মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪
jannatul firdaus mithila
একহাতে বড় স্ট্যান্ড মোপার, আরেকহাতে প্লাস্টিকের বালতি। বালতির অর্ধেকটা ভরে আছে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে। হাঁটার তালে তালে বালতির পানিগুলো কেমন থৈথৈ করছে! মেইডেন ইরা গম্ভীর মুখে হাঁটছেন লম্বা করিডর দিয়ে। চোখেমুখে তার একপ্রকার অদ্ভুত শান্তভাব। হাতে ভাঁজ করা মোটা তোয়ালে,তারওপর গোটা কতক সোনালী তরলের কাঁচের শিশি। তার পিছুপিছু ঘর মোছবার সামগ্রী নিয়ে হেঁটে আসছে মিলা, বাড়ির কাজের মেয়ে। দুজনেই চুপচাপ এসে দাঁড়াল মাহির জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষের সামনে। বিশালাকৃতির কাঠের দরজার দু’পাশে দাঁড়িয়ে আছে দু’জন বলিষ্ঠদেহী গার্ড, হাতে রাইফেল! চোখে আটাঁ কালো রঙা রোদচশমা। মেইডেন ইরা তাদের এখনো দায়িত্বরত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খানিক ভ্রু গোটালেন। সামান্য গলা খাঁকারি দিয়ে শুধালেন,
“ ভোর হয়েছে তো সে-ই কখন! এখনো এখানে রাইফেল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার মানে কী? একটা মৃ*ত লা*শ থোড়াই পালাবে!”
দেহরক্ষী দু’জন জবাব দিলেন না। যেখানে মুখগহ্বরে জিভের উপস্থিতিই নেই, সেখানে থোড়াই মুখ দিয়ে কথা বেরুবে তাদের! মেইডেন একমুহূর্ত নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে রইলেন গার্ডদের দিকে। পরক্ষণে ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে আওড়ালেন,
“ সরে দাঁড়াও। কক্ষ পরিষ্কার করতে হবে।”
গার্ড দু’জন তা-ই করল। রাইফেল দুটোর নল দু’দিকে ঘুরিয়ে, সরে দাঁড়াল খানিকটা। মেইডেন তৎক্ষনাৎ সঙ্গে করে নিয়ে আসা সামগ্রীগুলো একহাতে নিয়ে, অন্যহাতে আলতো করে কক্ষের বিশাল দরজা সশব্দে ঠেলে দিলেন। মূহুর্তেই বিরাট দরজাটা কেমন খ্যাচ খ্যাচ শব্দ তুলে খুলে গেল দু’দিকে। মেইডেন পা বাড়ালেন কক্ষে, পিছুপিছু মিলাও ঢুকল। পানিতে অর্ধপূর্ণ বালতিটা শব্দ করে মেঝেতে রেখে, মেয়েটা কেমন জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলতে লাগল। এমনিতেই গায়ে মাংসের উপস্থিতি বেশ কম মিলার, ফ্যাকাশে চোখমুখ! দেখলে মনে হবে, মেয়েটা বোধহয় দিনের পর দিন না খেয়ে আছে। তার তুলনায় বালতির ওজনটা যেন বরাবরই বেশি! ওদিকে মেইডেন কুঁচকানো চোখে পুরো কক্ষে নজর বুলচ্ছেন। আশ্চর্য! কোথাও র*ক্তের উপস্থিতি নেই কেন? আর শরীর? মাহি মেয়েটার শরীরটাই বা কোথায়? ইরা এবার উদ্বিগ্ন হলেন। তক্ষুনি হাতের জিনিসপত্র মিলার হাতে জোরপূর্বক ধরিয়ে দিয়ে পা বাড়ালেন এদিক-ওদিক। বিশালাকার কক্ষ নয় এ যেন এক ছোটখাটো প্লেকোর্ট। এন্টিক আসবাবপত্রে সাজানো রুমটায় আলাদা এক সৌন্দর্য বিদ্যমান যেন। মেইডেন চিন্তিত মুখে খাটের নিচ থেকে শুরু করে বাথরুম অব্ধি সবটা খুঁজে খুঁজে দেখলেন, কিন্তু নাহ… মেয়েটার নিথর দেহ কোত্থাও নেই। ওদিকে মিলাও পুরো ঘরময় নজর বুলিয়ে যাচ্ছে। তবে হঠাৎই তার দৃষ্টি আটকালো অদূরের ডিভানে, যেথায় কেউ হয়তো গায়ে ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে শুয়ে আছে। মিলা হাতভর্তি জিনিসপত্র নিয়েই এগোয় কয়েক-কদম। ভয়ার্ত মেয়ে, ক্ষনে ক্ষনে ঢোক গিলছে বেশ। সে আবার বিধ্বস্ত শরীর দেখতে পারেনা। এ নিয়ে এ বাড়িতে কতজনের বিধ্বস্ত শরীর এলো গেল, তবে কখনো সেসব নিজ চোখে পরোখ করেনি মিলা। করলে না আবার বমি করতে করতে জান যায় মেয়েটার!
কিয়তক্ষন বাদেই মিলা পা থামায় ডিভানের কাছে। কাঁপা কাঁপা ডানহাতটা একটু একটু করে এগিয়ে নেয় ডিভানে পড়ে থাকা মাহির দিকে। বুকটা বেশ ধড়ফড় করছে তার, দৃষ্টি হচ্ছে এলোমেলো। না জানি এক্ষুণি কি না কী দেখতে হয় তার! এসব ভাবনায় ডুবে থেকেই মিলার হাতটা থেমে গেল হঠাৎ। ভয়ে জমে গেল শরীর! সে তক্ষুনি চাপা স্বরে ডাকল মেইডেনকে।
“ মেইডেন! মেইডেন।”
ওতোবড় কক্ষ! এরকম পাখির কিচিরমিচির কী আর ওতো সহজে শোনা যায়? মিলা তখন গলার স্বর আরেকটু উঁচু করল। টলমল চোখে ঘাড় বাকিয়ে ডাকল,
“ মেইডেন! কাম সুন, মেয়েটা এখানে পড়ে আছে।”
এতক্ষণে বোধহয় কানে ডাক পৌঁছুলো ইরার। মানুষটা ছিলেন বাথরুম জোনে, মিলার ভয়ার্ত কন্ঠ কর্ণকুহরে পৌঁছান মাত্রই ছুটে এলেন তিনি। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে মিলার পানে তাকাতেই মিলা হঠাৎ ইশারা করল ডিভানের দিকে। ইরা তক্ষুনি নজর ফেললেন ডিভানে। দেখলেন — ঐতো! গায়ে কাপড় মুড়িয়ে মেয়েটা পড়ে আছে সেখানে। ইরা আর দেরি করলেন না। তৎক্ষনাৎ জোরালো পায়ে এগিয়ে এসে, এক লহমায় মাহির গা থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরালেন তিনি। পরমুহূর্তেই মাহিকে ওমন অক্ষত অবস্থায় দেখে দুজনেই কেমন চমকে উঠলেন! অবাক দৃষ্টিতে একে-অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন এক-আধবার। মেইডেন ইরার মুখ থেকে আচমকা অস্ফুটে বেরিয়ে এলো,
“ ইট’স ইম্পসিবল! মনস্টারের সাথে রাত কাটিয়েও এ মেয়ে অক্ষত আছে কিভাবে?”
মিলাও একইরকম চিন্তায় চিন্তিত। তার সুক্ষ্ম নজর এবার দেখছে মাহির নিশ্বাসের ওঠানামা। তক্ষুনি সে কেমন ঢোক গিলে মেইডেনের উদ্দেশ্যে বলে ওঠে,
“ মেইডেন! ও তো মরেনি। ঐ যে দেখো, ও নিশ্বাস নিচ্ছে। তারমানে…”
কথাটা আর শেষ করতে পারেনি মিলা। তার আগেই মেইডেন ছুটলেন নিজ হাতে পরোখ করতে। তড়িঘড়ি করে মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসলেন মধ্যবয়সী, ডানহাতের তর্জনী এবং মধ্যমা একসঙ্গে ঠেকালেন মেয়েটার নাকের সামনে। যে-ই দেখলেন মাহির নিশ্বাস সত্যিই চলছে, ওমনি মানুষটা কেমন হতবাক হয়ে গেলেন। হতবাকতায় হতভম্বের ন্যায় কেবল আওড়ালেন,
“ অসম্ভব! অসম্ভব! এর আগে মনস্টারের ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে কেউ তো বেঁচে ফেরেনি, তাহলে এই মেয়ে বেঁচে গেল কিভাবে? কিভাবে ফিরল অক্ষত ভাবে? প্রাডা ওকে দেখেও না খেয়ে থাকল কিভাবে? কিভাবে, কিভাবে, কিভাবে?”
শেষের টুকু চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন মেইডেন। পাশ থেকে মিলা খানিক কেঁপে উঠল এহেন চিৎকারে। অথচ ঘুমন্ত মাহি এখনো ঘুমচ্ছে! ইরার ওমন গলাফাটাঁ চিৎকারেও তেমন হেলদোল নেই মেয়েটার। ইরা নিজেকে সামলালেন কোনমতে। ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে খানিকক্ষণ পরোখ করতে লাগলেন মাহিকে। শুকনো মুখ, ঠোঁটদুটোয় কালসিটে দাগ স্পষ্ট! বোধহয় ফেটেঁ গেছে কয়েক জায়গা। ঘনকালো চুলগুলোয় জট বেঁধে যাচ্ছেতাই অবস্থা! স্লিভলেস গাউনের একপাশ দিয়ে উম্মুক্ত মেয়েটার বামপা। ইরা সেদিকে নজর ঘুরালেন। দেখলেন — মেয়েটার উরুতে ধারালো আঁচড়ের গভীর ক্ষত। আপাতত র*ক্ত শুকিয়ে জমাট বেঁধেছে বোধহয়। ইরা বিচক্ষণ মানুষ, বয়সটা তো আর এমনি এমনি হয়নি তার! যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়েই বুঝলেন, মেয়েটার ওপর দিয়ে কাল নিশ্চয়ই ঝড় গিয়েছে। হয়তো খুব বড়সড় নাহলেও খুব ছোটও নয়। ইরার মায়া হলো কি-না কে জানে! তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত শান্তভাব।তিনি আলতো করে হাত উঁচিয়ে ছুঁয়ে দিতে লাগলেন মাহির গাল। তবে পরমুহূর্তেই মাহির গালের তীব্র উষ্ণতায় হাতটা কেমন ছিটকে সরিয়ে নিলেন তিনি। একি! মেয়েটার সারা গা তো জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে! ইরা তৎক্ষনাৎ বিচলিত হলেন। দু’হাতে মাহির উষ্ণ গতরখানা ঢাকতে ঢাকতে মিলাকে আদেশ ছুড়লেন,
“ তারাতাড়ি ডক্টরকে নিয়ে এসো যাও।”
মিলা তড়িঘড়ি করে মাথা নাড়িয়ে চলে গেল ঘর ছেড়ে। বাড়িতেই ডক্টর আছে মহিলা ডক্টর। এখানকার মানুষদের যিনি সবসময় সেবা দিয়ে থাকেন। খোঁজ নিলে জানা যাবে — এই মহিলাও হয়ত কোনো না কোনোভাবে মনস্টারের শত্রু পক্ষের দূর্বলতা!
এদিকে মেইডেন ইরা মাহির মুখপানে তাকিয়ে থেকে কেমন হতাশায় ডুবে গেলেন পরক্ষণে। ছোটখাটো মিষ্টি দেখতে মেয়েটার কথা চিন্তা করে মনে মনে আওড়ালেন,
“ তোমাকে যেহেতু প্রথম রাতে মারেনি তারমানে তোমার কপালে আরও ভোগান্তি আছে মেয়ে! হয়তো তা সবার চেয়ে বেশি!”
পিটপিটিয়ে চোখ মেলছে মাহি। মাথাটা কেমন ভার হয়ে আছে তার! শরীরটা বুঝি আর নড়ছেনা তার। টানা দুটো দিন না খেয়ে পড়ে থাকলে থোড়াই শরীর চলবে! মাহি ধীরে ধীরে চোখদুটো পুরোপুরি খুলল। এমনিতেই চশমা ছাড়া দূরের জিনিস খুব স্পষ্ট দেখেনা সে, তারওপর প্রেশার ফল হওয়ায় সম্মুখের সকল ভিজ্যুয়ালস যেন এখনো ঝাপসা তার চোখে। তবুও সে তাকিয়ে রইলো সম্মুখে। পায়ের কাছে বসে আছে কেউ! একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। মাহি তার মুখ দেখেনি স্পষ্ট, তবুও মেয়েটা কেমন ভাঙা ভাঙা কাতর স্বরে ডাকল,
“ আম্মু?”
মেইডেন ইরার বুকটা বুঝি হু হু করে উঠল। মাহির সামনে এলেই কেন যেন নিজেকে সামলানো দায় হয়ে পড়ে তারজন্য! আজও হচ্ছে তাই। তার মতন ওমন গম্ভীর মুখো মানুষটাও যেন মাহির মুখে আম্মু ডাক শুনে নিজেকে সামলাতে বড্ড অপারগ! এদিকে মাহি ফের নিজের ভাঙা কন্ঠে আওড়ায়,
“ আম্মু? কখন এলে? মাথাটা খুব ব্যথা করছে। একটু হাত বুলিয়ে দিবে? আমার পেটে বড্ড খিদে লেগেছে, কাল থেকে একফোঁটা পানিও খেতে পারিনি। যদি পারো এক লোকমা খাবার খাইয়ে দিবে? আমি উঠতে পারছিনা, শরীর ব্যাথা করছে। সহ্য হচ্ছে না কিছু!”
মেইডেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। তক্ষুনি ছুটে এসে বিছানায় পড়ে থাকা মেয়েটাকে এক লহমায় নিজের বুকে তুলে নিলেন। শক্ত হাতে ঝাপটে ধরে মাথায় হাত বুলাতে লাগলেন। এদিকে মাহি পরম শান্তিতে চোখ মুদেছে। মেইডেনের নরম বুকে মুখ লুকিয়ে হঠাৎ করেই হু হু করে কেঁদে উঠে মেয়েটা। ইরা উদ্বিগ্ন হলেন ফের। হকচকিয়ে মাহিকে বুক থেকে তুলে জিগ্যেস করলেন,
“ কি হয়েছে তোমার? কাঁদছ কেনো এভাবে?”
মাহি ঠোঁট কামড়ে কাঁদছে, যেন তার উপচে পড়া কান্নাগুলো খুব একটা বাইরে না বেরোয়। তবে কান্নারা কী আর বাঁধ মানে? তারা ঠিকই ঠিকরে বেরিয়ে আসছে চোখ থেকে। মাহি কাঁদতে কাঁদতেই হেঁচকি তুলে বলে,
“ তুমি আমার আম্মু নও। আমার আম্মুর গায়ের ঘ্রাণ নেই তোমার গায়ে। তারমানে… আমি এখনো এই নরকে আঁটকে আছি? মরিনি এখনো? কেনো মরলাম না আমি? আমিতো আর সহ্য করতে পারছিনা এসব। সত্যি পারছিনা সহ্য করতে।”
মেইডেন ইরার কন্ঠরোধ হয়েছে এপর্যায়ে। মেয়েটাকে কি স্বান্তনা দেবেন তিনি? যিনি কি-না নিজেই বিগত ১০টা বছর ধরে এই জেলখানায় আঁটকে আছেন! ইরা নিজের ভাবাবেগ খুব একটা বুঝতে না দিয়ে খানিক গলা খাঁকারি দিলেন। ইশশ্! গলার কাছটা যা ব্যাথা করছেনা…মনে হচ্ছে এই বুঝি কেউ দু’হাতে শক্ত করে চেপে ধরেছে কন্ঠা! ইরা সময় নিয়ে বললেন,
“ উঠো তুমি। একটু ফ্রেশ হয়ে নাও, আমি খাবার নিয়ে আসছি।”
বলেই তিনি চলে যেতে উদ্যোত হলেন, ঠিক তখনি পেছন থেকে তার বাহাতের কব্জি টেনে ধরে মাহি। ইরা থমকালেন, ঘাড় বাকিয়ে তাকালেন পরক্ষণে। ভ্রু উঁচিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করলেন,
“ কি হয়েছে?”
মাহি কান্না থামিয়ে কেমন ইতস্তত করছে। ইরার ধরে রাখা হাতটা ছেড়ে দিয়ে, ঘামে চেপচেপে দূর্বল শরীরটা কোনমতে উঠে বসেছে বিছানায়। ওদিকে ইরা এখনো অপেক্ষমান উত্তরের আশায়। মাহি বেশ সময় নিয়ে বলল,
“ আসলে…আমার কাছে পরার মতো কোনো কাপড় নেই।”
মেইডেন মুচকি হাসলেন এহেন কথায়। খানিক এগিয়ে এসে আলতো করে হাত রাখলেন মাহির মাথায়। নরম কন্ঠে আওড়ালেন,
“ ব্যস? এটুকুই? আমি আরো ভাবলাম কি-না কি! আচ্ছা তুমি একটু ওয়েট করো, আমি এক্ষুণি কিছু কাপড় নিয়ে আসছি তোমার জন্য। তুমি চাইলে ততক্ষণে ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার নেওয়ার প্রিপারেশন নিতে পারো।”
মাহি সামান্য মাথা কাত করে। মেইডেন তখন আলতো হেসে চলে গেলেন কক্ষের বাইরে। মাহি রয়েসয়ে বিছানা থেকে নামার প্রয়াস চালায়। কিন্তু শরীরের তীব্র ব্যাথায় পা অব্ধি নাড়াতে পারছেনা মেয়েটা। তারওপর গা-টা হুট করেই এতো ঘামল কেন কে জানে! এরকমটা তো হয় সাধারণত জ্বর ছাড়লে। এরমানে কি তারও জ্বর এসেছিল? কই সে-তো কিছু টের পেলো না! মাহি বেশ কষ্টে নিজের পাদু’টো নাড়ালো কোনরকম। সময় নিয়ে মেঝেতে পাদু’টো বিছিয়ে উঠতে গেলেই বিপদ ঘটল আরেকটা! অনেকক্ষণ শুয়ে-বসে থাকায় পাদু’টো অবশ হয়ে গিয়েছে তার। এখন ধরেছে ঝি ঝি! ইশশ্… এখন কিভাবে নড়বে সে? মাহি চুপচাপ বিছানায় বসে রইলো কিয়তক্ষন। পাদু’টো খানিক স্থির হতেই উঠে দাঁড়ায় ফের। এবার হাঁটতে পারছে কোনরকম! একটু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে তাও ব্যাপার না! হাঁটতে তো পারছে, এ-ই অনেক!
মাহি খোঁড়াতে খোঁড়াতেই এগিয়ে গেল ঘরের একপাশের পুরোটা দেয়াল জুড়ে থাকা জানালার নিকট। সেথায় বিছিয়ে রাখা ছোট্ট একটা কাউচ। মাহি চুপচাপ এসে বসল সেথায়। জানালা দিয়ে হালকা উঁকি দিয়ে বাইরে তাকাতেই একমুহূর্তের জন্য হা হয়ে গেল মেয়েটার মুখ! অদূরের বাগানটা দূর থেকেই কি সুন্দর দেখাচ্ছে! চেরি ব্লসম ট্রির নিচটা কেমন গোলাপি রঙে সেজেছে দেখো। বেসামাল বাতাসের তীব্র দুলুনিতে উড়ছে ফুলের পাপড়িগুলো। একবার উড়ছে সোজা ভাবে, আরেকবার উড়ছে টর্নেডো আকারে! মাহি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলো কেমন! এর আগে কখনো চেরি ব্লসম ট্রি স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি তার। যার দরুন এই প্রথমবার এহেন দৃশ্য দেখে মনটা ভরে উঠেছে তার। মাহির কৌতূহলী মন একবার চাইলো চেরি ব্লসম ট্রি বাগানের নিচে গিয়ে দাড়াঁতে। তবে শরীরের এহেন বেগতিক অবস্থায় কিভাবে নামবে সে? মাহি নিজের মনে উত্থাপিত হওয়া এরূপ তীব্র ইচ্ছেটা কোনমতে দমিয়ে রাখল। পরক্ষণে উঠে দাঁড়াল বসা ছেড়ে। এরইমধ্যে ঘরে এসে হাজির মেইডেন। হাতে একসেট সাদা-কালো মিশেলের কাপড়। তিনি এগিয়ে এসেই খানিক অস্বস্তি নিয়ে বললেন,
“ আসলে… তোমার মাপঅনুযায়ী কোনো কাপড় নেই আমার কাছে। তবে এগুলো পেয়েছি যা একটা সময় মিলা পড়ত। ওর এখন আর এসব সাইজে হয়না তাই ভাবলাম তোমাকে…. আচ্ছা তুমি কি এগুলো পরবে?”
মেইডেনের এহেন ইতস্ততা স্বাভাবিক। মাহি কিয়তক্ষন কাপড় গুলোর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে কেমন আহত হাসল। হাত বাড়িয়ে কাপড়গুলো নিয়ে নিতে নিতে আওড়াল,
“ এখন ওতো পছন্দ – অপছন্দ দেখিয়ে লাভ আছে? পরতে যেহেতু হবে সেহেতু ওতো কথা বাড়িয়ে লাভ নেই!”
মাহি চলে গেল ওয়াশরুমে। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ইরা কেমন ক্ষুদ্র নিশ্বাস ফেললেন। কিয়তক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে তিনিও চলে গেলেন ঘর ছেড়ে।
সদ্য গোসল সেরে বেরিয়েছে মাহি। মাথাভর্তি ভেজা চুলগুলো থেকে চুইয়ে পড়ছে পানি। ছোটখাটো গায়ে জড়িয়েছে লম্বা এক সাদা কালো মিশেলের গাউন, যা গড়িয়েছে মেয়েটার পা থেকে বেশ নিচে অব্ধি। স্পর্শ করেছে মেঝে! মাহি একহাতে জামাটার একাংশ চেপে ধরে এগুচ্ছে ধীরপায়ে। একে-তো শরীর ব্যাথা, তারওপর এত লম্বা গাউন! উফফ.. এ যেন জ্বালার ওপর জ্বালা! মাহি কোনমতে জামা ধরে ধরে এসে থামল ঘরের বড় ভেনিটি টেবিলের সামনে। টেবিলের ওপরে দেয়ালের সঙ্গে ফিট করে রাখা বিশাল এক গোলাকার আয়না। তার সামনে দাঁড়িয়েই মাহি তাকায় নিজের পানে। আহারে! মুখটার সে-কি করুণ অবস্থা তার! ঠোঁট দুটো ফেটে গিয়ে যাচ্ছে তা-ই অবস্থা। কপালের একপাশে পড়েছে কালসিটে দাগ। ফর্সা কন্ঠায় দাগ বসেছে নখের আঁচড়ের। জমেছে বিরাট ক্ষত! দুগালে স্পষ্ট পাঁচ আঙুলের ছাপ। নিজের এহেন রুপ আয়নায় দেখে বুকটা কেমন ভার হয়ে গেল মাহির। বুক চিঁড়ে বেরিয়ে এল দীর্ঘ নিশ্বাস। মনে মনে ভাবল,
“ আর ঠিক কতদিন এ জ্বালা সইতে হবে আমার? আর কতদিন ঐ নরপিশাচটার অত্যাচার সহ্য করতে হবে আমার? আমি কি আদৌও কোনদিন রেহাই পাব ওর হাত থেকে?”
ভাবতে ভাবতেই মাহি হঠাৎ টের পেল তার পেটে গুড়গুড় শব্দ হচ্ছে! এখন তো পাকস্থলীও বোধহয় ডেকে বলছে — এবার দয়া করে একটু খাবার খা বইন। মাহির ক্ষুধা বাড়ছে তরতর করে। সে তৎক্ষনাৎ উদ্যোত হলো বাইরে বেরুতে। তবে কক্ষের বাইরে একটুখানি উঁকি দিয়ে যেইনা দেখল — দুয়ারের দু’ধারে দাঁড়িয়ে আছে সশস্ত্র বডিগার্ড, ওমনি বেচারির পাদু’টো জমে গেল যেন। এখানে পাহারাদার দিয়ে রেখেছে তার জন্য? ঐ লোক কি তবে ভাবছে সে পালিয়ে যাবে? মাহি আর ভাবতে পারলোনা। এমুহূর্তে ক্ষুধার চোটে বুক ফেটে যাচ্ছে তার। যেভাবেই হোক একটু হলেও খাবার খেতেই হবে! তাই যে-ই ভাবনা সেই কাজ। মাহি মনে মনে একরাশ সাহস সঞ্চার করে পা বাড়ায় কক্ষের বাইরে। চোখদুটো কুঁচকে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যে-ই টের পেল বডিগার্ড দু’জন তাকে কিছুই বলছেনা ওমনি চোখদুটো পিটপিট করে খুলল মাহি। সম্মুখে তাকাতেই একদফা ঝটকা খেল যেন। এ কি! বডিগার্ড দু’জন ওমন মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেন? এতক্ষণ তো ঠিকই মাথা উঁচিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তাহলে এখন আবার কি হলো? মাহি ভ্রু কুঁচকে এদিক ওদিক তাকায়। এতো বড় করিডর তাও আবার গোলাকার! কোনদিক দিয়ে নামবে সে? গতকাল এসেছিল কোনপথে তাও তো ভুলে গিয়েছে মেয়েটা। মাহি কেমন অসহায় ভঙ্গিতে গার্ড দুটোকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করল,
“ এক্সকিউজ মি? নিচে নামার পথটা কোনদিকে?”
জিভ না থাকা গার্ড দু’টো কিভাবে কথা বলবে? মাহি থোড়াই জানে তারা কথা বলতে পারবেনা? তাইতো ক্ষুধার্ত মেয়েটা বিরক্ত হয়ে তক্ষুনি ঘুরে এসে দাঁড়াল গার্ডদের সামনে। কিন্তু ওমাহ! গার্ডদুটো মেয়েটার উপস্থিতি টের পেয়ে তক্ষুনি পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়ালেন। মাহি আশ্চর্য বনে গেল যেন! লোক দু’টো তাকে দেখে মুখ লুকালো কেন? সে-কি দেখতে খুব ভয়ংকর না-কি? মাহি তেতেঁ গিয়ে যেইনা কিছু বলতে যাবে ওমনি গার্ডদের মধ্য থেকে একজন হাত উঁচিয়ে বা-দিকে ইশারা করল। মাহি বুঝল ওদিকেই রাস্তা। মেয়েটা কেমন গাল বাকিয়ে বিরবির করতে করতে এগুলো সে পথে।
“ ভূত! ভূত!”
চেঁচাচ্ছে সিদ্ধার্থ। মাহিকে হুট করেই সামনে দেখে ভয়ে তটস্থ বেচারা। কানে হেডফোন গুঁজে চোখবুঁজে হাঁটছিল সে, কেন যেন চোখদুটো হালকা মেলতেই সামনে পড়ল মাহি। দু’হাতে গাউন উঁচিয়ে এগুচ্ছে মেয়েটা। তাকে দেখেই জড়সড় সিদ্ধার্থ একের পর এক প্রলাপ জুড়ছে,
“ ভূত! ভূত।”
মাহি হতভম্ব! হতবাক চোখে একদফা নিজের দিকে চোখ বুলালো। সে আবার ভূত হলো কবে থেকে? এ লোক কী পাগল হয়ে গেল নাকি? মাহি খানিকটা এগিয়ে আসতে নিলেই ভয়ে পিছু ছুটলো সিদ্ধার্থ। দৌড়ে গিয়ে লুকালো করিডোরে রাখা বড় নারী ভাস্কর্যটির পেছনে। দু’হাত দিয়ে মাহির দিকে দূর দূর করতে করতে শুধালো,
“ সু সু! যা ভাগ, যা ভাগ।”
মাহি এবার তিতিবিরক্ত! মেজাজ দেখিয়ে আওড়ায়,
“ কিসব যাতা বলছেন আপনি? আমি ভূত হতে যাব কেনো?”
সারারাত চিৎকার করতে থাকায় গলা ভেঙেছে মাহির। কন্ঠ শোনাচ্ছে ইদুরের চিকচিকের মত। সে-ই কন্ঠকে ভূতের কন্ঠ ভেবে আরেকদফা ভয়ে চেচিয়ে উঠে সিদ্ধার্থ। দু’হাত জোর করে বলতে থাকে,
“ হে ইশ্বর! হে ভগবান, রক্ষে করো প্রভু রক্ষে করো! অল্প বয়সে মরে যাওয়া মেয়েদের অতৃপ্ত আত্মা থেকে রক্ষে করো আমার মত হ্যান্ডসামকে। এখনো তো আমার বিয়েও হলোনা!”
মাহি হাসবে না-কি কাঁদবে কে জানে! সিদ্ধার্থের ওমন বেআক্কেলী কথাবার্তায় না হেসে থাকাটাও বড় ভাবনার বিষয়। মাহি কিছুটা এগিয়ে এলো। হালকা হেসে বলল,
“ আমি ভূত নই।”
সিদ্ধার্থ বোধহয় একটু-আধটু বিশ্বাস করল কথাটা। ভাস্কর্যের পেছনে লুকিয়ে থেকেই সন্দিগ্ধ গলায় আওড়াল,
“ তুমি মরোনি কালকে রাতে?”
এহেন কথায় মেজাজ চটলো মাহির। দাঁত হয়ে গেলো কটমট। মেয়েটা তক্ষুনি কপালে গোটাকতক ভাঁজ ফেলে ঝাঝঁ দেখিয়ে বলল,
“ কেন মরতে যাব শুনি?”
সিদ্ধার্থ এবার বেশ সিরিয়াস। মেয়েটার কথা শুনে মনে হচ্ছে সে সত্যিই বেঁচে আছে। তারমানে? তারমানে মনস্টার তাকে মারেনি? কিন্তু কেন? এর আগে তো এ প্যালেসে এমনটা হয়নি কখনো! তবে আজ কেন? মেয়েটা কি তবে স্পেশাল কেউ? ওর মাঝে কী তবে স্পেশাল কিছু আছে? সিদ্ধার্থ রয়েসয়ে বেরিয়ে এল ভাস্কর্যের পেছন থেকে। মাহির থেকে খানিকটা দুরত্ব বজায় রেখে সন্দিহান গলায় বলল,
“ গলা ভাঙল কিভাবে?”
মাহির মুখটায় সঙ্গে সঙ্গে নেমে এলো রাজ্যের আঁধার। চোয়াল হলো শক্ত। সে কেমন ভাঙা ভাঙা কন্ঠে আওড়ায়,
“ কপালে ছিল বলে। শত হলেও এ কপালে মির্জা সায়ান মুগ্ধ নমক অভিশাপ লেপটেছে বলে কথা।”
সিদ্ধার্থ ঠোঁট গোল করে শব্দ তুলল। খানিক মাথা নাড়িয়ে জানতে চাইলো,
“ বাই দা ওয়ে, এই মির্জা সায়ান মুগ্ধটা কে?”
ত্বরিত বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকায় মাহি। হতবাক কন্ঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে,
“ কে আবার? যাকে সবাই মনস্টার বলে!”
এবার যেন আকাশ থেকে পড়ল সিদ্ধার্থ। চোখেমুখে তার লেপ্টে গিয়েছে একরাশ অবাকের ছাপ। সে কেমন হতবাক কন্ঠে বলে,
“ কিন্তু মনস্টারের নাম তো মির্জা সায়ান মুগ্ধ নয়। উনার নাম তো অধীর রায়!”
ভ্রু গোটায় মাহি। হতভম্বের ন্যায় বলে,
“ কি বলছেন? তিনি তো আমাদের সবার কাছে পরিচয় দিয়েছিল মুগ্ধ নামে।”
সিদ্ধার্থ এবার মাথা চুলকাচ্ছে। মেয়েটার কোনো কথাই যেন ঘটে ঢুকছেনা তার। কিসব মির্জা ফির্জা বলছে। সিদ্ধার্থ খানিক চোখ সরু করে তাকায় মাহির পানে। অবিশ্বাসের কন্ঠে বলে,
“ তুমি সত্যি ভূত নওতো?”
মাহি হেসে ফেললো। নিজে থেকেই নিজের ডানহাতটা বাড়িয়ে ধরল সিদ্ধার্থের দিকে। বলল,
“ চাইলে পরোখ করে দেখতে পারেন।”
সিদ্ধার্থ আলতো হেসে হাতটা ধরতেই যাবে ওমনি একখানা শক্তপোক্ত হাত এসে তক্ষুনি চেপে ধরল মাহির বাড়ন্ত হাত। অতঃপর চোখের পলকে মেয়েটাকে এক হেঁচকা টানে নিয়ে এলো নিজের কাছে। ঘটনাপ্রবাহ এত তারাতাড়ি ঘটল, মাহি এবং সিদ্ধার্থ দুজনেই বুঝি হকচকাতে অব্ধি পারলো না। মাহি ত্বরিত মাথা উঁচিয়ে দেখে — সে আপাতত মুগ্ধের বুকের কাছে দাঁড়িয়ে আছে বেশ নিবিড়ভাবে। মুগ্ধ তার হাতটা এত শক্তভাবে চেপেছে না! মনে হচ্ছে হাতটা বুঝি এই খুলে পড়বে কব্জি থেকে। ওদিকে সিদ্ধার্থ কেমন ভয়ার্ত ঢোক গিলে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুগ্ধ নামক গম্ভীর মুখো পুরুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে অগ্নি দৃষ্টিতে। হালকা খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে আবৃত চোয়ালটা তীক্ষ্ণ হয়ে আছে ব্লেডের ন্যায়। দাঁত গুলো কিড়মিড় করছে যার শব্দ বেশ কানে যাচ্ছে সিদ্ধার্থের। ওদিকে মাহি মোচড়াচ্ছে। নিজের হাতখানা ছাড়ানোর ব্যাপক প্রয়াস চালাচ্ছে মেয়েটা তবুও লাভের লাভ যেন হলোই না, উল্টো ব্যাথা বাড়ল হাতের। মুগ্ধ তখন দাঁত কিড়মিড় করে কঠিন গলায় মাহিকে বলল,
“ গো টু ইউর রুম রাইট নাউ।”
বলেই মুগ্ধ ছেড়ে দিল মাহির হাত। শক্ত মুখে দু’হাত পকেটে গুঁজতেই মাহি ফিরল তার দিকে। ঘাড়ত্যাড়ামি করে বলল,
“ আমি নিচে যাব। ক্ষুধা পেয়েছে আমার।”
“ ঘরে যা, মেইড নিয়ে আসবে।”
মুগ্ধের শক্ত কথাতেও শুনলোনা মাহি। উল্টো ঘাড়ত্যাড়ামি করে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেই মেজাজ খিঁচল মুগ্ধের। তক্ষুনি সুদর্শন যুবক এগিয়ে এসে মাহির ডানহাতটা ঘুরিয়ে পেচিয়ে ধরল মেয়েটার পিঠের সঙ্গে। মাহি ককিয়ে ওঠে ব্যাথায়। চোখমুখ কুঁচকাতেই তার চোয়াল শক্ত করে আঁকড়ে ধরে মুগ্ধ। রাগে গজগজ করতে করতে আওড়াল,
“ আরেকবার ঐ জিভ দিয়ে আমার অবাধ্যতা করার দুঃসাহস কর, তোর ঐ জিভ কেটে রাস্তার কুত্তাকে খাওয়াব আমি। নিচে যাওয়ার খুব শখ তাই না বান্দীর মেয়ে? তাহলে কাছে আয়, তোকে তুলে এখান থেকেই ফুটবলের মত ছুঁড়ে মারি নিচে। তখন শুধু নিচে নয়, একেবারে উপরে সহ পৌঁছে যাবি!”
আঁতকে উঠে মাহি। খানিক ফোপাঁতেই তাকে ছেড়ে দিল মুগ্ধ। দু’হাত ফের পকেটে গুঁজে ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে, শক্ত গলায় বলল,
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩
“ গো ব্যাক টু ইউর রুম নাউ!”
মাহি তাই করল। দু’হাতে গাউনটা ধরে দৌড়ে চলে গেল নিজ কক্ষের দিকে। এদিকে সে আড়াল হতেই সিদ্ধার্থ আলগোছে কেটে পড়তে চাইলেই আচমকা তার গলা চেপে ধরে মুগ্ধ! বেচারা সিদ্ধার্থ হতভম্ব! শক্তিশালী পুরুষ তার গলা চেপে তাকে ধীরে ধীরে উপরে তুলছে। রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য মানুষটার ঘাড়ের রগগুলো কেমন মোটা হয়ে গেছে! ফর্সা মুখখানা কেমন লাল হয়ে গেছে দেখো! সিদ্ধার্থ যখন নিজেকে ছাড়ানোর জন্য হাত-পা ছুড়ছে ঠিক তখনি মুগ্ধ কেমন হিংস্র হুংকার ছুঁড়ে বলে ওঠে,
“ আমার শিকারের দিকে হাত বাড়ানো তো দূর, নেক্সট টাইম জাস্ট চোখ তুলে তাকালেও তোর কলিজা টেনে ছিঁড়ে নিয়ে আসব ইউ ব্লা*ডি এসহোল! একদম মেরে ফেলব তোকে! মাইন্ড ইট!”
