প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৪৫+৪৬
Afnan Lara
রেডি হয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে হাঁটা ধরলো সে
পথেই দেখা হয়ে গেলো শান্তর সাথে
শান্ত দাঁত কেলিয়ে বাইক স্টার্ট দিতেছে আর আহানার দিকে তাকিয়ে হাসতেসে
আহানা ওকে না দেখার ভান করে পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে
কেউ চাইলে বাইকে উঠতে পারে,সিট কিন্তু খালি!
আহানা মুখ বাঁকিয়ে চলে গেলো
ভার্সিটিতে আহানার আগেই শান্ত এসে পড়লো,এসে বটতলায় গিয়ে বসলো
আহানা গেট দিয়ে ঢুকার সময় দেখলো এলিনা দৌড়ে শান্তর দিকে যাচ্ছে
আহানা তাকিয়ে থেকে দেখতে লাগলো এলিনা কি করে
এলিনা দৌড়ে এসে শান্তকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো
আহানার বুকটা সাথে সাথে কেঁপে উঠলো,ভেতরটা হুট করে খুব জ্বলতেসে,না জানা এক ব্যাথায় আহানার হাত কেঁপে উঠলো
শান্ত এলিনাকে ছাড়িয়ে আহানার দিকে তাকাতেই আহানা চলে গেলো ক্লাসের দিকে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
শান্ত জানো আমি কি করেছি?
কি?
আমি বাবাকে তোমার কথা বলেছি,বাবা বলেছে তুমি ভালো জব পেলে আমাদের বিয়ে পাক্কা করে দিবে
এখন গিয়ে ক্যানচেল করে দাও!!
কেন?কি সমস্যা?
আমি তোমাকে লাভ করি না,আর বিয়েও করতে চাই না,এরপর থেকে জীবনে আর আমাকে এসব লাভ- বিয়ে নিয়ে ধরবা না প্লিস!
এলিনা চুপ করে থেকে আহানাদের ক্লাসের দিকে একবার তাকিয়ে চলে গেলো
আহানা ক্লাসে বসে জানালা দিয়ে শান্তর দিকে চেয়ে আছে
শান্ত তমাল আর সূর্যর সাথে হাসি মজা করতেসে বটতলায় বসে
আহানা নিজের অজান্তেই মুচকি হেসে দিলো ওর দিকে চেয়ে
জানিস আহানা আজ নাকি এলিনা শান্ত ভাইয়াকে বিয়ের প্রোপোজাল দিয়েছে,সে নাকি তার বাবাকে রাজিও করিয়েছে
কথাটা শুনে মূহুর্তেই আহানার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো,রুপার দিকে তাকিয়ে বললো তোহ?উনি উত্তরে কি বলেছেন?
সেটা তো জানি না,বাট শুনলাম এলিনা নাকি খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেছে,তার মানে নিশ্চয় শান্ত ভাইয়া রাজি হয়েছে!
সবার বিয়ে হয়ে যাবে তার পর তোরেও বিয়া করাই দিবো
রুপার কথায় কান না দিয়ে আহানা ব্যাগ নিয়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে চলে গেলো
কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে বসে ফুল কুড়িয়ে সেগুলো ফেলতেসে আবার কুড়াচ্ছে
কিছুক্ষন পর সেগুলো রেখে মাটি থেকে কঙ্কর নিয়ে পানিতে ফেলতে লাগলো এক এক করে
কঙ্কর ফেলা বন্ধ করে ব্যাগ থেকে শান্তর সই করা কাগজটা নিয়ে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষন তারপর ছুঁড়ে মারলো দূরে
কাগজটা শান্তর পায়ের কাছে গিয়ে পড়লো,সে নিচ থেকে নিয়ে দেখলো এটা সেই কাগজ যেটাতে সে সই করেছিলো,আর আহানা কাঁদতেসে কেন?
শান্ত এগিয়ে আসতে গিয়েও আসলো না,দাঁড়িয়ে থাকলো
আহানা নিঃশব্দে কাঁদতেসে,শুধু চোখের পানি পড়তেসে,কেন পড়তেসে তা সে জানে না
খালি মনে হচ্ছে বুকের ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে কোনো এক আঘাতে!
শান্ত ওর পাশে এসে বসলো
আহানা শান্তকে দেখে একটু সরে বসলো
কি হয়েছে আবার?যতদূর বুঝলাম আমার সম্পর্কিত কিছু হয়েছে নাহলে এই মূল্যবান কাগজ রাস্তায় ফেলতে না
তবে আমি তো কিছু করিনি তাহলে এরকম কাঁদতেসো কেন
আপনার জানতে হবে না
আহানা কাগজটা ফেলে রেখেই চলে গেলো একটি বারের জন্য ও থামলো না
শান্ত কিছু বুঝে উঠে পারতেসে না দেখে সোজা রুপার কাছে গেলো রুপা তখন নওশাদের সাথে ক্যামপাসে ঘুরতেসিলো
শান্ত এগিয়ে এসে বললো আহানার কি হয়েছে?তুমি জানো?
কই কি হয়েছে?
তুমি ওরে কিছু বলছিলা?
আমি তো!!ওহহ হ্যাঁ,আমি বলছিলাম এলিনা আপনাকে বিয়ের প্রোপোজাল দিসে,আর আপনি রাজি হয়েছেন,এটা বলছিলাম জাস্ট!
কিন্তু আমি রাজি হইনি!
এলিনা তো সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে যে আপনি রাজি হয়েছেন
মিথ্যাবাদি একটা!
শান্ত বাইকে উঠে সোজা অফিসে গেলো,ভাবলো আহানা সেখানে হতে পারে
কিন্তু অফিস তো বন্ধ,কারণ এখন সকাল ১১টা বাজে,আর অফিস খুলবে দুপুর ১২:৩০এ
তারমানে আহানা বাড়ি ফিরে গেছে
শান্ত এবার সোজা আহানার বাসার দিকে গেলো
আহানা বাসায় ফিরে বেডরুমের এক কোণায় ফ্লোরে বসে বেডের দিকে তাকিয়ে আছে
আমি তো এটাই চাইতাম,উনার থেকে মুক্তি তাহলে এরকম কেন লাগতেসে উফ!
আহানা উঠে গিয়ে বাথরুমের দিকে গেলো,ঝর্না ছেড়ে নিচে বসে রইলো,মাথা ঘুরতেসে
আহানা ডাকটা কানের কাছে এসে বাজতেসে,এটা শান্তর গলা,তবে ওর ডাকটা স্পষ্ট আসতেসে,আমি তো দরজা লাগিয়েছিলাম,তাহলে?
আহানা উঠে ঝর্না অফ করে তোয়ালেটা ভেজা জামার উপর জড়িয়ে বেরিয়ে দেখলো শান্ত ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে
আপনি এখানে আসলেন কি করে,আমি তো দরজা!
দাদি আমাকে এক্সট্রা চাবিটা দিয়ে দিসিলো ঐদিন,তোমাকে ডাকলাম শুনতেসো না দেখে ঢুকছি
পরে রুমে এসে বুঝলাম তুমি শাওয়ার নিচ্ছো
যান এখান থেকে,কেন এসেছেন?
কথা বাদ দিয়ে চেঞ্জ করে আসো না হলে ঠাণ্ডা লাগবে তোমার,আমি বারান্দায় আছি
কথাটা বলে শান্ত নিচের দিকে তাকিয়ে চলে গেলো
আহানা ২মিনিট চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে শুকনো জামা একটা নিয়ে পরে বাইরে আসলো
শান্ত বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলো,আহানাকে দেখতে পেয়ে ভিতরে ফিরে আসলো,নাও ধরো
কি?
তোমার কাগজ,দরকার পড়বে তোমার
কিসের দরকার?আপনার এলিনার সাথে বিয়ে হবে তো এটা আমার আর কিসের দরকার হতে পারে?
বিয়ের পরেও যদি তোমাকে টাচ করতে আসি?
আহানা মুখটা ছোট করে ভিতরের রুমের দিকে চলে যেতে নিতেই শান্ত ওর হাতের কব্জি ধরে টান দিয়ে বুকে নিয়ে আনলো
শক্ত করে জড়িয়ে রাখলো ওকে,ওর সারা গা ঠাণ্ডা বরফ হয়ে আছে,চুলগুলোর থেকে এক ফোটা পানিও ঝরায়নি মনে হয়
শান্তর বুকে এসে আহানার মনে হচ্ছে সে সকল ক্রোধ, অভিমান ভুলে গেছে
চুপ করে থেকে রুপার কথাগুলো মনে পড়তেই শান্তর জ্যাকেট এক হাত দিয়ে ধরে কেঁদে দিলো,খুব কষ্ট হচ্ছে
কেন কাঁদতেসো আহানা?
কাঁদতে কাঁদতে আহানা শান্তর প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেলো,ছেড়ে দিলো ওর জ্যাকেট
দূরে সরে গেলো তার থেকে
জিভ দিয়ে ঠোঁটটা ভিজিয়ে শক্ত হয়ে বললো কই কাঁদতেসি না আমি
আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন কেন?চলে যান এখান থেকে
কথাটা বলে আহানা নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো
শান্ত ঠাঁই দাঁড়িয়ে থেকে একটা কলম খুঁজে ফ্লোরে বসলো কাগজটা নিয়ে
আহানা যে শর্ত লিখেছিলো তার নিচে একটা লাইনের মত খালি জায়গা বাকি আছে,শান্ত সেখানে আরেকটা শর্ত যোগ করে দিলো,কাগজটা রান্নাঘরের চালের বালতির ভিতরে রেখে দরজা লাগিয়ে চলে গেলো
দুপুর ১২টা বাজে
আহানা এবার উঠে দরজা খুলে বের হলো রুম থেকে
রান্নাঘরের দিকে গিয়ে জানালা দিয়ে শান্তর বারান্দার দিকে চেয়ে রইলো কিছুক্ষন
এরপর একটা পাতিলে পানি দিয়ে চুলায় বসালো তারপর চালের বালতির ঢাকনা খুললো চাল নেওয়ার জন্য,সেখানে ঐ কাগজটা দেখতে পেলো
আহানা সেটা নিয়ে ফেলতে যেতেই কি মনে করে ফেললো না
তাকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে কাগজটা ভাঁজ থেকে খুললো
ভিতরে সব শর্তর সাথে আজ একটা নতুন শর্ত দেখতে পেলো আহানা
শর্তটা হলো-আমি শাহরিয়ার শান্ত আহানাকে রেখে কখনও দ্বিতীয় বিয়ে করবো না
আহানা সেটা দেখে হেসে দিলো,চোখ থেকে পানি পড়তেসে তবে এটা কষ্টের না,নাম না জানা এক ভালো লাগার অশ্রু
কাগজটা ভাঁজ করে আবার কোমড়ে ঢুকিয়ে নিলো সে
এতক্ষণ ধরে শুধু কেঁদেছিল আর এখন শুধু হাসতেসে
ভাত খেয়ে অফিসের জন্য রওনা হলো এবার
অফিসে এসে রুমের ভিতরে পা রাখতেই নিহাল এসে সামনে দাঁড়ালো
আহানা?আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই প্লিস না করিও না প্লিস,আমি তোমায় সুখে রাখবো অনেক,আই লাভ ইউ সো মাচ
এই নেপাল!!থুক্কু নিহাল!
