প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৫
রোজ ও রুশা
“মদ খেলে হয় চোখ লাল,কিস খেলে হয় ঠোঁট লাল,কট খেলে পিঠ লাল, প্রেম করলে মন লাল এখন বল তুই কি খাইলি?সৃজন ঠোঁট লাল করেছে তুই কি করলি?বলে ফেল ফটাফট এমন ডং না করে!
“নাভান এর কথায় গেয়ে উঠে অধীর।
“”সকালে ইজ্জত খাওয়া মেয়েকে দেখি, বিকেলে ও তাকে দেখি, ,হলো রে হলো একি রাতে ও শোনো মেয়ে জেনেনিও তোমাকে দেখি, মান সম্মান খাইয়াছে রে আমার মানসম্মান খাইয়াছে ,৭২ লাক দেখে আমার কলঙ্কিত করেছে!
“” এক মনে গান গেয়ে যাচ্ছে ,,দুই দিন ধরে একই গান গেয়ে যাচ্ছে অধীর!
“নাভান আর সৃজন এর বোঝতে বাকি নেই অধীর এর সাথে কি হয়েছে।গত দুই দিন ধরে অধীর কে চুপচাপ থাকতে দেখে নাভান কথা টা বলে।
দুই দিন ক্যাম্পাস অফ থাকায় বাসায় সময় কাটাচ্ছে অধীর, সে বাহির বের হচ্ছে না তার মানসম্মান এর ভয়ে, যদি অই মেয়ে সবাইকে বলে দেয় অধীর এর কথা,তখন এ মুখ কিভাবে দেখাবে সে?আচ্ছা মেয়েটা কিভাবে বর্ননা করবে? মেয়েটা কি তাকে খচ্চর লোক বলবে?না এসব ভেবে বেচারার অবস্থা কাহিল।
এমন অনেক কাহিনি আছে যা আমরা বন্ধুদের সাথে বলে থাকি ব্যাপারটা কার কাছে কেমন জানি না, কিন্তু আমার মতে ছেলে,মেয়ে ক্লোজ বন্ধু থাকলে এর থেকে ও গভীর কথা বলে ফেলি আমরা!(একান্তই আমার মতামত)
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“নাভান ডেম কেয়ার ভাব নিয়ে বলে।
“কাল থেকে, অই দুই মেয়েকে খুজে বের করবি?আর বিবাহিত না হলে চান্স নিবি।নিজেদের মানসম্মান তো বাচবে এতে,তা না হলে ভবিষ্যৎ বউ কে কি বলবি, আমার ঠোঁট ধর্ষণ হইছে,আর আমার সম্পদ দেখে নিছে!
অধীর লাফ দিয়ে বলে উঠে।
” না “না “না” অই মেয়ে সামনা সামনি হলে লজ্জায়
মরে যাব ,শালি ইজ্জত খাওয়া মহিলা, আমার ইজ্জত খাইয়া দিছে।
“কাদো কাদো মুখ করে বলতেই সৃজন বলে উঠে।
“সালা তুই কোন সুখে দুই দিন ধরে গান গাইতেছিস তাহলে? আবার মেয়ে মানুষ এর মতো নেকা ভাব ধরছিস।
“ভাই অতি শোকে বাপ্পারাজের মতো পাথর হতে চেয়েছিলাম কিন্তু কেমনে জানি দিলদারের মতো কমেডিয়ান হয়ে গেলাম!
অধীর এর কথা শুনে সৃজন না চাইতেও হেসে ফেলে।
এদিকে দুই বান্ধবী বদের হাড্ডি দের কাহিনি শুনে হেরা এই ঠান্ডায় আইস ব্যাগ মাথায় নিয়ে ঘুরছে।১০ মিনিট পাশে ছিলো না আর দুই টায় এমন কাজ করছে যা সমাজে গ্রহনযোগ্য না,হেরার চিন্তিত মুখ দেখে রুশা বলে।
“আমার কি হবে রে হেরা পাখি,সিনারি দেখার অপরাধে কি আমার জেল টেল হবে?
” শালি”তর না সিনারি দেখার সখ,এবার মিটেছে সখ?
“আরে অইরকম দেখি নি তো!
রুশার কথায় হেরা কটমট করে বলে।
ও আরো দেখার ইচ্ছে ছিলো মনে হয়?
রোজ রুশার কথার পিছনে বলে উঠে।
” একটু দেখে ১ ঘন্টা অজ্ঞান ছিলো আর পুরোটা দেখলে ১ দিন থাকতো!শালি তোর জন্য আমার এমন সর্বনাশ হয়ে গেলো?
