প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৫৩+৫৪
Afnan Lara
“কি দেখেছেন আপনি??”
“দেখলাম তুমি শাহরিয়ার শান্তর কালো জ্যাকেটটা পরে আরামসে ঘুমাচ্ছো”
“আমার শীত করতেসিলো বলে পরেছি আর কিছু না”
“ভালো এখন ফ্রেশ হয়ে আসেন আমি নাস্তা বানাচ্ছি,আজ শুক্রবার ভার্সিটি অফ বাট অফিস কিন্তু খোলা”
আহানা মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো
শান্ত কড়াইয়ে তেল ঢালতে গিয়ে বেশির ভাগ তেল তার জামায় ঢেলে দিলো ভুলে
“ইসসসস এটা কি করলাম!”
শান্ত তার টিশার্টটা খুলে ফেললো সাথে সাথে
আহানা ব্রাশ করে এসে সোফার রুমে দাঁড়িয়ে রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে তুলে ফেললো শান্তকে উদম দেখে
সে পিছিয়ে যেতেই সোফায় দুম করে পড়লো,ভাবলো শান্ত জামা খুলেছে কি কারণে কে জানে!
শান্ত গায়ের তেল মুছতে মুছতে আহানার দিকে তাকিয়ে দেখলো ও কোমড় হাতিয়ে কাগজ খুঁজতেসে,শান্তর আর বুঝতে বাকি নেই যে আহানা তার উদম গা দেখে কি বুঝেছে
শান্ত এগিয়ে আসতেই আহানা কাগজটা নিয়ে সামনে ধরে বললো “খবরদার আমাকে ছুঁবেন না বলে দিলাম”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
শান্ত মুখ এগিয়ে নিয়ে বললো “গায়ে তেল পড়েছে বলে জামা খুলেছি আর কোনো কারণ নেই,অন্য কারণ তৈরি করতে বাধ্য করিও না আহানা ম্যাম
আর হ্যাঁ তোমার প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই,ওকে??
আহানা ব্রু কুঁচকে চেয়ে থেকে বললো “তাহলে কাল কি হয়েছিলো”?
শান্ত থেমে গিয়ে পিছনে ফিরে তাকিয়ে বললো “আমার ইন্টারেস্ট না থাকা মানে থাকা,মগজ খাটালেই বুঝতা,আর তোমার তো মগজ গলে নেহারি হয়ে গেছে!”
আহানা রেগে সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো কি বললেন?আমার মগজ গলে গেছে??তাহলে আপনার তো মগজই নেই,খালি মাথার ঠুল,ভিতরে ফাঁকা
“খালি কলসি বাজে বেশি,ইউ হ্যাভ টু বুঝতে হবে!”
আহানা ভাবনায় পড়ে গেলো,শান্তর সাথে মাঝেমাঝে কথায় পারা যায় না
আহানা সোফার কুশন গুলো ঠিক করে করে রাখতেসে
শান্ত হাতে প্লেট নিয়ে আসতে আসতে বললো পরশু কিন্তু রুপা নওশাদের কাবিন
হ্যাঁ জানি,রুপা বললো হালকা করে গায়ে হলুদ বিয়ে সব হবে
সামান্য প্রেগন্যান্ট শুনে রুপার বাবা এত তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে গেলো,এখন এমন ভাবে সব মেনেও নিলো যেন কিছুই হয়নি
হুমম,একদিক দিয়ে ভালো হয়েছে,ওরা দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসে,তাদের ভালোবাসাটা অবশেষে পূর্নতা পাবে
হ্যাঁ!নাও খেতে বসো
আপনি বসুন,আমি চা বসিয়ে দিয়ে আসতেসি
শান্ত রিমোট নিয়ে টিভি অন করে একটা হিন্দি চ্যানেল বের করলো,Kabir Singh ফিল্মটা চলতেসে
“ওয়াও জোস!!”
আপনি এটা আগেও দেখছেন?
হুম অনেকবার!
এই জন্যই মদ সিগারেটের নেশা ধরসে আপনাকে,ভালো মুভি দেখবেন,ভালো অভ্যাস তৈরি হবে
যেমন😒
Taqdeer একটা মুভি ছিল,জাস্ট ওসাম,যতবার দেখাবে টিভিতে ততবার দেখতে পারবো আমি,মীম আপুর ফোনে দেখসিলাম ২বার
ছোটবেলায় প্রেম ছিল পরে হারায় গেসিলো সেই ফিল্মটা?একদম আমাদের মত তাই না?
তারা আমাদের মত লুকায় বিয়ে করেনি,ছোটবেলায় তাদের প্রেম ছিল বন্ধুত্ব ছিল যা আমাদের ছিল না,আর আমি আপনাকে খুঁজিনি আপনিও আমাকে খুঁজেননি,তাদের মা বাবা ১৪গুষ্টি সব আছে,কিন্তু আমাদের নাই,নায়িকার নিজস্ব কার আছে,আমার নিজস্ব রিকসাও নাই
কথাটাগুলো বলে আহানা তার চুল কানের পিছনে রেখে রুটি একটুকরায় ভাজি নিয়ে মুখে দিলো
শান্ত টিভিতে চেয়ে দেখলো নায়ক নায়িকার গালে চুমু দিয়ে বললো”কিসি নে নেহি দেখা”
এটা দেখে দাঁত কেলিয়ে শান্ত মুখ কাছে এনে আহানার গালে চুমু দিয়ে দিলো
আহানা চোখ বড় করে ওর দিকে তাকালো,একদমই প্রস্তত ছিল না সে এটার জন্য
শান্ত তার প্লেট থেকে রুটি ছিঁড়তে ছিঁড়তে বললো “বারান্দামে এক কাউয়া থা!! উসকো ছোড়কে কিসি নে নেহি দেখা!”
আহানা লজ্জায় উঠে রান্নাঘরে চলে আসলো,গালে হাত দিয়ে পিছন ফিরে শান্তর দিকে তাকিয়ে রইলো সে
শান্ত চুপচাপ খাচ্ছে আর টিভি দেখতেসে,যেন কিছুই হয়নি
চা হাতে নিয়ে আহানা আবার ওর পাশে বসলো কখন কি করে বসে এই ছেলেটা বোঝা দায়
নাস্তা খাওয়া শেষে শান্ত চলে গেলো তার বাসার দিকে
আহানা লজ্জায় লাল হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে
জীবনে প্রথম কারোর ছোঁয়াতে এতটা ভালোলাগা কাজ করে বলে বুঝানো যাবে না
আহানা আলমারি খুলে লাগেজের সব শাড়ী জামা এক এক করে সেখানে রাখতেসে
এতদিন সময় পায়নি বলে রাখতে পারেনি
এখন সব রাখা শেষ করে হা করে চেয়ে রইলো,তারেক রহমানের বাসায় থাকতে তার আলমারিতে শুধু ২টো জামা থাকতো আর আজ এত এত জামা শাড়ীতে ভর্তি যে অবাক না হয়ে উপায় নেই
সেখান থেকে একটা হলুদ রঙের জামা নিয়ে পরে নিলো আহানা,ব্যস এবার অফিস যাবো
বাসা থেকে বের হয়ে রোডটা ভালো করে দেখলো সে,কিন্তু শান্তকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না,আজ আসলো না নাকি??ওকে তাহলে হেঁটে যেতে হবে,আহানা একটু হাঁটা ধরতেই শান্তকে দেখতে পেলো,সে বাইক নিয়ে আসতেসে
বাইক আহানার সামনে দাঁড় করিয়ে বললো সরি আসতে লেট হয়ে গেলো,আমি যখন গায়ে সাবান দিতেছিলাম তখনই পানি পড়া অফ হয়ে গেসিলো,পরে তোয়ালে পরে ছাদে গিয়ে মেইন সুইচ দেখতে গিয়ে দেখলাম ছোট বাচ্চাপোলাপান খেলার ছলে অফ করে দিয়েছিল,সেটা অন করে গোসল করে বেরিয়ে পড়লাম জামা পরে
ওকে ওকে,এত কৈফিয়ত চাইনি আমি,আপনি না আসলে আমি হেঁটে যেতাম
আচ্ছা বাইকে উঠো এখন
আহানা শান্তর কাঁধে হাত রেখে বসে কি যেন ভাবলো তারপর হাতটা নিচ নামিয়ে শান্তর পেটটা ধরলো
শান্ত চমকে ওর দিকে ফিরে তাকালো,তারপর হেসে দিয়ে বাইক স্টার্ট করলো সে
আহানা মুখ টিপে হাসতেসে,অফিসে আসতেই দুজনে আবার ঝগড়া শুরু করে দিলো
ঝগড়ার টপিক হলো আহানা শান্তর পায়ে পা দিয়ে চাপ দিয়ে দিসে এবং উল্টা শান্তর দোষ দিসে
একজন আরেকজনের চুল টানতে টানতে লিফটে করে অফিসে ঢুকেছে
কেবিনে বসতেই আহানা দেখলো নিহাল আর ববি হাসাহাসি করতেসে
শান্ত সেন্টার ফ্রেশ খেতে খেতে বললো “মেড ফর ইচ আদার”😂
আহানাও হেসে দিলো,শান্ত একটা ফাইল চেক করতে করতে আহানার ওড়না হাতে নিয়ে গিট্টু দিতেসে
আহানা তার কাজ নিয়ে ব্যস্ত
ব্রেক টাইমে আসতেই আহানা নিজের গায়ে চেয়ে দেখলো ওড়না আর একটু আছে ওর গায়ে বাকিটা পুরো শান্ত মুড়িয়ে মুড়িয়ে নিয়ে গেছে
আহানা ওকে এক ধাক্কা দিয়ে ওড়না নিয়ে নিলো ওর থেকে
ব্রেক টাইমে দুজনেই জানালার ধারে এসে দাঁড়িয়ে আছে,শান্ত মুখে সিগারেট ঢুকিয়ে গেমস খেলতেসে আহানা গেমটা দেখতেসে তাকিয়ে তারপর হঠাৎ করেই হাত বাড়িয়ে শান্তর সামনে ধরলো
শান্ত চমকে ফোন থেকে মুখে তুলে বললো কি?
দেখুন না!!
আহানা হাতের মুঠো খুললো,তার হাতে একটা ব্ল্যাক ব্রেসলেট
শান্ত ইয়া বড় হা করে “জোস” বললো তারপর সাথে সাথে সেটা হাতে পরে নিলো
“তুমি জানতে এটা আমার পছন্দ?”
আহানা চমকে বললো নাহ তো,এটা আমার মনে হলো আপনার পছন্দ হবে তাই নিয়েছি
একদম ভালো আন্দাজ করেছো এটা আমার অনেক পছন্দ হয়েছে,অনেক অনেক!!
থ্যাংক ইউ সো মাচ!
আহানা মুচকি হেসে জানালার দিকে চেয়ে রইলো
আমার গেমস খেলা শেষ চলো কিছু খেয়ে আসি
না খিধে নেই
আমার তো আছে😒
শান্ত আর আহানার কথায় কান না দিয়ে ওর হাত ধরে চলে গেলো ক্যানটিনের দিকে,আহানা খাবে না মানে খাবেই না,তাও ওকে একটা আইসক্রিম কিনে দিয়ে বসিয়ে রেখেছে শান্ত
আর সে একটা স্যান্ডুইচ খেয়েছে,দুজন মিলে ঠিক করলো আজ যাওয়ার সময় টংয়ের চা খাওয়া হবে,হবে কিছু খুনসুটি
সত্যি সেটাই হলো,শান্ত আহানাকে নিয়ে আজ আবারও সেই লেকটায় আসলো
তখন সন্ধ্যা ৭টা বাজে,পানিতে পা ডুবিয়ে দুজনে বসে আছে
শান্ত চা খেতে খেতে বললো বাবা ওর মাকে অনেক ভালোবাসে,রেণু আন্টি ছিলেন মায়ের ক্লাসমেট, উনি মা মারা যাওয়ার পরই একটা ভুলবুঝাবুঝি ক্রিয়েট করে ফেললেন যাতে বাবা উনাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাবে আর সেটাই হলো,বাবা সম্পূর্ন ভেঙ্গে পড়েছিল সে সময়টাতে,সেই মূহুর্তে মাকে রেখে অন্য একজন মহিলাকে নিজের স্ত্রী করে নেওয়াটা তার জন্য কঠিন ছিল
আমি সেই বাসায় ভালো ছিলাম ততদিন যতদিনে তার আগের সংসারের ছেলে সায়ন এসে আমাদের সাথে থাকা শুরু করে নিই
সায়ন একটা বিগড়ে যাওয়া পুরুষের বিগড়ে যাওয়া সন্তান,ওর সাথে জাস্ট সিধা কথাও বলা যায় না,মা মারা যাওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই আমাকে মোহনগঞ্জ ছাড়তে হয়েছিল সায়নের আর সায়নের মা রেনুর অত্যাচারে
কি করতো তারা?
একবার ২দিন ধরে খাবার দেয়নি আমাকে কারণ হলো সায়ন আমার মায়ের একটা ছবি ভেঙ্গে ফেলেছিল বলে ওকে আমি থাপ্পড় মেরেছিলাম এই দোষে আমাকে গোয়াল ঘরে আটকে রেখেছিল,কিছু খেতে দেয়নি
আপনার বাবা আটকান নি?
হাহা,বাবা ঢাকায় এসেছিলো অফিসের কাজে,উনি এসব ব্যাপারে নজর দিতেন না,জানতেও চাইতেন না
তারপর বাসা থেকে একবার বেরই করে দিয়েছিল আমাকে
কেন?
মিতু হওয়ার পর তাকে রোদে দিতে হতো সকালের রোদে
রেনু আন্টি গোসল করতে গেসিলেন,আমি আর সায়ন ওর পাশে ছিলাম
সায়ন মরিচের গুড়ো দিয়ে কাঁচা আম খাচ্ছিলো,রোদের তাপে মিতু কাঁদতেসিলো,সায়ন তার কাঁদা দেখে বিরক্ত হয়ে এগিয়ে এসে মরিচের গুড়ো সহ এক টুকরো আম মিতুর মুখে পুরে দিয়েছিল বলে ওকে আমি ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিলাম তারপর ও এসে আমাকে ধাক্কা দিলো
রেনু আন্টি এসে গেসিলেন ততক্ষনে,সায়ন বললো মিতুর মুখে মরিচ সহ আম আমি দিয়েছি
রেনু আন্টি সায়নের কথা বিশ্বাস করলো,আমার নয়
আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন সেদিন,বাবা বাসায় থাকতো না বেশি তাই এসব কিছুই বাবার কানে পৌঁছাতো না
অতিষ্ঠ হয়ে আমি বাবাকে বললাম আমাকে আলাদা জায়গা দিতে আমার পক্ষে ঐ বাড়িতে থাকা সম্ভব না
বাবা সাথে সাথে ঢাকায় একটা ফ্ল্যাট কিনে নেয় আমার জন্য কারণ সেদিন আমি খুব সিরিয়াসলি বলেছিলাম বাবা যদি রাজি না হতো আমি একাই বেরিয়ে পড়তাম বাসা থেকে
সেদিন রাতেই আমি সেই ফ্ল্যাটে এসে উঠেছিলাম
আস্তে আস্তে ফ্ল্যাট সাজিয়ে নিলাম
তারপর ভার্সিটিতে পরিচয় হলো নওশাদ,রিয়াজ আর সূর্যের সাথে,ওরা ম্যাচে থাকতো,আমি ওদের আমার এখানে নিয়ে আসি,একা একা কার ভালো লাগে,ওরা থাকলে কখন দিন হয় আর কখন রাত বোঝাই যায় না
এতকিছুর পরও আমি মাকে অনেক মিস করি আহানা!!