নিহাল পিছন ফিরে তাকালো,শান্ত কম্পিউটারে আর্টিকেল টাইপ করতে করতে বললো সি ইজ ম্যারিড
হোয়াট?!বোকা বানাচ্ছো কেন আমাকে?
মিসেস আহানা ওখানে না দাঁড়িয়ে থেকে এখানে এসে বসুন,কাজের অভাব নাই,আজ যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে কাজ কমপ্লিট না করলে
আহানা সোজা এসে চেয়ারে বসে ফাইলে হাত দিতেই নিহাল ওর হাত ধরে ফেললো
এসব কি আহানা?তুমি কিছু বলতেসো না কেন?এসব কি সত্যি?
শান্ত আহানার হাত থেকে নিহালের হাত সরিয়ে চোখ রাঙিয়ে বললো খবরদার ওকে ধরবা না
তুমি এমন ভাব করতেসো যেন তোমারই ওয়াইফ?
সরি টু সে দ্যাট আহানা সত্যি সত্যি আমারই ওয়াইফ
কথাটা শুনে নিহাল হা করে চেয়ে শান্তর থেকে চোখ সরিয়ে আহানার দিকে তাকালো,আহানার নিরবতা শান্তর উক্তির হ্যাঁ সূচক বর্ননা দেয়
নিহাল টেবিলে ঠাস করে এক বাড়ি দিয়ে চলে গেলো তার কেবিনের দিকে
হাহা,আর কোনোদিন তোমার দিকে চোখ তুলেও তাকাবে না দেখিও
আহানা চুপ করে ফাইল সেভ করতেসে কম্পিউটারে,শান্তর দিকে তাকাচ্ছে না
শান্ত বকবক করেই যাচ্ছে,শেষে আহানার কোনো রিয়েকশান না পেয়ে ওর চেয়ার টেনে এক ঝাঁকুনি দিলো
শুনুন,অফিস এটা,বাসা নয়,এরকম করেন কেন?
কি করছি?তুমি আমার সাথে কথা বলতেসো না কেন?
আমি কি করবো না করবো সেটাও আপানকে জিজ্ঞেস করতে হবে?
শান্তর চোখ লাল হয়ে আসলো,খুব রাগ আসতেসে,এলিনাকে বিয়ে করবো না জেনেও এমন কেন করতেসে,ও কি কাগজটা দেখেনি নাকি বুঝেনি
হাত নিয়ে আহানার ওড়না টান দিয়ে গিট্টু দিতে দিতে সে ভাবতেসে চুপ করে
আহানা বিরক্ত হয়ে ওড়না এক টান দিয়ে শান্তর হাত থেকে নিয়ে নিলো
শান্তর তো আরও রাগ বেড়ে গেলো
সে পুরো ওড়নাটাই টেনে নিয়ে নিলো আহানার গায়ের থেকে,হাত নিয়ে আহানার খোঁপা খুলে দিয়ে আরেকদিকে ফিরে বসলো
আমার ওড়না দিন,ফালতু মজা করার সময় নেই আমার!
কেন?তোমার তো চুল আছে,ওড়না দিব না আমি
বাচ্চামি করতেসেন কেন বলুনতো?
কিসের বাচ্চামি,তুমি হুদাই আমার সাথে রাগ করে আছো ওড়না দিয়ে কি আমি আগে গিট্টু বানাতাম না?নাকি আজ নতুন দেখছো?
আপনার সাথে সিধা কথা বললেও আমার দোষ হয়ে যায়
ব্রেক টাইম শুরু
আহানা শান্তকে পুরো অফিসে দৌড়ানি দিচ্ছে,শান্ত ওড়না দিবেই না,কারণ হলো আহানা কোন সাহসে ওর থেকে ওড়না টান দিয়ে নিয়ে গেছে,আহানার ওড়নায় আহানার ৪০% ভাগ আর শান্তর ৬০% ভাগ
দিবেন না তো?
না দিব না
শান্ত হাত উঠিয়ে উপর করে রাখছে,আহানা যাতে ওড়নার নাগাল না পায়
ঠিক আছে,দিয়েন না
আহানা এগিয়ে এসে শান্তর জ্যাকেটের চেইন টান দিয়ে জ্যাকেট খুলে নিয়ে গেলো,এখন ওর গায়ে একটা টি শার্ট মাত্র!
শান্ত ইয়া বড় হা করে চেয়ে চেয়ে আহানার চলে যাওয়া দেখছে
কি সাহস এই মেয়েটার,আমার জ্যাকেট দিয়ে কি করবে ও?
শান্ত কেবিনে ফ্লোরে ঢুকে দেখলো আহানা জ্যাকেট পরে চেইন টানতেসে লাগাতে পারছে না
শান্ত আহানার ওড়না গলায় পেঁচিয়ে এগিয়ে আসলো,আহানা শান্তর এগিয়ে আসা দেখে একটু পিছিয়ে দাঁড়ালো
শান্ত মুখটা রাগিয়ে তুললো,যাতে আহানা ভয় পায়
কিন্তু মনের ভেতর যে দুষ্টুমি খেলা করছে তা আহানা জানে না
শান্ত খুব কাছে এসে জ্যাকেটের চেইনে হাত দিয়ে টান দিয়ে উপরে উঠিয়ে দিলো
আহানার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো
Now you look like Mrs. Shahriar!!!
আহানা চমকে শান্তর দিকে তাকিয়ে আছে,শান্ত তার গলা থেকে আহানার ওড়না নিয়ে আহানার মাথায় ঘোমটা করে দিলো
তারপর নিজের টি-শার্টের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে আহানার হাত ধরে ক্যানটিনের দিকে চললো
এই আমাকে কই নিয়ে যাচ্ছেন?
বিকালের নাস্তা করবো
না আমি খাব না
তুমি খাবে না আশ্রমের সব বাচ্চারা খাবে
কথা বলতে বলতে ক্যানটিনে পা রাখতেই বাকি কলিগেরা আহানা আর শান্তর দিকে ভূত দেখার মত চেয়ে রইলো,কারণ শান্তর জ্যাকেট আহানার গায়ে দেখে এমন অবাক হওয়ারই কথা
নিহাল জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে,এই প্রথম কোনো বাজি সে হেরে গেলো,রেগেমেগে উঠে চলে গেলো সে
আহানা চেয়ারে বসে জ্যাকেটটা খুলে শান্তকে দিয়ে দিলো,কারণ সবাই এতক্ষণ তো তাকিয়েছিল সেটা সমস্যা ছিল না কিন্তু তারা এখন গসিপ শুরু করে দিসে ওদেরকে নিয়ে তাই আহানা জ্যাকেটটা খুলতে বাধ্য হয়েছে
স্যান্ডুইচ খাবা?
সেটা কি?
ওকে বুঝলাম,মামা ২টা স্যান্ডুইচ আর ২টা চা
না
কি?
চা টংয়ের থেকে খাবো বাড়ি ফিরার সময়
কিহহহ?মানে সিরিয়াসলি? তুমি আমার সাথে বাড়ি ফিরবে?
😒কেন?
না কদিন তো আমার সাথে জেদ করে একা হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরেছেন তো তাই বললাম
হুহ!
ব্রেক টাইম শেষে যে যার কাজে ফিরে গেলো,আহানা শান্তর দিকে চেয়ে আছে শান্ত কম্পিউটারে ফাইল এডিট করতে করতে সেন্টার ফ্রেশ চিবাচ্ছে
আহানা মনে মনে ভাবলো এভাবে দিনে ১০/১২টা সিগারেট আবার ৪/৫টা সেন্টার ফ্রেশ খায়,ওয়াক,এরে কে কিস করবে,সেন্টার ফ্রেশের ঘ্রান শুঁকলেও আমার বমি পায়
আর আমারে তো নাকি ছোটবেলায় এই বান্দরটা কিস ও করেছে,অবশ্য তখন তো এসব খেতো না নিশ্চয়!
আচ্ছা আপনি কি ছোট থেকেই সেন্টার ফ্রেশ খান?
হ্যাঁ,আমার অনেক ফেভারিট এটা
শান্তর মুখে এমন কথা শুনে আহানার কাশি উঠে গেলো
বোতল নিয়ে পানি খেয়ে কপালের ঘাম মুছে নিজের কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে সে
শান্তর মাথায় উপর দিয়ে গেলো পুরো ব্যাপারটা,হুট করে আমার ছোটবেলার কথা জিগাইলো কেন?
ওহহহহ আচ্ছা আচ্ছা!!ছোটবেলায় তো ওর সাথে আমার সম্পর্ক ছিল,আমার পাতানো বউ ছিল সে,তাহলে সেন্টার ফ্রেশ খাওয়ার কথা কেন জিজ্ঞেস করলো?
কিস!!!!!
কিহহহ?এত চেঁচান কেন?কি হইসে,কে কারে কিস করছে?
শান্ত মুখটা বাঁকিয়ে হেসে দিয়ে বললো আমি তোমাকে করেছি
আহানা ঢোক গিলে আরেকদিকে চোখ ফিরিয়ে নিলো এত তাড়াতাড়ি মনের কথা কি করে বুঝতে পারে কে জানে,ইস কি লজ্জা!
এই যে ম্যাডাম?অফিস ছুটি,চলুন বাসায় ফিরি
আহানা ব্যাগ হাতে নিয়ে শান্তর পিছু পিছু আসতেসে আর লজ্জায় লাল টমেটো হয়ে যাচ্ছে
শান্ত লিফটের বাটনে টিপ দিয়ে হাতের ঘড়ি ঠিক করতে করতে বললো যখন আমি তোমাকে কিস করেছিলাম তখন সেন্টার ফ্রেশের সাথে সিগারেট ও খাইতাম
Beginner ছিলাম😂
আহানা রেগে দুম করে কিল বসিয়ে দিলো শান্তর পিঠে
আপনি একটা অসভ্য লোক!আপনি!!
আপনার সাহস হলো কি করে তখন একটা ছোট্ট মেয়েকে কিস করার,লজ্জা করে না এখন আবার এসব বলতেসেন?
