Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩০

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩০

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩০
ছায়া

বিকেল তখন প্রায় পাঁচটা পুরো বাড়িটা যেন হঠাৎ করে কোনো শবযাত্রার মতো নীরব হয়ে গেছে।সকালের সেই কান্না চিৎকার এখন ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। তবে বাতাসে এখনো ভাসছে অপমান ঘৃণা আর অনিশ্চয়তার ভারী গন্ধ।
ইলার রুমের দরজা আধখোলা ভেতরে সে বসে আছে আয়নার সামনে।চোখের নিচে ফোলা ঠোঁট শুকিয়ে গেছে।বিছানার কোণে রাখা লাল শাড়িটা যেন ওর বুকের উপর পাহাড় হয়ে বসে আছে যেটা আজ বিয়ের পোশাক।যে বিয়েতে নেই কোনো হাসি নেই কোনো স্বপ্ন শুধু দোষের দায় মুছে ফেলার নাম “বিয়ে” হালিমা দরজার পাশে এসে থেমে বলল,

হালিমাঃ- ইলা নিচে সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে তোকে তৈরি হতে বলছে।
ইলাঃ- (চুপ করে আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকে)
হালিমাঃ- তুই কাঁদিস না ইলা আল্লাহ জানে তুই কিছুই করিসনি।
ইলা নিঃশব্দে বলে উঠল,
ইলাঃ- আল্লাহ জানে কিন্তু মানুষ তো বিশ্বাস করে না হালিমা।আমি সত্যি বলেছি তবুও এই সমাজ মিথ্যাকে বেশিই পছন্দ করে।
ইলা গলার স্বরটা কেঁপে উঠলো চোখের কোনা ভিজে উঠল।অন্যদিকে নিচে বসার ঘরে আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে কালো পাঞ্জাবিতে। চোখ লাল, মুখ শক্ত, হাত দুটো মুঠো করে চেপে রেখেছে রায়েদ পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
রায়েদঃ- ভাই এখনো কি পারো না শেষবারের মতো কিছু করতে। অন্তত লাস্ট চেষ্টা করতে তদন্ত মানুষ সত্যিটা জানবে।
আরিয়ান গম্ভীর গলায় উত্তর দিল,

আরিয়ানঃ- এখন কেউ শুনবে না রায়েদ আমি প্রমাণ করতে চাইলে সবাই চুপ হয়ে যায়, কিন্তু মান-সম্মানের নামের দোহাই দিয়ে সবাই চায় আমার মুখ বন্ধ করতে।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আরিয়ান আবার বলল,
আরিয়ানঃ- জানো আমি আজ বিয়ে করছি শুধু আমার বাবা কথা রাখার জন্য এখানে কোনো ভালোবাসার নেই।
রায়েদ কিছু বলতে যাচ্ছিল তখনই মেহেরাব খান এসে বললেন,
মেহেরাবঃ- সময় শেষ সবকিছু প্রস্তুত আরিয়ান আমি চাই আজ কোনো ঝামেলা না হোক।
আরিয়ান মাথা নিচু করল কিন্তু তার চোখে তীব্র জেদ এই জেদ যেন প্রতিজ্ঞা করছে আমি একদিন সত্যটা প্রমাণ করব।

সন্ধ্যা ৭ টা নীরব বিয়ের আয়োজন মেঝেতে সাদা চাদর পাতা, চারপাশে কয়েকজন আত্মীয় নিঃশব্দে বসে আছে। বাতাস ভারী, কেউ হাসছে না, কেউ ছবি তুলছে না। মাওলানা কুরআনের আয়াত পড়ছেন আর দুইপাশে বসে আছে দুটো ভাঙা মন। ইলার চোখে জল মুখ ফ্যাকাশে আর আরিয়ান মুখ নিচু করে বসে আছে দুজনের মাঝখানে কাচাফুল দিয়ে সাজানো এক প্রাচীর যেখানে ভালোবাসার বদলে কেবল অপমানের প্রতিধ্বনি।
মাওলানা: বর আরিয়ান খান শাওন আপনি কি রাজি আছেন এ বিয়েতে?
আরিয়ান চোখ তুলে একবার ইলার দিকে তাকাল হাতের মুঠি শক্ত করে কোনো মতে নিচু কণ্ঠে বলল,
আরিয়ানঃ- রাজি আছি

সবাই আলহামদুলিল্লাহ পড়লো ইলার বুকটা কেপে উঠলো মাওলানা ইলার পাশে এসে বসলো।
মাওলানাঃ- কনে ইলা তালুকদার আপনি কি রাজি আছেন?
ইলা কিছু বলছে না চুপ করে বসে আছে ১ মিনিট…২ মিনিট…. ৩ মিনিট হঠাৎ ইলা উঠে দারালো।
ইলাঃ- আমি একটু ওয়াশরুমে যাবো।
ইলা উঠে চলে গেলো ওয়াশরুম এ ৫ মিনিটের বেশি হচ্ছে ইলা এখনো আসছে না। ১০ মিনিট হয়ে গেলো তবুও আসছে না সাবিহা হালিমা আর পরিকে পাঠালো ২০ মিনিটেও কেউ আসলো না দেখে বাড়ির বাকি লোকজন চলে গেলো।

ইলা পালিয়েছে এটা ভেবে আরিয়ান অনেক খুশি হলো মনে মনে ইলাকে অনেক ধন্যবাদ ও দিলো এভাবে পালানোর জন্য।আর বাকি সবাই ওয়াশরুমের দরজায় গিয়ে দরজা ধাক্কাচ্ছে। ইলা তো দরজা খুলছে না। রফিকুল তালুকদার এসে জোরে জোরে দরজা ধাক্কাচ্ছে।
ইলার কোনো সারা শব্দ নেই শেষে আরিয়ান আদিব সবাই আসলো রফিকুল তালুকদার রায়েদ কে বলল দরজা ভেঙে ফেলতে। আরিয়ান মিটি মিটি আসছে রায়েদ দরজা ভেঙে যাবে এমন সময় ইলা দরজা খুলে বের হয়ে আসে।
সাবিহা সামনে এসে আবার একটা থাপড় মারে।

সাবিহাঃ- তুই মরিস না কেন।
ইলাঃ- সেটাও তো শান্তি তে করতে দিবে না।
সাবিহা টেনে হিচরে ইলাকে নিয়ে গেলো সবাই গেলো মাওলানা আবার ইলাকে বলল।
মাওলানাঃ- ইলা তালুকদার তুমি কি রাজি আছো বলো মা কবুল।
ইলা চোখ বন্ধ করে শেষ বার এর জন্য শাওনের সাথের সব সৃতি মনে করে নিলো। ইলার কান্না করে আসছে ইলা কবুল বলছে না। সবাই বার বার কবুল বলতে বলছে কিন্তু ইলা কবুল বলছে না।
আরিয়ানঃ- বিয়ে করবে না তাহলে পালাইতে পারতো এত নাটক করার কি আছে।
পিছন থেকে একটা ঠান্ডা শীতল হাত ইলার মাথায় হাত বুলাচ্ছে ইলা মাথা তুলে দেখে রাশেদ তালুকদার দারিয়ে আছে। ইলা রাশেদ তালুকদার কে দেখে উঠে কান্নায় ভেঙে পড়লো। বাবা মেয়ে কান্না করছে রাশেদ তালুকদার কোনো কিছু বলতে পারছে না শুধু চোখের পানি ফেলছে। ইলা বাবাকে জরিয়ে ধরে অনেক জোরে জোরে কান্না করছে।

রাশেদঃ- ইলা মা আমি তো তোর কাছে কোনোদিন কিছু চাই নি আজ একটাই চাও। বিয়েটা করে নে মা আমি তোর জন্য দোয়া করবো তুই সব থেকে সুখি হবি।
ইলা তার বাবার দিকে তাকালো তারপরে চোখের পানি মুছে আবার বসলো।
ইলাঃ- রাজি…আমি এ বিয়েতে রাজি।
(শব্দটা যেন নিজের বুক ফুঁড়ে বের হলো ইলার)
মুহূর্তেই সবাই নিঃশব্দ ভাবে আলহামদুলিল্লাহ পড়লো বিয়ে সম্পন্ন হলো কিন্তু কারও মনে শান্তি নেই। একটা অদ্ভুত ভার নামলো পুরো ঘরে।

বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেছে বাড়ি ভর্তি আলো ফুলের গন্ধ আর চাপা নিস্তব্ধতা মিলেমিশে এক অদ্ভুত ভারী পরিবেশ তৈরি করেছে। ড্রইংরুমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে সবাই ক্লান্ত, কিন্তু সেই ক্লান্তির ভেতরেও একরাশ অস্বস্তি। যেন কেউ কিছু বলতে চায় কিন্তু পারে না।
ইলা আর আরিয়ানের বিয়ে শেষ হয়েছে। সবাই চলে গেছে শুধু বাড়ির ভেতর গম্ভীর নীরবতা। রায়েদ, রাফি, আদিব, সায়েম সবাই মিলে ইলার রুমে সাজাচ্ছে। ফুলে ফুলে ভরে গেছে ঘরটা লাল-সোনালি আলোয় ঝলমল করছে চারদিক। বিছানার চারপাশে ফুলের মালা ঝুলছে, সুগন্ধি ছড়িয়ে আছে বাতাসে তবুও সেই সৌন্দর্যের ভেতর একরাশ বিষণ্ণতা। হাসির বদলে সবার মুখে গম্ভীরতা রায়েদ নিঃশব্দে বললো
রায়েদঃ- সব ঠিক হয়ে গেলো কিন্তু ঠিক মনে হচ্ছে না ভাই ইলার চোখে সেই আগের মতো আলো নেই। মেয়েটা অনেক কষ্ট পাচ্ছে।

রাফি ধীরে ধীরে একটা ফুল ঠিক করতে করতে বলল,
রাফিঃ- যা হওয়ার হয়ে গেছে এখন ওদের শান্তিতে থাকতে দিতে হবে। যতই কষ্ট হোক এই মুহূর্তে ওর পাশে কেউ না থাকলে ও ভেঙে পড়বে।
আদিব চুপচাপ একটা শ্বাস ফেলল,
আদিবঃ- আরিয়ান ভাইও ভেতরে ভেতরে মরছে কিন্তু আজ ওর হাতে কিছুই নেই।
অন্যদিকে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হালিমা আর পরি ইলার পাশে বসে ছিলো। ইলা তার বাবা মার রুমে বসে আছে
মাথা নিচু করে চোখ লাল, মুখ ফ্যাকাশে, ঠোঁট কাঁপছে।
হালিমা ইলার কাঁধে হাত রাখলো

হালিমাঃ- ইলা শোন… যা হওয়ার হয়ে গেছে এখন তুই চুপ থাক শান্ত থাক ঝামেলা করে লাভ নেই। সবাই এখন তোকে দোষ দিচ্ছে কিন্তু সময়ই প্রমাণ করবে তুই দোষী না।
পরি মৃদু স্বরে যোগ করল
পরিঃ- তুই এখন নিজেকে সামলে রাখ আরিয়ান ভাই এখন তোর স্বামী চাইলেও তুই এটা পাল্টাতে পারবি না। ওকে অন্তত একটা সুযোগ দে।
ইলা কান্না থামানোর চেষ্টা করে বলল,
ইলাঃ- আমি তো কারো ক্ষতি করিনি কখনো তাহলে আজ কেন এমন হলো পরি কেন আমার ভাগ্যে এমন হলো?
হালিমা মুখ ফিরিয়ে বলল,

হালিমাঃ- সব প্রশ্নের উত্তর এখন হয়তো সময় দিতে পারবে। আপাতত তুই একটু বিশ্রাম নে।
অন্যদিকে নিচে ড্রইংরুমে বসে আছে রাশেদ তালুকদার মুখ ভেজা, চোখ লাল, বুক কাঁপছে। তিনি নিজের মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা বুঝতে পারছেন যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এই রাতটা সত্যি সব স্বপ্নের মতো লাগছে। তিনি মেহেরাব খানের দিকে তাকিয়ে ভাঙা গলায় বললেন
রাশেদঃ- ভাই আমার মেয়েটা এমন না বিশ্বাস করেন। আমি ভেবেছিলাম ওর জীবনটা সুন্দর হবে কিন্তু আজ… আজ সব শেষ আমার মেয়ে এ কেমন শাস্তি পেলো এমন এক অপরাধের শাস্তি যা ও করেনি।
মেহেরাব খান চুপচাপ বসে আছেন তার মুখেও ক্লান্তি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে অন্য এক আগুন জ্বলছে। তিনি ধীরে ধীরে বললেন

মেহেরাবঃ- রাশেদ ভাই আমি জানি… আমি জানি আমার আরিয়ান এমন কিছু করতে পারে না। আমার ছেলে যেমনই হোক ওর চোখে আমি কোনো অসভ্যতা দেখিনি কখনো।আমি বুঝি ওর ভেতরে কেমন আগুন জ্বলে। আজ যা ঘটেছে এটা কোনো সাধারণ কাজ না কেউ ইচ্ছা করে করেছে।
রাশেদ চমকে তাকালেন,
রাশেদঃ- মানে আপনি কি বলতে চাইছেন কেউ এই ভিডিওটা ইচ্ছা করে বানিয়েছে?
মেহেরাব খান মাথা নেড়ে বললেন,
মেহেরাবঃ- ঠিক তাই কেউ ইচ্ছে করে এই নোংরা খেলাটা খেলেছে আমার আরিয়ান এমন কাজ কখনোই করতে পারে না আমি তার বাবা হয়ে বলছি।
রাশেদের চোখে জল চলে এল তিনি কাঁপা গলায় বললেন
রাশেদঃ- তাহলে এখন আমরা কী করবো আমার মেয়েটাকে সবাই মেনে নেবে তো? লোকজন যা বলছে তাতে আমার মাথা নিচু হয়ে গেছে…।

মেহেরাব খান গভীর নিশ্বাস নিলেন,
মেহেরাবঃ- এখন আমাদের একটাই কাজ সত্যটা প্রমাণ করা। আরিয়ান এখন অনেক কষ্টে আছে কিন্তু ও হাল ছাড়বে না। আমি জানি আমার ছেলে এখন যা করছে সেটা আমাদের সবার সম্মান ফেরানোর জন্য।
রাত ১১ টা সব আলো নিভে গেছে শুধু ইলার ঘরের দরজার ওপাশে একটা মৃদু হলুদ আলো জ্বলছে। বাইরে দূরে কোথাও কুকুর ডাকছে আর ঘরের ভেতরে ফুলের গন্ধে ভারী হয়ে আছে বাতাস।
রায়েদ আর আদিব চুপচাপ আরিয়ানকে রুম পর্যন্ত এগিয়ে দিলো দুজনের মুখেই নিঃশব্দ ক্লান্তি রায়েদ দরজার কাছে এসে থেমে বলল
রায়েদঃ- ভাই ওর অবস্থা খুব খারাপ তুমি চুপচাপ থাকো ঝগড়া কইরো না প্লিজ।
আরিয়ান হালকা মাথা নেড়ে বলল,
আরিয়ানঃ- হুম… বুঝেছি।

দরজা বন্ধ হতেই রুমে নিস্তব্ধতা নেমে এলো ইলা বিছানায় বসে আছে,মাথায় ভারী ঘোমটা, চোখ ফোলা, মুখ শুকিয়ে গেছে কান্নায়। আরিয়ান ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করলো।দুইজনের চোখে চোখ পড়তেই এক অদ্ভুত অস্বস্তি ছড়িয়ে গেলো আরিয়ান গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
আরিয়ানঃ- আপনি কিছু বলছেন না কেনো?
ইলা ঠোঁট কামড়ে রাগ চেপে বলল,
ইলাঃ- কি বলবো আমি এই বিয়ে আপনি কেন করলেন আপনি তো বলেছিলেন এই বিয়ে আপনি করবেন না।
আরিয়ান ঠান্ডা গলায় বলল,
আরিয়ানঃ- তাহলে আপনি কেন পালিয়ে গেলেন না? এক বারও চেষ্টা করলেন না নিজেকে বাঁচানোর? একবার যদি বলতেন পালাবেন আমি হেল্প করতাম।
ইলা রাগে চিৎকার করে উঠে দাঁড়ালো
ইলাঃ- পালিয়ে যেতাম আমি তাই না এমনি আমার মা-বাবা সবাই আমারে দোষ দিচ্ছে কেউ বিশ্বাস করছে না আমি এমন কিছু করিনি। আর পালিয়ে গেলে আমি কোথায় যাবো?
আরিয়ান হাসল তেতো, ঠান্ডা হাসি

আরিয়ানঃ- বিশ্বাস…আপনি যদি সেই আবির টা না দিতেন তাহলে আজ এই রাতটা দেখতে হতো না।
ইলাঃ- আপনি কেনো প্রতিশোধ নিতে গেলেন আপনি না গেলে তো কিছুই হতো না।
আরিয়ান বিরক্ত চোখ নিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- আমি কি জানতাম নাকি যে এই আবির দেয়া নিয়ে এমন কট খেতে হবে আমাকে। আমি কত বার বললাম আমার মাঝে কিছু নেই এই সব মিথ্যা কিন্তু কেউ বিশ্বাস করলো না।
ইলা চোখ লাল করে বলল,
ইলাঃ- কট আপনি একা খাননি আমিও খেয়েছি সবাই তো চিৎকার করে বলছে আমি নষ্টা। আপনি তো তখন চুপ ছিলেন কিছু বলেন নি।
আরিয়ানের মুখ শক্ত হয়ে গেলো,
আরিয়ানঃ- চুপ ছিলাম কারণ আমরা কিছুই করিনি এমন আর আপনি শুধু কান্না করছিলেন, কিন্তু একবারও বলোনি ‘এটা আপনার ডেয়ার ছিলো ’। তাই আপনি রঙ লাগিয়েছিলেন আমাকে।
ইলা চোখ মুছে কাঁপা গলায় বলল,
ইলাঃ- আপনার কি মনে হয় এটা ডেয়ার ছিলো এটা বললে সবাই বিশ্বাস করে নিতো। আর তাছাড়া আমি ভয় পেয়েছিলাম…”
আরিয়ান কাছে গিয়ে বলল,

