বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১২
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
মিথির মোটামুটি দুই- তিনটে দিন ভাবীর সংসারে কাজকর্ম করে কাঁটাতে হলো অনেক কথা শুনেই। রাতদিন অনেকভাবে অনেকরকমের কথা শুনে মিথি অন্তত এটুকু বুঝে উঠতে পারল যে এক অশান্তির জায়গা থেকে ও আরেক অশান্তির জায়গাতেই এসে পড়েছে। আমাদের প্রত্যেকেরই জীবনে চলার জন্য মানসিক শান্তি প্রয়োজন। মানসিক শান্তি ছাড়া টিকে থাকা অনেকটাই অসম্ভব! মিথিরও চলার পথে অবশ্যই মানসিক শান্তির প্রয়োজন। অথচ এই মানিসক শান্তির ছিঁটেফোটাও ও বাবা মারা যাওয়ার পর আর টের পায় নি। এমনকি এখনও! মিথি বুঝে উঠে না কি করবে। এভাবে ভাই এর সংসারে পড়ে থেকে, ভাই এর টাকায় খাওয়া চলবে না এটুকু তো ও বুঝে। অথচ হাতে এই মুহুর্তে জমানো কিছু টাকা ছাড়া কিছু নেই ওর। এখান থেকে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য তেমন নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ও নেই ওর। আছে একজন, হিয়া।
ওর ছোটবেলা থেকে এখন অব্দব সবথেকে কাছের বন্ধু। এইতো দশ মিনিটের দূরত্বে ওদের বাড়িটা। অথচ হিয়া বাড়ি নেই। এইচ.এস. সি এর পর কোচিং করতে শহরে গিয়েছে। যতদূর শুনেছে, হিয়া কয়েকটা মেয়ে সহ মেসে থাকে। এদিকে নিজের হাতে ফোন না থাকায় হিয়ার সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম ও ওর নেই। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে। সব রাস্তা যখন বন্ধ তখন ভাবল জমানো টাকাগুলোর একাংশই ভাবীর হাতে তুলে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে বসে খাওয়ার থেকে ওভাবে হলে কিছুটা মানবে হয়তো ভাবী।মিথি তাই করল। অর্ধেক টাকাটা নিজের খরচ হিসেবে ভাবীকে তুলে দিয়ে বাকি অর্ধেকটা নিজের কাছে রাখল। এরপর কোন একটা কাজ শুরু করবে নাহয়। সেলাই কাজটা মিথি বিয়ের আগ থেকে পারলেও এই দুয়েকটা দিনে ও কাজ পায় নি একটাও। পাওয়ার সম্ভাবনাও আছে বলে মনে হচ্ছে না। পেলেও বা কয় টাকা রোজগার হবে?
আগেকার দিনের বাংলা সিনেমার সাবনা তো না ও, যে সেলাই মেশিন দিয়ে বড়লোক হয়ে যাবে। মিথি যখন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না, শুধু চিন্তা করছিল নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তখনই মনে হলো ওর দুটো কানের দূল আর একটা সোনার রিং আছে। এগুলো বিক্রি করে হলেও কিছু একটা ও অবশ্যই শুরু করতে পারবে। এতোটা নিরাশ হলে কি করে হবে? নিরাশ হওয়া যাবে না। এমনটাও মনোবল স্থির করল মনে মনে ও। আরো দুয়েকটা দিন কাঁটার পরই ও সোনার রিংটা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিল। ভাই- ভাবী কাউকেই জানানো হয়নি। ওদের উপর মিথির আজকাল বিশ্বাস জম্মায় না। নিজেই সে কারণে একা একাই গ্রামের বাজারে গেল।
বাজারের কোণায় একটা সোনার দোকান আছে। মিথিরা কলেজ আসা-যাওয়ার সময় দোকানটা অনেকবারই দেখেছে। মিথি ঐ দোকানেই গেল।অতঃপর দামদর জিজ্ঞেস করল। রিংটা বিক্রি করলে মোটামুটি ভালো অংকের একটা টাকাই ও হাতে পাবে। অথচ এই টাকা দিয়ে শুরুতেই কি করা উচিত মাথায় এলো না। এখনই বিক্রি করে দিবে কিনা তাও বুঝে উঠল না। মিথি অনেকটা ভেবেচিন্তে দামদর জিজ্ঞেস করে আবার বের হয়ে গেল। যেহেতু এখনও কোন কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়নি সেহেতু বিক্রি করল না। তবে পরে বিক্রি করবে এমনটাই জানিয়ে সে বের হয়ে এল। অতঃপর কিছুটা দূর আসতেই দেখা মিলল স্নিগ্ধার বোন সাবিহার। মেয়েটাই প্রথমে হাসল ওকে দেখে। এগিয়ে এসে শুধাল,
“ মিথি, তুমি? তুমিও কি বাজার করতে এসেছো? ”
মিথির ঠিক সাবিহার মতো করে হাসি পেল না। তবুও সৌজন্যতার খাতিরে মুখে হাসি আনল ও। ভদ্রতা দেখিয়ে বলল,
“ না, একটু দরকার ছিল সাবিহা আপু৷ আপনারা? ”
সাবিহা হাসল। হাতের সবজির ব্যাগটা দেখিয়ে বলল,
“ বাজার দেখতেই এলাম হিমেলের সাথে। ”
মিথি কপাল কুঁচকাল।বাজার আবার দেখার বিষয় হলো? এতো ভীড় ঠেলে বাজার করা এসব দেখার মধ্যে আনন্দের কিছু থাকে? তাহলে? মিথি সাবিহার দিকে তাকাল। চোখমুখে সত্যিই খুশির ছাপ। কেউ বাজার করে এতোটা খুশি হতে পারে বলে মিথির মনে হয় না। মিথির মনে হলো অন্য কোন কারণ।কারণটা হয়তোবা হিমেল ভাই। এই কারণেই হয়তো বা এতোটা খুশি৷ মিথি হেসে উত্তর করল,
“ ওহ।”
“ তুমি? তুমি কোথায় গিয়েছিলে? ”
“ একটু ব্যাক্তিগত দরকার ছিল আপু।আপনাদের বাজার করা শেষ? ”
“আরেহ নাহ। এবার তো মাছ বাজারে যাব হিমেলের সাথে।যায়হোক, তোমার সেই সুন্দর, হ্যান্ডসাম হাজব্যান্ড কেমন আছে? তার সৌন্দর্যের বর্ণনা শুনে তাকে দেখার খুব কৈাতুহল হচ্ছে। ”
মিথি এবারে ছোটশ্বাস টানল। মুখে হাসি বজায় রাখল অবশ্য। অথচ যে সৌন্দর্যের কথা শুনে মানুষ এতোটা কৌতুহল জমায়, আকৃষ্ট হয়, আগ্রহ দেখায় সে সৌন্দর্যের আড়ালেও মানুষের কত নিকৃষ্ট রূপ থাকে! এই যে গ্রামের অধিকাংশ মানুষই জানে মিথির কপাল ভালো। কারণ কি? মিথির ভালো ঘরে বিয়ে হয়েছে। স্বামী সুন্দর, বড়লোক। অথচ কেউ তো এটাই জানে না যে ওর স্বামীর মনুষত্ব্য নেই। থাকলে কি পারত এমন ব্যবহার করতে? মিথি নিজের মনেই হাসে। উত্তর করল,
“ ভালোই আছে হয়তো। ”
সাবিহা ফের জানতে চাইল,
“ কল করোনি? ”
“ সময় হয়ে উঠেনি আসলে।তাছাড়া ফোনও নেই। তাই। ”
এইটুকু বলেই মিথি বেঁচে যেতে চাইল। সাবিহা এখানে থেমে গেলেই হলো। অথচ সাবিহা থামল না। নিজের ফোনটা এগিয়ে হাসিহাসিমুখে বলে উঠল,
” তুমি চাইলে আমার ফোন থেকে কল করে খবর নিতে পারো মিথি। তোমার হাজব্যান্ড ধনী, তার তো উচিত ছিল তোমাকে একটা ফোন দেওয়া। তাই না? ”
মিথির এবার বোধহয় মুখ থমথমে হয়ে আসছে। এভাবে আদ্রকে নিয়ে ভদ্রভাবে বলতে ওর ইচ্ছে হচ্ছে না। আর না তো আদ্রকে স্বামী স্বামী করে অন্যের সাথে এই রমরমা আলাপ জমাতে ইচ্ছে হচ্ছে৷ মিথি যখন কিছুটা বিরক্তে কপাল কুঁচকাল ঠিক তখনই পেছন থেকে মাথা বাঁকাল হিমেল। এতোটা সময় যাবৎও এক হাতে সবজির ব্যাগ নিয়ে শুনছিল ও কথাগুলো। এবারে সাবিহাকে বলল,
“ তুমি কি এখানে দাঁড়িয়ে কথাই বলে যাবে মানুষের সাথে সাবিহা? দাঁড়ালে প্লিজ এখানে দাঁড়াও। আমি বাজার শেষ করে আসছি। ”
সাবিহা কেমন করে যেন চাইল হিমেলের দিকে। ফোনটা আবারও গুঁটিয়ে নিল। মিথি ঐ সময়টায় হেসে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“ আপনাদের বোধহয় দেরি হচ্ছে।হিমেল ভাই বিরক্ত হচ্ছেন। আমিও যাই তবে। ”
কথাটা বলেই বিদায় নিয়ে অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে দু পা বাড়াতেই আকস্মিক এক দূর্ঘটনা ঘটতে লাগল। সামনেই সরু রাস্তার মোড়ে সি এনজিটা এদিকেই আসছিল। মিথিও অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে এখান দিয়েই রাস্তার ওপাশে যাচ্ছিল। আরেকটু হলেই খারাপ কিছু একটা ঘটত। অথচ তা হলো না। আচমকাই একটা পুরুষালি শক্তপোক্ত হাত মিথিকে টেনে নিয়ে রাস্তার একধারে। শাসানো ভঙ্গিতে ধমকে বলে উঠল,
“ রাস্তায় চলার সময় মন কোথায় থাকে তোর? আশ্চর্য। আরেকটু হলেই তো গাড়িটা মেরে দিত এক্ষুনি। এত বড় হয়ে রাস্তায় কিভাবে চলতে হয় তা জানিস না মিথি? ”
মিথি একে তো আচমকাই দমকা হাওয়ার মতো টেনে আনায় হতবিহ্বল দৃষ্টি ফেলে চেয়ে আছে। এবারে তার পরপরই এমন ধমক শুনে ও যে কেঁদে দিবে এমন হলো। এমনিতেই ও কত চিন্তার ভেতর আছে। শরীর চব্বিশ ঘন্টাই ক্লান্ত অনুভব হয়। তার উপর কত বাড়তি ঝামেলা। মিথির কি দোষ? এমন পরিস্থিতিতে থেকে কেউ সবসময় বোধবুদ্ধি খোলা রেখে চলাফেরা করতে পারে নাকি? হিমেল উত্তর না পেয়ে আবারও গম্ভীর গলায় বলল,
“ এতোটা বেখেয়ালি কেন? রাস্তায় একা বের হয়েছিস অথচ একা চলার মতো ম্যাচুরিটি নেই তোর? ”
মিথি চুপ থাকে। এর আগেও কলেজ লাইফে একবার হিমেল ভাই এর সামনে রিক্সা থেকে পড়ে গিয়েছিল ও। সেবার ও ঠিক একইভাবেই হিমেল ভাই এভাবে ধমক দিয়েছিল। মিথির এখনো মনে আছে স্পষ্ট। একটা বড়সড় ধমক দিয়ে পরমুহুর্তে একটা রিক্সা ডেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল সেবার। মিথি সেটা মনে করে শান্ত কন্ঠে উত্তর দিল,
“ ভুলবশত হয়ে গিয়েছে।”
হিমেল ভ্রু বাঁকাল। শুধাল,
“ ভুলবশত নাকি ইচ্ছাবশত জানতে চেয়েছি আমি? ”
“ না।”
হিমেল ভ্রু জোড়া কেমন কুঁচকে রাখল। মিথির দিকেই তাকিয়ে। মেয়েটা ভাত টাত খায় না নাকি এখন? দিন দিন এমন শুকিয়ে যাচ্ছে কেন? এই যে চোখের নিচে বিস্তর কালি পড়েছে? এটাও বা কেন? রাতে ঘুমায় না? অবশ্য এখন তো ওর খেয়াল রাখার জন্য ওর স্বামী আছে। নিশ্চয় অনেক ভালোবাসে মিথিকে সে? নয়তো মিথি নিশ্চয় সাবিহার কাছে তার স্বামীর রূপের প্রশংসা করত না? স্বামীর গল্প বলত না? মিথি নিশ্চয় তার স্বামীকে ভালোবাসে অনেকটা? হিমেল চোখ বুঝে। গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে আওড়াল,
“ সবার ভাগ্যই ভালো। সবাই তোমার ভালোবাসা পেল মিথি। অথচ হিমেল? যে কিনা এক বসন্তে তোমাকে মন দিয়েছিল তার ভাগ্যে তোমার ভালোবাসার একাংশও জুটেনি।”
এটুকু মনে মনে ভেবেই হিমেল ছোটশ্বাস ফেলে। বাড়িতে এসেছিল দুদিনের ছুটিতে ও। আজই চলে যাবে। অথচ চলে যাওয়ার আগে আবারও মিথির সাথে দেখা হবে ও ভাবেনি।তবুও হয়েছে। হিমেলের হৃদয়ের অনুভূতি অনেকটা বিষাদ এবং বসন্তের মিশ্রনে। একদিকে যেমন মিথি আজ অন্যের বলে কষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে যার প্রতি তার এতো গভীর অনুভূতি তাকে দেখে শান্তি শান্তি লাগছে। হিমেল শুধু গম্ভীর গলায় শেষে বলল,
” ঠিকঠাকভাবে চলাফেরা করবি এরপর থেকে। নয়তো তোর হাজব্যান্ডকে বলবি তোর যেন ঠিক ভাবে খেয়াল রাখে।”
এইটুকু বলেই হিমেল পা এগোল। মিথি কেমন করে যেন চেয়ে থাকল। হিমেল ভাই কেমন অদ্ভুত ব্যবহার করে তার সাথে। কেমন যেন অন্যরকম। অনেক আগ থেকেই এমন অদ্ভুত রকমের ব্যবহার করে।
হিমেল যখন পা এগিয়ে সাবিহা সহ মাছ বাজারের দিকে অগ্রসর হলো তখনই সাবিহা বলল,
“ মিথি অনেক ভালো রাইট? তোমার কি কষ্ট হচ্ছে হিমেল? আচ্ছা, মিথির মধ্যে কি এমন আছে যা তোমার ভালো লাগে হিমেল? ও তো একদম চোখ ধাঁধানো সুন্দরী নয় যে সৌন্দর্য দেখে প্রেমে পড়েছিলে।কি এমন আছে যার কারণে তোমার এতোটা অনুভূতি ওর প্রতি? ”
হিমেল ঘাড় বাঁকায়। মাথা ঘুরিয়ে সাবিহার দিকে তাকায়। পথ চলতে চলতে বলল,
“ আমি তোমায় কখনো বলেছি আমি মিথিকে পছন্দ করি? বাজারে এসে কিসব বকবক করছো? ”
সাবিহা জানাল,
“ আপু বলেছে আমায়।”
হিমেল এবারে উত্তর করল না। চুপচাপ পা বাড়াল। সাবিহা আবারও বলল,
“ সত্যিই তো পছন্দ করো। ”
হিমেলের দৃষ্টি গম্ভীর হলো। পথ চলতে চলতে শুধু বলল,
“ অন্যের ব্যাক্তিগত বিষয়ে আগ্রহ থাকা ভালো নয় সাবিহা। ”
মিথি যখন বাড়ি এল তখন বিকেল গড়িয়ে এসেছে। শীতকাল হওয়ায় আকাশে আঁধার নেমে এসেছে প্রায়। একটু পরই সন্ধ্যা নামবে যেন। শীতের পোশাক পরে না যাওয়ায় শীত শীত ও অনুভব হচ্ছে কিছুটা। মিথি যখন ক্লান্ত শরীরে মাত্র পা এগিয়ে ঘরে ডুকল ঠিক তখনই ভাবী মুখ বাঁকিয়ে তাকাল ওর দিকে। সঙ্গে সঙ্গেই বলল,
“ তো মহারানী, কোথায় গেলে? বলেও তো যাও নি। আমি তো ভাবলাম শ্বশুড়বাড়িতেই ফিরে গিয়েছো। তা নয়, আবার তো সে ফিরেই এলে। ”
মিথির আজকাল ভাবীর কথার উত্তর দিতে ইচ্ছে হয় না। কিছুটা তিক্ত অনুভূতিও কাজ করে। তবুও আশ্রয়ের জন্য থাকতে হবে তাকে এখানে। অন্তত আদ্রর আচরণ থেকে তো ভালো! মিথি চুপচাপ রুমের দিকে পা এগোতে নিচ্ছিল। তার ভাবী তাহিয়া আবারও বলল,
“ কোথাও যাচ্ছো? আশ্চর্য! উঠোতে দড়িতে দেওয়া কাপড়গুলো এখনো পড়ে আছে। দেখোনি নাকি? দুপুরের থালাবাসন গুলোও তো পড়ে আছে। কে করবে? ”
মিথি তাকাল চোখ ছোটছোট করে। ওর সত্যিই শরীর দুর্বল লাগছে। মাথা ঝিমঝিম করছে। পায়ের দিকে আজকে দুদিন হলো টানটান হয়ে আছে। হাঁটতে অসুবিধা হয়। তবুও এসব ও বলবে কাকে? বলার মতো তেমন আপন কেউ তো নেই। মিথি শান্তস্বরে শুধু বলল,
“ কাপড় চেঞ্জ করে নিয়ে আসছি। কলে গিয়ে থালাবাসন গুলো ধুঁয়ে আনছি। চিন্তা করো না। ”
অতঃপর কাপড় বদলে ও বাইরে থেকে কাপড় গুলো নিয়ে এল। ভাজ করল। এরপর কলপাড়ে গিয়ে সমস্ত থালাবাসনগুলোও ধুঁয়ে আনল। অতঃপর সন্ধ্যা হতেই বলা হলো, চা বানাতে, নাস্তা বানাত । মিথি এবারেও না করল না। তাই করল। এর একটু পর আবার বলা হলো মিথির চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া ভাই এর মেয়েটাতে পড়াতে বসাতে। মিথি বিয়ের আগেও পড়াত। এতে অসুবিধে নেই। কিন্তু ওর শরীরে টানছে না। ইচ্ছে হচ্ছিল কেবল চোখ বুঝে একটা ঘুম দিতে। অথচ হলো না।
বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১১
ঘন্টা দুয়েক ভাই এর মেয়েকে পড়া দেখিয়ে এর পর ও নিজের রুমে গিয়ে ঘুম দিল। অতঃপর সেই ঘুম ভাঙ্গল রাত একটায়। ততোটা সময়ে সবাই খেয়ে ঘুম। মিথি রাতে না খেয়েই ঘুমিয়েছিল। অথচ কেউ একবার খেতে ও ডাকল না ওকে। পেটে ক্ষিধেটা এতোটা সময়ে মাথাচওড়া হয়ে উঠল যেন মিথির। ক্ষিধেতে যখন আর পারছিল না তখন ঐ সময়টাতেই ও রান্না ঘরে গেল। আলো জ্বালিয়ে ভাতের পাতিলটা নিতেই দেখা গেল যেটুকু ভাত অবশিষ্ট আছে তাতে এক চামচ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আর তরকারি? মিথি তরকারির কড়াইটা এগিয়ে দেখল ওগুলা খালিই পড়ে আছে। অবশিষ্ট অব্দি নেই।
