Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯
শানজানা আলম

তাহিরা বেগম সকাল থেকেই ব্যস্ত, অথৈকে দেখতে ছেলের পক্ষ থেকে দুজন আসবে। চায়ের নিমন্ত্রন হলেও টুকটাক রান্না তো করতেই হয়। অথৈকে তিনি ঘরে পাঠিয়ে বলেছেন একটু তৈরি হয়ে থাকতে।
মাস্টার্স পরীক্ষা হয়ে গেছে, অথৈ ঐশির মতন ঝকঝকে
সুন্দর নয়, তবে শান্ত, ছিমছাম। ঐশিকে একবারেই পছন্দ করেছিল এহসান আর ওর বাড়ির লোক। অথৈকে করবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না।

চারটা ডিম দিয়ে পুডিং বসিয়ে দিয়েছেন তাহিরা।
চপগুলো ভেজে রাখার ইচ্ছে ছিল কিন্তু গরম খেতেই ভালো হবে।
শরবত আর পিঠা প্রথমেই দিয়ে দেবেন।
ছেলে আর তার মাকে নিয়ে এলেন আরাফাত সাহেবের স্ত্রী। অথৈ কে কাছে ডেকে বসালেন। অথৈ এর সাথে সৌজন্যমূলক কথাবার্তা বললেন আরাফাত সাহেবের স্ত্রী। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, অথৈ আর সাদিক একটু নিজেরা কথা বলুক।
ওদের নিজেদের বোঝাপড়ার দরকার আছে।
অথৈ ছাদে নিয়ে গেল সাদিককে।
সাদিক বলল, তারপর, কি করতে চান এখন, পড়াশোনা তো শেষ?
অথৈ বলল, তেমন কোনো প্ল্যান নেই এখনো।
আচ্ছা। প্ল্যানিং থাকা ভালো।
হুম।

মেয়েদের জন্য টিচিং একটা বেস্ট প্রফেশন, আপনি ট্রাই করতে পারেন।
অথৈ বলল, দেখি, চেষ্টা করব। আমার অবশ্য ঘরে থাকতেই ভালো লাগে।
সে কি, ব্যাকডেটেড মানসিকতা!
কথাটা কানে লাগল অথৈ এর। তবে সে বানিয়ে কিছু বলতে চায় নি, কারন সারা জীবনের বিষয়, কোনো ভুল করা যাবে না।
সাদিক বলল, আমার মা সুপার লেডি, চাকরি করেছেন, সংসার সামলেছেন। প্রতিটা রান্না নিজের হাতে করতেন।
খুবই ভালো বিষয়। তবে সবাই তো আন্টির মতন হতে পারে না!
তা ঠিক। আমার মিতব্যায়িতা পছন্দ, অতিরিক্ত খরচ করা আমার পছন্দ নয়।
আচ্ছা।
কথা বার্তা বলে সাদিক নিচে নামল। অথৈয়ের খুব একটা মন টানলো না। তবে ওরা পজেটিভ ফলাফল জানালো। ওদের ভালো লেগেছে অথৈ কে, ওরা আগাতে চায় আস্তে ধীরে।
অথৈ এটা শুনে একটু চিন্তিত হয়ে পড়ল। কেন যেন মন সায় দিচ্ছে না৷

এহসান রাতে বাসায় ফিরে ঐশিকে দেখল এখনো চেইঞ্জ করে নি।
মাত্র ফিরেছ?
হ্যা।
কোথায় ছিলে?
শপিংয়ে গিয়েছিলাম।
আচ্ছা।
এহসান রুমে ঢুকে দেখল একটা বড় ব্রান্ডের দুটো শপিং ব্যাগ। প্রাইস ট্যাগ চেক করে দেখল প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার
টাকা দুটো ড্রেস।
ঐশি, এগুলো আজ কিনেছ?
হ্যা।
এত টাকা কেন খরচ করো, এখন তো ঈদও না। আমার একার ইনকামে সংসারটা চলে। তোমাকে টাকা গুলো দিয়ে রাখা যাতে এমার্জেন্সিতে কাজে লাগাতে পারো।
অথৈ এর একাউন্টে চল্লিশ হাজার টাকা রাখা ছিল।সেটার কথাই বলল এহসান।
এটা তোমার টাকা নয়, আমার কিছু জমা টাকা ছিল, আর অথৈ এর টাকা মিলিয়ে কিনেছি!
অথৈ এর থেকে টাকা নিয়েছ?

হ্যা, তো কি হয়েছে!
ও কি মনে করবে বিষয়টা?
কিছুই মনে করবে না। আমাকে তো তুমি এমন কিছু হাতখরচ দাও না, তাই না, টাকা লাগতেই পারে।
এহসান কথা বাড়লো না। তবে সহসা জিজ্ঞেস করল, নাসির নামে একজন তোমাকে সেদিন টেক্সট করেছিল, লোকটা কে?
ঐশি ইতস্তত করে বলল, সুবহার বন্ধু। সেদিন দেখা হয়েছিল, তখন ফোন নম্বর নিয়েছে।
ঐশি, এটা হলে ঠিক আছে, কিন্তু মিথ্যা বলো না।
মিথ্যা বলার কি আছে! – ঐশি জোর দিয়ে বলল।
হুম, ঠিক আছে।
এহসান কথা বাড়ালো না।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮

তবে ঐশির সাথে নাসিরের কথা হতে লাগল, ক্লাশের বাইরে দেখাও হলো, লং ড্রাইভে যাওয়া, একসাথে কফিশপে সময় কাটানো, শপিং, সব মিলিয়ে ঐশি আর নাসিরের একটা বোঝাপড়ার সম্পর্ক তৈরি হলো।
এহসান জানতে পারল না। ওর সংসারে টুকটাক খুটখাট লেগেই থাকল প্রতিদিন। সংসারে মনোযোগী হও, প্রতিদিন বলতে বলতে এহসানও বিরক্ত হয়ে গেল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১০