Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭০

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭০

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭০
শানজানা আলম

অথৈ, শুয়ে পড়ো- এহসান বলল।
অথৈ ইতস্তত করে বলল, খুব ভয় লাগছে, ও এভাবে এত বড় রিস্ক ক্যানো নিলো!
এহসান বলল, বাদ দাও অথৈ, ঐশি যখন রিস্ক নিয়েছে ওর মাথায় তো কোনো প্ল্যান আছেই। ও সেটা ভেবেই এগিয়েছে। নাসির টাকার কুমির। হয়তো ঐশির মুখ বন্ধ করতে ওকে টাকা পয়সা ব্যবসা সব দিয়ে দিবে।
বিয়েও করতে পারে, সেটা ঐশি বলল তো।
যদি না করে- অথৈ ভীত স্বরে বলল।

এহসান বলল, অথৈ, ঐশি এত বোকা না। বাদ দাও প্লিজ। আমাদের বাচ্চাটার কথা ভেবে একটু স্ট্রেস ফ্রি থাকার চেষ্টা করো। কাল দুপুরে বের না হওয়া অবধি রিলাক্স হওয়া যাচ্ছে না দেখছি।
টেম্পারেচার আরেকটু কমিয়ে এহসান বলল, শুয়ে পড়ো, মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
অথৈ বলল, আমাদের সব কিছু কেন এলোমেলো হয়ে গেল!
এহসান বলল, কিচ্ছু এলোমেলো হয় নি। এত সব কিছু না হলে আমি তোমাকে পেতাম না অথৈ। স্বার্থপরের মতন শোনালেও, আমি তোমাকে ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যেতাম! সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলেও আমি তোমাকে পেয়েছি। আমি তোমার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আমি জানি না কিন্তু তুমি আমার সব কিছু অথৈ।

আমার ঘর, আমার মানসিক শান্তি সব কিছু। মনে করো, পরিস্থিতি এমন হলো বলেই আমি আমার লাইফ লাইনকে খুঁজে পেয়েছি। না হলে একবার ভাবো, আমি কতটা ভেঙে গিয়েছিলাম।
এহসানের এমন কথা শুনে অথৈ ঐশির চিন্তা থেকে সরে আসতে শুরু করে। এহসান অথৈকে যেভাবে আঁকড়ে ধরেছে, এটা তো সত্যি, অথৈয়ের জীবন এহসান পরিপূর্ণ করে দিয়েছে। যে যাই বলুক, অথৈ এর জন্য এহসানের চাইতে পারফেক্ট আর কেউ হতো না।
এহসান অথৈকে বালিশ ঠিক করে শুইয়ে দিলো। কম্ফোর্টার টেনে গায়ে দিয়ে বলল এখন চোখ বন্ধ করো তো। মাঝে মাঝে স্বার্থপর হতে হয় অথৈ। ঢাকায় ফিরেই তোমাকে চেক আপ করাতে হবে।

ঐশির ঘরে ঐশিকে না দেখে অবাক হলেন তাহিরা বেগম। এত রাতে মেয়েটা কোথায় গেল! নিশ্চয়ই গরমে ঘুমাতে পারছে না। অস্বস্তিও আছে, এহসান আছে অথৈ এর সাথে। মনের উপর কিছুটা চাপ তো আসেই যতই মুভ অন করুক। ছেলেটা সম্পর্কে জানা দরকার, এহসানের সামনে কেউ কিছু না জিজ্ঞেস করেন নি। বিব্রত লাগছিল।
এহসান তো একসময় বলেছিল, ঐশির বাইরে এ্যাফেয়ার আছে, হয়তো এটার কথাই বলেছিল।
ভাবতে ভাবতে দেখলেন ঐশি নেমে আসছে ছাদ থেকে।
এত রাতে ছাদে গিয়েছিলি? – তাহিরা বেগম জানতে চাইলেন।
হুম- ঐশি সংক্ষিপ্ত করে উত্তর দিলো।
-তোর বাবা জানতে চাইলেন ছেলেটার ডিটেল। ডিনার টেবিলে এহসানের সামনে বিব্রত বোধ করছিল।
ঐশি বলল, ওর নাম নাসির মা, নাসির গ্রুপের মালিকের ছেলে। বড় বিজনেসম্যান।
আচ্ছা, বাসায় কে কে আছে?

তাহিরা বেগমের প্রশ্নে ঐশি থমকে গেল। নাসির সম্পর্কে সে কিছুই জানে না তেমন। নাসিরের বউ আছে, একটা ছেলে আছে, বাবা মা এই তো, আর কারো কথা তো ঐশি জানে না। পরিবার সম্পর্কেও জানে না।
অদ্ভুত বিষয়! কিছু না জেনে নাসিরের সাথে প্রেম বা আরো এত কিছু করেছে ঐশি!
সবাই আছে মা, জানতে পারবে ডিটেল। – ঐশি কথা শেষ করতে চাইল।
ছেলেটার একটা বায়োডাটা যদি- তাহিরা বেগম বলতে চাইলেন,

ঐশি বলল, উফফ মা, আমার কি এরেন্জ ম্যারেজ হচ্ছে নাকি! বাদ দাও, চিন্তা করো না। হোয়াটসঅ্যাপে ছবি দিচ্ছি, দেখিও বাবাকে। আর কাল ওরা চলে যাক, আমার কাজ আছে, আমি পরশু চলে যাব।
ঐশি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। বিছানায় গা এলিয়ে দিতে হঠাৎ মাথায় এলো, ঐশি কেন নাসিরের বাসায় চলে যাচ্ছে না। ওর বাবা মা জানতে পারলে তাদের বংশের বাচ্চা নিশ্চয়ই ফেলে দিবে না।
আর সংবাদ সম্মেলন করার চাইতে অধিকার বুঝে নিতে পারলেই লাভ বেশি। কিছু টাকা হয়তো সে পাবে তবে নাসির গ্রুপের উত্তরাধিকার, তার সাথে তো কোনো কিছুর তুলনা হয় না! নাসির যেভাবে রিএ্যাক্ট করল, ওর ফ্যামিলি শুনে কি করে সেটা দেখার বিষয়।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৯

নাসিরের বউ তো তাকে ছেড়ে দিবে না নিশ্চয়ই। এক্ষেত্রে ঐশির নাসিরকে হাতে রাখা দরকার ছিল।
নাসিরের কথা মতন চললে, হয়তো একসময় নাসির তাকে মেনে নিতো। তবে নাসির তো তাকে টিস্যু পেপারের মতন ব্যবহার করেছে, সেটা মেনে নিতে না পেরেই নাসিরও হাতে থাকল না।
নাসিরকে ঐশি অবশ্যই ছাড়বে না। যতদূর যাওয়া লাগে, ঐশি যাবে। ঐশি নায়েব পাশাকে একটা ফোন করল, নায়েব পাশা এত রাতে কল পিক করল না৷

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭০ (২)