Home ভুলভাল অন্তরাল ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৮

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৮

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৮
মুশফিকা রহমান মৈথি

সকাল সকাল মেজাজ বিগড়ে গেলে স্নিগ্ধর সারাটাদিন খারাপ যায়। আজকেও দিন খারাপ যাবে। তার একমাত্র স্ত্রী ঘরে নেই। ঘরের প্রতিটি কোন তন্নতন্ন করে খুঁজেছে। ফোন নেয় নি মহীয়সী। স্নিগ্ধর মাথার শিরা এখন দপদপ করছে। এই একজন নারী তার জীবনের বারোটা নয় চব্বিশটা বাজিয়ে রেখেছে।
নারী সম্পর্কিত বিস্তারিত জ্ঞান সরফরাজ পটনভী নামক মানুষটির নেই। নারী সঙ্গ পাওয়ার সুযোগ হয় নি বিধায় জ্ঞানের ঝুলিতে এই টপিক সংক্রান্ত কোনো তথ্যই নেই। যখন বিয়ে করতে হবে এমন আদেশ পেলো, তখন “নারী” শব্দটি তাকে ভাবিয়ে তুললো। অথচ সে তার পেছনে ফেলে রাখা ত্রিশটা বছর হাতিয়েও কিছুই পেলো না। “নারী আহ্লাদী, তাকে বশে আনা খুব কঠিন কাজ নয়”– এই ভাষ্য তার কলিগের। মুত্তালিব শাওন নামক অসহ্য মানুষটিকে যখন বিয়ের আগে জিজ্ঞেস করেছিলো,

“বিয়ের পর লাইফ কি বদলায়?”
সে হাসি মুখে বলেছিলো,
“একেবারে না। কেন বদলাবে? নারী আহ্লাদী প্রাণী। তাদের বশে আনা খুব কঠিন কাজ নয়। ভেড়া হওয়া যাবে না আবার কড়া হওয়া যাবে না। মিডল পয়েন্টে থাকতে হবে।”
স্নিগ্ধ বিষয়টা মাথায় রাখলো। ভেড়া হওয়া হয়তো তার দ্বারা হবে না। কিন্তু সে নিজেকে ধৈর্য্যশীল এবং নমনীয় বানালো। কাঞ্চন কঠিন তরুণী। তাকে দেখতে ছোটখাটো হলেও তার জেদ হিমালয় অবধি ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। সুতরাং কড়াকড়ি আরোপ করলে সে ভাঙ্গবে তবে মচকাবে না। তাই নমনীয়তাই একমাত্র উপায়। মেয়েটিকে দিনে দশবার থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে করলেও অগাধ ধৈর্য্য ধরার কারণে সেটা সহ্য করে নেয় স্নিগ্ধ। বরং তার অবাক লাগে এতোটা ধৈর্য্য কি করে জন্মালো তার ভেতর। মাঝে মাঝে মজাও লাগে। জীবনে বিনোদনের যে ঘাটতি ছিলো সরফরাজ পটনভীর জীবনে, কাঞ্চন নামক নারী সেটা তার আজগুবি কাজ দিয়ে তা পূর্ণ করছে। বিবাহিত জীবন যে তাদের সুখময় হয় সেটাতে তার সন্দেহ নেই। এতোটুকু আত্মবিশ্বাস তার আছে। কাঞ্চনের জীবনে যা কিছুর ঘাটতি সেটা পূরণ করার মত ক্ষমতা সরফরাজ পটনভীর আছে।

তবে এখন এই মুহূর্তে বুঝতে পারছে না সে ভুলটা কি করেছে? এই হাড্ডিটাকে বশে আনতে পারছে না কেন স্নিগ্ধ। মেয়েটা ফড়িং এর মতো তার মনমর্জি চালাচ্ছে। এই প্রথম স্নিগ্ধর পরিকল্পনা অনু্যায়ী কিছুই হচ্ছে না। স্নিগ্ধ যেমনটা চাইছে তার সম্পূর্ণ উলটো ঘটনাগুলো ঘটছে। ভেবেছিলো এখানে দুজন একা সময় কাটালে একটু হলেও তাদের সম্পর্কের সমীকরণটা সহজ হবে। কিন্তু সমীকরণের উপর গরম পানি ফেলে দিয়েছে পারিজাত পটনভী নামক নারী।
এখন সকাল দশটা। সে ঠিক কোথায় গেছে স্নিগ্ধ জানে না। দরজা ভেতর থেকে লক করে গিয়েছে। খুলনায় এর আগে কখনো কাঞ্চন আসে নি। সে কিছুই চিনে না। পথ হারিয়ে গেলেও ফিরে আসতে পারবে না। ফোনটাও নেয় কি গর্দভটা। ভাবতেই চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো স্নিগ্ধের। রআগ জ্বলছে রাগে। ইচ্ছে করছে কাঞ্চনকে তুলে আছাড় দিতে। ঠিক এমন সময় ফোনটা কর্কশ শব্দে বেজে উঠলো। ফোনের শব্দ স্নিগ্ধের বিগড়ানো মেজাজে ঘিয়ের মতো কাজ করলো। সে দ্রুত হাতে ফোনটা নিতেই দেখলো স্ক্রিনে “Ma” নামটি ভাসছে। ফলে কিছুসময় জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলে রাগ নিয়ন্ত্রণ করলো। মাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না এখানে কি হচ্ছে! মমতাময়ী তার মা। পৃথিবী একদিকে আর মা এক দিকে। মার চিন্তা হবে এমন কোনো কাজ স্নিগ্ধ করে না। কখনো করবে না। কারণ তার মার একমাত্র ভরসা তার এই ছেলে।
স্নিগ্ধ ফোন ধরলো। খুব স্বাভাবিক স্বরে বললো,

“হ্যালো।“
“আব্বা কেমন আছিস?”
“আলহামদুলিল্লাহ, তুমি?”
“আলহামদুলিল্লাহ। কাঞ্চন বান্দরী কই। ওরেই ফোন দিচ্ছিলাম, ওয় ধরে না।“
স্নিগ্ধ কিছু সময় চুপ করে থাকলো। মা হাসলেন। মৃদু স্বরে বললেন,
“ও তোরে খুব জ্বালায় তাই না বাপ?”
“না, তবে খুব অবাধ্য। কথা শুনতে চায় না।“
“জানি। ওয় এমন-ই। কিন্তু বিশ্বাস কর আব্বা, ওর মন কাঁদার মতো।“
“কাঁদা শুকিয়ে খরখরে হয়ে গেছে মা।“
“বুঝতেছি রে আব্বা। তুই পানি হয়ে ওরে গলায়ে নে। মনে রাখবি নরম মাটিতে কারুকার্য হয়। মাটি পুড়ে গেলে সেটা ইট হয় যায়। এখন তুই আগুণ হবি না পানি, তুই ঠিক কর।“
“তুমি চিন্তা করো না। আমাদের সংসার হবে।“
“তোর নানার শরীরটা কিন্তু ভালো না আব্বা।“
আয়েশা পটনভীর কণ্ঠ কাঁপলো। স্নিগ্ধর কপালে ভাঁজ পড়লো। উদ্বিগ্ন হলো কণ্ঠ,

“কেন, কি হয়েছে?”
“কালকে রাত্রে জ্বর জ্বর ছিলো। সকাল থেকে ঠান্ডা লাগছে। মেহেদী কইলো সব ঠিক আছে। তবুও বয়স তো হইছে। তোদের মধ্যে মিলমিশ দেখলে মানুষটার ভালা লাগবে।“
স্নিগ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললো। মাকে কি করে বুঝায়, মিলমিশ এক প্রান্ত থেকে হয় না। ওপাশ থেকে কোনো গতি দেখতে পারছে না বলেই অধৈর্য্য হচ্ছে স্নিগ্ধ। সে ভারী স্বরটা আরোও ভারী করে বললো,
“নানাজানকে চিন্তা করতে মানা কর মা। আমি রাখছি।“
“আচ্ছা, বাপ ভালো থাকিস। কাঞ্চনকে দেখে রাখিস।“
স্নিগ্ধ ফোন কেটে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। কাঞ্চনকে দেখে রাখা হয়তো পৃথিবীর সবথেকে কঠিন কাজ। তবুও দায়িত্ব যখন সারাজীবনের জন্য নিয়েছে স্নিগ্ধ, তাই সে এই দায়িত্ব পালন করবে। তার জীবনের সবথেকে বড় মিশন এই অবাধ্য মেয়েটাকে বশে আনা। কঠিন হতে হলে সেটাই হবে। মোবাইলের লোকেশন এপটা অন করলো সে। ভাগ্যিস কাঞ্চনের আঙ্গুলের আংটিটা সে খুলে রাখে নি। স্নিগ্ধ খুব নিপুণভাবে ওই আংটিতে জিপিএস ট্রাকিংটা ফিট করেছিলো। কিডন্যাপিংয়ের দিন মেয়েটা আংটিটা পড়লে স্নিগ্ধর এতোটা সময় লাগতো না তাকে খুঁজতে।
কাঞ্চনের বর্তমান লোকেশন বিল্ডিং এর কাছেই দেখাচ্ছে। বিল্ডিং এর ভেতর না বাহিরে বোঝা যাচ্ছে না। ছয় মিনিট দুরত্ব দেখাচ্ছে। স্নিগ্ধ প্রথমে ইন্টারকমে দারোয়ানকে ফোন করলো। দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলেই সে আমতা আমতা করে শুধালো,

“স্যার, আমি তো দেখি নাই। আমি নাস্তা করতে গেছিলাম।“
স্নিগ্ধ কঠিন গলায় বললো,
“বাড়িতে সিসি টিভি লাগানো না?”
“স্যার সিসি টিভির ক্যামেরায় কি জানি হইছে! ঠিক করন লাগবে।“
স্নিগ্ধর ইচ্ছে হলো দারোয়ানকে কঠিন ধমক দিতে। কিন্তু তাকে ধমক দিয়ে লাভ নেই। তাই খট করে রিসিভার রেখে দিলো সে। দ্রুত একটা শার্ট জড়ালো গায়ে। লোকেশন ঠিক থাকলে কাঞ্চন আশেপাশেই থাকবে। দরজা থেকে বের হতেই পা থামলো তার। লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কাঞ্চন। তার হাতে একটা ঠোঙ্গা। কিন্তু সেটা স্নিগ্ধকে বিচলিত করে নি। করছে তার সাথে দাঁড়ানো লম্বা চওড়া গড়ণের সরু মুখের শ্যাম বর্ণের ছেলেটা। ছেলেটার সাথে কাঞ্চন হেসে কথা বলছে। অথচ ছেলেটা সম্পূর্ণ অচেনা তার। হয়তো এই এপার্টমেন্টের কোনো এক ফ্লাটে থাকে। স্নিগ্ধ বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে যেতেই শুনলো কাঞ্চন গদগদ স্বরে বললো,

“আপনি পাহাড় লাভার?”
ছেলেটি হেসে বলল,
“আসলে আমার এই একঘেয়ে জীবন খুব একটা ভালো লাগে না। টাকা জমাই, তারপর চার-পাঁচদিন অফিস কামাই করে ছুট দেই।“
কাঞ্চন সাথে সাথেই শুধালো,
“কত খরচ হয়? ধরুন যদি একা যাই তখন কেমন খরচ হবে?”
“বেশি না, খরচটা নিজের উপর। আমাদের ছেলেদের তো বেশি লাগে না। থাকার একটা জায়গা হলেই হলো। তবে আপনার ক্ষেত্রে একটু ভ্যারি হবে। আপনি তো যেখানে সেখানে থাকতে পারবেন না। সেফটির ইস্যু আছে। তাই আমার মনে হয় আপনার উচিত গ্রুপে ট্রাভেল করা। এজেন্সিদের সাথে প্রথম প্রথম যাওয়া৷ জায়গাটা একবার চিনে গেলে তারপর আপনি নিজেই কষ্ট কমাতে পারবেন।“
কাঞ্চন মুগ্ধ স্বরে শুধালো,
“বাংলাদেশের সব দেখা হয়ে গিয়েছে তাই না আপনার?”
“মোটামুটি, আগামী মাসে কাঠমুন্ডু যাচ্ছি।“
“জোস।“
কাঞ্চন আরোও কিছু শুধাতো। কিন্তু তার আগেই স্নিগ্ধ এসে দাঁড়ালো তার পাশে। কাঞ্চনের কোমড়ে নিজের বলিষ্ঠ হাতটা রেখে শুধালো,

“কোথায় গিয়েছিলি?”
স্নিগ্ধের কণ্ঠ অনেক ভারী, গম্ভীর। কাঞ্চনের কেনো যেন আজ তার কণ্ঠটা একটু বেশি গম্ভীর লাগলো। সে ঠোঁটে প্লাস্টিকের হাসি আঁকিয়ে বললো,
“তুমি উঠে গেছো? যাক ভালো। আমি একটু আশপাশটা ঘুরে দেখছিলাম। উনার নাম মাহফুজ। চার তালায় থাকেন। উনার সাথে নিচেই দেখা হয়েছে। উনি ই আমাকে আশপাশটা চিনিয়ে দিয়েছেন। তুমি জানো এখানে একটা বড় বাজার আছে। সেখানে নাকি অনেক মাছ পাওয়া যায়। “সন্ধ্যা বাজার” নাম।”
স্নিগ্ধ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। তার চোয়ালের তীক্ষ্ণতা এবং দৃষ্টির ধাঁর এক বিন্দু কমলো না। মাহফুজ নামক ছেলেটির কৌতুহল বাড়লো। সে দ্বিধান্বিত স্বরে শুধালো,
“ইনি কে?”
কাঞ্চন কিছু বলার সুযোগ পেলো না৷ তার আগেই স্নিগ্ধ দাম্ভিক স্বরে বললো,
“হার ওয়ান এন্ড অনলি হাসবেন্ড, সরফরাজ পটনভী”
কথাটা বলার সাথে সাথেই কাঞ্চনের কোমড়ে থাকা হাতের চাপটা বাড়লো। আরেকটু সন্নিকটে নিয়ে এলো মেয়েটিকে। বলিষ্ট বুকের সাথে লেপ্টে রইলো কাঞ্চন। কাঞ্চনের ভ্রু কুচকালো। এই লোকের সমস্যা কি। বিয়ে হয়েছে বিষয়টা নিয়ে কেন এতো দোল পিটাতে হবে? মাহফুজের হাসিটা বিস্তৃত হলো। সে হাত বাড়িয়ে দিলো। স্নিগ্ধর চোখের তীক্ষ্ণতা বেড়ে গেলো। অনেকটা সিংহের মতো। শিকারের প্রাণবধের নেশায় উন্মত্ত। একটা থাবা আর শিকার কুপোকাত। কাঞ্চন পরিবেশটা হালকা করতে বললো,

“ভাইয়া, আংকেল আন্টিকে নিয়ে আসবেন। আমরা আছি আর দু চারদিন।”
“আচ্ছা!”
কথাটা বলেই সে একপ্রকার স্নিগ্ধকে ঠেলে নিয়ে ঘরে ফিরে এলো। মাহফুজ তাকিয়ে রইলো তাদের দিকে। ঠোঁটে ভাসলো দূর্বোধ্য হাসি।
কাঞ্চন দরজাটা আঁটকে দিয়েই ঝাঁঝালো স্বরে শুধালো,
“এই সবখানে এমন রওয়াব দেখাও কেন? স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারো না। মাহফুজ ভাই কত ভালো মানুষ! উনি আমাকে আশেপাশের সব দোকান দেখিয়ে দিলেন। এমন একটা ভালো মানুষের সাথেও তোমার খাস্তামি করতে হয়!”
কথাটা শেষ করার আগেই সিংহের থাবার মতো কঠিন হাতে কাঞ্চনের কোমড় চেপে ধরে তাকে তুলে টেবিলের উপর বসালো। ঘটনাটা এতো দ্রুত ঘটলো যে কাঞ্চন কেঁপে উঠলো। স্নিগ্ধ তার দু পাশে নিজের হাত দিয়ে ঘেরাও করলো। চোখে চোখ রেখে কঠিন স্বরে বললো,
“জ্বলছে নাকি হাড্ডি!”
স্নিগ্ধর চোখগুলো জ্বলছে। আগ্নেয়গিরির লাভার তো তপ্ত যেন সে দৃষ্টি। গায়ে লাগলেই জ্বলে যাবার সম্ভাবনা। কাঞ্চন হতভম্ব হলো স্নিগ্ধর এমন আচরণে। বিস্মিত গলায় বললো,

“জ্বলবো কেন!”
“সেটা তুই ভালো করে বলতে পারিস।”
“সকাল সকাল কি ডেটওভার গাঞ্জা খাইছো?”
“তাহলে এতো খ্যা খ্যা করে কথা বলছিলি কেন!”
“আরে! কথা বলা কি অপরাধ? তুমি তো হেব্বি টক্সিক! শোনো, স্নিগ্ধ ভাই আমার সাথে এমন টক্সিসিটি দেখাবে না। আমার অসহ্য লাগে!”
“তাহলে কি ভালো লাগে?”
স্নিগ্ধ আরোও ঝুকে এলো। তাদের দুজনের মধ্যে দুরত্ব অতিকম। স্নিগ্ধর তপ্ত নিঃশ্বাস আঁছড়ে পড়ছে কাঞ্চনের মুখমন্ডলে। দৃষ্টি নিবদ্ধ একে অপরের মাঝে। কাঞ্চনের গলা কাঁপছে। স্নিগ্ধর এই গাঢ় দৃষ্টিটা খুব জ্বালাময়ী। হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো শতগুণ। বিরক্তি ফুটলেও দৃষ্টি সরাতে পারলো না কাঞ্চন। স্নিগ্ধ এক হাতে কাঞ্চনের থুতনি তুলে ধরলো। চোখে চোখ রেখে ভারী গলায় বললো,
“মিসেস পটনভী, আমি আপনার ঔদ্ধত্য বরদাস্ত করলেও ধোঁকাবাজি বরদাস্ত করবো না। আই মিন ইট। আমি আপনার ধারনার থেকেও জঘন্য।”
কাঞ্চনের মুখ শক্ত হয়ে গেলো। সে কঠিন, ঝরঝরে গলায় শুধালো,

“তোমার ধারণা আমি তোমাকে চিট করছি?”
“আমি শুধু সতর্ক করছি। ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু থিংক এবাউট ইট।”
“আমি পটনভী বংশের পুরুষদের মতো নই।”
“আমি কি করে বিশ্বাস করবো?”
“মানে?”
“এমন হতেই পারে তুই মনে মনে কোনো অখাদ্য গাধাকে পুষছিস। একারণে আমার সাথে বিয়েটা মেনে নিতে এতো ঝামেলা! আমার সাথে ডিলে রাজী হওয়ার পরও তোর নকটামির শেষ নেই।”
কাঞ্চন তাজ্জব বনে গেলো। এই লোকের মাথার পোকাগুলো কি সব গাঞ্জা খেয়েছে! বলে কি? একবার ভালোবাসার বিষ খেয়েছে। মরতে মরতে বেঁচেছে। সেখানে আরেকবার একই কাজ করবে সে? পাগল? কাঞ্চন কড়া স্বরে বললো,

“সকাল সকাল কি মাথার সব তার ছিঁড়ে গেছে। ন্যাড়া একবার ই বেলতলায় যায়!”
“প্রুভ ইট! আই কান্ট সি দ্যাট।”
কাঞ্চনের গা কাঁপছে রাগে। হাতে থাকা ঠোঙ্গাটা একপ্রকার স্নিগ্ধের গায়ে ঠেসে ধরে রাগে গজগজ করতে করতে বললো,
“আমারই ভুল ছিলো, তোমার জন্য নাস্তা কিনতে গিয়েছিলাম। অসহ্য লোক তুমি।“
স্নিগ্ধ এক হাতে ঠোঙ্গাটা ধরে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। ফলে টেবিলের উপর থেকে নেমে গেলো কাঞ্চন। স্নিগ্ধর দৃষ্টি সরু হলো। সন্দিহান কণ্ঠে শুধালো,
“এটা আমার জন্য?”
“না আমার দশটা বর, তাদের জন্য এনেছি। মারা খাও তুমি।“

বলেই হনহন করে সিড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো। কি ভাবে এই লোকটা নিজেকে। কাঞ্চনের কি এতোটা দুঃসময় এসেছে সে চিট করবে। এক বছরের কথা হয়েছে। এই এক বছর যেন তেন করে কাটলেই সে বেঁচে যায়। মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে আছে। বিছানায় মোবাইলটা পরে আছে তার। আজকের সকালটা দারুণ সুন্দর ছিলো। আকাশ মেঘে ঢাকা। বৃষ্টি নামবে নামবে করছিলো। জানালার কাছটা দাঁড়াতেই মনে হলো এই নির্মল, মেঘলা সকালে ঘরে বসে থাকলে অন্যায় হবে। একটু বাহিরে যাওয়া দরকার। ভিন্ন শহরের সকালও নিশ্চয়ই ভিন্ন হবে। সেই আগ্রহতে ব্যাগের ভেতরের পকেট ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো কাঞ্চন। স্নিগ্ধ তখন ঘুমে। ওকে ডাকতে ইচ্ছে হলো না। নিচে নেমে দেখা গেলো দারোয়ান নেই। পরিচয় হলো মাহফুজের সাথে। সে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছে। পরিচয় হতেই সে জানালো সে ব্যাংকে চাকরি করে। আজকে ছুটি। মাহফুজ ই তাকে তাদের এলাকা দেখালো।
খুলনা শহরটা নিরিবিলি। তারা আপাতত যেখানে আসে সেটা একটা আবাসিক এলাকা। খুব গুছানো নয়, আবার খুব অগোছালোও বলা যায় না। বাতাসের বেগ অনেক। ঠান্ডা বাতাস। একটা টঙ্গের দোকানে চা খেলো কাঞ্চন এবং মাহফুজ। নাস্তা কিনলো। এই সুবাদে কাঞ্চনের অনেকগুলো ভিডিও ক্যাপচার করা হলো। মনটা খুব ফুরফুরেই লাগছিলো। কিন্তু সিমেন্টের বস্তা সব নষ্ট করে ফেললো। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ম্যাসেঞ্জারে একটা গ্রুপ খুললো। “পাপী, নাল্লা, বেরোজগার”। সব পটনভীদের যোগ না করে বাছাই করে কিছুদের যোগ করলো। কারণ এখন কাঞ্চনের গালাগাল করতে ইচ্ছে করছে। গ্রুপ খোলার সাথে সাথেই প্রথম ম্যাসেজ এলো রিদমের,

“মুরুব্বিরা কেমন আছেন?”
বলেই ওবায়েদুল কাদের একটি গিফ পাঠালো। অঞ্জনা এলো তিন মিনিট পর,
“নতুন গ্রুপ? বিচিং করার জন্য?”
পৃথুলা তখনও অনলাইনে নেই। সিনে ইকরাম, তাকবীর এবং তাশদীদকে দেখা যাচ্ছে। তাশদীদ ম্যাসেজ এলো,
“সলটি এনিমির সাথে সুইট নাইট কাটলো নাকি সেটাও সলটি? আমরা তো তোর চল্লিশার ব্যবস্থা করছিলাম।“
ওখানে হাহা পড়লো। অঞ্জনা ছাড়া চারটে হাহা। তাকবীর লিখলো,
“আরে কিছু একটা হয়েছে, তাইতো কফির ছবি। চল্লিশা না এখন আমাদের ভাগ্না ভাগ্নীর বার্থডের প্রস্তুতি নিতে হবে।“
“বার্থডে? এতো তাড়াতাড়ি? নয় মাস লাগে না? এখানেও কি আর্জেন্ট ডেলিভারি ব্যবস্থা? ২৫০টাকায় এক মাসেই বাচ্চা হাজির।“
এই শয়তানগুলো ভালো হলো না। কাঞ্চন লিখলো,

“তোরা কি ভালো হবি না রে মাসুদ? তোদের এতো পাপ জমেছে যে শয়তানও তোদের দেখে বলবে, এদের রক্ত দূষিত। আমি ঢুকবো না।“
“ভাই একটা দিন পুরো হাওয়া। ফুপু বললো তোরা নাকি হানিমুনে। আর আমাদের বলিস শয়তান। কত ম্যাসেজ করেছি, রিপ্লাই দিছো? পেজে পোস্ট করছো, “সুইট ব্রেকফাস্ট উইথ মাই সলটি এনিমি”, আবার হার্ট লাগাইছো। শোন খাই আমরা সুজি, কিন্তু একটু হলেও বুঝি।“
“কি বুঝিস বল?”
“এই যে তোদের ইন্টিপিন্টি হয়ে গেছে। স্নিগ্ধ ভাইয়ের জালবার সাথে তুই লায়লার মতো গলে গেছিস। ইশ, স্নিগ্ধ ভাই ছোট হলে আমি নিশ্চিত তোদের মামুন লায়লা ঘোষণা করতাম।“
রিদমের কথার পরেই তাকবীর বলল,

“ওদেরটা মামুন লায়লার থেকে কম?”
“ছিঃ, অন্তত রস আর র‍্যাচেল বলতে পারিস।“
“আইছে আমার পশ। দুদিনের বৈরাগী, ভাতেরে কয় অন্ন। তোদের আমরা দুটো অপশন দিতে পারি, হয় মামুন লায়লা নয়তো অনন্ত আর বর্ষা।“
“আমি আসছিলাম একটু র‍্যান্ট করতে। তোরা তাও দিলো না। এই তোরা আমার ভাইবোন।“
“তুই আইসোস কেন। যা স্বামীর সেবা কর। বর্ষারে দেখছোস, সাকিব খানের দুই বউ হওয়ার পরও ব্যাটা হ্যাপি না। অথচ অনন্ত এক বউ পাইয়ে কি সুখী।“
এবার কথার মোড় পুরো ঘুরে গেলো। অনন্ত জলিল বর্ষাকে কতটা ভালোবাসে সেটা নিয়ে বৈঠক বসলো। অঞ্জনা এরমধ্যেই বললো,
“তোরা কবে আসবি। এখানে কান্ড হইছে।“
“কি?”
“পারভেজ আসতেছে। পৃথুলার সাথে ওর বিয়ের কথা চলতেছে। পারভেজ বলেছে, পৃথুলার সাথে সে ঘুরবে ফিরবে। যদি মনে হয় তারা একে অপরের জন্য পার্ফেক্ট, তাহলে বিয়ে করে চলে যাবে। পৃথুলার মন মেজাজ খারাপ।“
কাঞ্চনের মনটা হুট করেই খারাপ হয়ে গেলো। পটনভী পরিবার কেন তাদের কখনো মূল্য দেয় না। পৃথুলার বিয়ে শাদী করার ইচ্ছে নেই। সে দিন গুনছে এই বাড়ি ছাড়ার। অথচ এখন নাকি তার বিয়ে হবে তাও ওই সাদা বাদর পারভেজের সাথে। পারভেজের পুরো পরিবার নিউজিল্যান্ডে স্যাটেলড। পারভেজ অবাঙ্গালি। তার জন্ম ইন্ডিয়াতে। থাকে নিউজিল্যান্ডে। কেন যেন তার সাথে এই পটনভীদের কোনো মিল পায় না কাঞ্চন। কাঞ্চন লিখলো,

“পৃথুলা রাজী?”
“জানি না। ও কিছু বলছে না।“
“কি আর করার।“
বিয়ে কথা উঠতেই গ্রুপ কেমন শান্ত হয়ে উঠলো। রিদম বেরিয়ে গেলো। ওকে আর এক্টিভ দেখা যাচ্ছে না। কাঞ্চন লিখলো,
“ছাগলটা বেরিয়ে গেছে? তাশদীদ, তোর কি ধারণা ছাগলটা পৃথুলার বিয়ে হতে দিবে?”
“আমার তো মনে হয় ডিজে গানের বেজ দিয়ে “আজ আমার গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে” গানে নাচবে।“
অঞ্জনার রিপ্লাইয়ে হাহা পড়লো। কাঞ্চন লিখলো,
“আমার এখান থেকে আসতে ইচ্ছে করছে না। আবার থাকতেও ইচ্ছে করছে না। স্নিগ্ধ ভাই আর তার মুড সুইং এর সাথে পেরে উঠছি না। মাঝে মাঝে একদম চমচমের মতো মিষ্টি আবার বোম্বাই মরিচের মত ঝাল। গতকাল রাতে হি ওয়াজ সুইট, আর আজকে অসহ্য।“
“এই চুইঝাল কিনে আনিস তো। খুলনার চুইঝাল নাকি বেশ ফেমাস।“
“চুইঝাল, এটা আইলো কেমনে। বিল্লি, আমাদের চাপামাসি আমাদের তার দুঃখবিতান শুনাচ্ছে আর তুই আসোস খানা নিয়ে। ছিঃ, ছিঃ রে বিল্লি ছিঃ”

“শাট আপ”
দরজায় কড়া নাড়লো স্নিগ্ধ। মোবাইল থেকে চোখ তুলে চাইলো কাঞ্চন। সে এসে দাঁড়ালো তার সামনে। ওয়ারড্রব থেকে একটা ড্রেস বের করে কাঞ্চনের কোলে ছুড়ে বললো,
“দুপুরে আজকে দাওয়াত আছে।“
“কোথায়?”
“আমার এক্স কলিগের বাসায়।“
“তো?”
“ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু এম্‌বারেস্ মি।“
কাঞ্চনের দৃষ্টি সংকুচিত হলো। দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“আমাকে নিচ্ছো কেন তাহলে?”
“কারণ আনফরচুনেটলি তুই আমার বউ। রেডি হয়ে যাবি। নয়তো আমি তোকে রেডি করে নিয়ে যাব।“
এই লোকটা এমন কেন? গতরাতে কাঞ্চন ভেবেছিলো লোকটার মধ্যে হয়তো ভদ্র একটা মানুষ আছে। কিন্তু সে ভুল। একেবারেই ভুল। স্নিগ্ধ এসে তার কপালে একটা চুমু আঁকলো। সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো কাঞ্চনের। চোখ বড়বড় করে চাইতেই সে বলল,
“মিসেস পটনভীর সকালের অবাধ্যতার শাস্তি। আশাকরি আর চুমু খাবার ইচ্ছে নেই।“
“তুমি একটা অসহ্য।“
কপাল মুছতে মুছতে বললো কাঞ্চন। স্নিগ্ধ হাতটা চেপে ধরে বললো,
“এখনো তো অসহ্য কিছু করি নি। এখন এতো জ্বললে হবে?”

পটনভী মঞ্জিলের তৃতীয় তালার দক্ষিণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে পৃথুলা। তার গাল ফুলে আছে। একটু আগে মায়ের হাতের আদর খেয়েছে সে। তার মনের তীব্র বিষন্নতা চেহারায় স্পষ্ট। তাকিয়ে আছে মেঘে ঢাকা আকাশটার দিকে। দৈত্যের মতো কালো মেঘেরা ঢেকে আছে নীল আকাশটাকে। আকাশের মতো অবাধ্য কিশোরীকেও মাঝে মাঝে মূর্ছা যেতে হয়। পৃথুলা তো অবাধ্য না। তবে তাকে কেন মূর্ছা যেতে হচ্ছে। একটা দীর্ঘশ্বাস বের হলো অন্তস্থল থেকে। মঞ্জিল থেকে নিচে তাকালো। এখান থেকে লাফ দিলে কি সে মারা যাবে? জীবনটা আর ভালো লাগছে না। দূর্বিষহ আর তেঁতো হয়ে উঠছে দিনের পর দিন। যদি মৃত্যুতে মুক্তি মিলে, তবে মৃত্যু সই।

“মঞ্জিলের উচ্চতা মাপতে মাপতে টপকে যাবি শাকচুন্নি।“
চমকে উঠলো পৃথুলা। পেছনে ফিরতেই ঠোঁটের কোনায় হাসি ফুটলো। ত্যাড়া স্বরে বললো,
“টপকালে হবে। সামনে আমার বিয়ে বলে কথা। শুনেছিস পারভেজ আসছে যে?”
“এই মুখের আলুও নিয়ে পারভেজের সামনে যাবি?”
“যাবো। সমস্যা কি?”
রিদমের চোয়াল কঠিন হয়ে গেলো। বিরক্ত নিয়ে বললো,
“তুই সত্যি বিয়ে করছিস তাহলে। যাক আপদ বিদায় হবে। আমি বেঁচে যাবো।“
“আমি সত্যি তোর কাছে আপদ?”
রিদম থমকালো। হাত শক্ত করে মুঠোবদ্ধ করে বাহিরের দিকে তাকালো। পৃথুলা তাকে জ্বালানোর জন্য বললো,

“শুনেছি, পারভেজ নাকি খুব রিচ। বাপের পয়সায় খায় না। বেশ ইনকাম। আমাকেও বিদেশে নিয়ে যাবে। একদিক থেকে ভালো হয়েছে। আমার জীবন বদলে যাবে। আই হোপ সে অন্যদের মত ফাট্টু না। দেখতেও সুন্দর। একটা মেয়ের আর কি চাই। আমি দেখলাম গতরাতে তার প্রোফাইল। একদম আমার মনের মত। বাকিটা না হয় আমি গড়িয়ে নিব।“
“এতো উড়িস না। বিয়ে হচ্ছে, ইংল্যান্ডের রানী হয়ে যাচ্ছিস না। মনে হচ্ছে শান্তিতে নোবেল পাচ্ছে। যতসব।“
“এতো জ্বলছিস কেন? বিয়ের সুখ তুই কিকরে বুঝবি? সিরিয়াসলি কখনো কাউকে ভালোবেসেছিস?”
রিদম ঘুরেই পৃথুলার বাহু শক্ত হাতে চেপে ধরলো। একেবারে কাছে টেনে নিলো তাকে। পৃথুলার নরম শরীরটা মিশে গেলো তার সুঠাম দেহের সাথে। অথচ সামান্য বিচলিত হলো না পৃথুলা। তার হাসি উবলো না। রিদম কঠিন গলায় বললো,
“তোর বিয়ের আগে আমার আমদানি লোড হবে, সাদা খাতায় লিখে রাখ!”
পৃথুলা হাসি বিস্তৃত করে বললো,
“বিয়ের আগে বাচ্চা! অবশ্য তোর যা স্বভাব। আনাচে কানাচে যে দশ বারোটা বাচ্চা লুকানো আছে কি না কে জানে!”
“শোন শাকচুন্নি, আমি দেখতে লুচ্চা। কিন্তু মন থেকে আমি লয়াল। আমার সবকিছু আমদানীর মার জন্যই তুলে রাখা।”
শেষ কথাটার মধ্যে কি ছিলো জানা নেই, তবে পৃথুলার চোখে পানি চলে এলো। সে তাকিয়ে রইলো রিদমের চোখের বাদামী মনিটার দিকে। খুঁজলো কিছু একটা। যদি এই মুহূর্তে রিদম তার হাত ধরে বলতো,
“পালিয়ে যাবি আমার সাথে পৃথুলা?”
খুব কি মন্দ হত? কে জানে। কিন্তু পৃথুলা জানে, রিদম বলবে না। পৃথুলার ভাঙ্গা কাঁচের মতো। তাকে জড়িয়ে ধরলে রিদমেরও রক্তক্ষরণ হবে।

দুপুরে স্নিগ্ধের পুরাতন এক কলিগের বাসায় গেলো স্নিগ্ধ এবং কাঞ্চন। কলিগের নাম মুজাহিদ। মুজাহিদ আগে র‍্যাবেই ছিলো। কিন্তু সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। কেন ছেড়ে দিয়েছে সেটা শুধাতেই স্নিগ্ধ বললো,
“চল, জানতে পারবি।“
মুজাহিদের স্ত্রী আমেনা দরজা খুললো। মিষ্টি, গোলগাল একটা মেয়ে। কিছু মানুষকে দেখলেই মনে হয় এর মধ্যে কোনো কপটতা নেই। আমেনাও তেমন। দরজা খুলেই বললো,
“আসুন ভাইয়া।“
“মুজাহিদ কোথায়?”
“ও ভেতরে।“

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৭

মুজাহিদ এখন কেন র‍্যাবে নেই সেটা কাঞ্চন বুঝতে পারলো যখন মুজাহিদকে সে দেখলো। হুইলচেয়ারে বসা সৌম্য পুরুষটিকে দেখে এক মুহূর্তের জন্য তার বুকটা ধক করে উঠলো। অপরিচিত মানুষটির প্রতি মায়া হলো ভীষণ। স্নিগ্ধ খুব আস্তে করে বললো,
“আমি এই মানুষটার প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ আবার এই মানুষটার অপরাধীও। ওর এই অবস্থার জন্য কোথাও না কোথাও আমিও দায়ী।“

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৯