খানিকটা একা হলেই মায়ের কথা মনে পড়ে আমার,আমি কি দোষ করেছিলাম যে আমাকে মা হারা হতে হলো
কতটা সুখের ফ্যামিলি ছিল আমাদের
আমার মাঝে মাঝে মন চায় আল্লাহর কাছ থেকে গিয়ে মাকে চেয়ে আনি,মাকে ছাড়া আমি এই পৃথিবীতে বড্ড অসহায়
আহানা চুপ করে থেকে বললো আর বাবা মা ছাড়া আমি কি তাহলে?
শান্ত চা শেষ করে ওয়ান টাইম গ্লাসটা ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে ফেলতে বললো তোমার তো তাও কেয়ারিং,কিউট,ড্যাসিং,হ্যান্ডসাম,জোস হাসবেন্ড আছে,আমার কি আছে?
আপনার তো বাবা আছে আর আমার মত এত ভালো একটা স্ত্রী আছে যে আপনার অনেক কেয়ার করে,আর কি লাগে?
শান্ত মাথার চুল ঠিক করতে করতে বললো আর একটা বেবি ফুটবল টিম লাগে এই আর কি!!
আহানা হেসে দিয়ে শান্তকে এক ধাক্কা মেরে দিলো
শান্ত আহানার হাত দুটো ধরে লেকের শেষপ্রান্তের দিকে চেয়ে বললো আহানা আমি আমাদের সম্পর্কটাকে নিয়ে অনেক satisfied, কারণ আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল এটা আর তা perfectly পূর্ন হয়েছে
আমার মা খুশি তো আমি খুশি,আর আমি খুশি তো আমার একমাত্র বউও খুশি
একমাত্র মানে?আরও চান নাকি?
হুমম,এলিনা আর ববি হলেও সমস্যা নাই!
আহানা রেগে শান্তকে দৌড়ানি দিলো,খালি রাস্তায় দুজনে দৌড়াচ্ছে
শান্ত হাঁপিয়ে গেলো সাথে আহানাও
আহানা ঠাসঠুস করে শান্তকে কয়েকটা কিল বসিয়ে দিলো
তারপর মুখ ছোট করে বললো যান করেন বিয়ে আমার কি!
শান্ত হেসে দিয়ে ওকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে
তারপর বললো “তোমার অনেক কিছু আহানা”!!
দুজনে আরও কিছুক্ষন হেঁটে বাসায় ফিরে আসলো
আহানা ভাত বসাতেই দরজায় কে যেন টোকা দিলো
হাত মুছে গিয়ে সে দরজা খুললো,শান্ত দাঁড়িয়ে আছে এক গাল হাসি দিয়ে
তার হাতে ইয়া বড় একটা ইলিশ মাছ,চিকচিক করতেসে
আহানা চোখ বড় করে বললো “হঠাৎ?”
আরে এত তাজা পেয়ে যাব ভাবতেও পারিনি,২টো কিনছি,একটা নওশাদের হাতে দিয়ে এসেছি বলছি বুয়াকে দিয়ে রাঁধিয়ে নিতে
আর এটা তুমি রাঁধবা,তাড়াতাড়ি করো খুব খিধে পেয়েছে
আহানা মাছটা কেটে নিয়ে ভাবলো ২পদ বানাবে,লেবু ইলিশ আর ইলিশ মাছ দিয়ে তরকারি
শান্ত টিভি দেখতেসে বসে বসে
আহানা রান্নাবান্না শেষ করে ডাইনিংয়ে খাবার এনে শান্তকে ডাক দিলো
শান্ত খেতে বসে চোখ বন্ধ করে একটা বড় শ্বাস নিলো তারপর আহানার দিকে চেয়ে বললো”এটা আমার প্রথম ইনকামের টাকায় কেনা মাছ ছিলো আহানা!”
আহানা মুচকি হেসে দিয়ে বললো আলহামদুলিল্লাহ
মা থাকতে বলেছিলাম তার ছেলে প্রথম চাকরি করে তাকেই গিফট দিবে সবার আগে,আমি আমার বেতন হাতে পেয়ে সবার আগে মায়ের জন্য গোলাপি শাড়ী আর চুড়ি কিনেছি,বাবার জন্য পাঞ্জাবি ও কিনেছি,ছুটি পেলেই মোহনগঞ্জ যাবো মাকে গিফট দিতে
“ওহ!কতদিনের জন্য যাবেন??”
“৭দিন”
আহানা মুখটা ফ্যাকাসে করে চেয়ার টেনে বসলো,চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে সে
শান্ত মুখে খাবার দিয়ে আহানার দিকে চেয়ে বললো আমার সাথে আমার একমাত্র ওয়াইফও যাবে
আহানা মুচকি হেসে দিলো কথাটা শুনে
শান্ত খাওয়া শেষ করে উঠে গিয়ে ফোন নিয়ে সোফায় বসলো
আহানা কোমড়ে হাত দিয়ে কাছে এসে বললো “তোহ সবাইকে কি পরিচয় দিবেন যে আমি কে?
তবে এক কাজ করা যায় আমি আশ্রমে থাকলেই হলো!!
নাহ তুমি আমার সাথে আমর বাসায় আমার রুমে থাকবা
কিন্তু সবাইকে কি বলবেন?
সেটা তুমি আমার উপর ছেড়ে দাও তোমাকে এত ভাবতে হবে না যাও এখন বিছানা করে শুয়ে পড়ো
আর আপনি?
আমি এইতো যাচ্ছি,পৃথিবীতে তুমি এক স্ত্রী যে কিনা তার স্বামী কে বাসা থেকে প্রতি রাতে বের করে দেয়
হুহ!!
শান্ত গেমস খেলা শেষ করে চলে যাওয়ার সময় বললো সকালে রেডি হয়ে থেকো ভার্সিটিতে যেতে হবে কাল তো ভার্সিটি খোলা
হুম,ঠিক আছে
আহানা আলমারি থেকে রুপার হলুদে পরার জন্য একটা শাড়ী চুজ করে নিলো,হলুদ শাড়ীর উপর কালো গোল গোল ছোট বলের ফ্রিন্ট করা,অনেক সুন্দর একটা শাড়ী সেগুলোর সাথে মিলিয়ে কালো আর হলুদ চুড়ি নিয়ে একসাথ করে আলমারিতে রেখে দিলো সে
তারপর ঘুমিয়ে পড়লো
পরেরদিন সকাল সকাল উঠে মিষ্টিকে পড়াতে গেলো সে
মিষ্টিকে পড়িয়ে বাসা থেকে বের হতেই দেখলো শান্ত স্যান্ডেল হাতে নিয়ে হনহনিয়ে ছাদের থেকে যাচ্ছে
পরনে তোয়ালে আর সারা গা ভর্তি সাবানের ফেনা
আহানা ফিক করে হেসে দিলো শান্তর এমন হাল দেখে😂
হাসির আওয়াজে শান্ত থেমে গিয়ে পিছনে তাকালো তারপর মুখ বাঁকিয়ে আবার হেঁটে চললো
কৌতুহল বসত আহানাও ওর পিছু পিছু গেলো
ছাদের মেইন পাইপের সুইচের এখানে ১৭/১৮বছরের কয়েকটা ছেলে শয়তানি করে আড্ডা দিচ্ছে,তাও কিরকম টাইপের আড্ডা তা না বলাই ভালো
শান্ত গিয়ে ধুমধাম পিটানো শুরু করে দিলো ওদেরকে
এরকম শব্দ পেয়ে আহানা তার হাঁটার গতি আরও বাড়িয়ে দেখতে আসলো
ততক্ষণে পিটিয়ে সবাইকে সোজা করে দিয়েছে শান্ত
কপাল থেকে ফেনা মুছে পাইপের সুইচ অন করে আবারও বাসার থেকে ফিরে গেলো সে
আহানা রোবট হয়ে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে শান্তর পিছু পিছু গেলো
শান্ত কিছুদূর গিয়ে থেমে ওর দিকে তাকিয়ে বললো কি ব্যাপার? বাসায় যাচ্ছো না কেন?
না আসলে দেখতে আসলাম স্যান্ডেল নিয়ে কোথায় যান
দেখা গেয়ে গেছে?
এরকম করেন কেন,আজব,আমি কি করসি?আমার উপর দিয়ে রাগ ঝাড়েন কেন?
তুমি কি করো নাই সেটা বলো,রোজ রোজ রাত করে বাসা থেকে বের করে দাও আমাকে
তো কি রেখে দিব?
হ্যাঁ অবশ্যই,আমি তোমার লিগালি হাসবেন্ড
রেজিস্টার করে বিয়ে হয় নাই
সেটাও হয়ে য়াবে
করবো না আপনাকে বিয়ে
তুমি করবে না তোমার!!
আমার কি?
কিছু না,যাও এখন
যাব না আমি,আজ আমি এখানে থাকবো
কথাটা বলে আহানা শান্তর বাসায় ঢুকে সোজা ওর রুমে চলে গেলো
তারপর বিছানায় উঠে গোল হয়ে বসে পড়লো
শান্ত ব্রু কুঁচকে তার রুমে এসে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে ফেললো
ভয়ে আহানা একটু নড়েসরে বসলো
শান্ত এগিয়ে আসলো ওর দিকে,মুখে তার বিরক্তির ছাপ!!
রোমান্স করবে না এটা সিউর তবে মাইরধর করবে এটাও সিউর
শান্ত দাঁতে দাঁত চেপে নিজের বুকের থেকে ফেনা নিয়ে আহানার গালে লাগিয়ে দিয়ে চলে গেলো
আহানা এক চিৎকার দিয়ে ওড়না দিয়ে মুছতে মুছতে অজস্র গালি দিচ্ছে শান্তকে
শান্ত ফ্রেশ হয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখলো আহানা নেই,দরজা তো ভেতর থেকে বন্ধ তার মানে সে রান্নাঘরে!
উঁকি মেরেই দেখলো আহানা গুনগুন করে গান গাইছে আর রান্না করছে
শান্ত সেখান থেকে একটা আপেল নিয়ে চলে গেলো
সোফায় বসে আপেল খেতে খেতে বললো হঠাৎ করে আমার বাসায় আসলা?কারণ কি?কিছু লাগবে নাকি?
নাহ এমনি এলাম,মন চাইলো
হঠাৎ এত উন্নতি,আমার কিছু ঠিক লাগছে না কেন?
আহানা হাতে খুন্তি নিয়ে বেরিয়ে এসে কোমড়ে হাত দিয়ে বললো কিছু বেঠিক হলে দেখতেই পাবেন হুহ!
কথাটা বলে আবার চলে গেলো সে
শান্ত আপেল মুখে রেখে সেদিকে চেয়ে আছে,আজ হলোটা কি,মদ গাঁজা সেবন করেছে নাকি,না সেটা করলে তো পাগলামি করতো তাহলে কি হইসে ওর?
ভাবতে ভাবতে শান্ত পকেটে হাত দিতেই দেখলো তার সিগারেটের প্যাকেট গায়েব,ওমা কই গেলো?
সারা রুম তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পেলো না সে
শেষে ভাবলো হয়ত রিয়াজ নিয়ে গেছে,টাকা নিয়ে বের হতে গেলো দোকান থেকে কেনার জন্য
তখনই তার চোখ পড়লো আহানার ওড়নার দিকে
ওড়নায় সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে গিট্টু দিয়ে রেখেছে আহানা
“আচ্ছা তাহলে এই ব্যাপার!!”
শান্ত কাছে এসে টান মেরে আহানার ওড়নাটা নিয়ে চলে গেলো সোজা তার রুমের দিকে
আহানা চমকে বললো “কি ব্যাপার আমার ওড়না নিলেন কেন আপনি,দিন বলছি!”
আহানা পিছে পিছে যেতেই ওর মুখের উপর শান্ত তার রুমের দরজা লাগিয়ে ফেললো
আজব তো!আমার ওড়না দিন বলছি!
তুমি আমার সিগারেটের প্যাকেট চুরি করসো সো তোমার এই ওড়না আর পাবা না
আচ্ছা দিয়েন না,আমি যাই
কথাটা বলে আহানা লুকিয়ে পড়লো,৫সেকেন্ড বাদেই শান্ত ওর রুমের দরজা খুললো,বেরিয়ে এদিক ওদিক তাকালো,ততক্ষণে পিছন থেকে আহানা এসে ওর ওড়নাটা শান্তর হাত থেকে ছোঁ মেরে নিয়ে দৌড় দিলো
আহানা!!দাঁড়াও বলতেসি,এটা কিন্তু চিটিং!
হুহ!আপনিও চিটিং করসেন
শান্ত আহানার হাত ধরে টান দিলো,ওকে কাছে নিয়ে এসে চুপ করে তাকিয়ে থেকে মুচকি হাসলো সে
তারপর সেই আগের মতন আহানার গায়ের থেকে ওড়নাটা ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেলো সে
যেতে যেতে বললো”তোমার ওড়নার উপর তোমার চেয়ে আমার অধিকার বেশি”
আহানা মুখ বাঁকিয়ে রান্নাঘরে চলে আসলো
নাস্তা নিয়ে এসে টেবিলের উপর ওড়নাটা দেখতে পেয়ে তাড়াতাড়ি সেটা পরে শান্তর রুমের দিকে তাকালো সে
শান্ত যে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে ওর দিকেই চেয়ে আছে সেদিকে তার খেয়াল নেই
কি ব্যাপার আহানা ম্যাডাম,ঐদিকে কাকে খোঁজেন?আপনার বর তো সোফায়
আহানা ভয় পেয়ে সোফায় তাকালো,তারপর ব্রু কুঁচকে বললো বারান্দায় রোদ এসেছে কিনা সেটাই দেখতেসিলাম,নাস্তা রেডি,খেয়ে নিন,আমি যাই
দাঁড়াও!
কি?
কি মানে?আমার সাথে নাস্তা করে তারপর যাবা
খিধা নেই!
শান্ত চুপচাপ খাবার নিয়ে আহানার মুখে তুলে ধরলো
আহানার চোখ দিয়ে অজান্তেই পানি পড়লো সাথে সাথে
শান্ত ওর মুখে খাবার দিয়ে নিজেও এক টুকরা রুটি খেলো তারপর বললো “আমাদেরকে দেখার মত কেউ নেই,আমাদেরই একজন আরেকজনকে দেখতে হবে”
আহানা পানি খেয়ে উঠে চলে গেলো আর থাকলো না,শান্ত এতটা কেয়ার করছে বারবার ভয় হয় তার,ভালো লাগেনা ঠিক
বাসায় এসে দরজা আটকানোর ২মিনিটেই শান্ত আবার এসে হাজির
আহানা চোখ মুখ মুছে গিয়ে দরজা খুললো
শান্ত কোমড়ে হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকে সোজা রান্নাঘরে চলে গেলো
কি হয়েছে?
চা খাওয়ালে না আমাকে 😒
মনে ছিল না সরি,দাঁড়ান বানিয়ে দিচ্ছি
লাগবে না,গিয়ে সোফায় পা তুলে বসো আমি চা বানাচ্ছি
আহানা মাথা নাড়িয়ে সোফার এসে বসলো,শান্তর কথামত পা তুলে বসলো,একটা আলাদা ভালো লাগা কাজ করতেসে,রিমোট নিয়ে টিভি চালালো,খুঁজে খুঁজে সব চ্যানেল দেখতেসে সে
HBO চ্যানেলে যেতেই শান্ত ডাক দিলো,আহানা সেদিকে তাকিয়ে বললো কি হয়েছে?
শান্ত জ্যাকেট খুলে ওর হাতে দিয়ে চলে যেতে নিতেই টিভির দিকে চোখ পড়লো তার
টাইটানিক ফিল্মের কিস সিনটা চলতেসে
শান্ত চোখ বড় করে আহানার দিকে তাকিয়ে দেখলো সে পাগলের মত রিমোট খুঁজে যাচ্ছে
শান্ত মুচকি হেসে কুশনের নিচ থেকে রিমোট নিয়ে আহানার দিকে বাড়িয়ে ধরে বললো কিস দেখার এত শখ?আর আমরা তো প্র্যাকটিকালি!!
স্টুপিড!
শান্ত হাসতে হাসতে চলে গেলো
আহানা জিহ্বায় কামড় দিয়ে চ্যানেল পাল্টালো,ছিঃ ছিঃ কি লজ্জাটাই না পেলাম ধুর ধুর!
শান্ত চা নিয়ে এসে ওর পাশে বসলো
আহানা ভদ্রভাবে বসে সময় চ্যানেল দেখতেসে
শান্ত চায়ে চুমুক দিয়ে বললো “কিছুক্ষন আগে যে মেয়েটা টাইটানিকের কিস সিন দেখতেসিলো সে কিনা এখন খবর দেখতেসে,ওয়াও ওয়াও,নারী তুমি অসাধারন!!”
হুহ আমি দেখিনি এসে পড়ে গেসিলো সেটা,খেয়াল করিনি
জানো আমার আম্মুর বান্ধুবীর একটা ছেলে ছিল,নাম হচ্ছে আয়ুশ,সে যেটাই ধরতো সেটাই ভেঙ্গে ফেলতো
কেউ আওয়াজ পেয়ে দৌড়ে আসলে বলতো আমি ফেলিনি ওটা পড়ে গেসে
মানে যেটা পড়সে সেটার দোষ তার কোনো দোষ নাই😂
তুমি ঠিক তেমন হইসো বুঝছো?
কোথায় কোথাকার কোন বলদা ছেলে আর কোথায় আমি,আন্দাজে!
সত্যি কথা টক হয়,সে বলদা আর তুমি বলদা গার্ডেন ,নাও এখন তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বের হও আমি বাইক নিয়ে আসতেসি
ঠিক আছে
আহানা গিয়ে রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হলো,শান্ত ততক্ষণে বাইক নিয়ে বাসার সামনে এসে গেছে,আহানা বাইকে উঠে বসতেই অলি দৌড়ে আসলো
কি হইসে অলি?
দাদি বললো তোমাদের কানের পিছনে কাজল দিয়ে টিকা লাগাই দিতে,কারণ তোমাদের আজ খুব সুন্দর লাগছে
শান্ত হেসে দিয়ে বললো আচ্ছা লাগাও
আমি তো তোমাদের নাগাল পাচ্ছি না
আচ্ছা অলি আমাকে দাও, আমি আমার কানের পিছনে আর উনার কানের পিছনে লাগিয়ে দিব
আচ্ছা লাগাও
আহানা কাজল নিয়ে তার কানের নিচে লাগিয়ে শান্তর দিকে তাকিয়ে দেখলো শান্ত ফোনে সূর্যর সাথে কথা বলতেসে
আহানা ওর কানের পিছনে কাজল লাগিয়ে দুষ্টুমি করে ওর কপালেও বড় করে কাজলের টিকা লাগিয়ে দিলো ঠিক তেমন করে যেমন করে বাচ্চাদের লাগানো হয়
অলি মুখে হাত দিয়ে হাসতেসে
নাও কাজল নিয়ে দাদিকে বলিও আমরা লাগিয়ে নিছি
আচ্ছা,হিহিহিহি
অলি এমন করে হাসলো কেন?
জানি না তো😜
ভার্সিটির সামনে শান্ত বাইক থামাতেই আহানা নেমে চলে গেলো আর থামলো না,থামলেই বিপদ কারণ কিছুক্ষন পরই ঘটনা ফাঁস হবে যে শান্তকে আহানা বাচ্চাদের মত টিকা লাগিয়ে দিয়েছে
শান্ত বাইক রেখে বটতলার দিকে গেলো
ওকে দেখে ওর বন্ধুরা হেসে যাচ্ছে,থামাথামি নাই,শান্তর ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস ও পাচ্ছে না এদিকে হাসিও থামানো যাচ্ছে না ,শেষে শান্ত একজনের গলা টিপে ধরে বললো এরকম হাসতেসিস কেন?
তমাল শান্তর হাতের ঘড়ি ওর সামনে উঁচু করে ধরে বললো গ্লাসে নিজের ফেস দেখতে
শান্ত নিজেকে গ্লাসে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো,পকেট থেকে টিসু নিয়ে কাজল মুছে হনহনিয়ে আহানার ক্লাসের দিকে গেলো
আহানা জানালা দিয়ে দেখলো শান্ত জ্যাকেট ঠিক করতে করতে এগিয়ে আসতেসে
আহানা এক দৌড়ে ক্লাসরুমের শেষ কোণায় বেঞ্চের নিচে গিয়ে লুকিয়ে পড়লো
শান্ত ক্লাসরুমে ঢুকে এদিক ওদিক তাকিয়ে আহানাকে খুঁজতেসে
এখনও ক্লাস শুরু হতে দেরি আছে,সবাই ড্যাবড্যাব করে শান্তকে দেখে যাচ্ছে
শান্ত জোরে বললো আহানা কোথায়??
একটা মেয়ে দুষ্টুমি করে বলেই দিলো আহানা লাস্ট বেঞ্চের তলায় লুকিয়ে আছে
শান্ত হেসে এগিয়ে আসলো সেদিকে
“উফ এই মেয়েটা কেন বলতে গেলো ধুর!”
শান্ত কাছে এসে আহানার হাত ধরে টেনে ওকে বের করলো
আহানা সরি সরি বলেই যাচ্ছে
তুমি আমাকে বাচ্চাপোলাপানের মত করে কাজল লাগিয়ে দিসো কেন?এই জন্যই তো বলি আসার সময় জ্যামে পড়সিলাম যখন তখন পাশের একটা কারে থাকা বাচ্চা আমাকে দেখে হাসতেসিলো কেন
সরি আর করবো না
করসো কেন, এটার শাস্তি পেতে হবে
আহানা শান্তর হাত ছাড়িয়ে এক দৌড় দিলো
শান্ত ও ওর পিছু নিলো ওকে ধরার জন্যে
এলিনা ভার্সিটিতে ঢুকে দেখলো শান্ত আহানাকে দৌড়ানি দিতেসে,দুজনে হাসতে হাসতে শয়তানি করতেসে ক্যামপাসে
এলিনা রাগে ফুসতে ফুসতে আহানা যেখানে আপাতত লুকিয়ে আছে ক্যানটিনের সামনের পিলারটার পিছনে সেখানে গেলে সে
গিয়ে আহানার হাত জোরে চেপে বললো তোমাকে বলসি না শান্ত থেকে দূরে থাকবা?এখন আবার এরকম ওর সাথে হাসিঠাট্টা করতেসো কেন??
আহানা চুপ করে থেকে বললো আমি তো…
তুমি কি?একটা কথা বুঝার চেষ্টা করো না কেন তুমি?শান্ত তোমাকে ভালোবাসে না বাসে না বাসে না!!মাথায় ঢুকিয়ে নাও,এরকম ছেঁসড়া মেয়েদের মত ওর পিছন পিছন থাকবা না
আর একদিন যদি দেখেছি তো হাত চলবে আমার!
“আহানার আশেপাশে আর একদিন যদি তোমাকে দেখেছি তো হাত চলবে আমার!!!!!”
শান্তর কথাটা শুনে এলিনা পিছন ফিরে তাকালো
শান্ত পকেটে হাত ঢুকিয়ে এগিয়ে আসতেসে,সামনে এসে আহানার পাশে দাঁড়িয়ে ব্রু কুঁচকে রাগী লুক নিয়ে এলিনার দিকে চেয়ে বললো
“এনাফ ইজ এনাফ এলিনা!! আমি তো জানতাম ও না তুমি আমার অগোচরে আহানার সাথে এমন বিহেভ করো”
শান্ত আর কিছু না বলে খপ করে আহানার হাত ধরে ফেললো
আহানা কিছু বুঝতে না পেরে বললো কি হয়েছে?আমি ক্লাসে যাবো
হুম কিন্তু তার আগে আমার কাজটা শেষ হোক
কথাটা বলে শান্ত তার সানগ্লাসটা পরে নিয়ে আহানাকে টেনে ভার্সিটির মাঠের মাঝখানে নিয়ে আসলো
তারপর বটতলার দিকে তাকিয়ে শিষ মারতেই ১০/২০টা ছেলে এসে হাজির হয়ে গেলো,সাথে অনেকেই এসে পড়েছে কৌতুহলবসত,দূর থেকে এলিনা দাঁড়িয়ে থেকে চেয়ে আছে
সবার মুখে এক কথা “যে কি হয়েছে?”
আহানা অবাক চোখে শান্তর দিকে তাকিয়ে আছে
শান্ত শক্ত গলায় বললো “””””সবাই শুনে রাখো যেহেতু আমি জব পেয়েছি তাই আমি ভাবলাম এখন বিয়েটা করে নেওয়া উচিত,আর তাই আমি নরমালি বিয়েটা সেরেও ফেলেছি,নাও আই এম ম্যারিড
আর মিসেস শাহরিয়ার শান্ত হলো আহানা ইয়াসমিন
আমি ওকে বিয়ে করেছি,ওকে গট ইট?
এখন থেকে তোমরা আমাকে যেমন সম্মান করতা আহানাকেও ঠিক তেমন সম্মান করবা
ভার্সিটির কোনো কোণায় যদি আহানাকে কেউ যদি একটা কটু কথাও বলেছো তো খুব খারাপ হয়ে যাবে,মাইন্ড ইট,বুঝেছো সবাই?
প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৫১+৫২
আর হ্যাঁ পারিবারিকভাবে কয়েকদিন পরই আমাদের বিয়েটা হবে মোহনগঞ্জে,সবাইকে দাওয়াতও দেওয়া হবে তখন””””
শান্তর কথা শুনে এক প্রকার শক খেয়ে সবাই উত্তরে কি বলবে না বলবে ভেবে না পেয়ে শুভেচ্ছা দেওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো
