Home ফিরে এসো অনুরাগে ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৬

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৬

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৬
নওরিন কবির তিশা

বেলা চড়াও হতেই ‌সকালের বর্ষণ সিক্ত স্নিগ্ধ ‌আবহাওয়া বিদায় নিয়ে মেঘমুক্ত আকাশে মধ্যাহ্নের সূর্য যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। তপ্ত রোদে ভিজে থাকা ঘাস আর লতাপাতা থেকে একপ্রকার ভ্যাপসা গরম বাষ্প হয়ে উড়ছে। তবে বাইরের এই উত্তাপ তালুকদার মঞ্জিলের ভেতরের উৎসবমুখর আমেজকে বিন্দুমাত্র দমাতে পারেনি। শাহরিয়ার আর অহনার বিবাহ লগ্ন যত ঘনিয়ে আসছে, তালুকদার মঞ্জিলের প্রতিটি কোণে চঞ্চলতা যেন ততটাই ডালপালা মেলছে।
বাড়ির সদর দরজায় এক নতুন শোরগোল। সুনামগঞ্জ থেকে সপরিবারে এসে পৌঁছেছেন ছোট খালা গুলশানারা। তাঁর সাথে স্বামী রহমান সাহেব আর দুই পুত্র সৌরভ ও সৌভিক। সৌরভ এখন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র; আর সৌভিক একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য পদর্পণ করেছে অর্থাৎ প্রথম বর্ষের ছাত্র।
গেট দিয়ে গাড়ির বহর প্রবেশ করতেই সকলে একপ্রকার ছুটে গিয়েছে। জাহানারা বেগম আর উনার মেজো বোন শাহানারা বেগম ছুটে গেলেন। গুলশানারা বেগম তৎক্ষণাৎ গাড়ি থেকে নামলেন অপর দুই বোনকে দেখে। বহুদিন পর তিন বোনের দেখা হতেই একে অন্যকে জড়িয়ে ধরলেন তারা। জাহানারা বেগম বললেন,

-‘ এত দেরি করে এলি কেন? শাহা আর আমি তো সেই কবে এসেছি।
-‘ আরে আপা তোর দুই ভাগ্নিরই একসাথে পরীক্ষার ডেট পড়ছিল। এইজন্যই.!
ভেতর থেকে বাড়ির কর্ত্রীরা এগিয়ে এলেন। সায়েরা বেগম খানিক মুখ বাঁকিয়ে মজা করে বললেন,
-‘ দেখেছ কান্ড? বোনদের খবর ঠিকই আছে। কিন্তু আমাদের কথা কি কারো মনে আছে নাকি?
গুলশানা বেগম এবার হেসে ওনাদের উদ্দেশ্যে বললেন,
-‘ আরে না,না ভাবি।তা কেন?
পাশ থেকে ফোড়ন কাটলো আসমা বেগম,
-‘ বুঝি বুঝি সব বুঝি। তাইতো আমাদের সাথে কথা না বললে এসেই বোনদের নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়েছে।
-‘ আরে ওরা আগে এসেছিল তো। আচ্ছা আসো এবার তোমরা আসো দেখি।
গুলশানারা বেগম বোনদের পাশে সরিয়ে ভাবীদের জড়িয়ে বললেন,

-‘ নাও এবার হয়েছে?
তিন রমণী হেসে বললেন,-‘ হ্যাঁ।
রহমান সাহেব ততক্ষণে শালা আর বাড়ির জামাইদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ভেতরে প্রবেশ করেছেন।পেছন থেকে সৌরভ আর সৌভিক সকলকে সালাম দিয়ে ভেতরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। মায়া, অহনা, শাহরিয়ার আর আর্য ব্যতিত বাড়ির নবীন প্রাণগুলো সবাই উপস্থিত এখানে। তারা সকলে ব্যস্ত কুশল বিনিময়ে।
তৃষা এক কোণে দাঁড়িয়ে এই মিলনমেলার স্নিগ্ধতা দেখছিল। ওর হাত শক্ত করে ধরে টুইংকেল নীলাভ চোখে ড্যাবড্যাব করে নবাগতদের দেখছে। কৌতুহল দমাতে বা পেরে ও তৃষার দিকে চেয়ে ওর বাচ্চা কণ্ঠে বলল,

