিন স্যার,তার ক্লাস এত বোরিং বোরিং যে কিভাবে বুঝাবো তোমাকে
তো আমি কখনও তার ক্লাস এটেন্ড করি না,একদিন এটেন্ড করে স্বাদ মিটে গেছে,তার পর থেকে উনি আসার আগেই আমি ক্যামপাসে চলে যাই,তিনি যা যা বলেন সব নোট করে রাখতে হয়,এক্সামে উনার কথাগুলোয় আসে,তমাল নোট করে আমি তার থেকে কপি নিই,কপি বলতে স্যার যা যা বলে তা পরেরদিন ছুটির সময় এক এক করে সবার থেকে নোট চেক করে,তাই আমি চেয়েও ছাপিয়ে নিতে পারি না,নিজের হাতেই লিখতে হয়,উনার এটা খেয়াল থাকে না আমি ক্লাসে আছি নাকি নাই উনার কথা হলো নোটটা লিখা অত্যাবশ্যকীয়!
প্রতিদিন এই নোট তুলার কাজটা করতে হয় আমাকে,যা বিরক্তিকর! অসহ্যকর!!
তুমি প্রতিদিন আমার ঐ নোটটা তুলে দিবে খাতায় তমালের নোট থেকে দেখে দেখে,মিষ্টিকে পড়াতে আসার সময় নোটটা নিয়ে এসে আমাকে দিবে,আমি তোমাকে ৩হাজার টাকা দিব,আকাশের মা তোমাকে যত দেয় আমি তোমাকে ততই দিব,বলো রাজি?

মানে আমার আর কাজ নাই?আপনি আপনার কাজ করার জন্য আর লোক পান না??সবসময় আমাকে ধরেন কাজের জন্য
শুনো মেয়ে আমার সাথে তর্কে যাবা না,তোমাকে ছেলেগুলো থেকে বাঁচাতে পারলে আবার ছেলেগুলো দিয়ে আ্যাটাক ও আমিই করাতে পারি,সো আমার কথা শুনে চলবা,অবশ্য তোমাকে টাইট দিতে আমি নিজেই এনাফ
আপনি একটা!!
আমি আজ তোমার সাথে সাথে থাকবো,আকাশের আম্মুকে তুমি নিজে বলবে আর পড়াতে পারবে না,ওকে?
না আমি পারবো না উনাকে বলতে
ওকে আমি বলবো তাহলে
খবরদার না,যান এখান থেকে
যাব না,তুমি যাবে,চলো
আরেহ আমার হাত ছাড়ুন,কোথাই নিয়ে যাচ্ছেন

লাঞ্চ করবো রেস্টুরেন্টে,আমার তো খুধা লাগছে,তুমিও খাবে
আমি খাব না,হাত ছাড়ুন
বসে বসে দেখো,আমি খাবো
শান্ত আহানাকে টেনে একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে আসলো,আহানা রোডে ২/৩বার বসেও গেছে তাও শান্ত হাত ছাড়েনি,মানুষ কেমন করে তাকায় ছিল বলে আহানা আর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করেনি
রেস্টুরেন্টে এসে শান্ত নিজে নিজে অর্ডার করে ফোন নিয়ে বসে গেমস খেলা শুরু করে দিলো
আহানা চুপ করে ওর দিকে চেয়ে আছে,এত এত মানুষ এখানে
সবাই খাচ্ছে,দুনিয়ায় মনে হয় আমি একমাত্র যে দুপুরে খাই না,সবাই কি সুন্দর করে খেয়ে যাচ্ছে
খাবার এসে গেছে,শান্ত খাওয়াও শুরু করে দিসে,আহানা মুখ বাঁকিয়ে আরেকদিকে ফিরে বসে আছে

কি হলো?খাও না কেন
আমি বলসি না আমি দুপুরে কিছু খাই না
তো এখন খাবা,খাও নয়তো তোমার খবর আছে,তুমি চড় মেরেছিলে আমাকে এবার আমি তোমাকে মারবো
শান্ত আহানার প্লেটে সব নিয়ে ওর দিকে বাড়িয়ে ধরলো
আহানা বিরক্তি নিয়ে প্লেটটা ধরে বসে আছে,এরকম দয়া ওর একদম ভালো লাগে না,এই ছেলেটা এমন কেন করছে কে জানে,এলিনার সাথেও আবার আমার সাথেও!
আহানা চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে
উফ আজ এই ছেলেটা পিছুই ছাড়ছে না কেন বুঝতেসি না
পিউদের বাসায় ঢুকে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো আহানা,যাক বাঁচলাম মনে হয়
পড়ানো শেষে আহানা বাসা থেকে বের হতেই দেখলো শান্ত বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে

আপনি এখনও যান নি?
না যাইনি,আমি তো তোমাকে বলসি তোমার সাথে সারাদিন থাকবো
আপনার ফোন দিন
কেন?
এলিনা আপুকে কল করে বলবো তার বিএফ কি কি করে ইদানিং
হ্যাঁ করো,আর তোমাকে বলসি না ও আমার জিএফ না
আহানা সত্যি সত্যি এলিনাকে কল করলো শান্তর ফোন নিয়ে
হ্যালো বেবি,তোমার শরীর ঠিক আছে তো?জীবনে প্রথম নিজ থেকে আমাকে কল করলে,হোয়াট এ প্রেজেন্ট সারপ্রাইজ!!
আপু,আমি আহানা

আহানা!!তুমি?ইউ স্টুপিড গার্ল,তুমি শান্তর ফোন পেলে কই,শান্ত কোথায়?
আপু ওসব বাদ দাও তুমি জানো তোমার শান্ত বফ তোমাকে ধোকা দিচ্ছে??
হোয়াট!কি বললে?শান্ত কোথায় সেটা বলো
আচ্ছা আসেন,সামনা সামনি কথা হবে,জে.কে রোডে আছি আমি আর আপনার বফ
ফাইন আমি ২০মিনিটে আসতেসি
কি হলে তো তোমার শান্তি?ভেজালকে ডেকে আনতেসো শান্তি তো তোমার হওয়ারই কথা,তুমি তো ভেজাল ছাড়া কিছুই জানো না
শুনুন,আপনি আপনার জিএফ থাকা কালীন বেশির ভাগ সময় আমার সাথে সাথে থাকেন,এটা এলিনা আপুর জানা উচিত

ভেরি ফানি,তুমি এলিনার সাথে নিজেকে মিলাচ্ছো??কোথায় এলিনা আর কোথায় তুমি,এলিনা তো তাও আমার ফ্রেন্ড তুমি তো সেটাও না
ওহ তাহলে আমার পিছনে পিছনে ঘুরার মানে কি?
excuse me,পিছনে ঘুরা মানে?আরিফ আঙ্কেল বলেছিল মা তোমার খেয়াল রাখতে বলে গেছে সবাইকে,তার ছেলে হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব
আমার মায়ের সব ইচ্ছা আমি পূরন করতেসি
এলিনা আপু আসলেই দেখা যাবে কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক
হেই???তোমরা ঝগড়া করতেসো কেন কি হয়েছে?
শান্ত?আমাকে বলো কি হয়েছে

শুনো এলিনা হইসে কি আসলে!
চুপ,আমি বলতেসি,এলিনা আপু তোমার এই বিএফ সারাদিন আমাকে ডিস্টার্ব করে,আমাকে irritate করে শান্তি পায় উনি,সবসময় আমার পিছে লেগে থাকে,আর তুমিও কেমন জিএফ উনার দিকে নজর রাখতে পারো না?
ওয়েট ওয়েট কি বললে তুমি?শান্ত তোমার পিছে ঘুরছে?কেউ গলা কেটে বললেও আমি বিশ্বাস করবো না,শান্ত শুধু আমাকে লাভ করে
এক মিনিট এলিনা,কে বলসে আমি তোমাকে লাভ করি,আমি তোমাকে লাভ করি না,উয়ি আর জাস্ট ফ্রেন্ডস
আপনাদের মামলা আপনারা চুকান,আমি যাই আমার টিউশনি আছে,আর প্লিস আপু আপনার বফকে সামলান ওকে?
আহানা চলে গেলো কথাটা বলে

কি শান্ত??এসব কি?এই থার্ড ক্লাস মেয়েটার পিছনে লেগে আছো কেন,এখন হলো তো কত কথা শুনাইলো,শান্তি হইসে তোমার?আর আমি জানি তুমি আমাকে লাভ করো
এনাফ ইজ এনাফ এলিনা,আমি তোমাকে লাভ করি না করি না করি না,বুঝছো???
আহানাকে করো?
শান্ত কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বাইকে বসতে বসতে বললো তোমার মাথা কি গেছে এলিনা??
শাহরিয়ার শান্ত এরকম ধানি লঙ্কা মেয়েকে লাভ করবে??যে নিজে তোমাকে ডেকে এনে আমাকে কথা শুনায় তাকে আমি লাভ করবো?আজীবন কুমার থেকে যাব তাও ওরে লাভ/বিয়ে করবো না,মাথায় ঢুকিয়ে নাও,বাই

শান্ত দাঁড়াও
কি?
তাহলে আহানার সাথে সবসময় তোমাকেই কেন দেখতে পাই আমি?
তোমার চোখের ভুল,আমার পাশে নওশাদ,সূ্র্য,রিয়াজ আর তমালও তো থাকে
গুড
শান্ত বাইকে করে চলে গেলো,এলিনাকে তো বুঝানো হয়েছে বাট তারপরেও সে যাচ্ছে আহানার কাছে
আহানা আকাশকে পড়াচ্ছে
কলিং বেল বেজে উঠলো
আসসালামু আলাইকুম আন্টি
ওয়ালাইকুম আসসালাম,কে আপনি?ঠিক চিনলাম না
আমি শাহরিয়ার শান্ত,আহানার হাসবেন্ড
ওহহহহ তুমি আহানার স্বামী?আহানা বিয়েও করেছে?আমাকে বললো না,বসো বসো,আমি চা নাস্তা আনতেসি

আরে না আন্টি,ওয়েট,আমি একটা কথা বলতে এসেছিলাম,আমার অনেক কাজ আছে চলে যেতে হবে
কি হইসে?
আমি চাই আহানা যেন আর কোনো টিউশনি না করে তাই ওকে বলসি টিউশনি ছেড়ে দিতে,বাট ও আপনাকে লজ্জায় কিছু বলতে পারছে না,আমি তাই বলতে আসলাম
ওহ সমস্যা না,,বিয়ের পর বেশির ভাগ হাসবেন্ডই চায় না তার ওয়াইফ বাইরে জব করুক,আর আহানা তো নিজের খরচ চালাতে টিউশনি করতো এতদিন,ঠিক করেছো ওকে কাজ করতে মানা করে,বেচারি অনেক কষ্ট করে টিউশনি করে
ভালো থেকো তোমরা দোয়া করি,আমি আহানাকে এই মাসের যতদিন পড়িয়েছে তার বেতন দিয়ে বলে দিব ব্যাপারটা,ডোন্ট ওয়ারি
ওকে আন্টি,থ্যাংকস,আজ আসি তাহলে
শান্ত দাঁত কেলিয়ে সানগ্লাস পরে চলে গেলো বাইকে উঠে

আহানা?তুমি বিয়ে করলে আর আমাকে জানালে না এটা কিন্তু ঠিক না আহানা
মানে!!!!
হইসে আর লুকাতে হবে না এসব,নাও এই মাসের বেতন পুরোটাই দিসি,জামাইকে নিয়ে সুখী হও
আহানা চোখ কপালে তুলে চেয়ে আছে আকাশের মায়ের দিকে
আরে বোকা মেয়ে টিউশনি করাতে পারবে না এটা বলতে এত লজ্জা পেয়েছিলে কেন??কিছুক্ষন আগে তোমার হাসবেন্ড শান্ত এসেছিল ব্যাপারটা বলতে,তুমি এত লজ্জা পাও এটা বলতে আহারে,সে এসব বলে চলে গেসে

কিহ,কুত্তাটা আবার এসেছে,সব গন্ডগোল করে চলেও গেছে,আমি তো জানতাম ও না কিছুক্ষন আগে সোফার রুমে শয়তানটা ছিল
আহানা বাসা থেকে বেরিয়ে দেখলো সেই ছেলেগুলো রিকসা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
আহানা রিকসায় উঠে ভাবতেসে এলিনা আপুকে ডাকলাম তারপরেও আমার পিছু ছাড়লো না,আজব তো,এই ছেলেটা এরকম করে কেন আমি বুঝি না
সয়ং এলিনাকে নিয়ে আসলাম ব্যাপারটা ঠিক করার জন্য আর সে কিনা ঘুরেফিরে আবার শুরু করলো,একেবারে আমার স্বামীর হয়েই কথা বলে চলে গেলো,ছাড়বো না বেয়াদবটাকে
আহানা বাসায় ফিরে টাকাগুলোর দিকে চেয়ে বসে আছে
কাল এগুলা শান্তকে ফেরত দিব,আমার থেকে উনি এখনও পাক্কা ৬হাজার টাকা পান,যতবার দি ততবার ফেরত দেয় আমাকে,উফ কি ঝামেলা

আলু ভেজে ভাত নিয়ে বসে আহানা ভাবতেসে শান্তকে কিভাবে কথা শুনাবে,কারণ শান্ত আসলেই কি চায় তা জানাটা জরুরি,এভাবে তো আর চলে না,জিএফ থাকতে সবসময় আমার পিছে ঘুরঘুর করে,আমাকে ঠিকমত চলতে ফিরতেও দেয় না,আজ তো লিমিট ক্রসই করে ফেলসে বেয়াদবটা,টিউশনি অফ করে দিলো আমার!সাথে আমাকে বিবাহিত প্রমান করে দিলো!
পরেরদিন সকাল সকাল আহানা টাকা আর এক বস্তা রাগ নিয়ে বের হয়েছে বাসা থেকে,আজ ঐ শান্তকে ঠাস করে চড় মারি তার পরে বাসায় ফিরবো আমি
লিফটে ঢুকার সময় দেখলো শান্ত সেখানে
আহানা ঢুকে এগিয়ে গিয়ে শুরু করলো ঝগড়া

এই কি সমস্যা আপনার?আমাকে এত জ্বালান কেন,আপনার সাহস হয় কি করে আমার স্বামী সেজে আকাশদের বাসায় যাওয়ার??বেয়াদব ছেলে কোথাকার!
শান্ত চুপ করে ফোনে গেমস খেলছে
আপনাকে বলতেসি আমি,কথা কানে যায় না আপনার?
আহানা টাকা নিয়ে শান্তর হাতে ধরিয়ে লিফট থেকে বেরিয়ে চলে গেলো
শান্ত টাকাগুলোর দিকে চেয়ে সেও পিছন পিছন গেলো
আহানা থেমে ওর দিকে চেয়ে বললো আপনার কি সমস্যা এত??
উফ!!আপনাকে আমি কিভাবে বুঝাবো,আমার আগের লাইফই ভালো ছিল,আপনি কেন আমাকে সাহায্য করার জন্য উঠে পড়ে লেগে আছেন

আহানা সাবধানে!!
শান্ত কাছে আসতে যেতেই আহানা আরও সরে গেলো
আহানা কেয়ারফুল!!!
শান্ত হাত দিয়ে আহানাকে টেনে কাছে নিয়ে আসলো,কারণ পিছনেই সিঁড়ি,আর সে ৫তলার উপরে
আহানা কথা বলতে বলতে সিঁড়ি পর্যন্ত চলে এসেছিল
আহানা ধাক্কা দিয়ে ওকে সরিয়ে ফেললো
আপনি আমার থেকে দূরে থাকুন বুঝছেন!!
শান্তর এবার মেজাজ বিগড়ে গেছে,এই মেয়েটা এত কিসের অহংকার করছে?
এই কি আছে তোমার??কাকে অহংকার দেখাচ্ছো তুমি??ভাত নুন খেতে ভালো লাগে তোমার??আমি চিকেনের দাম দিচ্ছি বলে সেটা ভালো লাগছে না

আহানার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো,হাত দিয়ে চোখ মুছে হেসে দিয়ে বললো ভাত নুন তো কি হয়েছে??সেটা আমার নিজের উপার্জনের টাকার খাবার,আমার আত্নসম্মান আছে বলে আমি অন্যের টাকা নিতে চাই না,এটাকে আপনি অহংকার ভাবলে ভাবতেও পারেন,আর কোনোদিন আমাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করবেন না,আমি একদিন আমার উপার্জনের টাকা দিয়ে চিকেন ও খাবো,বাই
আহানা মিষ্টিদের বাসায় চলে গেলো
শান্ত নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে ফেললো,বাবাকে কল করলো সোজা
কিরে শান্ত??তুই ঠিক আছিস তো?এত সকাল সকাল ফোন করলি?কি হয়েছে?
বাবা!!তুমি আর আমার জন্য কোনো টাকা পাঠাবে না,আমি নিজে উপার্জন করে নিজের খরচ চালাবো

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৫+২৬

মানে?তুই তো জব পেতে আর কয়েকটা মাস বাকি,তোর মাস্টার্স শেষ হলেই আমি তোকে আমার অফিসে বসিয়ে দিব,তাহলে এখন কিসের উপার্জন করবি তুই?সকাল সকাল মদ খেয়েছিস নাকি?
না বাবা,আমি মাস্টার্স শেষ হওয়া পর্যন্ত একটা পার্টটাইম জব করবো,তুমি আর আমাকে কোনো টাকা দিবে না,Now বাই

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৯+৩০