বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৩০
সুমি চৌধুরী
খবরটা শোনা মাত্রই আর এক মুহূর্তও নষ্ট করে না বাঁধন। ঝড়ের গতিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ডাক্তারদের কাছ থেকে জানা যায়, আকাশ মূলত হাত আর পায়ে বেশ ভালো রকম চোট পেয়েছে। তবে ভাগ্য চরম ভালো থাকায় এবং মাথায় হেলমেট থাকার কারণে মাথায় কোনো রকম আঘাত লাগেনি।এদিকে বাড়িতে ঘটে যায় এক অদ্ভুত কাণ্ড। আকাশের এই মারাত্মক এক্সিডেন্টের খবর শুনে বৃষ্টির মনের ভেতর কেমন যেন এক পৈশাচিক আনন্দ হতে শুরু করে; তার মুখ চেপে ধরেও হাসি দমানো যাচ্ছে না। সে দ্রুত রুমে চলে আসে। দরজাটা আটকে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে একাই খিলখিল করে হেসে বলে,
—- “ভালো হয়েছে, খুব ভালো হয়েছে! ফ্লার্টবাজদের সাথে এমনই হওয়া উচিত। ইস, কী যে আনন্দ লাগছে আমার!”
খুশির চোটে বৃষ্টি নিজের অজান্তেই ঘরের মাঝখানে কোমর দুলিয়ে নাচতে শুরু করে দেয়। হাততালি দিয়ে নাচতে নাচতে মুখে আউড়াতে থাকে,
—- “হেই বাবা, মার হাবা, খাঁচা বাবা, দে লাড়া চিনি ছাড়া! ও ভাল্লে ভাল্লে, এত আনন্দ কই রাখবো আমি!”
পাগলের মতো নাচতে নাচতে হঠাৎ এক জায়গায় এসে থমকে যায় বৃষ্টি। তার মুখের চওড়া হাসিটা নিমেষেই গায়েব হয়ে যায়। নিজের বুকেই হাত রেখে একটু অবাক হয়ে বলে,
—- “এক মিনিট! আমার এত আনন্দ লাগছে কেন? ওই হিটলারকে অন্য একটা মেয়ের সাথে দেখেছি বলে? আরে, এতে আমার কী! সে ফ্লার্টবাজ হোক বা চিটার হোক, তাতে আমার কী আসে যায়!”
তার এসব ভাবনার মাঝেই বিছানায় শুয়ে থাকা রূপার জ্ঞান ফেরে। সেও আকাশের এই ভয়াবহ এক্সিডেন্টের খবরটা শুনে ভীষণ কষ্ট পায়। এক তীব্র বুকচাপা কষ্ট আর ব্যাকুলতা ভেতরটা কুঁড়েকুঁড়ে খেতে থাকে তার। রাত অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় তারা কেউ হসপিটালে যাওয়ার সাহস পায় না; বাড়ির বড়দের কাউকেই এই রাতে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে তারা সকালের কথা বলে থামিয়ে দেয়। সারাটা রাত দুই মেয়ের কাটে চরম ছটফটানি আর এক অদ্ভুত অস্থিরতায়।
পরের দিন কলেজ ছুটির পর রূপা আর বৃষ্টি তড়িঘড়ি করে আকাশকে দেখার জন্য হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। হসপিটালে পৌঁছাতেই চারপাশের চড়া ফিনাইল আর স্যাভলনের গন্ধ দম আটকে দেয়। বুক টিপটিপ করা এক অজানা আতঙ্ক আর জড়তা নিয়ে দুজন মাথা নিচু করে আকাশের কেবিনে প্রবেশ করে। পা রাখতেই দুই বান্ধবীর এক সাথে যেন হৃদপিণ্ড কেঁপে ওঠে, হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আসে এক নিমিষে। বেডে শুয়ে আছে নিস্তেজ আকাশ; তার বাম হাতে সাদা ব্যান্ডেজ, বাম পায়ে মোটা ব্যান্ডেজ করে একটু উঁচিয়ে রাখা হয়েছে।ঠিক বেডের পাশে রাখা কাঠের চেয়ারটায় বসে আছে বাঁধন। কেবিনের মৃদু আলোয় তাকে দেখে রূপার চোখ দুটো এক অদ্ভুত মোহে থমকে যায়, চোখের পলক ফেলতে ভুলে যায় মেয়েটি। পুরুষের ফর্সা, চওড়া শরীরে লেপ্টে আছে কুচকুচে কালো শার্ট।