হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৬
সাঞ্জেনা শাজ
তালুকদার বাড়িতে যেন বজ্রপাত হয়েছে । অতি আশ্চর্যে সকলে বিমূর্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ড্রয়িং রুমে।
সকলের বিস্ময়কর অবাক করা চাহনি সোফার সামনে শীড়দারা সোজা করে দাড়িয়ে থাকা তাশদীদ মেহরাদ তালুকদারের দিকে।
কিছুক্ষণ আগের ঘটনা….
ঘড়িতে যখন সময়ের কাটা রাত ন’টার ঘরে ঘুরছে। তখনিই শুভ্রতাকে নিয়ে সকলে তালুকদার বাড়িতে পৌচেছে।
হাসপাতাল থেকে চাইলেই তো আর চলে আসা যায় না! ডক্টর তো তাদের পেশেন্টকে এমনি এমনি ছেড়ে দেয় না ! তাই সন্ধ্যা পর্যন্ত শুভ্রতাকে অবজার্ভ করেছে তারা। তারপর আটটার দিকে রিলিজ দিয়েছে। সেখান থেকেই ফর্মালিটিস পূরণ করে আসতে আসতে রাত দশটা।
ড্রয়িং রুমে পা রাখতেই কেউ রুমের দিকে গেল না৷ সোফায় বসলো বিশেষ আলোচনা করার জন্য। যা এতক্ষণ হাসপাতালে কাটা হয়ে আটকে ছিল গলায়। রায়হান ও উপস্থিত আছে এখানে সেই সাথে তালুকদার বাড়ির সকলে।
সোহানা গিয়ে সবার আগেই শুভ্রতার এক বাহু জড়িয়ে ধরেছে। শুভ্রতা দাঁড়িয়ে ওর মা’য়ের সাথে। ওর আরেক হাত ওর মা’য়ের হাতে বন্ধি। নেতানো নিস্তেজ শরীর নিয়ে ও মাথা নিচু করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর মনে হচ্ছে ওর জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরিক্ষা চলছে এসময়। এগুলো তার জীবনে না আসলেই ভালো হতো! তার চেয়ে ভালো হতো, উলটা পালটা ঔষধের উছিলায় না ফেরার দেশে চলে যেত, সেটা আরও ভালো হতো।
এ পরিক্ষা তার কাছে বড়োই অসহনীয় লাগছে। বড্ড অসহনীয়।
মেয়ের হাতটা আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরলেন রিমা বেগম। আজ সারাদিন মেয়ের কাছ ছাড়া হননি ভদ্রমহিলা। মতিগতি বুঝা দায়!মেহরাদের দিকে তাকিয়ে তিনি শক্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
“তুমি জানতে মেহরাদ শুভ্রতার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে, তারপরও তোমরা এ অনৈতিক…. ”
“এর আগে একটা শব্দও না। কি অনৈতিক?” শক্ত কন্ঠে প্রতিবাদ করলো মেহরাদ।
“তুমি ওকে কোন অধিকারে ছোঁয়েছো হাসপাতালে? ”
“বিকজ,আই হেব দ্যা রাইট। ”
“কি রাইট আছে তোমার?”
