Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৫

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৫

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৫
শানজানা আলম

তালাকের ডেট ফাইনাল হয়ে যাওয়ার পরে সুবহানা ঐশিকে জানাল পারস্পরিক সম্মতিতে ডিভোর্স হলে কোনো টাকা ঐশি পাবে না, এহসান দিতে বাধ্য না৷ এটা জানার পরে ঐশি ইতস্তত শুরু করলো। এহসানের কাছ থেকে মোহরের চারলাখ টাকা, তিন মাসের ভরণপোষণ আরো তিন লাখ টাকা এসবই ঐশির নিতে হবে।
সুবহানা বলল, তুই আরো কিছুদিন সংসার কর।
তারপর একটা নাটক সাজাতে হবে। এহসান তোকে মারধোর করে, এরকম কিছু বলে আদালতে যেতে হবে।
ঐশি বলল, কেস মামলা ঝামেলা হয়ে যায় না বেশি!

আমি ওর সাথে থাকতেই চাই না।
তাহলে তো কিছুই পাবি না! টাকা পয়সাও তো কিছু নিতে পারিস নি! আমি না বললে গয়নাগুলোও হাতছাড়া হয়ে যেত। এহসান তোকে নিজে থেকে তালাক দিলে সব কিছু দিতে বাধ্য থাকত। স্টেপটা ভুল হয়ে গেল।
ঐশি বলল, তাহলে একটা কাজ করি। এহসানের সাথে মিউচুয়াল একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে যাই। তারপর ডিভোর্স আমি না চাই, ও যখন দিবে, তখন দিক।
সুবহানা বলল, সেটাই ভালো হবে।
ঐশি তাই বাসায় ফিরে বাবা মাকে বলল, আমার মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। আমি এহসানের সাথে থাকতে চাই।
অথৈ রাতারাতি বোনের এই পরিবর্তনের কারন বুঝতে পারলো না।
অথৈ বলল, আপু, গতকাল যে সিনক্রিয়েট হয়েছে, তারপরে আর মনে হয় না বিষয়টা সহজ হবে।
এহসান ভাইকে তুই ফোন কর।
ঐশি বলল, ফোনটা তুই কর প্লিজ। এহসান তোর কথা ফেলবে না।
অথৈ তাই এহসানকে ফোন করল।
এহসান অথৈয়ের ফোন দেখে খুবই অবাক হলো, কালকের পরে অথৈ ফোন করবে, সেটা সে আশা করে নি।
হ্যালো-

অথৈ, বলো?
ভাইয়া, আপনি কি ফ্রি আছেন, একটু কথা বলতে চাচ্ছিলাম।
হ্যা বলো।
ভাইয়া সরাসরি বলব? মানে কীভাবে যে বলি?
কিভাবে বলবে মানে? কি বিষয়?
অথৈ বিয়ের বিষয়ে কিছু বলবে না, সেটা সে জানে।
ভাইয়া, আপু খুব রিগ্রেট করছে, ওর ভুল হয়ে গেছে, ও আসলে আপনাকে খুব মিস করছে, যা হয়েছে সেটা ভুলে যাওয়া যায় না?
এহসান হা হা হা, করে হেসে ফেলল।
অথৈ, তুমি খুব ইনোসেন্ট। তাই তোমার আপুকে তুমি চিনতে পারো নি।
ভাইয়া, আমি যতটুকু চিনি, ও আসলে এত খারাপ না, হতে পারে একটু উচ্চাভিলাষী, সাজতে পছন্দ করে বা একটু জলি, কিন্তু ও খারাপ না ভাইয়া। এতগুলো বছর তো আমাদের সাথে ছিল!
ও একটা ক্রিমিনাল, আমার সাথে ওর আর কিছুই হবে না। সংসার তো দূরের কথা।
ও এখন কেন নাটক করছে জানো, ও ডিভোর্স দিলে কোনো টাকা পয়সা পাবে না। ওর মাথায় এখন টাকা পয়সা ঘুরতেছে। তুমি ওকে বলো,ও ডিভোর্স না দিলে আমি দিব। ওর যে টাকা পাওনা, সেটা আমি দিয়ে দিব। হয়তো একবারে দিতে পারব না, কিন্তু আস্তে আস্তে দিয়ে দিব। এটা বলো, দেখবে, সুর পাল্টে গেছে।
এহসান নমনীয় হলো না। অথৈ ঝিম দিয়ে বসে রইলো।

ঐশি জিজ্ঞেস করল, কি হলো, কি বলল?
অথৈ বলল, সে রাজী না, সে নিজেই ডিভোর্স দিবে। তোর টাকা পয়সা দিয়ে দিবে।
টাকা দিয়ে দিবে? –
ঐশি হাপ ছেড়ে বাঁচল মনে হলো। অথৈ অবাক হলো বোনের মুখের পরিবর্তন দেখে। তবে সে কিছু বলল না।
ঐশি কথাবার্তা আর বাড়ালো না। ডিভোর্স এহসানই পাঠিয়ে দিলো। সেই সাথে জানিয়ে দিলো তিন মাসে সে ঐশির টাকা ঐশিকে বুঝিয়ে দিবে। চারলাখ মোহরের টাকা, আর এক লাখ তিন মাসের খরচ। এরকম একটা বোঝাপড়া হলো পারিবারিক মধ্যস্ততায়।
ঐশিকে নিয়ে ওর বাবা মা অথৈ আপাতত চলে গেল ওদের বাড়িতে। ঐশি ভেবেছিল সে নাসিরের ফ্ল্যাটে উঠবে, তবে এই মুহুর্তে সেটা ভালো দেখাবে না। ইদ্দতকাল তিনমাস কেটে গেলে পরে ঢাকায় ফিরে এসে উঠলেই হবে।

নাসির ঢাকায় ফিরে এসে ঐশিকে ঢাকায় পেলো না।
ঐশি, তুমি চলে গেছ, ঢাকা থেকে! আমাকে একবার জানালে না, আশ্চর্য তো! আমি তোমার জন্য সব আয়োজন করে রেখেছি।
ঐশি বলল, তিন মাস আমাকে অপেক্ষা করতে হবে নাসির। তারপরে আমি ফিরব, বা ঢাকায় ফিরে নিজের মত থাকতে পারব। সব চুকে
নাসির বলল, এতদিন তোমাকে না দেখে আমি থাকতে পারব না। তুমি এসে সুবহানার সাথে ওঠো, আমি ওকে বলছি তোমার জন্য এরেন্জ করে রাখতে।
ঐশি হ্যা না কিছুই বলল না।
কিছুক্ষণ পরে সুবহানা বলল, ঐশি, নাসির ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে, তুই চলে আয় আমার বাসায়। বাসায় বল চাকরির ইন্টারভিউ আছে।
ঐশি বলল, আচ্ছা দেখি!

-আরেএএ, নাসির ভাই তোর জন্য পাগল হয়ে আছে,
এখন তোর আসা দরকার, ওদের চোখের সামনে একশটা মেয়ে থাকে, পুরুষ মানুষের মন ঘুরতে সময় লাগে না। তোর উচিৎ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে নিজের মত কিছু গুছিয়ে নেওয়া।
-মানে?

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৪

– নাসির ভাই চাচ্ছে তোকে, তুই চাইবি লাক্সারি! কিছু এসেট! এটাই বাস্তবতা, তোর তো কপাল ভালো, এমন একজন সহজে পেয়ে গেছিস!
– আমি কাল গাড়ি পাঠাচ্ছি, তুই চলে আসবি। এটাই ফাইনাল ওকে?
ঐশি বলল, আচ্ছা!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৬