Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৬
শানজানা আলম

ঐশির ব্যাগ গোছাতে গোছাতে একটা গয়নার প্যাকেট হাতে এলো অথৈয়ের। সেই সীতাহার, যেটা সব গয়না মিলিয়ে
কিনেছিল ঐশি।
আপু, এত বড় হার, কবে কিনলি? গোল্ডই তো মনে হচ্ছে!
ঐশি টান দিয়ে রেখে বলল, কিনেছিলাম।
অথৈকে দেখতেও দিলো না।
সকাল সকাল জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছিলো ঐশি।
অথৈ দেখে জানতে চাইল, আপু কোথায় যাচ্ছিস?
ঢাকায় যাব।

ঢাকায়? হঠাৎ? অথৈ অবাক হলো।
হুম, যাব, সুবহার বাসায় উঠব।
কেন? – এই মুহূর্তে না গেলেই হয় না?
না, আমাকে তো চাকরি বাকরি কিছু করতে হবে নাকি!
বসে বসে কে খাওয়াবে আমাকে!
একটা সাজানো জীবন তুই এলোমেলো করে ফেললি আপু!
তোর কাছে যেটা সাজানো মনে হতো, আমার কাছে সেটা সাজানো মনে হয় নি কখনো! তুই বুঝবি না। আপাতত কথা বলিস না, মাকে গিয়ে বল।
অথৈ গিয়ে মাকে বলল।
তাহিরা বেগম শুনে এসে বললেন, ঐশি, এখনি যাস না।
অনেক রকম কথা হবে।

ঐশি বলল, হোক, এখানে থেকে তো আমি কিছুই করতে পারব না। আমাকে তো নিজেকে গুছিয়ে নিতে হবে।
তাহিরা বেগম বললেন, এমনিতেই তোর এই ছাড়াছাড়ির সিদ্ধান্তে অথৈয়ের বিয়েটা পিছিয়ে গেল।
এখন এরকম ঘর ছেড়ে কোথায় যাচ্ছিস, সেটা তো মানুষ বুঝবে না। কত রকম কথা উঠবে।
উঠে উঠুক, সমস্যা নাই। আমার গাড়ি চলে আসবে।
ঐশি ব্যস্ত হয়ে উঠল।
ঐশির বাবা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কার সাথে পরামর্শ করে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে?
ঐশি বলল, কারো সাথে না আব্বা, আমার একার সিদ্ধান্ত।
এটা কেমন কথা হলো, তোমার সিদ্ধান্ত মানতে মানতে জীবনটা কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছ, দেখেছ?
বাবা মায়ের সাথে মোটামুটি তর্ক করে সবার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ঐশি বের হয়ে চলে গেল। অথৈ পৌঁছে দিতে চেয়েছিল, তবে ঐশি কাউকেই নিলো না সাথে।
তাহিরা বেগম কান্নাকাটি করলেন, অথৈ চুপ করে বসে রইল৷ আপু কোন দিকে পা বাড়াচ্ছে, সেটা বুঝতে পারছে না ঠিক।

ঢাকায় পৌছুতে বিকেল হয়ে গেল ঐশির। ঐশি ভীষণ অবাক হয়ে দেখল, সুবহানা ওর জন্য একটা রুম গুছিয়ে রেখেছে।
ঐশি বলল, এ্যাই আমাকে রুম ছেড়ে দিলে তোর অসুবিধা হবে না?
না না, কোনো অসুবিধা নেই৷ এখানেই থাক তুই।
নাসির ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে?
না, টেক্সট করেছিল, ডিনারে আসবে বলল। তুইও চল।
না, তুই যাবি আজ, আমি তোকে সাজিয়ে দিব।
তুই না থাকলে, আমি যে কি করতাম!! – ঐশি সুবহানাকে বুকে টেনে নেয়।
ডিনারের জন্য সুবহানার বোনের পার্লার থেকে একটা মেয়ে এলো ঐশিকে সাজাতে। ঐশি শাড়ি পরল। তার চুলগুলো রিট্রো স্টাইলে বেঁধে ভারী আই মেকাপ করে দিলো মেয়েটি।
নাসির নিতে এলো সাড়ে নয়টার দিকে। সুবহানা নিচে গিয়ে ঐশিকে তুলে দিয়ে বলল, হ্যাভ এ নাইস টাইম!
সকালে দেখা হচ্ছে।
ঐশি বোঝার আগেই নাসির চলে গেল ঐশিকে নিয়ে।
একটা ফাইভস্টার হোটেলে ডিনার শেষে নাসির ঐশিকে নিয়ে আগে থেকেই বুক করে রাখা রুমে গেল।
ঐশি রুমে গিয়ে দেখল নাসিরের লাগেজ, তুমি এখানে ছিলে?
হুম! ব্যাংকক থেকে ফিরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

এখানে!
হুউম! অবশেষে তুমি এলে!!
মানে?
মানে আর কি, আজ আমরা এখানে থাকছি।
ঐশি একটু চমকে গেল, হোটেল রুমে!
নাসির ঐশিকে পেছন থেকে আলিঙ্গন করে ঘনিষ্ট হয়ে বলল, তুমি ভীষণ ইনোসেন্ট, এজন্যই তোমাকে আমার এত ভালো লাগে।
ঐশি পেছন ফিরতেই নাসির ঐশিকে চুমু খেতে শুরু করল। ঐশি বাঁধা দিতে পারল না একদমই।
তোমাকে এভাবে নিজের করে চেয়েছি ঐশি, তুমি চাও নি আমাকে?
ঐশি কিছু বলতে পারলো না। নাসির একটা নেকলেস বের করে ঐশিকে পরিয়ে দিলো।
দেখো, তোমাকে আমি রাজরানী করে রাখব। নেকলেস দেখে ঐশি গলে গেল, এত সুন্দর!
তোমার থেকে বেশি না! –
ঐশিকে বশ করতে আর বেগ পেতে হলো না নাসিরের।

মাঝরাতে নাসির বলল, ঐশি, তুমি তোমার ফ্ল্যাটে উঠে যাবে। আমি আমার সময় মতো তোমার কাছে চলে যাব।
ঐশি বলল, আমি ভাবছিলাম একটা জবে জয়েন করতে হবে, নয়তো ঢাকায় এত খরচ কিভাবে সামলাচ্ছি, বাসা থেকে প্রশ্ন করবে।
ওকে, তোমাকে একটা ফ্যাশন হাউজ করার জন্য একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এপয়েন্ট করে দিব। ওরাই করবে, ওনার থাকবে তুমি।
ঐশি বলল, এত কিছু কেন করছ নাসির?

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৫

-কারন তুমি, তুমি অনেক ইম্পর্টেন্ট আমার কাছে, বুঝেছ?
ঐশি নিজেকে খুব লাকি মনে করতে লাগল, ভালোই হয়েছে, সে এহসানের সংসার ছেড়ে বের হতে পেরেছে।
নাসির তাকে এতো ভালোবাসে, সময় মতো নিশ্চয়ই বিয়ের কথাও বলবে। সে এটা ডিজার্ভ করে। ভাগ্যিস নাসিরের সাথে তার আলাপ হয়েছিল!!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৭