আরিয়ানঃ- আপনি ভয় পেয়েছিলেন আমি না? আমি এক মুহূর্তে অপরাধী হয়ে গেলাম,আর আমার চোখের সামনে সবাই আমাকে অপরাধী বানিয়ে দিলো।
ইলা মাথা ঘুরিয়ে বলল,
ইলাঃ- আপনার জন্যই আমার জীবন শেষ হয়ে গেলো। আমি আজ এমন এক বিয়েতে বাঁধা পড়েছি যা আমি চাইনি।
আরিয়ান ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
আরিয়ানঃ- আমার ও জীবন শেষ হয়ে গেলো আমিও চাইনি আপনার মত একটা খচ্চর মেয়েকে বিয়ে করতে। আজ শুধু আমি আমার বাবা জন্যই এখানে দাঁড়িয়ে আছি। এই বিয়ে না করলে আমার বাবা মান সম্মান শেষ হয়ে যেত তিনি যে কথা দিয়েছে সেটা রাখতে পারতো না আমি সেটা হতে দিতে পারিনি।
ইলা তিক্ত হেসে বলল,
ইলাঃ- আপনি আপনার বাবার মান সম্মান বাচাতে গিয়ে আপনি আমার জীবনটাকেই বন্দি করে দিলেন।
আরিয়ান এবার কাছে গিয়ে রাগে বলল,
আরিয়ানঃ- তাহলে আমি চলে যাই এখনই দরজা খুলে আপনি তখন সবাইকে বলতে পারে “আপনি এই বিয়ে মানেন না আমার সাথে থাকতে চান না” সবাই শুনে যদি আপনার কথায় সম্মতি দেয় আমি তাহলে আপনার জীবন থেকে সরে যাবো।

ইলা হঠাৎ চুপ হয়ে গেলো চোখে জল এসে থেমে রইল। ঠোঁট কাঁপছে কিছুক্ষণ পর আস্তে বলল
ইলাঃ- আপনি যাবেন না প্লিজ।
আরিয়ান অবাক হয়ে তাকাল,
আরিয়ানঃ- কেন?
ইলা ফিসফিস করে বলল,
ইলাঃ- আমার বাবা চায় আমি বিয়ে করে ভালো থাকি আমার বাবার শেষ চাওয়া আমার কাছে এটা তাই আমি চেষ্টা করবো আপনার সাথে মানিয়ে নেয়ার।
আরিয়ান ধীরে ধীরে ইলার সামনে এসে দাঁড়াল তার চোখে ক্লান্তি তবু একরাশ কোমলতা।
আরিয়ানঃ- ভয় পাবেন না ইলা আমি আপনার কাছে কখনো স্বামীর অধিকার চাইতে আসবো না। আমার লাইফে অন্য কেউ আসছে যাকে আমি অনেক ভালোবাসতাম কিন্তু এখনো ভুলতে পারিনি। এখনাপনি শান্তিতে ঘুমান আমি সোফাতে ঘুমিয়ে পড়বো।
ইলা চোখ নামিয়ে নিঃশব্দে বসে পড়ল বাইরে ঝড়ের মতো বাতাস বইছে ভেতরে দুইটা মন তোলপাড় করছে।একই ছাদের নিচে দুজন মানুষ একজন বিশ্বাসের জন্য লড়ছে,অন্যজন ভয় আর অপমানের ভেতর বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৯

ইলাঃ- আপনি বেডে ঘুমান আমি নিচে শুয়ে পড়ছি।
আরিয়ানঃ- সমস্যা নেই আমি যে কোনো জায়গায় ঘুমাতে অভস্ত্য। আর আজকের রাতটাই কালকে আমরা চলে যাবো।
ইলার বুক কেপে উঠলো কালকে চলে যাবে চিরতরে এ বাড়ি ছেড়ে এখন থেকে আসবে অতিথিদের মত। রাতটা লম্বা ভারী আর নিঃশব্দ। আর সেই নিঃশব্দের ভেতরেই তাদের সম্পর্কের প্রথম ফাটল আবার প্রথম সেতুও তৈরি হলো।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩১