Home বিষাদ ও বসন্ত বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২২

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২২

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২২
অলকানন্দা ঐন্দ্রি

আজ শুক্রবার। মিথি আজ কাজে যায় নি। হিয়াও বাড়ি গিয়েছে। রিধিটা সেই সকাল থেকে হাওয়া। ফিজা কিছুটা সময় আগে ফিরেছে বাসায়। মিথির মাথা ধরেছে সকাল থেকেই। শরীর অসুস্থ লাগে ইদানিং। প্র্যাগনেন্সির প্রথম দিকে ওকে কম সমস্যায় পড়তে হলেও এখন দিনকে দিন বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে যেন। মিথির ক্ষিধেও পেয়েছে। এখন বিকাল ।দুপুরের খাওয়া হয়নি ওর। রান্না তেমন কিছুই করা হয়নি। সবাই সকালে নাস্তা সেরেই যে যেভাবে বেরিয়ে গিয়েছিল।ফিজার ও ক্ষিধে পেয়েছিল। অথচ রান্নাঘরে গিয়ে হতাশ হয়ে শুধাল,

“ কিছু খাসনি? রান্না তো হয়নি আজ মিথি। ”
মিথি উঠল। বলল,
“ হ্যাঁ। অলস হয়ে গিয়েছি ফিজা আপু। এইজন্যু ক্ষিধে নিয়েও আর রান্না করতে ইচ্ছে হলো না। তোমার নিশ্চয় অনেক ক্ষিধে পেয়েছে? ”
“ একটু। চাল ধুয়ে নিই কি বলিস? ”
মিথি মাথা নাড়াল। বলল,
“ আমি তরকারি কেঁটে নিচ্ছি তাহলে। ”
অতঃপর দুইজনেই কাজে লাগল। ফিজা পাতিলে চাল বসাল চুলা জ্বালিয়ে। অতঃপর মিথিকে বলল,
“ আজ তো শুক্রবার। ছাদে তো অনেক কাপড় শুকোতে দিয়েছিলাম সবাই। সন্ধ্যা হয়ে আসছে সম্ভবত। ”
মিথি জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। অন্ধকার হয়ে আসবে একটু পর। রিধি, মিথি, ফিজা সবাই-ই আজ অনেক কাপড় শুকাতে দিয়েছে। অথচ আনা হয় নি। অতঃপর ফিজা নিজেই ধীর পায়ে ছাদে গেল শুকাতে দেওয়া কাপড় আনতে।বলে গেল খুব তাড়াতাড়িই ফিরবে কাপড় নিয়ে।মিথি যেন দুই কাপ চাও করে ততক্ষনে। অথচ মিথি তরকারি কাঁটা শেষ করল। ওগুলা ধুয়ে রাখল। ভাত চামচ দিয়ে নাড়িয়ে হয়ে এসেছে কিনা তাও চ্যাক করল। চাও বানাল।কিন্তু ফিজার আসার নাম নেই। মিথি ক্লান্ত হয়ে তাকিয়ে থাকে। ভাত হয়ে আসতে ভাতের মাড়ও ফেলে। অতঃপর ফিজা আসছে কেন তা দেখতে পা বাড়াল ছাদের উদ্দেশ্যে। ক্লান্ত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই দেখা হলো সে ভদ্রমহিলাটার সাথে যার সাথে কথা হয়েছিল। মিথি প্রথমেই একটা হাসি উপহার দিলেও ভদ্রমহিলা বোধহয় সন্তুষ্ট হলেন না। তাকিয়ে বললেন,

“ কি অবস্থা? ভালো আছো তো? ”
মিথি হেসে উত্তর করল,
“ এইতো আন্টি, আপনি? ”
ভদ্রমহিলা ভ্রু বাঁকিয়ে শুধালেন,
“ ভালো আছি। তো তুমি যাও নাই আজ? কোথায় জানি যাও না প্রতিদিন? ”
“ হসপিটালে যাই আন্টি। ”
এতটুকু পর্যন্ত ভদ্রমহিলা সাধারণ কথাবার্তা চালালেও এবার নিজের তীব্র কৌতুহল দমাতর না পেরে জিজ্ঞেস করল,
“ তো শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা খোঁজখবর নেয় না তোমার? ”
মিথি প্রথমে বোধহয় বুঝে উঠল না। মাথা তুলে শুধাল,
“ জ্বী? ”
ভদ্রমহিলা এবারও বাঁকা স্বরে জানালেন,

“ স্বামী, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি খোঁজ নেয় না? কখনো তো দেখলাম না এসে খবর নিতে।তার উপর কিছু হবে, খোঁজ নেওয়া তো উচিত ছিল। নাকি সম্পর্ক নেই শ্বশুড়বাড়ির সাথে? ”
মিথি ছোটশ্বাস ফেলল। ঐ একই ঘটনা এখানেও যে বলাবলি হবে বা বা তাকে শুনতে হবে এমনটা তার মনে আগে থেকেই ছিল। আমাদের সমাজই এমন। কারো দুঃখ লাঘব করতে পারুক বা না পারুক দুঃখ নিয়ে মানুষের সীমাহীন আগ্রহ, কৌতুহল। মিথি হাসল। একটা মিথ্যা বলে ফেলল,
“ নেয় খোঁজখবর। ”
ভদ্রমহিলা বিশ্বাস করলেন না। উল্টো মুখ ভার করে জানালেন,
“ মিথ্যে বলতেছো জানি। আমরা এসব এমনেই বুঝে যাই বুঝছো। তোমার যে তোমার শ্বশুড়বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না আমি তা নিশ্চিত। ”
মিথি এবার হেসে ফেলল। বলল,
“ ওহ। ”
মহিলার আগ্রহ বোধহয় দমল না। আবারও খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ তো সমস্যা কি হইছিল? ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে নাকি স্বামীর সাথে? ”
“ না। ”
“ তো এই অবস্থায় শ্বশুড়বাড়ি থেকে চইলা আসছো কেন? ভালো না শ্বশুড়বাড়ির লোক? বাচ্চাকাচ্চা হইলে এমনেই ভালো হইয়া যাইব দেখিও। অবশ্য তুমি আজকালকার মাইয়া মানুষ। আজকালকান মেয়েদের আবার ধৈর্য্য কম। স্বামীর দুই-চার কথাও সইতে পারে না অথচ মুখে মুখে তর্ক ঠিকই করতে পারে। ”
মিথি তপ্তশ্বাস ফেলল। শুধাল,

“ বোধহয়। ”
“ অথচ আমাদের সময়? আমাদের সময় স্বামী যদি বউকে মেরে নদীতে ফেলেও দিত কেউ টু শব্দ করত না। ”
খুব ভালো কথা। মেরে ফেলা অব্দি কি মিথির অপেক্ষা করা উচিত ছিল? অবশ্য মিথি অপেক্ষা করত ও। প্রশ্নটা যদি শুধু ওর নিজের জীবন নিয়ে হতো মিথি আজীবন পড়ে থাকত।কিন্তু প্রশ্নটা যখন তার সন্তানের জীবন নিয়েও তখন কি অপেক্ষা করা উচিত ছিল?কি হতো অপেক্ষা করে? তার সন্তানকে পেত ও? নাকি সুখ পেত? নাকি আদ্র কোনসময় ভালো হতো? মিথি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। উত্তর করল,
“ আমার একটু কাজ আছে উপরে আন্টি, যাই? ”
“ যাও যাও। কি করবা আর? স্বামীর ঘর ছাইড়া আসছো এখন এভাবে কষ্ট করেই তো কাঁটাতে হবে জীবনটা। আজকালকার মেয়েরা স্বাধীনতা চায়।স্বাধীনতা চাইতে চাইতে স্বামীর ঘর ছাইড়া চলে আসে। অথচ আসার পর ওরা কি স্বাধীনতা পায় উপরওয়ালাই জানে৷ ”
মিথি আর একটুও দাঁড়াল না। উত্তর করল না বিনিময়ে। ছোট ছোট পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে গেল। ছাদের একপাশেই ফিজা দাঁড়িয়ে আছে। বিপরীত পাশের ছাদটায় আয়মান দাঁড়িয়ে আছে। তার একটু পাশেই হিমেল টাউজারের পকেটে হাত গুঁজে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ফিজাকে কিছু বলছে।সম্ভবত আয়মান আর ফিজার ঝগড়া চলছে। এবং দুইজনের ঝগড়ায় হিমেল এদের বিচারক সেঁজেছে। মিথি তাকাল একবার ফিজার দিকে। হাতে কাপড় নেই। এতোটা সময় বোধহয় আয়মান আর হিমেলের সাথেই কথা বলেছে। মিথি ছোট নিঃশ্বাস ফেলে দড়িতে থাকা কাপড় গুলো নিতে লাগল। ফিজা এসে তখনই শুধাল,

“ তুই আসতে গেলি কেন মিথি? আমি আনতাম তো। এতটুকু সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার কোন দরকার ছিল? ”
হিমেল তাকাল সরু চোখে মিথির দিকে। এই মেয়েটার দৈনন্দিন জীবনের রুটিন মোটামুটি হিমেলের মুখস্থ হয়ে গেছে। সকাল কয়টায় বাসা থেকে যাচ্ছে, কয়টায় বাসায় ফিরছে, কয়টা রিক্সা পাচ্ছে সবই অবলোকন করা অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো বা রাত অব্দি কাজে থেকে এই মেয়ে আবার এসব কাজ করতে ইচ্ছে হয়? এই অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠারই বা কি দরকার এই মেয়ের? হিমেলের বোধহয় চাপা রাগ জম্মাল। অথচ মিথির প্রতি ওর অধিকার নেই। আজ যদি হিমেলের অধিকার থাকত তাহলে হয়তো মিথির জীবনটা ও অন্যরকম করত। অন্যরকম করে গড়তে দিত। কথা না শুনলে গালে থাপ্পড় বসিয়ে হলেও মিথিকে শাসাত। হিমেল চাপা শ্বাস ফেলে। মিথি জানাল,

“ অনেকটা সময় হলো তুমি আসছিলে না। আসছিলে না দেখে এলাম আপু।”
ফিজাও কাপড় তুলতে তুলতে বলল,
“ আমিও তুলি কাপড়। তুই দাঁড়া।”
“তুমি কথা বলে নাও, আমি পারব আপু। ”
হিমেলের চাপা রাগটা এবারে প্রকাশ পেল। অন্যদিকে ফিরে বিড়বিড় করে শুধাল,
“ সব পারবে। কারোর সাহায্য নিলেই সমস্যা। ”
আয়মান স্পষ্টই শুনল। মিথিও যে শুনে নি এমন নয়। আয়মানই হিমেলের দিকে চেয়ে বলে উঠল,
“ এমন করস কেন ওরে? মিথি, ফিজা তো তোমার সুবিধার জন্য বলছে। দাঁড়াও। ফিজা নিতে পারবে তো। ”
শেষের কথাগুলো আয়মান মিথিকেই বলল। মিথি হাসল। জানাল,
“ হু। আমিও কিছু নিচ্ছি, আপু কথা শেষ করে কিছু নিত এই আরকি। আমি তো বলিনি আপুর সাহায্য নিব না। ”
আয়মান মাথা নাড়াল। হিমেলের দিকে ঘুরে বলল,

“ ও কি বলছে সাহায্য নিবে না? তুই ওকে শুধু শুধুই কথা শুনালি না? ”
হিমেল ভ্রু উঁচু করল। বলল,
“ তোরে ওর হয়ে কথা বলতে বলছি? ওকে চিনি না আমি? ”
“ তুই তো আরো অনেকেরেও চিনিস। কারো প্রতি এমন রাগ ক্ষোভ তো প্রকাশ করিস না। বেচারী মিথি কি করেছে? ”
“ ওর প্রতি রাগ ক্ষোভ প্রকাশ করেছি তোকে কে বলেছে? ”
“ তো কি প্রকাশ করছিস এসব? ”
হিমেল রেগে তাকাল। একেই নিজের ঝামেলা হিমেল মেটাতে এসেছে এটাই তো অনেক। এখন ওর বিপরীতেই কথা বলছে। আয়মান ফিরে গেল। মিথির দিকে চেয়ে বলল,
“ তো মিথি? পড়ালেখা কেমন চলছে তোমার? এইসপ্তাহে তো হয়তো ভর্তিপরীক্ষা আছে তাই না? ”
“ হ্যাঁ ভাইয়া। ”
“ প্রিপারেশন কেমন নিচ্ছো? ”
“ পড়ালেখা তো খুব একটা হয়ে উঠছে না।বলতে গেলে অন্যদের থেকে আমি অনেক পিছিয়েই আছি। তবুও দেখা যাক ভাগ্যে কি লেখা থাকে। ”
হিমেল এই পর্যায়ে আবারও গম্ভীর স্বরে বলল,

“ পড়ালেখা না করে সারাদিন কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকলে ভাগ্যের অযুহাতই দিতে হয়। ”
মিথি তাকাল। বলল,
“ পড়ালেখা জীবনের আহামরি কিছু হিমেল ভাই? জীবনে ভাগ্য ভালো হলে সব ভালো হয়। ভাগ্য খারাপ হলে সবই খারাপ। ”
“ ভালো কথা। তো ভাগ্যের উপর ডিফেন্ডেন্ট হয়ে কি পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছেন মিথি? সারাদিন দেখি শুধু একাজ ওকাজে ব্যস্ত থাকেন। এইচ.এস.সি পাশ করেই কি পড়ালেখার শখ মিটে গেছে হু? ”
হিমেলের খোঁচা দেওয়া কথা শুনে মিথি তাকিয়ে থাকল। তাচ্ছিল্য নিয়ে হেসে জানাল,
“ যেখানে জীবন বাঁচারই শখ নেই আর সেখানে পড়ালেখার শখ আর কতোটা থাকবে বলুন? আর হ্যাঁ, আপনাদের মতো ঝকঝকে চকচকে জীবন হলে আমিও খুব করে জীবনের সবগুলো শখ মিটিয়ে নিতাম।পড়ালেখা করতাম। এখন আর ইচ্ছে আসে না৷ শখও হয় না জীবন নিয়ে। ”
হিমেল চুপচাপ শুনল। মনে মনে আওড়াল,
“ সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি কাজ করার ইচ্ছা আসে, কাপড় ধুঁয়ে সিঁড়ি বেয়ে শুকাতে দিতে পারছিস আবার কাপড় আনতে ছাদে আসতে পারছিস, অথচ পড়ালেখার ইচ্ছে আসে না! ”
মনে মনে এসব বলেও মুখে বলল গম্ভীর স্বরে,

“ মিথি, জীবন কারোর জন্য থেমে থাকে না। তবে তুই যেটুকুতে থামাতে চাস জীবন তো ঐটুকু অব্দিই পৌঁছাবে তাই না? নিজের থেকেও ইচ্ছা রাখতে হয়। জীবনে ঝকঝকে, চকচকে না হলে কি জীবন শেষ হয়ে যায়? লাইফে কোন একটা আঘাত ফেলেই থেমে যেতে হয় না। আঘাত মোকাবিলা করে আরো অনেক দূর ছুটে যেতে হয়।”
মিথি তাকিয়ে থাকল। হিমেল ততক্ষনে পা বাড়িয়েছে। পিছু পিছু আয়মান ও গেল। যেতে যেতে হিমেলকে শুধাল,
“ এতগুলো কথা শুনানোর কি দরকার ছিল? ও এমনিতেই একটা বড়সড় আঘাত পেয়েছে জীবনে। ঐ আঘাতটা কাঁটিয়ে উঠতেই তো সময় লাগছে। তার মধ্যে এগুলো বলা উচিত হলো? ”
হিমেল শুধু গম্ভীর আওয়াজে জানাল,
“ উচিত হলো। কারণ ও নিজের ভালো কখনোই বুঝতে পারে না। সবসময় ভুল কিছকেই চ্যুজ করে বসে। ”

ডক্টর ফাজরিন আদ্রর সমবয়সী এক বান্ধবী। ওদেরই এক বন্ধুর আজ বিয়ে। খুব বড়সড় এই বিয়ের অনুষ্ঠানে আদ্র আর ফাজরিন দুইজনই ইনভাইটেশন পেয়েছিল। এবং দুইজনই উপস্থিত হলো। অতঃপর ওদের সমবয়সী অনেক বন্ধুকেই ওখানে দেখে একে অপরের সাথে কথা বলল, গল্প করল, আড্ডা হলো। ফাজরিন আড্ডার শেষে এক পর্যায়ে আদ্রকে বলল,
“ তোর সেদিনের কান্ডটা কিন্তু আমার এখনও মনে আছে আদ্র। কি বিচ্চিরি কান্ডকারখানা করেছিস। অথচ মেয়েটা কতোটা ভালো। ”
“ কে?”
ফাজরিন হেসে বলল,

“ মিথি, মিথি মেয়েটা কতোটা ভালো। ”
ফের আবারও বুঝানোর ন্যায় বলল,
“ এই অবস্থায় মিথিকে কাজ করতে দিচ্ছিস কেন আদ্র?বাচ্চাটাকে এত অবহেলার সাথেই বা দেখছিস কেন? প্রত্যেক পুরুষের বাবা হওয়ার স্বপ্ন থাকে আদ্র। ”
আদ্র ছোট করে বলল,
“ হু। ”
ফাজরিন উঠে যেতে যেতে বলল,
“ মিথির খেয়াল রাখিস। মেয়েটা এত কষ্ট করে এই অবস্থায়ও। অবশ্য ওর জার্নিকে আমি রেসপ্যাক্ট করি। ”
আদ্র কপাল কুঁচকে বলল,
“ তুই মিথিকে কয়দিন চিনিস? ওর প্রতি তোর এত কনসার্ন কেন? ”
ফাজরিন আবারও বিরক্ত হলো আদ্রর কথায়।বলল,
“ এই তো বেশি কয়েকদিনই তো দেখছি আমি মেয়েটাকে। তোর মতো ছেলের কপালে এত ভালো মেয়ে জুটেছ এটাই তো ভাগ্য তাই না? অবশ্য আমার মনে হয় না তুই মেয়েটাকে গুরুত্ব দিস বলে। ”
আদ্র নিজেও উঠে দাঁড়াল। বলল,

“ আমি ওকে একদিনই নিয়ে গিয়েছি তোর কাছে। বেশ কয়েকদিন কিভাবে দেখেছিস তুই? জ্ঞান দিবি না আমায়। ”
ফাজরিন রেগে গেল বোধহয়। স্পষ্ট উত্তরে বলল,
“ ও যেখানে কাজ করে ওই হসপিটালে সপ্তাহে তিনচারদিনই আমার যেতে হয় ওকে? ওভাবেই চিনি। তুই তো বোধহয় নিজের ওয়াইফের খোঁজও নিস না। নিলে জানতি। ”
এইটুকু বলেই ফাজরিন চলে গেল। আদ্র ভ্রু কুঁচকাল। মিথি তার মানে এই শহরেই আছে? এখানে থেকেই কাজ করছে? এই জন্যই ওর এত দম্ভ এখন?

তখন রাত সাড়ে সাতটা। হিমেল রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে আয়মানের জন্য।অথচ অনেকটা সময় দাঁড়িয়েও যখন আয়মান আসল না তখন হিমেলই কল দিল। বলল,
“তোর আসতে কতোটা সময় লাগে আয়মান?”
আয়মান ওপাশ থেকে জানাল,
“ আটকে আছি আমি রাস্তায়। রাস্তায় গন্ডগোল হচ্ছে ভাই, ঐ জন্য জ্যামে আটকে পড়েছি। ”
“ কোথায় আছিস?”
“ আছি রাস্তায়, কিন্তু মারামরি হচ্ছে বোধহয় মোড়ের দিকে হসপিটালের সামনেই । আমি তার আরও আগে আটকে আছি। ”
হিমেল এক মুহুর্ত চুপ থাকল। ঘড়িতে সময় দেখল। এই সময়টা মিথির ফেরার সময়ও। এতোটা সময় দাঁড়িয়ে তো মিথিকে ফিরতে দেখা গেল না। আবার কাছাকাছি হসপিটাল বলতে মিথি যেখানে কাজ করে। দ্রুত শুধাল,

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২১

“ মিথি যেখানে কাজ করে ওখানে? ”
“ হু।ওখানেই বোধহয়। ”
হিমেল দ্রুত শুধাল এবারে,
“ কল রাখছি। তুই আয়। ”
অতঃপর দেরি করল না। দ্রুতই সামনে দিয়ে যাওয়া খালি রিক্সাটায় ডাক দিল। উঠে বসে জানাল হসপিটালের দিকটাতেই যেতে।

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২৩