Home মন পিঞ্জিরা মন পিঞ্জিরা পর্ব ৩

মন পিঞ্জিরা পর্ব ৩

মন পিঞ্জিরা পর্ব ৩
শ্যামলী রহমান

মিথি আর রিতি গ্রামের মেঠো পথ ধরে স্কুলে যাচ্ছে। বাড়ি থেকে স্কুলের পথ দশ মিনিট মতো হাঁটতে হবে।ভোররাতে বৃষ্টির কারণে কাঁচা রাস্তায় কাঁদা হয়েছে।কোথাও পানি জমে বিচ্ছিরি অবস্থা।এক হাঁটু সমান কাঁদা হয় গ্রাম পেরিয়ে মধ্য পাড়ার গ্রামের মধ্যে।
হাঁটতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে।মিথি পা টিপে এগুচ্ছে
রিতি তার পিছন পিছন আসতে গিয়ে হুট করে পা পিঁছলে ধুপ করে কাঁদায় পড়লো। মিথি চমকে পিছনে তাকালো।দেখতে পেলো কাঁদা জলে মাখোমাখো হয়েছে স্কুল ড্রেস।সে রিতিকে না তুলে ওর কাঁদা মাখা অবস্থা দেখে হি হি করে হেঁসে উঠলো। আশে পাশে কেউ নেই। রিতি অসহায় মুখে মিথির দিকে চেয়ে আছে। মনে হচ্ছে এখনি কেঁদে দিবে। মিথি এবার হাঁসি থামালো। ভুল সময়ে শুধু তার হাঁসি আসে এজন্য কত বকা খায় তবুও শিক্ষা হয়না। সে তাড়াতাড়ি করে মুখ টিপে হাসতে হাসতে এগিয়ে গেলো। হাসতে গিয়ে ভুল করে সেও কাঁদায় পা দিয়ে ফেলে। কাঁদায় জুতো আঁটকে গেছে। জোরে টান দিতেই জুতো গেলো ছিঁড়ে। মিথির মুখ ভার হলো। এই সুযোগে রিতি হেঁসে উঠলো।বলল,

“দেখলে আপা মানুষের দূরাবস্থা দেখে হাঁসতে নাই।
নিজেও দূরদর্শায় পড়লে। এখন চলো বাড়ি খেয়ে আসি আম্মার ঝাড়ি।”
মিথি জুতোটা একহাতে হাতে নিলো।আরেকহাতে রিতিকে টেনে তুললো তার পর দুজনে বাড়ির পথে হাঁটা দিলো।মিথি যেতে যেতে বলছে,নিশ্চিত আম্মার কাছে বকা খাবো দুজনে।
বাড়ি আসতেই মোহনিয়া বেগম মিথির দিকে চোখ গরম করে তাকালো সাথে কত বকা দিলো।
“বড় হচ্ছে তবুও ছোটদের মতো খেয়ালখুশি, রাস্তা ঘাটে ঝাঁপাঝাপি করে বেড়ায়।
রিতির মা তাকেও বকেছে।এখন বকাঝকা খেয়ে দুজনে আবার স্কুলে যাচ্ছে। রিতি মুখ গোমড়া করে আছে। মিথি বকবক করছে মায়ের উপর রাগ ঝারছে।

“কত কথা শুনিয়ে দিলো আমি কি ইচ্ছে করে কাঁদায় পা দিয়েছি বলতো?”
রিতি চুপ করে আছে দেখে মিথি বিরক্ত হলো।তার গোমড়া মুখের দিকে তাকিয়ে সেও চুপ হলো।বাড়ির সকলে মনে করেছে এটা স্কুল না যাওয়ার ফন্দি। চুপচাপ দুজনে চললো।মাঝ পথে স্কুলের সামান্য আগে রুহেলের সাথে দেখা।রুহেল রিতির বড় ভাই মিথির ও বড়।ওদের দুজনকে দেখে বলল,
“এতো দেরি কেন রে কচ্ছপ?তাড়াতাড়ি যা তোদের ক্লাস শুরু হয়েছে।”
মিথি এমনি রেগে আছে কচ্ছপ বলাতে যেন আগুনে ঘি পড়লো।রেগে গেলো, বলল,
“আমি কচ্ছপ হলে তুমি একটা ঢোঁড়া সাপ। সারাদিন ফুসফুস করো কিন্তু কেউ ভয় না।”

রুহেল হাসছে আরো বলছে।তাড়াতাড়ি যা কচ্ছপ নয়তো দেখবি রফিক স্যার দেরি করে যাওয়ার জন্য কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখবে।মিথি ভাবলো সত্যিই তো!দেরি হলে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে রফিক স্যার যে কড়া। তার অংক ক্লাস প্রথম ঘন্টায় পড়ে। তাড়াতাড়ি রিতি কে নিয়ে পা চালালে। হঠাৎ মনে পড়লো আমাদের ক্লাস শুরু রুহেল ভাই কেমনে জানলো?আমাদের ক্লাস রুমটা ভেতরে বাহির থেকে দেখা যায় না। জিজ্ঞেস করতে যাবে এমন সময় রিতি তার হাত টানলো। ভাবলো,ধূর তাড়াতাড়ি যেতে হবে এতো ভেবে লাভ নেই।
স্কুল ছুটি হয় চারটায়।ছুটির ঘন্টা বাজলো সকলে ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি যাওয়ার তাগড়া লাগালো।কেউ আগে দৌঁড়াচ্ছে,কেউ কারো ব্যাগ ধরে টানছে, যেন আগে গেইট পেরোতে পারলে বিশ্বজয় করে ফেলবে। স্কুল জীবনের সবচেয়ে মজা, আনন্দ মিশে থাকে এই সময়টাতে।ছুটির ঘন্টা বাজলে সকলের মধ্যে যে উচ্ছাস দেখা যায় তা অন্য কিছুতে নেই।

মিথি আর অনিমা স্কুলের বড় আম গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে আছে। অনিমা হলো মিথির বান্ধবী তার বাড়ি ওই পাশের গ্রামে। দুজনের পথ আলাদা তবুও গেইট পর্যন্ত একসাথে বেরোয়। মিথি রিতির জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু রিতির আসার নামই নেই।স্কুল যাওয়া আসা একসাথে করে।একসাথেই বাহির হয় কিন্তু আজ তার দেখা নেই কেন? অপেক্ষা করতে করতে অনিমা বলল,
“কোথায় রিতি?সবাই তো বাড়ি চলে গেলো। ও মনে হয় চলে গেছে।”
“দাঁড়া আমি ক্লাস রুম দেখে আসি।”
মিথি ওর ক্লাস ঘরের দিকে গেলো।কিন্তু রুমের ভেতর কেউ নেই শুধু আনিস চাচা দরজায় তালা দিচ্ছে।মিথিকে দেখেই কইল,

“কারে খোঁজতাছো মা?”
“চাচা রিতি কে দেখেছেন?”
“হ অননা আগেই তো বাহির হয়ে গেলো। তুমি দেখোনি?”
“না আমি আমার হয়তো বাহির হতে দেরি হয়েছে।”
মিথি ঘুরে আসলো।পথে তার প্রিয় শিক্ষকার সঙ্গে দেখা হলো।তিনি আমাদের ইংরেজি ক্লাস নেন।ভীষণ ভালো মনের মানুষ এবং সুন্দর পড়ান।উনাকে দেখে মিথি সালাম দিলো,
“ আসসালামু আলাইকুম ম্যাম।”
“ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

শোনো মিথি পরীক্ষা আর খুব বেশি দেরি নেই ভালো করে পড়বে।
কিছু না বুঝলে এসে বলবে তাছাড়া পিয়াস তো আছে সে অনেক ভালো ছাত্র ছিলো এই স্কুলের।সে তো চাকরি পেয়েছে শুনে ভালো লেগেছে।প্রহর কি করে এখন?ছেলেটা আরো বেশি মেধাবি আর সবচেয়ে ভদ্র ছিলো স্কুলে।”
“জ্বী ম্যাম।প্রহর ভাই ঢাকায় পড়াশোনা করছেন এখনো শেষ হয়নি।”
“ওহ ঠিক আছে।সেও নিশ্চয়ই ভালো কিছু করবে এই দোয়া রইলো।”
ম্যাম চলে গেলে মিথিও পা বাড়ালো।স্কুল থেকে বেরিয়ে গেলেও শিক্ষক শিক্ষিকাদের মনে তারাই থাকে যারা তাদের প্রিয় ছাত্র ছাত্রী ছিলো।এটা ভীষণ সুন্দর!দুজনে পরিচিত তাদের নামে সুনাম শুনে ভালো লাগছে মিথির।
মিথি অনিমার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।

“চল রিতি নাকি চলে গেছে দপ্তরি চাচা বললো।”
অনিমা আর মিথি মিলে গেইট পেরোতে দুজনে দুদিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলো।তার আগে বলতে ভুললো না কাল কিন্তু স্কুলে আসবি। তার পর হুট করে অনিমা বলে উঠলো,
“এই মিথি ওটা প্রহর ভাই না?”
মিথি তড়িৎ গতিতে তাকালো।হ্যাঁ সত্যি প্রহর ভাই।দোকানের বেঞ্চে বসে কয়েকজনের সাথে গল্প করছে।তারা উনার স্কুলের বন্ধু আশে পাশের গ্রামের বলে সেও চিনে।ঠোঁটের কোনে উচ্ছসিত হাঁসি লেপ্টে আছে।মূলত তারা সকলে একেক কথায় হেঁসে উঠছে।
পথে দুজনের সঙ্গেও ভাব বিনিময় করছে।মিথি দৃষ্টি আঁটকে রইলো।অনিমা তার দৃষ্টি লক্ষ্য করে দুষ্টমি করে বলল,
“আমার না হওয়া দুলাভাই এসেছে বললি না তো।”
বলেই দাঁত বাহির করে হাসলে অনিমা। মিথি এবার নজর সরালে। কটমট করে তাকালো অনিমার পানে।অনিমা ভয়ে চুপসে গেলো।তড়িঘড়ি করে বলল,

“ঠিক আছে আমি আসি।কাল তাড়াতাড়ি আসিস নয়তো আজকের মতো আবার বকা শুনতে হবে।”
অনিমা এক প্রকার দৌঁড়ে পালিয়ে গেলো মিথি ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো।প্রহর বন্ধুদের সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ চোখ যায় স্কুল গেইটে।যেখানে মিথি ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। তার ভ্রু কুঁচকে এলো।কপালে দুটো ভাঁজ পড়লো।ভাবলো,
সে দাঁড়িয়ে আছে কার জন্য? মনে প্রশ্ন জাগলো।আবার আশে পাশে রিতিও নেই।
প্রহরের ভাবনার সুতো ছিড়লো যখন কেউ একজন বলে উঠলো,
“ওটা মিথি না?তোর জন্য অপেক্ষা করছে নাকি?”
প্রহর চোখ ফিরিয়ে নিলো।স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিলো,
“না আমার জন্য অপেক্ষা করবে কেন?আমি এসেছি ও তো জানেনা।”
তাকিয়ে থাকতেই দেখতে পেলো কোথা থেকে যেন পিয়াস আসলো।বাইক থামালো মিথির ঠিক সামনে।মিথি ভড়কে দু পা পিছিয়ে গেলেও পিয়াস কে দেখে শান্ত হলো।পিয়াস বলল,

“মিথি বাড়ি যাসনি কেন?চড় তাড়াতাড়ি।”
মিথি উঠে বসলো আর জিজ্ঞেস করলো,
“আপনার স্কুল শেষ?”
“হ্যাঁ ছুটি হলো। রিতি কেথাই?তুই একা কেন?”
“রিতি নাকি আগেই চলে গেছে।আমাকপ বলে পর্যন্ত যায়নি।”
পিয়াস আর কিছু বললো না।বাইক চললো। দুজনে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলো পথের আড়ালে। পিছন থেকে কেউ একজন শুধু নিষ্পলক তাকিয়ে রইলো।যে তাকানোর কেবল অজানা সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলো।

মিথি বাড়ির বাশে সান বাঁধানো পুকুর পাড়ে বসে আছে। এই পুকুরটা অনেক আগের। এখানে শমসের দেওয়ান আর মিথির দাদা তোফায়েল পৈত্রিক সম্পদ হিসাবে ভাগে পেয়েছিলো। পুকুরে দুই বাড়ি মিলিয়ে মাছ ছাড়া হয়। পুকুরে বড় বড় মাছ আছে। যেমন রুই, তেলাপিয়া, শৈওল সহ ছোট মাছ ময়া,পুঁটি আরো অনেক রকমের মাছ আছে ছেড়ে দেওয়া আছে।মিথি তখন একাই বসে ছিলো।একা বসে বসে কি যেন ভাবছে সে।তখনই শার্লিন এসে পাশে বসলো। মিথি তাকালো তার মুখপানে।
ঠোঁটের কোনো হাঁসি ঝুলে আছে। তা দেখে মিথি জিজ্ঞেস করলো,
“এতো হাঁসির কারণ কি আপা?”
শার্লিন মশকরা করে বলল,
“প্রেমে পড়েছি।”
মিথি বিশ্বাস করলো না। সে তার আপা কে চিনে তাই বলল,

“তুমি প্রেমে পড়বে?ওই যে পাশের গ্রামের তাহের ভাই প্রস্তাব দিয়েছিলো এজন্য কি কাহিনি আমি কিন্তু ভুলিনি।”
শার্লিন আবারো দাঁত বাহির করে হাসলো।মিথির কাঁধ জড়িয়ে ধরে গাঁ এলিয়ে দিয়ে বলল,
“আহারে মিথি তোর মতো আমারে কেউ বুঝে না।
তোর একটা ভাই থাকলে সত্যিই তার গলায় ঝুলে যেতাম,প্রেম পুকুরে বঁড়শি ফেলে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলতাম।”
মিথি হা হয়ে গেলো। চোখ বড় করে তাকালো যেন সে ভুল শুনছে। শার্লিন তার অবিশ্বাস্য চাহনি দেখে মজা নিচ্ছে। মিথি এবার একটুখানি ভেবে চট করে বলে ফেললো,
“নিজের ভাই নেই তো কি হয়েছে?কত ভাই তো আছে। ”
শার্লিন অজানার ভান করে শুধালো,
“কোন ভাই?”
মিথির সরল শিকারক্তি।

“পিয়াস ভাই,প্রহর ভাই, রাহেল ভাই তার পর শহুরের জাহিদ ভাই। আর কতজন লাগবে?”
শার্লিন এবার হা হয়ে গেলো। কি যুক্তি তার! মূহুর্তে কত ভাইয়ের লিস্ট দিলো। সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“এতো ভাই নিয়ে ঘুম পাড়িস কিভাবে? মাথায় থাপড় দেয় না?শাসনে রাখে না?”
“ওটা এমন নয় আপা। এতো বুদ্ধি নিয়ে ঘুমাস কিভাবে? এমন হবে।”
শার্লিন মজা করতে ভুল বলেছিলো মিথি তা বুঝতে পারলো না।সে কেবল তার হাঁসির কারণ বুঝার চেষ্টা করছে।তাদের পিছনে কেউ এসে দাঁড়িয়েছো তাদের কথাও শুনছে সেদিকে দুজনের খেয়াল নেই।
“প্রহর নাকি?কবে আসলি?”
প্রহরের নাম শুনতেই শার্লিন আর মিথি চমকে তাকালো। তাদের ঠিক তিনহাত মতো পিছনে প্রহর দাঁড়িয়ে আছে।দৃষ্টি তাদের দিকেই নিবদ্ধ শার্লিন স্বাভাবিক থাকলেও মিথির অস্বাভাবিক লাগছে সে দৃষ্টি। কেমন মাদক মেশানো, যেন তাকালেই ধ্বংস। মিথি চট করে চোখ ফিরিয়ে নিলো।
প্রহর তার কথা বলা শেষ করলো।লিলি এসে বসলো ওদের দুজনের পাশে। মিথি জিজ্ঞেস করলো,

“কেমন আছো লিলি আপা?”
লিলি উদাস হয়ে ভারি শ্বাস ছেড়ে উত্তর দিলো,
“ভালোই আছি।তবে বিয়া করে জীবনডা তেঁজপাতা।”
মিথি কৌতুহল নিয়ে জানতে চাইলো,
“কেন আপা কি হয়েছে?দুলাভাই কি মারধোর করে?বকা দেয়?”
মিথির এমন ভাবনাতে লিলি হাসল, বলল,
“ধূর এমন কিছু নয় তবে বিয়ের আগে বাপের বাড়ির জীবন আরামের আর সুন্দর ছিলো।বিয়ের পর দায়িত্ব সারাদিন রান্না করো,বাসন মাজো,গোবর তোলো আরো কত কি?এর চেয়ে পড়াশোনা করা ভালো ছিলো।”

“এই বুবু এই কথা তুমি রিতিকে গিয়ে শোনাও।
ও এখন থেকে বলে পড়াশোনা করে লাভ নেই, সেই তো গোবরের ডালি চাড়তে হবে। পার্থক্য শুধু এতটুকু ‘শিক্ষিত ঝি আর অশিক্ষিত ছি।’
মিথির কথায় সকলে শার্লিন আর লিলি হেসে উঠলো। কেবল প্রহর বলল,
“যেমন গুরু তেমন শিষ্য।
দুটোতে একই।একজন পড়া চোর আরেকজন আম-জাম চোর।”
মিথি রাগ হলো। উঠে দাঁড়ালো তখনাৎ।প্রহরের সামনে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে বলল,
“আম-জাম চুরিকে চুরি বলে না। এটা হলো আমাগো অধিকার। গাছের আম-জাম গ্রামের পোলাপানরা একটু আধটু না খেলে কে খাবে?অন্যের গাছের জিনিস চুরি করে খাওয়ার মজাই আলাদা। বলেই জিদ নাড়ালো,আহহহা!
প্রহরের চোখ ভাঁজে ছোট হয়ে এলো। ঘাটের অন্যপাশটায় বসতে বসতে জানতে চাইলো,

“তোদের এই অধিকার কে দিয়েছে শুনি?”
“কে আবার?গাছ দিয়েছে!বলেছে সবারই তার থেকে অধিকার আছে।যে লাগিয়েছে তার বেশি আর আমাদের কম।”
মিথির যুক্তিতে শার্লিন আর লিলি গটগটিয়ে হেঁসে চলেছে। প্রহর অবাস্তব উত্তর শুনে স্থির হয়ে বসে আছে। তখনই মিলন ভাইয়ের আগমন হলো। হাতে তার মাছ ধরার জাল।
প্রহর আগে বলল,
“মাছ তুলবে?”
“হ্যাঁ দাদু কইল পুকুরের বড় মাছটা তুলতে। সমস্যা হলো উঠবে কিনা। দাদু মাছটা তোর জন্য রাখছে তুই আসলে তুলবে বলে।”
প্রহর শুনলো একটু পর উত্তরে বলল,

“আমি এমন কে যার জন্য রাখতে হবে?
বড় মাছ ভালো লাগে না এখন,
সময় পেরিয়ে গেছে পরিবর্তন হয়েছে পছন্দ।
সময়ের সাথে সবই পরিবর্তন হয়। আজ এটা খেতে ভালো লাগছে কাল সেটাই ভালো লাগবে না।
হয়তো সেটা রুচির কারণে নয়তো বা সময়ের ব্যবহারের কারণে।”

মন পিঞ্জিরা পর্ব ২

তার কথা বোধহয় কেউ শুনতে পেলো না, তবে মিথি ঠিকই শুনেছে। ধীরে বলা কথা গুলো শান্ত মতিষ্কে কয়েকবার ভাবলো। বুঝতে পারলো না কথা গুলো তবে শেষেরটায় গড়মিল হলো।
রুচির পরিবর্তন নাকি সময়ের ব্যবহার কোনটা?সে তো এ বাড়িতেই থাকতো তবে?
এই তবের উত্তর কেবল প্রহরই জানে।সে কি উত্তর দিবে?”

মন পিঞ্জিরা পর্ব ৪+৫