কেন লজ্জা করবে?তুমি এখন আমার বউ,এখন তো লজ্জা লাগারই কথা না,অবশ্য তখনও বউ ছিলে,পাতানো বউ,তখন সাহস দেখাতে পেরেছি আর এখন তো!!
এই খবরদার,একদম ঠোঁট কেটে কুচিকুচি করে মরিচখোলা দিয়ে দিব আমি
তোমার চিন্তাধারা এতটা উপরে কেন বলোতো?আমি?
আমি শাহরিয়ার শান্ত কিনা তোমায় কিস করবো??
ঠোঁট দেখছো তোমার?আমি যারে কিস করবো তার ঠোঁটে এক গাদা লিপস্টিক থাকবে
তোমার ঠোঁটে তো লিপস্টিক নাই,জীবনে দাও ও নাই,হুদাই ন্যাচারাল পিংকিস একটা রঙ,এটা দেখে আমার কিস করার ইচ্ছাও জাগবে না বুঝলা??
হইসে,কিস করবেন না ঠিক আছে তাই বলে এত কথা শুনানোর কোনো মানে হয় না,আর আমিও আপনাকে কিস করতে কেনোই বা যাবো?আপনার ঠোঁট দেখছেন?সারাদিন সিগারেট আর সেন্টার ফ্রেশ খেয়ে খেয়ে কি অবস্থা বানাই রাখসেন
আমার ঠোঁট একদম ঠিক আছে,আমি ভার্সিটির ক্যামপাসে দাঁড়িয়ে ঠোঁটে হাত বুলালে মৌমাছির মত ১০/১৩টা মেয়ে এসে সামনে দাঁড়াবে জানো তুমি?
হ্যাঁ,শুধু দাঁড়াবে,আর কিছু না,ঐ ঠোঁট ছোঁয়ার ইচ্ছা কারোর জাগবে না
নিচতলা এসে গেছে আহানা বেরিয়ে চলে গেলো লিফট থেকে
গ্যারেজ থেকে শান্ত বাইক নিয়ে আসলো রোডের কাছে
আহানা চুপচাপ উঠে বসলো
আহানা?
কি?
তোমাকে আমি ছাড়া আর কেউ কিস করেছে কখনও?
না,😒কেন বলুনতো
এমনি
আপনি তো এলিনাকে করেছেন আমি ১০০% সিউর,আমাকে দলিল দেখালেও বিশ্বাস করবো না
তুমি তো বললে আমার যে ঠোঁট আমাকে কেউ কিস করবে না তাহলে?
তোহহ?আপনি তো বললেন আপনি এমন কোনো মেয়েকে কিস করবেন যার ঠোঁটে এক গাদা লিপস্টিক থাকবে,আর এলিনা তো ২গাদা লিপস্টিক দিয়ে আসে রোজ,তার মানে ওরে করছেন নিশ্চয়
তোমার সাথে মাঝে মাঝে কথায় পারি না আমি,আওলায় যাওলাই যাই,এত কথার প্যাঁচ কেমনে দিতে পারো
কিস টপিক বাদ,আমিও না কোথাকার কোন ছেলের সাথে কিস নিয়ে আলোচনায় মেতেছি
হুহ ভেরি ফানি,কোথাকার কোন ছেলে মানে?আমি তোমার পাতানো বর ছিলাম ওকে?আর এখন রিয়েল বর
এমনকি আমি তোমাকে কিস ও করেছি ছোটবেলায়,ওকে?
সো আজ আমি কোথাকার কেউ না,এখন আমি তোমার লিগালি হাসবেন্ড,আর একদিন কোথাকার বললে পানিতে চুবাবো
চা নিয়ে দুজনে বসে আছে দূরের এক গাছতলায়,মানে সেই লেকটাতে যেটাতে কদিন আগেই এসেছিলো যখন তারা দুজনেই অবিবাহিত ছিল!
তবে আজ আর পানিতে পা চুবাইনি
কারণটা হলো আহানার গা গরম,মানে হালকা জ্বর,শান্ত ওর হাত ধরতেই টের পেয়েছে তাই আর পানিতে পা চুবায়নি,এমনি একটা গাছের নিচে ফাঁকা রোডে বসে আছে দুজনে,হাতে চায়ের কাপ,কাপ থেকে ধোঁয়া উঠতেসে
আহানা বড় রোডটার দিকে তাকিয়ে আছে,সে রোড দিয়ে বড় বড় গাড়ী যাচ্ছে,একবার ট্রাক,একবার বাস,একবার প্রাইভেট কার
শান্ত হঠাৎ করে চুপ হয়ে গেছে
আহানা চারিদিক চোখ বুলিয়ে শান্তর দিকে তাকিয়ে ব্রুটা কুঁচকিয়ে বললো কি হয়েছে আপনার?
