Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ১৬

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ১৬

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ১৬
jannatul firdaus mithila

“ কল মেইডেন!”
গুরুগম্ভীর কন্ঠে সটান হয়ে গেল এডউইন। তক্ষুনি ওপর নিচ মাথা নাড়িয়ে হাঁটা ধরল উল্টোপথে। মুগ্ধ রয়েসয়ে পা বাড়ায় মাহির কক্ষে। মুখটা কেমন গম্ভীর যুবকের! কপালের চামড়া টানটান। কক্ষের মাঝ বরাবর পা রাখতেই দাঁড়াল মুগ্ধ। ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে রাখা সিগারে লম্বা এক টান বসিয়ে আলগোছে ঘাড় উঁচিয়ে তাকাল। মাথার ওপরে সিলিংয়ে ঝুলছে বড়সড় ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি! সম্মুখের সম্পূর্ণ দেয়ালজুড়ে থাকা বড় জানালাটা খোলা বিধায় সাই সাই করে বাতাস ঢুকছে পুরো কক্ষে। সে বাতাসের মৃদু দুলুনিতে দুলছে ঝাড়বাতি! মুগ্ধ একমুহূর্তে নিরবে তাকিয়ে রইল ঝাড়বাতির পানে। অতঃপর সময় নিয়ে ফের ঘাড় নামিয়ে হাঁটা ধরল জানালার পাশে বিছিয়ে রাখা কাউচের দিকে। গম্ভীর পুরুষ পুরো শরীর এলিয়ে বসল কাউচে। পাদু’টো বেয়াদবের ন্যায় ফাঁক করে রাখা, পিঠ ঠেকানো পেছনে। চোখদুটো আয়েশে বুঁজে রেখে সিগারে সুখটান দিচ্ছে মুগ্ধ। ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে বেরুচ্ছে গুনগুন শব্দ! বোধহয় গান গাইছেন তিনি।

“ হয়ার ইজ মেইডেন?”
গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে মিলা। একহাতে খপ করে চেপে রেখেছে জামার একাংশ। মাথা নুইয়ে রাখলেও দৃষ্টি তার এলোমেলো। গলায় স্বরের অভাব! এডউইন ভ্রু গোটায়। গম্ভীর যুবক এক-কদম এগিয়ে আসতেই তৎক্ষনাৎ হকচকিয়ে দু-কদম পিছিয়ে গেল মিলা। এডউইন বুঝি এবারেও বিরক্ত হলো। বিরক্তি ভরা কন্ঠে চিড়বিড়িয়ে বলল,
“ হোয়াট’স ইউর প্রবলেম? কানে কথা যাচ্ছে না তোমার?”
ভয়ার্ত মিলা মাথা নাড়ায় ওপর নিচ। নিঃশব্দে জানায় — শুনছে। এডউইন এটুকু উত্তরে সন্তুষ্ট নয়। তক্ষুনি মেয়েটাকে দিলো আরেক ধমক!
“ মুখ দিয়ে কথা বলো ইউ ডাম্ব!”
আঁতকে উঠে মিলা। হাতপা গুলো কেমন কাপছে তার! লোকটাকে কি যে ভয় পায় সে! এমনিতে এডউইন লম্বা চওড়া দেহের অধিকারী হলেও তার মুখটা দেখলেই অন্তরাত্মা শুকিয়ে যায় মিলার। লোকটার হলদেটে ফর্সা মুখখানায় আড়ভাবে পড়ে আছে গভীর একটা দাগ। যার শুরুটা বামপাশের ভ্রুয়ের ওপর থেকে হলেও শেষ হয়েছে ডানপাশের গাল বরাবর। বামচোখ বাদবাকি স্বাভাবিক মানুষের মতো হলেও ডান চোখটা কেমন অদ্ভুত! একদম ভূতের চোখের মতো ছোট্ট পিউপিল! তা দেখলেই ভয়ের চোটে মুখ দিয়ে কথা বেরোয় না মিলার। এ-ই যেমন এখন বেরুচ্ছে না। এদিকে মিলার ওমন দীর্ঘস্থায়ী নিরবতা দেখে সে-কি রাগ এডউইনের! ছেলেটা তক্ষুনি দাঁত খিঁচে দিলো আরেক ধমক!

“ গ্লুপায়া!(স্টুপিড) আমি এখানে তোমার ঢং দেখতে আসিনি। মনস্টার মেইডেনকে ডাকছে। উনি উনার রুমে নেই কেনো? কোথায় আছেন তিনি? তোমায় কিছু বলে গিয়েছে?”
মিলা দু’ধারে মাথা নাড়াবে ঠিক তখনি এডউইনের পেছন থেকে ভেসে আসে মেইডেনের পাক্কা নাটকীয় কন্ঠ!
“ আমায় খুঁজছ না-কি এডউইন?”
কাঙ্খিত ব্যাক্তির কন্ঠ শোনামাত্রই শরীর ঘুরিয়ে পেছনে তাকায় এডউইন। সামনেই গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে মেইডেন। গায়ের ওপর জড়ানো ভারী শাল! সম্পূর্ণ মুখমণ্ডলে পানির ছিটাঁ স্পষ্ট! এডউইন একমুহূর্ত পরোখ করল মেইডেনের শান্ত হাবভাব। পরক্ষণে ভ্রু কুঁচকে সন্দিহান গলায় শুধালো,
“ এতোরাতে ঘর ছেড়ে কোথায় গিয়েছিলেন আপনি?”
মধ্যবয়সী স্মিত হাসলেন। ডানহাত দিয়ে শালের একাংশ ধরে, ধীরে ধীরে নিজের ভেজা মুখখানা মুছতে মুছতে জবাব দিলেন,

“ কোথায় আর যাব? ব্যাক ইয়ার্ডে গিয়েছিলাম। ভাবলাম একটু হাঁটাহাটিঁ করে আসি।”
“ এই অন্ধকারে?”
কথার পিঠে পাল্টা প্রশ্নে মোটেও হকচকায়নি ইরা। উল্টো পাক্কা জাত অভিনেত্রীর ন্যায় নাটক দেখাল মুখের। গলায় ব্যাপক শান্ত ভাব ঢেলে বলল,
“ আমার আবার অন্ধকার আর আলো কী? দু’টোই তো এক আমার জন্য। সে যাকগে, শুনলাম — মনস্তার না-কি আমায় ডাকছে? এতোরাতে… কোনো বিশেষ প্রয়োজন?”
এডউইন গম্ভীর হলো। একহাত পকেটে ঢুকিয়ে অন্যহাত আলগোছে সামনে বাড়িয়ে ইশারা করল এগুতে। বলল,
“ জানিনা! চলুন।”

সরু করিডর দিয়ে হাঁটছে মেইডেন। যত পথ এগুচ্ছে, ততই যেন বেড়ে যাচ্ছে তার হৃৎস্পন্দন। চারপাশে ওতো ঠান্ডা থাকা স্বত্বেও কপালটা কেমন দরদরিয়ে ঘামছে তার। মেইডেন বারবার নিজের কপালখানা কোনমতে হাতের তালু দিয়ে মুছে নিচ্ছেন। মাথাটা কেমন টনটন করে যাচ্ছে! মনের মধ্যে বারংবার উত্থাপিত হচ্ছে এক আকাশসম দুশ্চিন্তা! মনস্টার তাকে কেনো ডাকল? সে-কি কোনোভাবে টের পেয়ে গেল, এসবের পেছনে তার হাত রয়েছে? কিন্তু কিভাবে পাবে? সে-তো সবটা বেশ সুক্ষ্মতার সাথে করেছে?
শত-শত চিন্তায় জর্জরিত ইরা টেরই পেলেন না, সেই কখন যে তিনি মাহির কক্ষের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। নিজ ভাবনায় নিমগ্ন মেইডেন, বিরতিহীন কদমে সামনে এগুতেই হঠাৎ ধাক্কা খেলেন কারো শক্তপোক্ত পিঠের সঙ্গে। মেইডেন হকচকালেন! ত্বরিত দু-কদম পিছিয়ে গিয়ে ঘাড় উঁচিয়ে দেখলেন — সম্মুখে কেমন পাহাড়ের ন্যায় সটানভাবে দাঁড়িয়ে আছে এডউইন। মেইডেন বুঝলেন না এডউইনের হঠাৎ থেমে যাবার কারণ। তিনি খানিক দোনোমোনো করে আলগোছে জিজ্ঞেস করলেন,
“ কি হলো? হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লে যে?”
“ গো ইনসাইড!”

এডউইনের সোজাসাপটা উত্তরে ভড়কালেন ইরা। ঘাড় বাকিয়ে পাশে তাকাতেই খেয়াল করলেন — তিনি মাহির ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তৎক্ষনাৎ চকিত দৃষ্টি ঘোরালেন ইরা। ভ্রু কুঁচকে তাকালেন এডউইনের পিঠের দিকে। ছেলেটা হঠাৎ করে মাহির ঘরে যেতে বলছে কেনো তাকে? মেইডেন কেমন কাচুমাচু করছেন! বারবার হাত দিয়ে ঘর্মাক্ত মুখখানা মুছে নিচ্ছেন। কন্ঠ খাদে নামিয়ে ফের শুধালেন,
“ কিন্তু কেন?”
তক্ষুনি পেছনে ঘুরলো এডউইন। একহাতে শক্ত করে চেপে ধরল মেইডেনের ডানহাতের কনুই। ইরা কেমন হতবাক হয়ে গেল ছেলেটার ওমন উদ্ভট কান্ডে! হতবাক কন্ঠ ফুঁড়ে যেইনা কিছু আওড়াবেন ওমনি শোনা গেল এডউইনের রুক্ষ কন্ঠ!

“ গিয়ে জিজ্ঞেস করে আসুন কেনো!”
কথাটা বলতে না বলতেই মেইডেনকে এক হেঁচকা টানে ঘরের ভেতর ছুঁড়ে ফেলল এডউইন। মধ্যবয়সী এহেন অতর্কিত ঘটনার তাল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন মেঝেতে। বেচারির নরম-সরম নাকমুখও বোধহয় থুবড়ে গেল মেঝের ঘর্ষণে। ইরা হাঁপাচ্ছে! ধীরে ধীরে মাথা তুলে সামনে তাকাতেই বুকটা কেমন ছলাৎ করে উঠল তার। পায়ের ওপর পা তুলে কাউচে বসে আছেন মনস্টার। ফুঁকছেন সিগার! দৃষ্টি তার বুঁজে রাখা। ইরা খানিক ঢোক গিললো তাকে দেখে। তৎক্ষনাৎ নিজের দৃষ্টি নুইয়ে, হামাগুড়ি দিয়ে উঠে বসল মেঝেতে। গায়ের শালটা খানিক ঠিকঠাক করে নিয়ে ভীষণ শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে কুর্নিশ জানিয়ে বলল,
“ মইও পচতেনিয়ে মনস্তার!”
(হেলো মনস্টার!)
মনস্টার শুনল কি-না কে জানে! কিয়তক্ষন একইরকম ভাবে বসে থেকে আচমকা গম্ভীর অথচ শান্ত কন্ঠে শুধালো,

“ খালি হাতে এলি যে?”
কথাটা বোধগম্য হলোনা ইরার। মধ্যবয়সীর চোখেমুখে স্পষ্ট লেপ্টে গিয়েছে অবোধ ভাবস্রোত। মনস্টার আবার কি আনার কথা বলছে কে জানে! মেইডেন আগের ন্যায় মাথা নুইয়ে রেখে আলতো স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,
“ দুঃখীত মনস্তার! কিছু কী আনার কথা ছিলো?”
এপর্যায়ে চোখ খুলল মুগ্ধ! একি! সুদর্শন যুবকের বাদামী চোখদুটো ওমন লাল হয়েছে কেনো? চোয়ালটাও কেমন কটমট করছে। চিরায়ত স্বভাবে ঘাড়টা এদিকওদিক নাড়াতে নাড়াতে অদ্ভুত শান্ত কন্ঠে বলল,
“ ঐ বান্দীর মেয়েকে যা খাইয়েছিস, সেটা সঙ্গে করে আনলি না কেনো?”
এহেন বাক্যে ভড়কায় মেইডেন। পুরো বদন জুড়ে তার বয়ে গেল এক অদ্ভুত ঝংকার। গুছিয়ে রাখা পাদু’টো মাত্রাতিরিক্ত কাঁপছে বলে তৎক্ষনাৎ দু’হাতে চেপে ধরেন নিজ পাদু’টো। আতঙ্কে শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলে ওঠে,

“ ক-কি? কিসের কথা বলছেন মনস্তার? আ-আমি বুঝ…”
বাকিটা গলাতেই আঁটকে গেল মেইডেনের। আতঙ্কে কন্ঠ স্বর কাঁপছে তার। এদিকে তার ওমন হড়বড়ানো দেখে তীক্ষ্ণ হলো মুগ্ধের দৃষ্টি! মাড়ির ঝকঝকে দাঁতগুলোতে জিভটা খানিক পিষে এনে হাসল কেমন। রয়েসয়ে উঠে দাঁড়িয়েই উচ্চস্বরে ডাক ছুড়ঁল,
“ এডউইন!”

দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলো বাধ্য এডউইন। হাতে দুটো বড়সড় স্বাস্থ্যবান পলিব্যাগ এবং খাঁজকাটাঁ চাবুক নিয়ে তক্ষুনি ঘরে ঢুকল ছেলেটা। মনস্টারের কাছ থেকে দু-কদম দুরত্বে দাঁড়িয়ে হাতদুটো এগিয়ে ধরল সামনে। এদিকে মেইডেন তটস্থ! ভয়ে নিশ্বাস আঁটকে যাবার যোগাড় তার। চোখ তুলে তাকানোরও সাধ্যি নেই বেচারির। তিনি কেবল খেয়াল করলেন — একজোড়া র*ক্তা*ক্ত কদম তার নিকট এগিয়ে আসছে। মেইডেন বুঝে গেলেন এ আর কেউ নয় স্বয়ং মনস্টার! তিনি কেমন গুটিয়ে নিলেন নিজেকে। এরইমধ্যে পাদু’টো হঠাৎ তার মুখোমুখি এসে থামল। অতঃপর মধ্যবয়সী আর কিছু ভাবতেই যাবেন ওমনি তার মাথার তালুর চুলগুলো চেপে ধরে মুগ্ধ। এহেন অতর্কিত আক্রমণে ককিয়ে ওঠেন ইরা। চোখমুখ কুঁচকে ফেলেন সঙ্গে সঙ্গে। মুগ্ধ তখন হাতের জোর বাড়ালো। ইরার চুলগুলো মুঠোয় চেপে ধরে মুখটা কেমন উঁচিয়ে তুললো নিজের দিকে। ব্যথায় কুপোকাত মেইডেন! আচমকা ভুলবশত খুলে ফেললেন চোখ। তক্ষুনি তার চোখাচোখি হলো হি*ংস্র মানবের জ্বলন্ত চোখদুটোর সনে। ইরার নিশ্বাস আঁটকে গেল একমুহূর্তের জন্য! তিনি কিছু বলার জন্য মুখটা খুলতেই যাবেন ঠিক তখনি খেয়াল করলেন মনস্টার নিজের বাহাতটা বাড়িয়ে দিয়েছে পাশে। পেছন থেকে এডউইন নিরবে এগিয়ে এসে মনস্টারের বাড়িয়ে রাখা হাতে কো*কে*ই*ন ঢালল বেশ কিছুটা। ইরা হকচকিয়ে ওঠে এহেন কান্ডে! দু’ধারে মাথা নাড়াতেই তক্ষুনি মনস্টারের হি*ংস্র থাবার শিকার হলো তার মুখ। মুগ্ধের শক্তপোক্ত হাতের তালু চেপে ধরেছে ইরার নাকমুখ। বেচারি মুখ কুঁচকে রেখেছে সর্বশক্তি দিয়ে তবে নাক? নাকের ফুটো কী আর বন্ধ হয়? নাক দিয়ে নিশ্বাস টানার সাথে সাথে শরীরে ঢুকছে উচ্চমাত্রার ড্রা*-গস। ইরার চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ! শরীরটা বড্ড ছটফটাচ্ছে তার। হাত-পা ছুড়ছে বেশ! তবুও তিনি ছাড়া পাচ্ছেন না মনস্টারের হাত থেকে।

প্রায় মিনিট পাঁচেক ধরে মেইডেনের মুখ চেপে রেখে হাত সরায় মুগ্ধ। দ্বিতীয়বার একইভাবে হাতটা সফেদ রঙা কো*কে**ইন পাউডার দিয়ে পরিপূর্ণ করে, ফের চেপে ধরে মেইডেনের নাকমুখ! এপর্যায়ে নাক দিয়ে লহু গড়াচ্ছে মেইডেনের। শরীরের ছটফটানি কমে গিয়ে ভর করেছে টলুনি। মস্তিষ্কটা বোধহয় এখনো একটু-আধটু সজাগ তার। মুগ্ধ থেমেছে। তৃতীয়বার পাশে হাত বাড়াতেই এডউইন এবার এগিয়ে দিয়েছে চাবুকটা! মুগ্ধ শক্ত করে ধরল চাবুকখানা। রয়েসয়ে দু-কদম পিছিয়ে গিয়ে ইরার উদ্দেশ্যে কটমটিয়ে বলল,
“ রান ইউ এস্কর্ট! রান! যত দ্রুত দৌড়াবি তোর বাচাঁর চান্স ততবেশি। ভুলেও পায়ের গতি থামালে তোর মরণ কনফার্ম! ”
ইরা বোধহয় শুনল কথাটা। বাঁচার ক্ষীণ আশায় মেঝেতে ভর দিয়ে কোনমতে উঠে দাঁড়াল মধ্যবয়সী। টলমল পায়ে উল্টো পথে পা বাড়াতেই হঠাৎ তার পিঠ বরাবর আঘাত বসল খাঁজ কাটা চাবুকের। তক্ষুনি ব্যথায় আর্তনাদ করে ওঠে মেইডেন। পাদু’টো সামনে এগুনোর সাহস পাচ্ছে না কেন যেন! এদিকে মুগ্ধ নামক নির্দয় মানব তৎক্ষনাৎ চাবুকের শেষভাগে টান বসাল। মুহুর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল ইরার পিঠ! জামার অংশ ছিঁড়ে গিয়ে দেখা মেলল তরলে রঞ্জিত কাটাঁ ঘা। মুগ্ধ থামেনি! ফের গর্জে ওঠে বলল,

“ রান!”
ইরা এবার সত্যি সত্যি দৌড়াচ্ছে। টলমল পায়েই যেভাবে পারছে সেভাবে দৌড়াচ্ছে। পেছন পেছন ধীর পায়ে হাঁটছে মুগ্ধ। পকেট থেকে ফের একখানা সিগার বের করে এনে লাইটার ধরালো তাতে। মুহুর্তেই ধূমায়িত হলো মুখমণ্ডলের চারপাশ। যুবক বাহাতের আঙুলের ভাঁজে সিগার ধরে রেখে এগুচ্ছে কেমন! আরেকহাতে মেঝেতে হেঁচড়ে আনছে চাবুকটা। ইরা কয়েক কদম দৌড়ালেই পেছন থেকে আরেকবার আঘাত করে বসে মুগ্ধ। ইরা বোধহয় আজ বড্ড শক্ত! নিজের প্রাণ বাঁচাতে সে-কি প্রয়াস তার! গা থেকে টুপটুপিয়ে লহু ঝরলেও থামছেনা তার পায়ের গতি। মুগ্ধ এবার ইচ্ছে করে ইরার পা বরাবর আঘাত বসায়। মুহুর্তেই সম্মুখে উল্টে পড়ল ইরা। নাকমুখ গিয়ে থুবড়ে পড়ল মাটিতে, হয়তো ফেটেও গিয়েছে কয়েক জায়গায়। মুগ্ধ কেমন বাঁকা হাসল! পিয়ার্সিং করা ঠোঁটটা হালকা নাড়িয়ে চাড়িয়ে বিড়বিড়ালো,

“ ব্লা*ডি হেল! নাউ ইউ আর গোন!”
বলতে না বলতেই ইরার শরীরে বেধড়ক আঘাত বসল চাবুকের। মুহুর্তেই মধ্যবয়সীর আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ল পুরো প্যালেসজুড়ে। নিচতলার সকল মেইডরা কেমন দোর আঁটকে বসে আছে ঘরে। এখানকার এটাই তো নিয়ম! কেউ চেচিয়ে ম’রে যাক কিংবা মা’র খেয়ে, বাইরে বের হয়ে কেউ-ই এগোবেনা সাহায্যের জন্য। ওদিকে তিনতলার মার্বেলের মেঝেটায় লেপ্টে গিয়েছে লাল তরলে। ইরা ক্রমশ নিস্তেজ হচ্ছে! তার চোখদুটো প্রায় নিবুনিবু! কন্ঠ ফুঁড়ে আর বেরুচ্ছে না আওয়াজ। মুগ্ধ তখন আলগোছে ঝুঁকে এসে একহাতে ইরাকে কাঁধে তুলে নিলো। তারপর করিডরের রেলিঙের কাছে এগিয়ে এসে হুট করেই কাঁধ থেকে ইরাকে ছুঁড়ে ফেলল নিচে! সা’ইকোদের ন্যায় কানের পাশে হাত রেখে শুনলোও আবার পড়ে যাবার শব্দটা। সে-কি বিকট আওয়াজ! মুগ্ধ কেমন বাঁকা হেসে উঁকি দিলো গ্রাউন্ড ফ্লোরে। মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে আছে মেইডেন। শরীরের নিচ দিয়ে ভেসে যাচ্ছে লহু! মুগ্ধ কেমন বাঁকা চোখে তাকিয়ে রইলো কিয়তক্ষন। ঠোঁট পিষে বিড়বিড় করলো,
“ হেপি জার্নি!”

মাথাটায় বোধহয় দু-টন ভার জমেছে! শরীরটা বুঝি অবশ! হাতদুটো ছিঁড়ে যাচ্ছে কেমন। এক ভোঁতা যন্ত্রণায় ছটফটাচ্ছে সিড, চোখদুটো পিটপিট করে খুলল কোনরকম। চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা দেখাচ্ছে! অদূরেই বোধহয় দাঁড়িয়ে আছে কেউ। সিড তৃষ্ণার্ত কন্ঠে কেমন ছটফটিয়ে বলল,
“ হেই! কে ওখানে? আমায় একটু পানি দাও প্লিজ।”
কথাটা শেষ হওয়া মাত্রই সম্মুখ থেকে ভেসে এলো কারো দৃঢ় কন্ঠ!
“ গলা সমান পানির মধ্যে ডুবে থেকেও পানি চাইছো সিড? চাইলে যত ইচ্ছে সেখান থেকেই খেয়ে নাও।”
কন্ঠটা বড্ড পরিচিত সিডের। এ যে এডউইনের। সিড কেমন ফুপিয়ে উঠল তার কথা শুনে। ঘাড় বাকিয়ে নিজের আশপাশটা পরোখ করে দেখল — সে এক বিশাল কাঁচের টেস্টটিউবের মধ্যে বন্দী। গায়ে এক চিলতে শক্তিও আর অবশিষ্ট নেই! সিড কেমন অসহায় চোখে তাকাল সম্মুখে। কষ্টে জর্জরিত হয়ে বলল,
“ প্লিজ আমায় ছেড়ে দিন এডউইন। বিশ্বাস করুন, আমি কিচ্ছু করিনি। গতকাল ঐ মেয়েটাই…”
সিডের কথা শেষ হবার আগেই ঘর কাপিয়ে হেসে ওঠে এডউইন। এহেন হাসির শব্দে হতভম্ব সিড! কিয়তক্ষন বাদেই শুনল এডউইনের তিরিক্ষি কন্ঠ!

“ আর কত নাটক করবে সিড? এবার অন্তত মুখ থেকে ঐ অদৃশ্য মুখোশটা সরাতে পারো।”
আকাশ ভেঙে পড়ল সিড! মুখাবয়বে তার সে-কি হতবাকতা! এডউইনের কথা যেন কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেনা বেচারা। তার হতবাক কন্ঠ ফুঁড়ে অস্ফুটে বেরুলো,
“ কি বলছেন আপনি এডউইন? মুখোশ মানে?”
এপর্যায়ে কঠিন হলো এডউইনের মুখাবয়ব। হাতদুটো চলে গেল কোমরের পিঠে। শক্ত চোয়ালে জবাব দিলো,
“ মিস্টার সিদ্ধার্থ ওরফে ড্যানি হিলিস, উই নো তুমি নিকোলাসের খাসমখাস পার্সন। সো স্টপ প্রিটেন্ডিং নাও।”
পানির মধ্যেই গা ঝাঁকিয়ে উঠল সিডের। মুখে কেমন অবিশ্বাসের ছাপ! ছেলেটা আশ্চর্য বনে গেল এহেন কথায়। মুখাবয়বে দৃঢ় ভাব বজায় রেখে দূর্বল কন্ঠে যেইনা কিছু আওড়াবে ওমনি তার চোখ গেল লাল আলোয় নিমজ্জিত ঘরটার দরজার পানে। সেখান দিয়ে কেউ একজন ভেতরে ঢুকছে হয়তো। মানুষটার মুখ স্পষ্ট দেখছেনা সিড। বলিষ্ঠ পুরুষের বাহাতের মুঠোয় গোলাকার কিছু একটা ঝুলছে। ঠোঁটের ফাঁকে জ্বলন্ত সিগার দেখেই সিড বুঝে গেল — এ লোক মনস্টার ছাড়া আর কেউ নয়। সিড তটস্থ হলো। ভয়ার্ত শুকনো ঢোক গিলে নজর ঝুঁকালো। ওদিকে মনস্টার পদার্পণ করেছে ঘরের একদম মাঝখানে বিছিয়ে রাখা ডিভানের ওপর। হাতের নির্জীব বস্তুটি ডিভানের পাশে রেখে খোদ একহাত উঁচিয়ে রাখল ডিভানের গায়ে। সিড বেচারা আতঙ্কে হড়বড়িয়ে বলে ওঠে,

“ মনস্টার! ফরগিভ মি। বিশ্বাস করুন, যা হয়েছে এতে আমার কোনো দোষ নেই। মেয়েটা নিজেই গতরাতে আমার ঘরে এসেছিল। আমি ওকে চলে যেতে বলেছিলাম কিন্তু…”
বাকিটা বলার আগেই কেঁদে উঠে সিড। এদিকে মুগ্ধ তখন কুটিল হেসে বলে ওঠে,
“ ঘরের দরজা কে লাগিয়েছিল সিড?”
এহেন কথায় কেন যেন থতমত খেয়ে গেল সিড। তৎক্ষনাৎ প্রতিত্তোর করতে গিয়েও আঁটকে গেল কোথাও। মুগ্ধ কেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সিডের মুখপানে। পায়ের ওপর পা তুলে নাচাতে নাচাতে বলল,
“ ওহ সিড! ডোন্ট টেল মি নাউ যে দরজাটা দেড় ব্যাটারী লাগিয়েছে। কজ যে-ই মেয়ে নিজের পরিপূর্ণ হুঁশেই ছিল না, তার আবার প্রাইভেসির চিন্তা আসবে কোত্থেকে?”
আঁটকে গেল সিড! কথা বাঁধা পড়ল মুখে। মুখটা হয়েছে চোরের মতো। মুগ্ধের দৃষ্টি এড়ায়নি কিছুই। সে কেমন বাঁকা হেসে বিচক্ষণতার সঙ্গে বলে উঠল,

“ তুই জানতি সিড — আমি আমার শত্রুদের ওপর কখনোই প্রত্যক্ষভাবে নজর রাখিনা, বাট আমি ওদের মাইন্ড নিয়ে খেলতে পছন্দ করি। আমি তোদের ছাড় দিয়ে রেখেছি ঠিকই তবে তোর এটাও মাথায় রাখা উচিত ছিলো, আমার ভাগে টান পরলে আমি কাউকেই ছেড়ে দিবনা।”
থামল মুগ্ধ! হাতের আঙুলের ভাঁজে গুঁজে রাখা সিগারটা ফের ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে দিলো এক বিরাট টান। অতঃপর মুখ থেকে ধীরে ধীরে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ফের বলা শুরু করল,
“ প্রথম দিন থেকেই তুই ঐ বান্দীর মেয়ের প্রতি ইন্টারেস্টেড সেটা আমি জানতাম। আমি তোকে ওয়ার্ন করেছি, তবুও তুই এগিয়েছিস। ইরার সাথে প্ল্যান করে সেদিন ইচ্ছে করে ওকে বাগানে নিয়ে গিয়েছিলি মা’রার জন্য। আমিতো সেদিনই তোকে মে’রে ফেলতাম বাট পরে ভাবলাম — থাক না! আরেকটু খেলি তোর সাথে। তবে তুই যে নিজেকে খুব বেশি চালাক মনে করিস সেটাতো ঠিক না!”
একটুখানি থেমে যুবক ফের কপাল চুলকে সন্দিহান গলায় বলতে লাগলো,

“ আচ্ছা এবার বল তো…ঐ দেড় ব্যাটারীর মধ্যে কী এমন পেলি যার জন্য ওকে বেড অব্ধি নিতে এতোটা মরিয়া হয়ে উঠলি? কী আছে ওর মধ্যে? হ্যাঁ মানলাম ওর চোখদুটো একটু সুন্দর! পাপড়িগুলো ঘনঘন। ঠোঁটদুটো মারাত্মক, হাসলে মনে হয় নির্ঘাত কলিজা ছিদ্র করে ফেলবে। মানলাম ওর বামগালে মাংসের অভাবে টোল পড়ে! তাতে কী? হ্যাঁ এটাও মানছি ওর চুলগুলো থেকে নেশা ধরিয়ে দেবার মতো ঘ্রাণ আসে। কান্না করলে চোখদুটো মুক্তোর মতো চিকচিক করে। কথায় কথায় গাল ফোলায় পটকা মাছের মত। রাগ করলে নাকের পাটা লাল হয়ে ফুলে যায়। খাবার খাওয়ার সময় গাল ভরে খাবার খায়, ধীরে ধীরে চিবোয় বেলুনের মতো। মানুষটা একদম এইটুকুন….”
বলতে বলতেই আনমনে বৃদ্ধা আঙুল এবং তর্জনীর মধ্যকার দুরত্ব বাড়িয়ে হাতটা উঁচিয়ে তুলল মুগ্ধ। নিজ ভাবনায় নিমগ্ন থেকে ফের আওড়াল,

“ এইটুকুন মেয়ে একটা! পুরাই দেড় ব্যাটারীর সমান। তাও কী তেজ! কথায় কথায় ঘাড়ত্যাড়ামি করে। মাঝেমধ্যে মুখ ঝামটি দিলে কপাল থেকে দুয়েকটা চুল আছড়ে পড়ে গালে। আনমনে যখন হাঁটে তখন দূর থেকে ওকে দেখলে মনে হয় — একটা ছোটখাটো প্রজাপতি উড়ছে। একদম ছোট!”
একমুহূর্ত চুপ করে রইল মুগ্ধ! ছেলেটার চোখেমুখে স্পষ্ট মুগ্ধতা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এডউইন হা করে তাকিয়ে আছে এবারেও। মনস্টার সামনে না থাকলে বেচারা হয়তো এতক্ষণে নির্ঘাৎ নিজ গালে সপাটে কয়েকটা চড় বসাতো। দেখত — সবটা আদৌও সত্যি কি-না। সত্যি সত্যি তাদের মনস্টার এসব বলছে কিনা। এদিকে সিড হঠাৎ কেশে উঠল। সে শব্দে ধ্যান ভাঙল মুগ্ধের। মানুষটা কী হকচকালো না-কি? মনস্টার বলে কথা! হকচকালেও থোড়াই কাউকে বুঝতে দিবে! সে তৎক্ষনাৎ নিজের মুখাবয়বে পরিবর্তন আনলো। কপালে রাগের ছাপ বসিয়ে কঠিন মুখে বলল,

“ হ্যাঁ তো? তাই বলে ওর মতো একটা বান্দীর মেয়েকে বেডে নিতে হবে? ছ্যাহ ছ্যাহ! কী দেখে মানুষের রুচি এমন হয় কে জানে!”
এদিকে সিড এখন হাসছে। মুখাবয়ব থেকে এতক্ষণের মুখোশটা একটানে ছিঁড়ে ফেলে নিজের আসল রুপে এলো যুবক। হিসহিসিয়ে বলল,
“ এজন্যই ওকে বেডে নিতে চেয়েছিলাম। শত হলেও মনস্টারের স্পেশাল কেউ বলে কথা! ”
তক্ষুনি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল মুগ্ধ। গাল বাকিয়ে ঠোঁট পিষে হাসল একটুখানি। পরক্ষণে কঠিন গলায় শুধালো,
“ ভুল ভাবলি সিড! শি ইজ জাস্ট আ ফা*কিং টয় টু মি। তাও আবার মাত্র কয়েক মাসের জন্য! ওর প্রতি আমার বিন্দুমাত্র ফিলিংস নেই। আর না কখনো হবে! শি ইজ নো ওয়ান টু মি। বাই দা হেল..”
বলতে বলতেই পায়ের ওপর থেকে পা নাময় মুগ্ধ। কঠিন করল চোয়াল। দৃষ্টিযুগল নির্দিষ্ট করে নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য ভরা কন্ঠে বলল,

“ যতদিন ও আমার কাছে আছে, ততদিন ও শুধু আমার! এরমধ্যে ওর গায়ে আমি বাদে অন্য কেউ সামান্য ফুলের টোকা দিতে এলেও — ওর দেহ থেকে প্রাণ আলাদা করার দায়িত্ব আমার। কেননা তুই তো জানিস — আমি আমার ভোগে কারো ভাগ সহ্য করতে পারিনা। সো নাউ, কিপ ইউর আইস ওপেন।”
বলেই উঠে দাঁড়ায় মুগ্ধ! ডিভানের কাছে পড়ে থাকা নির্জীব গোলাকার বস্তুটিতে জোরালো এক লাথি বসাতেই, বস্তুটি গিয়ে ছিটকে পড়ল টেস্টটিউবের দেয়ালে। একমুহূর্তের জন্য সিড থমকালো। যেই দেখল বস্তুটি ইরার মাথা ওমনি ছেলেটা কেমন আঁতকে উঠল দেখো! কর্ণকুহরে শুনতে পেল মুগ্ধের কুটিল কন্ঠ!
“ এনজয় ইউর হেপি জার্নি উইথ ইউর পার্টনার।”

থামল মুগ্ধ! আঙুল দিয়ে ইশারায় কিছু একটা বোঝালো এডউইনকে। এডউইন মহাশয় তক্ষুনি এগিয়ে গেলেন টেস্টটিউবের দিকে। টেস্টটিউবের গায়ে লেগে থাকা সুইচগুলোতে একে একে চাপতেই সিড খেয়াল করল — টেস্টটিউবের পানিগুলো কেমন ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে! সিড বুঝল — তার হাতে আর বেশি সময় নেই। সে এবার গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে লাগল। মুগ্ধ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে লাগলেই সে আচমকা পেছন থেকে চেঁচিয়ে ওঠে বলল,
“ মনস্টার! তুই মানিস বা না মানিস, এই প্রথম তোর ভোগে তোর ভাগ বসানোর আগে অন্য কেউ ভাগ বসিয়েছে। এই আমি! আধিপত্য দেখিয়েছি ওর ভেতর! ম”রার আগে নাহয় এটুকুই বলে গেলাম। এই আফসোস তোর সারাজীবন থাকল।”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ১৫

থমকায় মুগ্ধের পদযুগল! চোয়াল ফুটল কটমটিয়ে। হাতদুটো কেমন মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল আচমকা। কপালের রগগুলো দপদপিয়ে জ্বলে উঠল যেন। নির্দয় মানব একহাতে নিজের ঘাড়টা ডলতে ডলতে এডউইনের উদ্দেশ্যে গর্জে বলল,
“ টেম্পারেচার বাড়া! সিদ্ধ কর জা*নো*য়া*রের বাচ্চাকে!”
ওদিকে পেছন থেকে সিড তখনও চেঁচাচ্ছে!
“ ওহহো! জ্বলে জ্বলে? তোর ভোগ করার আগেই আমি ভোগ করে নিলাম, তাই জ্বলছে তাই-না?”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ১৭