ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৯
শানজানা আলম
অথৈ ফোন স্ক্রল করছিল, এহসান রুমে ঢুকে হাত থেকে ফোনটা নিয়ে স্ক্রীন অফ করে রেখে দিলো।
এসির টেম্পারেচার এডজাস্ট করে বলল, ঘুমিয়ে পড়ো।
আপু কিছু বলেছে আবার- অথৈ জানতে চাইলো।
এহসান ঈষৎ হেসে বলল, ছাদে ডাকছে, মনে হয় ঠেলে ফেলে দিতে চাচ্ছে।
মানে? এত রাতে ছাদে কি?- অথৈ অবাক হয়ে গেল।
আমি জানি না। শুয়ে পড়ো অথৈ।- এহসান বাতি নিভিয়ে দিতে দিতে বলল।
অথৈ উঠে বসে বলল, আমার মনে হয়, ও তোমাকে কিছু বলতে চায়, আমি তো আমার আপুকে চিনি, ওর হয়তো রিগ্রেট হচ্ছে!
এহসান বলল, এখন রিগ্রেট হলে আমার কি করার আছে অথৈ? আর আমার সেটা মনে হয় না। ওর সাথে আমার কথা বলার কোনো আগ্রহ নেই, আর কোনো কথাও নেই, সব শেষ। আমাকে বলছিল, আমি তোমার আঁচলের তলায় ঢুকে পড়েছি।
অথৈ বলল, বাদ দাও তো, ও তো কত কিছুই বলছে, কিন্তু কথাটা শোনা উচিৎ, আমার মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু, নয়তো এত রাতে, একা ছাদে ডাকত না!
এহসান বলল, আমি ছাদে যাই, তারপর আমাকে ঠেলে ফেলে দিবে নয়তো বলবে, আমি ওকে মলেস্ট করেছি!
ওর পক্ষে কোনো কিছুই অসম্ভব না।
-তুমি একটা কাজ করো হোয়াটসঅ্যাপে আমাকে কল দিয়ে, ফোনটা পকেটে রাখো, তারপরে যাও। আমি শুনতেছি কি বলবে, তাহলে তো তোমাকে কিছু বলতে এলেই আমি চলে যাব।
এহসান বলল, এত প্যারা নিতে হবে না।
অথৈ এর ফোন বেজে উঠল। ঐশি কল করেছে,
অথৈ এহসানের দিকে তাকালো, এহসান ইশারায় বলল, পিক করো, অথৈ ফোন পিক করল।
ঐশি বলল, অথৈ, এহসানকে একটু ছাদে পাঠা তো, আমার ওর সাথে কথা আছে, ভয় পাস না, আমি কিছু করব না৷
অথৈ বলল, যাচ্ছে আপু।
এহসান বলল, কেন বললে যাচ্ছে?
অথৈ বলল, প্লিজ শুনে এসো, আমার মনে হয় না ও কোনো ঝামেলা পাকাবে!
এহসান আবারও বলল,বুঝে দেখো, ওর হিস্ট্রি কিন্তু সুবিধার না।
অথৈ বলল, আমি আছি, সমস্যা নেই।
এহসান হোয়াটসঅ্যাপ কল দিয়ে ফোন পকেটে রেখে বের হলো রুম থেকে। বের হওয়ার সময়, অথৈ বলল, ছাদের পাশে দাঁড়াবে না।
এহসান হেসে চলে গেল।
ছাদের পাশে একটা বসার জায়গায় দুটো চেয়ার দেওয়া, হালকা লাইট জ্বালিয়ে ঐশি কফি মগ নিয়ে বসে আছে। এহসান আসছে দেখে ঐশি সরে বসল।
যাক, তাও আসলে? – ঐশি একটু হেসে বলল।
এহসান বলল, বলো কি বলবে?
ঐশি বলল, বসো। কফি খাবে?
না, এত রাতে কফি খাব না- এহসান না করল।
অথৈ রাগ করল?
না, অথৈ রাগ করার মত মেয়ে না। ওই আমাকে ঠেলে পাঠালো?
এহসান, তোমার সাথে এত বেশি তিক্ত সম্পর্ক হয়ে গেছে আমার, কয়েকটা জরুরি কথা বলা দরকার, তাও বলতে পারছি না।
-বলো-
-এহসান, অথৈ আমার খুব আদরের বোন। ও কতটা নরম, সহজ সরল, ভালো মেয়ে তুমি জানো, এজন্যই হয়তো ওকে পিক করা তোমার জন্য সহজ হয়েছে।
এহসান বলল, আসল কথায় আসলে ভালো হয়।
ঐশি বলল, এহসান, অথৈ এর যেন কোনো কষ্ট না হয়, এই সময়টা ওকে টেক কেয়ার করো। ও কি ভেবে তোমার কাছে গেছে, আমি জানি না। ভালোবেসে যদি যায়, ভালোবাসায় আগলে রেখো।
এহসান বলল, তুমি এটা বলার জন্য আমাকে ডেকেছ?
না, আরেকটা কথা আছে।
কী?
এহসান, আমি কনসিভ করেছি।
হোয়াট!! – এহসান জোরেই বলে উঠল!
অথৈ ফোনের ওপাশ থেকে শুনে হতভম্ব হয়ে গেল।
ঐশি বলল, হুম!
এহসান বলল, কে? নাসির?
ঐশি বলল, হুম!
এহসান বলল, কনগ্রাটস, তাহলে তো বিয়ে করে ফেলছ এজন্যই তাড়াতাড়ি!
ঐশি বলল, হুম!
এহসান বলল, নাসির তোমাকে বিয়ে করবে, এটা আমি আসলে বুঝি নি! ওর হিস্ট্রি তো ভালো না। তাও ভালো, সেটেল্ড হও, ওর তো ফ্যামিলি আছে! সবাই জেনেছে?
না, কেউই জানে নি।
এহসান বলল, হুম।
এহসান, এই কথাটা তোমাকে বলার কারন একটাই, কোনো কারনে আমার কিছু হয়ে গেলে আমার বাবা, মা, অথৈ সবাইকে তুমি দেখে রাখবে! এটাই বলার ছিল।
এহসান হঠাৎ ঐশির জন্য সিম্প্যাথি অনুভব করল একটু।
-ঐশি, তোমার কি মনে হয়, তোমার কোনো বিপদ হতে পারে?
-হতেই পারে। তাই না? বিষয়টা তো সহজ না!
– নাসির মানতে চাইছে না, এমন কিছু?
-হুম, কিছুটা!
এহসান বলল, আমার পরামর্শ যদি নাও, এরকম আনওয়ান্টেড একটা চাইল্ড পৃথিবীতে না আনাই ভালো হবে। এটা কোনো বিষয়ই না, এবর্ট করে ফেলো। নিজের লাইফ গুছিয়ে নাও। কি দরকার ঝামেলা বাড়ানোর।
ঐশি বলল, তাও ভালো, তুমি কিছু ভালো কথা বললে, তবে নাসিরকে তো আমি ছেড়ে দেব না এহসান।
ঝামেলা ছাড়া জীবন হয় না। সহজ সরলরেখা শুধু ক্লাশ ফোরের ম্যাথ বইয়ে আছে।
যাই হোক, তোমার কাছে কনফেস করলাম, সবার দায়িত্ব দিলাম, দেখে রেখো সবাইকে। এখন চলে যাও, অথৈ একা আছে, টেনশন করছে।
এহসান বলল, ঠিক কি বলা উচিৎ বুঝতে পারছি না, ঠিক আছে, উঠলাম তাহলে।
এহসান নেমে গেল।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৮
এহসান রুমে ঢুকে ঠিক করল অথৈ কে কিছু জানাবে না, কিন্তু অথৈ বসে আছে, ওর হতভম্ব ভাব কাটে নি। এহসানের মনে পড়ল, অথৈ অন কল ছিল, ও সবই শুনেছে।
এহসান অথৈ এর দিকে তাকিয়ে বলল, শুয়ে পড়ো।
