Home প্রেয়সীর অনুরাগ প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩৫

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩৫

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩৫
Sadiya Jahan Simi

আলো আর আভিজাত্যের মায়াবী সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। বিকেলের আলো পুরোপুরি ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই পুরো রাজপ্রাসাদ সম্বলিত মির্জা বাড়িটি যেন এক রূপকথার নগরীতে পরিণত হলো। গেট থেকে শুরু করে মূল বাড়ি পর্যন্ত বিশাল বাগানটি হাজার হাজার চিলতে সোনালী আলোর মরিচ বাতিতে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গাছগুলোর ডাল থেকে ঝুলছে কাঁচের তৈরি ছোট ছোট ফানুস, যার ভেতরে জ্বলছে মৃদু মোমবাতি। কৃত্রিম ফোয়ারার পানির ওপর ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে শত শত পদ্ম আর গাঁদা ফুল। সেই পানিতে যখন ওপরের আলোর প্রতিফলন পড়ছে, তখন চারপাশটা এক মায়াবী আলো-ছায়ার খেলায় মেতে উঠেছে।

বাড়ির পেছনের বিশাল লনে তৈরি করা হয়েছে সেন্ট্রাল এয়ার-কন্ডিশন্ড বাউন্ডারি। চারপাশে তাজা বিদেশি লিলি, রজনীগন্ধা আর গাঁদা ফুলের তীব্র সুবাস। স্ট্রেজটি কোনো সাধারণ স্ট্রেজ নয়। থাইল্যান্ড থেকে আনিয়ে নেওয়া হাজার হাজার তাজা সাদা আর হলুদ অর্কিড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এক বিশাল ব্যাকড্রপ। স্ট্রেজের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে হাতির দাঁতের রঙের একটি রাজকীয় সোফা, যার হাতলে সূক্ষ্ম সোনার জলছাপ। মেঝেতে কার্পেটের বদলে বিছানো হয়েছে মখমলের নরম গালিচা। এক কোণায় বড় বড় স্পিকার। যেখানে বেজে বাজছে গরম গান । যা পুরো পরিবেশের আভিজাত্যকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। মিমের বাবা ইতালির রোমে একটি নামকরা প্রাইভেট কোম্পানির শ্রমিক। বড় মেয়ের বিয়েতে তিনি কোনো কমতি রাখেননি। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতে দ্বিধাবোধ করছেন না মোটেও।

আমন্ত্রিত অতিথিদের জৌলুস
সন্ধ্যার পর থেকেই দামি গাড়ির বহর এসে থামছে গেটে। গাড়ি থেকে নামছেন শহরের নামী-দামী সব মানুষ। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন নেতা এসেছে। ফরাজী বাড়ির কর্তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছাড়াও তাদের মাঝে আছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই তো ব্যস্ত নেতাগণ গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অব্দি মিস দিল না। সাথে আছে ফ্যামিলির মানুষ।
স্ট্রেজের বাম পাশে একটি দীর্ঘ টেবিল জুড়ে সাজানো রয়েছে হলুদের ডালাগুলো। তবে এগুলো সাধারণ বাঁশের ডালা নয়, মখমলের কাপড় ও রুপার লেস দিয়ে মোড়ানো বিশেষ ট্রে। কাঁচের বড় বড় বাটিতে রাখা হয়েছে কাশ্মীরি জাফরান মেশানো হলুদের পেস্ট। দুটি ডালা মেহেদি দিয়ে সাজানো। বাকিগুলোতে রয়েছে আরো নানান কিছু।

উদ্যান এসেছে অব্দি আর নিচে নামেনি। মাহিনের রুমেই বসে আছে ঘাপটি মেরে। রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে রেখেছে। হাত জোড়া মুষ্টিবদ্ধ করা। এই হালকা শীতের মাঝেও তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের কোণা চিকচিক করছে। বোঝাই যাচ্ছে বেশ রেগে আছে সে। মাহিনের রুমে একলাই আছে উদ্যান। ছেলেরা ফ্রেশ হয়ে বেরিয়েছে সেদিকে। তাকে জোড় করলেও যায়নি। রাফসাকে বার বার ফোন দেওয়ার পরেও ওপাশ থেকে কোনো রেসপন্স আসছে না। এতে ভারী চটে আছে উদ্যান। আকাশ পাতাল ভাবনার মাঝেই খট করে দরজা খোলার শব্দ পেয়ে চোখ তুলে তাকাতেই রোহানকে চোখে পড়ল। কেমন ক্যাবলার মতো হাসছে দাঁত কেলিয়ে। মনের মধ্যে এক মুহূর্তের জন্য ভেবে বসেছিল এই বুঝি তার ঘাড়ত্যাড়া বউটা এসেছে। বসা থেকে ততক্ষণাৎ উঠে পায়চারি করতে করতে ফের ফোন লাগালো কাঙ্খিত নাম্বারে। রিং হচ্ছে কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না। রাগে ফোনটা ছুড়ে মারে বেডের উপর। এইদিকে উদ্যানের এহেন আচরণে রোহান অবাক হলো। বুঝতে পারল কি কারণে রেগেছে। এগিয়ে এসে বলল,

” এমন করছিস কেন? তোর বউ তো আর ভেগে যাচ্ছে না কোথাও। মাথা ঠান্ডা কর। মাথা গরম হওয়ার কথা আমার। কিন্তু মাথা গরম করছিস তুই। ব্যাপারটা পুরো উল্টো হয়ে গেল না?”
উদ্যান এমনিতেই বেশ রেগে আছে। তারউপর রোহানের এহেন অহেতুক কথায় ভ্রু কুঁচকে যায় তার। শক্ত কন্ঠে শুধোয়, ”একদম ফালতু কথা বলবি না। এই বেয়াদব কোথায় গিয়েছে? ফোন ধরছে না একটা বারও।”
” আহহ সোনা মনা কানা রাগ করতে মানা। তোর বেয়াদব পার্লারে গিয়েছে। সাদা পাউডার মেখে আজ ভূত সেজে আসবে।”
উদ্যান বিরক্ত হয়ে উল্টো ঘুরে গিয়ে সোফায় বসল। রোহান তা দেখে নিজেও বসল ‌ রয়ে সয়ে বলল,
” আমার ললনা ছলনা গিয়েছে পার্লারে। বস্তা বস্তা সরকারি ময়দা মাখছে বোধহয়। ছেলেরা দেখে পরে পাগল হলে কি হবে? আমার ২৪০ নাম্বার ক্রাশ অক্কা পেয়ে যাবে আমার কাছ থেকে।”

” ওরা কখন গিয়েছে পার্লারে?”
উদ্যানের প্রশ্নে রাগের চেয়ে চিন্তার অভাব বেশ। বোধহয় চিন্তিত খুব। রোহান মোটেও অবাক হলো না। এসব সে কয়েকবছর যাবত ধরে দেখছে। বলল,
” দুপুরে খাওয়া দাওয়া করেই বেরিয়েছিল। বুঝিসই তো ওরা মাইয়া মানুষ। এক ঘণ্টার কথা বলে হাওয়া হয়ে যায়। ওরা বোকার স্বর্গে বাস করা দজ্জাল নারীগণ,তোমরা একের পেছনে কেন দুটো শূন্য লাগাতে ভুলে যাও! এই কারণে তোমারদের কপালে নোয়াখালীর ভাষায় দুটো হিছার বাড়ি মারি।”
” চুপ করবি তুই?”
উদ্যানের গর্জনে থতমত খেয়ে গেল বেচারা রোহান। ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করল। কিছু মনে পড়ার ভঙ্গি করে বলল,
” একটা লাস্ট কথা বলি?” উদ্যানের কঠোর চাহনি দেখেও দমল না রোহান। গড়গড় করে বলল,
” তোদের বাচ্চা হলে আমাকে মাকা ডাকবে নাকা কামা ডাকবে? আমার লজিক ঠিকঠাক বলতে পারছে না।”
” তোর লজিকের মায়রে বাপ।”
উদ্যানের এহেন কথায় ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইল রোহান। কোটর হতে এক্ষুনি যেন চোখজোড়া বেরিয়ে তার হাতে চলে আসবে। বেচারা বিস্ময় প্রকাশ করার সময় পেল না। তার আগেই উদ্যান হনহন করে রুম ত্যাগ করে।

’মায়াবী প্যালেস’ এ আজ যেন নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। এখানে মানুষের আনাগোনা না থাকলেও গুটি কয়েক গার্ড পাহারাদারে থাকে। তবে আজ যেন মৃত্যুপুরীতে রুপ নিয়েছে বাড়িটি। কেমন অন্ধকারে ডুবে আছে পুরো বাড়িটি। জিরো লাইটের সোনালী আলোয় কিছুটা আলোকিত হয়ে আছে রুম। আশে পাশে কারো অস্তিত্ব টের পাওয়া বেশ দুষ্কর হয়ে গেছে যেন। উপরের রুম থেকে মৃদু হাসির ফোয়ারা ভেসে আসছে। রুমটিতে কেমন লাল নীল আলো জ্বলছে। মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে আছে কাঁচের টুকরো। বালিশের ধবধবে সাদা তুলোগুলো ছড়িয়ে আছে আশ পাশ। ড্রেসিং টেবিলের আয়না ভেঙ্গে গুড়া গুড়া টুকরোগুলোর স্থান হয়েছে মেঝেতে। জানালা খোলা সম্পূর্ণ। জানুয়ারির হালকা বাতাস বয়ছে জানালার ফাঁক গলে। দুই পাশের পর্দা গুলো দুলছে বাতাসে। সেই আলো এসে মুখে পড়ছে আভিয়ানের। বেডের কোণে ঠেশ দিয়ে বসে আছে। চোয়াল শক্ত বেশ। এতোক্ষণ দুই হাত দিয়ে তান্ডব চালিয়েছে রুমে। যার দরুন হাত চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।

সেদিকে কোনো খেয়াল নেই তার। কেমন শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার থেকে একটু খানি দূরে মেঝেতে পড়ে থাকা ভাঙ্গা কাঁচের টুকরোগুলোর পানে। তার পাপ তার ভালোবাসা যেন আজ একএে সাগরে মিশেছে। আর কোনো ভেদাভেদ নেই। সব মিলে একাকার আজ। নিজেকে কি ঘৃণা করা উচিত তার? নাকি ভাগ্যের উপর পৃথিবীর সময়টুকু দুঃখ তার নামেই লেখা! সে পাপী। সব কালেই ভাগ্যের প্রতি উদাসীন সে। কিন্তু আজ কেন যেন বিষণ আফসোস হচ্ছে তার ভাগ্যের উপর। লম্বা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। জানালার ফাঁক গলে আসা বাতাসে দুলছে তা আপনগতিতে। চোখের উপর এসে পড়ল গুটিকয়েক চুল। সরানোর কোনো তাড়া নেই। হুট করেই ঠোঁটের কোণে উপচে পড়ল হাসি। কেমন করে যেন বলল,
” আমার ভালোবাসার উপর সমস্ত পাপের অভিসাপ পড়েছে?”
বলেই চুলগুলো সরিয়ে নিল। রয়েসয়ে উঠে দাঁড়ালো মেঝে হতে। টেবিলের উপর থেকে একটি প্যাকেট হতে বের করে আনলো এক ব্র্যান্ডের সিগার। দুই আঙ্গুলের মাঝখানে ধরে ঠোঁটে পুড়ল। দিয়াশাই দিয়ে লাল আগুন ধরিয়ে লম্বা একটি টান দিল। তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে গেল খোলা জানালার পাশে। রাতের আকাশটাও আজ কেমন শূন্য লাগছে। তার মাঝে চাঁদ তারা কেউই নেই।

পার্লার থেকে বাড়ি ফিরেছে মেয়েরা। গাড়ির থেকে নেমে গেইটে দাঁড়িয়েই দোপাট্টার চার কোণ রাফসা,ঊষা, মাইশা,জারা ওরা চারজন মিলে ধরল। মাঝে কাঁচা হলুদ শাড়ি পড়া বউ। ভারী মেকআপে সজ্জিত সে। প্রত্যেকের সাজ কিছুটা সিম্পল হলেও মিমের সাজ বেশ গাঢ়ো। সেখান থেকে স্ট্রেজে উঠিয়েছে মিমকে। ভিডিও ম্যান ব্যস্ত ভিডিও নিতে। ওরা চারজন নেমে যাওয়ার পর শুরু হয় মিমের ফটো তোলা। ছেলেরা ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি পড়েছে। রাফসা আর দাঁড়ালো না। ফোনটা বাড়িতে রেখে গেছে। বাড়ির সবাই এখানেই আছে। কিন্তু উদ্যান কে দেখতে পেল না এখনো। তার মানে এই লোক এখনো আসেনি। রাফসা ফোন দেওয়ার জন্য আশে পাশে তাকাল। সবাই তাদের ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছবি তুলতে। অগ্যতা বাধ্য হয়েই পথ ধরে বাড়ির। ভেতরে ঢুকতেই বাড়িটাকে কেমন ভুতুড়ে মনে হলো রাফসার। একজন মানুষ ও নেই। এতো কিছু পাওা না দিয়ে দোতলায় চলে যায়। রুমের সামনে এসে দেখল দরজাটা খোলা। ভেতরে ঢুকে বালিশের নিচে থেকে ফোন বের করে পেছনে ঘুরতেই ধাক্কা কারো খেল প্রশস্ত বুকের সাথে। রাফসা থতমত খেয়ে সরে দাঁড়ায়। চোখ তুলে তার পুরুষকে দেখে ভয়টা কেটে গেল এক মুহূর্তে‌ সেখানে ভিড় করল রাজ্যের বিস্ময়। এই লোক রুমে কি করছে? আর এসেছে যখন নিচেই বা যায়নি কেন! রাফসাকে চোখের সামনে দেখে কেমন যেন ঠান্ডা হয়ে গেল উদ্যান। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে রাগ জমেছিল সেখানে এখন রাগের আভাস টুকু অব্দি নেই। আছে একরাশ মুগ্ধতা।
উদ্যান কে এমন করে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অস্বস্তি হয় রাফসার। কিছু মনে পড়তেই ফট করে চোখ নামিয়ে ফেলল সে। এদিক ওদিক তাকিয়ে পালানোর রাস্তা খুঁজছে। উদ্যান বুঝল রাফসার অস্বাভাবিক আচরণের মানে। ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো খানিট।

” কোথায় ছিলি?”
রাফসা চোখ না তুলেই বললো,
” আপনাকে বলব কেন? কে আপনি!”
এহেন কথায় উদ্যান ধীর পায়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে আসে। অধিকার নিয়ে রমনীর কোমড় জড়িয়ে হেঁচকা টানে বুকে এনে ফেলল। সামনের এলোমেলো চুলগুলো বা হাত দিয়ে সরিয়ে কানে গুঁজে দিয়ে সুর ধরে।
– চলনা হাত ধরে এক পা দু পা করে
ঘুরি ফিরি আজ আবার…
যত কথা বাকি ছিল মনে গোপনে
শেষ করি আয় এবার…
একবার তোকে বুকে নিয়ে
এ কথা আমি বলে যেতে চাই…
তুই জানরে, আমার জানরে
-বেচেঁ থাকার তুই কারণ
ও রে জানরে, আমার জানরে
ভুলে যা না সব বারণ
তুই জানরে, আমার জানরে
বেঁচে থাকার তুই কারণ…..

রাত বারোটায় জিহাদের বাড়ি থেকে ছেলেরা এসেছে। সাথে মেয়েরাও। বউকে হলুদ লাগিয়ে যাবে। প্রায় পনেরোটা বাইকে এসেছে। গান বাজছে জোরে জোরে। একে অপরকে হলুদ লাগিয়ে দিচ্ছে। বড়রা এদিকে নেই এখন। অতিথিদের খাওয়া দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত ওদিকটায়। রোহান স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ছেলেটার কাছে গেল। গান বন্ধ করে জোরে চেঁচিয়ে বলল,
” চাটগাঁইয়া বিয়েত এইল্লা গান আর ন চলিবু। এহন শুরু অইবু আরার চিটাইংগে গান। বেয়াগ্গুন মিলিয়েরে ফাডায় ফেলা।”
রোহানের কথায় সবাই চেঁচিয়ে উঠলো আনন্দে। মুহুর্তেই বেজে উঠল চট্টগ্রামে একটি গান।

যেক্তে এক্তে গরো কিল্লাই
আতে মশকাকরি
কিছু হইলে গাল ফুলোয় তোয়
থাকো চুপ মারি
তোয়ারে দেইলে হার মাতওয়া
রাইত পারিবো ঠিক
সারা গায়ে রুপের আলো
গরে রে ঝিকমিক
তুই মাঝে মাঝে অইন জ্বালায়দি
লুকাই থাকো গই
এই বয়োসত প্রেমর জ্বালা
হুনা কেনে সই তোয় হুনা কেনে সই
আরে ফুইসা ফুইসা
বাইল দি প্রেমর মিডা হতা হই
কলি ফুলত দাগ লাগাইলা
প্রেমর মধু লই
ওরে রসে কসে নইলে পিরিত
মজা পাইবা কই
পিরিত করি লাপ্পানকি আর
খাইল্লা থাহো গই
রাত কিছুটা বাড়ার সাথে সাথে সুর বদলে গিয়ে বেজে উঠেছে ডিজে-র ধামাকা গান। বিশাল এলইডি স্ক্রিনের সামনে শুরু হলো বর-কনে পক্ষের তরুণ-তরুণীদের ডান্স পারফরম্যান্স। ড্যান্স ফ্লোরের চারপাশ থেকে নিয়ন আলো আর লেজার রশ্মি পুরো পরিবেশকে এক আধুনিক ও উৎসবমুখর রূপ দিল। একদিকে চলছে নাচ-গান, অন্যদিকে অভিজাত অতিথিদের মৃদু হাসির শব্দ আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানি সব মিলিয়ে এক এলাহী কাণ্ড।

”জনগণের পিটুনি খেয়ে এসেছে আজ আজমল শিকদারের দলের লোকজন।”
এহেন কথায় কেশে উঠল কাদের চৌধুরী। বিস্ময়ে চোখজোড়া যেন বেরিয়ে আসবে। ওনার দৃষ্টি দেখে মৃদু হাসলেন অপর ব্যক্তি। বললেন,
” দলের কয়েকজন ছেলে নাকি এক মেয়েকে ইফটিজিং করেছে। আজ সে এলাকায় গিয়েথে ভোট চাইতে। কিন্তু সব কপাল। গনপিটুনি খেয়ে এসেছে লাফাঙ্গাগুলো।
ওনার কথায় চোখ মুখ অন্ধকার হলো দুজনের। এমন হলে তারা কোনো রকম ক্ষমতায় যেতে পারবে না। আর ব্যবসায় এমনিতেই লাল বাতি জ্বলছে। একজন বললেন,
” এখন উপায় কি?”
লোকটা এহেন প্রশ্নে হাসলেন। হাতে ধরা সিগারেটে একটা লম্বা টান দিয়ে ধোয়া ছাড়ল। রয়েসয়ে বলল,

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩৪

” আন ক্রেভিয়ান।”
” কে সে?”
” ফরাজী বাড়ির শুভাকাঙ্ক্ষী। আব্বাস ফরাজীর ছেলে। আমার ছেলে আন ক্রেভিয়ান।”
আব্বাস ফরাজীর কথা শুনে যেন অবাক হতে ভুলল তারা। এতোক্ষণে বুঝতে পেরেছে আন ক্রেভিয়ান কে। কিন্তু কখনো তাকে সামনাসামনি দেখেনি। সেই আন ক্রেভিয়ান কিনা আব্বাস ফরাজীর ছেলে! ফরাজী বাড়ির ছেলে? কিন্তু কে সে!

প্রেয়সীর অনুরাগ শেষ পর্ব