কিছু না,আমি ঔষুধ কিনে দিয়ে যাব,খাবার খেয়ে ওটা খেয়ে নিবা,আমি কিন্তু পরে এসে ঔষুধের পাতা চেক করবো,না খেলে তোমার খবর আছে,তুমি তো আবার ঔষুধ খেতে ভুলে যাও
আপনার কি ধারনা?সামান্য এই জ্বরের জন্য আমি ঔষুধ খাবো?আর কাজ নাই আমার
তুমি খাবে না তোমার স্বামী খাবে,তুমি নিজের একটুও যত্ন নাও না
ঢং করতে হবে না,আপনি তো নিজের খুব যত্ন নেন তাই না?তাই তো ডেইলি ১২টা করে সিগারেট খান
১২টা খেলে কিছু হয় না,আর আজ ১১টা খাইসি
শোয়ার আগে আরেকটা খাবেন,জানি আমি
তো কি হয়েছে,কিছু তো হয় না এটাতে,বরং তোমার জ্বর হলে তুমি দূর্বল হয়ে যাবা,অফিস আসতে পারবা না,তারপর তোমাকে অফিস থেকে বের করে দিবে
হুম,ঠিক আছে খাবো
শীত লাগতেসে?আমার জ্যাকেটটা নাও
আহানা চোখটা বড় করে বললো এত কেয়ার?
কিসের কেয়ার?আমার গরম লাগতেসে বলে তোমাকে দিচ্ছি,বাসায় গিয়ে দিয়ে দিবা,এখন জ্যাকেট খুলে হাতে রাখাটাও ঝামেলা তাই তোমাকে দিতেছি,অন্য কোনো কারণ নেই
লাগবে না,আপনার জ্যাকেট আপনি আপনার কাছে রাখেন
আহানা চলো আজ সারারাত আমরা ঢাকার রাস্তায় কাটাই,শুধু হাঁটবো,ক্লান্ত হলে গাছের নিচে বসবো
পারবো না,আমার শরীর খারাপ লাগতেসে আমি বাসায় যাবো
😒ওকে
বাসায় ফিরে শান্ত বাইক নিয়ে চলে যেতে নিতেই দাদা ডাক দিলেন
আল্লাহ জানে আবার কেন ডাকতেসে
আসসালামু আলাইকুম দাদা!
ওয়ালাইকুম আসসালাম,তা শান্ত কই যাও তুমি?
আমি আসলে, ইয়ে আসলে ডিম আনতে যাই
আরে ডিম তো আমাদের বাসায় ও আছে,তুমি যাও বাসায় আমি অলিকে দিয়ে পাঠাচ্ছি
না লাগবে না,ঐ তো দোকান!
আরে না যাও
দাদা ঠেলে শান্তকে দোতলায় পাঠিয়ে দিলেন
আহানা নিজের রুমে এসে জামা চেঞ্জ করতেসে
শান্ত দরজার সামনে এসে দাঁত কেলিয়ে একবার এক দিকে তাকাচ্ছে
দাদা কোমড়ে হাত দিয়ে বললেন কি হলো?তোমার কাছে তো এক্সট্রা চাবি আছে তাহলে বাইরে দাঁড়িয়ে আছো কেন?
না চাবি লাগবে না,আমি নক করতেসি
কিসের নক,তোমার ওয়াইফ অন্য কেউ তো না,চাবি দিয়ে খুলে ভিতরে যাও
অলি অলি?এদিকে আয় তো মামণি
শান্ত তাও দুবার নক করলো দরজায়,আহানা শুনতে পেলো না কারণ সে বেডরুমের শেষ কোণায় আর শান্তর টোকাটা ছিল আস্তে,দাদার ভয়ে জোরে দিতে পারলো না,শেষে বাধ্য হয়ে চাবি নিয়ে দরজা খুলে ওদিকে তাকাতে তাকাতে ভিতরে চলে আসলো সে
কিসের একটা শব্দ পেয়ে আহানা রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে পা রাখতেই শান্তকে দেখে ওর চোখ কপালে
সাথে সাথে এক চিৎকার দিলো সে
শান্ত চোখ বন্ধ করে আরেকদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে পড়লো
সরি সরি,আগে থেকে মাফ চাইতেসি
আপনি একটা স্টুপিড! একটা মেয়ের বাসায় কেউ নক না করে ঢুকে?আপনার কাছে এক্সট্রা চাবি আছে বলে যা খুশি তাই করবেন?
বেয়াদব,অসভ্য কোথাকার!
আহানা জামা ঠিক করে পরে তারপর ওড়না পরে নিয়ে শান্তর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,চোখ রাঙিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আবার দরজায় নক হলো
আহানা গিয়ে দরজা খুলে দেখলো দাদা,অলি আর তার ১৪গুষ্টি সবাই দাঁড়িয়ে আছে দরজার ওপারে
আহানা ওড়না মাথায় দিয়ে দাঁত কেলিয়ে বললো আপনারা?আসেন ভিতরে আসেন
আরে কথা সেটা না কথা হলো গিয়ে তুমি এত জোরে চিৎকার করলে কেন,আমরা ভাবলাম চোর ডাকাত পড়লো কিনা
আহানা শান্তর দিকে তাকিয়ে হাসার ভান করে বললে না আসলে ও নক না করে ঢুকেছে তো তাই আচমকা ভয় পেয়ে গেসিলাম
ওহ আচ্ছা,তাই বলে এত জোরে চিল্লাইলা আমাদের তো কলিজা বের হয়ে আসতেছিল আর একটুর জন্য
অলি ডিম ২টা আহানার হাতে ধরিয়ে চলে গেলো সাথে সবাই চলে গেলো
আহানা দরজা লাগিয়ে শান্তর কাছে গিয়ে রাগে গজগজ করতে করতে রান্নাঘরের দিকে গেলো
সরি আহানা!দাদা আমাকে জোর করে বাসায় ঢুকাইছে,নক করতেও দেয় নি,তাও আমি দুবার নক করেছিলাম,তুমি হয়ত শুনতে পাওনি
এখন থেকে মনে হচ্ছে ছিটকিনিও লাগাতে হবে,এই আপনার চাবিটা আমাকে দিয়ে দিন বলতেসি,অসভ্য একটা!
😒সরি তো,আর এমন হবে না,পরে দাদা যদি বলে তোমার চাবি কই তাহলে কি বলবো?
যান এখন!
আহানা?
কিইইইইই?
আহানা চুলায় পাতিল বসিয়ে পিছন ফিরতেই শান্তকে এত কাছে দেখে পিছিয়ে তাকের সাথে লেগে গেলো
ব্রু কুঁচকে রাগী চোখে কিছুক্ষন চেয়ে থেকে বললো কি ব্যাপার?এখানে আমার এত কাছে কি?কাগজটা দেখাবো নাকি?
দেখাতে হবে না😒শুধু বলতে এসেছি যে আমি তোমায় কিস করবো না কোনোদিন
করিয়েন না,যান এখন
আহানা শান্তকে ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দরজা লাগিয়ে দিলো
শান্ত হেসে দিয়ে পিছন ফিরতেই দেখলো দাদা দাঁড়িয়ে আছে কোমড়ে হাত দিয়ে
ভয়ে ঢোক গিলে আবারও দরজায় নক করলো সে
আহানা এবার প্রচণ্ড রেগে গেছে দরজা খুলে কটমট করতে করতে শান্তকে এক কিল বসিয়ে দিলো
শান্ত ভিতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে নিচে বসে পড়লো
কি হইসে আপনার?মদ গাঁজা খেয়েছেন?আজ আমার বাসা থেকে নড়তেসেন না কেন আপনি?
শুনো আমার এত শখ নাই তোমার এখানে থাকার,দাদা বাইরে পাহারা দিচ্ছে বলেই যেতে পারতেসি না আমি
আহানা দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে দেখলো দাদা চেয়ার নিয়ে বসে আছে,কোলের মধ্যে রেডিও
ওয়াজ মাহফিল শুনতেসেন
আহানা আবার দরজা লাগিয়ে মুখ গোমড়া করে শান্তর পাশে বসে গেলো
কি?
কি?
কিছু খাওয়াবা না?খুব খিধা লাগসে আমার
ভাত বসাইসি আর ডিম আছে,আর কিছু নাই
ডিম দিয়ে খালি ভাত কেমনে খায়,আমি পারবো না হুহ!
আহানা একটা ব্যাগ খুঁজে এনে শান্তর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো আলু আনতে
আমি?এত রাতে আলু আনতে যাবো?
বেশি কথা বললে শুধু নুন দিয়ে ভাত খেতে দিব
ফাইন!যাচ্ছি!
শান্ত জ্যাকেট খুলে আহানার গায়ে ছুঁড়ে মেরে বের হলো
কই যাও শান্ত?
দাদা আলু আনতে যাই
ওহ ভালো ভালো যাও
শান্ত এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বাজারের দিকে গেলো
শুন রিয়াজ আমি তোকে বলতেসি শান্তর কি যেন হইসে,সে ইদানিং বাসায় কম থাকে
আমি কি করবো,আচ্ছা একটা কাজ করলে হয় না?ওরে ফলো করলে হয় তো
আগে বাসায় আসুক,কাল ওরে ফলো করবো,কিছু তো একটা লুকাচ্ছে নিশ্চয়!
নওশাদ কথা কম বল!!তাড়াতাড়ি তরকারি কিন,বুয়া রেঁধে চলে যাবে তাড়াতাড়ি কর,তোর দ্বারা জীবনে ঠিকমত বাজার হয় না
মামা ২কেজি আলু দিন তো
নওশাদ আর রিয়াজ চোখ বড় করে পাশে তাকালো,শান্তর গলা শুনে
শান্ত এই অসময়ে আলু কিনতে এসেছে?ও মাই গড!!
শান্ত ওদের দেখেনি,আলু কিনে হাঁটা ধরলো
আজ এটাই মোক্ষম সুযোগ,চল ওরে ফলো করি
শান্ত হেঁটে চলেছে তার পিছু পিছু নওশাদ আর রিয়াজ আসতেসে
শান্ত টের পেয়েছে যে তার পিছু পিছু কেউ আসতেসে,সে এমন রোড দিয়ে যাচ্ছে যেখানে প্রতি ১০মিনিটে একটা লোকের দেখা পাওয়া যায়
আর তাই ব্যাপারটা বুঝার জন্য শান্ত থেমে গেলো
ওমা তার পিছনে যারা আসতেসিলো তারাও থেমে গেলো,পায়ের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না আর!
শান্ত ইচ্ছে করে পিছনে তাকালো না
ব্যাপারটা সে বুঝে গেছে
আহানা বারান্দায় এসে শান্তর অপেক্ষা করে যাচ্ছে,শান্তকে দেখতে পেয়ে হেসে দিলো কিন্তু একি!শান্ত রোড দিয়ে সোজা হেঁটে ঐদিকে চলে যাচ্ছে কেন!
এই যে শুনুন?এটা আমাদের বাসা,আপনি ঐদিকে কোনদিকে যাচ্ছেন.?আজব তো এই!!দাঁড়ান!!ঐ!
আহানা বোকা বনে গেলো,শান্ত এমন ভাব ধরে গেলো যেন সে আমাকে চিনেই না
আহানা এবার আবারও রোডের দিকে তাকিয়ে দেখলো নওশাদ আর রিয়াজ ও যাচ্ছে শান্তর পিছু পিছু
আহানা জিভে কামড় দিয়ে লুকিয়ে পড়লো সাথে সাথে
রিয়াজ থেমে গিয়ে উপরে তাকালো
নওশাদ?আমার মনে হলো আহানার ভয়েস শুনলাম
হুম এই বাসায় তো আহানা থাকে,তাহলে শান্ত ঐদিকে কোনদিকে গেলো,আমি তো ভাবলাম আহানার কাছে আসবে আলু নিয়ে,কিন্তু ও তো আলু নিয়ে ঐদিকে চলে গেলো,এখন কোনদিকে গেলো সেটাই তো বুঝতেসি না,এত গলি,কোন গলিতে ঢুকেছে কে জানে
খুঁজে না পেয়ে দুজনে আবার বাড়ি ফিরে গেলো
আহানা লুকিয়ে ওদের চলে যাওয়া দেখছে,স্বস্তির একটা নিশ্বাস ফেলে আহানা পাশে তাকিয়ে দেখলো শান্ত একটা মই দিয়ে উপরে আসতেসে
আহানা প্রথমে চোর বলে চিল্লাবে ভাবলো পরে টিশার্ট দেখে বুঝলো এটা শান্ত
শান্ত উপরে উঠে ফ্লোরে বসে ফিসফিস করে বললো আমাকে কারা যেন ফলো করতেসিলো,অনেক কষ্টে বাঁচলাম
নওশাদ আর রিয়াজ ভাইয়া ফলো করতেসিলো আপনাকে
আমি দেখছি
ঐ শয়তানগুলো হাত ধুয়ে আমার পিছে লাগছে,ওরা আজ নয়ত কাল বের করেই ছাড়বে আমার আর তোমার বিয়ে হয়েছে
হুমম
এখন নাও রান্না করো,আমার পেটের ভেতর সাপ বেজির খেলা শুরু হয়ে গেছে
আহানা রান্নাঘরে এসে ডিম দুটো সিদ্ধ করতে দিলো
এরপর আলু কেটে নিলো,ডিম সিদ্ধ হতেই সেটা দিয়ে আলুর তরকারি রেঁধে নিলো,ব্যস হয়ে গেছে
শান্ত ফ্লোরে বসে গেমস খেলতেসে
আহানা এক এক করে খাবার এনে বিছানার উপর রাখতেসে
নিন খাওয়া শুরু করেন
হুমম,আসতেসি
শান্ত বিছানায় গোল হয়ে বসে খাওয়া শুরু করে দিলো,আহানা ওর খাওয়া দেখতেসে
কি হলো তুমি খাও না কেন,?
আমার খিধা নেই
শান্ত খাওয়া বন্ধ করে হাত নিয়ে আহানার কপালে রাখলো,জ্বর কম ও না বেশিও না,তবে যে জ্বর আছে তাতে ঔষুধ খেতেই হবে
আমি একদম ভুলে গেসিলাম ঔষুধের কথা এই নওশাদ রিয়াজের চক্করে পড়ে
শুনুন,আমি ঔষুধ খাব না,আমার ভাল্লাগতেসে না,একটু ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবো
না,আমি তো শুনবো না.তুমি এক কাজ করো তোমার প্লেট এনে দাও আমি তোমাকে খাইয়ে দিব
না প্লিস,আমার খিধা নেই,আপনি যান,বললাম না কাল সকালে ঠিক হয়ে যাবে
শান্ত যেন আহানার কথাটা শুনলোই না,নিজের খাবার শেষ করে হাত ধুয়ে উঠে চলে গেলো
আবার আসবে নাকি আসবে না
আহানা দরজার কাছে এসে বললো আর আসবেন?আমি ছিটকিনি লাগাবো?
শান্ত তখন ৭/৮টা সিঁড়ি নেমে গেছে উপরের দিকে চেয়ে বললো আমার জ্যাকেট কোথায়?
আহানা বেডরুমের দিকে তাকিয়ে দেখলো বিছানার উপর
ওটাতো বিছানার উপর
হুম তাহলে বুঝো আসবো কি আসবো না?
শান্ত নিচে নেমে ঔষধের জন্য যাচ্ছিলো পিছন থেকে আবারও দাদা ডাক দিলেন
কি দাদা?
তুমি না সবে আলুর জন্য গেসিলে?
প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৪৩+৪৪
হুম
তাহলে আবার এসেছো কখন?আমি তো এখানেই ছিলাম তোমাকে তো যেতে দেখলাম না আর এখন আবার কই যাচ্ছো?
আসলে আহানার গায়ে হালকা জ্বর তাই ঔষুধ কিনতে যাচ্ছি
ওহ,বেশি শরীর খারাপ কি?আমি তোমার দাদিকে পাঠাবো?
না তার দরকার নেই,আমি আছি না
ঠিক আছে যাও
শান্ত ঔষুধ হাতে নিয়ে আহানার বাসার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
আমি তো আছিই,তবে!একটু দূরে,যেখান থেকে ওর যত্ন নিতে পারবো না,সারারাত একা একা কি করবে,যদি জ্বর বেড়ে যায় ওর?যদি আমাকে দরকার হয়?বাসায় না ফিরলে নওশাদ সূর্য আর রিয়াজ জোঁকের মত ধরবে,কোনদিকে যাবো
