বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৬
shanta moni
“সিঁড়ি দিকে তাকাতেই সবাই বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়।
সামনে রিয়াকে দেখে ভয়ে ভয়ে শুভ্রের পাশে ঘোমটা দেওয়া কোনের দিকে চোখ যায়। রিয়া টোলতে টোলতে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। আর বার বার বলছে এই বিয়ে হবে না। রিয়া সিঁড়ি থেকে নেমে বিয়ের স্টেজ উঠে আসে।
সামনে ঘোমটা দেওয়া কোনের দিকে বন্দুক বের করে। তার দিকে তাক করে রাগে ফুঁসে উঠে বলে।
“আমি তোকে ছাড়বো না রোদ, তোরা সবাই মিলে আমাকে ধোঁকা দিয়েছিস। শুভ্র যদি আমার না হয়। তোকেও কখনো শুভ্রের হতে দিব না।
“শুভ্র রোদের দিকে এগিয়ে আসতে নিলেই রিয়া বলে উঠে।
“ ওইখানে দাঁড়া শুভ্র, আর এক পা এগোলে, বন্দুকের গুলি তোর রোদের বুক ঝাঁড়রা করে দিব।
শুভ্র সাথে সাথে থেমে যায়। ভয়ে দুকদম পিছিয়ে যায়। রিয়ার দিকে করুন স্বরে তাকিয়ে বলে উঠে।
“শোন ওর কিছু করিস না, আমি বিয়ে করবো তোকে, প্লিজ গানটা নামা।
“ তোর এই মিথ্যা কথায় আমি আর গলছি না।
কথা গুলো বলেই বন্দুক রোদের মাথার এগিয়ে ধরে।
শুভ্র কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে উঠে
“রোদের কিছু করিস না, আমি তোর সব কথা শুনবো।
“ মিথ্যে মিথ্যে, তোর ওই মিথ্যা ভালোবাসার নাটক আমার সাথে করতে পারবি না। তোর আর রোদের গল্প আমি এখানেই শেষ করে ফেলবো।
কথা গুলো বলেই রিয়া বন্দুকের টিগার চাপতে নেয়। এমন সময় সামনে ঘোমটা দেওয়া লোকটা ঘোমটা সরিয়ে ফেলে। সাথে সাথে রিয়ার হাত থেকে বন্দুক পড়ে যায় কিছুটা দূরে। ঘোমটা সরাতেই সবাই হা হয়ে তাকিয়ে আছে। লাল বেনারসি পড়া নিলয়কে দেখে। এখন সবাই হাঁসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারছে না। রিয়া তাকিয়ে নিলয়ের দিকে, সবাই এতোক্ষণ ভেবেছিল হয়তো রিয়াকে সরিয়ে রোদ শুভ্রের সাথে বিয়ে যায়গা বসেছে। রোমান নীলা, হেনা বেগম, অয়ন শুভ্র এক সাথে বলে উঠে।
“নিলয় তুই এখানে?
নিলয় ভয়ে পুড়ো শরীর থেকে টপ টপ করে ঘামের ফোটা পড়ছে। এইবার সবার নজর যায়। অয়নের পাশে দাঁড়ানো কোনের দিকে, রিয়া তাড়াতাড়ি অয়নের দিকে এগিয়ে গিয়ে ঘোমটা সরিয়ে দেয়। এখন যেনো ৪০০ ব্লডের জটকা খায়। জুঁইকে দেখে, অয়ন জুঁইকে দেখে দুকদম পিছিয়ে যায়। পড়ে যেতে নিয়েও নিজেকে ব্লেন্সেস করে৷ কাঁপা কন্ঠে বলে উঠে।
“এই মেয়ে তুমি এখানে? রোদ কোথায় তাহলে?
“জুঁই কোনো কিছু না বলেই, মাথা নিচু করে ফেলে।
“অয়ন বিড়বিড় করে বলে
“ তার মানে একটু আগে এই মেয়ের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে।
রিয়া রাগে চিৎকার করে বলে উঠে,
“রোদ কোথায় ওকে আমি ছাড়বো না। শেষ করে ফেলবো।
রিয়া কথার মাঝেই শুভ্র নিচে পড়ে থাকা গান নিজের হাতে তুলে রিয়ার দিকে তাক করে। কাজটা এতো দ্রুত হয়, যে কারো বুঝে ওঠার আগেই। শুভ্র রিয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাঁসে। তাঁরপর বলে উঠে।
“ ইউ আর ফিনিস চাচি আম্মা।
রিয়া ভয়ে কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে কাঁপা স্বরে বলে।
“ক…কি করছিস শুভ্র? বন্দুক টা নামা। দেখ গুলি চলে যাবে।
শুভ্র পৈচাসিক হাঁসি দিয়ে বলে উঠে।
“আমি তাই গুলি চলুক,
“ দেখ শুভ্র পাগলামি করিস না। বন্দুক টা নামা, গুলি চলে যাবে৷
শুভ্র রিয়ার দিকে এক পা দু পা করে এগিয়ে এসে বলে।
“এতোদিন তোর অনেক ন্যাকামো সহ্য করেছি। তোর জন্য আমি ছোট্ট পুতুলটাকে কষ্ট দিয়েছি। তার শাস্তি তো তোকে পেতেই হবে।
“নাহ তুই এটা পারিস না। তুই তো বলেছিলি আমাকে ভালোবাসিস৷ তাহলে এমন কেনো করছিস। তুই তো আমাকে করবি বলেছিলি। প্লিজ বন্দুক নামা।
“তোকে বিয়ে করবো আমি, ভাবলি কি করে? তোর মতো একটা খুনিকে আমি বিয়ে করবো। মৃত্যু তোর জন্য কম শাস্তি হয়ে যাবে। আমার ফুলের মতো বোনটাকে তোরা সবাই মিলে শেষ করেছিস।
তোদের একটাকেও আমি বাঁচতে দেব না।
শুভ্রের কথায়, রিয়া কিছু টা ঘাবড়ে যায়। ভয়ে ভয়ে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
“কি সব বলছিস, আমি কেনো তোর বোনকে মারবো।
শুভ্র আমি তোকে অনেক ভালোবাসি, প্লিজ আমাকে মারিস না।
“ ওহ রিয়েলি, আমাকে তুই ভালোবাসিস, তাহলে তোকে তো ভালোবাসা দিতে হয়।
“শুভ্র রিয়া দিকে এগিয়ে এসে ঠাসসসস করে থাপ্পড় মারে রিয়া গালে, থাপ্পড়ের বেগ এতো ছিলো, যে রিয়া ছিটকে মুখ থুবড়ে ফ্লোরে পড়ে যায়।
সবাই নিরব দর্শকের মতো সব কিছু দেখছে, কেউ কিছুই বলছে না। শুভ্র রিয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে রিয়ার হাতের উপরে নিজের পায়ের জুতা দিয়ে পিষে ধরে।
ঠাসসস করে থাপ্পড় মেরে বলে উঠে
“ এইটা রোদকে আমার থেকে দূরে করার জন্য, ঠাসসসসস এটা রোদের সাথে ঝামেলা করে জন্য
ঠাসসসসস ঠাসসসসসস ঠাসসসস ঠাসসস
রিয়াকে এক এক করে ২০ টা থাপ্পড় মারে শুভ্র। রিয়া নিজের ভাসাম্য আর ধরে রাখতে পারে না। নাক মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। ফ্লোরে লুটিয়ে পরে রিয়া। শুভ্র যেনো এখনো রাগ কমছে না। রাগে কপালের রগ ফুলে উঠেছে। সবাই কেমন ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে শুভ্রের দিকে।
রিয়াকে থাপ্পড় মেরে ফ্লোরে ঠাসসস করে বসে পড়ে শুভ্র। কেমন যেনো সব কিছুই অসহ্য লাগছে। এতো দিনের করা নাটকের জন্য যদি তার রোদকে সারা জীবনের জন্য হারিয়ে ফেলে। তাহলে তার কি হবে। কিনে নিয়ে বাঁচবে শুভ্র।
“এইদিকে অয়ন এক নজর তাকায় জুঁইয়ের দিকে, বিয়ের স্টেজ থেকে রাগে নেমে আসতে যাবে। এমন সময় জুঁই অয়নের হাত টেনে ধরে। অয়ন রাগী চোখে পিছন ফিরে তাকায়। নিজের হাত জুঁইয়ের থেকে ছাড়িয়ে, রোদ রোদ বলে চিৎকার করে উঠে। কিন্তু রোদের কোনো হদিস নেই। শুভ্র রোদের কথা মাথায় আসতেই ফ্লোরে থেকে উঠে দাঁড়ায়। এমন সময় চারদিক থেকে কেমন ধোঁয়া বেড় হচ্ছে৷ আস্তে আস্তে পুড়ো বাড়ি সাদা ধোঁয়া ঢেকে যায়। সবাই কাঁশতে কাঁশতে মাটিতে লুটিয়ে পরে।
রাত ২ টা
অন্ধকারের আচ্ছন্ন রুম, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।
হটাৎ অন্ধকার রুমে আলো জ্বলে উঠে।
সাতটা চেয়ারের সাথে বাঁধা সাত জন, অয়ন,জুঁই
শুভ্র, হেনা বেগম, নীলা, নিলয়। আর রোমান।
সাত জন সেন্সলেস হয়ে আছে। দশ বারো জনের মতো কালো, কোট পড়া লোক, এসে বালতি দিয়ে পানি মারে সবার মুখে। সবাই দড় ফড়িয়ে উঠে। নিজেদের অবস্থান বুঝতে কিছুটা সময় লাগে। শুভ্র নড়ে উঠতে চাইলে দেখে হাত পা মুখ বাঁধা।
সবাই নিজেদের ছাড়ানোর জন্য ছটফট করছে।
এমন সময় সামনের দিকে আলো জ্বলে উঠে। সামনে দরজা খুলে হেঁটে আসছে হাঁসি বেগম৷ এখানে হাঁসি বেগমকে দেখে সবাই অবাক হলেও, অবাক হয়নি শুভ্র। শুভ্র রাগে শরীরের রক্ত টগবগ করে ফুঁটছে, নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ছটফট করছে৷ হাঁসি বেগম শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাঁসে। শুভ্রের কাছে এসে, শুভ্রের চুল গুলো এক হাত দিয়ে খামচে ধরে। রাগে গর্জে উঠে বলে।
“তোর জন্য এতো বছরের সাজানো খেলা সব শেষ। ভেবেছিলাম তোকে আর রোদকে মেরে সব কিছু খালাস করবো। কিন্তু না, এখন তোর জন্য তোর পুড়ো পরিবারকে মরতে হবে।
“ শুভ্র কিছু বলার চেষ্টা করছে, কিন্তু মুখ বাঁধা থাকায় স্পষ্ট কিছু বোঝা যাচ্ছে না।
_হাঁসি বেগম রাগে রি রি করতে করতে বলে উঠে।
“বৃথা চেষ্টা করে লাভ নেই। আজ তুই আর তোর পরিবার এক সাথেই মরবি।
হাঁসি বেগম শুভ্রকে ছেড়ে, শব্দ করে হেঁসে উঠে। হাঁসি বেগমের এমন রুপ যেনো অবিশ্বাস সবার কাছে। হাঁসি বেগম হাঁসতে রুম বলে উঠে।
“ মরবি যখন সত্যিটা জেনেই মর। তোর আদরের ছোট্ট বোনকে আমরা মিলেই মেরেছি। রোদকে মিথ্যা খুনি আমি সাঁজিয়ে তোর সামনে দোষি বানিয়ে তোর থেকে দূরে রেখেছি সাত বছর। কিন্তু নাহ এতো ভুল বুঝিয়ে দূরে রেখেও লাভ হয়নি। সেই তুই রোদের ভালাভোলা মুখ দেখে, সব ভুলে গেলি। সেদিন তোর রুহির বিয়েতে তোকে মরার প্লান করে ছিলাম। ওই জঙ্গলে বসে, কিন্তু তোর বোনটা ভুল ক্রামে সেখানে পৌছে যায়। তারপর তোর বোনকেও আমাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেই।
সবাই তো শেষ হলো, এইবার শেষ করবো, তোকে আর তোর আদরের কলিজার টুকরা রোদকে। আমি প্রথমেই ভেবেছিলাম তুই কোনো না কোনো একটা গেইম খেলছিস রিয়ার সাথে। রিয়াকে আমি বারন করেছিলাম। কিন্তু রিয়া তোর প্রেমে অন্ধ ছিল। যে তোর এই মিথ্যা নাটক ধরতে পারেনি৷ এতো কিছু করেও কোনো লাভ হলো না। সেই শেষ মেষ আমার হাতেই মরতে হবে।
“কথা গুলো বলেই হাঁসি বেগম সয়তানি হাঁসি দেয়।
হাঁসি বেগমের কথা শুনে শুভ্র, নিজেকে ছাড়ানোর জন্য আরো মোচড়া মুচড়ি করতে থাকে। এক সময় হাতের বাঁধন আগলা হয়ে আসে। হাঁসি বেগমের হাতে বন্দুক, শুভ্র হাতের বাঁধন খুলে, হাঁসি বেগমের বন্দুক বড়াবড় পাশে থাকা একটা কাঠের টুকরো ছুড়ে মারে। হাতে থাকা বন্দুক টা কিছুটা দূরে ছিটকে পড়ে। শুভ্র দৌড়ে গিয়ে বন্দুক হাতে তুলে হাঁসি বেগমের দিকে তাক করে। কাজটা এতো দ্রুত হয়, যে হাঁসি বেগম কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। শুভ্র হাঁসি বেগমের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাঁসে, শুভ্রকে হাঁসতে দেখে, হাঁসি বেগম শব্দ করে হেঁসে দেয়। হাঁসতে হাঁসতে বলে উঠে
“তুমি বড্ড বোকা শুভ্র, যেই বোকামো সাত বছর আগে করেছিলে, আজকে সেই একই বোকামো করেছো। এতো কাচা খেলোয়ার আমি না।
“হাঁসি বেগমের কথায়, শুভ্রের ভ্রু কুচকে যায়। হাঁসি বেগম হাতে তালি বাজায়, তখনি সামনে আলো জ্বলে উঠে। রোদকে লোহার খাঁচায়, চেয়ারের সাথে হাত পা বেধে, আটকে রেখেছে। এক রকম ঝুলন্ত অবস্থায়, নিচ গরম পানি টগবগ করে ফুটছে। রোদকে এই অবস্থায় দেখে। শুভ্র বন্দুক নিচে নামিয়ে ফেলে। হাঁসি বেগমের মুখে পৈচাসিক হাঁসি। হাঁসি বেগম চিৎকার করে বলে উঠে।
“কে আছো, লোহার খাঁচা নিচে ফেলে।
লোহার খাঁচায় ধীরে ধীরে ফুটন্ত গরম পানির নিচে পড়তে থাকে। শুভ্র চিৎকার করে বলে উঠে।
“নো নো, স্টপ স্টপ, মেজো আম্মু প্লিজ থামতে বলো। রোদের কিছু হলে আমি বাঁচবো না।
হাঁসি বেগম বিচ্ছিরি ভাবে দাঁত বেড় করে হেঁসে উঠে।
“এইদিকে লোহার খাঁচা সহ রোদ নিচের দিকে নামতে থাকে। শুভ্র রোদ বলে চিৎকার করে উঠে।
হাঁসি বেগমের পায়ের কাছে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে, হাত জোর করে বলে উঠে।
“ মেজো আম্মু প্লিজ থামতে বলো ওদের। তুমি যা বলবে সব করবো। প্লিজ তারপর রোদের কিছু করো না। আমার ছোট্ট ফুলটাকে ছেড়ে দাও প্লিজ।
হাঁসি বেগম হাঁসতে হাঁসতে বলে
“ওলে ওলে, এতো ভালোবাসা৷ যা বলবো সব করবি।
“হ্যা হ্যা সব করবো, প্লিজ তুমি আমার রোদের কিছু করো না।
“ ওকে ঠিক আছে, তোর রোদের কিছু করবো না। চল তোর সাথে একটু গেইম খেলি। তুই তো আমাদের সাথে কম গেইম খেলিসনি, এইবার তোকে নিয়ে একটু গেইম খেলি।
কথা গুলো বলেই হাঁসি বেগম বলে উঠে
“এই থাম তোরা, হাঁসি বেগমের কথায় লোহার খাঁচা সাথে সাথে থেমে যায়৷ শুভ্র এখনো হাঁটু গেড়ে বসে আছে ফ্লোরে৷ হাঁসি বেগম চার পাচ জনের মতো বর্ডিগার্ড ডাক দিয়ে আনেন। সব গুলো এসে শুভ্রের চারদিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে যায়৷
হাঁসি বেগম শুভ্রকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে
“এই বডি গার্ড গুলো তোকে ততক্ষণ মারবে, যতক্ষন তারা ক্লান্ত না হয়। আর তুই যদি কোনো ভাবে তাদের পাল্টা আঘাত করিস বা, মার সহ্য করতে না পেরে সেন্সলেস হয়ে যাস। তাহলে তোর আর তোর আদরে ছোট্ট পাখির এইখানে মৃত্যু হবে।
হাঁসি বেগমের কথা শেষ হতেই, চার পাঁচজন মিলে শুভ্রকে ইচ্ছে মতো মারতে থাকে৷ মাথা থেকে চুয়ে চুয়ে রক্ত পড়ছে,,পাশ থেকে হেনা বেগম, রোমান নিলয় নীলা, সবার চোখে পানি, প্রতিটা৷ মারে শুভ্র ছিটকে দেয়ালের সাথে পড়ছে, আবার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াচ্ছে। আবার মেরে শুভ্রকে ফ্লোরে শুয়ে দিচ্ছে৷ শুভ্রকে এতো মারছে তার কোনো ভাবান্তর নেই। তার চোখ রোদের লোহার খাঁচায় দিকে৷ জামা কাপড় একরকম ছিড়ে গেছে। কপাল নাক ফেঁটে, এক সময় লোক গুলো শুভ্রকে মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
হাঁসি বেগম অবাক তার ভিতরে বিরক্ত, বিদেশ থাকা ভাড়া করা গুন্ডা এই গুলো, যাদের সামনে একজন সাধারণ মানুষ ২ মিনিটের বেশি টিকে না। সেইখানে শুভ্র এক ঘন্টা ধরে, মার খেয়েই যাচ্ছে।
হাঁসি বেগম বর্ডিগার্ড গুলোকে থামতে দেখে বলে উঠে
“এই তোমরা থেমে গেলে কেনো?
“ ম্যাম আমাদের পক্ষে এখন ওনাকে মারা আর সম্ভব না। আর একটু সময় দিন।
হাঁসি বেগম আর কিছুই বলে না, শুভ্রের দিকে এগিয়ে আসে। শুভ্র কোনো রকম দাঁড়িয়ে টুলছে, হাসি বেগম শুভ্রের চুল চেঁপে ধরে, রাগে রি রি করতে করতে বলে।”
“বাহ খুব সুন্দর ভালোবাসা তোদের। লাইলি মজলু, ভালোবাসা হাড় মানাবে।
শুভ্র কিছুই বলে না, তার হাত পা এখন বাঁধা, চাইলে কিছু বলতে পারবে না। সে যদি কিছু বলে তো রোদের কোনো ক্ষতি হতে পারে। আর শুভ্র রোদকে নিয়ে কোনো রিক্স নিতে চায় না।
শুভ্রকে কোনো কিছু না বলতে দেখে, হাঁসি বেগম সয়তানি হাঁসি দিয়ে, কিছু একটা ভেবে বলে উঠে।
“চল তোর সাথে আর একটা গেইম খেলি। দেখি তোদের ভালোবাসা কত খাটি, আর ওই অপয়া মেয়ের জন্য তুই কতো কষ্ট সহ্য করতে পারিস।
শুভ্র মাথা তুলে হাঁসি বেগমের দিকে তাকিয়ে হাঁসে, চোখ মুখে রক্ত পড়ে খুব বাজে অবস্থা শুভ্রকে চেনায় যাচ্ছে না।
হাঁসি বেগমের শরীরে কাঁটার মতো বেঁধে শুভ্রের হাঁসি।
বর্ডি গার্ড ডাক দিয়ে, কিছু একটা বলে। কিছু সময় যেতেই, সামনে কয়লার আগুন, এক পাশে, তারপরে কাঁচ ভেঙে দেয় আর এক পাশে। কিছু বর্ডিগার্ড মিলে, দুইজন গার্ড এসে শুভ্রকে কাচ, আর কয়লার সামনে দাড় করায়, হাঁসি বেগম বলেন।
“ যা এইবার এই আগুনের কয়লা পেড়িয়ে কাচের উপর দিয়ে হেঁটে তোর রোদের কাছে যাহ।
“শুভ্র হাঁসি বেগমের দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বলে উঠে।
“ আগুন কেনো, পৃথিবীর কোনো কিছু আমাকে রোদের কাছ থেকে আলাদা করতে পারবে না।
শুভ্র নিজে নিজে বিড়বিড় করে বলে
“আগুন কেনো তোর জন্য, আমি সব কিছু, পাড় করে তোর কাছে যেতে চাই। তোর কিছু হয়ে গেলে। আমি কখনোই বাঁচতে পারবো না।
শুভ্রের কথা শুনে হাঁসি বেগম অট্টহাসিতে মেতে উঠেন।
শুভ্র রাগে চোয়াল শক্ত করে বলে উঠে
“ আজ যদি আমার ছোট্ট ফুলের গায়ে এক আচ লাগে, তো এই জমিনে রক্তের বন্যা বইবে।
শুভ্র কথা গুলো বলেই চোখ বন্ধ করে ফেলে। এইদিকে হেনা বেগম, সবাই কাঁদছে, সবার মুখ হাত পা বাঁধার জন্য কেউ কিছু করতে পারছে না। শুভ্র চোখ বন্ধ করতে রোদের কান্না ভেজা মুখটা ভেষে উঠে।
পা বাড়িয়ে দেয়, আগুনের কয়লার ভিতর, হাঁসি বেগম সয়তানি হাঁসি দেয়। শুভ্র ধীর পায়ে হাঁটছে আর মনে মনে বলে
“আমাকে মাফ করে দিস পাখি। স্বামী হিসেবে আজ আমি ব্যর্থ তবে, আমি বেঁচে থাকতে, আর তোর কোনো ক্ষতি হতে দিব না। দরকার হলে নিজের জীবন শেষ করবো।
রোদ এখনো অঙ্গান হয়ে আছে।
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৫
“ ভালোবাসা কি আমি জানিনা বউ, তবে আমি শুধু এইটুকু জানি, আমার বেঁচে থাকলে হলে তোকে লাগবে, মাছ যেমন পানি ছাড়া অচল, ঠিক আমিও তেমন তোকে ছাড়া অচল। তুই ছাড়া এই শুভ্রের কোনো অস্তিত নেই। শুভ্র যতদিন বেঁচে থাকবে, রোদও ততদিন বেঁচে থাকবে। তোর জন্য এর থেকেও কঠিন পরিক্ষা দিতে রাজি আমি। তারপর তোকে আমি হারাতে পারবো না।
