বাঁধনহারা প্রেম শেষ পর্ব
shanta moni
“শুভ্রের এমন অসহায় অবস্থা দেখে, সবার চোখে পানি, এই শুভ্র চৌধুরীকে কেউ চিনতে পারছে না।
আজ বড্ড অচেনা লাগছে শুভ্রকে, শুভ্র রোদের কাছে আসতেই, মাটিতে লুটিয়ে পরে। হাঁসি বেগম শব্দ করে হেঁসে উঠে। শুভ্র আদো আদো চোখে তাকায় রোদের দিকে, শরীরের যন্ত্রণায় চোখ বুঝে আসে শুভ্রের,
হাঁসি বেগম শুভ্রের দিকে এগিয়ে এসে বলে উঠে।
“এতো তাড়াতাড়ি হাড় মেনে নিলে তো চলবে না। খেলা তো সবে শুরু আরো কতো কিছু দেখার বাকি।
“ শুভ্র কোনো রকম পা খোরাতে খোরাতে উঠে দাঁড়ায়, হাঁসি বেগম একজন বলে উঠে, রোদকে জাগাতে, একজন গার্ড এসে রোদকে লোহার খাঁচা থেকে বের করে, আর একজন এসে ঠান্ডা পানি ঠেলে দেয়। রোদের গায়ে, রোদ ধর ফরিয়ে উঠে যায়। ওষুধের রিয়াকশন টা একটু বেশি ছিলো, হয়তো। তাই এখনো কেমন টুলছে, ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছে না। হটাৎ কারো চিৎকারে রোদের মস্তিষ্ক সচল হয়। ধীরে ধীরে মনে পড়ে রোদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা।
“বিয়ের আসরে_”
“রোদ নীলার প্লান ছিল, রোদের যায়গায় জুঁইকে বিয়েতে বসাবে, আর সব কিছু তাদের প্লান অনুযায়ী হয়। কিন্তু শেষ পথে রোদ যখন বাড়ির পিছন দিকে যায়৷ তখনি হাঁসি বেগমের সাথে দেখা হয়। হাঁসি বেগম রোদের মুখে কিছু একটা এসপ্রে করে। সাথে সাথে রোদ সেন্সলেস হয়ে যায়। তারপর আর কিছুই মনে নেই রোদের। রোদ মাথা তুলে আদো আদো চোখে তাকায় সামনে, শুভ্র এক পাশে দাঁড়িয়ে টুলছে, সারা গায়ে ক্ষত, তার কিছুটা পিছনে, সবাইকে চেয়ারের সাথে বাঁধা, রোদের আর বুঝতে বাকি কিছুই রইলো না। হাঁসি বেগম রোদের দিকে তাকিয়ে সয়তানি হাঁসি দেয়। তারপর বলে উঠে।
“ কি করে অবাক হচ্ছিস। খেলা তো সবে শুরু দেখ আরো কতো কি করি।
“মেজো মামি, তুমি সবাইকে এইভাবে বেঁধে রেখেছো কেনো? কি করছো তুমি এইসব?
“ স্টপ আমি কারো মেজো মা নই। আর এই সব আদিক্ষেতা বাদ দে৷ যদি সবার ভালো চাস, তো আমি যেইটা বলবো, সেটা চুপচাপ কর। তাহলে সবাইকে ছেড়ে দিব।
“রোদ কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে
“ তুমি এমন কেনো করছো মেজো মা, সবাই খুব কষ্ট পাচ্ছে,ছেড়ে দাও সবাইকে।
“নিজের মায়ের এমন খারাপ রুপ দেখে অয়নের খুব কষ্ট হচ্ছে। তার মায়ের জন্য কতো গুলো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। রোদ কিছু বলতে যাবে তার আগেই হাঁসি বেগম বলেন।
“ সবাই ছেড়ে দিব, তবে একটা শর্তে যদি তোর বিষয় সম্মতি সব আমার নামে করে দিস।
“আমি আমার পরিবারের জন্য সব করতে রাজি। তুমি বলো কোথায় সাইন করতে হবে।
“ হাঁসি বেগমের চোখে মুখে খুশির ঝলক, হাঁসি বেগম কাউকে ইশারা দিতেই, একজন হুডি পড়া লোক সামনে আসে। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। রোদ বাঁকা হাঁসে, হাঁসি বেগম বলে উঠে।
“যদি সবাইকে বাঁচাতে চাস তো, চুপচাপ এইখানে সাইন করে দে।
“আমার হাত পা তো বাঁধা, খুলে না দিলে সাইন করবো কিভাবে?
“হাঁসি বেগম একজনে ইশারা দিতেই, একটা লোক এসে রোদের হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়। রোদের গায়ে এখনো সেই ভারি লেহেঙ্গা, গহনা বিয়ের সাজ।
রোদের হাতে কাগজ দিতেই রোদ, কাগজ টা নিয়ে নিচু হয়৷ পায়ের সু থেকে ছুড়ি বের করে দক্ষ হাতে সামনের দিকে ছুড়ে মারে। হাঁসি বেগমের হাতের কবজি কেঁটে গেছে। গল গল করে রক্ত পড়ছে। হাঁসি বেগম গলা ফাটা চিৎকার করে বসে পড়ে৷ রাগে ক্ষোভে বলে উঠে।
“ তোকে তো আজ আমি, এই তোরা কে কোথায় আছিস, শেষ করে ফেল ওরে, চালাকি করেছে আমার সাথে নাহ,
“চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে রোদকে কিছু বর্ডিগার্ড, রোদ হাতে লোহার রট উঠিয়ে, উরাধুরা সবাইকে পিটাচ্ছে৷ রোদের এমন রুপ দেখে সবার চোখ কপালে, শুভ্র রোদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে৷ পাশে থাকা হুডি পড়া লোকটাকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, হাঁসি বেগম বলে উঠে
“তুমি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকবে, ধরো রোদকে, হাঁসি বেগম বন্দুক বের করে, ছুড়ে মারে লোকটার দিকে, লোকটা বন্দুক হাতে নিয়ে রোদের দিকে এগিয়ে এসে, রোদের মাথায় তাক করে।
রোদ থেমে যায়। হাঁসি বেগম, কোনো রকম ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়ায়, রোদের দিকে এগোতে এগোতে বলে।
“পুটি মাছের প্রান থেকে দেখি এখন কই মাছের প্রান হ’য়েছে। তবে তোর খেলা শেষ। এখন দেখ, তোর এই ভুলের জন্য সবাইকে একসাথে মরতে হবে। আর একটা টুইস্ট তো বাকি আছে৷ মরবি যখন সব কিছু জেনে মর, তাহলে মরেও শান্তি পাবি।
“রোদ কিছুই বলছে না, শুভ্রকেও কয় একজন ঘিরে ধরে আছে। হাঁসি বেগম হুডি পড়া লোকটাকে বলে,
এই তুমি সরে আসো, এই তোরা এই মেয়েটাকে ধর, আর যেনো কোনো চালাকি না করতে পারে।
কিছু বর্ডিগার্ড এসে রোদকে বন্দুক দিয়ে চারদিকে ঘিরে ধরে। শুভ্র চিৎকার করে বলে উঠে।
“ আমার রোদের যদি কিছু হয়, তো এই জমিনে রক্তের বন্যা বইবে।
“হাঁসি বেগম শব্দ করে হাঁসে, হুডি পড়া লোকটাকে বলে উঠে।
“আর কতো নিজের মুখ লুকাবে,এবার চলো,মুখটা সবাইকে দেখাও।
“ হুডি পড়া লোকটা নিজের মুখ থেকে হুডি সরিয়ে ফেলে। সবাই আরাফ চৌধুরীকে দেখে চারশো, ব্লটের জটকা খায়৷ শুভ্র দু কদম পিছিয়ে যায়। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে।
“ড্যাড তু…মি…?
হাঁসি বেগম শব্দ করে হাঁসেন, তারপর বলে উঠে
“হ্যা শুভ্র এটা তোমার ড্যাড, যে তোমার একমাত্র আদরের বোনকে, আমাদের সাথে মিলেইে মেরেছে।
শুভ্র অবিশ্বাস চোখে তাকিয়ে আছে আরাফ চৌধুরীর দিকে, মনে হচ্ছে সে কোনো স্বপ্ন দেখছে।
শুভ্র বিশ্বাস করতে পারছে না৷ এইসব কিছুর পিছনে তার নিজের জন্মদাতার হাত আছে। শুভ্র বলে উঠে।
“নাহহহ আমি বিশ্বাস করিনা৷ আমার ড্যাড কখনো, এই রকম করতে পারে না।
“ হাসি বেগম উচ্চ স্বরে হেঁসে উঠে বলে।
“এটাই বাস্তব শুভ্র, এটাই সত্যি।
শুভ্র যেনো ভিতরে ভিতরে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।
বিড়বিড় করে বলে উঠে।
“ সারাজীবন বাহিরে শত্রুদের থেকে সাবধানে থাকলাম। শেষে কিনা, আঘাত করলো, আপন মানুষ গুলো।
“চেনা মানুষের অচেনা রুপ কতোটা ভয়ংকর সেটা আজ শুভ্র ভালো করেই বুঝতে পারছে।
“ সবাই অবাক হলেও রোদের মধ্যে কোনো অবাকের রেশ টুকু নেই। হাঁসি বেগম বিচ্ছিরি ভাবে হেঁসে উঠে বলে।
“আজ এই চৌধুরী বাড়ির সবাই মরবে সবাই।
“ হটাৎ রোদের হাঁসিতে চারদিকে ধমকে যায়৷ রোদ শব্দ করে হাঁসছে, অন্ধকারে খালি রুমে, হাঁসির শব্দ, বার বার প্রতি ধ্বনি হচ্ছে। রোদের এমন ভাবে হাঁসতে দেখে সবাই অবাক। হাঁসি বেগম রাগে গর্জে উঠে বলে।
“মরা ভয় নেই, পাগল হয়ে গেছিস নাহ, এমন ভাবে হাঁসছিস।
“ ভয় তো আমার হচ্ছে, তবে নিজের জন্য না, আপনার জন্য।
“হাঁসি বেগম রোদের কথার কিছুই বুঝে না।
রোদ হাঁসতে হাঁসতে হাঁসি বেগমের দিকে এগিয়ে এসে বলে।
“খেল তো আপনি অনেক দেখালেন, আম্মা, এখন আমরাও একটু দেখাই,।
রোদ কথা গুলো বলেই বলে উঠে।
“গাইস সুট হিম…!
“সাথে সাথে হাঁসি বেগমের চারদিকে গুলি চলতে থাকে,হাঁসি বেগম ভয়ে চিৎকার করছে।
রোদ থামতে বলে, তারপর পুনরায় আবার বলে উঠে
‘এটাকে বলে মরার ভয়, রোদ বন্দুক বের করে,আবার গুলি করতে থাকে, হাঁসি বেগম এদিক ওদিক লাফাচ্ছে। আরাফ চৌধুরীকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, তার পিছনে গিয়ে দাঁড়ায় ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলে।
“প্লিজ আমাকে বাঁচাও, রোদ আমাকে মেরে ফেলবে,তুমি এই রকম চুপ করে আছো কেনো? গুলি করো রোদকে,
আরাফ চৌধুরি বন্দুক তুলে, রোদের দিকে তাক করে। হাঁসি বেগম হেঁসে উঠে। পরক্ষণেই সামনে তাকাতেই চোখ বড় বড় হয়ে যায়৷ আরাফ চৌধুরী হাঁসি বেগমের দিকে বন্দুক তাক করে আছে। রোদ বাদে সবাই অবাক, হাঁসি বেগম ভয়ে ভয়ে বলে উঠে।
“ আমার দিকে বন্দুক চালাতে বলিনি, রোদের দিকে বন্দুক তাক করো৷
“হাঁসি বেগমের এমন কথায়, রোদ শব্দ করে হেঁসে উঠে৷ হাঁসতে হাঁসতে বলে
“ কেমন লাগলো, মেজো মামি, ওপস সরি, মিস ডলি রানি।
“ডলি নামটা শুনতেই অবাক হয়ে তাকায় হাঁসি বেগম৷ রোদ পুনরায় হেঁসে বলে উঠে।
“কি অবাক হচ্ছেন, অবাক হওয়ার কিছুই নেই।
আরো কতো যে অবাক হতে হবে আপনাকে, না জানি অবাক হতে হতে কখন আপনার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়।
“হাঁসি বেগম আমতা আমতা করে বলে।
“ কি সব বলছো হ্যা, আমি হাঁসি কোনো ডলি, পলি নই।
“লুকিয়ে লাভ নেই মিসেস ডলি, মানে মিসেস আহাত চৌধুরী বউ।
“ রোদের পর পর এমন কথায় হাঁসি বেগম, চমকে যাচ্ছেন। এতো বছরের লুকিয়ে রাখা, পুড়ানো খেলা কি তাহলে সব শেষ। নো নো এটা হতে পারে না।
“রোদ হাঁসি বেগমকে অবাক হতে দেখে, বলে উঠে
“মিসেস ডলি বেগম বেশি হাইপার হবেনা। বেশি হাইপার হলে,দেখবেন টুস করে, হার্ট অ্যাটাক হলো,আর ঠুস করে মরে গেলেন।
হাঁসি বেগমের গায়ে থেমে গাম জড়ছে, এইদিকে কিছু গার্ড এসে, সবার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিচ্ছে।
রোদ হাঁসি বেগমের কাছে এসে,চুলে মুঠি শক্ত হাতে, চেঁপে ধরে৷ ঠাসসস ঠাসসস চারটা থাপ্পড় মারে।
রাগে চোয়াল শক্ত করে বলে উঠে
“ তোর জন্য এতো বছর ধরে, এতো গুলো মানুষ কষ্ট পেয়েছে, তোর জন্য আমি আমার মা-বাবাকে হারিয়েছি, তোর জন্য আমার মায়ের মতো মামনির ভালোবাসা হারিয়েছি৷ তোকে আমি ছাড়বো না, আজ নিজ হাতে খুন করবো তোকে।
“হাঁসি বেগম মাটিতে পড়ে আছেন। কোনো রকম মুখ তুলে, আরাফ চৌধুরী দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
“ তুমি এইভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? আমাকে মারছে কিছু করো?
“রোদ শব্দ করে হেঁসে উঠে, হাঁসতে হাঁসতে বলে,
“এটা আপনার হাসবেন্ড আহাত চৌধুরী না৷ মিসেস ডলি, উনি হচ্ছে আরাফ চৌধুরী, তাই দুঃখিত৷ আপনাকে সে কোনো ভাবেই সাহায্য করতে পারছে না।
“মানে…..?
“মানে হলো এইটাই উনি হচ্ছে আসল আরাফ চৌধুরী, যাকে আপনি এবং আপনার স্বামী মীলে, সাত বছর ধরে বন্ধ ঘরে আটকে রেখেছিলেন।
“ হাঁসি বেগম অবাক হয়ে বসা থেকে উঠে,দাড়ায়৷
রোদ কাউকে ডাক দিতেই, একটা দরজা খুলে যায়। সেখান থেকে বের হয়ে আসে৷ আরাফ চৌধুরীর মতো হুবহু আর একজন লোক, হাত পা বাঁধা,। রোদ হাঁসি বেগমের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাঁসে। হাঁসি বেগম, দু কদম পিছিয়ে যায়৷
“ইসস এতো শক্ট নিতে পারছেন না। এইভাবে এতো বছরের সাজানো প্লানে, এক বাতলি,পানি ঢেলে দিলাম।
মিসেস হাঁসি বেগমের নকল করা, আরেক রুপ, মিসেস ডলি, আপনাকে তো আর একটু চমকে দিতে হয়৷ চলুন আর একটু চমকে দেই।
“রোদ কাউকে ইশারা দিতেই, দরজা দিয়ে কাউকে আসতে দেখে, সেইদিকে তাকায় সবাই।
রুহি, আফরিন বেগম, তার সাথে হাঁসি বেগম, হেঁটে তাদের দিকেই আসছে৷ রোমান এতোক্ষণ সব কিছুই দেখছিলো। রুহিকে সামনে দেখে, মনে হচ্ছে সে কোনো স্বপ্ন দেখছে। মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিয়েও নিজেকে ঠিক করে। এতো বছর পর, নিজের মাকে চোখের সামনে দেখে, শুভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
সে বিশ্বাস করতে পারছে না। আফরিন বেগম বেঁচে আছে। শুভ্র দৌড়ে গিয়ে আফরিন বেগমকে জড়িয়ে ধরে। এতো বছর পর ছেলেকে দেখে, কান্নায় ভেঙে পড়েন আফরিন বেগম৷ রুহিকে দেখেও সে কি কান্না। রোমান এখনো ঠায় এক যায়গা দাঁড়িয়ে আছে৷
রুহির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
হেনা বেগমের চোখেও পানি৷ এইদিকে হাঁসি বেগম ওরফে ডলিকে, রোদ বলে উঠে।
“কি হলো, বুঝতে পারছেন না। কিভাবে সব কিছু জেনে গেলাম আমি, আর রুহিও কিভাবে বেঁচে আছে।
“ অতীত”
“সেদিন রাতে শেষ সময়ে রোদ গিয়ে হাজির হয় রুহির পাশে। রুহিকে রাশেদের হাত থেকে রোদ উদ্ধার করে।
আর সেদিনের পোড়া লাশটা৷ আর কারো নয়, রাশেদের ছিল। রোদ নিজ হাতে রাশেদকে খুন করে। আগুনে পুড়িয়ে ছিল৷ আর পুলিশকে, টাকা দিয়ে রুহির মিথ্যা রিপোর্ট বানিয়েছিল। পরিস্থিতি এমন ছিলো যে রোদ কাউকে বলতে গিয়েও বলতে পারিনি। তারপর পর পর কয়দিন হাঁসি বেগমকে ফলো করতে থাকে, তবে সেদিন রাতে হুডি পড়া লোকটার মুখ রোদ রুহি কেউ দেখতে পাইনি। রোদের সন্দেহ হয়, রাশেদ লাশ যখন মাটি দিতে যায়, আরাফ চৌধুরী, তখন, কবরে মাটি দিয়ে, আসে। এই সাত বছরের আরাফ চৌধুরীকে কখনো খালি পায়ে দেখেনি রোদ। পায়ের দিকে তাকাতেই দেখে, আরাফ চৌধুরীর পায়ে ছয়টা আঙুল। সেই খান থেকে সন্দেহ দানা বাধে মনে। পরে রোদ হেনা বেগম রুমে যায়। সেইখানে আরাফ চৌধুরীর পুড়ানো ছবির সাথে, কারো ছবি মিল দেখে চমকে যায়। আরাফ চৌধুরী, আর আহাত চৌধুরী দুই জমজ ভাই। হুবহু একই রকম দেখতে,তাদের দুইজন আলাদা করে চেনা খুবই কঠিন। তবে আহাত চৌধুরীর মধ্যে একটু ভিন্নতা ছিল। সেটা হলো, তার বাপ পায়ে পাঁচটার যায়গায় ছয়টা আঙুল, রোদ সেদিনের পর থেকে আরাফ চৌধুরী উপর নজর রাখতে সুরু করে। পরে একদিন দেখতে পায়। হাঁসি বেগম, আর আরাফ চৌধুরী লুকিয়ে লুকিয়ে মাঝ রাতে দেখা করছেন। রোদের সন্দেহ সত্যি হয়৷ সে ভালো ভাবে বুঝতে পারে। এটা আরাফ চৌধুরী না, আহাত চৌধুরী। পরে একদিন, হাঁসি বেগম, মানে ডলিকে দেখে, সবাই লুকিয়ে চুরিয়ে, উপরে তিন তলা, রুমে খাবার নিয়ে যেতে। আরাফ চৌধুরী নিজেই একদিন সবাই বলে ছিল। তিন তলা, কনাড়ে রুমে যেনো কেউ না যায়৷ এমন কি বাড়ির কোনো লোকও না৷ সেই জন্য কেউ সেইদিকে তেমন যায়ওনি।
প্রথম দিন, কিছু বুঝতে না, পারলেও, পড়ে রোদ হাঁসি বেগমের থেকে নকল চাবি বানিয়ে, সেই রুমে প্রবেশ করে। সেইখানে খুব বাজে অবস্থায়, আফরিন বেগম, আরাফ চৌধুরী, আর অয়নের মাকে পান। রোদ প্রথমে অনেকটা ভয় পেয়ে যায়৷ কোনো রকম একটু খাবার খায়িয়ে, বাঁচিয়ে রেখেছিল সবাইকে। তবে রোদ প্রথম কিছু না বুঝলেও পড়ে, সবটা জেনে অজোরে কেঁদে ছিল। রোদের বাবা ছিলেন একজন কর্মরত পুলিশ অফিসার, যাকে আহাত চৌধুরী, আর ডলি, মিলে গাড়ি এ্যাকসিন্ডেট নাম করে খুন করেন। সেই গাড়িতে ছিলেন রোদের মাও। রোদের মা-বাবা মরে যাওয়ার পর, আফরিন বেগম রোদকে নিয়ে আসেন। আহাত চৌধুরী সাথে, পরিবারের কারোই ভালো সম্পর্ক ছিল না। ১৮ বছর বয়স থেকেই, মদ, গাঁজা নারী নেশায় ডুবে থাকতেন, আরাফ চৌধুরী প্রচন্ড পরিমান ভালোবাসতেন ভাইকে,অনেক বার বুঝিয়েছেন কিন্তু আহাত সেই বাজে পথ থেকে ফিরে আসতে পারেনি। এক সময় অপরাধ করতে করতে অনেক বড় অপরাধী হয় উঠে। নারী পাচার শিশু পাচার দর্শন৷ খুন করা সব কিছুই যেনো নিত্য দিনের কাজ হয়ে উঠে আহাতের। আরাফ চৌধুরী বাবা, পুলিশে ধরিয়ে দেয়। আর বাড়ি থেকেও বেড় করে দেন। একদিন আফরিন বেগমের সাথে মদ খেয়ে এসে অসভ্যতামি করতে আসেন। আরাফ চৌধুরী আর সহ্য করতে পারেন না। পুলিশ ধরিয়ে দেয়। সেই দিনের পর থেকেই পরিবারের উপর রাগ ক্ষোভে, আহাত চৌধুরী আরো ভয়ংকর খুনি হয়ে উঠেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে, আরো বাজে কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েন।
এক সময় পাপের রাজ্য গড়ে তুলেন। আর সেইখানে বাঁধা হয়, রোদের বাবা৷ পাঁচশো কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট করে,আহাত চৌধুরী, সেই টাকা
উদ্ধার করে রোদের বাবা৷ আর সেই টাকা সে লুকিয়ে রাখে। কথা ছিল, সরকারের কাছে সব টাকা জমা দিবে, কিন্তু তার আগেই খুন হয় রোদের বাবা। শেষ সময়ে, আফরিন বেগম, আর আরাফ চৌধুরীকে রোদের দায়িত্ব নিয়ে যান। আর সেই টাকার কোথায় সেটাও বলে যান। প্রথমে আহাত চৌধুরী কিছু না জানলেও পড়ে সবটা জানতে পারেন। তারপর প্লান সাজিয়ে, আফরিন বেগমের মিথ্যা মৃত্যু, আর আরাফ চৌধুরী যায়গা নিজেকে দাঁড় করান৷ ইচ্ছে ছিলো। ভাইয়ের ক্ষমতা কেড়ে নিবে। আর সেটাও করেন। তার ভিতরে বিয়ে করেন ডলিকে, যার সাথে কলেজ লাইফ থেকে পরিচয় যে তার সব পাপ কাজের সঙ্গি। সেদিন রাতে অয়নের মা সব কিছুই জেনে যায়। যার জন্য তাকেও আফরিন বেগম, আর আরাফ চৌধুরী সাথে আটকে রাখেন। আর ডলি, হাঁসি বেগমের মুখ হুবহু সার্জারি করে, হাঁসি বেগম সেজে থাকেন ওই বাড়িতে। শুভ্রকে ভুল বোঝায়, রোদকে সেদিন রাতে মারতে চেয়েছিল। মরে শুনে, এই বাড়ির সব বিষয় সম্মতি রোদের নামে৷ তাই রোদকে সেদিন মারতে গিয়েও মারতে পারে না৷ রোদকে আফরিন বেগমের মিথ্যা মৃত্যু দায়ে ফাঁসিয়ে দেয়। এইদিকে ছোট রোদ সে সবের কিছুই জানে না। চোখের সামনে একটার পর একটা অন্যায় হয়৷
দুর্বল রোদ হয়ে উঠেছিল কঠোর। রোদ সবাইকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। হাঁসি বেগম মানে ডলি, কিছু বুজার আগেই, আরাফ চৌধুরীকে, আহাত চৌধুরী মতো, হুবহু ঠিক করে। সেই যায়গা পাঠান। আর দেখতে এক রকম হওয়ার কারনে ডলি, কিছুই বুঝতে পারে না। এইদিকে, রুহি রোদ মিল, আহাদ চৌধুরীকে কিডন্যাপ করে আটকে রাখে।
“বর্তমান”
“হেনা বেগম মুখে কাপড় চেঁপে কেঁদে উঠে। কাঁদতে কাঁদতে বলে
“ এই কুলাঙ্গার আমার পেটে জন্ম না নিলে, আজ এইদিন দেখতে হতো না। ওর জন্য আমার মেয়ের জীবন নষ্ট হলো। এতো হাঁসি খুঁশি পরিবার এক মূহুর্তে ভেঙে গেলো। আমার নাতি, নাতনিরা এতিম হলো। সব দোষ আমার, আমি কখনো ভালো মা হতে পারিনি
“আরাফ চৌধুরী হেনা বেগমকে এসে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে।
“ মা শান্ত হন আপনি, এখানে আপনার কোনো দোষ নেই। মানুষ টাকার লোভে, মানুষ থেকে জানো*য়ার হয়ে যায়। আর মা কখনো সন্তানকে খারাপ শিক্ষা দিতে পারে না৷ মা তো মা,ই।
“হেনা বেগম শান্ত হয়। শুভ্র গার্ডদের উদ্দেশ্য করে বলে উঠে।
“সব গুলোকে আমি নিজ হাতে শাস্তি দিব। সব গুলো নিয়ে আমার পুড়ানো গোডাউনে যাহ।
“আহাত চৌধুরী, সাথে ডলিকে ধরে নিয়ে যায়। সময় টা এখন শেষ রাত। সবার চোখে মুখে খুঁশির ঝিঁলিক, আফরিন বেগম রোদকে এসে জড়িয়ে ধরে বলে।
“ তোর জন্যই আজ আমরা এখানে, তুই আমার মেয়ে নাহ,, আজ থেকে তুই আমার মা।
“রোদের চোখেও পানি। আফরিন বেগম আদরের হাত ভুলায় রোদের মাথায়, রোদকে ছেড়ে শুভ্রের দিকে এড়িয়ে যায়৷
এইদিকে রোমান এখনো দাঁড়িয়ে আছে। রুহি দৌঁড়ে রোমানের সামনে এসে দাঁড়ায়৷ রোমান কাঁপা কাঁপা হাত বাড়ায় রুহির দিকে, কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে উঠে।
“বোকানারী, আমার বোকানারী, আমার রুহি বেঁচে আছে।
“রুহির চোখে পানি, মাথা দুলিয়ে বলে উঠে।
“হুম বেঁচে আছে আপনার রুহি, গায়ক সাহেব। কিকরে আপনাকে ছেড়ে যাই বলুন তো। এখনো তো আমাদের সংসার করা বাকি। আমাদের তো সংসার করতে হবে।
রোমান রুহিতে আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে ধরে। শব্দ করে কাঁদছে, কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে।
“আমাকে ছেড়ে আর কোথায় যাবি না তো। প্লিজ কোথাও যাস না৷ তোকে হারিয়ে আমি বাঁচতে পারবো না৷
“আমি কোথাও যাবো না, কোথাও যাবো না। আপনার কাছেই থাকবো। আমার গায়ক সাহেবের কাছেই থাকবো।
“সবার চোখে পানি, রোমান রুহির কান্না দেখে, এতদিন সবাই দেখেছে, রোমান রুহির জন্য ঠিক কতোটা পাগলামি করেছে। কেউ কেউ তো বলেছে, রোমান হয়তো পাগল হয়ে গেছে।
“হটাৎ কিছু শব্দে পাশে তাকাতেই দেখে, রিয়া হাতে লোহার ভারি একটা কিছু দিয়ে রোদের মাথায় আঘাত করছে৷ রোদের মাথা দিয়ে গল গল করে রক্তে পড়ছে। রোদ মাথা ধরে কোনো রকম দাঁড়িয়ে আছে। রিয়া আবার ভারি দিতে নিলেই শুভ্র চিৎকার করে বলে উঠে।
“নো নো নো রিয়া, স্টপ ওখানে থেমে যাহ।
“ রিয়ার আবার ভারি দিতে নেয়৷ রোদ কোনো রকম ধাক্কা দিয়ে রিয়াকে দূরে সরিয়ে দেয়৷ রিয়া মাটিতে পড়ে যায়৷ রাগে ক্ষোভে, উঠে আসবে এমন সময় হাতের কাছে গান পেয়ে, হাতে তুলে নেয়। গান তাক করে রোদের দিকে, তারপর বলে উঠে।
“আমি বেঁচে থাকতে শুভ্রকে তোমার সাথে কখনোই এক হতে দিব না। শুভ্র আমার না, মানে কারো না।
বায় বায় রোদদদ।
ঠাসসসস ঠাসসস ঠাসসস ঠাসসসস চারটা গুলি করে রোদের বুক বারবর।
শুভ্র: এই এই নাহহ, রিয়া….!
“এক মূহুর্তে সব কিছু স্তব্ধ হয়ে যায়৷ কি থেকে কি হয়ে গেলো। কেউ বুঝতে পারছে না। রোদ লুটিয়ে পরে ফ্লোরে,রক্তে পুড়ো ফ্রোর ভেসে যাচ্ছে। শুভ্র রোদের দিকে এসে ঠাসসস করে বসে পড়ে৷ কয়েক একজন বডিগার্ড এসে রিয়াকে ধরে ফেলে। সবাই যেনো হতভম্ব হয়ে আছে। কি থেকে কি হয়ে গেলো। রোদের মাথা দিয়ে গল গল করে রক্ত পড়ছে। আফরিন বেগম, হেনা বেগম, আরাফ চৌধুরী রোদের দিকে দৌড়ে আসেন।
শুভ্র রোদের মাথা নিজের কোলে তুলে নেয়।
শুভ্রের হাত পা থরথর করে কাঁপছে, কিছু বলতে চাচ্ছে খুব করে। কিন্তু বলতে পারছে না। শুভ্র মা বলে চিৎকার করে বলে উঠে
“আম্মু রোদ কেমন যেনো করছে, আম্মু রোদ এমন করছে কেনো। এই রোদ রোদ কথা বল।
“ রোদ আদো আদো চোখে তাকায় শুভ্রের দিকে, ঝাঁপসা চোখে,শুভ্রের মুখটা দেখে, মলিন হাঁসে, শুভ্র রোদকে কোলে তুলে নিতে নিতে বলে।
“আম্মু গাড়ি কোথায় গাড়ি বের করতে বলো। রোদকে ডক্টর কাছে নিতে হবে। রোদের রক্ত বের হচ্ছে।
রোদের কিছু হয়ে গেলে। আমি মরে যাবো,একে বারে মরে যাবো।
রোদ শুভ্রের হাত টেনে ধরে,
“শুভ্র থেমে যায়৷ রোদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে
“ তুই চোখ খোলা রাখ, একদম চোখ বন্ধ করবি না, আমি তোকে ডক্টর কাছে নিয়ে যাচ্ছি। কিচ্ছু হবে না তোর।
“রোদ শুভ্রের এক হাত নিজের মুখের সাথে চেঁপে ধরে ফুপিয়ে ওঠে৷ শরীরে তার অসহ্য যন্ত্রনা হচ্ছে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে।
“ আমাকে যেতে দিন শুভ্র ভাই, আমার সময় হয়ে গেছে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করার।
“একদম চুপ আর একটা কথা বলবি না৷ কোথাও যাবিনা তুই, আমার কাছে থাকবি,আমার সাথে থাকবি তুই।
রোদ মলিন, হাসে শক্ত হাতে শুভ্রের হাত চেঁপে ধরে বলে উঠে।
“ সব যুদ্ধে জিতে গেলেও, আপনাকে পাওয়ার যুদ্ধে আমি আজ হেরেই গেলাম।
“শুভ্র বাচ্চাদের মতো কাঁদছে, বার বার সবাইকে বলছে রোদকে নিয়ে ডক্টর কাছে যেতে, কিন্তু কেউ তার কথা শুনছে না। বাহিরে অনেক বাতাস বইনে মনে হচ্ছে বড় সড় ঝড় বৃষ্টি হবে। শুভ্র রোদের হাত শক্ত করে চেঁপে ধরে বলে উঠে।
“ এই বউ প্লিজ এই সব বলিস না। আমি সহ্য করতে পারবো না। তোকে হারিয়ে বেঁচে থাকার শক্তি আমার মধ্যে নেই। কিচ্ছু হবে না তোর।আমি থাকতে কিছু হতে দিব না তোর।
তোকে বাঁচতে হবে পাখি, এই শুভ্র চৌধুরীর জন্য হলেও তোকে বাঁচতে হবে।
“মানুষ তো আসা নিয়ে বাঁচে,আমার জীবনে কোনো আশা নেই, আর না আছে কারো ভালোবাসা। আমি বেঁচে থেকে কি করবো।
“রোদের কথায় শুভ্রের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। এমন উপক্রম। রোদ পুনরায় আবার বলে উঠে।
“ আপনাকে আমি মুক্ত করে দিয়ে গেলাম। আপনি তো বলেছিলেন আমি মরে গেলেই আপনার মুক্তি মিলবে, আল্লাহ আপনার মুক্তি পথ দিয়ে দিছেন। আজ থেকে আপনি মুক্ত।
“ওই সব কথা বলেনা পাখি, আমি মরে যাবো,মরে যাবো আমি। তুই বিহীন আমি শূন্য।
শুভ্র রোদকে ধরে অজোরে কাঁদছে তীব্র থেকে তীব্র কিছু হারিয়ে ফেলার ভয়ে, হাত পা থর থর করে কাঁপছে।
_আপনাকে না পাওয়ার শূন্যতা নিয়েই আমি চলে গেলাম৷ এইজীবনে তো আপনাকে পেলাম না। তবে হাশরের ময়দানে আমি প্রথমে আল্লাহ কাছে আপনাকে চাইবো।
“আর একটা অভিযোগ রাখবো আল্লাহ কাছে, কেনো ভালোবাসলেন আমায়৷
“ শুভ্র পাগলের মতো করছে, হাতে পায়ে ক্ষত কারনে রোদকে নিয়ে উঠতে পারছে না। রোদ শুভ্রের মুখে আলতো হাত ভুলায়, ঘন ঘন শ্বাস ফেলে, বলে উঠে।
“আমার প্রাপ্তির খাতা, শূন্য ছিল। এখনো সেই শূন্যতা নিয়ে চলে গেলাম।
শুভ্র ভাই, দেখছেন আমি আজ লাল শাড়ি পড়ে বউ সেজেছি, স্বপ্ন ছিল আপনার জন্য বউ সাজবো, কিন্তু আমার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো। আমার আর সংসার করা হলো না আপনার সাথে
শুভ্র রোদের দিকে তাকায়, রোদ বলে উঠে
“প্লিজ কাঁদবেন না। মানুষ মরে যায়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা কখনো মরে না। আমাকে আপনার ভালোবাসতে হবেনা। একটু মনে রাইখেন। সেই টাই হবে আপনার থেকে আমার অনেক বড় পাওয়া।
রোদ ভারি নিশ্বাস ফেলে কাঁপা গলায় বলে
“আমি মারা গেলে, আমার কবরটা, আপনার রুমের সামনে দিবেন শুভ্র ভাই। আমি যেনো বাতাস হয়ে আপনার রুমে ডুকে আপনাকে স্পর্শ করতে পারি।
শুভ্র কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা গলায় বলে
“আমাকে সাথে রাগ করছিস, যার জন্য এই সব বলছিস নাহ,অনেক গুলো সরি, তারপর এই সব বলিস না।
“রোদ ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে,শুভ্র এইবার আর বসে থাকতে পারে না। রোদকে পাজা কোলে করে, নিয়ে উঠে দাঁড়ায়, রোদকে নিয়ে সামনে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুভ্রকে কেউ ধরে রাখতে পারছে না।
শুভ্র রোদকে নিয়ে বাহিরে চলে আসে। বাড়ি ঝড় বইছে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বাহির যত দূর চোখ যাচ্ছে অন্ধকার আর জঙ্গরে ঘেরা। শুভ্র রোদকে নিয়ে হাঁটছে আর বিড়বিড় করে বলছে।
“আমি তোকে কোথাও যেতে দিব না৷ আমাকে একা রেখে তুই এইভাবে পালাতে পারবি না।
শুভ্র রোদকে নিয়ে হাঁটছে, পায়ে জখমের কারনে ঠিক মতো হাটতে পারছে না। এক সময় হোচট খেয়ে বৃষ্টি ভিতরে পড়ে যায়৷ বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, রোদের কপাল থেকে বৃষ্টির পানিতে রক্ত ধুয়ে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে৷ শুভ্র ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না। রোদের নিশ্বাস আরো ভারি হতে থাকে। শুভ্র বিচলিত হয়ে বলে উঠে।
“রোদ এই রোদ একদম চোখ বন্ধ করবি না। চোখ খোলা রাখ৷ কিচ্ছু হবে না পাখি তোর, চোখ খুলে রাখ।
রোদ শুভ্রের হাত ধরে শব্দ করে কেঁদে উঠে৷ কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে।
“ আমাকে কেনো ভালোবাসলেন না শুভ্র ভাই। একটু ভালোবাসলে কি এমন ক্ষতি হতো?
“রোদের কথায় শুভ্রের বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে ওঠে। রোদ আবার বলে উঠে।
“আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবেন?
শুভ্র কোনো কিছু না বলেই রোদকে জড়িয়ে ধরে৷ রোদের শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এইদিকে, আরাফ চৌধুরী হেনা বেগম শুভ্রের পিছন পিছন এসে হাজির হন। শুভ্র রোদের কোনো সারা শব্দ না পেয়ে, রোদকে ছেড়ে সামনে ধরে। রোদের চোখ বন্ধ
শুভ্র রোদের গালে হাত দিয়ে বলে উঠে।
“এই পাখি, পাখি, দেখ এমন করিস না। রোদ এই রোদ, কথা বল। এতো বড় শাস্তি আমায় দিস না জান।
আম্মু আমার রোদ কথা বলছে না কেনো? আম্মু রোদকে উঠতে বলো। রোদ এই রোদ,
শুভ্র অস্থির হয়ে পরে, শুভ্র রোদের দুই বাহু ঝাকিয়ে বলে উঠে।
“আমি তোকে ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি বউ, এই বউ কথা বল, শুনছিস, তুই ভালোবাসি আমি তোকে, অনেক ভালোবাসি জান। এমন করিস না। কথা বল পাখি। আমি তোকে হারিয়ে বাঁচতে পারবো না পাখি।
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৬
“ আম্মু, রোদকে উঠতে বলো,,রোদও আমাকে বলেছিলো,আমি ওকে ভালোবাসি না, কিন্তু আমি তো আমার ছোট্ট ফুল খু্ব বেশি ভালোবাসি আম্মু। আম্মু আমার ছোট্ট ফুল টা বড্ড বোকা। নিজের অস্তিত্ব কে ভালো না বেসে থাকা যায় বলো।
“শুভ্রের পাগলামি বারতে থাকে, এক সময় রোদকে জড়িয়ে ধরে, মাটিতে লুটিয়ে পরে শুভ্র।
সমাপ্ত