-‘ এনারা কারা বানি?
-‘ এনারা তোমার আরেকটা দাদিয়া-দাদুন।
-‘ আরেকটা দাদিয়া-দাদুন? আমার কতগুলা দাদিয়া-দাদুন বানি?
তৃষা টুইংকেলের নিষ্পাপ চেহারার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
-‘ অনেক গুলো সুইটহার্ট।
হঠাৎ জাহানারা বেগমের নজর পড়ল তৃষার দিকে। তিনি এক গাল হেসে তৃষাকে ইশারায় কাছে ডাকলেন। তৃষা টুইংকেলের হাত ধরে ধীর পায়ে এগিয়ে আসতেই জাহানারা বেগম তৃষাকে নিজের বাহুডোরে পরম যত্নে টেনে এনে গুলশানারা বেগমের উদ্দেশ্যে বললেন,,

-‘ এই দেখ গুলু আমার মেয়ে।
অতঃপর উনি তৃষার দিকে তাকিয়ে কিঞ্চিৎ মাতৃসুলভ শাসনের সুরে বললেন,,
-‘ তুই এতক্ষন কোথায় ছিলি?
-‘ ওই তো ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম মা।
-‘ কেন? ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলি কেন?
-‘ আসলে তোমরা কথা বলছিলে তো তাই।
-‘ পাগলি মেয়ে আমার। নে পরিচয় কর। এটা আমার ছোট বোন। মানে তোর ছোট খালামণি।
তৃষা গুলশানারা বেগমের দিকে ফিরে সালাম দিলো। গুলশানারা হাসিমুখে সালামের জবাব দিলেন। তিনি ভালভাবেই তৃষাকে চেনেন। কারণ ওই যে বোন সারাদিন ফোন দিয়ে তৃষার কথাই গল্প করে তার সামনে। অতঃপর তার দৃষ্টি কাড়লো পাশে দাঁড়ানো টুইংকেল। তিনি টুইংকেলকে কোলে তুলে নিয়ে ওর গোলগাল গালে একটা চুমু খেয়ে বললেন,

-‘ ওমা! এই তো আমাদের সেই গুড়িয়া! কী নাম গো তোমার?
টুইংকেল ওর ড্যাবড্যাব করা নীলাভ চোখ দুটো মেলে বেশ বিজ্ঞের মতো বলল,
-‘ আমি টুইংকেল। আর তুমি তো আমার নতুন দাদিয়া,তাই না?
-‘ হ্যাঁ তো। কিন্তু সেটা তোমাকে কে বলেছে সোনা?
-‘ বানি বলেছে।
টুইংকেলের বানি সম্বোধনে গুলশানারা বেগম অবাক হয়ে তৃষার দিকে তাকালেন। জাহানারা বেগম হেসে বললেন,
-‘ ও তৃষাকে বানি বলে ডাকে গুলু। ওদের মা-মেয়ের বন্ধুত্বই আলাদা।
গুলশানারা বেগম হাসতে হাসতে টুইংকেলকে আরও জাপ্টে ধরলেন,
-‘ হ্যাঁ দাদুভাই, আমি তোমার ছোট দাদিয়া। আর তোমার ওই বানি তো দেখছি আসমানের হুর, আমার আর্যর কপালটা সত্যি ভালো!
তৃষা লজ্জায় মাথা নিচু করে হাসল। অতঃপর ভিতরে প্রবেশ করল সকলে।

সকলের উপস্থিতিতে ড্রয়িং রুমে হাসিগল্পের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ওপরতলার বারান্দা থেকে ভেসে এলো আর্যর সেই গম্ভীর ভরাট কণ্ঠস্বর,
-‘ তৃষা! আর ইউ হিয়ার? এক্ষুনি একবার উপরে আসুন,
কুইক।
নিচতলার সেই গমগমে আড্ডা এক মুহূর্তের জন্য স্তিমিত হয়ে এল। সবার কৌতূহলী আর দুষ্টুমিভরা দৃষ্টি একযোগে গিয়ে নিবদ্ধ হলো তৃষার ওপর। তৃষা তখন মাত্র চা হাতে নিতে যাচ্ছিল, আর্যর এমন অসময়ে তলব কর্ণগোচর হতেই ওর হাতের কাপটা কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠল। ও বড্ড অপ্রস্তুত হয়ে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল।
গুলশানারা বেগম চশমার ওপর দিয়ে তৃষার লাল হয়ে যাওয়া মুখটা পরখ করে নিয়ে ফিক করে হেসে দিলেন। তিনি জাহানারা বেগমের দিকে তাকিয়ে রসিকতার সুরে বললেন,