তখন না চিল্লালে যেতাম না আর অই কানা লোক এর সাথে ধাক্কা খেতাম না।বেটা উঠে তো দৌড়।একটা থাপ্পড় ও মারার চান্স দেয় নাই।
কথা টা খুব আফসোস এর সাথে হয়,আর রোজ ও বোঝতে পারে এটা ইচ্ছেকৃত ছিলো না,আমাদের বাস্তব জীবন এর সাথে এমন অনেক কিছু হয় রাস্তা ঘাটে,,যা একটা মেয়ের জন্য খুব খারাপ কিছু, অনেক সময় আমাদের হাতে কিছু করার থাকে না।ঢাকা শহরে বাসে আর ট্রেনে এমন কাহিনি দেখা যায় অহরহর ,মেয়েদের গায়ের উপর পুরুষরা পরে যায়,কখনো ইচ্ছাকৃত কখনো ভির এর কারনে,,আসলে মেয়েরা কোথায় সেভ,বাসায়? বাহিরে? কোথাও না আমার মতে।তাই মেয়েদের বলছি নিজেদের কঠিন ভাবে গড়ে তুলো, যাতে কোনো ছোট বিষয় ভেঙে দিতে না পারে তোমায়! আর সাবধানের সহিত চলাচল করবে?
(ছোট মেসেজ মেয়েদের জন্য ছিলো এটা)
শীতের সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা (ঢাবি) সাধারণত ঘন কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস এবং শিশিরে ভেজা সবুজ ক্যাম্পাস নিয়ে এক শান্ত ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার ফাইনালের প্রস্তুতি নিতে নোট-বই নিয়ে ব্যস্ত থাকে, টিএসসি থেকে শুরু করে করিডোরগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, আর প্রকৃতিতে এক ভিন্ন স্নিগ্ধতা বিরাজ করে, যা শীতের সকালকে বিশেষ করে তোলে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় ক্যাম্পাস, যা এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করে।সেমিস্টার ফাইনালের চাপ থাকায়, ভোরের ঠান্ডা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা হাতে বই-নোট নিয়ে ক্লাস ও লাইব্রেরির দিকে ছুটে চলে, হেরা,রোজ ও রুশা তিনজন কেম্পাসে ঢুকতেই, নিলয় এর ফোন আসে।
“হেরা ফুল, কেমন আছো?
মেয়েটাও মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে।
জি আলহামদুলিল্লাহ!
হেরা”
নিলয় এর এমন মহনীয় ডাকে হেরা হাসে।
“আজ আমার আসতে একটু লেট হবে,(নিলয়)
“কেনো( হেরা)
” আমার একটু কাজ আছে?
“ও আচ্ছা,
চুপ রইলো নিলয় ও হেরা।
….
” হেরা তুমি আমায় মিস করবে না।
উত্তরে কিছুই বললো না,সে মিস করবে?মেকি হাসি দিয়ে বলে।
“ফ্রেন্ডকে তো মিস করাই যায়!
“” পুট পুট পুট, শব্দে কল টা কেটে যায়।ফ্রেন্ড এই শব্দ টা নিলয় এর কাছে এখন অসহ্য লাগে, আচ্ছা মেয়েটা এমন কেন? সে কতো কিছু বোঝাতে চায় কিন্তু অই মেয়ে বোঝতে চায় না।সে কি দেখতে খারাপ নাকি? মেয়েরা পাগল তার জন্য, আর এই মেয়ে ভালো করে তাকায় না অব্দি,কল কেটে ছোট করে একটা মেজেজ দেয়।
“নেটওয়ার্ক সমস্যা ”
“হেরা মুচকি হেসে ফোন ব্যাগে রাখে।
ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিচ্ছে হেরা,রোজ ও রুশা,অনকেই রয়েছে আড্ডার মাঝে,,
বাইক থামিয়ে হেরাদের ক্লাসরুমে যায় নাভান,অধীর ঝিনুক,সৃজন তার পিছু পিছু আসছে,রাগে তার চোখ মুখ লাল হয়ে আছে,মনে হচ্ছে এখনি সব ধংস করে দিবে। সব জায়গায় খুজে অবশেষে একটা মেয়ের দেখানো মেয়েটাকে পিছন থেকে হাতে টান দিয়ে নিজের দিকে ঘুড়ায় নাভান,এই ঘুরানো টাই তার জন্য বোধয় সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিলো।কয়েক মুহূর্ত চুপ থাকে নাভান, তারপর চোখ বন্ধ করে আবার খুলে,সবাই নাভান এর চোখ দেখে আতকে উঠে, ভয়ংকর সুন্দর পুরুষ কে সত্যি ভয়ংকর রাগি দেখাচ্ছে, যা তার চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
হেরা হাতে আজ কাচের চুড়ি পরেছে,কিন্তু সেও নাভান কে দেখে রাগে ফেটে পরছে,হাতের চুড়ি ভেঙ্গ যে তার হাতে ঢুকছে তা যেনো রাগ এর কারনে টের পাচ্ছে না।
হেরা রাগে কটমট করে বলে উঠে।
” শেহতাজ খান নাভান সয়ং সামনে দাঁড়িয়ে, তা আজ আবার আপনি কোন কুরুচিপূর্ণ কথা বলতে এসেছেন, শুনুন আগেই বলে রাখি,এই মেহরিমা ইসলাম হেরার সময় নেই আপনার কথা শুনার!
নাভান কে এমন কটাক্ষ করে কথা বলাতে পাশ থেকে সবাই হা হয়ে তাকিয়ে আছে! মেয়ের সাহস আছে বলতে হবে,যার দিকে তাকিয়ে কথা বললে বুক কাপে আর এই মেয়ে নিরলিপ্ত ভাবে কথা বলছে।অধীর চোখ গরম করে তাকায় হেরাকে উদেশ্য করে বলে।
“”অভিনয় তো ভালো পারিস!! চেহাড়া সুন্দর তোর সিনেমায় যোগ দিস না কেন? তুই মেন ক্যারেক্টার এ চান্স পাবি আমি সিউর!
“নাভান আরো শক্ত করে হেরার হাত চেপে ধরে,হেরা এবার দাতে দাত চেপে বলে।
“আমার হাত আপনার সম্পতি না,যে এমন ভাবে ধরবেন! শেহতাজ খান নাভান!!
“” তোদের মতো মেয়েকে এই শেহতাজ খান নাভান ছুয়ে দেখা তো দূর তাকায় ও না,আর সম্পত্তি,হু, তুই তো আমার টাইপ না, নাভান এর সম্পত্তি হওয়া এতো সহজ না।আমি তোদের মতো মেয়েকে ছুয়েও দেখি না।
“তাহলে এখন কে ধরেছে আমায়?
” আমি হাত ধরেছি আর তুই যে কাল আমায় জরিয়ে ধরেছিলি,
হেরা এবার চুপ
“নাভান প্লিজ ছেড়ে দে, মেয়েটার হাতে লাগছে?রক্ত পরছে!
“হেরার হাতের দিকে তাকিয়ে ঝিনুক বলে উঠে,
” পরুক তার শরীর এর সব রক্ত ঝরে গেলেও আমার সম্মান ফিরবে না,এতো টাকার লোভ কতো টাকা চাই তোর, অই নিলয় কতো টাকা দিয়েছে তোকে? যে আমার সম্মান নষ্ট করলি?
-হেরা ও কটমট করে বলে।
“”ধুলা যতই উরুক আসমান এর গায়ে যেমন ধুলো মাখাতে পারে না,তেমনি আপনি যতই বাজে কথা বদনাম করেন না কেনো, আমার গায়ে লাগাতে পারবেন না। শেহতাজ খান নাভান।
“এতো যখন সম্মানবোধ “তো কই ছিলো সেদিন, যেদিন সবার সামনে আমায় জরিয়ে ধরেছিস?
” হেরা কঠোর ভাবে নাভান এর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
“” সেটা আমি ইচ্ছে করে করি নি,যদি জানতাম সেই বেক্তি আপনি তাহলে একটা পাগলকে ধরতাম তাও আপনাকে না, শেহতাজ খান নাভান!
প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৪
আচ্ছা হেরা কি তাকে ইনডিরেক্ট পাগল এর থেকে নিচু বানিয়ে দিলো ,না,হ্যাঁ তাকে ধরতো না কিন্তু পাগলকে ধরতো। না এটা যেনো মানতে পারলো না নাভান,নাভান আরো চেপে ধরে হাতটা হেরার,এদিকে তিতির এর যেনো অপমান টা নিজের গায়ে লেগেছে,তার! তার হিরো নাভান কে এই মেয়ে অপমান করছে! সে পিছন থেকে চুলের মুঠো ধরতে যাবে তার আগে শক্ত একটা হাত সেটা আটকে দেয়,চোয়াল শক্ত, হাতের নিল রগ ফুলে ফেপে উঠেছে,,সিলকি চুলগুলো কপালে ছড়িয়ে আছে,ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গেছে,,রাগে তার পুরু ক্যাম্পাস এর জিনিস পত্র ভেঙে ফেলতে ইচ্ছে করছে।
