ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৭
শানজানা আলম
নওফেল সাহেব দেশের একজন নামকরা ব্যবসায়ী তার তিন সন্তানের মধ্যে নাসির মেজ। একমাত্র ছেলে হওয়ায় নাসিরের প্রতি তিনি অন্ধ। ছেলে তার ভালোই, একটু বার মুখো। এটা তিনি কোনো সমস্যা হিসেবে দেখেন না।
নাসিরের স্ত্রী আভা বিষয়টা নিয়ে কয়েকবার আলাপ তুললেও তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ননদ এবং শাশুড়ী বলেছে, তুমি সংসার করো, বাইরে যতই ঘুরে বেড়াক, তোমাকে তো পাট রানী করে রেখেছে।
আভার একটাও ছেলে, নাফিও। নাফিও কে নিয়েই তার সারা বেলা কেটে যায়।
ব্রেকফাস্ট টেবিলে নওফেল সাহেব বৌমা আভাকে জিজ্ঞেস করলেন, নাসির ফেরে নি?
আভা বলল, ব্যংকক থেকে ফিরেছে, বাড়িতে আসে নি।
কেন? রাগারাগি করেছ?
নওফেল সাহেব জিজ্ঞেস করে মনে করলেন ভুল হয়েছে।
আভা বলল, আমি শুনেছি সে নাকি একটা মেয়ের সাথে ইদানিং বেশ সময় কাটাচ্ছে।
ওহ, আচ্ছা। – নওফেল সাহেব মুখের উপর পত্রিকা তুললেন।
আভা বলল, বাবা, আপনি আপনার ছেলেকে ফিরতে বলেন। এভাবে আর কত? পার্টি, বিদেশ ট্যুর, বান্ধবী এগুলো দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত।
এই প্রেক্ষিতে নওফেল সাহেব বললেন, দাদুভাইকে খাইয়ে দিয়ে এসো।
আভা বলল, জি আচ্ছা।
ঐশি ফিরে এসেছে। সুবহানা আর ওর বোন ঐশিকে খুবই প্যাম্পার করল, সুবহানা আলগোছে জানতে চাইলো, প্রোটেকশন ছিল তো?
এখন কোনো ঝামেলায় জড়াস না।
ঐশি বলল, নাসির বলেছে, আমাকে একটা ফ্যাশন হাউজ করে দিবে।
সুবহানার বোন তন্বী বলল, ফ্যাশন হাউজ, খুবই ভালো কথা, আমার পার্লারের সাথেই একটা স্পেস ফাঁকা আছে, সেটা নিয়ে নিলে লোকেশন ভালো হবে। সাথেই কয়েকটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল আছে!
ঐশি বলল, আমি ভাবছি, একটা ব্রান্ড করলে কেমন হয়, একটু এক্সপেন্সিভ, এক্সক্লুসিভ সব আইটেম থাকবে, নামি দামি তারকা সবাই আসবে। সেই রকম ডিজাইনার এপয়েন্ট করে নিব!!
তন্বী বলল, খুবই ভালো হয়, আমাদের পার্লারও আপগ্রেড করে নিব সাথে।
ঐশি রুমে চলে গেল ফ্রেশ হতে। তন্বী বলল, দুইদিনের বৈরাগী, ব্রান্ড দিতে চায়, নাসির ছুড়ে ফেললে, ক্লায়েন্ট খুজে মরতে হবে!
সুবহানা বলল, আপু, চুপ কর তো, দেখি কত কি করা যায় ওকে ভাঙিয়ে।
কি প্ল্যান তোর?
ওয়েট, আগে ফ্ল্যাটে উঠে যাক। সুন্দর একটা ফ্ল্যাট পাওয়া গেলে পার্টি করা যাবে, তাই না?
নাসির তার ফ্ল্যাটে তোকে পার্টি করতে দিবে?
দিবে দিবে, সবই দিবে- সুবহানা দুই হাতের আঙুল একত্রে মুঠোবন্দি করে চিবুক স্পর্শ করে পরিকল্পনা সাজাতে থাকে।
এহসানের একটু চাপ হয়ে গেছে, টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে, আসলে সেটা ঐশিরই টাকা। ওর দেনমোহরের টাকা। বিয়ে করার সময় ছয় ভরি ছয় লাখ টাকা ছিল, এখন সেটা বারো লাখ প্লাস। ওটা চুরি না হলে গয়নাটা সেল করে পুরো টাকাটা দিয়ে দেওয়া যেত।
সম্ভবত এই কারনে ঐশি চুরির নাটকটা সাজিয়েছে।
এত বুদ্ধি ওর মাথায় নেই, ওকে কেউ বুদ্ধি দিচ্ছে।
বেতনের চাইতেও বেশি টাকা দিতে হবে, ব্যাংকে তেমন জমা কিছু নেই, শহরে একটু ভালো করে থাকতে গেলে লাখ টাকা এমনিই খরচ হয়ে যায়। ঐশির পেছনে প্রচুর খরচ হয়েছে। জমে নি কিছুই।
মধ্যবিত্ত পরিবারে সব সময় ছেলের সামর্থ অনুযায়ী মোহর ধরা প্রয়োজন। তখন তো ছেড়ে দেওয়ার কথা কেউ ভাবে না অবশ্য।
এহসান ফেসবুক স্ক্রল করছিল, অথৈয়ের যার সাথে বিয়ের কথা, ছেলেটার প্রোফাইল সামনে এলো, নার্ড টাইপ মনে হয়! যাই হোক, অথৈ হয়তো ম্যানেজ করতে পারবে। ঐশি না হলে অথৈ হলে সংসারটা কত সুন্দর হতে পারত! সবই ভাগ্য, অথৈকে কি এহসান ভালোবাসে, না ভালোবাসা থেকে বিয়ে করতে চায় নি,
এমনিই বলেছিল। হয়তো রাগের মাথায়।
ফেসবুকে হঠাৎ করে একজন নক দিলো,
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৬
হ্যালো-
নিকিতা হাসান, আইডির নাম।
এহসান সাধারণত সাড়া দেয় না, আজ সাড়া দিলো,
হাই!
ভালো লাগছে না, অপরিচিত কারো সাথে চিটচ্যাট করা যেতেই পারে, একটু হালকা লাগে যদি!