-‘ ওরে আপা! তোর ছেলে তো দেখছি ভালোই বউপাগল। আমরা এলাম, ছেলে একবার নিচে নেমে খালামণিকে সালাম দেওয়ার সময় পেল না, অথচ বউ চোখের আড়াল হতেই ওনার হাতডাক গেল? বাব্বা!
জাহানারা বেগমও ছেলের কাণ্ডে মনে মনে বেশ মজা পাচ্ছিলেন। আর তৃষা তো লজ্জায় যেন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল। ও আমতা আমতা করে বলল,
-‘ না মানে খালামণি… আসলে মেবি উনি কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না।
গুলশানারা বেগম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কৌতুক ভরা কন্ঠে বললেন,
-‘ বুঝি বাপু। চুলগুলো তো আর বাতাসে পাকে নি, স্বামীর একটু-আধটু প্রেম আমরাও পেয়েছি।
ঠিক সেই মুহূর্তে ওপর থেকে আবার আর্যর ডাক ভেসে এল, এবার একটু বেশিই অধৈর্য গলায়,

-‘ তৃষা! হারি আপ। জলদি আসুন।
তামান্না পাশ থেকে চোখ টিপে ফিসফিস করে বলল,
-‘ যাও ভাবি, জলদি যাও। নাহলে ভাইয়া হয়তো এবার মাইক হাতে নিয়ে পুরো পাড়া জানিয়ে দেবে যে ওনার তৃষাকে এখনই দরকার!
মায়া তখন এক কোণে সোফায় বসে নখ খুঁটছিল। আর্যর এই ব্যাকুলতা আর তৃষার জন্য সবার এই আদিখ্যেতা ওর কলিজায় যেন অ্যাসিড ঢেলে দিচ্ছিল। ও দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড়িয়ে বলল,
-‘ ন্যাকামির আর জায়গা পায় না! যত ডাকছে তত ঢং বাড়ছে। কেন গেলেই তো হয় ঢং যত।
মায়ার হিংসুক অক্ষিযুগল ঈর্ষায় র’ক্তা’ভ বর্ণ ধারণের জোগাড়। মুখ বাকিয়ে অন্যদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল ও। ঠিক তখনই আঞ্জুমান বিবি লাঠি ঠুকে বললেন,
-‘ আরে মেয়েটাকে আর আটকে রাখিস না তোরা। যাও তো সতীন আমার অশান্ত জামাইটাকে গিয়ে শান্ত করো।
তৃষা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে, সবার হাসাহাসির মাঝখান দিয়ে মাথা নিচু করে সিঁড়ির দিকে দৌড়ে পালাল। ওর নিজের বুকের ভেতরটাও তখন অবাধ্য ছন্দে প্রকম্পিত হচ্ছে।

ধীরে ধীরে তৃষা কক্ষের সম্মুখে এসে উপনীত হলো, ওর বুকের ভেতরটা যেন এক অবাধ্য দুরুদুরু মাদল বাজছে। নিচতলার সেই হাসিগল্প আর মুরুব্বিদের রসালাপের রেশ তখনও ওর কানে বাজছে, যা ওর গালদুটোকে লজ্জার রক্তিম আভায় রাঙিয়ে দিয়েছে। ও ললাটে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘামটুকু ওড়নার আঁচলে মুছে নিয়ে কম্পিত হস্তে দরজার অর্গলে মৃদু চাপ দিল।
ভেজানো দরজাটা সামান্য শব্দ করে উন্মুক্ত হতেই তৃষা ভেতরে প্রবেশ করল। কক্ষটি মধ্যাহ্নের খররোদে তপ্ত হলেও জানালার ভারি পর্দার আড়ালে এক স্নিগ্ধ ছায়াচ্ছন্ন গাম্ভীর্য ধারণ করে আছে। আর্য তখন ড্রেসিং টেবিলের সামনের ড্রয়ারগুলো হন্যে হয়ে খুঁজছিল; ওর ললাটে বিরক্তির সূক্ষ্ম রেখা আর শার্টের হাতাগুলো গোটানো, বড্ড অস্থির লাগছে ওকে।
তৃষা ওর এই ব্যতিব্যস্ত মূর্তি দেখে দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে কিঞ্চিৎ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

-‘ ডাকছিলেন কেন?
আর্য ঝট করে ঘুরে দাঁড়াল। তৃষার ওই লাল হয়ে যাওয়া মুখ আর কিঞ্চিৎ অবিন্যস্ত কেশগুচ্ছ দেখে ওর চোখের মণি দুটো মুহূর্তকাল স্থির হলো, পরক্ষণেই গম্ভীর স্বরে বলল,,
-‘ আপনি আমার ল্যাপটপ ব্যাগের সাইড পকেটে রাখা সেই ব্লু ফাইলটা কোথায় রেখেছেন? আমার আধঘণ্টার মধ্যে মিটিং আছে, আর আমি ওটা পুরো ঘর খুঁজেও হদিস পাচ্ছি না!
তৃষা এবার এক পা এগিয়ে এসে কোমরে হাত দিয়ে বেশ ঝাঁঝালো গলায় বলল,
-‘ ফাইল? শুধু একটা ফাইলের জন্য আপনি এভাবে পুরো তালুকদার মঞ্জিল মাথায় তুললেন? আমি তো ভেবেছি বুঝি কোনো ইমার্জেন্সি হয়েছে! ফাইলটা তো আমি আলমারির ওপরের তাকে গুছিয়ে রেখেছি যাতে টুইংকেল ওটা নিয়ে ড্রয়িং কম্পিটিশন শুরু না করে।
বলেই ও খানিক এগিয়ে গিয়ে আলমারির ওপরের তাক থেকে নীল ফাইলটা নামিয়ে আর্যর দিকে বাড়িয়ে দিল। ওর চোখেমুখে তখন রাজ্যের বিরক্তি। আর্য ফাইলটা ছোঁ মেরে নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখল, তবে ওর চোয়ালের শক্ত ভাবটা এখনো অনড়।
তৃষা ফাইলটা দিয়ে চলে যাচ্ছিল, কিন্তু আর্যর কণ্ঠস্বর ওকে থামিয়ে দিল,

-‘ ওয়ান মিনিট! ফাইলটা ওখানে রাখার আগে একবারও কি আমাকে ইনফর্ম করা উচিত ছিল না?
তৃষা ঘুরে দাঁড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,,
-‘ ইনফর্ম করার সুযোগ দিয়েছিলেন?
-‘ মানে?
-‘ নাথিং।
আর্য এবার ফাইল থেকে মুখ তুলে সরাসরি তৃষার দিকে চাইল। নাথিং কথাটা সচরাচর ও নিজেই বলে আজ তৃষার মুখে শুনে কিঞ্চিৎ বিস্মিত ও। তৃষা আর কিছু না বলে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই আর্য পেছন থেকে খুব নিচু স্বরে ডাকল,
-‘ তৃষা?
তৃষা থামল। আর্য ওর দিকে না তাকিয়েই ফাইলটা খুলতে খুলতে বলল,,

-‘ চুলগুলো বেঁধে নিন। আপনার অবিন্যস্ত চুলগুলো দৃষ্টিসীমানায় বিভ্রমের সৃষ্টি করে।
-‘ মানে।
-‘ নাথিং।
-‘ এই আপনি এত নাথিং নাথিং করেন কেন?
-‘ আপনি নিজেও একটু আগে করছিলেন।
-‘ আমি তো এমনি বলেছিলাম বাট আপনি সবসময় বলেন। বাই দ্যা ওয়ে আপনি আর কিছু বলবেন?
-‘ হ্যাঁ।
-‘ কি?
-‘ নাথিং।
আর্য এর এমন কান্ডে তৃষা বেরিয়ে যেতে যেতে মনে মনে বিড়বিড় করল,,
-‘ খাইস্টাউদ্দিন কোথাকার! প্রশংসা করার মুরোদ নেই, শুধু নাথিং নাথিং করা।

-‘ আরে আরে কি করছো? ছাড়ো তো, কেউ দেখে ফেললে কী ভাববে?
শাহরিয়ার ওর কথা কানেই তুলল না, বরং এক ঝটকায় দরজাটা আটকে দিয়ে অহনাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ঝুলিয়ে বলল,,
-‘ যা ভাবার ভাবুক! নিজের হবু বউকে নিজের ঘরে এনেছি, তাতে কার কী? নিচে সবাই ব্যস্ত, আর আমার ব্যস্ততা এখন শুধু তোমাকে নিয়ে।
অহনা লজ্জায় লাল হয়ে শাহরিয়ারের শার্টের বোতাম নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলো। ‌ ও মূলত নিচে যাওয়ার জন্য হন্তদন্ত হয়ে করিডোর দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক শাহরিয়ারের ঘরের পাশ কাটানোর সময় এক জোড়া শক্ত হাত হ্যাঁচকা টানে ওকে ঘরের ভেতরে নিয়ে এল। অহনা আর্তনাদ করতে গিয়েও থমকে গেল শাহরিয়ারের দুষ্টুমিভরা চাউনি দেখে। ভাবতে ভাবতেই ও ফিসফিস করে বলল,
-‘ আরে বাবা, বিয়ে তো সামনেই, তখন তো সারা জীবন দেখবেই। এখন ছাড়ো তো, আম্মু ডাকবে এখনই!
শাহরিয়ার ওর কপালে আলতো করে মাথা ঠেকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,

