Home মহামায়া মহামায়া পর্ব ৭

মহামায়া পর্ব ৭

মহামায়া পর্ব ৭
তুশকন্যা

সকাল সকাল ইনায়া তার রুমে বেশ ব্যস্ততার সাথে সময় পার করছে। আজ ছুটির দিন। তাই সে তার অস্কারকে সময় দিচ্ছে। অস্কার হলো এক রেডরনি ট্যারেনটুলা মাকড়শা। যা দেখতে বেশ বড় আকৃতির ও সারা শরীর লাল-কালো ও সাদা-গাঢ় কমলা রঙের মিশ্রিত,ছোট ছোট পশম দ্বারা আবৃত।

মাকড়শার প্রতি কারো বিশেষ আগ্রহ বা শখ না থাকলে, যে কারোরই এসব দেখে ভয় পাবার কথা। কিন্তু ইনায়া সম্পূর্ণ নির্বিকার ভঙ্গিতে তার অস্কারের সাথে সময় কাটাচ্ছে। হাতের তালুতে বড় আকারের অস্কারকে রেখে,তার লোমযুক্ত পিঠে আলতোভাবে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তার চোখে-মুখের ভাবভঙ্গি বেশ অদ্ভুত। চোয়াল শক্ত, তীক্ষ্ণ চাহনি। কাঁধ অব্দি সিল্কি চুলগুলো খানিকটা নিচের দিকে ঝুঁকে রয়েছে।
এরিমধ্যে আচমকা তার ঘরে তারেক প্রবেশ করে। ঘরের ভেতরে কারো উপস্থিতি টের পেয়েও,তার মাঝে বিশেষ হেলদোল হয় না। এদিকে মেয়েকে এই আজব প্রাণীটার সাথে সময় কাটাতে দেখে,তারেকের চোখমুখ কিছুটা কুঁচকে যায়। তবুও সে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে,ইনায়ার কাছে এগিয়ে এসে বলল,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“আবার এটাকে নিয়ে খেলা করছো?”
বাবার কথায় ইনায়া তার দিকে না তাকিয়েই, বেশ গম্ভীর স্বরে জবাব দেয়,
“আমি বাচ্চা নই বাবা। তাই এটার সাথে খেলা করছি ভাবলে ভুল হবে।”
তারেক ভারী শ্বাস ফেলে মেয়ের কথায় মৃদু হাসে। মাকড়শাটাকে পরখ করে দেখে নিয়ে ইনায়ার উদ্দেশ্যে বলল,
“তা তো ভালোই বুঝতে পারছি। যাই হোক,এটা কত বছর বাঁচে?”
—“কম করে হলেও বিশ বছর।”
—“বাপরে,অনেক বছর!”

ইনায়া আর কিছু বলে না। তাই তারেক ওর কাজকর্ম দেখতে দেখতেই বলে,
“সত্যি বলতে, তোমার এই আজব প্রাণীটা নিয়ে এতো ছলাকলা করার ব্যাপারটা আমার বিদঘুটে লাগে। কিন্তু আমি তোমায় কখনোই কোনোকিছুতে মানা করিনি। তোমার সব ইচ্ছে পূরণ করেছি,তোমাকে নিজের মতো চলতে দিয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে হলেও,এই বিষয়টা নিয়েও আমি কিছু বলতে চাই না।”
মাকড়সার গায়ে ইনায়ার হাতটা স্থির হয়। তবে সে নজর না ফিরিয়েই তারেকের উদ্দেশ্যে বলল,
“এমনটা তুমি আপুর বেলায় কেনো করো না? শুধু আমার বেলাতেই কেনো এতো স্বাধীনতা?”
ইনায়ার গম্ভীর কন্ঠস্বরে তারেক কিছু সময়ের জন্য থমকায়। পরক্ষণেই নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,

“তোমরা দুজনেই আমার মেয়ে। আমার রক্ত তোমরা। তাই তোমার মায়ের মতো এসব চিন্তাভাবনা করা বন্ধ করো।”
—“সরি বাবা,এটা আমার মায়ের চিন্তাভাবনা কিনা জানিনা। তবে আমিও জানতে চাই,আমরা দুজনই তোমার মেয়ে হওয়ার পরও—কেনো তুমি দুজনের মাঝে এতো বিভেদ তৈরি করে রেখেছো?”
তারেকের চোয়াল শক্ত হলো। ইনায়া নিজের বাবার দিকে নির্বিকার চাহনিতে প্রশ্নের জবাব পেতে তাকায়। তারেক খানিকটা সময় নিয়ে বলল,
“এটা তোমাদের ভুল ধারণা। আমি মোটেও…”

—“মিথ্যে বলা আমি পছন্দ করি না। আশা করি, তুমিও এটা পছন্দ করো না। আমি এইটুকু তো জানি,কোনো বিশেষ এক ঘটনা রয়েছে যার জন্য আজ সবকিছু না চাইতেও অসম লাগে। কিন্তু এটা আমি কিংবা আপু জানি না। যাই হোক,তোমরা না চাইলে আমিও জানতে চাইনা। কিন্তু আমাকে একরকম আর আপুকে ভিন্ন নজরে দেখাটা, আমার মোটেও পছন্দ না।”
তারেক খানিক ভারী শ্বাস ফেলে বলল,
“তুমি যথেষ্ট বড় হয়েছো। তবে এতোটাও বড় হওনি যে,তোমার এসব নিয়ে ভাবাটা প্রয়োজন। যা পাচ্ছো, তা উপভোগ করো। জীবন খুব অল্প সময়ের।”

—“হুম।”
ইনায়া আর কিছু না বলেই,গম্ভীর্যের সহিত নিজের নজর সরিয়ে নেয়। এরিমধ্যে তারেক স্বাভাবিক হয়ে তার উদ্দেশ্যে আবারও বলল,
“তোমার পড়াশোনা কেমন চলছে? সামনে তো বোর্ড এক্সাম।”
—“এই তো ভালোই।”
—“যাক,টেস্ট তো হয়ে গিয়েছে৷ মার্ক কেমন এসেছিলো?”
—“নাইন্টি সেভেন পারসেন্ট।”
তারেক বেশ খুশি হয়ে বলল,
“সাব্বাশ! এই না হলো আমার মেয়ে। আমি জানি,একমাত্র তুমিই আমার মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে।”

—“আপু হয়তো নাইন্টি নাইন পারসেন্ট তুলেছিল। আশা করি এবারের বোর্ড এক্সামেও সে টপ করবে।”
হঠাৎ আবারও আনায়ার প্রসঙ্গ তুলতেই, তারেক ভারী শ্বাস ফেলল। ইনায়া যে কেনো বারবার আনায়ার কথা বলল,তা আর বুঝতে বাকি নেই।তারেক এবার প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে নিতে বলল,
“আনায়ারা তো আগামীকাল আসছে তাই না?”
তারেক এতোসব কিছুতে নজর রাখতে পারে না। বাড়ির সদস্যের বেশিরভাগ খোঁজ খবর সে ইনায়ার কাছ থেকেই নেয়। ইনায়াও বাবার ব্যস্ততার ব্যাপারটা বুঝতে পেরে,ভারী শ্বাস ফেলে আওড়ায়,

“না, আজ বিকেলেই তারা ফিরে আসছে। ওখানকার আবহাওয়া বর্তমানে খুব একটা ভালো নয়। তাই… ”
—“ওহ্,তাহলে তো ভালোই হলো। আজ তোমার মামা ফোন করেছিলো। রেহান দেশে ফিরেছে। আজ দুপুরে আমাদের বাড়িতে আসবে তারা।”
—“হু,মা বলেছে।”
মেয়ের এমন রুক্ষতায় তারেক কখনোই কিছু মনে করে না। ইনায়াকে তার এমন রূপেরই পছন্দ। যদিও শেষমেশ সে তাকেও ছাড় দিতে নারাজ, কিন্তু তবুও ইনায়াকে নিয়ে তার কোনো অভিযোগ,আক্ষেপ নেই। এতো অল্প বয়সেও,এতো মেধাবী,বিচক্ষণ একইসাথে গম্ভীর স্বভাবের মেয়ে সে কমই দেখেছে। এই নিয়ে তারেকের বেশ গর্ববোধও হয়। কিন্তু আনায়ার প্রতি তার ভালোবাসার ধরনটাও অনেক বেশি অদ্ভুত। যা আজ পর্যন্ত কেউই কখনো বুঝতে পারেনি।

এতোটা পথ জার্নির পর অবশেষে,বিকেলের প্রহরে আনায়া বাড়িতে পৌঁছেছে। এসেই দেখতে পায়, বাড়িতে তার মামা-মামী এসেছে। রাফায়েল আহমেদ চৌধুরী হলো অনামিকা চৌধুরীর একমাত্র ভাই এবং তার একমাত্র ছেলে হলো রেহান আহমেদ চৌধুরী।
রাফায়েল বর্তমান রাজনীতি জগতের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য তথা এমপি। এবং আশা রাখা যায়,খুব শীঘ্রই তিনি মন্ত্রী পদের জন্য, বিবেচিত হবে। অন্যদিকে রেহান কানাডায় এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে জব করে। যথারীতি মেয়ের পাত্রপক্ষ হিসেবে, তারেক এহসানের বেশ পছন্দ ও আগ্রহ রয়েছে এই পরিবারের প্রতি।
অন্যদিকে আনায়াও রেহানকে ছোট থেকেই চেনে বিধায়,তারও রেহানকে ভালোই লাগে। বেশ ভদ্র আর মিশুক স্বভাবের সে। সহজেই যে কারো সাথে মিশে যায়। আর আনায়ার কথা তো না বললেই নয়, পারিবারিক ভাবে বিয়ের বিষয়টা জানাজানি হবার পর থেকেই সে আনায়াকে নিজের বউপাখি বানিয়ে নিয়েছে। অথচ বিয়েটা হতে হাতে আরো বেশ কিছুদিন বাকি রয়েছে।

আনায়া রুমে প্রবেশ মাত্রই, ব্যাগগুলো কোনোমতে ঘরে রেখে সোজা ওয়াশরুমে চলে যায়। লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে, মাথায় তোয়ালে পেঁচিয়ে,হালকা সাদা ও হলদেটে রঙের গাউন পড়ে, ঘরে প্রবেশ করে। এবং মাথা থেকে তোয়ালে খুলেই,ভেজা চুল এলিয়ে দিয়ে সে কিছু একটা খুঁজতে লাগল।
আনায়া রুমের এদিক-সেদিক কোণের মাঝে উঁকি দিয়ে আওড়াতে লাগল,
“বানি? তুমি কোথায়? এই দেখো,আমি ফিরে এসেছি। তুমি কি ঘরে আছো?”

আনায়া এই বলেই তার পোষা ধবধবে সাদা রঙের খরগোশটাকে খুঁজতে লাগল। বেশিরভাগ সময় তো তার ঘরেই সে থাকে। এমনিতে তার অনুপস্থিতিতে বানির দায়িত্বটা সে এই বাড়ির কাজের লোক ও মা-কে দিয়েছিলো। কিন্তু নিজের ঘরে বানির উপস্থিতি না দেখে, আনায়া হতাশ হয়ে ভাবলো—হয়তো সে নিচে রয়েছে।
এরিমধ্যে আচমকা তার ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে এক সুঠাম দেহের সুদর্শন পুরুষ প্রবেশ করে। গায়ে জড়ানো ব্রাউন জ্যাকেট, সাদা টিশার্ট ও কালো রঙের প্যান্ট। রেশমের ন্যায় চুলগুলো পরিপাটি করে গোছানো। চোখে-মুখে অদ্ভুত দীপ্তি। ঠোঁটের কোণে বিস্তৃত মুচকি হাসি। হাতের আদলে কোলের মাঝে ধবধবে সাদা লোমযুক্ত একটি ছোট্ট খরগোশ। লম্বা সাদা কান দুটোর মাঝে খানিকটা গোলাপী আবরণ।
আনায়া পেছনে ফিরে তাকানোর পূর্বেই, সেই সুদর্শন তার উদ্দেশ্যে বলল,
“হ্যালো বউপাখি! তুমি কি একেই খুঁজছিলে?”
আচমকা পরিচিত কন্ঠস্বরে আনায়া চমকে তার দিকে ফিরে তাকায়। অকস্মাৎ নিজের চোখের সামনে রেহানকে দেখে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয় সে।

এদিকে রেহান বিস্তৃত হেসে তার কাছে এগিয়ে এসে, তার বিস্ময়ে পূর্ণ চাহনিতে চোখ মিলিয়ে বলল,
“সারপ্রাইজ! খুশি হওনি আমায় দেখে?”
আনায়া শুরুতেই কিছু বলল না। পরক্ষণেই নিজেকে তটস্থ করে আওড়ায়,
“রেহান ভাই তুমি! কবে এসেছো? কই,আমাকে তো কিছুই জানাও নি!”
—“ঐ যে বললাম সারপ্রাইজ! তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন তো আমি নিজেই সারপ্রাইজড হয়ে গেলাম।”

—“মানে?”
—“এই যে,আমার বউপাখি আমাকে রেখেই নিজের মতো ঘুরতে চলে গিয়েছে। আবার যাকে বউপাখি বলে বলে আমার অক্কা পাবার দশা, সেই বউ পাখিই আমাকে এখনও ভাই ডাকছে। দুদিন বাদে বিয়ে,এরচেয়ে বড় সারপ্রাইজ আর কি হতে পারে?”
রেহানের নাটকীয় ভঙ্গিতে বলা কথাবার্তায় আনায়া অনিমেষেই হেসে ওঠে। নিমিষেই তার গালের দুপাশে সদৃশ হয় ছোট-বড় টোল। নিমিষেই রেহান তা দেখে, পুনরায় মুগ্ধ স্বরে আওড়ায়,
“হায়য়য়! আমার এই বউপাখিতে,কারো নজর না লাগুক!”
আনায়া লজ্জায় আবারও মৃদু হেসে ফেলে। এবং তৎক্ষনাৎ বানিকে নিজের কোলে নিয়ে,পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তার উদ্দেশ্যে আওড়ায়,

“বানি! এই আঙ্কেলকে ভালো লেগেছে?”
আনায়ার কথায় তার অবুঝ পোষা প্রাণীটা কি বলল কে জানে!তবে নিমিষেই সে অদ্ভুত ভঙ্গিতে আনায়ার কোলে নানান আচরণ করতে লাগল।নিমিষেই আনায়া বুঝে যায়,বানি রেহানকে পছন্দ করেছে। কিন্তু রেহান দুজনের দিকে সন্দিহান দৃষ্টিতে পরখ করে বলল,
“তুমি ওকে কি ভাবো?”
আনায়া রেহানের দিকে তাকিয়ে তার কথা বোঝার চেষ্টা করে। পরক্ষণেই মৃদু হেসে বানির দিকে তাকিয়ে আওড়ায়,
“ও আমার বাচ্চার মতো। তাই আমি ওর মা—বানি আমার ছেলে।”

—“তাহলে আমি ওর আঙ্কেল হই কি করে?হিসেবে আমিও ওর বাবা-ই হবো। দ্যাটস্ মিন,ও আমারও ছেলে।”
রেহানের এহেন কথায় আনায়া আবারও হেসে ফেলে। রেহান কতটা মিশুক। সহজেই কি সুন্দর এসব বিষয়েও মজাদার ভাবে কথা বলে। এইজন্যই তাকে তার বেশ ভালো লাগে। বিয়ের পর দেশ হয়তো ছাড়তে হবে,কিন্তু রেহানের মতো যে জীবনসঙ্গী তার কপালে জুটেছে—এটাই তো সবচেয়ে বড় ভাগ্যের বিষয়।
এরিমধ্যে রেহান তার উদ্দেশ্যে বলল,
“বউ পাখি!”
—“হু!”
আনায়া উৎসুক দৃষ্টিতে রেহানের দিকে তাকাতেই,সে বলল,
“বিয়ে নিয়ে কি ভেবেছো? তুমি প্রস্তুত তো? আমি কিন্তু সত্যিই অনেক বেশি এক্সাইটেড। ফাইনালি, আমাকে আর একা একা থাকতে হবে না।”

রেহানের অভিব্যক্তিতে আনায়া মৃদু হাসে। পরক্ষণেই খানিক ইতস্তত স্বরে আওড়ায়,
“সত্যি বলতে,আমার দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবলেই…’
আনায়া এই বলে থেমে যেতেই,রেহান ভারী শ্বাস ফেলে মলিন হেসে বলল,
“বউপাখি! তুমি তো তোমার মামাকে কিছুটা হলেও চেনো। বাবা,কখনো চায়নি আমি দেশে থাকি। অবশ্য এদেশের সকল রাজনীতির সাথে যুক্ত মানুষজন নিজেদের সন্তানদের ছোট থাকতেই দেশ ছাড়া করে। তাদের মতে তাদের সন্তান বিদেশেই ভালো থাকবে,নিরাপদে থাকবে একইসাথে মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু সত্যি বলতে,আমার কখনোই বিদেশ পছন্দ ছিলো না। সেই ছোট বেলা থেকে এখন অব্দি আমি একা একা বিদেশেই থাকছি। অথচ আমার পুরো একটা পরিবার রয়েছে। এ যেন,সবাই থেকেও কেউ নেই।”
রেহান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিজের কথার সমাপ্তি ঘটায়। আনায়ারও যেন কিছুই বলার নেই। তার বাবার মতো রেহানও নিজের বাবার কথার অবাধ্য হতে পারেনি কখনো। তাকে যখন যা বলা হয়েছে,শেষ অব্দি তাকে তাই করতে হয়েছে।

বিশাল বড় এক ডুপ্লেক্স বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রইছে কুচকুচে কালো মার্সিডিজ বেঞ্চ জি-ওয়াগন।দেখতে যা অন্যসকল জিপের ন্যায় মনে হলেও খানিকটা ভিন্ন। বাড়ির মেইন গেটের সামনে রয়েছে সিকিউরিটি গার্ডদের কঢ়া নিরাপত্তা। মন্ত্রী তারেক এহসানের রাজকীয় সাজসজ্জায় পরিপূর্ণ আবাসস্থল বলে কথা।
গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে ভাবুক চিত্তে দাঁড়িয়ে রইছে পাভেল। তার পাশে নির্বিকারে দাঁড়িয়ে রয়েছে কেনীথ। দুজনের পরনেই চকচকে পাঞ্জাবি। পাভেল সাদা রংএর আর কেনীথ কালো রংএর একটা সুতি পাঞ্জাবি পড়েছে। হাতা গুলো কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে রাখা। কেনীথের বড় বড় এলোমেলো ডার্ক কফি ব্রাউন রঙের চুলগুলো এবার কিছুটা পরিপাটি করে হাফ মেসি বান করে বাঁধা। অন্যদিকে পাভেলের কোঁকড়ানো একঝাক চুলও সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছে। এ যেন আটঘাট বেঁধে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে দুজন।

তারেক এহসানের সাথে তাদের সম্পর্কটা বেশ জোড়ালো। কেননা তারেক এহসান আর কেউ না বরং তারই সৎ চাচা। অর্থাৎ কেনীথের দাদা আহমদ এহসানের প্রথম স্ত্রী নূরজাহান ঘরের সন্তান হলো কেনীথের বাবা ভাহিদ এহসান। অন্যদিকে তারেক এহসান হলো আহমদ এহসানের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে। যদিও বর্তমানে আহমদ এহসান এবং তার ছোট স্ত্রী অর্থাৎ তারেকের মা এখন আর পৃথিবীতে নেই। তবে কেনীথের নিজ দাদী কিংবা ভাহিদ এহসানের মা নূরজাহান এখনও জীবিত রয়েছেন।

এবং তাদের বর্তমান সমস্যার একটি বড় কারণ হলো চট্টগ্রামের এহসানদের বড়সড় কিছু পারিবারিক জমিজমা ও সম্পত্তি। যেটা গত কয়েক বছর ধরেই তারেক এহসান সম্পূর্ণটাই নিজের দখলে নিতে চাচ্ছে। যদিও অল্প কিছু বয়সের হলেও, তারেকের চেয়ে ভাহিদ বড়। কিন্তু ভাহিদকে কখনো বড় ভাইয়েই সম্মান দেয়নি তারেক। একদিকে সে তো আবার মন্ত্রী, অন্যদিকে ভাহিদ হলো তার চোখে সামান্য একজন সিটি মেয়র। যতই ভাহিদ তার বড় ভাই হোক না কেনো, তার মন্ত্রী হওয়ার গৌরবেই—প্রতিনিয়ত ভাহিদকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে নিজেকে বড় ভেবে আসছে। এছাড়া অতীতের পুরোনো ক্ষো”ভ তো তার রয়েছেই। সবমিলিয়ে দুই পরিবারের সম্পর্ক,নিত্যান্তই মারা”ত্মক আকারে ধারণ করেছে।

এদিকে ভাহিদ চাইছে পূর্বে যা হওয়ার হয়েছে। কিন্তু এখন আর নিজের একমাত্র ছেলেকে দেশের বাহিরে রেখে লাভ নেই। তার বর্তমানে ইচ্ছে একটাই যেন এবার ছেলে ভিভিয়ানও দেশের রাজনীতিতে জড়িয়ে যায়। একদিকে দেশের ছেলে দেশেও থাকবে, অন্যদিকে এবার তারেকের সঙ্গে সঠিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে নিজের পরিবর্তে না হয় তার ছেলে লড়বে। এমনিতেও তার মেয়রের পদও আর কিছু সময় পর হাতছাড়া হয়ে যাবে। নিজেই আর কতদিন, এবার ছেলেকে দিয়েই বাকিটা সামলাতে হবে।
তবে ভাহিদ তার মনের এইসকল ইচ্ছে মনের অন্তরালেই আপাতত চাপা রেখেছে। কেনীথকে সে শুধু বলেছে, তার চাচা তারেক পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে প্রচন্ড বাড়াবাড়ি করছে—গত কয়েক বছর ধরে। এখন তার কাজকর্ম আরো খারাপের দিকে এগোচ্ছে।

ভাহিদ আর এই বয়সে এসব সহ্য করতে পারছে না। তার ছেলে হিসেবে এবার কেনীথকেই বাকিটা সামলাতে হবে। যদিও কেনীথকে তার পরিকল্পনার সবটা সে জানায়নি। একইসাথে ছেলেকে খুশি করতে ছেলের পছন্দ মত বাইক আর গাড়ি কিনে রেখেছে। যদিও এসব বরাবরের মতোই কেনীথের কাছে হাস্যকর লেগেছে। এতোবছরে তো সে তার নিজের পরিবারের সাথে ঠিকঠাক মতো কথাও বলেনি। আর বাকি রইলো তার বাবার কাজকর্ম; কিছুটা হলেও আন্দাজ করে রেখেছে সে—এসবের উদ্দেশ্য ঠিক কি হতে পারে।
কেনীথ ভাহিদের হাতে বাঁধা ছেলে নয়। এই ছেলে পাগলাটে, একে জব্দ কিংবা বশে রাখার মতো ক্ষমতা বাপ হয়ে ভাহিদেরও নেই। আর শুরু থেকে সব সমস্যার শুরুটা তো তার এই গুনধর ছেলেই করে গিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এতো বলে কয়ে এতোদিন পর তাকে দেশে আসার জন্য রাজি করতে পেরেছে। যদিও অল্প কিছু সময়ের জন্য কিন্তু ভাহিদ চায় এর মাঝেই কিছু একটা ব্যবস্থা হয়ে যাক।

বর্তমানে ভাহিদের কথা অনুযায়ী চট্টগ্রাম থেকে পাভেল আর কেনীথ ঢাকায় এসেছে। মন্ত্রী তারেক এহসান ওরফে তার সৎ চাচার বাড়ি। কাজ হলো সেই পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলাঝাটি বন্ধ করা। যদিও তারা জানে তারেক এতো সহজে মানবে না। কিন্তু তারা যত দিন দেশে রয়েছে ততদিন এসবের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে।
পাভেল আর কেনীথ বাহিরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আশেপাশটা দেখতে দেখতেই, কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে একজন সিকিউরিটি গার্ড এসে জানায় যে—তাদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যা শুনে কেনীথ খানিকটা বিরক্তিতে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে ভেবেও পায় না যে, কপাল কতটা ফাও হলে এমন চাচা কপালে জোটে। চাচার বাড়িতে ঢুকতেও কিনা পারমিশনের জন্য আধঘন্টা ধরে মেইন গেইটের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
—“আঃ ফাকিং গ্রোস!”

কেনীথ বিরক্তি আর রা’গে এটুকু বিড়বিড় করে বলতে বলতেই গেইটের দিকে এগিয়ে যায়। গেইট খুলতেই দুজনে ভেতরে প্রবেশ করে কিছুটা অবাক হলো। বাগান সহ চারপাশে বিশাল জায়গা জুড়ে কোনো অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। চারপাশে লোকজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যে যার মতো কাজে ব্যস্ত। পাভেল কৌতুহলে বলে ফেলল,
“কাহিনি কি ব্রো! মন্ত্রী আবার বিয়ে করছে নাকি?”
কেনীথ কপাল কুঁচকে রেখেছিল। পাভেলের কথায় কিছু বলল না। বরং কুঁচকে রাখা কপালের ভাজ মিলিয়ে দিয়ে কিঞ্চিৎ বাঁকা হাসলো। অতঃপর পুরনোয় চেহারার ভাবগতিক গম্ভীর করে দৃঢ় পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল।
বাড়ির সদর দরজা খোলাই ছিল। দরজার বাহির থেকেই ভেতরের লোকজনের আনাগোনা-ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। কেনীথ আর পাভেল দুজনে ভেতরে প্রবেশ করতেই, দুজন কাজের লোক তাদের বলল সোফায় বসে অপেক্ষা করতে। এবং তারা তড়িঘড়ি করে ছুটলো ভেতরে থেকে লোক ডাকতে। কেনীথ আর পাভেলও চুপচাপ সোফায় বসলো। কেনীথ গম্ভীর্যের সাথে খানিকটা মাথা ঝুকিয়ে, দু’হাতের আঙুল এক করে—দুই হাঁটুর উপর দুই কনুই রেখে বসে রয়েছে। সামনের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে ড়িয়ে পড়েছে। বাম হাতের কালো রঙের ক্রোকোডাইল স্কিনের ব্লাডেনের ওয়াচের দিকে তাকিয়ে, সময়টা একবার দেখে নেয়। যা বুঝল, বাড়ি ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যাবে।

—“আপনাদের চা।”
কেনীথ নিজের ভাবনায় মগ্ন ছিল। আচমকা এক মেয়েলী কন্ঠে কিঞ্চিৎ চমকে উঠল সে। টি টেবিলের দিকে তাকাতেই দেখে, দু-কাপ চা আর কিছু স্ন্যাকস্—ট্রে থেকে নামিয়ে কেউ একজন টেবিলে সাজিয়ে রাখছে। শুধু ধবধবে ফর্সা হাতজোড়াই কেনীথের নজরে এলো। তবে সে মাথা উঁচিয়ে নিজের সামনে থাকা মেয়েটাকে সরাসরি দেখল না। ইচ্ছে থাকলেও দেখার প্রয়োজন মনে করল না৷ যেভাবে ছিল সেভাবেই চুপচাপ বসে রইল। তবে পাশ থেকে শুনতে পেল পাভেলের ইতস্তত কন্ঠস্বর।

—“ধন্যবাদ,কিন্তু এসবের আবার কি প্রয়োজন ছিলো!”
কেনীথ একইভাবে চুপচাপ রইলেও, পাভেলের কথায় কিছুটা বিরক্ত হলো। সে তো চা খায় না। পাভেলও খুব বেশি একটা খায় না। দুজনে সবসময় তো ঐ এক তেঁতো কফি ব্যতীত অন্যকিছু খাওয়ার প্রয়োজনও মনেও করেনি। অবশ্য অন্যকিছু ভালোও লাগেনি। কিন্তু এই কাজের সময়ে এসে, কোনো মেয়ের সাথে পাভেলের এতো আদিখ্যেতা পছন্দ হলো না কেনীথের। কেমন যেন বিরক্ত লাগছে সব।
—“আনায়া!এখানে কি করছো? যাও, ভেতরে যাও!”
এরিমধ্যে আচমকা এক গম্ভীর কণ্ঠস্বরে যেন পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল। অন্যদিকে হঠাৎ ‘আনায়া’ নামটা শোনায় কেনীথ খানিকটা অবাক হলো। এক মূহুর্তও দেরি না করে মাথাটা কিঞ্চিৎ উঁচিয়ে, তার সম্মূখে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখল।

তার সামনেই খানিকটা ঝুঁকে—ট্রে হতে খাবারগুলো নামাচ্ছিল সেই রমণী৷ পরনে হালকা গোলাপি রঙের আনারকলি গাউন। হাতাটাও একদম কব্জি পর্যন্ত। মাথায় বড়সড় ঘোমটা। যার ফাঁক গলিয়ে গলায় পেঁচানো মুক্তর নেকলেসের পাশাপাশি ছোট্ট আকারের জ্বলজ্বলে তিল সদৃশ্য। এবং তার মাঝে উন্মুক্ত হয়ে আছে, এক ভীতিগ্রস্ত মায়াবী চেহেরা। ভীতু চোখ,সুদীর্ঘ অক্ষিপল্লব,টসটসে স্ট্রবেরির ন্যায় গোলাপি ঠোঁট, চেরীর মতো দুটো ফোলা ফোলা গাল। যেন একবার কামড়ে দিলেই গলগল র”ক্ত গড়িয়ে পড়বে।

এটুকু ভেবেই অকস্মাৎ কেনীথ কিঞ্চিৎ ঢোক গিলে, নিজের অদ্ভুত ভাবনা চিন্তার সমাপ্তি ঘটায়। শুরুতে নিজের ভাবনায় খানিকটা মুচকি হাসতে থাকলেও পরবর্তীতে হুঁশ ফিরতেই নিজের প্রতি বিরক্ত হলো। বিরক্তিতে চোখমুখও খানিকটা কুঁচকেও গেল। আনায়ার দিক হতে চোখ সরিয়ে নিয়ে পাশে তাকিয়ে দেখল, পাঞ্জাবি পড়া গম্ভীর চেহেরার একজন লোক দাঁড়িয়ে রয়েছে। দেখা মাত্রই বুঝল এটাই তার কু’খ্যাত গুনধর চাচা। যার কু’খ্যাত ভাতিজা হলো সে নিজেই। কেনীথ মাথাটা পুনোরায় ঝুকিয়ে তাচ্ছিল্যের সহিত কিঞ্চিৎ তির্যক হাসল।
অন্যদিকে আনায়া নিজের বাবাকে হঠাৎ এভাবে রেগে যেতে দেখে, কিছুটা ভীতু হয়ে তার দিকে তাকায়। মাথার ওড়ানার ঘোমটাটা টেনে নিয়ে মাথাটা খানিকটা ঝুকিয়ে—ধীর আওয়াজে ভীতিগ্রস্ত স্বরে বলতে লাগল,
“কি হয়েছে বাবা। আমি কি কোনো ভুল…”

—“তোমায় এখানে কে আসতে বলেছে? তোমার মা কোথায়? বাড়িতে কি আর কেউ নেই?… দুদিন বাদে তোমার বিয়ে। এখানে ওখানে এতোসব কাজকর্ম না করে, যাও রুমে গিয়ে রেস্ট করো।”
তারেক শুরুতে রেগে উচ্চস্বরে কথা বললেও পরবর্তীতে নিজের কথার আওয়াজ কমিয়ে নেয়। তবে আনায়া বুঝতে পারল না তার বাবার হঠাৎ এতো রেগে যাওয়ার কারণ কি? যদিও তার বাবা সবসময় রেগেই কথা বলে, কিন্তু কোনো কারণ ছাড়া হুট করেই এভাবে রেগে কেনো যাচ্ছে?
আনায়া পাশে মুখ ফিরিয়ে একবার পাভেল আর কেনীথের দিকে তাকতে চাইলো। মনে মনে ভাবল, এরা কারা! যাদের জন্য তার বাবা এভাবে রিয়েক্ট করে বসলো। তবে এই মূহুর্তে নিজের এসব ইচ্ছেকে আর প্রাধান্য না দিয়ে, দ্রুত ড্রইং রুম থেকে দোতলায় নিজের রুমের উদ্দেশ্যে চলে গেল।
অন্যদিকে পাভেলও তারেকের বিষয়টা ঠিক বুঝল না। মনে মনে ভাবল, এই লোক এমন পাগলের মতো বিহেভ কেনো করল। কিন্তু কেনীথ হয়তো ব্যাপারটা ঠিকই বুঝেছে। যে কারণে এখনো মাথা নিচু করেই কিঞ্চিৎ বাঁকা হাসল।
আনায়া চলে যেতেই তারেক গিয়ে কেনীথদের ঠিক সামনা-সামনি সোফায় বসে। পায়ের উপর পা তুলে কেনীথদের উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করল,

“কি যেনো নাম ভাবিয়ান না ভিনান…।
তারেকের অসমাপ্ত কথা সমাপ্ত হবার পূর্বেই, কেনীথ মাথা উঁচিয়ে খানিকটা রুক্ষ হেসে বলল,
“ভিভিয়ান এহসান। চাইলে ভিভানও বলতে পারেন।”
কেনীথের ভাবভঙ্গিতে তারেক তাচ্ছিল্য করে মুচকি হাসল। মুখে হালকা চাপ দাঁড়ির পাশাপাশি,গোঁফ রয়েছে। শারীরিক চেহারার ভাবভঙ্গিতে অহংকারের চিত্র বেশ ফুটে উঠেছে। কেনীথ ভেবে পায় না এই লোকের এতো সমস্যা কিসের। মানুষ এতো শয়তান হয় কি করে? পরবর্তীতে নিজের কথায় নিজেই হাসে। সেই বা আর কত ভালো মানুষ। বহু বছর আগে মূল ঝামেলা তো সে নিজেই লাগিয়েছিল। যার ফলাফল হিসেবে এখন এসব দেখতে হচ্ছে। কিন্তু এতোদিন নিজের পুরোনো কাজকর্মে কোনো প্রকার আফসোস না তাকলেও,আজ হঠাৎ ভীষণ আফসোস হচ্ছে। নিজের প্রতি রা”গও হচ্ছে। ইশ, সেই সময় কি ভুলটাই না করেছিল। নয়তো…

—“তবে বসে রইছো কেনো?শুনলাম সপ্তাহ খানেকও হয়নি এতোবছর পর বিদেশ থেকে ফিরেছো। আর তোমার বাবা এখনই তোমায়… যাক গে, এতদূর এসেছো যখন তবে চা খাও। ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।… তোমরা আবার চা খাও তো?”
তারেকের কথায় কেনীথ নিজের ভাবনা হতে বেড়িয়ে এলো। অন্যদিকে পাভেল মনোযোগী কিন্তু তারেকের কথার উত্তরে কি বলবে বুঝল না। সে নিজে তো চা খেতেই পারে,সে নিয়ে সমস্যা নেই। কিন্তু কেনীথ তো এসব ছুঁয়েও দেখে না। এরপর দেখা যাবে দুধ চা—তাতেও চিনি দেওয়া। নিশ্চিত কেনীথ একবার খেলেই মুখ থেকেই ফেলে দিবে। এই ভেবে পাভেল খানিক ইতস্ততবোধ করে।
অন্যদিকে পাভেলকে অবাক করে দিয়ে, কেনীথ সোজা হয়ে বসে, হাতে চায়ের কাপটা তুলে নেয়। অতঃপর পায়ের উপর পা তুলে বসে—তারেকের চেয়েও অত্যধিক গম্ভীর ভঙ্গিতে। ওর এহেন ভাবভঙ্গিতে তারেক তাচ্ছিল্যের সহিত জোরেই আওড়ায়,

“মানুষ আর হওনি তবে।”
তারেকের কথার বিনিময়ে কেনীথ কিঞ্চিৎ হাসলো। তারেক কেনীথের হাসিতে বিরক্ত হয়ে পাভেলের উদ্দেশ্যে বলল,
“তুমি চা নিচ্ছো না কেনো? তোমার নাম যেন আবার কি?”
হুট করে পাভেল এহেন প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ায় অনেকটা ভড়কে গিয়ে, চায়ের কাপটা হাতে তুলে নিয়ে বললো,
“আমার নাম পাভেল। সম্পর্কে আমি ভাইয়ের কাজিন।”

—“ও হ্যাঁ,এখনো পুরোপুরি ভুলতে পারিনি তোমাদের। অবশ্য ভোলার কথাও না।”
তারেকের এহেন রুক্ষ কন্ঠস্বরে পাভেলের আর কিছুই বলার নেই।সে ভারী শ্বাস ফেলে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে—আড়চোখে পাশে তাকাতেই চমকে উঠল। সে কেনীথকে ভূত দেখার মতো করে দেখতে লাগল। কেনীথ এতো নির্বিকারে চা খাচ্ছে কিভাবে? নিজের চায়ের কাপে আবার চুমুক দিয়ে দেখল, চায়ের টেস্ট তো অসাধারণ কিন্তু নিত্যান্তই মিষ্টি কিছুটা বেশি। যে মিষ্টি কেনীথের কাছে বহুগুণ বেশি হওয়ার কথা। এতো মিষ্টি… তাও দুধ চা…কেনীথও নির্বিকারে খেয়ে যাচ্ছে। ব্যাপারটা কোনো মতেই পাভেলের হজম হলো না।
এদিকে অবশ্য কেনীথও শুরুতে অনিশ্চিত ছিলো যে, চা খেয়ে তার রিয়াকশন কি হবে। শখ করে খেতে গিয়ে আবার কোনো সিনক্রিয়েট না করে ফেলে৷ বাহ্যিক ভাবগতিক গম্ভীর রইলেও ভেতরে ভেতরে খানিকটা সংশয় জেগেছিল। তবে একবার চায়ের কাপে চুমুক দিতেই মাথা পুরো অকার্য হওয়ার উপক্রম। যদিও চিনি থাকায় একটু অদ্ভুত লাগছিল, তবে স্বাদ সত্যি মারাত্মক। কি যেন ভেবে কেনীথ আচমকা কিঞ্চিৎ মুচকিও হাসল৷ অন্যদিকে তারেক তড়িঘড়ি করে বলতে লাগল,

“তবে কাজের কথায় আসা যাক। বেশি একটা সময় নেই আমার হাতে। বলো তবে, কেনো এসেছো এখানে?”
কেনীথ চায়ের কাপটা হাতে নিয়েই খানিকটা নির্বিকারে আয়েশ করে বসল। অতঃপর গম্ভীর্যের সাথে অকপটে বলতে লাগল,
“চিটাগং এ এহসানদের জমিজমা-সম্পত্তিতে আমার বাবা কিংবা দাদা আহমদ এহসানের বড় ছেলে ভাহিদ এহসান এবং তার ছোট ছেলে ওরফে আপনি তারেক এহসান;দুজনেরই সমান অধিকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে এমন অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা করার খুব বেশি একটা কারণ আমি খুঁজে পাই না। আমার মতে আপনার মাথায় চলতে থাকা গেইমটাকে এখনই থামানো উচিত।”
কেনীথের কথায় তারেক তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে বলল,

“তুমি যে তোমার বাপের চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে—তা তো আমার জানাই ছিল।আর আজ বহুবছর পর আবারও তা দেখার সৌভাগ্য হলো। সে যাই হোক না কেনো, তুমি কি চিটাগং থেকে ঢাকায় এসেছো আমায় শুধু এই কথাটা বলার জন্য? না মানে,তোমার বাবাও এসব কথা আমায় বহু আগে থেকেই বহুবার বলে আসছে। খুব একটা লাভ হয়নি কিন্তু! এক মিনিট,ব্যাপারটা এমন নয়তো যে, তোমার বাবার দম ফুরিয়ে এসেছে আর সে এখন তার ছেলেকে দিয়ে বাকি খেলাটা খেলতে চায়!”
—“বাপের ছেলে যখন হয়েছি তবে কিছু দায়-দায়িত্ব তো আমারও রয়েছে। বাপের দম ফুরিয়ে যাক কিংবা বিরতি, তার অসম্পূর্ণ খেলা সম্পূর্ণ করতে পারলে ছেলে হিসেবে ধন্য মনে করব নিজেকে। যদিও সামান্য একটা বিষয়ে হঠাৎ এসব কিসের খেলার প্রসঙ্গ আসছে তা আমার ঠিক জানা নেই। তবে আমি খেলায় নামলে হয়তো ফলাফল খুব একটা ভালো হবে না।”

—“হা হা হা, ভালোই বলেছো। যত যাই হোক, তুমি তোমার বাপের সেই গুনধর ছেলে বলে কথা।”
—“আমার মনে হয়,দেশের একজন মিনিস্টারের খুব একটা বেশি সময় আপনাদের নষ্ট করা উচিত নয়।…বাবা, তোমার কিন্তু মিটিং রয়েছে। এসব বিষয়ে তোমার সময় নষ্টের খুব বেশি প্রয়োজন দেখছি না আমি।”
আচমকা এক অল্প বয়সী মেয়ের এহেন কথায় পাভেল আর কেনীথ দুজনেই খানিকটা অবাক হলো। পরনে ওয়েস্টার্ন গাউন, পরিপাটি বেশভূষা—সবমিলিয়ে অসাধারণ। কিন্তু এটা কেমন কথার ধরন?
পাভেল খেয়াল করে দেখল, চা দেওয়া মেয়েটার চেয়ে এই মেয়েটা দেখতেও আরো বেশি সুন্দর। সবমিলিয়ে একদম পারফেক্ট। আর এটাও যদি তারেকের মেয়ে হয় তবে, বাপের এই পশ বেটির কথাবার্তা এমন আঁকাবাঁকা কেনো।আগের মেয়েটা তো ঠিকই ছিলো। বয়স আর কতই হবে,এসএসসি দিয়েছে কিনা কে জানে। অবশ্য দিতেও পারে। মনে হয় এটা একদম বাপের মতোই হয়েছে। মনে মনে এতসব কিছু ভেবে নিয়েই, পাভেল কিছুটা বিরক্তি মনোভাব চেহেরায় ফুটিয়ে তুলল।

অন্যদিকে কেনীথও খানিকটা গম্ভীর্যের সাথে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে। হয়তো ভেবে পাচ্ছে না, সেই পিচ্চি আজ এতো বড়।আবার তার কথার সে কি ঝাঁজ। মনে মনে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সাথে হাসল এইভেবে যে, তারেক তার বড় মেয়েকে না হোক ছোট মেয়েকে ঠিকই নিজের পথে নিয়ে যাচ্ছে।
ইনায়াকে দেখে তারেক বিরক্ত হলো না। উল্টো তার কথার প্রেক্ষাপটে কোনো শাসনও না করে, মুচকি হেসে ইনায়ার উদ্দেশ্যে বলল,
“বিদেশ থেকে এসেছে দুদিন হয়নি, বাপ তার এখনোই ছেলেকে পাঠিয়ে দিয়েছে মজা দেওয়ার জন্য। তারা যখন মজা দিতে এসেছে, তখন আমাদেরও তো উচিত একটুআধটু মজা নিয়ে সময় নষ্ট করার।”
তারেকের কথায় ইনায়া গম্ভীর্যের সহিত কিঞ্চিৎ হাসল। পরক্ষনেই চোয়াল শক্ত করে, গম্ভীর মুখে কেনীথ আর পাভেলের দিকে তাকিয়ে—পুনোরায় তারেকের উদ্দেশ্যে বললো,
“আমার যদি ভুল না হয় তবে এরা কি ভাহিদ এহসানের… ”

—“ভুল নয়, ঠিকই ধরেছো। ভাহিদের ছেলে আর ভাতিজা।”
কেনীথ আর পাভেল নিস্তব্ধ হয়ে বাবা মেয়ের কথা শুনছে। কিছুটা অবাকও হচ্ছে এই মেয়েকে তারেক ঠিক কি বানিয়েছে। পরক্ষণেই কেনীথ বিষয়টা তাচ্ছিল্য করে গম্ভীর স্বরে কিছু বলতে নিলে, আচমকা তার পাশ থেকে পাভেল বলে উঠল,
“আমাদের হাতেও বেশি সময় নেই। নিজেদের সাথে সাথে অন্যদেরও বেশি একটা সময় নষ্ট করায় ইন্টারেস্ট নই আমরা। তাই, আপনাদের ফান,গেইম এসবের আলোচনা যদি শেষ হয়—তবে কাজের কথায় অতিদ্রুত ফেরাটাই উত্তম।”

পাভেলের কথার প্রতিত্তোরে তারেক কিছু বলার আগেই, কড়া কন্ঠে ইনায়া বলতে লাগল,
“আপনি কিসের কাজের কথা বলছেন? আমি তো এখানে কোনো প্রয়োজনীয় কাজ দেখতে পাচ্ছি না। এই সেইম টপিকের উপর অনেক আগে থেকেই কথা চলছে। বাবা তো নিজের মতামত শুরুতেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে। তবে দুদিন পর পর এই নিয়ে একই কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলে, সময় নষ্টের কোনো প্রয়োজন রয়েছে কি?”
পাভেল অনেকটা বিরক্ত হলো ইনায়ার উপর। বয়সে হাঁটুর সমান অথচ তেজ কি তার। অন্যদিকে কেনীথ যেন ইনায়ার ব্যাপারটা পাত্তাও দিলো না। বরং সে সোজাসাপটা তারেকের উদ্দেশ্যে বলল,
“আপনার কি মতামত মিস্টার তারেক এহসান?”

কেনীথের পাত্তা না দেওয়ায় ইনায়া কিছুটা বিরক্ত হলেও, তারেক কেনীথের কথায় মুচকি হেসে বলল,
“আমার আর কি বলার আছে। আমার মেয়ে যা বলেছে তাই রইলো কথা। আমি কোনো সমোঝোতায় আসতে চাই না।”
কেনীথ কিছুটা গম্ভীর্যের সাথে তীক্ষ্ণ চোখে তারেকের হাসিখুশি মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। অতঃপর নিমিষেই রুক্ষ হেসে বলল,
“সমোঝোতা নয়,যার যেটা প্রাপ্য—সে সেটাই পাবে।”
তারেকও বিস্তৃত হেসে বলল,
“সে তো সময় এলেই দেখা যাবে।”

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম—পুরো রাস্তা ড্রাইভ করে আসতে আসতে অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছে। ওদিকে পাভেলও একটানা জার্নি করে পুরো ক্লান্ত হয়ে বাড়ি এসেই ঘুমিয়ে গিয়েছে। কেনীথও রাতের খাবার খায়নি তবে ঘুমানোর কথা বলে সেও বাড়ি ফিরে নিজের রুমে চলে যায়। যদিও কোনো এক কারণ বশত সে সারারাত আর ঘুমায়নি। এমনিতেও অবশ্য রাত জাগার অভ্যাস তার।তবে ভোর রাতের দিকে এসে চোখ লেগে এলে খানিকটা সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু সে ঘুমটাও খুব একটা ভালো হয়নি।
বর্তমানে অন্ধকার রুমে চোখ বুঁজে বিছানায় উপর হয়ে শুয়ে রয়েছে কেনীথ। পরনে শুধু একটা কালো রংএর টাউজার। বিস্তৃত ফর্সা পিঠ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো,উন্মুক্ত পিঠের উপর দৃশ্যমান হয়ে আছে কিছু কালশিটে দাগ। যেগুলো বেশ পুরোনো ক্ষত বলেই মনে হচ্ছে। মূলত এসব দাগের কারনেই কেনীথ বেশিরভাগ সময় গায়ে কিছু না কিছু পড়ে থাকে।

তবে বর্তমানে কোনো কিছুই তেমন ভালো লাগছে না কেনীথের। কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকার পর হুট করেই বিছানা থেকে উঠে পড়ল সে। কাঁধ পর্যন্ত চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পুরো কাকের বাসা হয়ে গিয়েছে। কেনীথ দু’হাতে চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে, আশপাশ খুঁজে বিছানার কোণা থেকে নিজের কালো রংএর টিশার্টটা বের করল। অতঃপর সেটা পড়তে পড়তেই রুম থেকে বেড়িয়ে এলো। তার বাবার সাথে একবার দেখা করতে হবে। যদিও পুরোপুরি সকাল হয়নি। তবে তার বাবা তো নিশ্চয় সেই ভোর সকালেই উঠে গিয়েছে। আর এখন তো নিশ্চয় নিজের স্টাডি রুমে কাজ করতেও ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে।

কেনীথ দ্রুত দোতলা থেকে নিচে নেমে এলো। সরাসরি চলে গেলো নিজের বাবার স্টাডি রুমে। গিয়েই দেখলো তার বাবা কিসব কাজে মনোযোগী হয়ে বসে রয়েছে। পরনে সাদা রংএর সাধারণ পাঞ্জাবি, গম্ভীর চেহেরা, ব্যস্ত চোখ জোড়ার উপর চিকন ফ্রেমের চশমা। তবে এতো ব্যস্ততার মাঝেও কেনীথের আগমনও তার নজর এড়ালো না। কাজে বিরতি দিয়ে কেনীথের দিকে তাকায় সে।

কেনীথের হাভভাব দেখে মনে হচ্ছে এইমাত্র ঘুম থেকে উঠেই এখানে ছুটে এসেছে। কাল রাতে আর ছেলের সাথে কোনো কাজের কথা হয়নি তার। ভাহিদ বুঝলো না তার ছেলের হঠাৎ এমন কি প্রয়োজন পড়ল যে, এভাবে সকাল সকাল ছুটে এসেছে। কাল যে কাজের কাজ কিছুই হয়নি তা তো তার ভালোই জানা রয়েছে। তাই সেসব নিয়ে পরবর্তীতেও ধীরেসুস্থে কথা বলাই যেত। কিন্ত কেনীথের হঠাৎ কি হলো তা তার বুঝে এলো না। ছেলের সাথে তার সম্পর্কটাও খুব যে একটা ভালো তাও বলা চলে না।

—“বাবা!আমার কিছু কথা বলার ছিলো।”
ভাহিদ তার ছেলের দিকে মনোযোগী হয়ে বলল,
“তোমায় এতো অস্থির দেখাচ্ছে কেনো? রাতে ঘুমাওনি? এখানে এসে বসো, এরপর বলো কি হয়েছে?”
নিজের বাবার কথায় কেনীথ কিছুটা অবাক হলো। বোঝার চেষ্টা করলো, সে কি সত্যিই প্যানিক করছে? নয়তো তাকে বাহির থেকে তো কেউ সহজে বুঝবে না যে, তার ভেতরে কি চলছে। কেনীথ নিজেকে যথাসাধ্য স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো। তবে নিজের বাবার টেবিলের কাছে গিয়ে বসল না বিধায়, ভাহিদ নিজ থেকেই উঠে এলো কেনীথের কাছে। কিন্তু কিছু না বলে ছেলের বিধ্বস্ত চেহেরার দিকে তাকিয়ে রইলো অপলক। কেনীথেরও শুরুতে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব রইলেও, পরক্ষণেই সে অকপটে শীতল-গম্ভীর স্বরে বলতে লাগল,

“বাবা, আনায়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে। দুদিন বাদে ওর বিয়ে।”
কেনীথের কথায় ভাহিদ খানিকটা কপাল কুঁচকে বলল,
“কোন আনায়া?”
কেনীথ যেন তার বাবার কথায় কিছুটা বিরক্ত হলো।
—“তোমার ভাতিজী…আই মিন তারেক এহসানের মেয়ে আনায়া এহসান।”
—“ওহ হ্যাঁ,আগেই শুনেছি আমি।”

এই বলেই ভাহিদ কিছুটা গা ছাড়া ভাব নিয়ে—টেবিলের উপর থেকে কিছু পেপারস্ দাঁড়িয়ে দেখতে শুরু করে। যা দেখে কেনীথ আরো কিছুটা বিরক্ত ও রাগান্বিত হলো। সে বেশ রুক্ষ স্বরে বলে ওঠে,
“আগে থেকে জানোই যখন, তবে বলোনি কেনো আমায়?”

মহামায়া পর্ব ৬

ভাহিদ আবারও কাজে বিরতি দিয়ে, কেনীথের দিকে ফিরে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে বলল,
“এটা কি কোনো প্রয়োজনীয় বিষয়? তোমাকে জানানোটা কি আমার প্রয়োজন ছিলো?”
এই বলে ভাহিদ পুনোরায় কাজে ব্যস্ত হতে নেওয়ার পূর্বেই—কেনীথ খানিক ঠোঁট ভিজিয়ে জোর গলায়, রুক্ষ স্বরে বলে উঠল,
“আনায়া বউ হয় আমার। তবে আমায় না জানিয়েই, ওর কি করে অন্য কারো সাথে বিয়ে হতে পারে?”

মহামায়া পর্ব ৮