Home ফিরে এসো অনুরাগে ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৪

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৪

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৪
নওরিন কবির তিশা

এক স্নিগ্ধ শান্ত প্রভাতের আগমন। ভোরের আলো ফুটতেই তালুকদার মঞ্জিলের ব্যস্ততার রেশ যেন কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই ব্যস্ততা বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিকতার জন্য নয়, বরং বাড়িতে আসা মেহমানদের আপ্যায়ন আর উপস্থিতিকে ঘিরেই। ঘুম ভাঙার পর ফ্রেশ হয়ে খানিক বাদেই হন্তদন্ত হয়ে ড্রয়িং রুমে এসে হাজির হলো তৃষা।
সূর্যালোকে উদ্ভাসিত তালুকদার মঞ্জিলের অন্দরমহল ঈষৎ ব্যস্ততামুখর। মেহমানদের কলকাকলি আর অকারণ ব্যস্ততায় পুরোনো এই অট্টালিকার প্রতিটি ইটের পাঁজরে প্রাণের স্পন্দন জেগেছে। বৈঠকখানার বাতাসে ভাসা এলাচ-আদা চায়ের মায়াবী সুবাসে এক অদ্ভুত উৎসবমুখর আলস্য জড়িয়ে আছে।

সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামতেই তৃষার কানে এল হাসির লহর আর কাঁচের তশতরির টুংটাং শব্দ। ড্রয়িংরুমের প্রশস্ত আরামকেদারায় বসে আছেন বড়রা, তাঁদের গম্ভীর আলোচনার মাঝে ছোটদের খুনসুটি এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। তৃষার নজর হঠাৎ গিয়ে আটকাল জানালার ধারের সেই নিভৃত কোণটায়। কোলাহল থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে আর্য একমনে ল্যাপটপে ডুবে আছে।
তৃসার উপস্থিতি দৃশ্যমান হতেই টুইংকেল প্রজাপতির মতো ডানা মেলে উড়ে এল। ও তৃষার শাড়ির আঁচলটা খামচে ধরে ওই ছোট্ট ছোট্ট মায়াবী নীলাভ আঁখিজোড়া মেলে স্নিগ্ধ হেসে বলল,,

-‘ বানি! তুমি এসেছো?
-‘ হুম সুইটহার্ট। তুমি কখন উঠেছো?
-‘ এইতো একটু আগে। ভেরি ভেরি গুড মর্নিং বানি। তুমি ঠিকই বলেছিলে এখানে অনেক বেশি মজা হচ্ছে। আমি খুব এনজয় করছি সবার সাথে।
তৃষা হাসিমুখে টুইংকেলের মাথায় স্নেহের পরশ বুলাতে যাবে ঠিক তখনই সিঁড়ির পাশ দিয়ে এক ঝড়ো হাওয়ার মতো নেমে এল মায়া। ও এক পলক থামল; তৃষার দিকে ওর বিষাক্ত চাউনি গিয়ে স্থির হলো।
মায়ার সেই ঈর্ষাতুর আর শীতল দৃষ্টিতে তৃষা মুহূর্তের জন্য স্থির হলো। সামান্য ভ্রু গোটাতেই মায়া কোনো কথা না বলে গটগট করে নিচে নেমেই এক পরিচারিকার উদ্দেশ্যে কঠোর কণ্ঠে বললো,

-‘ হোয়্যাট দ্য হেল আর ইউ্য ডুয়িং লামিয়া! কি করিস কি সারাদিন? বলছি না সকালেই আমার লেবু মধুর পানি রেডি করে রুমে রেখে আসতে।কথা কানে যায় না?
শান্ত পরিস্থিতির মাঝে হঠাৎ মায়ার এমন রুক্ষ আচরণে সবাই ওর দিকে ফিরে চাইলো।লামিয়া নামক মেয়েটি লেবু মধুর পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে একপ্রকার ছুটতে ছুটতে এসে হাঁপিয়ে অসহায় কণ্ঠে বলল,,
-‘ দুঃখিত আপু।আসলে আমি একটু ব্যস্ত হয়ে পড়ছিলাম তো তাই। আর আপনার লেবু মধুর পানি তৈরিই ছিল।
মায়া ছো মেরে ওর হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,,

-‘ এরপর থেকে টাইমলি পাই যেনো।
ও আড়চোখে তৃষার দিকে তাকিয়ে বলল,,
-‘ অন্য কোনো আউটসাইড পারসনের জন্য আমার কিছুতে দেরি যেনো না হয়।
ও আর কোনো কথা না বলে সোজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে যেতেই পেছন থেকে আঞ্জুমান বিবি ওকে ডেকে বললেন,
-‘ দাঁড়াও মায়া।
মায়া ওনার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল,,
-‘ জ্বি দাদিমা?
-‘ এদিকে এসো।
মায়া কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঁচকালো অগচরে অতঃপর এগিয়ে এসে বলল,,

-‘ জ্বি বলো।
-‘ তুমি লামিয়ার সাথে অমন ব্যবহার করলে কেনো?
মায়া দাদির রাশভারী কণ্ঠে সামান্য ভীত স্বরে আমতা আমতা করে বলল,
-‘ আসলে।
তাকে কথা শেষ না করতে দিয়ে আঞ্জুমান বেগম বললেন,,
-‘ কোনো কথা বলবে না তুমি। দিন দিন মায়ের আদরে ভীষণ অসভ্য তৈরি হচ্ছো। কার সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় সেটাও তুমি ভুলে গেছো।এ কেমন বেয়াদপি!
আঞ্জুমান বিবির কড়া শাসনের সামনে মায়া মুহূর্তের জন্য কুঁকড়ে গেল ঠিকই, কিন্তু পরক্ষণেই ওর ভেতরে থাকা সেই চিরচেনা ড্রামা কুইন ভাবটা জেগে উঠল। ও গ্লাসের লেবু-মধুর পানিটা একপাশে সরিয়ে রেখে ঠোঁট উল্টে এমন এক করুণ চেহারা করে দুচোখে কৃত্রিম পানির আভাস এনে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ধরা গলায় বলল,

-‘ ও আচ্ছা! এখন সামান্য একটা কাজের মেয়ের জন্য আমাকে সবার সামনে এভাবে অপমান করবে দাদিমা? আমি তো জাস্ট ওকে ডিসিপ্লিন শেখাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি এই বাড়িতে আমার কোনো দামই নেই। সবাই আমাকে এখন পর ভাবতে শুরু করেছে!
আসমা বেগম পাশ থেকে মেয়ের এই অবস্থা দেখে গলে জল হয়ে গেলেন। তিনি এগিয়ে এসে মায়াকে আগলে নিয়ে বললেন,
-‘ আহা মা! কাঁদিস না তো। আম্মা, আপনিও এমন করেন কেন? মেয়েটা সকালে উঠে একটু নিজের হেলথ নিয়ে কনসার্ন হয়েছে, তাতেই ওকে এভাবে সবার সামনে ঝাড়লেন? ও তো ভুল কিছু বলেনি!
মায়া এবার নাক টেনে আরও এক কাঠি বাড়িয়ে দিল। ওড়নার খুঁট দিয়ে চোখ মোছার ভান করে, হেঁচকি তুলে এমন এক বিলাপ শুরু করে থেমে থেমে বলতে লাগল,

-‘ থাক মা, দাদিমা ঠিকই বলেছে। আমিই বোধহয় এই বাড়িতে অসভ্য। আসলে নতুন মানুষ আসার পর পুরোনোদের জায়গা তো একটু কমে যায়ই। আমি বরং নিজের রুমে গিয়েই পড়ে থাকি, কারোর সামনে আর আসব না। তোমরা সবাই আনন্দ করো!
কথাটা বলেই মায়া এক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে, ঝড়ের বেগে সিঁড়ি দিয়ে উপরে দৌড়ে পালাল। যাওয়ার সময় এমন এক করুণ আর্তনাদ ছাড়ল যা পুরো ড্রয়িং রুমে প্রতিধ্বনি তুলল। তৃষা একপাশে দাঁড়িয়ে পুরো মেগা সিরিয়াল লাইভ দেখছিল। ও তো রীতিমতো থ’ মেরে গেছে! মায়ার এই লেভেলের ন্যাকামি দেখে তৃষার মনে হলো, এই মেয়েকে যদি অস্কারের জন্য পাঠানো হয়, তবে অস্কার নিজেই ওর পায়ে এসে লুটোপুটি খাবে। তৃষা আড়চোখে একবার আর্যর দিকে তাকাল, আর্য তখনো ল্যাপটপের দিকেই তাকিয়ে আছে, তবে ওর কপালে ভাঁজ বলছে ও-ও বিরক্ত।
তৃষা মনে মনে বিড়বিড়িয়ে উঠল,

-‘ বাপরে বাপ! এ তো জ্যান্ত ন্যাকামির ডিকশনারি! সামান্য লেবু-মধুর পানির জন্য এত নাটক? মনে হচ্ছে ওর পেটে পানি নয়, গ্লিসারিন গেছে। এই মেয়ে কি ছোটবেলায় খাবারের বদলে ড্রামা গিলত নাকি? আল্লাহ বাঁচান, এর পাশে থাকলে তো আমার নিজেরও মাঝে মাঝে মনে হবে আমি খলনায়িকা!
আঞ্জুমান বিবি এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়লেন। পুরো ড্রয়িং রুমে তখন এক অস্বস্তিকর নিস্তব্ধতা, যা কেবল মায়ার সেই কৃত্রিম কান্নার প্রতিধ্বনিতে ভারী হয়ে আছে।মেয়ের প্রস্থানের পর আসমা বেগমের গজগজানির মাঝেই ড্রয়িংরুমে এক অদ্ভুত স্তব্ধতা নেমে এসেছে। তৃষা দোনোমনা করছিল এই পরিস্থিতিতে সামনে যাবে কি না, কিন্তু আঞ্জুমান বিবির তীক্ষ্ণ জহুরীর দৃষ্টি এড়ানোর উপায় নেই। তিনি ইশারায় তৃষাকে কাছে ডাকলেন।
তৃষা ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ওনার পাশে বসতেই বৃদ্ধা এক গাল হাসলেন। তৃষার নরম হাতটা নিজের কুঁচকানো হাতের মুঠোয় নিয়ে নানী শাশুড়িসুলভ ভঙ্গিতে চোখ টিপে মৃদু স্বরে বললেন,

-‘ কী রে নাতবৌ, কাল রাতে কি ঠিকঠাক ঘুম হয়েছিল? নাকি আমার নাতির দাপটে সারারাত জেগেই কাটাতে হলো?
তৃষা মুহূর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে গেল। আর্যর সাথে এক বিছানায় শোয়া, মাঝখানে সেই ‘বালিশের বর্ডার’—সব যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল। ও আমতা আমতা করে বলল,,
-‘ না নানিমা, ঠিকঠাকই হয়েছে।
আঞ্জুমান বিবি এবার ল্যাপটপে মগ্ন আর্যর দিকে একবার তাকিয়ে গলাটা একটু চড়িয়ে বললেন,

-‘ শোন নাতবৌ, এই আর্য হলো নারিকেলের মতো—বাইরে শক্ত খোলস, কিন্তু ভেতরে বড্ড নরম শাঁস। একটু কায়দা করে কুড়িয়ে নিতে জানলে দেখবি একদম মিষ্টি পানি বের হবে!
তৃষা কোনোমতে হাসি চেপে আর্যর দিকে তাকাতেই দেখল, ল্যাপটপের আড়ালে আর্যর কান দুটো হঠাৎ করে ইটের মতো লাল হয়ে উঠেছে। আঞ্জুমান বিবি থামলেন না, তৃষার চিবুক নেড়ে দিয়ে বিজ্ঞের মতো টিপস দিলেন,
-‘ আর শোন, পুরুষরা একটু বেশিই রাশভারী হয়। এদের বশে আনতে হলে মাঝেমধ্যে একটু ন্যাকামি করতে হয়, একটু মান-অভিমানে ভাসিয়ে দিতে হয়। তবে ওই মায়ার মতো মিথ্যে নাটক নয়, বরং চোখের এক ফোঁটা আসলি জলের দাম এদের কাছে পাহাড়ের সমান। আর্য যদি বেশি কথা বলে, তবে সোজা গিয়ে কোলে মুখ লুকিয়ে কাঁদবি, দেখবি ক্যাপ্টেন সাহেবের সব কমান্ডিং পাওয়ার এক লহমায় ফিউজ হয়ে গেছে!
তৃষা এবার ঠোঁট চেপে হেসে ফেলল। নানিজানের এমন রোম্যান্টিক ডিকশনারি শুনে ও আর লজ্জা ধরে রাখতে পারল না। আর্য ল্যাপটপের স্ক্রিনটা সজোরে বন্ধ করে দিয়ে একপ্রকার আড়ষ্ট ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়াল। ও কারো দিকে না তাকিয়েই গম্ভীর গলায় বলল,,

-‘ এখানে নয়সের পরিমাণটা খুব বেশি।
ও গটগট করে দোতলার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই আঞ্জুমান বেগম তৃষার কানে কানে ফিসফিস করলেন,
-‘ দেখলি তো? কথা সব কানে গেছে!নারিকেল কুড়ানো শুরু কর মা, বেশি দেরি করিস না।
তৃষা লাজুক ভঙ্গিতে আঞ্জুমান বেগমের দিকে চেয়ে রইল।

কক্ষে এসেই দরজাটা বন্ধ করে দিলো আর্য। অতঃপর এগিয়ে গেলো বিছানায়। ফের খুলল ল্যাপটপটা। ভ্রু যুগল ঈষৎ কুঁচকানো ওর। তবে মুখাবয়ব দেখে অনুভূতি অনুমান করা দায়। কিছুক্ষণ নির্বিঘ্নে নিজ কর্ম সম্পাদন করলো ও। তবে মুহূর্ত খানিক অতিবাহিত হতেই দিগ্বিদিক প্রকম্পিত করে গর্জন তুলল এককোণে অবহেলায় পড়ে থাকা তৃষার ফোনটা।
কাজের মাঝে হঠাৎ এমন ব্যঘাতে আর্যর চোয়াল শক্ত হয়ে এল; বিরক্তির এক সূক্ষ্ম রেখা ওর ললাটে ফুটে উঠল। ও একবার ভাবল তৃষাকে ডাকবে।সে ধীর পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। কপালে বিরক্তির ভাঁজ স্পষ্ট। দরজাটা সামান্য ফাঁক করে বাইরে তাকাতেই দেখল বাড়ির এক পরিচারিকা সালমা ট্রে হাতে করিডোর দিয়ে যাচ্ছে। আর্য গম্ভীর ও ভরাট কণ্ঠে ডাকল,

-‘ সালমা?
সালমা থমকে দাঁড়িয়ে গেল। আর্যর সেই রাশভারী কণ্ঠস্বরে সে কিছুটা তটস্থ হয়ে কাঁচুমাচু মুখে সামনে এসে দাঁড়াল। আর্য দরজার চৌকাঠে হেলান দিয়ে শান্ত অথচ আদেশসূচক স্বরে বলল,
-‘ তৃষাকে গিয়ে বলো ওঁর ফোনটা ড্রয়িং রুমের মতো এখানেও সমান তালে গর্জন তুলছে। কাজের ডিস্টার্ব হচ্ছে বড্ড। ও যেন এখনই এসে ওটা সাইলেন্ট করে অথবা সাথে করে নিয়ে যায়। বি কুইক ।
সালমা মাথা নেড়ে দ্রুত পায়ে নিচে নেমে গেল। আর্যও আসলো ভিতরে। ফোনটা দু মিনিটের জন্য থেমেছিল, কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ডের বিরতি দিয়ে আবারও সেই একঘেয়ে কর্কশ সুর। আর্য এবার ল্যাপটপটা একপাশে সরিয়ে রেখে বিছানার দিকে এগোলো। ফোনটা হাতে নিতেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠা অচেনা নম্বরটা ওর চোখের মণি দুটোকে আরও তীক্ষ্ণ করে তুলল।
ও সচরাচর অন্যের ফোনে হাত দেয় না, কিন্তু এই অবিরল বিরক্তি উৎপাদনকারী কলটি ওর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। আর্য ফোনটা রিসিভ করে কানের কাছে ধরতেই ওপাশ থেকে এক চেনা কণ্ঠস্বর ভেসে এল,,

-‘ হ্যালো তৃষা? ক্যান ইউ হিয়ার ম্যি? আরে ইয়ার! তুমি ফোন ধরছ না কেন?
আর্যর বিন্দুমাত্র বাকি রইল না যে অপর প্রান্তের মানবটি সায়েম। সঙ্গে সঙ্গে আর্যর ধৈর্যের বাঁধ চুরমার হয়ে গেল। ওর নাসারন্ধ্র ফুলে উঠছে প্রবল আক্রোশে।ওর তীক্ষ্ণ ভায়োলেট রং চোখের মণিতে সন্ধ্যা বিস্ফোরিত আগ্নেয়গিরির ন্যায় উত্তপ্ততা স্পষ্ট।ওর ইচ্ছা করছিল ফোনের ওপার থেকে লোকটাকে টেনে এনে নিজের পেশিবহুল হাতে উচিত শিক্ষা দিতে। কিন্তু ও নিজেকে সংযত করল; এই নিচু স্তরের মানুষের সাথে কথা বলে নিজের আভিজাত্যকে কালিমালিপ্ত করার বিন্দুমাত্র রুচি ওর নেই।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৩

আর্য এক মুহূর্তও নষ্ট না করে ফোনটা কান থেকে নামিয়ে আনল। ওর আঙুলগুলো স্ক্রিনের ওপর বিদ্যুতের গতিতে চলল। কোনো উত্তর না দিয়ে কলটি সজোরে কেটে দিয়ে সায়েমের নম্বরটি সিলেক্ট করে অবলীলায় পাঠিয়ে দিল ব্লক লিস্টের অতল গহ্বরে।
অতঃপর ফোনটা বিছানায় সজোরে আছাড় দেওয়ার মতো করে রেখে ও উঠে দাঁড়াল।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৪ (২)