Home প্রেয়সীর অনুরাগ প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২২ (২)

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২২ (২)

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২২ (২)
Sadiya Jahan Simi

“ভাই আপনি দুপুরে নিজের বাড়িতে এমন লুকিয়ে এসেছিলেন কেন? আর দৌড়ে পালালেনই বা কেন?”
রনির কথায় আভিয়ান শক্ত চোখে চাইলো।মান ইজ্জত কিছুই রইল না আজ। নিজের বাড়িতে নিজেই চুরি করতে হলো। নিশ্চয়ই ঘুম থেকে উঠে রনিকে দেখে কুফা লেগেছে। মায়াবীর জন্য করেছে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু রনির কারণে আজ লজ্জায় পড়তে হলো কতরকম। আভিয়ান এসব মনে করেই খপ করে থাবা মেরে রনির কলার ধরে। রনি অবাক হয় এহেন কান্ডে।
অবাক হয়ে বললো, “ভাই কি হয়েছে?”
নিস্তব্ধতা ভেঙে আভিয়ান সপাটে চড় মেরে বসে রনির গালে। হঠাৎ আক্রমনে ভরকে যায় রনি। হলো কি আজ। উল্টো পাল্টা কিছু করেছে বলে তো মনে পড়ছে না।
গালে হাত দিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,

“কি করেছি আমি? মারছেন কেন ভাই!”
আভিয়ান ফোঁস ফোঁস করে উঠে। দাঁত কিড়মিড় করে বলে, “কাল্লু রনি তোর মুখ দেখাতে আজ আমার সারাটা দিন মান ইজ্জত শেষ করে চলতে হয়েছে।”
রনি অবাক হলো আভিয়ানের কথায়। মুখ দেখাতে মান ইজ্জত শেষ! কিছুই ঢুকছে না মাথায়।
“আমি কি করেছি ভাই! আর কাল্লু রনি বলছেন কেন? আমি তো এতো কালো নই ভাই।”
“চুপ কর আবাল।”
আভিয়ানের মুখের ভাষা শুনে তব্দা খেয়ে বসে রনি।সিরিয়াসলি, আভিয়ান শিকদার এসব শব্দ উচ্চারণ করছে মুখ দিয়ে!
“ভাই আপনাকে ভাবীর রোগ পেয়েছে!”
হঠাৎ রাফসার কথা শোনায় আভিয়ানের রাগ উধাও হয়ে গেল। ভ্রু কুঁচকে বলে,
“মানে কিসের রোগ? কি উল্টাপাল্টা বকছিস?”
“আপনি আমায় আবাল বললেন! এটাতো ভাবীর জাতীয় ডায়লগ।ভাই আপনি এসব শব্দ বলেন আজ কাল?”
রনির কথায় থতমত খেয়ে যায় আভিয়ান।চ্যালা গুলোর সামনে বোধহয় মান ইজ্জত ধুলোবালিছাই হয়ে যাবে।হাত দিয়ে ঘাড় ঢলে দাম্ভিক কন্ঠে শুধায়,
“আমার বউয়ের ডায়লগ না বলে কি তোর বউয়ের ডায়লগ বলব!”
রনি দুপাশ মাথা নাড়িয়ে না বলে। জিভ কেটে বলে,

“ছিঃ ভাই আমি এটা কখন বললাম। কিন্তু ভাই আমার তো বউ নাই গো ভাই। ওওও ভাইইই আমি এতিম। বউ নেই আমার।”
শেষের কথাগুলো আফসোসের স্বরে বলল রনি।আভিয়ান ঠেশ মেরে বলল,
“তোর মতো কালার কাছে মেয়ে দিবে কে? দিনের বেলায় দেখা যায় না। রাতে তো তোর বউ তোকে দেখে মারবে এক চিৎকার। বেচারির জন্য আমার আফসোস হয়। তোর মতো কালা ওই বেচারির কপালে আছে।”
অপমানে দুঃখে চোখ বেয়ে পানি নেমে আসবে যেন। আভিয়ানের মতো লোক ওকে অপমান করছে!
“ভাই টাকা দেন।”
“কিসের টাকা?”
“বোনাস দিন এমনি ‌।”
আভিয়ান ভ্রু কুঁচকালো।কিসের বোনাস আবার। এমনি আবার বোনাস দেয়!
“বোনাস দিব কোন খুশিতে?”

রনি চটপট উত্তর করল, “আজ অর্ধেক বেলা ভাবীর সাথে ছিলেন। সে খুশিতে অন্তত বোনাস দিন কিছু।”
আভিয়ান আর কথা বাড়াল না। বাধ্য ছেলের মতো পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে বেশ কিছু হাজারি নোট দিল।টাকা দেখে রনির চোগ চকচকে হয়ে উঠে।খপ করে আভিয়ানের হাত থেকে টাকা গুলো নিয়ে পকেটে ভরে রাখলো। আর বলল,
“ভাই আমি শপিং মলে যাবো।”
“কেন?”
“নাইট ক্রিম কিনতে।”
আভিয়ান অবাক হলো।নাইট ক্রিম দিয়ে কাজ কি।
“নাইট ক্রিম দিয়ে তুই কী করবি! এটাতো মেয়েদের ব্যবহার করার জিনিস।”
“ক্রিম মেখে ফর্সা হবো। তারপর মেয়ে পটিয়ে বিয়ে করব। তাও আপনার আগেই করব।”
আভিয়ানের হাসি পেল।তবে হাসলো না। গম্ভীর কন্ঠে শুধায়, “আচ্ছা যা। দেখা যাবে কার বিয়ে আগে হয়।”

“সামনে থেকে সরুন।”
“নো।”
রাফসা জ্বলন্ত চোখে তাকালো।সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে উদ্যান। স্টাডি রুম থেকে বেরিয়ে যে যাবে সে পথটুকু অব্দি নেই।
রাফসা ফের চোখ পাকিয়ে শাসিয়ে বলল, “সরতে বলেছি না।সরছেন না কেন?”
উদ্যান অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইল।কেমন শাসিয়ে কথা বলছে। ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো খানিক।রাফসা উদ্যান কে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলেই উদ্যান খপ করে হাত ধরে আটকে দিল। পা দিয়ে ঠেলে রুমের দরজা আটকে লক করে দেয়।গালের ভিতরে অভ্যন্তরীণ ত্বক স্পর্শ করে গোল করে নিঃশ্বাস ফেলে।ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো রাফসার দিকে। হাত ছাড়ানোর জন্য রাফসা আপ্রাণ চেষ্টা করছে।হাত টানাটানি করতে করতেই বলল,
“ছাড়বেন আপনি?”
“নো।পড়তে বস, বায়োলজি পড়াবো।”
রাফসা জেদি গলায় বলে,
“পড়ব না আমি।”

উদ্যান রাফসার পানে আরেকটু চেপে দাঁড়ায়। ঠোঁট কামড়ে ভ্রু উঁচিয়ে বলল, “তো প্র্যাকটিক্যাল করবি?”
রাফসা তব্দা খেয়ে যায়। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।কি বলছে এই লোক। উদ্যান ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে, “কি?”
রাফসা বিরক্ত চোখে তাকিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলে, “এভাবে চেপে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? কোলে উঠবেন?”
উদ্যান ফিচলে হাসে। তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে কপাল চুলকিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রাফসার চোখে। সামান্য ঘাড় কাত করে হাস্কি স্বরে বলল,
“I don’t have any problem if you can handle my weight of eighty kilos.”
রাফসা স্তম্ভিত হয়ে গেল। চোখজোড়া যেন এক্ষুনি বেরিয়ে আসবে। রাফসার দৃষ্টি দেখে উদ্যান হাসলো। নাকমুখ কুঁচকে রাফসা চেঁচিয়ে উঠলো,
“ইয়াক থু, নষ্ট পুরুষ। অসভ্য লোক একটা।”
“ওকে।”
রাফসা উদ্যানের হাতে হঠাৎ কামড় বসালো। সর্ব শক্তি দিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখে। উদ্যানের নড়চড় নেই। ঠান্ডা চোখে রাফসার কান্ড দেখছে। উদ্যানের টু শব্দ না পেয়ে রাফসা ভ্রু কুঁচকালো।তবে ছাড়ল না হাত। পরমুহূর্তেই তরল পদার্থের আভাস পেয়ে ছেড়ে দেয়। রক্ত বেরিয়ে গিয়েছে একদম। রাফসার খারাপ লাগে খানিক। ইশশশ কি অবস্থা হয়েছে হাতের। তাকিয়ে রইল উদ্যানের হাতের দিকে।
উদ্যান গম্ভীর কন্ঠে শুধায়,

