Home বাঁধনহারা প্রেম বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৫

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৫

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৫
shanta moni

‘শুভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সামনে থাকা উকিলের দিকে।
‘কি সব বলছেন আপনি মাথা ঠিক আছে।
‘আমি ঠিকই বলছি স্যার।
‘উকিল শুভ্রের হাতে একটা কাগজ দেয়। দিয়ে বলে উঠে
‘এই সব কিছু অনেক আগে থেকে রোদ ম্যাম নামে।
শুভ্র কোনো কিছু বলছে না। ঠায় এক যায়গা দাঁড়িয়ে আছে। রিয়া নিচ থেকে উঠে শুভ্রের দিকে এগিয়ে এসে বলে।
‘শুভ্র বেবি কি সব বলছে এরা। তুমি চুপ করে আছো কেনো?
রিয়াকে এতো বিচলিত হতে দেখে বাঁকা হাঁসে রোদ। শুভ্র কোনো কিছু না বলেই বেড়িয়ে আসে কেবিন থেকে। রিয়া কিছুই বুঝতে পারছে না। রোদের দিকে এগিয়ে এসে আঙ্গুল উচু করে বলে উঠে।

‘তোকে আমি দেখে নেবো….!
রোদ মুচকি হেঁসে বলে উঠে…!”
‘হুম অবশ্যই কেনো না। আপনার দেখার জন্য হলেও সব সময় আপনার আসে পাশে থাকবো।
‘রিয়া মুখ জামটা মেরে কেবিন থেকে বেড়িয়ে যায়।
‘বিকাল চার টা কি সাড়ে চারটা
অফিস থেকে ফিরে নিজের রুমে আসে রোদ। কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা ওয়াশরুমে ডুকে যায়৷ প্রায় আধা ঘণ্টা পর ফ্রেশ হয়ে গোসল করে বের হয়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে ছিলো রোদ। মিরোরে আয়না পিছনে শুভ্রকে সোফার উপর বসে থাকতে দেখে চোখ মুখ শক্ত করে ফেলে। চোখে মুখে ক্রোধ নিয়ে শুভ্রের দিকে তাকায়৷
শুভ্র রোদের দিকে কেমন করে যোনো তাকিয়ে আছে। রোদ রাগে তেতে উঠে বলে।

‘এই আপনি আমার রুমে কেনো এসেছেন? বেড়িয়ে যান এক্ষুনি।
‘মুখে দেখছি ভুলি ফুটেছে ভালোই হ্যা…!
‘আপনার সাথে কোনো কথা বলতে চাইনা আমি। বেড়িয়ে যান রুম থেকে…!
‘যদি না যাই তো…!
‘ওকে আপনার যেতে হবে না। আমি বেড়িয়ে যাচ্ছি।
রোদ কথা গুলো বলেই রুম থেকে বেড় হতে নেয়। এমন সময় শুভ্র রোদের হাত টেনে ধরে।
রোদ হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলে…!
‘হাতটা ছাড়ুন বলছি…!
‘যদি না ছাড়ি…!
‘ভালো হবে না! বলে দিচ্ছি…!
‘ভালো কিছু হচ্ছেও না। তুই এখন দেখ খারাপ কিছু করতে পারিস কিনা…!
রোদ শুভ্রের দিকে ফিরে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে উঠে।
‘ছেড়ে দিন আমায়। আপনার প্রতিটা স্পর্শ আমার গায়ে কাটার মতো বিধছে। প্লিজ ছাড়ুন৷
‘শুভ্র রোদের দিকে তাকিয়ে ক্ষীন ধম ছেড়ে বলে উঠে!

‘ভালোই তো পরির্বতন হয়েছিস৷
রোদ তাচ্ছিল্য হেঁসে বলে
‘পরির্বতন তো হতে চাইনি বাধ্য করেছেন আপনি।
‘মুখে মুখে কথা বলতেও শিখে গেছিস বাহ..!
‘চুপ করেই তো ছিলাম। চুপ থাকতে দিলেন কই।
রোদের কথায় শুভ্রের হাতে বাঁচোব আগলা হয়ে আসে। রোদ নিজেকে ছাড়িয়ে দুই কমদ পিছিয়ে গিয়ে বলে উঠে।
‘কোন অধিকারে আপনি আমাকে ছুঁয়েছেন?
“তোকে ছুয়ে দিতে আমার কোনো অধিকার প্রয়োজন হবে না।
“যে হাত দিয়ে অন্য নারীকে স্পর্শ করেছেন সেই হাত দিয়ে আমাকে ছুবেন না আপনি। আমি ঘৃণা করি আপনাকে।
শুভ্র রোদের হাত ধরতেই রোদ হাত ছাড়িয়ে রাগে শুভ্রের শার্টের কর্লাট চেঁপে ধরে বলে।
“একটা কথা মনে রাখিস। যে নারী ভালোবাসা ক্ষমতা রাখে সেই নারী ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।
নিজের ধ্বংস নিজে ডেকে আনিস না।
‘রোদ কথা গুলো বলেই নিজ রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। শুভ্র ঠায় দাঁড়িয়ে আছে, শুভ্র মনে মনে কিছু একটা আওরায়।

‘রাত ২ টা কি তিনটা
‘রিয়া নিজের রুমে শুয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
কিছুর শব্দে ঘুম হালকা হয়ে আসে। নিজের চোখের সামনে সাদা কাপড় পড়ে থাকা কাউকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিয়ে শুয়া থেকে উঠে পড়ে। এক পা দু পা করে সাদা কাপড় পড়ে থাকা অবায়কটি রিয়া দিকে এগিয়ে আসে। রিয়া ভয়ে থর থর করে কাঁপছে আর বিছানা থেকে পিছচ্ছে। সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবায়কটি ভয়ংকর ভাবে হেঁসে উঠে বলে৷
‘কি হলো ভয় পাচ্ছিস কেনো।
‘ক,,, কে কে আপনি?
রিয়ার কথা শুনে সামনে থাকা অবায়কটি হাঁসতে হাঁসতে বলে…!
‘আমি ভুত…!
‘কি….ভু ভু ভুত….!
‘হুম ভুত আমি৷ আমি তোর গাড় মটকাতে এসেছি৷
‘রিয়া ভয়ে ভয়ে বলে উঠে…!

‘প্লিজ ভুত বাবা আমার কিছু করোনা। আমি তোমার তো কোনো ক্ষতি করিনি…!
‘চুপ কর হা*রাম জাদি, তুই আমার অনেক ক্ষতি করছিস। তোর ঘাড় মটকে রক্ত খাবো আমি এখন।
‘নাহহহহহ আমাকে মাফ করে দাও ভুত বাবা।
আমাকে মেরো না৷
‘মারবো না যদি একটা শর্ত মানিস।
‘রিয়া ভয়ে ঢোগ গিলে বলে
‘কি সর্ত ভুত বাবা…!
‘তুই শুভ্রকে বিয়ে করবি না। আর যদি বিয়ে করিস তো। সেইদিন রাতেই তোর ঘাড় মটকে রক্ত খাবো আমি হুম।
‘নাহহহ নাহহহ করবো না বিয়ে এবার ছেড়ে দেও ভুত বাবা।
‘আমার শর্ত এখনো শেষ হয়নি।
রিয়া ভয়ে শরীর থেকে ঘাম টপটপ করে পড়ছে।
‘টাকা দে আমায়?

‘টাকা দিয়ে কি করবেন ভুত বাবা..!
‘দিতে বলছি দে,, তা নাহলে তোর ঘাড় আমি এখনি মটকাচ্ছি দাঁড়া।
‘নাহহহহ আমি দিচ্ছি টাকা..!
‘রিয়া ডিম লাইটের আলোতে হাতরিয়ে ড্রয়ার থেকে টাকা বের করে সামনে ছুড়ে মারে।
সাথে সাথে সাদা দোয়ার চারদিকে ভরে যায়। রিয়া সেন্সলেস হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়।
নিলয় গা থেকে সাদা কাপড় টা খুলে দূরে ছুরে মারে। ফ্লোর থেকে টাকা গুলো তুলে রিয়ার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠে।
‘আসছে ব্রো কে বিয়ে করতে। আমি বেঁচে থাকতে এই বিয়ে কখনোই হতে দিব না।
‘কথা গুলো বলে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।

সকাল সকাল চৌধুরী বাড়িতে চিৎকার চেচামেচি শুরু হয়ে গেছে৷ রিয়া বিছানার উপর বসে থর থর করে কাঁপছে কোনো কিছুই বলতে পারছে না৷ পাশে হাঁসি বেগম, বসে আছে। হটাৎ রিয়া এমন অসুস্থ হয়ে যাওয়াটা কেউ কিছু বুঝতে পারছে না। সবাই রিয়াকে দেখতে গেলেও। নিলয় রোদ কেউ যাইনি৷ কৌতুহল বসত নীলা যায়। রিয়াকে দেখতে বাড়ির সার্ভেন্ট থেকে সবাই বলাবলি করছে রিয়া পাগল হয়ে গেছে। এইদিকে নিলয় সোফার উপর পা তুলে বসে চিপস খাচ্ছে। নীলা রোদের রুমে এসে রোদকে খুজছে। ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ পেয়ে বিছানার উপর বসে। পাঁচ মিনিট যেতেই রোদ ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়। নীলাকে দেখে মুচকি হেঁসে সামনে এগিয়ে আসে। নীলা রোদের কাছে এসে রোদকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। রোদ নীলার মাথায় হাত ফুলিয়ে দিয়ে বলে উঠে।
‘‘কি হয়েছে তোর? কাঁদছিস কেনো পাগলি।
‘নীলা নাক টানতে টানতে বলে উঠে।
‘তুই অনেক পাল্টে গেছিস রোদ।
‘তাই……
‘হুম……!

‘তো এই ভাবে মরা কান্না কাঁদছিস কেনো। পাল্টে না হয় গেছিস মরে তো যাইনি।
‘সাথে সাথে নীলা রোদকে ছেড়ে রাগী চোখে রোদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
‘আজ বলেছিস, আর যদি এই সব কথা তোর মুখে শুনি।
‘ওকে বাবা এতো হাইপার হোস না। আমি আর বলবো না।’’
নীলা শান্ত হয়ে রোদের দিকে তাকায়, তারপর বলে।
‘কি হ’য়েছে তোর? তুই অনেকটাই বদলে গেছিস।
‘রোদ হাঁসার চেষ্টা করে বলে…!
‘কি হবে আমি ঠিক আছি।

‘না তুই ঠিক নেই। এই রকম ব্যবহার এই রকম চলাফেরা, এই রকম তো তুই তো ছিলি না।
‘রোদ নীলার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে।
‘তুই তো আমাকে সব সময় বলতি রোদ প্রতিবাদ কর। চুপ করে সব সহ্য করিস না। তো আজ যখন নিজ থেকে প্রতিবাদ করতে শিখলাম, এখন বলছিস বদলে গেছি।
নীলা আর কোনো কিছু বলে না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। রোদ নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে উঠে।
‘আমাকে একটু সময় দে। তারপর সব কিছু নিজ থেকে বুঝে যাবি।
নীলা আর কোনো কিছুই বলে না।
রাত প্রায় ১০ টা কি সাড়ে ১০ টা ড্রয়িং রুমে হেনা বেগম সোফার উপর বসে আছে।
সামনে রোদ দাঁড়ানো, হেনা বেগম ক্ষীণ ধম ছেড়ে রোদকে উদ্দেশ্য করে বলে।”
‘‘আমি তোমার আবার বিয়ে দিতে চাই রোদ।
রোদ অবাক হয়ে বলে উঠে…!

‘মানে কি সব বলছো নানু?
‘আমি ঠিকই বলছি। শুভ্র যদি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে। তো তুইও পারবি..!
‘কিন্ত নানু আ…
রোদ আর কিছু বলতে পারে না। তার আগেই সদর দরজা থেকে বিকট শব্দ আছে। কিছু ভাঙার সামনে শুভ্রকে দেখে আবার সবাই চোখ ফিরিয়ে নেয়৷ হেনা বেগম পুনরায় আবার বলে উঠে।
‘আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এইটাই ফাইলান। আগামী সপ্তাহে তোমার সাথে আর অয়নের সাথে বিয়ে৷
‘রোদ কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। শুভ্রের দিকে এক নজর তাকায় শুভ্র এখনো ঠায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। রোদ শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।

‘আমি রাজি নানু, তুমি বিয়ে ব্যবস্তা করো।
হেনা বেগম খুশি হয়ে বলেন
‘সত্যি বলছি রোদ তুই রাজি
‘হ্যা নানু আমি রাজি। তুমি খুব তাড়াতাড়ি বিয়ের ব্যবস্তা করো। আর হ্যা রিয়া আপু আর আমরা একই দিনে বিয়ে করতে চাই।
‘কথা গুলো বলেই রোদ আর এক মূহুর্ত দাঁড়ায় না। সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে আসে।
এইদিকে অয়নের মুখে বিশ্ব জয়ের হাঁসি। হেনা বেগম সে অনেক কষ্টে বুঝিয়ে রাজি করিছে। এই দিকে হাঁসি বেগম কিছু বলতে যাবে হেনা বেগমকে। কিন্তু রিয়া হাঁসি বেগমের হাত টেনে ধরে আটকায়। তাই হাঁসি বেগম চুপচাপ বিয়েতে সম্মতি জানায়। এইদিকে রোদ রুমে এসে দরজা বন্ধ করে। মুখ চেঁপে ধরে ফুপিয়ে ওঠে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পেটে হাত দিয়ে বলে উঠে।
‘যে আমার রক্তে মিশে আছে। যার অংশ আমার পেটে তাকে ছেড়ে অন্য কাউকে কিভাবে বিয়ে করবো আমি।
রোদ কাঁদতে কাঁদতে ফ্লোরে বসে পড়ে।

“আল্লাহ এ কোন পরিক্ষা নিচ্ছো তুমি আমার।
রাত ১২ টা
ছাদের এক কোনে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে শুভ্র।
হটাৎ কাঁধে কারো স্পর্শ পড়তে পিছন ফিরে তাকায়।
রোমান হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে। রোমান শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে বলে।
“কেমন আছিস ভাই?
“ ভালো…!
রোমান শুভ্রকে ছেড়ে শুভ্রের পাশে দাঁড়ায় রেলিং ধরে।
দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
‘‘শুনলাম বিয়ে করছিস নাকি?
“ তুই এখানে কেনো এসেছিস?
“আরে ইয়ার চাপ নিস না। তোকে বিয়ে করতে বারন করতে আসিনি।

রোমানের কথায় শুভ্র রোমানের দিকে আড় চোখে তাকায়। ছেলেটা পাল্টে গেছে। আগের মতো আর হাঁসে না৷ চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। দাঁড়ি গোপে পুড়ো মুখ ভর্তি হয়ে গেছে। আগের রোমান আর এখনকার রোমানের ভিতরে যেনো আকাশ পাতাল তফাত। গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুভ্র। রোমান হাঁসি হাঁসি মুখ নিয়ে শুভ্রের কাঁধে হাত দিয়ে বলে।
‘‘ভাই এমন কিছু করিস না যাতে সারাজীবন কষ্ট পেতে হয়। একটা কথা মনে রাখিস শুভ্র, সব কষ্ট সহ্য করা গেলেও ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে ফেলার কষ্ট কখনো সইতে পারবি না। প্রতিটা মূহুর্তে মৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে বাঁচতে হবে।
রোমান একটু থেমে আবার বলে উঠে

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৪

“ এই আমাকে দেখ দিব্বি বেঁচে আছি। কিন্ত কিভাবে বেঁচে আছি সেটা সুধু আমিই জানি।
তাই বলছি ভাই এমন ভুল করিসনা যাতে সারা জীবন কাঁদতে হয়।
‘তো বলা শেষ এখন আমি যাই।
শুভ্র ছাদ থেকে নেমে যায় রোমানকে রেখেই।
শুভ্রের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাঁসে রোমান।
পুনরায় আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
“ইসস সময় যদি পিছানো যেতো৷ তাহলে আমি তোকে আবার আমার কাছে ফিরিয়ে আনতাম রুহি। আর এইবার তোকে আমার কাছে পেলে আর কোথাও যেতে দিতাম না।

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৬

1 COMMENT

Comments are closed.