বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৭
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
মিথির একটা হসপিটালে পার্টটাইম জব হলো হিয়ার বন্ধু দীপ্রর মাধ্যমেই। মোটামুটি অল্প পরিশ্রম এবং সহজ কাজ। এই যেমন রোগীর সিরিয়াল দেওয়া, ডেস্ক ঠিক রাখা, রোগীর তথ্য লেখা, রোগী দেখার সময় ডক্টরকে সাহায্য করা ইত্যাদি। মিথির অবশ্য এটা প্রত্যাখান করার সুযোগ ও নেই। আপাতত নিজের চলার জন্য এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হলেও জবটা ওর দরকার। করতে হবে এটা। মিথি হিয়া দুইজনই খুশি হলো এতে। এবং আজই ও প্রথম দিনের মতো জয়েন করল।দিয়ে গেল হিয়াই। সব কাজ বুঝে নিয়ে মোটামুটি করার চেষ্টা করল। অতঃপর এক পর্যায়ে ডক্টর ফাজরিনকে দেখা গেল। বোধহয় এই হসপিটালেও বসেন উনি। মিথি প্রথমেই দেখেই শুকনো ঢোক গিলে। সেদিনকার রাতের সে ভয়ানক ঘটনাগুলো আবারও চোখের সামনে ভাসে। মিথি মুখ লুকিয়ে ডক্টর ফাজরিনের সম্মুখীন না হওয়ার জন্য অন্য পাশে ফিরতে নিল। অথচ লাভ হলো না খুব একটা। ডক্টর ফাজরিন নিজ থেকেই পেছন থেকে বলে উঠল,
“ তুমি আদ্রর ওয়াইফ না? কি যেন নাম ছিল? মিথি, মিথি রাইট তুমি? ”
মিথি আবারও শুকনো ঢোক গিলে। আদ্রর পরিচয়ে পরিচিত হতে ওর লজ্জা লাগছে। ইচ্ছেও হচ্ছে না ওর নামটা মুখে আনতে। ছোট করে বলল,
“ হ্যাঁ, মিথি। ”
ডক্টর ফাজরিন হেসে বলল,
“ কেমন আছো এখন? সুস্থ আছো রাইট? আদ্র পরে আর ঝামেলা করেছে হুহ? ”
মিথি ছোটশ্বাস ফেলে জানাল,
” আগের থেকে ভালো আছি। ”
ডক্টর ফাজরিন ঘড়ির দিকে চাইল। অতঃপর হেসে কিছুটা তাড়া দেখিয়ে বলল,
“ আচ্ছা,ভালো থেকো হুহ? আমাকে ও.টি রুমে যেতে হবে একটু। খেয়াল রেখেো নিজের হু? এই সময়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। আদ্রকেও বলে দিও আরো সচেতন হতে। ”
সচেতন? আদ্র সচেতন হবে? হাস্যকর!মিথি তাচ্ছিল্য নিয়ে হাসল। ততক্ষনে ডক্টর ফাজরিন চলে গিয়েছে নিজ ব্যস্ততায়। অতঃপর মিথি নিজের মতো নিজের কর্মব্যস্ততা শেষ করল সেদিনকার মতো। কাজ শেষে রাত আটটা কি নয়টার দিকে হিয়া এল। নিচে দাঁড়িয়ে থাকল। সাথে অবশ্য দীপ্রও আছে।দীপ্রকে হিয়া এনেছে এই কারণেই কারণ মিথি দীপ্রকে সরাসরি ধন্যবাদ দিতে চেয়েছিল। দীপ্র সম্পর্কে হিয়ার দূর সম্পর্কের খালাতো ভাই এবং বন্ধু। কোচিং এই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা আরো ভালো হয়েছে। মিথির সাথে পরিচয়টা আজ হলেও বেশ মিশুক ও।আর এই অল্প সময়েই দীপ্রর সাথে মিথির ভালো সখ্যতাও গড়ে উঠল। এই যে জবটার জন্যও মিথি নিজেই ওকে ধন্যবাদ জানাল সম্মুখে দাঁড়িয়ে। অতঃপর তিনজনই একসাথে হেঁটে বাসায় ফিরতে নিল। হিয়া দীপ্রর দিকে চেয়ে দ্রুত শুধাল,
“ তোকে আমাদের সাথে যেতে হবে না দীপ্র। চলে যা। শুধু শুধু হেঁটে কষ্ট করবি কেন? ”
দীপ্র তাকাল। পকেটে দুই হাত গুঁজে উত্তর দিল,
“ হাঁটলে ওজন কমবে আমার। সমস্যা নেই। চল তোরা আগে আগে। ”
দীপ্র অল্প স্বাস্থ্যবান। ছোটবেলা থেকেই বাবা মায়ের এক মাত্র ছেলে হওয়াতে ও গোলুমুলু ছিল আদরে যত্নে। অথচ এই স্বাস্থ্যবান খ্যাতিটা দীপ্রর ভালো লাগে না। হাই স্কুলে উঠার পর থেকেই ভালো লাগে না। ছোটবেলায় হয়তো রাগ করত, জেদ করত কিন্তু এখন এটা চাপা দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়েছে।অতঃপর এখন লম্বায়ও দীপ্র বেশ লম্বা হওয়াতে খুব একটা স্বাস্থবান মনে হয় না দীপ্রকে।প্রায় ছয় ফুট লম্বা ছেলেটার ভারিক্কি দেহ নিয়ে এখনো মজা চলে। এখনো কোচিং এর অনেকেই দীপ্রকে মাঝেমাঝে মোটা সম্বোধন করেই কথা বলে। দীপ্র হেসে উড়ালেও হিয়ার মানতে বিরক্ত লাগে। এইজন্য সে বেশ কয়েকবার বেশ কয়েকজনের সাথে কথা কাঁটাকাঁটিও করেছে। দুয়েকজনের সাথে ঝগড়াটা একটু গভীররকমেই হয়েছে। আর মূলত তারপরই দীপ্র ওকে বুঝাতে এসেছিল যে এসব নিয়ে ঝগড়া না করতে। মানুষের চিন্তাভাবনাকে তো ও বদলাতে পারবে না। দীপ্র সত্যিই বুদ্ধিমান, চমৎকার একটা ছেলে। যাকে মাঝেমাঝে হিয়ার মনে হয় বেশ বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন। আবার মাঝে মাঝে মনে হয় বাচ্চা একটা। হিয়া তাকাল দীপ্রর দিকে। দীপ্রর ফর্সা আলুথালু গালে দাঁড়ির ছায়া জম্মাচ্ছে। একদম বাচ্চাদের মতো লাগে এই ছেলের মুখটা। হিয়া হেসেই বলল,
“ তুই ওজন কমালে তোর গালটা এমন দেখাবে পরে? হাঁটতে হবে না বাপ, তুই রিক্সা নিয়ে বাসায় চলে যা। আমরাও রিক্সা নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছি। মিথির এমনিতেও কষ্ট হবে হেঁটে যেতে। এমনিতেও এইটুকু হেঁটে তোর খুব বেশি ওজন কমবে না। ”
দীপ্র ভ্রু কুঁচকায়। বলল,
“ তোর কি মনে হচ্ছে যে আমি ওজন কমাতে পারব না হিয়া? আমি অলরেডি এই মাসে আট কেজি ওজন কমিয়েছি। ”
“ পারবি। কিন্তু আমি চাইছি না তুই এখন পড়ালেখা বাদ দিয়ে এসবে মনোযোগ দে। ওজন কমানো কোন কঠিন বিষয় না। পরেও পারবি। ”
দীপ্র হিয়ার থেকে লম্বা। বেশ লম্বা। ঘাড় নামিয়ে শুধাল,
“ আর যদি আমি এভাবে থেকে যাই? ”
হিয়া চমৎকার ভাবে শুধাল,
“ তবুও তুই আমাদের দীপ্রই থাকবি দীপ্র। আমি তোকে ওজন কমানো বাধ্যতামূলক একবারও বলিনি।তুই যেমন তেমনই সুন্দর আছিস। তুই-ই পাগলের মতো পড়ালেখা বাদ দিয়ে সকাল -সন্ধ্যা- রাত জিমে গিয়ে পড়ে আছিস। ”
“ আমি তো আর দেশে থাকব না, পড়ালেখা করে আর কি করব? আইলস করে বাইরে ট্রাই করার ইচ্ছা আছে।কিন্তু তার আগে ওজন কমিয়ে সুন্দর হয়ে যেতে হবে বুঝলি? ”
হিয়া কপাল কুঁচকায়। শুধাল,
“ এমনিতে কি বান্দর দেখায় তোকে? সত্যি করে বল, কোন মেয়ের জন্য ওজন কমাতে উঠে পড়ে লেগেছিস ভাই? রিজেক্ট করেছে নাকি? ”
দীপ্র বলল,
“ রিজেক্টেড যাতে না হতে হয় তার জন্য নিজেকর পরিবর্তন করছি। কারণ আমি সত্যিই তাকে চাই। ”
হিয়া হাসল। যেন দীপ্র মজার কোন কথা বলল। শুধাল,
“ একেই বলে বুদ্ধিহীন পুরুষ! আরেহ গরু, যে মেয়ের জন্য তুই এত ভাবছিস টাইম নষ্ট করছিস, পরিবর্তন করছিস নিজেন সে মেয়ে তোকে নিয়ে এতোটা ভাববে কি গ্যারান্টি আছে? আজকালকার রিলেশনের ভ্যালু আছে? বেশিরভাগই টাইম পাস আর স্বার্থের জন্য হয়। তুই বাচ্চা বাচ্চা মানুষ, তোকে তো সহজ সরল পেয়ে আরো ঠকাবে। কোন গ্যারান্টি নেই এসবের। ”
“ নেই? ”
“ একদমই না। এর চাইতে খালা দেখেশুনে তোকে হাজার গুণ সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করাবে দেখে নিস ভাই। অপেক্ষা কর কেবল। ”
দীপ্র শুধাল,
“ করছি তো। তোর কি মনে হচ্ছে আমি ডেস্পারেট এসবে? ”
হিয়া সুন্দরভাবে উত্তর করল,
“ না, তোকে আমার ভদ্র মনে হয়েছে বলেই বন্ধুত্ব করেছি। এসব প্রেম ভালোবাসায় ডেস্পারেট জানলে বন্ধুত্ব করতাম না আমি। ”
মিথি চুপচাপ ওদের কথা শুনছে। বলার মতো ওর কিছু নেইও৷ তাছাড়া এতোটা সময় এখানে থাকার পর ক্লান্তিতে ওর চোখ নিভু নিভু যেন। শরীর ভেঙ্গে আসছে কেমন। পেটে ক্ষিধেও লেগেছে । আজকাল কিছুক্ষন পরপরই ক্ষিধে পায় ওর। বোধহয় প্রেগন্যান্সির কারণে। মিথি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতেই একটা রিক্সা দেখা গেল। দীপ্রই ডাকল। অতঃপর শুধাল,
“ হিয়া, মিথি ? ”
হিয়া বলল,
“ কি? ”
“ উঠে যা তোরা। রিক্সা নাও পেতে পারিস। মিথি? উঠে যা সাবধানে। ”
এই যে এই অল্প সময়েও মিথিকে তুই সম্বোধন এবং নাম ধরে এভাবে বলা সত্যিই আপন আপন লাগল। মিথি আর হিয়া মাথা নাড়িয়ে উঠে গেল।
শীতকালের সকালে হুট করেই ঝরঝরে বৃষ্টির ছোঁয়া। আজ সকাল থেকেই বেশ ঠান্ডা পড়েছে। এতোটা ঠান্ডা যে হাত পা জমে আসছে। অথচ মিথির আজ চাকরির তৃতীয় দিন। প্রথম,দ্বিতীয় দিন হিয়াই দিয়ে এসেছে, হিয়াই এনেছে। আজ অবশ্য হিয়া নেই। মিথি একা যাবে বলেই বের হয়েছিল। অথচ নেমে বাইরে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি দেখে কপাল কুঁচকাল ও। কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি ইতোমধ্যে গায়েও পড়েছে। অথচ মিথি ছাতা আনে নি। বলতে গেলে এই মুহুর্তে ওর নিজের ছাতা নেইও। কিনতে হবে। তাই আর উপরেও গেল না। ওভাবেই রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে থাকল৷ অতঃপর কিয়ৎক্ষন পর পাশের বিল্ডিং থেকে হিমেল এবং ওর ভাই এর মেয়ে সিমরানকে বের হতে দেখা গেল। হিমেল সিমরানকে ছাতা মেলে দিচ্ছে। অপর হাতে নিজের ছাতাটাও মেলে নিয়ে দোকানে গেল। কিছু একটা কিনে সিমরান যখন আবার ফিরে আসতে নিল তখনই মিথির সাথে চোখাচোখি হলো। সিমরান ওকে দেখেই খুশি হয়ে এগিয়ে এল। মিথিও হেসে শুধাল,
“ সিমরান, তুমি? ভালো আছো? ”
সিমরানও সঙ্গে সঙ্গেই শুধাল,
“ তুমি এখানে? ভালো আছো? ”
“ হ্যাঁ। তুমি? ”
“ আমিও। শীত করছে না তোমার? বৃষ্টি পড়ছে তো। ”
মিথি হেসে জবাব দিল,
“ হু। থেমে যাবে হয়তো। তুমি একা যেতে পারবে বাসায়? ”
মিথি ভেবেছিল হিমেল সিমরানকে একাই পাঠিয়ে দিয়েছে। অথচ সিমরান জবাব দিল,
“ চাচ্চু আছে সাথে। ”
এইটুকু বলেই আঙ্গুল উঁচিয়ে একচু পেছনে হিমেলকে দেখাল। মিথি তাকাল। ঠিক তখনই আবার চোখাচোখি হলো হিমেলের সাথেও৷ হিমেল ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ কি? ওভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? ”
মিথি অপ্রস্তুত হলো যেন। ও তাকিয়ে থাকে নি। শুধু তাকিয়েছে মাত্র।তবুও বলল,
“ না, এমনিই।”
হিমেলের ভ্রুজোড়া কুঁচকানো। কয়েক সেকেন্ড মিথির দিকে খেয়াল করে আরো কুঁচকে এল ভ্রু জোড়া। অতঃপর মেলে রাখা ছাতাটা সিমরানের দিকে বাড়িয়ে বলল,
“ সিমরু, এটা তাকে দাও। ”
সিমরান কথামতো নিল। মিথির দিকে এগিয়ে বলল,
“ তোমার জন্য। নাও। ”
মিথির চোখ ছোট হয়ে এল। উত্তর কি দেওয়া উচিত? উশখুশ করে বলে,
“ কিন্তু আমার তো দরকার হবে না সিমরান। এক্ষুনিই চলে যাব। তুমি রেখে দাও। ”
হিমেলের মুখ গম্ভীর দেখাল এবারে বেশ। মিথির দিকে চেয়ে কাটকাট গলায় বলে উঠল ও,
“ মিথি, টেইক ইট।”
“ হু?”
আবারও গম্ভীর গলায় উত্তর এল,
“ ওটা নিতে বললাম।”
মিথি নাকোচ করে জানাল,
“ লাগবে না হিমেল ভাই। ”
“ লাগবে কি লাগবে না তা আমি তোকে জিজ্ঞেস করিনি মিথি। ”
মিথি নমনীয় গলায় জানাল,
“ আমার সত্যিই লাগবে না হিমেল ভাই। আমাকে যেতে হবে এক জায়গায়। বৃষ্টি অতো বেশিও না। সমস্যা হবে না আমার। ”
“ তো? ”
“ এইটুকু বৃষ্টিতে ছাতা না নিলেও হবে হিমেল ভাই। ”
“ যদি বৃষ্টি নামে তখন এই ঠান্ডার মধ্যে ভিজতে নিশ্চয় ভালো লাগবে তোর? ”
মিথি এবারে চোখ ছোট ছোট করে নিল। কিছুটা সময় চুপ থেকে হাত বাড়িয়ে নিল ছাতাটা ও। হিমেল তাকাল। বলল,
“ আমার তো সন্দেহ হচ্ছে তুই চোখে দেখতে পাস কিনা মিথি। ”
“ পাই হিমেল ভাই। ”
“ ঝড়বৃষ্টির অনুভূতি বুঝিস? ”
“ বুঝি। ”
হিমেল এবারে চুপ থাকল। সিমরানের হাত ধরে যেতে যেতে শুধাল,
“ আই থিংক সিমরান তোর থেকে ভালো বুঝে কখন কি করা উচিত হবে মিথি। ”
.
রিধির মাথা ব্যাথা করছে। চোখ খিচে অনেকটা সময় ও মুহিবের বুঝানো ম্যাথটক বুঝার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইচ্ছে হচ্ছে না। তাই কিছুটা সময় পর পাশের মেয়েটার সাথে সবে মুখ খুলেছে ঐ মুহুর্তেই মুহিব তাকাল ওর দিকে।মার্কার দিয়ে ইশারা দিয়ে বলল,
“ লাস্ট টেবিল! রিধি। কথা বলছো কেন এভাবে? বুঝাতে কষ্ট হচ্ছে না আমার? ”
রিধি দাঁড়াল। বোকা বোকা স্বরে বলল,
“ আমি তো মাত্রই বললাম মুহিব ভাই। ”
“ মাত্র নাকি অনেকক্ষন তা তে ম্যাটার না। এতক্ষন যা বুঝিয়েছি বুঝেছো কিছু? পরীক্ষায় গোল্লা পাও তো এই কারণেই। ”
রিধির নাক ফুলে উঠল। রাগে ও কথাই বলল না আর। মুহিব আবারও বলল,
“ এখানে এসে এটা আবার রিপিট করে বুঝাবে। বুঝাতে পারলে শাস্তি নেই। বুঝাতে না পারলে বাইরে গিয়ে কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে। ”
“ হু?”