-‘ অপেক্ষার প্রহর এত দীর্ঘ হয় কেন?
শাহরিয়ারের সান্নিধ্য অনুভূত হতেই শুকনো ঢোক গিলল অহনা। অতঃপর হুট করে কিঞ্চিৎ চিৎকার করে বলল,
-‘ আম্মু?
অহনার আকস্মিক এমন চিৎকারে ঘাবড়ে গেল শাহরিয়ার। দরজার দিকে তাকিয়ে বলল,
-‘ কই? কাকি কই?
এদিকে শাহারিয়ারের হাত থেকে মুক্তি পেতেই অহনা দ্রুত পদক্ষেপে রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমের উদ্দেশ্যে দৌড় দিতে দিতে বলল,
-‘ খুঁজতে থাকো।
শাহরিয়ার বুঝলো প্রিয়তমার দুষ্টুমি। অহনার যাওয়ার পানে মাথা চুলকে হাসলো ও।

সন্ধ্যা গাঢ় হয়ে আধারাচ্ছন্ন রাত্রি ঘনীভূত।আকাশের এক কোণে কাস্তে-চাঁদ উঁকি দিচ্ছে, আর নিচে একঝাঁক নবীন প্রাণের কলকাকলিতে স্তব্ধ প্রহরগুলো মুখর হয়ে উঠেছে। তালুকদার মঞ্জিলের বিশাল ছাদটি আজ এক ‌নক্ষত্রখচিত মায়াবী অরণ্যকে পরিণত হয়েছে। সাধের কার্নিশ ঘেঁষে লাগানো সারিবদ্ধ পুষ্প বৃক্ষ ‌সান্ধ্য পবনের হিল্লোলে দুলছে। ছড়াচ্ছে রজনীগন্ধার উগ্র সুবাস।
শাহরিয়ার, অহনা, মায়া, রাইসা, রায়া, তিথি, তামান্না, এমনকি যমজ ভ্রাতৃদ্বয় রাদিফ ও রিক্ত সবাই মিলে বৃত্তাকারে কার্পেটের ওপর বসেছে। মাঝখানে একটি কাঁচের বোতল রাখা, যা আবর্তিত হওয়ার প্রতীক্ষায়।শুরু হয়েছে রোমাঞ্চকর ট্রুথ অর ডেয়ার খেলা। বোতলের অগ্রভাগ যার দিকে স্থির হচ্ছে, তাকে ঘিরে ধরছে সহস্র বিদ্রুপ আর কৌতূহলী প্রশ্নের বাণ।

হাসির লহরী আর তালি বাজানোর শব্দে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত। তৃষাও শামিল হয়েছে ওদের উচ্ছ্বাসে আর ওর কোলে মাথা রেখে টুইংকেল তখন আধোঘুমে আচ্ছন্ন। তবে এই ঝলমলে আমেজের মাঝে কেবল একখানা ঋজু ছায়ার অনুপস্থিতি বড্ড প্রকট। আর্য নেই সেখানে। তার সেই গাম্ভীর্যময় নীরব উপস্থিতি ছাড়াই আসরটি জমে উঠলেও তৃষার অগোচরেই ওর চোখ দুটি বারবার সিঁড়ির দরজার দিকে ধাবিত হচ্ছিল।
আড্ডার কলকাকলি আর হাসির রোল যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সৌরভ বোতলটা সজোরে ঘুরিয়ে দিল। মার্বেল পাথরের উপর কাঁচের বোতলটা ঘড়ঘড় শব্দে বনবন করে ঘুরতে লাগল। সবার উৎকণ্ঠা ভরা দৃষ্টি তখন ওই বোতলের সরু মুখের দিকে। গতি মন্থর হতে হতে একসময় বোতলটা কাঁপা কাঁপা ছন্দে স্থির হলো একদম তৃষার হাঁটু বরাবর।
এক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা, আর তার পরেই রাইসা আর রায়া সমস্বরে চিৎকার করে উঠল,

-‘ পেয়েছি! এবার আমাদের নতুন ভাবিমনি জালে আটকা পড়েছে!
তৃষা অপ্রস্তুত হয়ে হাসল। ওর কোলে ঘুমন্ত টুইংকেল একটু নড়েচড়ে বসতেই ও সাবধানে ওকে সামলে নিল। রাইসা একদম তৃষার গা ঘেঁষে বসে চোখ টিপে বলল,,
-‘ কী ভাবিমনি? ট্রুথ না কি ডেয়ার? জলদি বলো, পালানোর পথ কিন্তু বন্ধ!
তৃষা মনে মনে একটু ঘাবড়ে গেল। রাইসা আর রায়া যে পরিমাণ দুষ্টু, তাতে ডেয়ার নিলে নির্ঘাত ওকে দিয়ে ছাদের কার্নিশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে আর্যর নাম ডাকাবে, অথবা এমন কোনো উদ্ভট কাজ দেবে যা ওর পক্ষে অসম্ভব। সে অনেক ভেবেচিন্তে একটা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজল। একটু আমতা আমতা করে বলল,,

-‘ ইয়ে… আমি ট্রুথ-ই নিচ্ছি। ডেয়ার কমপ্লিট করার মতো এনার্জি এখন নেই আপাতত!
বোতলের চারপাশ ঘিরে বসা একঝাঁক নবীন প্রাণ এবার সমস্বরে বলে উঠল,
-‘ না না, ট্রুথ মানে তো মনের সব গোপন কথা ফাঁস করতে হবে! রাজি তো?
তৃষা শুকনো ঢোক গিলে সায় দিল। অহনা পাশ থেকে মুচকি হেসে বলল,,
-‘ তৃষা, সাবধানে থেকো। রাইসার ডিকশনারিতে ট্রুথ মানে কিন্তু সিবিআই-এর জেরা।
রাইসা এবার বেশ আয়েশ করে বসল। ওর চোখেমুখে দুষ্টুমির ঝিলিক। ও তৃষার একদম চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর হওয়ার ভান করে জিজ্ঞেস করল,,
-‘ আচ্ছা ভাবিমনি, তোমার ট্রুথ কোশ্চেন হলো,- লাইফে এমন একটা কাজের কথা বল যেটা তুমি স্বজ্ঞানেই করেছো। ইভেন তোমাকে কেউ কখনো জোর করেনি ওটা নিয়ে তুমি স্বইচ্ছাতেই করেছো। বাট বলতে গেলে কুন্ঠিত বোধ হয়।
রাইসার প্রশ্নের মুখে তৃষা খানিকক্ষণ থমকে গেল। ছাদের ওপর হালকা ঝিরঝিরে বাতাস বইছে, আর সবার কৌতূহলী দৃষ্টি ওর ওপর নিবদ্ধ। তৃষা স্মৃতির পাতায় ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। একটা বিশেষ অনুভূতির কথা ওর মনে পড়ে গেল, ও একটু লাজুক হেসে নিচের দিকে তাকিয়ে ওড়নার খুঁট আঙ্গুলে পেঁচাতে পেঁচাতে বলল,

-‘ আসলে… কাজটা খুব অদ্ভুত। আমি স্বজ্ঞানেই একজনের ওপর ক্রাশ খেয়েছিলাম, যাকে আমি কোনোদিন সামনাসামনি দেখিনি। এমনকি ওনার কোনো ছবিও আমার কাছে নেই।
তৃষার কথা শেষ হতে না হতেই রাইসা চোখ বড় বড় করে বলল,
-‘ কী বলছ ভাবিমনি! ফেস না দেখে ক্রাশ? তা কে সেই মিস্ট্রি ম্যান? কোনো সেলিব্রেটি?
তৃষা আলতো হেসে ধীর গলায় বলল,
-‘ না, কোনো সেলিব্রেটি নয়। ফেসবুকে একটা পেজ আছ‌ ‘সেইলিং কিং’ (Sailing King)। আমি ওনার লেখার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। ওনার এক একটা ক্যাপশন, এক একটা চিন্তাভাবনা আমার মনের একদম গহীন কোণে গিয়ে বিঁধত। উনি কখনো ফেস রিভিল করেননি,শুধু নিজের তোলা সমুদ্র আর জাহাজের ছবি পোস্ট করতেন।
উপস্থিত সকলের নিশ্চুপ ভঙ্গিমায় তৃষা বুঝতে পারল সকলে ওর কথাই শুনছে তৃষা ফের বলতে শুরু করলো,-‘ তবে সবচেয়ে উদ্ভট কাজটা করেছি ওনাকে মেসেজ পাঠিয়ে।যদিও উনি কখনো রিপ্লাই দেননি, এমনকি মেসেজটা সিনও করেননি কারণ উনি ফেসবুকে খুব একটা অ্যাক্টিভ নন। তবুও ওনার সেই অজানা অস্তিত্বের ওপর ক্রাশ খাওয়াটা আমার জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত আর নিজের ইচ্ছায় করা একটা কাজ।
এদিকে তৃষার অকপটে বলা স্বীকারোক্তিতে চিলেকোঠায় ছাদের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা আর্যর পা দুটো যেন সিঁড়ির সাথে জমে গেল। ওর হাতে থাকা ফোনটা সাইলেন্ট মোডে কাঁপছে, কিন্তু সেদিকে ওর বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। তৃষার কণ্ঠস্বর রাতের শান্ত বাতাসে ভেসে আসছিল, আর প্রতিটি শব্দ আর্যর মস্তিষ্কে এক একটা বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মতো আঘাত করছিল।

‘সেইলিং কিং’(Sailing King) এই নামটা আর্যর নিজেরই তৈরি করা এক গোপন জগৎ। যেখানে সে তার পেশার কঠোর অনুশাসন আর সমুদ্রের নিঃসঙ্গতাকে শব্দের মালায় গেঁথে রাখত। সে জানত তার অনুসারী অনেক, কিন্তু তার সেই নিভৃত কোণের লেখাগুলোর প্রেমে কেউ এভাবে হাবুডুবু খাচ্ছে, তাও আবার তার নিজেরই ঘরের মানুষ এটা ওর কল্পনাতীত ‌ছিল।
আর্য স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওর মনে পড়ে গেল ইনবক্সে জমে থাকা হাজারো না-দেখা মেসেজের কথা। তৃষাও কি সেখানে কোনো অবাধ্য চিরকুট লিখে রেখেছে?ওর হৃদস্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল, ঠিক তখনই ভেসে আসলে তৃষার আরেক বিস্ফোরক তথ্য,
-‘ মাস তিনেক আগে আমি ওনাকে ভীষণ বড় একটা চিঠি টাইপ মেসেজ লিখছিলাম। ব্যাডা সিন করছে কিন্তু রিপ্লাই দেয়নি।

ব্যাস মুহূর্তেই আর্য বুঝে গেল আসলে এতদিন ওকে অনবরত জ্বালাতন করা মেয়েটিই ছিল ওর সহধর্মিনী। ও আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো ,চাইল নিঃশব্দে সেখান থেকে সরে যেতে, তবে ভাগ্য বোধহয় আজ অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। সিঁড়ি দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে ওপরে উঠে আসছিল সৌভিক, ওর হাতে বড় দু’টো কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতল। আর্যকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ও চিৎকার করে উঠল,
-‘ আরে ব্রো! ইউ্য হেয়ার। তোমাকে সারা বাড়ি খুঁজে আসলাম। চলো চলো উপরে চলো।
-‘ নো অ্যাকচুয়ালি একটা মেসেজের রিপ্লাই দিতে এসেছিলাম। বাট উপরে এত নয়েজ আমি রুমে যাচ্ছি।
-‘ নো নো ব্রো প্লিজ একবার উপরে চলো। আমাদের সেকশনে তোমার এন্ট্রিটা মাস্ট।
অগত্যা আর্যকে একপ্রকার জোর করেই ছাদের মাঝখানে টেনে নিয়ে এল সৌভিক। আর্য যখন ওখানে পৌঁছাল, তৃষার হৃৎপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। সে আর্যর দিকে তাকাতে পারছে না; নিজের গোপন ক্রাশের কথা এভাবে সবার সামনে ফাঁস করার পর আর্যর মুখোমুখি হওয়া মানেই নিজের সিস্টেম ক্র্যাশ করা।
সবার হাসাহাসি আর হুল্লোড়ের মাঝে আর্য এসে ধীর পায়ে তৃষার ঠিক উল্টো পাশে বসল। ওর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্য তৃষার আনত মুখের ওপর স্থির হলো। তৃষা ওড়নার খুঁট আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে মনে মনে ভাবল,

-‘ আল্লাহ! এই লোক কি সব শুনে ফেলেছে? যদি শুনে থাকে, তবে তো আমার ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেল!
রাইসা উচ্ছ্বাসে বলল,
-‘ ওয়াও! এবার তো গেমটা আরও জমবে। আর্য ভাইয়া যখন এসেছেন, তখন নেক্সট রাউন্ডে ওনাকেই টার্গেট করা হবে। কী বলেন ভাবিমনি?
তৃষা কোনোমতে একটা শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল,,
-‘ ইয়ে… আমি তো রিটায়ার্ড। আমার রাউন্ড শেষ।
সৌভিক এবার আয়েশ করে বসে তৃষার দিকে ইশারা করে চেঁচিয়ে উঠল,

-‘ আরে কিসের রিটায়ার্ড ভাবিজান? এটা তো ইন্টারভ্যাল ছিল মাত্র, আসল খেলা তো এখন শুরু! আর্য ভাই আসাতে গেমের গ্রাফিক্স এখন আলট্রা এইচডি হয়ে গেছে। নো এক্সকিউজ, জাস্ট প্লে!
তৃষা কাঁচুমাচু হয়ে আর্যর দিকে একবার তাকাল। আর্যর গম্ভীর মুখে কোনো ভাবান্তর নেই, ও নির্বিকার ভঙ্গিতে হাতের ঘড়িটা দেখলো। এদিকে তৃষা ওড়নার খুঁট আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে তৃষা নিজের ভাগ্যকে দোষ দিচ্ছিল। সৌভিক বোতলটা আবার সজোরে ঘুরিয়ে দিল। বোতলটা বনবন করে ঘুরতে ঘুরতে যখন থামল, তার অগ্রভাগ স্থির হলো ঠিক আর্যর বুকের বরাবর।
পুরো ছাদজুড়ে তখন হুড ধ্বনি আর তালির রোল। রাইসা দুই হাত কচলাতে কচলাতে বলল,,
-‘ অবশেষে বাঘ জালে আটকা পড়েছে! ভাইয়া, ট্রুথ না কি ডেয়ার?
-‘ অফকোর্স ডেয়ার।
রাইসা ওকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই সৌভিক ওর মাথায় গাট্টা দিয়ে বলল,,

-‘ এই গরু সব সময় কি তুই একাই দিবি নাকি? আমরাও আছি এখানে।
রাইসা মাথার আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে হাত বুলাতে বুলাতে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাতে দাঁত চেপে সৌভিকের দিকে তাকিয়ে বলল,,
-‘ ইউ্য! ভেড়া! মাথায় এত জোরে মারলে কেন?
-‘ বেশ করেছি।
অথবা সৌভিক ওর সাথে আর কোন কথা না বলে আর্যর দিকে পাশে পড়ে থাকা গিটারটা এগিয়ে দিতে দিতে বলল,
-‘ একটা গান-ই গাও তাহলে। অনেকদিন তোমার গান শুনি না।
আর্য আর দ্বিমত না করে গিটারটা নিলো। তৃষা ওকে গিটার হাতে নিতে দেখে ‌সরু নেত্রে চেয়ে ভাবছিল,
-‘ এই লোক আদেও গান গাইতে জানে তো? সারাদিন যে লেভেলের ধমক দেয় দেখা গেল গানের ভিতরেও ধমক শুরু করে দিল।
যখন নিজের ভাবনার সাগরে ডুব দিয়েছে ঠিক তখনই ওর ভাবনার সুতো কেটে দিলো আর্যর গভীর পৌরুষ কণ্ঠের সুরের লহরী। গিটারের টুংটাং শব্দ তুলে আর্য গেয়ে উঠলো,

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৫

🎶 তুমি আশেপাশে ছায়া হয়ে মায়ায় জড়ালে….
তুমি এক নিমিষে ভালোবেসে আমায় বাঁচালে…
তুমি একলা রাতে একটা চিঠি আমায় পাঠালে…🎶
হঠাৎ তৃষার হৃদয়ে প্রকম্পিত হলো কয়েকটা সুর..
🎶 ভালো লাগে তোমাকে..
কাছাকাছি এলে….
ভালোবাসি তুমিও
কাছাকাছি এলে…🎶
তবে সুরগুলো আর পৌঁছালো না উপস্থিত কারো কাছে। তৃষার হৃদয়ের মাঝেই অনুরণিত হতে লাগলো ।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২৭