Home প্রেয়সীর অনুরাগ প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭
Sadiya Jahan Simi

কেটে গেছে ছয়টা মাস। এই ছয় মাসে অনেক কিছু পাল্টেছে। উদ্যান সুইজারল্যান্ড যাওয়ার আজ ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। সবাই দৈনন্দিন জীবনের কাজের ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। উদ্যানের সাথে বাড়ির সবার কথা হয় নিয়ম করে। শুধু রাফসা বাদে। উদ্যান কখনো রাফসার সাথে কথা বলেনি বা বলতে চায়নি। রাফসার সাথে বাড়ির কেউ কথা বলতে — বললে উদ্যান সবসময় এড়িয়ে গেছে। রাফসা কিছু মনে করেনা। ও নিজেও কথা বলতে চায়নি। এখন আর হুটহাট করে কাঁদে না রাফসা। নিজেকে যেন পাথরে তৈরি করেছে। কেউ চাইলেও সহজে ভাঙ্গতে পারবে না। আসলেই কি তা? কিশোরী মনের প্রথম ভালোবাসা এতো সহজে ভোলা যায়? যারা বলে — স্ট্রং হতে, সেই মানুষটাকে ভুলে যেতে,, তারা কখনো ভালোবাসার মানে বোঝেনি। প্রথম ভালোবাসা ভালো এতো সহজ নয়। প্রথম ভালোবাসা পূর্ণতা না পেলেও — তা সারাজীবন মনের এককোনে রয়ে যায়। যদি আবার হয় একতরফা ভালোবাসা —

আজ এপ্রিলের সাত তারিখ। দশ তারিখ থেকে রাফসার এসএসসি পরীক্ষা আরম্ভ হবে। এখন রাফসা পড়াশোনায় খুব মনোযোগী।‌ ওদের স্কুল থেকে বিদায় দিয়েছে আরো অনেক আগেই। তবুও আজ একবার সবাই স্কুলে যাবে।
রাফসা স্কুল ড্রেস পড়েছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে গিয়ে খেয়াল করে, চুল আর আগের মতো নেই। এখন কোমড় ছাড়িয়ে নিচে নেমেছে। কখনো মাথায় তেল না দেওয়া মেয়েটা , চুলে তেল দিয়েছে। যত্ন করেছে নিজের। গায়ের রং টা এখন শ্যামলা না — অনেকটা উজ্জ্বল হয়েছে। আগের থেকে কিছুটা মুটিয়েছে।
চুল আঁচড়ে রাফসা বেণি করে নেয়। তারপর ক্লিপ দিয়ে বেঁধে নিল। হিজাব নিয়ে বাঁধতে শুরু করে। এমন সময় দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে হুমাইরা ফরাজী। নাস্তা গুলো হাত থেকে নামিয়ে টেবিলে রাখে। মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলল।”আমার মেয়েটা কত পরিবর্তন হয়েছে। চেনাই যায় না। আগের রাফসা আর এখনকার রাফসা আকাশ পাতাল পার্থক্য।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

মায়ের কথা শুনে রাফসা পেছনে ফিরে। এই কথায় রাফসার মুখে বিষাদের হাসি ফুটে উঠে। পুনরায় হিজাব বাঁধতে বাঁধতে মৃদু হেসে বলল।সময় মানুষকে পরিবর্তন করে দেয় আম্মু। সব পরিস্থিতির স্বীকার।”
হুমাইরা ফরাজী নুডুলস এর বাটি নিয়ে রাফসার সামনে এসে দাঁড়ায়। বাটি থেকে এক চামচ নুডুলস নিয়ে মুখের সামনে ধরে। রাফসা তা মুখে পুরে নেয়। হুমাইরা ফরাজী মেয়ের মুখ পানে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল।”তুই কি এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছিস মা? তোর এই পরিবর্তনের পিছনের কারণটা কি?”
“তেমন কিছু না।”

রাফসাকে যতবার হুমাইরা ফরাজী এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছে ততবারই এড়িয়ে গেছে। এই ছয় মাসে হুমায়রা ফরাজী মেয়েকে হাজার বার এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছে। তবে ফলাফল শূন্য সবসময়ই। ওনি আর কিছু জিজ্ঞেস করেননি। রাফসাকে খাইয়ে দিয়ে চুপচাপ চলে যায় রুম থেকে। রাফসা হাসে। অবাক হয় এমন পরিবর্তনে। বয়স কত ওর? ষোলো চলছে। তবে ম্যাচিউরিটি যেন আকাশ ছুঁয়েছে। আয়নায় নিজেকে আর একবার দেখে নিল। তারপর কিছু টাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। রাফসাকে দেখে রিশান এগিয়ে আসে।

“নাস্তা করেছিস?”
রাফসা মাথা নাড়িয়ে বলল।”হ্যাঁ। নুডুলস খেয়েছি।”
“আয় আমি নিয়ে যাচ্ছি স্কুলে।”
রাফসা বাঁধা দিয়ে বলল।”না। তুমি গিয়ে রেস্ট করো। জ্বর নিয়ে এইভাবে টইটই করবে না। যাও।”
রিশান বোনের কেয়ার দেখে হাসে। মায়ের মতো শাসন করে।হেসে বলল।”কিছু হবে না। চল, ভাইয়া দিয়ে আসি।”
রাফসা কিছু শোনে না। বেরিয়ে যেতে যেতে বলল।”আমি চলে যাচ্ছি। তুমি রুমে যাও। আল্লাহ হাফেজ।”
রিশানকে আর কিছু বলতে না দিয়ে চলে যায় রাফসা। রিশান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

সুইজারল্যান্ডের সেই হাসপাতালটা যেন শুধু চিকিৎসার জায়গা নয়—একটা নীরব, শুদ্ধ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। আল্পস পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে থাকা কাঁচে মোড়া বিশাল ভবনটি দূর থেকেই ঝকঝক করে। ভেতরে ঢুকলেই নাকে আসে জীবাণুমুক্ত বাতাসের শীতল গন্ধ, চারপাশে নিঃশব্দে চলা আধুনিক যন্ত্রপাতির হালকা শব্দ সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত শান্তি।

উদ্যানের কেবিনটা হাসপাতালের একদম উপরের ফ্লোরে। কেবিনের একপাশ জুড়ে বিশাল কাচের জানালা—সেখানে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে বরফে ঢাকা পাহাড়, ধীরে ধীরে ভেসে যাওয়া মেঘ, আর নিচে ছোট ছোট কটেজের ছাদ। দিনের আলো কেবিনে ঢুকে পড়ে নরম রুপালি ছায়া হয়ে।
কেবিনের ভেতরে সবকিছু পরিমিত ও পরিশীলিত—হালকা ধূসর রঙের দেয়াল, কাঠের মসৃণ মেঝে, একপাশে আধুনিক হাসপাতালের বেড। পাশে মনিটর, যেখানে হৃদস্পন্দনের রেখা ওঠানামা করে—টুপটাপ শব্দে যেন জীবনের হিসাব রাখছে। দেয়ালের পাশে একটি ছোট বুকশেলফ, সেখানে মেডিক্যাল জার্নাল, হার্ট সার্জারির রেফারেন্স বই, আর একটা পুরনো নোটবুক—যেখানে উদ্যান মাঝেমধ্যে নিজের ভাবনা লিখে রাখে।

উদ্যান শুধু একজন ডাক্তার নয়—সে হৃদয়ের ভেতরের ভাষা বোঝে। তার হাতের স্পর্শে অসংখ্য হৃদয় নতুন করে ছন্দ পেয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে দাঁড়ালে তার চোখ ভীষণ শান্ত, কণ্ঠ সংযত কিন্তু দৃঢ়। স্ক্যালপেল হাতে নিলে তার আঙুল কাঁপে না—কারণ সে জানে, একটুখানি ভুল মানেই কারো জীবনের শেষ অধ্যায়।
হার্ট সার্জারির সময় উদ্যান ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে। বুক খোলা, হৃদয় দৃশ্যমান—রক্তের গন্ধ, যন্ত্রের তীক্ষ্ণ শব্দের মাঝেও তার মন স্থির থাকে। বাইপাস হোক কিংবা ভালভ রিপ্লেসমেন্ট—প্রতিটা ধাপে তার মস্তিষ্ক চলে নিখুঁত অঙ্কের মতো। সে জানে কোন ধমনী কতটুকু চাপ সহ্য করতে পারে, কোন মুহূর্তে হৃদয়কে থামিয়ে আবার চালু করতে হবে।

সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে বাড়ি ফিরে শূন্যতা অনুভব করে কিছুর। জিহান, উদ্যান একসাথে এক ফ্লাটে থাকে। উদ্যান কেবিনে এসে বসেছে — দীর্ঘ সাত ঘণ্টার অপারেশন সাকসেসফুল হলো। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এলো। ওয়ার্ড বয় সকালের ব্রেকফাস্ট দিয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে। স্যুপ, সালাদ, সকালের হালকা নাস্তা। উদ্যান এইসব খেতে বিরক্তবোধ করল। পেটের খিদে থাকায় স্যুপ খেয়ে নেয়। উদ্যানের খাওয়ার মাঝেই ফোন বেজে উঠলো। ফোন হাতে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত নাম্বার দেখে দ্রুত রিসিভ করে।
“জ্বী আঙ্কেল। সব রেডি তো?”
ওপাশের ব্যক্তির কথা শোনে উদ্যানের মুখে হাসি ফুটে উঠল। টুকটাক কিছু দরকারি কথা বলে ফোন রেখে দিল। উঠে এসে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে ব্যস্ত শহরের রাস্তা দেখে ঠোঁটে মৃদু হাসি এনে বলল।”অপেক্ষার প্রহর শেষ। ফাইনালি।”
ঠোঁটে মুচকি হাসি বিদ্যমান। একটা খবরে যেন দীর্ঘ সাত ঘণ্টার কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

রাফসা স্কুলে এসে পৌঁছায়। কিছুটা দেরি হয়ে গেছে আসতে। সবাই ইতোমধ্যে ক্লাসে ঢুকে পড়েছে। রাফসাও সেই পানে ছুটে। ক্লাসছর সামনে এসে দাঁড়ায়। অনুমতি নিয়ে বলল।
“স্যার মে আই কামিন?”
উজ্জ্বল স্যার কথায় বাঁধা পেয়ে থামে। রাফসাকে দেখে আফসোস করে বলল।”স্কুল জীবনের শেষ দিনটায় ও তুমি লেইট করে এসেছো। তুমি লেইট লতিফ থেকে গেলে। আসো।”

ক্লাসের সবাই হাসে। রাফসা অনুমতি পেয়ে ভেতরে ঢুকে। আজ সাবিকুন সায়মা একসাথে বসেছে। রাফসার জন্য জায়গা ধরে রেখেছিল। ও আসতেই চেপে বসে বসার জন্য জায়গা করে দিল। রাফসা বসে পড়ে। উজ্জ্বল স্যার তার মূল্যবান কথা শেষ করে বলল।”তোমরা যদি পরীক্ষায় ফেইল করো। কি হবে?”
সাতারুল হায় হুতাশ করে বলে।”স্যার এমন পাপের কথা বলবেন না। বাড়ির থেকে বের করে দিবে।”
“সমস্যা নেই। বের করে দিলে একটা উপায় আছে। আমাদের স্কুলের সামনে চায়ের দোকান খুলবো। যেই ছেলেরা ফেইল করবে তারা ওখানে কাজ করবে।”
মেয়েরা সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। ছেলেরা ওদের দিকে গরম চোখে তাকায়। আশরাফুল বলল।”আর স্যার যদি মেয়েরা ফেইল করে তাহলে?”

“তাহলে আর কি। রিক্সায় আলার সাথে বিয়ে কনফার্ম।”
এইবার ছেলেরা হেসে উঠলো। মেয়েদের মুখটা চুপসে যায়। উজ্জ্বল স্যার বলল।”আচ্ছা। আজ আমাদের শেষ দিন। একটু মজা করা যাক।”
ভরা ক্লাসে উজ্জ্বল স্যারের নজর পড়ে রাফসার পানে।ওকে বলে ।
” রাফসা, আমাদের একটা গান গেয়ে শোনাও তো।”
রাফসা চোট করে দাঁড়িয়ে যায়। যেন অপেক্ষায় ছিল। ও জানতো, ওকেই বলবে গান গাইতে। দাঁত কেলিয়ে হেসে, সুর টানে।

ইঁদুর মারেন,তেলাপোকা মারেন, ছাড়পোকা মারেন
জাদুর মলম,ম্যাজিক মলম।
দাগ দিলেই মরে ঘোষা দিলেই মরে
চোরার ঘরের চোরা, তেইলা চোরা, জায়গায় খায়, জায়গায় ব্রেক।
কাইত হইয়া খায়,চিত হইয়া মরে,লাফাইয়া খায়,দাপাইয়া মরে।
ময়নার মার ঘুম নাই, সখিনার মার খেতা নাই।
ইঁদুর চিকার মারামারি নষ্ট করে বাসাবাড়ি, ওষুধ লাগান তাড়াতাড়ি।
ধরা পড়লে জামিন নাই, ইঁদুর তোর রক্ষা নাই।
একদাম ২০ টাকা, ২০ টাকা,২০ টাকা..!!!
গানটা বলেই বিজয়ীর হাসি ফুটে উঠল রাফসার। আর সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। উজ্জ্বল স্যারের যেন অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম। কেশে বলল।”তোমায় গান গাইতে বলেছি। বিজ্ঞাপন করতে না।”
রাফসা ভাব নিয়ে বলল।”স্যার একই। যেই লাউ সেই কদু।”
এইভাবে ক্লাসে মাতিয়ে তুলেছে সবাই। আজ যেন স্বরণীয় করবে দিনটা।

গতকালের রাতটা অস্বাভাবিক রকমের ভারী ছিল। বাতাসে যেন নিঃশ্বাস নেওয়ারও শব্দ ছিল না। শহরের এক প্রান্তে, সরু গলির মুখে আলো–আঁধারির ভেতর দাঁড়িয়ে ছিল কয়েকজন ছায়ামূর্তি। তাদের চোখে ছিল ক্রোধ, মুখে ছিল ক্ষমতার দম্ভ। রাজনীতির নামে জমে ওঠা দীর্ঘ দিনের বিদ্বেষ সেই রাতে রূপ নিয়েছিল ভয়ংকর এক সিদ্ধান্তে।
বিরোধী সেই কর্মী—একজন সাধারণ মানুষ, দিনের বেলায় যে চা খেত দোকানের বেঞ্চে বসে, সন্ধ্যায় পাড়ার ছেলেদের খোঁজ নিত—সে বুঝতেই পারেনি কী অপেক্ষা করছে তার জন্য। হঠাৎ করেই চারদিক থেকে তাকে ঘিরে ফেলা হয়। চারপাশে তখন নীরবতা, শুধু দূরে কোথাও কুকুরের কান্নার মতো শব্দ।

কোনো কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক পরিচয়টাই হয়ে উঠেছিল তার সবচেয়ে বড় অপরাধ। ভয়ের মধ্যে সে পেছাতে চেয়েছিল, কিন্তু পথ ছিল বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যেই গলি রূপ নেয় আতঙ্কের মঞ্চে। আশপাশের ঘরগুলো দরজা জানালা বন্ধ করে নেয়—মানুষ দেখেও না দেখার ভান করে, কারণ এই শহরে রাজনীতির রাগ মানে মৃত্যু ডেকে আনা।
কিছুক্ষণ পর গলিটা নিস্তব্ধ হয়ে যায়। শুধু পড়ে থাকে নিস্তেজ শরীর, ছড়িয়ে থাকা স্যান্ডেলের একটা জোড়া, আর মাটিতে গড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক পোস্টারের টুকরো। যেন রাজনীতিই তার শরীর ঢেকে দিয়েছে শেষবারের মতো।
খবর ছড়াতে বেশি সময় লাগেনি। সকালে মানুষ জড়ো হয়, ফিসফাস শুরু হয়—

“কে করেছে?”
“কেন করেছে?”
কেউ জোরে বলে না, সবাই জানে। ভয়টাই এখানে সবচেয়ে বড় শাসক।
এই হত্যার পর শহরটা আর আগের মতো থাকে না। মায়েরা ছেলেদের রাজনীতি করতে বারণ করে, বাবারা রাতে দেরি হলে ফোন দেয় বারবার। দেয়ালে লেখা স্লোগানগুলো আর আদর্শের কথা বলে না—সেগুলো এখন কেবল রক্তের স্মৃতি।
এই গল্পটা কোনো এক দলের নয়, এই গল্পটা ক্ষমতার রাজনীতিতে পিষে যাওয়া সাধারণ মানুষের। যেখানে মতের ভিন্নতা মানেই শত্রু, আর শত্রু মানেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।

দলের নেতাকর্মীরা হুংকার শুরু করেছে। দলের সেই ছেলেগুলোকে হন্নে হয়ে খুঁজছে। রাজীব ফরাজীর খুব কাছের মানুষ ছিল নিহত ব্যক্তি। ওনার মৃত্যুতে তিনি নিজেকে দায়ী করছেন। যত দ্রুত সম্ভব খুনিদের বিচার চাইছে।
অন্য দিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা আনন্দে আত্মহারা আজ। যেন বিশাল কিছু জয় করেছে। তাদের আস্তানায় আজ যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এই মিলনমেলায় ফরাজী বাড়ির সেই ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকলে মদ্যপানে ব্যস্ত।আনিস সিকদার বললেন।”এই মানিক কে মেরে আজ বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দিয়েছি। এইভাবে বিরোধী দলকে দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দেবো।”

রহস্যময় মানব উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল।”আপনার ছেলে কোথায়? ওনাকেই তো ভবিষ্যতে সব সামলাতে হবে। এতো কিছুর মাঝেও উনি অনুপস্থিত।”
আনিস সিকদার বেজার গলায় বলল।”ছেলে এখন দেশে নেই। ঘুরে আসুক। আমার একটা মাএ ছেলে। আস্তে ধীরে দায়িত্ব বুঝে নিবে।”
ব্যাস কারো মধ্যে আর তেমন কিছু নিয়ে কথা হয়নি। তারা ফুর্তিতে মজে উঠলো।

রাত দশটা,,,
রাফসা ধুমিয়ে পড়ছে। প্রথম পরীক্ষা বাংলা। সব পড়াগুলো বার বার করে রিভাইস দিচ্ছে। তার এখন কিছুতে খবর নেই। এমন সময় দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে রিশান। তাও রাফসার খেয়াল নেই। রিশান বোনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিছুক্ষণ মুখ পানে তাকিয়ে বলল।”বোনু। আমার একটু কাজ ছিল।”
রাফসা পড়া থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল।”কি কাজ ভাইয়া? আমার অনেক পড়া বাকিই। প্লিজ যাও।পরে করে দেব।”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৬

“এই মিনিট লাগবে না। তুই একটু এইখানে সাইন করে দে।”
“কিসের সাইন? ”
“এতো কিছু বলতে পারব না। বাবার সব সম্পত্তি তোর নামে করে দিবে। তাই আগে আগেই আমার নামে করে নিচ্ছি। প্লিজ বোনু সাইন করে দে।”
রাফসা হাসে ভাইয়ার কথায়। রিশান দেখিয়ে দেয় সাইন করতে। রাফসা না দেখেই সাইন করে দিল। পুনরায় পড়ার মন দেয়। রিশান বোনের পানে তাকিয়ে চলে যায়। পেছনে রেখে যায় পড়ায় ব্যস্ত রাফসাকে।

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭ (২)