“ কানে শোন নি? ”
রিধির রাগে দুঃখে চোখ টলমল করে। ও আর দাঁড়ালই না। ব্যাগ গুঁছিয়ে কাঁধে নিয়ে বাইরে যেতে নিল। যাওয়ার সময়ও মুহিব আবারও বলল,
“ কানে ধরে দাঁড়াবে বাইরে। চলে যেতে বলিনি আমি। ”
রিধি ফোঁস করে তাকাল। রাগে হাঁসফাঁস করে ও তাকিয়ে বাইরে গেল। কান ধরে দাঁড়িয়ে ও সবার প্রথমে মুহিবের গোষ্ঠি উদ্ধার করল।
ফিজা সে রাত আটটা থেকেই মায়ের সাথে কথা বলছে। জরুরী আলাপ।কথার এতোটা সময়ে এসেও ওর মা ওকে কেবল এটাই বুঝাল যে,
“ ফিজা? মেয়ে হয়েছো যখন তোমায় বিয়ে দিতে হবে না? নাকি সারাজীবন তোমায় আমরা রেখে দিতে পারব? ”
ফিজা উত্তর করল,
“ আমি পড়ালেখাটা শেষ করেই বিয়ে করব আম্মু। এখন না। ”
“ ভালো সম্বন্ধ হলে বিয়ে দিব না? তোমার আব্বুর ও শরীর খারাপ দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিয়ের পরও তো মানুষ পড়ালেখা করে ফিজা। তুমি জানো না তোমার আব্বুর অলরেডি ওপেন হার্ট সার্জারী করানো। মানুষটার অসুস্থতা সম্পর্কে জানো না নাকি?”
“জানি৷ কিন্তু আমি পড়ালেখা শেষ করি প্লিজ আম্মু। তারপর ভাবি?”
“তোমার কথা যদি আমরা সব রাখতে পারি তুমি কেন রাখবে না? তোমার আব্বুর দিকও ভাবা উচিত তোমার। ”
“ আব্বুর শরীর খারাপ, জানি তো আমি আম্মু। কিন্তু বিয়েটাই সমাধান? ”
ওপাশ থেকে জানানো হলো,
“ তোমার আব্বুর বন্ধুর ছেলে। নিজ থেকে প্রস্তাব দিয়েছে। না করি কিভাবে? তোমার আব্বুর ও তো একটা মুখ আছে তাই না? ”
ফিজা অনেকটা সময়ে এভাবে কথা বলেই কল রাখল। মেজাজ খারাপ লাগছে ওর। মায়ের সাথে কথা কাঁটাকাটি হয়েছে কিছুটা। না চাইতেও হয়েছে। এদিকে ওপাশ থেকে আয়মানও বেশ কয়েকবার কল দিল। ফিজা মেজাজ খারাপ নিয়েই কল তুলল। ওপাশ থেকে আয়মান বলল,
“ এত সময় ব্যস্ত? কার সাথে কথা বলছিলে ফিজা যে ফোন তোলার সময় নেই?”
ফিজা শুধাল,
“ তুমিও এতবার কল দিচ্ছিলে কেন? কথা বলছি তো আমি কারোর সাথে। ”
ফিজার গলা শুনে আয়মান থেমে গেল। ছোটশ্বাস ফেলে শুধাল,
বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৬
“ কেউ কিছু বলেছে ? ”
“ না। ”
আয়মান শান্তস্বরে জানাল,
“ তাহলে? কথার টোন এমন কেন?”
ফিজা ছোটশ্বাস ফেলল। বলল,
“ কিছু বলবে আয়মান? না বললে ফোন রাখো। আম্মু কল দিচ্ছে। ”
“ কিছু হয়েছে? তুমি টেনশন করছো কিছু নিয়ে? ”
ফিজা বলল,
“ তেমন নয়। তোমার তো পরীক্ষা দুয়েকদিন পর? পড়ো আয়মান। আমি পরে কথা বলব তোমার সাথে। ”