আদিম গম্ভীরতা মেখে থাকা সেই শার্টের হাতা দুটো নিখুঁতভাবে ভাঁজ করে কনুই পর্যন্ত গোটানো। নিচে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার পেশিবহুল, শক্তিশালী সুগঠিত হাত ও পুরুষালি রগগুলো। পরনে ধবধবে সাদা জিন্সের প্যান্ট, বাম হাতে জ্বলজ্বল করছে একটি দামী ব্র্যান্ডের কালো ঘড়ি, পায়ে সাদা স্নিকার্স জুতো। এই প্রথম রূপা বাঁধনকে এমন রুক্ষ কালো শার্টে দেখল। তাকে একাধারে ভয়ঙ্কর ডমিনেটিং, রাজকীয়, এক চরম আগ্রাসী পুরুষ-অবয়বে কাঁপন ধরানো দেখাচ্ছে। বাঁধন অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে, গম্ভীর মুখে আকাশের সাথে নিচু স্বরে কোনো একটা জরুরি বিষয়ে কথা বলছে। নিজেদের মগ্নতায় আকাশ কিংবা বাঁধন কেউই খেয়াল করেনি দরজায় এসে দাঁড়ানো রূপা আর বৃষ্টিকে।ঠিক তখনি বাঁধনের তীক্ষ্ণ নজর পড়ে রূপা আর বৃষ্টির দিকে। দুজনকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে তার। দাঁতে দাঁত চেপে হাড়-কাঁপানো নিরেট কণ্ঠে বলে,
—- “ইডিয়ট! কারো কেবিনে ঢোকার আগে পারমিশন নিতে হয়, সেই ম্যানার্সটুকুও কি নেই? এসেছিস ভালো কথা, তা এভাবে চোরের মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন?”
বাঁধনের রুক্ষ কণ্ঠের ধমকে রূপা আর বৃষ্টি দুজনেই কেঁপে ওঠে। কেবিনের থমথমে নীরবতা ভেঙে এবার আকাশের নজর পড়ে তাদের ওপর। আকাশের তপ্ত চোখ জোড়া স্থির হয়ে যায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বৃষ্টির দিকে। বুকের ভেতর তীব্র আক্ষেপ আর ক্ষোভ চাড়া দিয়ে ওঠে তার। হায়রে মেয়ে, এই একটা মেয়ের জন্য আজ তাকে হাত-পা ভেঙে হসপিটালের বিছানায় পড়ে থাকতে হচ্ছে! নিজের ভেতরের অস্থিরতা চেপে আকাশ রূপার দিকে তাকিয়ে শুষ্ক, ক্লান্ত কণ্ঠে বলল,
—- “ভেতরে আয়।”
রূপা আর বৃষ্টি দুজনেই চুপচাপ ভেতরে আসে। রূপা আকাশের বেডের কাছে এগিয়ে যায়, মৃদু, আশঙ্কাজনক কণ্ঠে বলে,
—- “আকাশ ভাইয়া, এখন কেমন আছো তুমি?”
এক বুক হতাশা নিয়ে আড়চোখে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে তীব্র উপহাস মেশানো ভাঙা কণ্ঠে উত্তর দেয় আকাশ,
—- “দেখতেই তো পাচ্ছিস কেমন আছি! হাত-পা ভেঙে একদম অচল হয়ে বেডে পড়ে আছি।”
আকাশের উপহাস মেশানো কথাগুলো কানে আসতেই বৃষ্টির ঠোঁটের কোণে তীব্র হাসির রেখা ফুটে ওঠে। থমথমে, গম্ভীর পরিবেশেও তার প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে। কামড় দিয়ে শক্ত করে ঠোঁট চেপে ধরে সে, যেন কোনোভাবেই ভেতরের হাসির শব্দ বাইরে বেরিয়ে না আসে।ঠিক এই মুহূর্তেই কেবিনের ভারী দরজা ঠেলে প্রবেশ করেন মাঝবয়সী গম্ভীর চেহারার ডাক্তার। নিঃশব্দ পায়ে এগিয়ে এসে তিনি আকাশের চারপাশের রিপোর্টগুলো খুঁটিয়ে দেখেন। অতঃপর স্টেথোস্কোপ দিয়ে আকাশকে ভালো করে পরীক্ষা করে, কোনো রকম আবেগ ছাড়াই শান্ত, পেশাদার কণ্ঠে বলেন,
—- “সব কিছু ঠিক আছে। তবে আগামী চার-পাঁচ মাসের মতো আপনি একদমই হাঁটতে পারবেন না। চেয়ারে কিংবা বেডে বসেই সময় কাটাতে হবে। আর যদি খুব বেশি প্রয়োজন হয়, তবে ক্রাচের ওপর ভর দিয়ে খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।”