“শক্তি শেষ? এবার আমি দেবো? তাহলে সমান সমান হবে।”
রাফসা কিছু বলল না। উদ্যান হঠাৎ করেই এক হাত দিয়ে রাফসার কোমর জড়িয়ে শূন্যে তুলে নেয়।রাফসা চেঁচিয়ে উঠলো।চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে উদ্যান দু পায়ের মাঝখানে রাফসার দুই পা নিয়ে চেপে ধরে।যেন উঠতে না পারে।
“আপনি কিন্তু এখন বেশি বেশি করছেন।”
“এখনো বেশি বেশি করিনি। পড়া শুরু কর।”
রাফসা রেগে বলল, “আপনার সাথে কথা বলতেই ইচ্ছে করে না। আবার পড়ব ভাবছেন!”
“আচ্ছা।”
“কি আচ্ছা?”
উদ্যান বায়োলজি বইটা নিল। বইয়ের মাঝে দৃষ্টি রেখে বলল,
“তুই আমার পেছনে কি বলিস আমার নামে?”
“আমি আপনার নামে সচামলোচনা করি না।”
উদ্যান ঠোঁট বাঁকিয়ে সূক্ষ্ম হাসে। পৃষ্ঠা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে গম্ভীর কন্ঠে শুধায়,
“ইডিয়েট সচামলোচনা না, সমালোচনা হবে ওটা।”
রাফসার নাকের পাটা ফুলে উঠল। রাগে রীতিমতো শরীর কাঁপছে। রাগে হুঁশ হারিয়ে কি বলেছে খেয়াল করেনি। ত্যাড়া ভাবে বলে,

“একই হলো। এতো ভুল ধরতে হবে না।”
উদ্যান নিষ্প্রভ কন্ঠে জানতে চাইল,
“আমি তোর থেকে কত বড় জানিস? এভাবে ঝাড়ি মেরে কথা বলছিস।”
রাফসা টান টান হয়ে বসলো। চেঁচামেচি করে মাথা ধরে আছে। মুখ বাঁকিয়ে বললো,
“কত বড় ? জানিনা।”
উদ্যান না তাকিয়েই বলে, “আমার এ টু জেড সব জানিস, মুখস্থ আছে।আর বলছিস জানিস না। ভেরি ব্যাড মেডাম।”
“হবেন নয় দশের বড়।”
উদ্যান অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে বলল,
“সিরিয়াসলি! আমার বার্থ ডেট কবে?”
“ ফেব্রুয়ারি।”
“কত তারিখ ?”
“সতেরো।”
উদ্যান গম্ভীর চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কত হবে?”
“ঊনএিশ।” রাফসার ফটাফট উওর।
“গুনে গুনে প্রায় এগারো বছরের বড়।আর তুই আমাকে ধমকে কথা বলছিস?”
রাফসা শুনল উদ্যানের অভিযোগ।ঠেশ মেরে হেসে বলে উঠলো,
“ছিঃ বড় ভাই, বুড়ো হয়ে গেলেন।এখনো বিয়ে করেননি। আপনার কপাল পুড়ল যে।বিয়ে করবেন কবে?”

“যেদিন আমার বউ বড় হবে।”
রাফসা মুখ বাঁকিয়ে বললো, “এতো বউ বউ করবেন না।”
“কেন হিংসা হচ্ছে?” সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উদ্যানের।
“উহুঁ, আফসোস হচ্ছে।”
“কেন?”
রাফসা হাই তুলে সোজা হয়ে বসে।হাত দিয়ে চুল পেঁচিয়ে বলল, “ওই যে আপনার কপালে শনি আছে।”
“সেটা আমার না, আমার বউয়ের কপালে আছে।”
রাফসা বুঝতে পারেনি উদ্যানের কথা।ভাবতে ভাবতে নাক চুলকায়। উদ্যান তাকালো সেসময়। দৃষ্টি রাফসার নাকে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২২

“নোস পিন পড়িস না কেন?”
রাফসা চোখ তুলে তাকায়।নাকে হাত দিয়ে বলে উঠলো, “নাক ফুটো করিনি দেখছেন না?”
উদ্যান শুনল।কি যেন একটা ভেবে বলে উঠলো,
“নোস পিন এনে দেবো। পার্লারে গিয়ে নাক ফুটো করে আসিস।”
“নাক ফুটো করব না। আপনার ইচ্ছা হলে গিয়ে আপনি নোসপিন পড়ে বসে থাকুন।নয়তো আপনার বউকে গিয়ে পড়ান।”
“আচ্ছা।”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২২ (৩)