“আই লাভ হার। ”
“তুমি কি করে ভালোবাসতে পারো ওকে? ও তোমার বোন হয়। ”
“সো হোয়াট? আপন বোন নয়। ”
“কিন্তু দেখেছো তো নিজের বোনের মতোই। ”
“আপনার ভুল। আমি দেখিনি আর এটা কখনো পসিবলও না। ”
“ও তোমাকে ভালোবাসে না। ”
মেহরাদ এবারও জবাব দিতে ছাড়লো না কথার পিঠে। বরংচ এবার আরও এগ্রিসিভলি বললো,
“এটাও আপনার ভুল।”
“হোক ভুল। আমি মানি না এ সম্পর্ক। ”
“আপনার মানায় কি আসলো গেলো? হু ক্যায়ারস? ”
“আমার মেয়ের সিদ্ধান্ত আমিই নিবো। কে ক্যায়ার করলো না করলো তা দেখার বিষয় না। ”
“হ্যাঁ, যে মেয়েকে বিনা দোষে ছুড়ে ফেলে রেখে গিয়েছিলেন।”
“মেহরাদ!!!! সম্মান দিয়ে কথা বলো। ইনসাল্ট করছো তুমি। ”
“মেইবি। বাট আ’ম নট সরি ফর দেট। আর আপনি আমার চোখে এখন পর্যন্ত সম্মানের কিছু করেন নি, শুধু আমার চাচ্চুর অর্ধাঙ্গিনী হওয়া ছাড়া। ”
“ব্যাস, মেহরাদ। থামো তুমি এবার।অবাধ্যের চুড়ান্তে পৌছে গিয়েছ তুমি!” রেগে বলে উঠলেন আলতাফ তালুকদার।
ছেলের এসব কর্মমান্ডে সে আশ্চর্য হতেও ভুলে গিয়েছে। সেই সকাল থেকে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন ছেলের নতুন রুপকে মেনে নিতে। এ ছেলে এতো বেপরোয়া! সম্পূর্ণ অবাক করা।
“ভাই আমি আর এক মূহুর্তও এখানে থাকবো না। যেখানে নিজের অপমান হয় সেখানে এক সেকেন্ড ও নয়। আমি শেখ বাড়ির মেয়ে। আমার অকাল পড়েনি, এতটুকু ছেলের অপমান হজম করবো আমি বসে বসে। ”
মেহরাদ নির্লজ্জ হলে ঠিক বলে দিত –সে এতটকু কি করে হয়? সে তো এতদিনে নানু ডাক শুনে ফেলতো যদি সে আরও আগে শুভ্রাকে বিয়ে করতো।
“তুমি শান্ত হও ছোট বৌমা। এভাবে কোন সিদ্ধান্তই নেওয়া যায় না। কথা বলতে দাও। ” আলতাফ তালুকদার বললেন।
তালুকদার বাড়ির আজ সকলে নিরব দর্শক। তাদের মুখের মুখের বুলি কেউ যেনো কেড়ে নিয়েছে। তারা ক্ষনে ক্ষনে অবাক বিস্ময় নিয়ে শুধু মেহরাদের দিকে তাকাচ্ছে। ছেলেটা….
“এটা হয় না মেহরাদ। শুভ্রতা মা ছোট। তুমি ছোট নও। যেখানে পূর্বের কারো বাগদত্তা, সেখানে এগুলো নিষিদ্ধ। বোন বোনের যায়গাই রাখো ওকে। ”
“কে বোন?শুভ্রা? ইউ গট ইট রঙ বাবা। ”
ছেলের কথায় ভ্রু কুচকালেন তিনি। কপালে ভাজ ফেলে জিজ্ঞেস করলেন,
“কি রঙ?”
“শি ইজ মাই ওয়াইফ। উই আর ম্যারিড। তিন কবুল করা বউ আমার। তালুকদার বাড়ির বড় বউ। তাশদীদ মেহরাদ তালুকদারের বউ।”
সকলের বিস্ময়ে খামি খাওয়ার জোগার। আলতাফ তালুকদার সোফা থেকে তড়িৎ দাঁড়িয়ে গেলেন। ছেলে কি বলছে এসব? এটা কি বললো?
শুভ্রতা কেপে উঠলো থরথর করে। তার ছোট্ট নিস্তেজ দেহ খানা টলতে শুরু করলো। মায়ের মুঠোয় বদ্ধ হাতটায় প্রচন্ড চাপ পড়ছে। আঙুল ডেবে যাচ্ছে হাড্ডিতে যেন।
পাশে থাকা সোহানা অবিশ্বাস্য কর চাহনি দিল শুভ্রতার দিকে ঘুরে। অবাকতায় মুখ হা হয়ে আছে মেয়েটার। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ভালোবাসা পর্যন্ত ঠিক আছে। তাই বলে বিয়েও সেড়ে ফেলেছে?
তালুকদার বাড়ির দুই গিন্নি মুখে আঁচল চেপে ধরেছে। ছেলে কি বলছে এসব? শুধু স্বাভাবিক আছে শান্তা, আদনান আর রোজা,জাবির। শান্তা তো আগেই জানতো। আর আদনান জানিয়েছে কিছুক্ষণ আগে তাদের হাসপাতালে।
অবশ্য রোজা তার ভাইয়ের দ্বারা এমন কিছুই আশা করেছে। তার ভাই নিজের জন্য কিছুতে এক ইঞ্চিও ছাড় রাখেনা। যেটাতে তার থেকে কিছু কেড়ে নেওয়ার চান্স থাকে। তাই সে এতো থমকে টমকে যায় নি। বরং ভালোই লেগেছে, খারাপ না।
ড্রয়িং রুমের এক কোনায় অনুভূতিহীন নিথর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রায়হান। এতো সব কিছুতে নিজের অনুভূতি বড্ড এলোমেলো তার। বুকের ভিতর চাপা এক কষ্ট। দেহের শিরায় শিরায় রক্ত ছুটছে উল্কার ব্যাগে।
শান্তা এক পলক তাকালো ঘার ঘুরিয়ে রায়হানের দিকে। রায়হানের বিমূর্ত চেহারা দেখে তার কেন যেন বেশ খারাপ লাগলো। কি রকম একটা ভোতা অনুভূতি হচ্ছে তার। ভাইয়ের জন্য খুশি হলেও এ মানুষটার জন্যও একটু খারাপ লাগছে। আচ্ছা,উনিতো মনে হয় শুভ্রতাকে ভালোবাসতো তাই না?
“কি বিয়ে? কিসের বিয়ে? আমি মানি না এসব বিয়ে। পরিবার ছাড়া কিভাবে বিয়ে হয়। শুভ্রতার এখনো আঠারো হয়নি। কিভাবে বিয়ে হয় ওর? ”
“আপনি না মানলেও কিছু আসবে যাবে না। যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। ”
মেহরাদের এরকম নির্লিপ্ত ভাব রিমা বেগমের ভিতরটা আরও জ্বালিয়ে দিল। ছেলেটা এতো বেয়াদপ! সে এই বিয়ে কিছুতেই মানবে না। কিছুতেই না! আর এই মেয়েটাকে এতো বুঝালো! আর ভিতর ভিতর এ কাজ সেড়ে রেখেছে? তিনি এটা কিছুতেই মানবেন না।
“কি বলছো কি তুমি? পরিবার ছাড়া কিভাবে বিয়ে করে ফেলতে পারো তুমি? এটা আদও বৈধ? এটা ঠিক না। ”
“When heart collide , reason dies. ভালোবাসায় ঠিক বেঠিকের কি আছে? ”
“রাখো তুমি তোমার সিনেমাটিক ডায়লগ! এরকম ভাবে বিয়ে মানা যায় না! ”
“দ্যা রিজন?”
“আমি বলছি রিজন…. ” রায়হান বলে উঠলো।
সে ভারী কদমে এগিয়ে গিয়ে মেহরাদের মুখোমুখি হয়ে বললো,
“দেশে আইন নিয়ম কানুন সব আছে, বিয়ে করেছি বিয়ে করেছি বলে চিল্লালেই বিয়ে হয়ে যায়না। আইন অনুযায়ী বিয়েতে আঠারো বছর বয়স প্রয়োজন যেটা এখনো ওর হয়নি। আর রইলো বাকি, যদি শরিয়াহ অনুযায়ী হয় তাহলেও তা হয় না। মা বাবার অনুমতি ছাড়া বিয়ে হয় কিভাবে? আর কোন রিজন লাগবে?”
মেহরাদ ভস্ম করে দেওয়া দৃষ্টিতে তাকালো রায়হানের দিকে। চোয়াল শক্ত তীক্ষ্ণ হয়ে উঠলো। হাতের মুঠো শক্ত হয়ে শিরা উপশিরা ফুটে উঠলো। তার হাত উঠে যেতে পারে যেকোনো মূহুর্তে। এটাকে কেউ নিয়ে যাক এখান থেকে…!
“তোকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেছে? বিয়ে একবার কেন, হাজার বার করবো। আঠারো বছরের আগেই করবো, পরে করবো। সকলের অনুমতিতে করবো, বিনা অনুমতিতে করবো। তোর কি? উই লাভড ইচ্ আদার। এরকম বিয়ে আরও হাজার বারও করতে পাড়বো। তোর কোনো সমস্যা?” ক্ষোভে ফেটে পড়লো মেহরাদ।
রায়হানের চোয়ালও শক্ত হলো। সে আরও কয়েকটা কড়া কথা বলবে তার আগে রিমা বেগম গর্জে উঠলো,
“খবরদার মেহরাদ! আমার ভাইপো’র সাথে ভুলেও বাজে ব্যাবহার করবে না। ভুলে যেও না ও একজন মেয়র। ”
“সো হোয়াট? এরকম মেয়র কেন, এমপিও মেহরাদের পকেটে থাকে। এসব ফাও ফাপর নিবেন না প্লিজ। ”
মেহরাদের একের পর এক তীরের ফলার মতো ছুড়া বানের পাছে পরাজিত সৈনের ন্যায় দমে গেলেন না রিমা বেগম। ভিতরে আগ্নেয়গিরির লাভা ফুটছে। সে আর মেহরাদের দিকে তাকালো না। পাশ ঘুরে মেয়ের দিকে তাকিয়ে চেচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“তুই কি করে পাড়লি এটা করতে!তোর আমাদের কারো কথা একবারও মনে পড়েনি? সত্যি করে বলতো, নিজের ইচ্ছে করেছিলি বিয়ে? না-কি কেউ জোর করেছিল তোকে? মেহরাদ জোর করেছে তোকে?”
রিমা বেগমের কথায় সকলে আশ্চর্য হয়ে গেলেন। মেহরাদ কি পর কেউ। এভাবে মেহরাদের কথা বলছে!
জাহানারা বেগম ফুসে উঠলো। ছোট জা’য়ের উদ্দেশ্যে বললেন,
“সাবধান, ছোট। মুখ সামলে। জোর করেছে মানে কি? শুভ্রতাকে আমরা ভালোবাসি না? মেহরাদ ভালোবাসে না? ওর উপর নিজের ইচ্ছে চাপিয়ে দিবে?”
“দিতেও পারে! এরকম ভালোবাসার দোহায় দিয়ে কতো কিছুই হাসিল করতে পারে। ” তিনি মেয়েকে ধরে আরও আহাজারি শুরু করলেন। শুভ্র’র কথাও তুললেন সাথে। অনপুস্থিত বাবার কথা মনে করিয়ে দিলো। আবার বললেন,
“এবার তোর দ্বারা আবার আঘাত পেলে আমি সত্যিই ম’রে যাবো। ”
শুভ্রতার কলিজা খামচে উঠলো। মনে পড়ে গেল তার মায়ের বলা সকল বুলি। মস্তিষ্ক বারং বার তাই-ই মনে করিয়ে দিতে থাকলো।
শুভ্রতা মাথা তুলছে না। চোখের জল গাল বেয়ে ফ্লোরে পরছে। তার যে কারো সাথে চোখ মেলানোর সাহস নেই। সে কি করবে এখন? এক দিকে নিজের জন্মদাত্রী মা আরেক দিকে ভালোবাসা। সে কোথায় যাবে? কি বেছে নিবে?
রিমা বেগম মেয়ের হাত ঝাকালেন। আবারও জিজ্ঞেস করলেন,
“কথা বলছিস না কেন? এতো কষ্ট করে মা বাবা সন্তান জন্ম দেয় এই দিন দেখার জন্য? লজ্জায় ম’রে যেতে ইচ্ছে করছে আমার। ” তার কন্ঠে অবিশ্বাস্যকর ব্যাকুলতা। এরকম শান্তা সোহানা বুঝের হয়ে দেখেনি। কি ধরিবাজ মহিলা! তাদের চাচ্চু খুজে খুজে একেই পেল!
“ও কি বলবে! আপনি আমার সাথে কথা বলুন!” বজ্র কন্ঠে বলে উঠলো মেহরাদ। তার মনে ভয়! শুভ্রা যদি ভয় পেয়ে যায়!
“আমি আমার মেয়ের সাথেই কথা বলবো। ওর উপর আমার সম্পূর্ণ ভরসা আছে। তুমি ওকে প্রেশারাইজড করবে না। ”
“আমি ওকে প্রেশারাইজড করছি? না-কি আপনি করছেন? আর এতো ভরসা ভরসা করছেন, সেটা কই ছিলো আরও আগে? অতীত ভুলে গিয়েছেন?”
“তুমি আস্ত একটা বেয়াদব মেহরাদ। বারবার বেয়াদবি করছো তুমি৷ এতসব কিছুর পর তোমার মতো ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে কখনোই মেনে নিব না আমি। ম’রে গেলেও না। ”
“আপনার মানতে হবে না। বলেছে টা কে মানতে? আমরা মানি এই যথেষ্ট!”
“আমরা কি? আমার মেয়েটার সরলতার ফয়দা তুলেছো তুমি। গতকাল তোমার রুম থেকে বের হয়েই তো ও এ কান্ড ঘটিয়েছে। কি ভেবেছো কেউ জানে না? আমি দেখেছি। ও তোমাকে ভালো টালো বাসে না। মিথ্যে অপবাদ এসব। তুমি ওকে নিজের জন্য অপবাদ দিচ্ছো।”
আরেক দফা বিস্ফোরণ ঘটলো ড্রয়িং রুমে। সকলে আশ্চর্যজনিত হলো। মেহরাদের দিকে তাকালে দেখলো ও এখনো অবিচল, অটল মুখভঙ্গি নিয়ে দাঁড়িয়ে। আবারও ভালোবাসার অহংকার নিয়ে বেপরোয়া ভাবে বললো,
“সেটা আপনি যা-ই এখন বলেন না কেন। বিয়ে করা বউ আমার। আপনি এখন আর কিছুই করতে পারবেন না। আমরা একে অপরকে ভালোবা….”
আলতাফ তালুকদার ছেলের দিকে হাত তুলে থামিয়ে দিলেন। গম্ভীর পদাচড়নে তিনি শুভ্রতার দিকে এগিয়ে গেলেন। এর একটা বিহিত হওয়া চাই। হয় হ্যাঁ, নয় না।
তিনি শুভ্রতার সামনে গিয়ে ডাকলেন, বেশ নরম কোমল কন্ঠেয় বললেন,
“শুভ্রা মা। তুমি কি নিজের ইচ্ছেই করেছো এই বিয়ে? ”
শুভ্রতা জবাব দিলনা। অঝোর দ্বারায় চোখের জল ফেলছে সে। তার ম’রে যেতে ইচ্ছে করছে। সে কি করবে এখন? কি করবে? কি করবে?
আলতাফ তালুকদার আবার শুধালেন,
“বিয়েতে মত ছিলো তোমার? তোমার মা কি সঠিক বলছে?”
পাশে থাকা রিমা বেগম মুখে ওড়না চেপে বিড়বিড় করে ফোপাঁতে লাগলেন। আজকের দিনে তার চেয়ে দুঃখী এ দুনিয়ায় কেউ নেই।
শুভ্রতা ব্যাথিত কণ্ঠনালী দিয়ে এবার অব্যক্ত এক ব্যথাময় সুর বেড়িয়ে আসলো। কান্নার তোড়ে দুর্বল শরীর খানা কাপতে থাকলো। সোহানা দূরে চলে গিয়েছিল। আবারও কাছে আসলো শুভ্রতার। ওর এক বাহু ধরলো স্থীর করতে।
“ওর ম…” আদনান কিছু বলতে যাচ্ছিলো। কিন্তু আলতাফ তালুকদারের চাহনিতে থেমে যেতে হলো তাকে। মেহরাদের দিকে তাকিয়ে দেখলো তার বন্ধু স্থীর হয়ে নিশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে আছে।
আদনানের ভিতরটায় হাহাকার করে উঠলো। সে জানে শুভ্রতার সম্পর্কে। মেয়েটা যদি আজকে পিছু পা হয়। মেহরাদকে অপশনে রাখে তাহলে তার বন্ধুটা একদম শেষ হয়ে যাবে। নিশ্বেস হয়ে যাবে।
সে দেখেছে,স্ব চোখে দেখেছে –মেহরাদ ঠিক কিভাবে তার বোনদের আগলে রাখে। সে যায়গায় শুভ্রতাকে ও নিজের জান উজাড় করে দিয়েছে। চারিপাশে পক্ষিরাজের পালক দিয়ে আড়াল করে রেখেছে সব কিছু থেকে। আজ যদি মেয়েটা পালক ছেড়ে বেড়িয়ে যায় তার বন্ধুটা ঠিক শেষ হয়ে যাবে। পুরো পুরি নিশ্বেস হয়ে যাবে।
হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৫
আজ যদি মেয়েটা নিজের জীবনে মেহরাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে, মেহরাদ হেড়ে যাবে। ভেঙে যাবে। দুমড়ে মুচড়ে নিশ্বেস হয়ে যাবে। কি জবাব দিবে শুভ্রা? ও কি হাড়িয়ে দিবে মেহরাদ কে ওর ছলনাময়ী মা’য়ের জন্য!
ভিতরে টান টান উত্তেজনা নিয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো মেহরাদ। দু চোখে ব্যাকুলতা। প্রিয়তমার একটা ছোট্ট স্বীকারোক্তির অপেক্ষায়৷ সে বড্ড অহংকার করছে তার ভালোবাসা নিয়ে। মেয়েটা কি তা বুঝতে পারছে না…?