ডাক্তারের এই শীতল ঘোষণা শোনামাত্রই আকাশের মনে হলো মাথার ওপর আকাশটা ভেঙে পড়েছে। মনে হলো এই ডাক্তার তার সমস্ত স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে তাকে জীবন্ত পঙ্গু বানিয়ে দিল। ভেতরে চরম ছটফটানি আর পাগলামি চাড়া দিয়ে ওঠে তার। ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে আর্তনাদ মেশানো কণ্ঠে বলে,
—- “ডাক্তার! আপনি এসব কী আবলতাবল বলছেন? আপনি কি আদৌ জ্ঞান ডলারে রেখে কথা বলছেন? এতগুলো মাস আমি হাঁটতে পারব না মানে কী? দেখুন ডাক্তার, যেভাবে পারেন তাড়াতাড়ি আমার পা ভালো করে দিন। আজ রাতের মধ্যেই যেন ঠিক হয়ে যায়! এমন কোনো হাই-পাওয়ারের ওষুধ বা ম্যাজিক ইনজেকশন দেন, যা খেলে আজই আমি লাফিয়ে উঠে হাঁটতে পারব, আগের মতো একদম বাতাসে উড়ে চলে বেড়াতে পারব। ফুল স্পিডে বাইক চালিয়ে রাস্তা কাঁপিয়ে দেবো,।”
আকাশের কথা শুনে ডাক্তার যেন থ বনে যান। চোখ দুটো সামান্য বড় বড় করে বিরক্ত কড়া কণ্ঠে বলেন,
—- “দেখুন মিস্টার, তা তো কখনোই সম্ভব নয়। আমরা ডাক্তার, আমাদের চিকিৎসার নির্দিষ্ট নিয়ম আর ওষুধের কার্যকারিতা আছে। পুরো পৃথিবীতে এমন কোনো ওষুধ তৈরি হয়নি যা ভাঙা হাড়কে মাত্র এক দিনে জোড়া লাগিয়ে ঠিক করে দেবে। বাস্তবতা আপনাকে মেনে নিতেই হবে।”
কথাটা শেষ করেই ডাক্তার ফাইলটা বগলে চেপে গম্ভীর পায়ে কেবিন থেকে চলে যান। ডাক্তারের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আকাশ কপালে হাত দিয়ে কান্নামেশানো করুণ কণ্ঠে বলে,
—- “পাঁচ মাস! আল্লাহ রে, আমি শেষ!”
বেডের পাশে বসে থাকা বাঁধন এতক্ষণ চরম বিরক্তি নিয়ে এসব পাগলামি দেখছিল। আকাশের সস্তা নাটক দেখে তার সহ্যশক্তির বাঁধ ভেঙে যায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে বজ্রকঠিন ধমকের কণ্ঠে বলে,
—- “স্টুপিড! বাইক চালানোর সময় হুশ কোথায় ছিল? চোখ দুটো কি পকেটে রেখে গাড়ি চালিয়েছিস?”
বাঁধনের বাঘের মতো ধমক খেয়ে মুখটা নিমিষে পেঁচার মতো ছোট হয়ে যায় আকাশের। টু শব্দ করার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলে সে।অন্য দিকে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বৃষ্টির অবস্থা তখন কেরোসিন। ভেতরের দমকানো হাসির চোট সামলাতে না পেরে কলিজা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে তার। প্রচুর পরিমাণ হাসি পাচ্ছে তার। মাথাটা একদম বুকের সাথে ঠেকিয়ে, দাঁত দিয়ে আঙুল কামড়ে ধরে শব্দ আটকানোর শেষ চেষ্টা করছে সে। থমথমে ক্রাইসিস মোমেন্টে হাসি আটকানো যেন পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তার কাছে। মনে হচ্ছে এখনই হা হা হি হি করে কেবিন কাঁপিয়ে হেসে দেবে।ঠিক তাই হলো, শেষ রক্ষা আর হলো না। বৃষ্টি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না। ঝট করে উল্টো দিকে ঘুরে গিয়ে খিলখিল করে হেসে দেয় সে। কেবিনের নিরেট দেয়ালে দেয়ালে হাসির শব্দ তীব্র প্রতিধ্বনি হয়ে ছড়িয়ে পড়ল।বৃষ্টির বাঁধভাঙা খিলখিল হাসি দেখে সবাই অবাক হয়ে তাকায় তার দিকে। কিছুতেই হাসি থামানো যাচ্ছে না বৃষ্টির। কাছে এগিয়ে আসে রূপা। কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
—- “কী হয়েছে তোর, এভাবে হাসছিস কেন?”
হাসির চোটে কথা বলতে পারছে না বৃষ্টি। পেটে খিল ধরে যাচ্ছে তার। তবে এই অসময়ের হাসির আসল মানে বুঝতে বাকি থাকে না আকাশের। নিজের এই পঙ্গু দশার সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েটার হাসি দেখে ঠোঁটের কোণে বক্র হাসি ফুটে ওঠে আকাশের। মনে মনে প্রতিশোধের দৃঢ় কণ্ঠে আওড়ায়,
—- “হেসে নাও মিস, আজ আমার এই দশার একমাত্র কারণ তুমি। সময় হোক, এসবের হিসেব সুদে-আসলে তুলে নেবো আমি!”
রাতের শেষ প্রহরে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয় আকাশকে। গভীর রাতে পড়া শেষ করে খাওয়ার টেবিলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে রূপা আর বৃষ্টি। বসার ঘরে পা রাখতেই থমকে যায় দুই জোড়া চোখ। ড্রয়িংরুমের সোফায় মুখোমুখি বসে আছে বাঁধন আর আকাশ। গভীর মনোযোগে দুজনেই ডুবে আছে মুঠোফোনের স্ক্রিনে। পুরো ঘরে তখন ফ্রি ফায়ার গেমের ঠাস ঠাস গুলির শব্দ তীব্র প্রতিধ্বনি তুলছে। আকাশের ভাঙা পায়ের পাশে হেলান দিয়ে রাখা ক্রাচ, বাম হাতে ঝুলছে সাদা ব্যান্ডেজ; অথচ সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তার। নেশাগ্রস্ত বাচ্চার মতো বুঁদ হয়ে আছে স্ক্রিনে। কোনো কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসে পড়ে রূপা। নিঃশব্দে তার পাশের চেয়ারটা টেনে নেয় বৃষ্টি। বাড়ির বাকি সবাই রাতের খাবার শেষ করে এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে।খেলার উত্তেজনার মাঝেই সহসা চোখ যায় বাঁধনের ডাইনিং টেবিলের দিকে। রূপা আর বৃষ্টি তখন প্লেটে খাবার বেড়ে নিচ্ছে। মুহূর্তেই গেম থেকে লগআউট করে ফোনটা পকেটে পুরে ফেলে বাঁধন। হঠাৎ সঙ্গীকে থেমে যেতে দেখে কৃশ কণ্ঠে শুধায় আকাশ,
—- “কী হলো, বের হয়ে গেলি কেন?”
—- “খিদে পেয়েছে, চল খেয়ে আসি।”
সোফা থেকে টেনে তুলে আকাশকে সাবধানে ধরে ধরে ডাইনিং টেবিলে নিয়ে আসে বাঁধন। টেনে দেওয়া চেয়ারে বসাতেই ঠিক বৃষ্টির পাশেই জায়গা হয় আকাশের। খুব কাছ থেকে পাওয়া চেনা পুরুষালি ঘ্রাণে সহসা বুকটা দুরুদুরু করে ওঠে বৃষ্টির। মনের অজান্তেই ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই চোখ পড়ে আকাশের ওপর। অতর্কিত সেই চাউনিতে চমকে উঠে ঝটপট মাথা নিচু করে খাবারে মন দেয় সে। অন্য দিকে রূপার ঠিক পাশের খালি চেয়ারটায় গম্ভীর মুখে বসে পড়ে বাঁধন। থমথমে মুখ করে একদম চুপচাপ খাচ্ছে রূপা। তার অবাধ্য মনের ভেতর তখন কী ঝড় চলছে, তা বাইরে থেকে অনুধাবন করা অসম্ভব। চারজন মানুষের নীরবতায় ডাইনিং রুমের আবহে তখন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।নীরবতা ভেঙে খাওয়ার মাঝেই আড়চোখে বৃষ্টির দিকে তাকায় আকাশ। ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম শ্লেষাত্মক হাসি ফুটিয়ে বাঁধনের দিকে চেয়ে বলে,
—- “বাঁধন, আমার না একটা ফুল বিক্রেতাকে ভালো লেগে গেছে ভাই। কসম করে বলছি, মেয়েটা এত সুন্দর যে তাকালে মনে হয় কেউ গমের আটার মধ্যে চাঁদের আলো মিশিয়ে মানুষ বানিয়েছে!”
কথাটা কান অব্দি পৌঁছানো মাত্রই বিষম খাওয়ার মতো তীব্র হেঁচকি উঠে যায় বৃষ্টির। বিষম খাওয়ার চোটে লাল হয়ে ওঠা বৃষ্টির অবস্থা দেখে তড়িঘড়ি করে গ্লাসের পানি তার মুখের সামনে তুলে ধরে রূপা। মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে ব্যাকুল কণ্ঠে বলে,
—- “ঠিক আছিস তুই?”
গলা দিয়ে পানিটুকু নামিয়ে আলতো করে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ে বৃষ্টি।অন্য দিকে প্লেট থেকে মাংসের টুকরোটা মুখে পুরতে পুরতে আড়চোখে রূপার দিকে তাকায় বাঁধন। মুখের অবয়বে কঠিন গাম্ভীর্য ফুটিয়ে ধাতব কণ্ঠে বলে,
—- “আর আমার পছন্দ হয়েছে একটা ডেলিভারি গার্ল। একদম ইউনিক পিস! দূর থেকে দেখলে মনে হয় এলাকার কোনো দুষ্টু ছেলে হেঁটে বেড়াচ্ছে, কাছে গেলেই কেবল বোঝা যায় আরে না, এ তো মেয়ে!”
কথাটা শোনা মাত্রই দম আটকে বিষম খেয়ে কেশে ওঠে রূপা। নিস্তব্ধ ডাইনিং রুমে তার কাশির বেগ এতটাই তীব্র শোনাচ্ছে যেন ভেতরে থাকা ফুসফুসটাও এই অপবাদের বিরুদ্ধে সজোরে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।দুজনের এই নাজেহাল অবস্থা দেখে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে কৌতুকভরা কণ্ঠে বলে আকাশ,
—- “কী হয়েছে, কেউ হেঁচকি তুলছিস আবার কেউ কেশে উঠছিস! তোদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কেউ তোদের কোনো গোপন সত্যি ফাঁস করে দিয়েছে।”
কথাটা শোনামাত্রই বৃষ্টির আর বুঝতে বাকি থাকে না, আকাশ আসলে সবটাই জেনে গেছে। ওই ফুল বিক্রেতা মেয়েটা যে সে নিজেই, সেই সত্যটা আকাশ বেশ ভালো করেই টের পেয়েছে। তবে সত্য জানার আনন্দের চেয়েও আকাশের পরের কথাটায় মাথায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে বৃষ্টির। ফুল বিক্রেতা মেয়েটাকে নাকি ভালো লেগেছে! কত বড় ফ্লার্ট এই লোকটা! কালই একটা নতুন মেয়েকে নিয়ে দিব্যি বাইকে ঘুরে বেড়ালো, আর আজ চোখের সামনে বসে বলছে তাকে ভালো লেগেছে! ইচ্ছে করছে এখনই সামনে গিয়ে লোকটার মাথার সব চুল টেনে ছিঁড়ে দিতে।
অন্য দিকে রূপার অবস্থা আরও বেশি খারাপ। ঠিকমতো একটা স্বস্তির নিশ্বাস পর্যন্ত নিতে পারছে না সে। পরশু দিন কাদামাখা অবস্থায় লোকটা যে তাকে চিনে ফেলেছে সেটা বুঝতে আর বিন্দুমাত্র বাকি থাকে না তার। হঠাৎ করেই পুরো শরীরটা কেমন অস্থির লাগছে। আর এক মুহূর্ত এই ডাইনিং টেবিলে বসে থাকলে নির্ঘাত মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। নিজের ভেতরের এই তীব্র অস্বস্তিটুকু কোনোমতে চেপে রেখে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে কোনোমতে বলে,
—- “বৃষ্টি, তুই খা। আমার পেট ভরে গেছে।”
কথাটা শেষ করেই আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ায় না রূপা। চেয়ার ছেড়ে প্রায় এক দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের ঘরের দিকে ছুটে চলে যায় সে। আচমকা রূপাকে ওভাবে চলে যেতে দেখে বৃষ্টি নিজেও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। নিজের ভেতরের রাগ আর অস্থিরতা লুকাতে একটা হাবলার মতো বোকা হাসি ফুটিয়ে বাঁধন আর আকাশের উদ্দেশ্যে বলে,
—- “আমারও পেট ভরে গেছে। আপনারা খান।”
বলেই থালা ঠেলে টেবিল থেকে চটজলদি কেটে পড়ে বৃষ্টি। দুই বান্ধবীর এমন হন্তদন্ত হয়ে পালানোর দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বেঁকিয়ে এক গভীর বক্র হাসি হাসে বাঁধন আকাশ।খাওয়া শেষে নিজের ঘরে পা রাখতেই থমকে দাঁড়ায় বাঁধন। ঘরের আলো আঁধারিতে শান্তাকে দেখে বেশ অবাক হয় সে। শুধু তাই না, শান্তা বাঁধনের একটা ব্যবহৃত শার্ট নিজের নাকের কাছে টেনে ধরে চোখ জোড়া বুজে আছে, যেন পরম আবেশে শার্টের বুকে লেগে থাকা ঘ্রাণটুকু নিজের ভেতরে টেনে নিচ্ছে। এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখে দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়েই গম্ভীর কণ্ঠে শুধায় বাঁধন,
—- “কী হয়েছে শান্তা, আমার শার্ট ধরেছিস কেন?”
নিস্তব্ধ ঘরে সহসা বাঁধনের ভারী কণ্ঠে চমকে ওঠে শান্তা। মুহূর্তের মধ্যে হাতের শার্টটা নিজের পিঠের পেছনে লুকিয়ে ফেলে সোজা হয়ে ঘুরে দাঁড়ায় । সামনাসামনি বাঁধনের তীক্ষ্ণ চাউনির মুখোমুখি হতেই বুকটা ধক করে ওঠে তার, তবে পরক্ষণেই মুখে ভয়ের একটা নিখুঁত ভান ফুটিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
—- “বাঁধন ভাইয়া, আমি আমি আসলে?”
শান্তার আমতা-আমতা করা অলীক অজুহাত শোনার মতো বিন্দুমাত্র ধৈর্য থাকে না বাঁধনের। তপ্ত হাহাকারের মতো ঘরের গুমোট হাওয়া মাড়িয়ে সামনে এগিয়ে এসে শান্তার হাত থেকে শার্টটা এক হেঁচকা টানে কেড়ে নিয়ে শীতল কণ্ঠে বলে,
—- “জাস্ট স্টপ ইট। ফালতু নাটক করার জন্য আমার রুম ছাড়া আর কোনো জায়গা পাসনি তুই? বের হ এখান থেকে।”
কর্কশ কথাগুলো বিষাক্ত তীরের মতো বুকে বিঁধলেও খানিকটা পাত্তাই দিল না শান্তা। ভেতরে তীব্র ভয়ের চোরাবালি কাজ করলেও বুকে একরাশ অবাধ্য, উন্মাদ সাহস জমিয়ে মুখের ওপর স্পর্ধার কণ্ঠে বলে,
—- “এত তাড়া কিসের বাঁধন ভাইয়া? আমি এই ঘরে থাকলে আপনার ঠিক কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, সেটা কি একবার বলবেন?”
মুহূর্তেই চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে বাঁধনের। চোখের মণি দুটো রাগে অন্ধকার হয়ে আসে, নিজের ভেতরের চরম বিরক্তি আর অবজ্ঞা চেপে ধরে রাশভারী কণ্ঠে বলে,
—- “আমাকে জ্ঞান শেখাতে আসিস না শান্তা। তোর এই ফালতু তর্কাৎর্কি শোনার মতো মুড আমার নেই। ভালোয় ভালোয় রুম থেকে বিদায় হ, নয়তো ঘাড় ধরে বের করে দিতে বাধ্য হব। আর নেক্সট টাইম আমার কোনো জিনিসে হাত দেওয়ার দুঃসাহস দেখাবি না।”
এত বড় অপমানেও দমে যাওয়ার পাত্রী নয় শান্তা। বরং নিষিদ্ধ কোনো আকর্ষণে আরও দুই পা এগিয়ে এসে এক বুক ধৃষ্টতা নিয়ে চোখ মিলিয়ে ঘোর লাগা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে,
—- “ছুঁয়ে দেব, একশো বার ছুঁয়ে দেব! নিজের ভালোবাসার মানুষের জিনিস আগলে রাখব না তো কার জিনিস রাখব? আপনি আটকাতে পারবেন না বাঁধন ভাইয়া!”
অপ্রত্যাশিত এই আস্পর্ধায় কপালে গভীর ক্রোধের ভাঁজ পড়ে বাঁধনের। নিজের দুচোখে চরম বিরক্তি আর একরাশ অবিশ্বাস নিয়ে কুঁচকে যাওয়া ভ্রুতে শুধায়,
—- “ইউ হোয়াট?”
মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত বাছবিচার আর সামাজিকতার দেয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে যায় শান্তার। দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বাঁধনকে। নিস্প্রাণ পাথরের মতো শক্ত বুকের ওপর মাথা চেপে ব্যাকুল কণ্ঠে আউড়ে চলে শান্তা,
—- “হোয়াট না বাঁধন ভাইয়া, এটাই সত্যি! আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি। নিজের জীবনের চেয়েও অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। আই লাভ ইউ বাঁধন ভাইয়া, আই জাস্ট লাভ ইউ সো মাচ!”
সারা শরীর রাগে রিরি করে ওঠে বাঁধনের। এক ঝটকায় শান্তাকে ছাড়িয়ে শরীরের সব শক্তি দিয়ে সজোরে থাপ্পড় মারে শান্তার গালে। থাপ্পড়ের নির্মম শব্দে পুরো ঘরের নিস্তব্ধতা চুরমার হয়ে গেল। ছিটকে গিয়ে দূরে আছাড় খেয়ে পড়ে শান্তা। মেঝের শক্ত কংক্রিটে মুখ থুবড়ে পড়ায় দাঁত দিয়ে ঠোঁটের ভেতরের নরম মাংস কেটে গিয়ে ফিনকি দিয়ে তাজা রক্ত ছিটকে বের হয়। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে রুড কণ্ঠে বলে বাঁধন,
—- “তুই আমার বোন শান্তা! আমার কাছে তুই এখনও অনেক ছোট। ছোট মানুষের ভুল হতেই পারে, তবে আজকে যেই কাজটা করলি নেক্সট টাইম এমন কিছু করলে আই সোয়্যার আমি ভুলে যাব তুই আমার বোন! তোকে কী করব আমি নিজেও জানি না। জাস্ট শাট আপ অ্যান্ড গেট আউট ফ্রম মাই রুম!”
বিন্দুমাত্র অবাক হয় না শান্তা। তীব্র আঘাতে মাথা ঘুরে গেলেও মেঝের ওপর পড়ে থাকা ছোপ ছোপ কালচে রক্তের দিকে তাকিয়ে পৈশাচিক হাসিতে কেঁপে ওঠে পুরো শরীর। কামড়ে ধরা ঠোঁটের ক্ষত থেকে গড়িয়ে পড়া গরম রক্তের স্বাদটা জিভ দিয়ে আলতো করে শুষে নিয়ে ভয়ঙ্কর উন্মাদনায় ধীরপায়ে উঠে দাঁড়ায় শান্তা। যে গালে থাপ্পড় খেয়েছে, প্রচণ্ড আঘাতে নীল হয়ে ফুলে ওঠা সেই মাংসপিণ্ডে নখগুলো গভীরভাবে দেবে দিয়ে নখের ডগায় চামড়া, মাংসের কণা আটকে থাকা গাঢ় রক্তের দিকে তাকায়। বিকার ছাড়াই ক্ষতবিক্ষত নখগুলো ঠোঁটের ভেতর পুরে দিয়ে কামড়ে ধরে গভীর চুমু খায়। নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে ধৃষ্টতার কণ্ঠে বলে,
—- “বোন? কিসের বোন বাঁধন ভাইয়া! আমি যেহেতু আপনাকে ভালোবেসেছি, তাহলে বোন থেকে কীভাবে বউ হতে হয় সেটা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে। আপনি যতই আমাকে বকা দিন, মারেন, কিন্তু আমি শান্তা আপনাকে নিজের করে ছাড়ব দ্যাটস মাই প্রমিজ! হোক সেটা আপোসে কিংবা জোর করে।”
অবাক করে দিয়ে ঠোঁটের কোণে বিষাক্ত বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে বাঁধনের। তাচ্ছিল্যের কণ্ঠে বলে,
—- “চ্যালেঞ্জ করছিস? ওকে, চ্যালেঞ্জ একসেপ্টেড! আমি এই জন্মেও তোর হব না, পরের জন্মেও তোর হব না। আমি এই জন্মেও তোর বড় ভাই, পরের জন্মেও তোর বড় ভাই হয়েই থাকব।”
ওষ্ঠাধরে তাচ্ছিল্যের বিষাক্ত হাসি ফুটিয়ে তোলে শান্তা,
—“হবে কীভাবে কারণ আপনি রূপাকে পছন্দ করেন। তাই না?”
কোনো প্রত্যুত্তর করে না বাঁধন। পলকহীন, স্থির নেত্রে চেয়ে থাকে শান্তার পানে। সেই পাথুরে নীরবতা দর্শনে অধরে পৈশাচিক উল্লাস ফুটিয়ে শুধায় শান্তা,
—-“কী হলো সত্যি কথা বলেছি বলে মুখের সাউন্ড অফ হয়ে গেল?”
মস্তক অবনত করে গুমরে হেসে ওঠে বাঁধন। অতি ধীর চরণে শান্তার সন্নিকটে এগিয়ে আসে কয়েক কদম। শান্তার কানের কাছে মুখ নামিয়ে মাতাল কণ্ঠে বলে,
—- “এত বুঝিস তাহলে জেদ করছিস কেন বোন?”
ক্রোধে সর্বাঙ্গ রিঅ্যাক্ট করে ওঠে শান্তার। সংশয় পূর্ণতা পায় অন্তরে। এই পুরুষ রূপার মোহে অন্ধ। তীব্র হিংসা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলে শান্তা,
—-“আপনি হয়তো ভুলে যাচ্ছেন রূপা আপনার সৎ বোন?”
গোলাপী ওষ্ঠ জোড়া গোল করে শুধায় বাঁধন,
—-“তো?”
রাগে ফুঁসে উঠে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলে শান্তা,
—-“লজ্জা সরম কি সব খেয়ে ফেলেছেন? সৎ বোনকে পছন্দ করতে একটুও বাঁধল না?”
দ্বিধাহীন চিত্তে দুই দিকে না সূচক মাথা নাড়ায় বাঁধন,
—-“না।”
চোয়াল শক্ত হয়ে ওষ্ঠাধর কেঁপে ওঠে শান্তার। বিষাক্ত ফণা তোলা সাপের মতো হিসহিসিয়ে নিষিদ্ধ স্বরে বলে।
—- “বাঁধন ভাইয়া এটা কীভাবে সম্ভব? রূপা আপনার সৎ বোন লাগে, এটা সম্ভব নয়।”
দুই হাত পকেটে গুঁজে এক দৃষ্টিতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বাঁধন। হিমের মতো শীতলতায় বাতাসের গতি থমকে আসে। বরফ জমা গলার স্বরে বলে।
—- “আমি বুঝে নেবো। গেট আউট।”
পিছু না হটে মুখোমুখি দাঁড়ায় শান্তা। চোখে কুৎসিত জেদ আর ঠোঁটে নিষ্ঠুর হাসির রেখা ফুটে ওঠে। দাঁতে দাঁত চেপে শাণিত স্বরে বলে,
—- “তাহলে আপনিও শুনে রাখুন। কিছু জিনিস পেতে গেলে কিছু দুর্বলতায় আঘাত করতে হয়, প্রয়োজনে আমি তাই করবো।”
দৃষ্টি সরু করে তাকায় বাঁধন। পাথুরে কাঠিন্যে ঘরের অক্সিজেন যেন কমে আসে। গলার গভীরে চাপা এক গর্জন তুলে বলে,
—- “রূপাকে আঘাত করবি?”
বুক ফুলিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় শান্তা। চোখের মনিতে দপ করে জ্বলে ওঠে আগুনের শিখা। জেদে মাথা দুলিয়ে বলে,
—- “প্রয়োজন পড়লে করতেও পারি।”
গলার গভীরে হিমশীতল বারুদ জমিয়ে এক পা এগিয়ে আসে বাঁধন। প্রতিটি শব্দ পিস্তলের গুলির মতো ধারালো করে বলে,
—- “ভাই হয়ে তোকে আমি কলিজা দিয়ে ভালোবাসি, কিন্তু রূপের দিকে হাত বাড়ালে কলিজায় ছুরি মারতেও আমি ন্যানো সেকেন্ড ভাববো না।”
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ২৯
ওষ্ঠাধরে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বিকৃত উন্মাদনায় দুলে ওঠে শান্তা।তীক্ষ্ণতায় শিস দেওয়ার মতো সুরে বলে,
—- “দেখা যাবে। খেলা শুরু আজ থেকে, জিতবো তো আমিই।”
দরজার দিকে আঙুল নির্দেশ করে বাঁধন। ঘৃণার চরম বিষাক্ত মিশ্রণে ঘরটা সংকুচিত হয়ে আসে। কণ্ঠের প্রতিটি বিন্দুতে বিষ ঢেলে বলে,
—- “গেট আউট।”
