প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৩
রোজ ও রুশা
হেরা আগে নামতেই রোজ তাকে বলতে থাকে কথা গুলো।হেরা নিচে তো রুশা এখনো রিক্সায়, হেরা রোজের সাথে কথা বলায় বেস্ত থাকার কারনে রুশা যে স্কাট পরে নামতে হিমশিম খাচ্ছিল বোঝতেই পারে নি হেরা,, মেয়েটা এসবে অভস্ত্য নয়,জিন্স আর টপ্স কতো কম্ফোর্ট, আর এই দেশে এসে তাকে এসব কালচার এর সাথে মানিয়ে চলতে হচ্ছে।এটা তো হেরার কথাতেই করছে সে। কালচার এর কি দোষ,,এখন বাংলাদেশ ইউরোপের মতো হয়ে যাচ্ছে পোশাকের দিক থেকে, গুলশানে তো মেয়েরা হাফ পেন্ট আর ব্লাউজ পরে হেটে বেড়ায়, যাকে তারা ব্লাউজ না টপ্স বলে। তারাও তো জিন্স পরে তাই বলে অইসব বস্তি টাইপ মেয়েদের মতো তো না।কিন্তু তাও হেরা তাকে স্কাট পরতে বলায় সে, সেটাই পরে,যার দরুন চিত পটাং। রুশাও রোজের কথায়,এতো টা খেয়ালে ছিলো যে পা নিচে রাখতে ধপাস করে রাস্তায় পরে যায়,হটাৎ শব্দ হওয়ায়, রোজ আর হেরা নিচে তাকাতে দুজন এর চোখ ছানা বড়া,বোঝাই যাচ্ছে মেয়েটা বেশ ব্যাথা পেয়েছে।হেরা আর রোজ দুজন ধরে তাকে রাস্তা থেকে তুলে দাড় করায়।হাটু ছিলে রক্ত পরছে,হেরা কান্না করে দিয়েছে রুশার এমন অবস্তা দেখে।মেয়েটা যে তার কলিজা। হেরা আর রোজ মিলে রুশাকে ধরে উঠায় রাস্তা থেকে। তারপর সেই রিক্সা দিয়ে, কাছে একটা ডাক্তার এর দোকানে যায়।
কলেজে ঢুকতে নিলয় সামনে দাঁড়ায়।
-হায় হেরা ফুল কেমন আছো?
হেরা ও রোজ রুশাকে ডাক্তার দেখিয়ে,, ক্যাম্পাসে ঢুকতেই নিলয় এর কন্ঠে সামনে তাকায়,ছেলেটা মিষ্টি হাসি দিয়ে তার দিকে চেয়ে আছে।বিনিময়ে হেরাও মিষ্টি হাসে,,,
তা বললে না তো কেমন আছো?
এই তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আপনি,,?
এতোক্ষন ভালো ছিলাম না এখন তোমাকে দেখে আই মিন তোমাদের দেখে ভালো আছি?
মানে বোঝলাম না,,
হেরা উত্তরে বললো।
“না মানে কিছু না।
“নিলয় আমতা আমতা করে বলে।
“পাশ থেকে রুশা বলে উঠে।
“ভালো নেই কারন আমি বলছি, চুইংগাম হিরো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
নিলয় রুশার কথায় চোখ ছোট ছোট করে তাকায় পাশে তাকিয়ে দেখে কাকে বলেছে কথাটা,কিন্তু না তার পাশে তো কেউ নেই,,রুশা বোঝতে পারে মুখ ফসকে কি বলে ফেলেছে,হেরার দিকে তাকাতে দেখে চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে হেরা। নক কাটতে কাটতে বলে নিলয় এর উদ্দেশ্য।
না,মানে,ইয়ে মানে,হয়েছে টা কি জানেন ভাইয়া,হেরা পাখির না মটু পাতলুর চুইংগাম স্যারকে খুব পছন্দ,,আই মিন বোঝতে পারছেন তার ক্রাস, অই যে বডি ভি সেপ যা আপনার ও আছে তাই তো হেরা পাখির পছন্দের নামেই ডাকলাম আপনাকে,,
দুষ্ট হাসি দিয়ে কথা টা বলতেই, পাশ থেকে রোজ মুখ টিপে হাসে,যদিও নিলয় তেমন কিছু বোঝতে পারে নি,তাও রোজ এর হাসা টা তার মোটেও ভালো লাগছে না তার । কিন্তু প্রেমে পরলে নাকি এমনি হয়,বাবু,সোনা,কইতরি,কুমড়ো পটাস ডাকে। তাও যদি ক্যাম্পাসের ছেলে মেয়েরা শুনে তাহলে কেমন একটা হবে না, আরে নাম টাই তো একটু হাস্যকর টাইপ,মনে মনে ভাবলো নিলয়,
“মেয়েটা,পছন্দের নাম আর পেলো না,শেষে চুইংগাম!
পরোক্ষনে ভাবে, ডাকলে তাকে ডাকবে, নিলয় এর তো কোনো সমস্যা নেই,, তাহলে তো কারো সমস্যা হবার কথা না।নিজের মনে এই নাম টাকেই সুন্দর বললে আক্ষায়িত করলো ছেলেটা।রুশা বলে উঠে।
তা চুইংগাম হিরো, চলুন কেম্পাসে,আড্ডা দি আমরা,
নিলয় তাদের সামনে এমন ভাবেই থাকে যাতে তাকে ভদ্র ছেলে বলে জানে,তাদের বন্ধুত্ব হয়ে যায় খুব ভালো,এর মধ্যে নিলয় তাদের কেম্পাসের সব নিয়ম কানুন বলে,ঘুরে ঘুরে সব দেখায়,হেরার সম্পর্কে সব জানতে পারে শুধু তারা বাহির থেকে এসেছে এটা কাটিয়ে অন্য জেলার নাম বলে।রোজ কেও তাদের আসল ঠিকানা বলে নি হেরা ও রুশা।
তাদের নিয়ে কানা- ঘোষা করে কেম্পাসের সবাই, কিন্তু নিলয় এর ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না,নাভান,অধীর দেশে নেই তারা বাহিরে গেছে কোনো এক কারনে।আজ এক মাস হতে চলেছে।
এই এক মাসে নিলয় এর সাথে হেরা,রোজ,রুশার ভালো একটা বন্ধুত্ব হয়ে গেছে,ইচ্ছে মতো টাকা উড়াতে চায় তাদের পিছনে নিলয়,কিন্তু হেরার জন্য পারে না,তাও মাঝে মাঝে রোজ ও রুশা ভালোই বাশ দেয়।মাঝে মাঝে তো তারা ঘুরতে বের হয়,আড্ডা দেয় তিনজন,নিলয় হেরাকে কিছু বোঝাতে চায় কিন্তু হেরার তেমন সারা পায় না বলে চুপ থাকে ছেলেটা,যা করতে হবে তাকে সাবধানে করতে হবে।
“”” এক মাসে অনেক কিছু চেঞ্জ হয়ে যায়,অধীর,নাভান,আর সৃজন বাহিরে গেছে, হেরা,রুশা রোজ যেদিন ক্যাম্পাসে এসেছিলো,ডাক্তার এর কাছে না গেলে হয়তো দেখা হয়ে যেতো তাদের,কিন্তু নিয়তি হয়তো অন্য কিছু চায়,,
বাদ্যযন্ত্র রুম এর কাছে আসতে পথ আটকে দাঁড়ায় নেন্সি,
নিলয় এর থেকে দূরে থাকো মেয়ে।
মানে?
কিছু না বোঝে উত্তর দেয় হেরা। হেরার কথায় বিরক্ত হয় নেন্সি, রাগি ভাব ফুটিয়ে তোলে বলে উঠে।
নিলয় আমার ভালোবাসা।তার আশে পাশে ভিড়বে না। তোমাদের মতো সোকল্ড মেয়েরা নিজের পরিচয় পাবার জন্য, নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য
নিজের শরীর দেখিয়ে ছেদেদের বস করো,শুনো সে পুরুষ মানুষ, সুন্দরী মেয়ে দেখেছে কয়েকদিন খেয়ে ছুড়ে রাস্তায় ফেলে দিবে তখন দেখবে, তোমার ক্যারিয়ার কই দাঁড়ায়,তাই আগে থেকে বলছি আমার ভালোবাসা থেকে দূরে থাকো।
হেরা একটু অবাক হয়, হাত বুকে আড়া-আড়ি করে ভাজ করে, বলে উঠে।
তোমার সাহস কি করে হয় আমায় রাস্তার মেয়ে বলা,রাস্তার মেয়ের মানে বোঝো..?আর কি বললে
কে কার আশেপাশে ভিরছে,ভালো করে দেখে তারপর বলবে? আমি আমার দক্ষতায় বিপির পদ এ দাড়াবো, কারো ক্ষমতায় আর না কারো রেফারে।
খুব দেমাক তোমার,তোমার সো ক্লড দেমাক এক নিমিষেই ভেঙে দিবে শেহতাজ খান নাভান।অই নিলয় শেহতাজ এর লেভালে নেই।সে নাই দেখে উড়ছে। তবে এটা বেশি দিন এর জন্য না।
নেন্সির কথা শুনে হেরা বোঝতে পারে নেন্সি শেহতাজ খান নাভান এর লোক,ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে এই ছেলের কথা শুনতে শুনতে পাগল হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সে তাকে দেখে নি,মেয়েরা তার হাটার স্টাইল,চুলের স্টাইল,বাইক রেস,আর গিটার বাজানোর উপর ফিদা,সব চেয়ে আকর্ষণ তার এডামস এপেল এর উপর তিল যা সহজে মেয়েদের আকর্ষণ করে,আর ঠোঁট গুলা তো একেবারে গোলাপি,,আর বডি উফফফ যা পরে তাই হট হট লাগে।কিন্তু মেয়েরা তো তার আশেপাশে যেতেই পারে না।সেই এ্যাটেটিউ,হ্যাঁ এসব শুনে শুনে তার এখন মুখস্ত হয়ে গেছে,কিন্তু সে তো অন্য কিছু জানে,যা নিলয় খুব বাজে ভাবে প্রেজেন্ট করে, তার নিজ কেরেক্টার টা নাভান এর উপর চাপিয়ে দেয়।আর এটাও বলে রেখেছে অনেকে তাদের হিংসা করবে,আর সেটাই হলো,নেন্সির কথায় পুরু সিউর হয়,সে আসলে শেহতাজ খান নাভান এর লোক,,হেরা নিজের দাম্ভিকতা বজায় রেখে বলে।
“তোমাদের ক্রাস না ফাস,সে কতো ক্ষমতার অধীকারি আই ডোন্ট কেয়ার,,এই মেহরিমা ইসলাম হেরা তার ধার ধারে না,
হয়েছে এমন কতো দেখেছি,নাভান এমন একটা ছেলে তাকে পেতে তোমায় সাত জন্মের সাধনা করা লাগবে? তুমি তার নখের যোগ্য না।
নেন্সির কথায় বেশ রাগ উঠে হেরার, রুশা দম মেরে আছে রোজ তো চোখ দিয়ে তাকে ধংস করে দিচ্ছে,কিন্তু কেও কিছু বলছে না হেরার জন্য,
এবার হেরা বলে উঠে।
“তোমাদের অই শেহতাজ খান নাভান আমার নখের যোগ্য না,আমি অইরকম মেয়েবাজ ছেলেদের দিকে ফিরে ও তাকাই না,সে নিজে এসেও যদি আমায় প্রোপোজ করে, আমি রিজেক্ট করব,আই রিপিট রিজেক্ট।মানে ভুজো?
এবার পিছন থেকে তিতির যে নাভান কে নিজের গালফ্রেন্ড বলে দাবি করে তার অবশ্য একটা কারন আছে।নাভান এর নামে এমন কথা শুনে বেশ রাগি গলায় বলে উঠে সে।
শেহতাজ এর এমন অরুচি হয় নি তোমার মতো খাওয়া মাল এর দিকে নজর দিবে।
কথাটা বেশ গায়ে লাগে হেরার,আসলে নিলয় এর সাথে এতো মেশা উচিত হয় নি তাদের,তাই তো এতো কথা হজম করতে হচ্ছে,কিন্তু ছেলেটা তো খুব ভালো, সে এবার তিতির এর দিকে তাকিয়ে বলে।
“কার রুচি কতো নিচে যায় তা সময় বলে দিবে,একটা কথা আছে জানোতো জ্ঞানীরা কখনো তর্ক করে না,সময় তাদের জবাব দেয়।জবাব টা তুলে রাখলাম।
বলে হেরা চলে যায়,সাথে রোজ ও রুশা।
১ মাস পর ইন প্রেজেন্ট,
অধীর গিটার হাতে নিয়ে মলচত্তর এর কৃষ্ণচুড়া গাছে নিচে সুর তুলছে টুং টাং শব্দ তুলে, নাভান ক্লাবে গিয়েছে স্যারদের সাথে কথা বলতে।মূলত স্যার ও কমিটির লোক তাকে ডেকেছে।অধীর এর সামনে তাদের দলের একটা ছেলে বিজয় এসে বলতে শুরু করে।
“”ভাই, নতুন একটা মাইয়া আইছে,,সবাই ক্রাস ক্রাস কইতাছে,আমিও দেখছি ভাই,অই নিলয় তো মাইয়াটারে পটাই ফেলছে পুরু ভার্সিটিরর স্টুডেন্টরা বলাবলি করতাছে নিলয় এর গালফ্রেন্ড নাকি মাইয়াডা,১ মাসে সবাই অই মাইয়ার প্রসংশা করতাছে।
অধীর নির্বিকার সুরে বলে।
“তো কে কার গফ,বফ,তার জানার ইন্টারেস্ট নাই আমাদের,
আরে ভাই কথা এইডা না কথা হইছে মাইয়াডারে নাকি কাজে লাগাইবো নাভান ভাই এর বিরুদ্ধে।
থামে ছেলেটা,এবার বেশ মনোযোগ দেয় অধীর,
“কাহিনি কি খুলে বল।
ছেলেটি বলতে শুরু করে।
“আরে ভাই সভায় আলোচনা হইতাছে,এবার নাকি ভিপি নির্বাচন করবো মেয়েদের? যদি কেউ দাড়ায়,নয়তো কমিটিরাই নাকি একজন রে ঠিককরবো। কোনো ছেলে নাকি দাড়াতে পারবো না। কারন প্রতিপক্ষ দল নাই, নিলয় নাম বাতিল করছে।
অধীর এর কপাল কুচকে যায় এবার!সে অবাক হয়ে বলে উঠে।
মানে! তাহলে নাভান?
নাভান ভাই তো সবার উপরে হেয় যা কইবো তাই হইবো, কিন্তু এহন নাকি অই মাইয়ারে ভিপির দায়িত্ব দেয়া হইবো,,, নাভান ভাই বাদ।
মানে?
হ ভাই,
কেম্পাস এড়িয়ায়,হেরা,রুশা আর রোজ সহ কিছু মেয়েরা হেরাকে একটা গাছের সাথে বেধে রেখেছে তাও চোখ বন্ধ করে। মেয়েটা ক্যাংগারুর মতো লাফাচ্ছে চোখ খুলে দেয়ার জন্য, কিন্তু রুশা আর রোজ খিল খিল করে হাসছে,,,
নিজের মাথায় ঠাস ঠাস করে কিছু ফাটাতে ওর হুস আসে এই বজ্জাত মেয়েরা আজ তাকে ভুত বানাবে, পয়দা দিবদ উপলক্ষে কিছু টা সমাদর যাকে বলে।হেরা চেচিয়ে বলে।
” এই না”না’ প্লিজ এমন করিস না প্লিজ, খুব বাজে দেখতে লাগবে তো “তখন রাস্তা দিয়ে যাবো কি করে।
কে কার কথা শুনে,, আটা ময়দা,রঙ দিয়ে তাকে
ভুতনি করে ফেলেছে,,,ছাড়া পেয়ে হেড়া ছুট লাগায় সবাইকে ধরার জন্য,, কিন্তু হেরার পিছনে যে পুলিশ এর হাতে বাধা ২ টা কুকুর ছিলো তা কেউ খেয়াল করে নি,, পুলিশ বেচারা সবে মাত্র পাছা টা চেয়ারে লাগিয়ে বসেছে, হাতে চা টা নিতে নিজের হাতে কুকুরের গলায় বাধা দরি টা হালকা করে,প্রশিক্ষন প্রাপ্ত কুকুর গুলো এদিক সেদিক জহরি নজরে তাকিয়ে গুপ্তকার দের খুজে বের করছে,,হেরার চিল্লানোর শব্দে কুকুর দুটু ফিরে তাকাতেই হেরাকে ছুটতে দেখে ঘেউ ঘেউ শব্দে ছুটে হেরার পিছু,,তিব্র শব্দে নিজের দিকে কুকুর দুটুকে তেড়ে আসতে দেখে, ভয়ে প্রান পাখি উড়ে যাওয়ার উপক্রম,,, সে জমের মতো ভয় পায় কুকুরকে,কুকুর আর হেরার মধ্যে ২০০০ মিটার দৌড়ের প্রতিযোগিতা হচ্ছে,দেখে পুলিশ ও তাদের পিছন ছুট লাগায়,,কিন্তু বোঝতে পারে এভাবে হবে না, পকেট থেকে একটা শুট করে উপরের দিকে,সর্তকা বার্তা পেয়ে কুকুর দুটু থামে কিন্তু হেরার তো থামার নাম নেই,সে এক বারের জন্য পিছন ফিরে তাকাচ্ছে না,তার মনে হচ্ছে এই ধাড়ালো ধারালো দাত দিয়ে কামড়ে ধরবে তাকে।
হেরা এমন ভাবে ছুটছে যে সামনে কে আছে তা খেয়াল না করেই,, ঝাপটে ধরে,
পিছন থেকে কেউ ঝাপটে ধরায়,নাভান একটু সামনের দিকে হোচোট খায়,,এই মাত্র সৃজন ফোন করে এমন কথা বলে যার জন্য, মেজাজ টা তার খারাপ, তার উপর একটা ভিডিও দেখেছে,,অধীর,তিতির,নেন্সি,আরো কিছু ছেলে মেয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো হল চত্তরের লেক টার সামনে,নাভান নিজের রাগ দমাতে না পেরে,, সামনে ফিরে তাকায়, নিজের সামনে এমন আটা,ময়দা, মাখা মেয়েকে দেখে খানিক ভ্রু কুচকায়,,পরোক্ষনে আবার স্রিজন এর কথা ও ভিডিও টার কথা মনে করিয়ে দেয়,, হাতের চাঁদের স্টিকার টি বলে দিচ্ছে এই সেই মেয়ে,, কিন্তু ভিডিও টা পিছন দিক থেকে করায় মেয়েটার মুখ দেখা যায় নি,আর এই মেয়ের ও মুখ দেখা যাচ্ছে না,, রঙের কারনে চোখ ব্যাতিত কিছু বোঝা যাচ্ছে না। নাভান নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিজের থেকে টান দিয়ে ছাড়িয়ে,গালে পরপর দুই টা থাপ্পড় মারে,হেরা কুকুর এর ভয় প্লাস আচমকা থাপ্পড়ে ভরকে যায়,কিছু বলতে যাবে তার আগেই চুলের মুঠু ধরে দাতে দাত পিষে বলে উঠে নাভান।
“টাকার গন্ধটা এতো দামি যে নিজের সস্তা শরীর বিলিয়ে দিতে হয় , বড়লোক ছেলেদের কাছে!
নাভান এর কথায় অহংকারে আগুন ছিল, চোখে ছিল অবজ্ঞা।
সে তেজি গলায় বলে উঠে —
“টাকার জন্য যদি শরীর দিয়েই খেলতে হয়,
তাহলে অভিনয়টা আরেকটু ভালো করতে পারতি।এই শেহতাজ খান নাভান এর সাথে লাগতে আসা এতো সহজ হবে না তোর মতো থার্ড ক্লাস মেয়ের।
” হেরার শরীর নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে যেনো,সে এখনো ভয় টা কাটাতে পারছেন না,কিন্তু শেহতাজ খান নাভান এর নাম শুনে সে কিছুটা অবাক হয়,এমন ভাবে তাদের সাক্ষাৎ হবে কল্পনার বাহিরে,হেরা ছলছল চোখে তাকায় নাভান এর দিকে। কতো ছেলে,মেয়েদের সামনে তার চরিত্র তুলে কথা বলছে, আসলে নিলয় যেমন বলেছে লোক টা তেমনি, কিন্তু সে মুখে কিছু বলতে পারছে না,,তাও অনেক কষ্ট করে কিছু বলতে যায়,যেহেতু জরিয়ে ধরাটা ভুল ছিলো তার,
“আ, আসলে আমি ইচ্ছে করে ধাক্কা খাই নি, জরিয়ে ধরি নি আ আমার পিছনে ”
রাগে নাভান এর হাতের নিল রগ গুলো ফুলে উঠে, চোক দিয়ে আগুন বের হচ্ছে যেনো,,নাভান হেসেছিল।
এই হাসিটাই ছিল সবচেয়ে নিষ্ঠুর।
“মিথ্যা বলার আগে আয়নায় নিজের মুখটা দেখিস,আর আমার সাথে লাগতে আসা, ফলাফল ভালো হবে না তোর জন্য।
হেরা আজ বোঝতে পারছে —
অপমান সবচেয়ে বেশি ব্যথা দেয় তখনই,
যখন তুমি নির্দোষ
আর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু তুমি কিছু প্রমান করতে পারছো না।
নাভান ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেয় হেরাকে,আচমকা ধাক্কা দেয়ায় নিজেকা সামলাতে না পেরে, লেকে পরে যায় হেয়া,নাভান হাত উচিয়ে বলে।
শরীর এর সাথে মন টাও পরিষ্কার করে নে এই লেকের পানিতে!
— বলে গট গট পায়ে প্রস্থান করে নাভান।
হেরা রাগে,অপমানে কেদে দেয় কিন্তু এই কান্না লেকের জলের সাথে ধুয়ে যায়। রোজ আর রুশা দূরে ছিলো, তাই তেমন টা শুনে নি কিন্তু লাস্ট কথা দুজনি ভালো করে শুনেছে, কিছু বলতে যাবে তার আগে প্রস্তান করে সবাই, অধীর ফোন নিয়ে আড়ালে সব জানাতে গেছে সৃজনকে।
এত অহংকার নিয়ে মানুষ কীভাবে থাকে, সত্য চিনতে ভুলে যায়? পরিস্থিতি বোঝে না, কারো কাছে কৈফত জানতে চায় না,আর না কাওকে সুযোগ দেয়,কারো সম্পকে না জেনে ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া তার সম্পর্কে। হেরার মন বলছে______
এই অহংকারী ছেলেটা জানে না—
একদিন যখন সত্য সামনে আসবে,
তার, অহংকারটাই হবে তার সবচেয়ে বড় কাঠঘোড়ায় দাড় করানো হাতিয়ার।
নাভান রাগে মাথা চেপে ধরে বসে আছে তার ক্লাবে, পাশে ঝিনুক,অধীর সৃজন, সবাই নিস্তব্দ,ঘটনা টাই যে এমন,, সৃজন একজন এর থেকে খবর পেয়েছে , নিলয় কোন মেয়েকে নাকি ভাড়া করেছে , নাভান কে জরিয়ে ধরবে আর সাইড থেকে কেউ পিক তুলে তা কেম্পাসের স্টুডেন্ট গ্রুপে সোশাল মিডিয়াতে ছাড়বে, মেয়েটা এমন অভিনয়ে জিততে পারলে নাকি ৫ লাখ টাকা দিবে নিলয়,হাফ টাকা নিয়েছে এমন টাও বলেছে। এবং ভিডিও দেখিয়েছে।এই ভিডিও টা নিলয় আর হেরা যখন আড্ডা দিচ্ছিলো কফিশপে তখন হেরার ব্যাগ নিচে পরে যায়, টাকা সব বের হয়ে আসে,তখন নিলয় মুচকি হেসে টাকা নিচ থেকে উঠিয়ে হেরার হাতে দেয়,আর তখন নেন্সি,আর তিতির ভিডিও করে,আর সেই ভিডিও টাই নাভান কে দেয়া হয়,একজন প্রতিশোধ তুলে নিজের ক্রাস কে বাজে কথা বলার জন্য, তো আরেক জন নিজের ক্রাস এর থেকে লাইফ থেকে হেরাকে সরানোর জন্য, আর এসব কারনে নাভান হেরার সাথে এমন বিহেভ করে,,,সত্যি নিলয় কিন্তু একটা মেয়ে ঠিক করেছিলো এমন ভাবে হেনস্তা করার জন্য কিন্তু মেয়েটা আসতে লেট হয়,আর হেরার সাথে কুকুরের কাহিনিটা হওয়ার কারনে পরিস্থি পুরাই পালটে যায়।
নিলয় হেরার সাথে নাভান এর এমন কাহিনি হয়েছে শুনার পর রাগে তার হাত পা কাপছে।তার পছন্দের মানুষ কে কিভাবে অই নাভান অপমান করলো,কিন্তু এই কাহিনি হয়ে খারাপ হয় নি ভালোই হয়েছে,এবার হেরা নাভান কে আরো খারাপ জানবে,আর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না। এবার যা পিন দেয়ার সে পরে দিবে।এখন নাভান দের কিছু বলা উচিত তাই নাভান এর ক্লাবে যায়।
কি ভাবে কি সমাধান হবে?
অধীর ভাবুক স্বরে বলে।
এর মধ্যে নিলয় ক্লাবে আসে ৷ ঠাট্টা স্বরুপ বলে উঠে।
“শেষ জিত টা আমারি হবে চিন্তা করিস না অধীর,তুই অধীর আগ্রহ নিয়ে সব দেখতে পাবি,ওয়েট। ক্ষমতার বড়াই করিস না তরা,এই ক্ষমতাই ছাড়তে হলো তো ঢাকা শহরের সবার আইডল শেহতাজ খান নাভান এর !
অধীর কিছু বলতে যাবে তার আগে, পিছন থেকে নাভান গম্ভির স্বরে বলে উঠে,,
“” আমার ক্ষমতা দেখাতে হলে কারো নাম প্রয়োজন হয় না, আমার নামই বলে দেয় আমার ক্ষমতা কতোটুকু!
নিলয় হাসে এই চাল তো সে দিয়েছে যাতে দুজনই নির্বাচন থেকে বাদ পরে,কিন্তু স্টাইলিশ নিলয় তো জানে না নাভান এর চুলের গোড়ায় গোড়ায় বুদ্ধি।
বাইকের চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে বলে উঠে নাভান।
শেষ অব্দি মেয়েদের সাহায্য নিতে হচ্ছে,,, তুই পুরুষ জাতির কলংক রে নিলয় হেরে যাবি বলে , তোর সো কোল্ড কি, কি যেনো ও গফ,, কে টানলি আমাদের মাঝে।
নিলয় এর হাতের মুষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। সে শাহাদাত আঙুল উচিয়ে বলে উঠে।
স্টপ তোর মুখে আমি আমার হেরা ফুল এর নাম শুনতে চাই না। ও কে বাজে কথা বলবি না একদম।
“বাহ বাহ বেশ উন্নত হয়েছে তোর দেখছি,একটা মেয়ের জন্য প্লে বয় নিলয় হুমকি দিচ্ছে তাও ঢাকা শহরের,,ক্রাস,আইডল সবার বস শেহতাজ খান নাভান কে!
অধীর এবার ফাক দিয়ে বলে উঠে।
ভাই এবার এর টেস্ট কি ভালো লেগেছে অনেক?তাই এতো বড় কথা বলছিস।
নিলয় ঠিকি ধরতে পেরেছে অধীর কি ইঙ্গিত করেছে,অই তো তার রানিং গালফ্রেন্ড নেন্সি কে লিপ কিস করার সময়, অধীর দেখে ফেলে,দুষ্টু অধীর বেলুন হাতে নিয়ে ফাটিয়ে বোম ব্লাস্ট বলে চেচিয়ে উঠে, বেচারা নিলয় আর তার তার গালফ্রেন্ড নেন্সি লাফ দিয়ে ছুটে বের হয়। ইস সেদিন সে কি হাসি,, বেচারাদের সেই হয়রানি করেছিলো,অধীর এর কথার পিষ্ঠে নিলয় বলে উঠে।
“স্টপ তাকে অপবিত্র করার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে আমার নেই। সে পবিত্র ফুল জীবনে আমি এই নারীর সংস্পর্শ ছাড়া আর কোনো নাড়ীর দিকে তাকাবো না শপথ করেছি,আমি তার হাত টাও স্পর্শ করি নি! আমার পবিত্র ফুল এর নামে বাজে কথা বললে তোদের জিহ্বা টেনে ছিড়ে ফেলবো বলে দিলাম।
বাহ বাহ নিলয় চৌধুরী ১ মাস হলো তার গালফ্রেন্ড এর হাত টাও ধরতে পারে নি,কি ব্যাপার ফিলিংস কি কমে গেলো নাকি?
নাভান এর কথায়,অধীর আর সৃজন হেসে মজা নেয়,অধীর বিদ্রুপাত্মক হাশি দিয়ে বলে।
“ভাই নিলয় কলিকাতা হারবাল লাগলে বলিস আমি স্পন্সার করবো নি।
এবার নিলয় এর গা জ্বলে যায় যেনো।
সেও ঠাট্টার সুরে বলে।
“তোদের মতো নাকি! যে “মেয়ে মানুষ দেখে ফিলিংস আসবে না।আমার তো মনে হয় তোদের ৭২ লাখ নাই ,সুন্নতে খাতনার সময় মনে হয় বেশি কাটিং হয়েছে তাই না।
এবার অট্ট হাসিতে দুই দলের ছেলেরা হেসে ফেলে নাভান এর ভয়ে তার দলের ছেলেরা মুখ টিপে হাসে, নাভান এবার নিলয় এর কানে কানে গিয়ে বলে।
ফিলিংস আছে কি নাই তা তাহলে দেখাতেই হয়,,তা তোর সোকোল্ড গাল্ফ্রেন্ড কে দিয়ে শুরু করবো নাকি?
নিলয় যেনো এবার হিংস্র হয় বেশ। নাভান এর শার্টের কলার ধরে দাতে দাত পিষে বলে উঠে,
একদম ওর ধারে কাছে যাবি না।
“”আটকে রাখ দেখি। (অধীর বলে উঠে)
“দেখ নাভান এটা রুলস এর মধ্যে পরে না,স্যারদের ডিশিশন তুই আমার উপর কেনো চাপ্পাচ্ছিস?
আমি কি দুধ ভাত খাই নাকি?যে তোর চাল আমি বোঝি না,তুই মেয়েটাকে উস্কে দিয়েছিস,তা না হলে এমন কেউ নেই এই নির্বাচনে দাড়াবে। আর আমার নামে বদনাম রটাচ্ছিস অই মেয়েকে দিয়ে, যাতে আমি সবার চোখে খারাপ হই। আর অই মেয়ের সাহস হয় কি করে, আমাকে জরিয়ে ধরার!
নিলয় যেনো কথা খুজে পেলো না, জরিয়ে ধরা এটা যে তারো পছন্দ হয় নি, যে মেয়েকে ১ মাসে হাত টা ধরতে পারে নি, আর অধীর এর সাথে এক দেখাতে জরিয়ে ধরে ফেলেছে, নিলয় তাও বলে উঠে,,
” দেখ আমার পছন্দের মানুষ বলে বলছি না, মেয়েটা সব দিক থেকে পারফেক্ট, রেজাল্ট, দক্ষতা,তাই স্যার দের পছন্দ হয়েছে,আমি জাস্ট সাথে ছিলাম,,তাই বলে তুই আমার দোষ দিতে পারিস না। আর হেরা কে বাজে কথা বলতে পারিস না!
অধীর এবার বলে উঠে।
টাকা খাইয়ে,মেয়েটাকে রাজি করিয়ে এখন সাদু সাজতে চাইছিস?
নিলয় অবাক কন্ঠে বলে।
তোর ফালতু কথা অনেক শুনেছি।আমার হেরা ফুল কে নিয়ে একটা বাজে কথা বলবি না।
বলবো কি করবি তুই শুনি? (নাভান রাগি গলায় বলে উঠে)
নিলয় চোখ দিয়ে যেনো খুন করে ফেলছে নাভান কে,দুই সুদর্শন পুরুষকে ভয়ানক লাগছে এখন। মনে হচ্ছে নিরব যুদ্ধ চলছে তাদের মধ্যে।
তুই আমাদের মাঝে হেরা কে টানবি না বলে দিলাম।
তোর হেরা না ফেরা তাকে তুই জরিয়েছিস,, এখন কিচ্ছু করার নাই বাকি দন্দ তার সাথে হবে।
“তুই ভুল করছিস নাভান।( নিলয় রাগি গলায় বলে)
“”ওকে তোর যেহেতু ভালোবাসার মানুষ, তাই তোকে একটা সুযোগ দেই , চল একটা বাইক রেস খেলি তুই জিতলে আমি তোর গালফ্রেন্ড এর থেকে দূরে সরে যাবো তাকে নিয়ে কোনো আলোচনা করবো না, নির্বাচন থেকেও সরে যাবো!আর আমি জিতলে আমার, যা ইচ্ছা তাই করবো, তুই কিচ্ছু করতে ও বলতে পারবি না।
ঘঠনা টা আবার পুনরাববৃত্তি করছিস না নাভান।
পাশ থেকে সৃজন বলে উঠে। উত্তরে নাভান বলে।
না” তখন বাচাতে করেছি আর এখন মারতে করছি।
সবার সামনে নিলয় পিছ পা ও হতে পারছে না অজ্ঞতা রাজী হতে হয় তাকে।অধীর একটা স্টেম্প সামনে রেখে বলে।
“নে মামা সই কর,তুই সালা গিরগিটির থেকে ভয়ংকর,কখন রুপ বদলাতে পারিস কে জানে।
“দাতে দাত পিষে সব সহ্য করে নেয় নিলয়।
_____সন্ধ্য রাত তখন ৬ টার ছুই ছুই, বাইক নিয়ে রেডি সব ছেলে পেলে তখন একটা বাইক স্প্রিড নিয়ে ছুটে আসে তাদের দিকে। সবাই ভরকে যায়, মনে হচ্ছে এই উপর দিয়ে উঠিয়ে দিবে আর সবার টিকিট কাটা হয়ে যাবে।কিন্তু তা হলো না তাদের ছুই ছুই অবস্থায়, বাইক টা হার্ড ব্রেক করে তাদের সামনে। ভুজাই যাচ্ছে পাকা একজন রেসার। আজ সৃজন ও অধীর নিলয় এর মতো পোশাক পরেছে একেক টাকে পুরাই ঝাকানাকা লাগছে,মনে হচ্ছে তাদের দিক থেকে চোখ সরানো মেয়েদের বিরাট বড়ো লস প্রজেক্ট হয়ে যাবে,তাকিয়ে থাকলেই বং লাভ,এমন সুন্দর্য দেখার অধীকার কেবল রমনীদের।
হেলমেট খুলে লম্বা চুলগুলো ঝাকি দেয় নিলয়,তার এই লুকে মারাত্নক সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে একজন পাকা রেসার। লাইফ জেকেট পরে নিজেকে একদম রেডি করেছে সে। এই রেস এর সময় অনেকে উপস্থিত থাকে কিন্তু হায় যার জন্য এতো আয়োজন যাকে নিয়ে এই দন্দ সে কিচ্ছুটি জানে না। নাভান তো গতো বছর নির্বাচন থেকে এসব দায়িত্ব থেকে বের হতে চেয়েছিলো,কিন্তু তার মায়ের কারনে, কমিটির কারনে তাকে থাকতে বাধ্য হয়ে থাকতে হয়েছে এই বেড়জালে,সে তো এই দায়িত্ব চায় না,যে দায়িত্ব থাকা অবস্থায় কারো ভুল দেখলেও সমাধান খুজে বের করতে হয়,সামনাসামনি কিছু করতে পারে না।সে তো চায় যারা অপরাধ করবে তাদের জনসম্মুখে এনে বেদরুম কেলানি দিতে,যাতে একজন কে দেখে দশ জন এর শিক্ষা হয়।তার এমনি যে নাম ক্ষেতি রয়েছে তাতেই হবে,নির্বাচনে দাড়াতে হবে না আর না ভিপির পদে।ঢাকা শহরে তার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলা তো দূর আড়ালে ও কিছু করতে পারবে না কেউ এমন ক্ষমতা বানিয়েছে শেহতাজ খান নাভান নিজের নামের উপর।
ছেলেদের কেউ না দাড়ালে বা কনো প্রতিপক্ষ না থাকলে তা যে কোনো একজন ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট এর কাছে চলে যাবে সেই দায়িত্ব, মূলত কর্তৃপক্ষ দেখতে চাচ্ছে মেয়েদের সুযুগ দিয়ে, তাদের পিছিয়ে রাখতে চাচ্ছে না, ছেলেদের মতো তারাও পরিচালনা করবে সেই প্রশিক্ষন দিবে কর্তৃপক্ষ ।আর নিলয় প্রতিপক্ষ দল থেকে সরে আসায় নির্বাচন টি হবে না,তার দল থেকে কেউ দাঁড়াবে না।আর নিয়ম অনুযায়ী নাভান কেও সরতে হচ্ছে।শেহেতাজ খান নাভান সরে আসতো কিন্তু, যেই শুনেছে মেয়েটিকে টাকা দেয়া হয়েছে নিলয় এর হয়ে কাজ করতে, তখনি তার মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে।অবশ্য এই কথা নিলয় এর এক্স বলেছে নাভান কে,তার একটা ভিডিও দিয়েছে ব্যাস।হয়ে গেলো,গোলে মালে গন্ডোগোল।
নাভান গত বছর অনেক মেয়েদের বলেছিলো নির্বাচনে দাড়াতে,কিন্তু কারো অইরকম সাহস বা দক্ষতা নেই,আর নিলয় তো ছিলোই তখন আটকিয়ে রেখেছিলো সবাইকে, নিলয় নাভান এর কাছে বলেছিলো তার কাছে ক্ষমতা দিতে,কিন্তু নাভান জানে নিলয় এর কেরেক্টার কেমন,অনেক বার এসব নিয়ে তাদের মধ্যে দন্দ হয়েছে,নিলয় ভুজে গেছে সে এবার ও জিততে পারবে না,আর হেরা তো এখন তার হাতের মুঠে,হেরা জিতা মানে সে জিতা,৮০% উসকিয়ে তাও সে দিয়েছে।নাভান এমনিতে মেয়ে জতির দন্দে জরায় না কনো এক কারনে,কিন্তু না, এই মেয়েকে সে শিক্ষা দিবে,তাকে হাড়াতে এতো কিছু করেছে এর শেষ দেখে ছাড়বে সে।
হটাৎ আরেক টা বাইক ফুল স্পিডে আসে নিলয় এর দিকে,এক সেকেন্ড হের ফের হলে নিলয় এর অস্তিত্ব থাকবে না,নিলয় ভাবলেশহীন ভাব ধরে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসে,বাইক টা নিলয় এর সামনে এসে সোজা দাঁড়িয়ে যায়,এখন বাইক আর নিলয় বরাবর হয়ে যায়।নাভান বাইক ঘুরিয়ে দাগের উপর রাখে। কটাক্ষ করে বলে নিলয় এর উদেশ্যে।
“তা মরার ভয় এতো যে একেবারে সুট_কুট পরে এলি!
“উত্তরে নিলয় হাসে,বলে।
“”থাকবেই তো এখনো বিয়ে হয় নি, বাসর করা হয় নি,এতো তারাতারি মররার ইচ্ছে নাই।
“নাভান মুখে বিদ্রুপ হাসি রেখে বলে।
“” সয়তান এতো সহজে মরে না”ভালো হবার চান্স দেয় আল্লাহ।
আজকাল নিজেকে কি ফেরেস্তা ভাবছে নাকি, শেহতাজ খান নাভান।
“নিলয় এর কথার জবাবে নাভান বলে উঠে।
“”আপাতত এতোটুকু সয়তান হতে চাই,কারো গালফ্রেন্ডকে আমার পায়ের কাছে ফেলতে চাই!
ইস কি একটা কথা বলেছে নাভান,মুহুর্তে নিলয় এর চোখ মুখ শক্ত হয়ে যায়।
একে একে সবাই দাঁড়ায় যার যার পজিশনে,নিলয় আর নাভান সাথে অধীর আছে।নাভান কে তো পুরাই হিরো লাগছে সে সিম্পল সাদা হাপ হাতার টি শার্ট এর উপর ছাই রঙা শার্ট পরে এসেছে,যার বোতাম সব গুলো খুলা,ভিতরের টি_শার্ট দেখা যাচ্ছে সম্পুর্ন, যা আরো সুন্দর দেখতে লাগছে। হেলমেট পরে গিরায় উঠাতে,ধোয়া উঠে চারিদিকে, সময় এর সাথে সাথে বাইক চলতে শুরু করে,চারিদিক এর মানুষ তো নাভান নাভান বললে আর কিছু মানুষ নিলয়,আর কিছু অধীর,সবার চোখে যেটা রেস কিন্তু আসলে এই রেসে রয়েছে অন্ধকার চুক্তি,যা কেবল তারাই জানে,,নিলয় অনেক টুকু এগিয়ে,,অধীর নাভান এর দিকে তাকিয়ে বলে,
“”কি ব্যাপার হেড়ে যাবি! আমার ১০০ টাকার স্টেম্প টা ফাও গেলো রে,,আগে জানলে ১০০ টাকা মিসকিন কে দিতাম সোয়াব হতো,সালার…
নাভান মৃদু হেসে গিয়ার সর্বোচ্চ উঠিয়ে দেয় এক টান,বাতাসের গতীতে নিলয় কে ফেলে যায় হটাৎ দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে বিজয় নিশান দেখায় নাভান, ব্যাস নিলয় এর পাছা লাল হয়ে যায় এতে। এক বারের জন্য সে চেম্পিয়ান হতে পারে না,এর জন্য অবশ্য বাহির থেকে প্রশিক্ষিন নিয়ে এসেছে কিন্তু তাতেও ফলাফল শুন্য।
অধীর বাইক সাইডে রেখে হেলমেট খুলে হাত দুলিয়ে নাচতে নাচতে নিলয় এর সামনে এসে ৩২ পাটি দাত বের করে হাসি দেয়,সৃজন ছোট সাউন্ড বক্স এ গান ছেড়ে দেয়,ব্যাস আগুনে ঘি পরেছে,,
প্রেমের বাজিমাত পর্ব ২
“”নতুন বছরে নতুন বাশ,খেতে মজা ১২ মাস””
অধীর এর কথা শুনে নাভান বলে উঠে,
“বুদ্ধি যতোটুকু হয়েছে ততটুকু বাশ খেয়ে হয়েছে তোর বাপের টাকার ডিম,দুধ,বাদাম ,কনো কাজে দেয় নি রে।
