Home বাঁধন রূপের অধিকারী বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ২৭

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ২৭

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ২৭
সুমি চৌধুরী

দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ রূপা একটা বয়স্ক মহিলার সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার চোটে মহিলাটি টাল সামলাতে না পেরে সরাসরি শক্ত রাস্তায় পড়ে যান এবং বেশ ব্যথা পান। এই আকস্মিক দৃশ্য দেখে রূপা একদম ভয়ে জমে গেল। বাঁধন পরিস্থিতি দেখে তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে এসে মহিলাটিকে পরম যত্নে ধরে তুলতে তুলতে অত্যন্ত চিন্তিত কণ্ঠে বলে,
—- “আন্টি ঠিক আছেন আপনি? কোথাও বেশি লাগেনি তো?”
মহিলাটি নিজের শাড়ির আঁচলটা ঠিক করতে করতে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে একটু হালকা হেসে আশ্বস্ত করার সুরে বলেন,

—- “হ্যাঁ বাবা ঠিক আছি। না, কোথাও তেমন লাগেনি।”
বাঁধন আলতো করে ধরে মহিলাটিকে সাবধানে রাস্তা পার করে দেয়। অতঃপর সে ধীর পায়ে এসে মাথা নিচু করে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা রূপার ঠিক সামনে এসে দাঁড়ায়। বাঁধনের মুখটা এখন আর আগের মতো শান্ত নয়, আবার ঠিক প্রকাশ্য কোনো রাগও উপচে পড়ছে না এক অদ্ভুত গম্ভীর থমথমে ভাব। সে কোনো কথা না বাড়িয়ে সরাসরি রূপার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে। তারপর টেনে হিঁচড়ে টানতে টানতে নিজের গাড়ির কাছে নিয়ে আসে এবং এক প্রকার জোর করেই গাড়িতে তুলে বাড়ির দিকে রওনা দেয়।পুরো রাস্তার পথটুকু রূপা একদম চুপচাপ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। সে খুব ভালো করেই জানে বাঁধন ভেতরে ভেতরে কতটা ভয়ঙ্কর রেখা নিয়ে রেগে আছে, এখন একটা কথাও যদি সে মুখ ফুটে বলে তবে বাঁধন তাকে মেরেই ফেলবে। গাড়ি এসে সোজা রহমান বাড়ির সামনে একটা তীব্র ব্রেক চেপে থামে। রূপা ভয়ে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নেমে আবার সামনের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে নেয়। কিন্তু তার পদক্ষেপ সফল হওয়ার আগেই বাঁধন চিতার মতো ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে এসে রূপার একটা হাত শক্ত মুঠোয় খামচে ধরে ফেলে। রূপা নিজের হাত ছাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে ভয়ার্ত সুরে বলে,

—- “ছাড়ুন। আমি যাব না এই বাড়িতে।”
এই কথায় বাঁধনের ধৈর্যের বাঁধ একদম ভেঙে যায়। সে নিজের ভেতরের সবটুকু রাগ এক করে চরম এক হিংস্র মেজাজে বলে,
—- “আরেকটা কথা বলেছিস তো এখনই তুলে আছাড় মারব।”
বাঁধনের এমন ভয়ঙ্কর রূপ দেখে একদম দমে যায় রূপা। সে নিজের ভেতরের তীব্র আতঙ্ক চেপে কোনোমতে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে,
—- “আ-আমি…”
সে কথা শেষ করার আগেই বাঁধন দাঁতে দাঁত চেপে রক্তচক্ষু নিয়ে ধমকের সুরে বলে,
—- “চুপ। একদম চুপ।”
বাঁধনের এই অতর্কিত ধমকে রূপা পুরো কেঁপে ওঠে। আর একটা শব্দও বাড়িয়ে বলার মতো সাহস সে নিজের ভেতরে খুঁজে পায় না। বাঁধন রূপার হাতটা শক্ত করে ধরে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির ভেতরে নিয়ে আসে। লিভিং রুমের সোফায় বসে রজনী রহমান আর শিল্পী রহমান আপনমনে গল্প করছিলেন। হুট করে বাঁধনের সাথে রূপাকে ওভাবে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকতে দেখে তাঁরা দুজনেই থমকে গেলেন। বাঁধন তখনো রূপার হাতটা লোহার মতো শক্ত করে চেপে ধরে আছে আর রূপা অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে কাঁপছে। শিল্পী রহমান সোফা থেকে উঠে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে বেশ অবাক উদ্বিগ্ন সুরে বলেন,

—- “কী হয়েছে বাঁধন? এভাবে রূপার হাত চেপে ধরে আছিস কেন?”
বাঁধন কোনো জবাব না দিয়ে, জ্বলন্ত চোখে সরাসরি রূপার দিকে তাকিয়ে একদম ঠান্ডা মেজাজে বলে,
—- “রুমে যা।”
রূপা ভয়ে আর অপমানে ঠায় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, তার পা যেন মাটির সাথে আটকে গেছে। রূপাকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাঁধন নিজের কণ্ঠের পুরো জোর ঢেলে চরম ধমকের সুরে বলে,
—- “তোকে রুমে যেতে বলেছি না আমি।”
এক দৌড়ে রুমে চলে যায় রূপা। রজনী রহমান যেন কথা বলার মতো কোনো ভাষাই খুঁজে পাচ্ছেন না। হুট করে বাঁধন কেন ওভাবে রূপাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসলো, সেই হিসাব মেলাতেই পারছেন না। লিভিং রুমের সোফায় ধপ করে বসে পড়ে ক্লান্ত শরীরটা এলিয়ে দেয় বাঁধন। শিল্পী রহমানের দিকে তাকিয়ে একদম হাঁপানো সুরে বলে,

—- “কাকিয়া, এক গ্লাস ঠান্ডা পানি দাও তো।”
শিল্পী রহমান আর এক মুহূর্তও দেরি না করে তাড়াহুড়ো করে গিয়ে ডাইনিং টেবিল থেকে গ্লাস ভরে ঠান্ডা পানি নিয়ে এসে বাঁধনের হাতে দিলেন। তীব্র তৃষ্ণায় এক ঢোকে পুরো পানি শেষ করে ফেলে বাঁধন। ঠিক এই থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই আকাশ আর বৃষ্টি বাড়ির সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। পানি খাওয়া শেষ হতেই বাঁধন চুপচাপ সোফা থেকে উঠে নিজের রুমের দিকে চলে যায়। রজনী রহমান অধৈর্য হয়ে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে বৃষ্টির একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উৎসুক সুরে বলেন,
—- “কী হয়েছে বৃষ্টি? বাঁধন এভাবে হুট করে রূপাকে কেন ধরে নিয়ে আসলো?”
বৃষ্টি নিজের কাঁধের ব্যাগটা সোফায় নামিয়ে রেখে বেশ বিভ্রান্ত সুরে বলে,
—- “আন্টি, আমিও ঠিক বুঝতে পারছি না। হুট করে ভাইয়া গিয়ে রূপাকে ওখান থেকে সোজা তুলে নিয়ে চলে আসলো।”
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশ নিজের পকেটে হাত ঢুকিয়ে রজনী রহমানের দিকে তাকায়। ঠোঁটের কোণে একটা হালকা ধূর্ত হাসি ফুটিয়ে বেশ কড়া মেজাজে বলে,
—- “বাড়ির মেয়ে বাড়িতেই থাকবে, বাইরে থেকে কেন পড়াশোনা করবে? ঠিক এই কারণেই বাঁধন ওকে নিজের দায়িত্বে এখানে নিয়ে এসেছে। আরও কোনো প্রশ্ন আছে চাচি?”
আকাশের এমন মুখের ওপর দেওয়া জবাব শুনে রজনী রহমানের চোখ কপালে উঠে গেল। নিজের কানকেও যেন ঠিক বিশ্বাস করতে পারছেন না। যেই বাঁধন এতদিন রূপাকে দুচোখে দেখতেই পারত না, সহ্য করতে পারত না, সেই বাঁধন কিনা আজ রূপাকে এই ‘বাড়ির মেয়ে’ বলে স্বীকৃতি দিয়ে দিল।

রাতের বেলা বাড়ির সবাই এক এক করে ডাইনিং টেবিলে এসে বসে। আহসান রহমান বাড়ি ফিরেই শুনেছেন বাঁধন নাকি জোর করে রূপাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। তিনিও যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না যে বাঁধন শেষমেশ রূপাকে এভাবে ফিরিয়ে এনেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ডাইনিং রুমের সিঁড়ি দিয়ে ধীর পায়ে নিচে নেমে আসে বাঁধন। পরনে অ্যাশ রঙের সাধারণ একটা টি-শার্ট আর সাদা ট্রাউজার, চোখে-মুখে এখনো গভীর ঘুমের রেশ লেগে আছে। চেহারার ক্লান্তি দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে বেশ কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছে। সোজা হেঁটে এসে ডাইনিং টেবিলের ফাঁকা চেয়ারটায় বসে পড়ে বাঁধন। আহসান রহমান নিজের চশমাটা ঠিক করতে করতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকান ছেলের দিকে। গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন করেন,
—- “রূপাকে কেন নিয়ে এসেছিস? ও তো বাইরে থেকেই পড়াশোনা করতে চায়।”
বাঁধন নিজের প্লেটে খাবার তুলতে তুলতে একদম নির্বিকার ও শান্ত সুরে বলে,
—- “আমার মন চাইছে নিয়ে এসেছি। আর ও এখন থেকে বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করবে, বাইরে থাকার কোনো দরকার নেই।”
ছেলের এমন একরোখা জবাব শুনে আহসান রহমানের কপালে সামান্য ভাঁজ পড়ে। তিনি নিজের গলার স্বর কিছুটা শক্ত করে বলেন,

—- “ওর যদি বাইরে থেকে পড়াশোনা ভালো হয়, তবে ও ওখানেই থাকবে। জোর করার কী আছে?”
বাঁধন হাতের চামচটা প্লেটের ওপর রেখে সোজা হয়ে বসে। বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে একদম অনমনীয় জেদি সুরে বলে,
—- “আমি ওকে বাইরে পড়তে দেব না।”
আহসান রহমান ছেলের এমন একগুঁয়েমি দেখে বেশ ক্ষুব্ধ হন। ডাইনিং টেবিলের সবার নীরবতার মাঝেই চড়া মেজাজে জানতে চান,
—- “কেন?”
বাঁধন নিজের চেহারায় কোনো রকম অপরাধবোধ বা ভয়ের রেখা না ফুটিয়ে, আগের মতোই শান্ত অথচ দৃঢ় সুরে সাফ জানিয়ে দেয়,
—- “সেটা আপনাকে বলতে বাধ্য নই আমি।”
দুজনের এমন তপ্ত বাক্যবিনিময় শুনে পাশে বসা হাজি রহমান পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আহসান রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন,

—- “আহা, বোন হয়। ভাই হয়ে বোনকে বাইরে একা একা পড়তে দেবে না, এটাই তো নরমাল।”
বোন শব্দটা কানে আসতেই হাতের চামচটা শক্ত মুঠোয় খামচে ধরে বাঁধন। ভেতরের রাগটা যেন চোয়াল শক্ত করে জানান দেয়। কে বলল বোন হয়? কার বোন, কিসের বোন। রূপার মা তো এই রজনী রহমান না, আর এই চরম সত্যিটা খুব তাড়াতাড়ি সবার সামনে ফাস করবে সে। আহসান রহমান ছেলের মুখের ভাব দেখে আর কথা বাড়ান না। কিছুক্ষণের মধ্যে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসে বৃষ্টি। ওকে একা আসতে দেখে আহসান রহমান চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে বলেন,
—- “একা কেন তুমি? রূপা কোথায়?”
বৃষ্টি ডাইনিং টেবিলের পাশে এসে দাঁড়িয়ে আমতা আমতা সুরে বলে,
—- “আঙ্কেল, রূপার নাকি খিদে নেই, ও খাবে না। তাই রুম থেকে বের হচ্ছে না।”
এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড ঠিক তিন সেকেন্ডের মাথায় খাবার ছেড়ে টেবিল থেকে খাড়া হয়ে উঠে দাঁড়ায় বাঁধন। কাউকে কোনো কিছু বলার বা আটকানোর সুযোগ না দিয়েই বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায়। সোজা এসে দাঁড়ায় রূপার ঘরের দরজায়। রূপা তখন চুপচাপ বিছানায় বসে ক্যান্ডির মাথায় আলতো করে হাত বোলাচ্ছিল। কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই সরাসরি রূপার একদম সামনে এসে দাঁড়ায় বাঁধন। দুই হাত ট্রাউজারের পকেটে ঢুকিয়ে ওপর থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর মেজাজে বলে,

—- “ভাত খাবি চল।”
আচমকা বাঁধনের এমন কড়া কণ্ঠস্বরে চমকে সামনে তাকায় রূপা। নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে মুখটা যতটা সম্ভব ফুলিয়ে অভিমানী সুরে বলে,
—- “খাব না আমি। আমার কোনো খিদে নেই।”
বাঁধন নিজের চাউনি আরও কিছুটা তপ্ত করে একদম শান্ত হুঁশিয়ারি সুরে বলে,
—- “খাবি না?”
রূপা নিজের জেদ ধরে রেখে উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে একরোখা সুরে বলে,
—- “না।”
বাঁধন নিজের জায়গা থেকে একচুলও না নড়ে, আরও একধাপ চেপে ধরে বলে,
—- “খাবি না?”
রূপা এবার সরাসরি বাঁধনের চোখের দিকে তাকিয়ে বেশ চড়া আর জেদি সুরে বলে,
—- “বলছি তো না।”

আর কথা বাড়ায় না বাঁধন। কোনো কিছু বোঝার আগেই বিছানায় ঝুঁকে রূপাকে টেনে এক ঝটকায় নিজের চওড়া কাঁধে তুলে ফেলে। হঠাৎ এমন টানে ক্যান্ডি বেচারা বিছানায় ছটফট করতে করতে নিচে নেমে পড়ে। রূপাকে কোনো রকম প্রতিবাদ বা কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বাঁধন তাকে কাঁধে ঝুলিয়ে হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে।বাঁধনের কাঁধে ওভাবে রূপাকে ছটফট করতে দেখে ডাইনিং টেবিলে বসা সবার চোখ যেন একদম চড়কগাছে ওড়ার উপক্রম। চারপাশের এই অবাক চাউনিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে, একদম ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে নিজের পাশের খালি চেয়ারটাতে রূপাকে বসিয়ে দেয় বাঁধন। তারপর নিজেই প্লেট টেনে ভাত বেড়ে রূপার সামনে এগিয়ে দিয়ে হুঁশিয়ারি সুরে বলে,
—- “এই প্লেটে যদি একটা ভাতও অবশিষ্ট থাকে, তাহলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না।”
রূপা ভেজা চোখে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে ক্ষোভ মেশানো সুরে বলে,
—- “আমি বলছি না আমি ভাত খাব না? কেন জোর করছেন আমার ওপর।”
বাঁধন নিজের ডান হাতটা টেবিলের ওপর শক্ত করে রেখে, চোখের মণি দুটো স্থির করে তপ্ত মেজাজে বলে,
—- “কী বললি? আবার বল।”
রূপা নিজের জেদ আর একগুঁয়েমি ধরে রেখে, টেবিলের বাকি সবার সামনেই গলা উঁচিয়ে জেদি সুরে বলে,
—- “আমি ভাত খাব না।”

বলেই নিজের বসার চেয়ারটা টেনে রূপা এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াতে নেয়। কিন্তু তার আগেই পাশে বসা বাঁধন বাঘের মতো ক্ষিপ্রতায় তাকে আবার জোর করে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। কোনো কিছু ভাবার সময় না দিয়ে নিজের হাত দিয়ে কয়েকটা সাদা ভাত তুলে নেয়, আর অন্য হাত দিয়ে রূপার নরম গাল দুটো শক্ত করে চেপে ধরে হা করিয়ে দেয়। রূপার চোখের কোণ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ার আগেই সেই ভাতগুলো জবরদস্তিমূলকভাবে মুখের ভেতর পুরে দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
—- “খা। নয়তো এভাবেই তোকে চেপে ধরে রাখব, যতক্ষণ না তুই গিলছিস।”
রূপা হাঁ করে উপরের দিকে তাকিয়ে থাকে, দমবন্ধ করা এক যন্ত্রণায়। হাজি রহমান রূপার দিকে চেয়ে মৃদু স্বরে বলেন,
—- “জেদ করে না দিদিভাই, খেয়ে ফেল।”
বাঁধনের চোখের মণি দুটো তখন স্থির। রূপার গালে আঙুলের চাপটা আরও গভীর করে বিষাক্ত শান্ত স্বরে বলে,
—- “তুই গিলবি, নাকি চোয়াল ভেঙে আরও জোরে চেপে ধরব?”
আহসান রহমান চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে গর্জে ওঠেন,
—- “বাঁধন। কী করছিস? ও ব্যথা পাচ্ছে, ছাড়।”
ভয়ের চোটে রূপার সারা শরীর কাঁপছে। কোনোমতে মুখের ভাতগুলো গিলে ফেলে সে। বাঁধন ওর মুখের ওপর থেকে হাতটা সরিয়ে নেয়। রূপা সাথে সাথে মাথা নিচু করে জোরে কাশতে শুরু করে। বাঁধন দ্রুত পানির গ্লাসটা তুলে ওর ঠোঁটের কাছে জোর করে ঠেকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,

—- “পানিটা খা।”
বাঁধনের রক্তচক্ষুর দিকে তাকিয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে রূপা গ্লাসে চুমুক দেয়। গলার ভেতরে আটকে থাকা ভাতের দলাটা পানির সাথে জোর করে গিলে ফেলে সে। আহসান রহমান রূপার দিকে তাকিয়ে করুণা মিশ্রিত স্বরে বলেন,
—- “রাগ করে না মা, খেয়ে নাও।”
ভীতুর মতো মাথা নিচু করে কাঁপতে কাঁপতে ভাতের প্লেটে হাত চালায় রূপা। পুরো ডাইনিং টেবিলটা এখন এক গভীর নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। সবাই যেন খাবার গিলছে, কিন্তু কারো মনে শান্তি নেই। বাঁধনের ওই তীক্ষ্ণ নজর রূপার ওপর থেকে সরছে না, ডাইনিং টেবিলের এই অস্বস্তিকর পরিবেশটা যেন রূপার শ্বাস কেড়ে নিচ্ছে। খাওয়া শেষে গভীর রাতে বাড়ির বাইরে সুইমিংপুলের সামনে এসে দাঁড়ায় রজনী রহমান। চারপাশের নিস্তব্ধতার মধ্যে চোখ বুলিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেয় আশেপাশে কেউ আছে কিনা। তারপর নিজের ফোন থেকে দ্রুত একটা নাম্বারে কল লাগায়। কয়েকটা রিং হতেই ওপাশ থেকে কলটা রিসিভ হয়, ভেসে আসে এক পুরুষের চতুর কণ্ঠ।

—- “খবর কী? সব ঠিকঠাক এগোচ্ছে তো?”
রজনী রহমান অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে নিচু স্বরে বলেন,
—- “ঠিকঠাক আর কই। মস্ত বড় একটা ঝামেলা পাকিয়ে গেছে।”
ওপাশ থেকে পুরুষটি কিছুটা বিরক্ত ও সন্দিহান হয়ে ওঠে,
—- “কী হয়েছে খুলে বলো?”
রজনী রহমান নিজের গলার স্বর আরও নামিয়ে অস্থির মেজাজে বলেন,
—- “আমার আগের পক্ষের ছেলেটা রূপার ওপর বড্ড বেশি অধিকার ফলাচ্ছে। লক্ষণ কিন্তু মোটেও সুবিধার ঠেকছে না। যে ছেলে মেয়েটাকে দুচোখে সহ্য করতে পারত না, আজ সে না খেলে জোর করে মুখে ভাত গুঁজে দিচ্ছে। হুট করে কী এমন উল্টে গেল যে এত দরদ উথলে উঠল?”
রজনী রহমানের আশঙ্কায় ওপাশ থেকে একটা শীতল ও তাচ্ছিল্যের হাসি ভেসে আসে। সেই পুরুষটি বেশ তাচ্ছিল্যভরে বলেন,

—- “আরে রাখো তোমার দরদ। খোঁজ নিয়ে দেখো, তোমার ওই ছেলে রূপার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।”
কথাটা শুনে রজনী রহমানের ভেতরটা খটকা লেগে ওঠে, কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে ফিসফিসিয়ে বলেন,
—- “কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? সবাই জানে রূপা এখন ওর সৎ বোন। নিজের সৎ বোনের প্রেমে একটা ছেলে কীভাবে পড়ে?”
ওপাশ থেকে পুরুষটির কণ্ঠ এবার হিসহিসে ও চক্রান্তের সুরে ভারী হয়ে ওঠে, ঠান্ডা মাথায় মনে করিয়ে দিয়ে বলেন,
—- “আজকাল দুনিয়ায় সবই সম্ভব। শোনো, সে প্রেমে পড়ুক আর জাহান্নামে যাক, রূপাকে তোমার নজরে রাখতে হবে। ও আমাদের সোনার ডিম পাড়া হাঁস। ও হাতছাড়া হওয়া মানে এতগুলো বছরের আমাদের পুরো প্ল্যানটা এক মুহূর্তে ছাই হয়ে যাওয়া।”
রজনী রহমান সুইমিংপুলের পানির দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ক্ষোভ মেশানো ক্লান্ত সুরে বলেন,
—- “একটা মা যতটা আদর করে, আমি তার থেকেও দ্বিগুণ আদর করছি ওকে। নিজের মায়ের অভাব আমি বিন্দুমাত্র বুঝতে দিইনি। এর থেকে আর কীভাবে আদর করতে হয় তা জানা নেই আমার। কিন্তু আমি এখন বড্ড ক্লান্ত, আর ভালো লাগছে না এই মায়াবী মায়ের অভিনয় করতে। কবে ওর বিশ বছর পূর্ণ হবে, আর কবে ওই সম্পত্তির কাগজে সইটা আদায় করব ওর হাত থেকে?”

ওপাশ থেকে পুরুষটির কন্ঠে এক কুৎসিত ও আশ্বাসের সুর ভেসে আসে, বেশ শান্ত মেজাজে বলেন,
—- “আহা, এত উত্তেজিত হচ্ছ কেন? উনিশ বছর তো প্রায় হয়েই গেছে, আর মাত্র একটা বছর। তারপর সইটা নিয়ে ওকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেব। তুমি আর আমি একসাথে এই দেশ ছেড়ে আকাশে উড়াল দেব।”
রজনী রহমান নিজের বুকের ভেতর জমে থাকা অস্থিরতা চেপে ফিসফিসিয়ে প্রশ্ন করে,
—- “সব ঠিকঠাক হবে তো?”
ওপাশ থেকে পুরুষটি হালকা হেসে চক্রান্তের সুরে অভয় দিয়ে বলেন,
—- “আরে আরে, সব হবে। তুমি শুধু এই সুন্দর অভিনয়টা আর কিছুদিন চালিয়ে যাও।”

পরেদিন সকাল ৯:০০
কলেজে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ঘর থেকে বের হয় রূপা আর বৃষ্টি। রূপা আজকেও কলেজ ড্রেসের সাথে চুলগুলো দু’পাশে দুটো শক্ত বেণী করে বেঁধেছে। কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে দুজনে যখন হলরুমে নামে, ঠিক তখনই সদর দরজা গলিয়ে ভেতরে ঢোকে বাঁধন। এতক্ষণ সে বাইরের বাগানে একাকী পায়চারি করছিল। ঘরের ভেতর পা রাখতেই তার শিকারী চোখ জোড়া গিয়ে স্থির হয় রূপার ওপর। কলেজ ড্রেস, আর তার নিচে ঝুলে থাকা ওই দুটো লম্বা বেণী। দৃশ্যটা দেখামাত্রই বাঁধনের ভেতরের অন্ধকার ঈর্ষাটা দপ করে জ্বলে ওঠে। এভাবে নিজের চুলগুলো বাইরের পুরুষদের দেখানোর কী অর্থ? রাস্তার অচেনা মানুষ কেন ওর চুলের সৌন্দর্য দেখবে? তীব্র ক্ষোভে বাঁধনের হাতের আঙুলগুলো মুচড়ে শক্ত মুঠো হয়ে যায়। রূপা অবশ্য বাঁধনকে দেখেও না দেখার ভান করে। চোখ এড়িয়ে ওর পাশ কাটিয়ে সদর দরজার দিকে এগোতে থাকে সে। মাত্র কয়েকটা পদক্ষেপ ফেলতেই পেছন থেকে এক হিমশীতল গম্ভীর আদেশ ভেসে আসে,

—- “রূপ, দাঁড়া।”
বাঁধনের মুখ থেকে নিজের নামের এই সংক্ষিপ্ত রূপটা শুনে রূপার পা দুটো যেন মেঝেতে জমে যায়। লোকটা তাকে এই নামে ডাকছে। বাঁধনের এই আকস্মিক ও অদ্ভুত পরিবর্তনের কারণ কিছুতেই মাথায় খেলে না রূপার। বাঁধন ভারি পায়ে হেঁটে এসে রূপার একদম মুখোমুখি দাঁড়ায়। ওপার থেকে নিচে এক তীব্র চাউনিতে ওকে মেপে নিয়ে রুক্ষ স্বরে প্রশ্ন করে,
—- “কোথায় যাস?”
রূপা ওর চোখের দিকে তাকানোর সাহস পায় না। মাথা নিচু করে বেশ ছোট করে জবাব দেয়,
—- “কলেজে।”
—- “এইভাবে?”
—- “হ্যাঁ, আমি তো এভাবেই যাই।”
—- “হিজাব বেঁধে আয়।”
এই হুকুমটা কানে যেতেই রূপা এক ঝটকায় মাথা তোলে। হিজাব। তাও আবার এই দমবন্ধ করা তীব্র গরমের মধ্যে। সে নিজের চোখ দুটো বড় বড় করে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে প্রতিবাদী মেজাজে বলে,

—- “এই গরমের মধ্যে হিজাব?”
বাঁধনের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে, একচুলও না নড়ে পাথরের মতো স্থির গলায় বলে,
—- “জাস্ট গো অ্যান্ড চেঞ্জ।”
রূপা নিজের জেদ ধরে রেখে সোজা বাঁধনের চোখের দিকে তাকিয়ে সাফ জানিয়ে দেয়,
—- “মাফ করবেন, আমি পারব না।”
বাঁধনের চোখ দুটো এবার বিপজ্জনকভাবে ছোট হয়ে আসে। এক পা এগিয়ে এসে নিচু গলায় বলে,
—- “পারবি না?”
রূপা ভেতরে ভেতরে কুঁকড়ে গেলেও নিজের জেদ ধরে রাখতে অবাধ্যের মতো না-সূচক মাথা নাড়ায়। বাঁধন নিজের চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে আবার শুধায়,
—- “পারবি না?”
রূপা এবার নিজের ওড়নাটা শক্ত করে চেপে ধরে কাঁদোকাঁদো গলায় বলে,

—- “আমি এই গরমে হিজাব পরলে একদম মরেই যাব।”
কথাটা শেষ হতে না হতেই বাজপাখির মতো ছো মেরে এক ঝটকায় রূপার কবজি চেপে ধরে বাঁধন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বৃষ্টি কিংবা রূপা নিজে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাঁধন হেঁচকা টানে রূপাকে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে তুলতে থাকে। রূপা শত চেষ্টা করেও বাঁধনের লোহার মুঠো থেকে নিজের হাত ছাড়াতে পারে না। টেনেহিঁচড়ে রূপাকে রূপার ঘরের সামনে এনে ভেতরে ধাক্কা দিয়ে ঢুকিয়ে দেয় বাঁধন। তারপর দরজায় এক বিশাল ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে রক্তচক্ষু নিয়ে বলে,
—- “পড়ার কোনো দরকার নেই তোর। বাড়িতেই বসে থাক তুই। যেদিন থেকে হিজাব বেঁধে বাইরে যেতে পারবি, সেদিন কলেজের নাম নিবি। এর আগে যদি বাড়ি থেকে এক পা-ও বের হোস, ওই পা দুটো কেটে ফেলতে আই ওয়ান্ট ইভেন থিংক টুইস।”
বলেই চরম ক্রোধে দরজাটা দড়াম করে লাগিয়ে দিতে যায় বাঁধন। রূপা চরম আতঙ্কে আর্তনাদ করে উঠে দরজার পাল্লাটা খামচে ধরে বলে,

—- “বাঁধব। বাঁধব আমি হিজাব। প্লিজ দরজাটা লাগাবেন না, প্লিজ।”
বাঁধনের দরজার হাতলটা শক্ত করে ধরে, রূপার চোখের দিকে তাকিয়ে বরফশীতল গলায় হুকুম দেয়,
—- “দেন ডু ইট ফাস্ট।”
রূপা এক শ্বাসরুদ্ধকর ফাঁদে পড়ে যায়। কীভাবে হিজাব বাঁধবে, মাথায় কোনো বুদ্ধিই কাজ করছে না। কোনো হিজাব কিংবা পিন কিছুই নেই রূপার কাছে। থাকবেই বা কীভাবে, আগে তো কোনোদিন হিজাব ছুঁয়েও দেখা হয়নি। চরম আশঙ্কায় হাত-পা পুরো বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে আসে রূপার। আমতা আমতা করে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত অসহায় সুরে বলে,
—- “ইয়ে মানে ভা-ভাইয়া, আমার তো হিজাব নেই। আগে তো কখনো পরিনি, তাই কোনো পিনও নেই। আমি বরং আজ হিজাব ছাড়াই যাই, কাল কিনে কাল থেকে পরে যাব?”
বলেই দরজার পাশ কাটিয়ে কোনোমতে ওই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই বাঁধন পাহাড়ের মতো সামনে এসে দাঁড়ায়। রূপার চোখের দিকে তাকিয়ে এক ভয়ঙ্কর, নিস্তব্ধ বিষাক্ত সুরে বলে,
—- “যেতে বলেছি তোকে আমি?”
শুকনো ঢোক গিলে রূপা। ভয়ে বুকের ভেতরটা পুরো দুমড়েমুচড়ে যেতে থাকে। ফিসফিসিয়ে বলে,
—- “তাহলে?”
বাঁধন ঘরের অন্ধকার কোণের দিকে ইশারা করে হুকুমের সুরে বলে,
—- “বসে থাক। হিজাব আমি এনে দিচ্ছি। কিন্তু এসে যদি দেখি চলে গেছিস, সোজা কলেজ থেকে চড়িয়ে চড়িয়ে টেনে নিয়ে আসব। আই মিন ইট।”
বলেই বাঁধন সোজা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। বাঁধন চলে যেতেই বৃষ্টি দ্রুত রুমে ঢুকে বড় বড় চোখ করে ফিসফিসিয়ে বলে,
—- “দোস্ত, এসব কী। বাঁধন ভাইয়ার হঠাৎ এত পরিবর্তন। এত শাসন, এত কেয়ারিং আমি জাস্ট বিশ্বাসই করতে পারছি না।”
রূপা বিছানায় ধপ করে বসে পড়ে কপালে হাত দিয়ে আশঙ্কাজনক সুরে বলে,
—- “আমিও জানি না রে, হঠাৎ এই লোকটার কী হলো। পাগল হয়ে গেল নাকি?”
বৃষ্টি রূপার কাঁধে হালকা চাপড় দিয়ে একটু হেসে চাপা উত্তেজনায় বলে,
—- “এটাকে পাগল বলে না দোস্ত, এটাকে রাইট বলে। উফ, আমার কিন্তু সেই লাগছে। এত হ্যান্ডসাম একটা ছেলে কীভাবে তোকে শাসন করছে দেখ। আমাকে যদি কেউ এভাবে করত, বিশ্বাস কর, এতক্ষণে আমি খুশিতে পাবনায় থাকতাম।”
বলেই বৃষ্টি হাততালি দিয়ে বুকে হাত দুটো মুঠো করে ধরে পুনরায় বলে,

—- “তুই যাই বলিস রূপা, বাঁধনের এটিটিউড জাস্ট জোস। পুরা ক্রাশ রে ভাই। ইচ্ছে করছে একটু হায়ার লেভেলের কালো জাদু টোনা করে তোর ওই হট ভাইয়াটাকে আমার প্রেমে অন্ধ করে মুঠোয় নিয়ে নিই।”
রূপা বিরক্ত সুরে বলল,
—- “নিতে পারলে নে।”
বৃষ্টি এবার মুখের ভাবটা একদম আফ্রিকার জংলি তান্ত্রিকদের মতো করে দুষ্টমি সুরে বলল,
—- “তাহলে দেখ এবার হ্যারি পটারের নানীর জাদু। এক মিনিটে দেখবি বাঁধন ভাইয়া সোজা এসে আমার পায়ের কাছে সারমেয়র মতো লেজ নাড়বে।”
রূপা দুই হাত বুকে ভাঁজ করে খাটে হেলান দিয়ে বসল। সে বাঁকা হেসে বলে,
—- “তো আমার প্রাণপ্রিয় বেস্টি, দেখান আপনার হাই-কোয়ালিটি জাদু। দেখি কেমন ডাইনি হতে পেরেছেন আপনি।”
বৃষ্টি এবার পুরো সিরিয়াস মুড নিয়ে নিল। চোখ দুটো বন্ধ করে, দরজার দিকে ধীর পায়ে এগোতে এগোতে হাত দুটো বাতাসের মধ্যে জিলাপির মতো গোলাকারে ঘোরাতে লাগল। তারপর একদম গম্ভীর গলায় বিড়বিড় করে বলতে লাগল,

—- “ওম হ্রিং ক্রিং টুনা টুনি”
—- “বাঁধন ভাইয়া হোক আমার পুতু পুতু খুনি”
—- “ইলিশ মাছের লেজা”
—- “আমার প্রেমে হয়ে যা তুই একদম সোজা”
—- “ছু মন্তর ছু, শিয়ালের তিনটে গু”

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ২৬

উচ্চারণটা শেষ করেই বৃষ্টি একগাল খিলখিল শয়তানি হাসি নিয়ে চোখটা খুলল। কিন্তু ঠিক সেই মোক্ষম মুহূর্তেই দরজার সামনে যমের মতো এসে দাঁড়িয়েছে আকাশ। বৃষ্টি চোখ খুলেই একদম সামনাসামনি দেখল আকাশের হাঁ করে থাকা গম্ভীর মতো মুখটা। আচমকা এই জঘন্য মন্ত্রের পর দরজায় আকাশকে দেখে বৃষ্টির মগজ পুরো শর্ট সার্কিট হয়ে গেল। তার সহজ-সরল মাথা ধরে নিল জাদু ১০০% কাজ করে গেছে, কিন্তু মন্ত্রের উচ্চারণে ভুল হওয়ায় বাঁধনের জায়গায় ভুলে আকাশ নামের এই আজরাইলটা এসে ল্যান্ড করেছে।নিজের জাদুর এমন কুৎসিত সাইড এফেক্ট আর আকাশের পেত্নী দেখার মতো চাউনি দেখে বৃষ্টির কলিজা শুকিয়ে গেল। সে ফুসফুসের সবটুকু বাতাস এক করে দিল এক কানফাটানো চিৎকার।
—- “আআআআহহহহহ।”

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here