মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫৮
jannatul firdaus mithila
মদ্যপ বোকা মানবী! গানের কর্কশ উচ্চশব্দে বিভোর হয়ে নাচছে সে। চোখদুটো আধখোলা! কোমর ছুঁই ছুঁই সিল্কি চুলগুলো কেমন নাচের তালে তালে বারবার তার ছোট্ট মুখশ্রীর ওপর হানা দিচ্ছে। ক্ষুদ্র বদনে আবরণ জড়িয়েছে বলিষ্ঠের বিশাল সাইজের টি-শার্টটা। মাঝেমধ্যে নাচতে গিয়ে পায়ের সনে বেঁধে যাচ্ছে টি-শার্টের একাংশ। তবুও বিরতিহীন সপ্তদশী! দু’হাত শূন্যে তুলে, এলোমেলো ভঙ্গিতে ঘুরঘুর করছে আপন ছন্দে।
টেরাকোটার কারুকার্যে সজ্জিত দরজার চৌকাঠ বরাবর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন রূঢ় মানব। তাকিয়ে আছেন একদৃষ্টে! তার মুখ অভিব্যক্তি বড্ড হিসাবী। দৃষ্টিজোড়া ভীষণ তীক্ষ্ণ। বাদামী ঠোঁটজোড়া আঁটকে আছে ধারালো দাঁতের তলায়। বিচ্ছিন্ন হবার বিন্দুমাত্র তাড়া নেই তাদের। বলিষ্ঠের হাতদুটো দায়িত্বে স্থির! উশৃংখল মদ্যপ বোকা মানবীর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা অবহেলিত কাপড়গুলো সেথায় ঠাঁই পেয়েছে ব্যাপক অধিকারবোধে। তবুও মানবের মাঝে তেমন কোনো হেলদোল নেই। সে দেখছে, একমনে দেখছে রমণীকে। সম্মুখের এলোমেলো দৃশ্যটা যে খুব একটা খারাপ লাগছে না তার, তা স্পষ্ট হয়েছে বাদামী চোখদুটোর ভাবাবেগে।
নাচের তালে নরম মসৃণ পাদু’টো হুট করেই ঘুরলো মাহি’র। আধো আধো দৃষ্টিযুগল মুহুর্তেই তাক হলো সুদর্শনের পানে। মদ্যপ রমণী কি বুঝলো কে জানে! তার বিমুগ্ধ নয়ন জোড়া মুগ্ধের পানে স্থির থাকতেই সে কেমন গালভরে হাসলো। রেড ওয়াইনের বোতলে চুমুক বসিয়ে আবেদনময়ী ঢঙে নাড়ালো কোমর। দুগাল ভর্তি করে তরল নিয়ে অন্যহাতের তর্জনী উঁচিয়ে তাক করল রূঢ় মানবের পানে। ইশারায় ডাকলো —
“ কাছে এসো!”
মুগ্ধের বলিষ্ঠ হাতদুটো ইতোমধ্যেই ঠাঁই পেয়েছে তারই রুক্ষ বক্ষভাঁজের কাছে। দৈবাৎ শক্তিতে কাত হয়েছে বলিষ্ঠ ঘাড়। মাতাল রমণীর উচ্ছৃঙ্খলতাগুলো নিঃশব্দে পরোখ করে যাচ্ছে সে। অথচ তার এহেন ভাবলেশহীনতা যেন সহ্য হলো না মাহি’র। ত্বরিত মুখভর্তি মাদকীয় তরল টুকু গিলে নিয়ে, রমণী ঝাঁঝ ঢাললো কন্ঠায়!
“ হেই হ্যান্ডসাম! ওদিকে দাঁড়িয়ে কি দেখছো? কাছে এসোওওওও।”
মেয়েটার এহেন নাটকীয় কন্ঠস্বর কর্নধার হতেই বিরক্তি নামলো মুগ্ধের মুখাবয়বে। এতক্ষণের স্নিগ্ধ অনুভূতির জালে আঁটকা পড়ল এক টুকরো ঝাঁঝ। কপালের চামড়া গুটিয়ে গেল তক্ষুনি! চোয়াল পেশি টানটান করে নিয়ে রূঢ় মানব সটান হলেন এবার। দরজার চৌকাঠ ছেড়ে দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করতে করতে ধমকে ওঠা কন্ঠে আওড়ালেন,
“ মুখে লাগাম টান বেয়াদব!”
“ লাগাম? ওটা আবার কি? দেখতে কেমন?”
মাহি’র এহেন বোকা প্রতুত্তরে দাঁত খিঁচল মুগ্ধ। চিড়বিড়িয়ে দু’টো কটুবাক্য আওড়াতে উদ্যোত হতেই হঠাৎ খেয়াল হলো — রমণীর মদ্যপ দশার কথা। তৎক্ষনাৎ থেমে গেল মুগ্ধ! চোয়ালের পেশি টানটান করে নিয়ে শরীর বাঁকিয়ে দাঁড়ালো পরক্ষণে। ওদিকে চঞ্চলা মাহি আজ লাগামহীন। যুবককে কাছে ডাকার আহবান ছুড়ঁল ফের,
“ জাআআআআন! আসো নাআআআ।”
অধর কোণে দাঁত চাপলো মুগ্ধ! হাতে থাকা কাপড়গুলো এক ঝটকায় বিছানার ওপর ছুঁড়ে ফেলে কটমট করতে করতে মেয়েটার পানে ঘুরে দাঁড়িয়ে আওড়াল,
“ লাস্টবার বলছি, এসব বা*লের জানপ্রাণ, হ্যান-ত্যান ডাকা বন্ধ কর সিগনোরা!
রমণী বাঁধ মানলো না। উল্টো নিষ্পাপ ভঙ্গিতে ঠোঁট উল্টে পা বাড়ালো সম্মুখে। ধীরলয়ে গম্ভীর পুরুষের সম্মুখে এসে দাঁড়াতেই আপনা-আপনি ঘাড় উঁচু হয়ে গেল মাহি’র। মুগ্ধ নির্বিকার! মেয়েটাকে নাস্তানাবুদ করবার খানিক প্রয়াসে তৎক্ষনাৎ দু’হাত বাঁধল বুকের সনে। পিচ্চি মেয়েটার এবার হয়েছে যত জ্বালা! পাহাড়সম লোকটার মুখের দিকে তাকাতে সে-কি কসরত করতে হচ্ছে তার! বারংবার ভর দিতে হচ্ছে দু’পায়ের পাতায়। তবুও লোকটার মুখদর্শন হচ্ছে না ঠিক মতো। এ নিয়ে বড্ড বিরক্ত বোকা মানবী। গালদুটো তৎক্ষনাৎ পটকা মাছের ন্যায় ফুলিয়ে, ঘাড় বাকিয়ে তাকালো এদিক ওদিক। সন্ধানী চোখদুটো তার, মখমলি বিছানার পানে একমুহূর্ত তাকিয়ে থেকে অভ্যন্তরে ছক কষলো কিছু একটা। পরক্ষণেই রমণী নিজ বুদ্ধি মোতাবেক দ্রুত কদমে ছুটে গেল বিছানার কাছে। মুগ্ধ গম্ভীর! তীক্ষ্ণ দৃষ্টে দেখছে বোকা সপ্তদশীর কান্ডকারখানা। অথচ মাহি’র সে-কি তাড়া। তড়িঘড়ি করে বিছানার ওপর উঠে এসে, মুখোমুখি হলো রূঢ় মানবের। কিন্তু বালাইষাট! লোকটা যে এখনো কত উঁচু। বোকা মানবীর সুশ্রী মুখমণ্ডলে আঁধার নামলো তক্ষুনি। চিবুক কন্ঠনালী স্পর্শ করতে গেলেই পাহাড়সম গরিমা ভরা লোকটা আলগোছে ঝুঁকিয়ে আনলো ঘাড়। সপ্তদশী তক্ষুনি নজর তুললো। মুহুর্তেই তার হরিণী চোখদুটোর ছলছলে দৃষ্টি যেন একেকটা তীরের ন্যায় একজোটে বিদ্ধ হলো, রূঢ় মানবের শক্ত খোলসে আবৃত হৃদয়টায়। এক অদ্ভুত চিনচিনে ব্যথায় সহসা চোখদুটো কুঁচকে নিলো মুগ্ধ। অধর কোণে দাঁত বসাতে বসাতে অস্ফুটে আওড়াল,
“ ওহহ ফা’ক!”
“ চলো করি!”
রমণীর বোকা বোকা কন্ঠস্বর। যা কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই তড়াক চোখদুটোর পর্দা সরায় সুদর্শন। হতবিহ্বল কন্ঠে পরপর জিজ্ঞেস করে ওঠে —
“ কি বললি তুই?”
সহসা গালভরে হাসলো মাহি। নিজ তুলতুলে হাতদুটো দিয়ে আলগোছে চেপে ধরল মুগ্ধের বলিষ্ঠ বাহু। উচ্ছ্বসিত কন্ঠে প্রতুত্তরে বলল,
“ আরেহ! ডান্স করি চলো। কাম, কাম।”
বিরক্তিতে বুক ফুলিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে মাফিয়া বিস্ট। রমণীর তুলতুলে হাতদুটো নিজ গা থেকে ছাড়াতে ছাড়াতে আওড়াল,
“ নিজের ভালো চাইলে একা একাই নাচ সিগনোরা। নয়তো আমি সঙ্গে গেলে অন্যভাবে নাচিয়ে ছাড়বো।”
অবোধ মাহি! নেশার ঘোরে বুঝল না মুগ্ধের গভীর বাক্যের গভীরতার্থ। উল্টো চোখেমুখে একপ্রকার আবেদনময়ী ভাবভঙ্গিমা ফুটিয়ে আচমকা জড়িয়ে ধরল মুগ্ধের গলা। এহেন অতর্কিত কান্ডে হতবাক মুগ্ধ। শক্ত মুখভঙ্গিতে মেয়েটার মুখপানে তাকাতেই দেখে — মাহি কেমন মোহাচ্ছন্ন দৃষ্টে তাকিয়ে আছে তার পানে। আবেদনময়ী বারেবারে জিভ ঠেলে ভেজাচ্ছে অধর! সহসা কন্ঠায় খরা নামলো মুগ্ধের। ঢোক গিললো পরপর। রমণী আলতো করে মুখ এগিয়ে আনে। সুদর্শনকে একপ্রকার চোখ দিয়ে গিলে ফেলার উপক্রমে নিচু স্বরে আওড়ায়,
“ সত্যিইইইই গুলুগুলু?”
শুকনো ঢোক গিললো মুগ্ধ। মানবীর এহেন আগাম কর্মকাণ্ডে অভ্যন্তরে কামনার জলোচ্ছ্বাস বইছে তার। হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা বেড়েছে বেশ। এমুহূর্তে রমণীকে না থামালে হিতে-বিপরীত হবার নিশ্চয়তা আকাশ ছোঁয়া। তাইতো রূঢ় মানব কেমন ঝাঁঝিয়ে শুধালো —
“ চোখ নামা নির্লজ্জ মেয়েছেলে! তুই দেখছি চোখ দিয়েই আমায় ইভটিজিং করে দিচ্ছিস।”
মোহাবিষ্ট রমণী অধর কামড়ে হাসল খানিক। মুগ্ধকে এক আকাশসম হতবাকতায় ডুবিয়ে দিয়ে পরপরই নিজ তুলতুলে নাকটা ঘষে দিলো মানবের সরু নাকের ডগার সনে। ওমনি ভাবাবেগে জমে গেল মুগ্ধ। আবেশে বুঁজলো দুটো চোখ। নিজ অজান্তেই রুক্ষ হাতদুটো আলগোছে তুলে আনলো মাহি’র মেদহীন বাঁকানো কোমর বরাবর। কর্ণকুহরে শুনতে পেলো — মেয়েটার আছন্ন কন্ঠ!
“ তুমি শুধু একবার কাছে টেনে দেখো জাআআন! তখন শুধু ইভটিজিং না, আরও অনেককিছু করে ফেলব। আ’ই প্রমিস!”
বিমুগ্ধতায় অধর কামড়ে হাসল মুগ্ধ। ধীরলয়ে খুললো দু’টো চোখ। রমণীর নয়নে নয়ন মিলিয়ে খানিক গভীর কন্ঠে শুধালো,
“ আ’ই উইশ! কথাগুলো যদি তুই সজ্ঞানে বলতি। বাট আফসোস! সকাল হলেই সবকিছু তুই ভুলে যাবি সিগনোরা! ভুলে যাবি আমাদের সুন্দর মুহুর্তগুলো। তখন হয়তো আমার নামের পাশে অসভ্য, বেয়াদব, নির্লজ্জ, নির্দয়ের পাশাপাশি ট্যাগ বসাবি ধর্ষ কের।”
একমুহূর্ত থামল মুগ্ধ। মোহে বুদ হয়ে থাকা মাহি’র পানে তাকিয়ে থেকে, শুকনো ঢোক গিলে কেমন অদ্ভুত শান্ত স্বরে আওড়াল,
“ আজ যদি আমিও তোর অবস্থার সুযোগ নিয়ে তোর ওপর জোর খাঁটিয়ে নিজেকে পুরুষ প্রমাণ করতে যাই, তাহলে আমার আর তোর বাপ, তায়েফ এহসানের মধ্যে পার্থক্য কোথায় রইলো সিগনোরা? সবাই কি আর তোর বাপের মতো? যে কি-না একটা অবলা বাঙালী নারীর সুযোগ নিয়ে তাকে ……”
আচানক কন্ঠরুদ্ধ হয়ে গেল মুগ্ধের। এক অজানা ব্যথায় চিনচিনিয়ে উঠল বুকের ভেতরটা। ফের নিজমনে গুটিয়ে রাখা ব্যথাগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠল তার। বিরক্ত হতে লাগলো সবকিছুতে। সে তৎক্ষনাৎ রমণীর হাতদুটো জোরপূর্বক ঘাড় থেকে নামিয়ে দিলো। পাদু’টোতে গতি টেনে চুপচাপ এগিয়ে গিয়ে বসল অদূরের কাউচের গদিতে। বলিষ্ঠ পাদু’টো দু’দিকে ছড়িয়ে, ঘাড় এলিয়ে পড়ে রইলো মুগ্ধ। মিনিট খানেক নিঃসঙ্গে কাটতে না কাটতেই পরমুহূর্তে ঘটল আরেক কান্ড। বোকা সপ্তদশী কেমন প্রজাপতির ন্যায় উড়ে এসে আচমকা ধপ করে উঠে বসল মুগ্ধের ছড়িয়ে রাখা কোলে। ওমনি সামান্য কেঁপে ওঠে মুগ্ধ! ঘাড়টা আলতো করে উঠিয়ে এনে আড়দৃষ্টে মাহি’র পানে তাকাতেই দেখল — বোকা মেয়েটা কেমন মন খারাপ করে তার রুক্ষ বুকের কাছে আঙুল দিয়ে আকিঁবুকিঁ চালাচ্ছে! মুগ্ধ থামালো না মেয়েটাকে। উল্টো গা-ছাড়া ভাব ধরে পড়ে রইলো পূর্বের ন্যায়। মাহি গাল ফোলায় এবার। মুগ্ধের বুকে কেমন বাচ্চাদের ন্যায় নখ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আওড়ায়,
“ কি বলতে চেয়েছিলেন তখন? আঁটকে গেলেন কেনো? বলুন না।”
“ জ্বালাস না পিচ্চি! যা, গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।”
“ না আমি আপনাকে ছাড়া ঘুমাবো না।”
সহসা মাথা তোলে মুগ্ধ! চোখদুটো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র করে নিয়ে বিরক্ত কন্ঠে প্রতুত্তরে বলল,
“ আর কত জ্বালাবি আমায়?”
রমণী থমকায়! হুট করেই তার চোখদুটোতে নেমে এলো এক অদ্ভুত গভীরতা। সে ধীরলয়ে হাত উঠিয়ে রাখলো মুগ্ধের রুক্ষ বক্ষভাঁজে। খানিক সময় নিয়ে গভীর কন্ঠে শুধালো,
“ আমি আপনাকে জ্বালাই?”
ঠোঁট বাঁকায় মুগ্ধ! ঠোঁটের কোণে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে আলগোছে চেপে ধরল বুকের ওপর পড়ে থাকা রমণীর তুলতুলে হাত। শ্লেষাত্মক কন্ঠে বলে উঠল —
“ তোর দহনে রোজ একটু একটু করে পুড়ছি! অথচ কথা ছিলো তোকে পোড়ানোর। তুই বোকা হয়ে বড্ড ভালো করেছিস সিগনোরা! নয়তো তোর অক্ষিপুটের সম্মুখে এসে এতো নাটক করবার থোড়াই সাধ্যি হতো আমার?”
ভ্রু গোটায় মাহি। হতবুদ্ধির ন্যায় প্রশ্ন ছুড়েঁ,
“ কি নাটক করেছেন?”
হাসল মুগ্ধ! ঠোঁটদুটো নিরবে ছড়ালো দু’দিকে। পরক্ষণে শক্তপোক্তের হাতের হেঁচকা টানে সপ্তদশীকে একপ্রকার আছড়ে ফেললো নিজ অর্ধ-উম্মুক্ত বুকের ওপর। রমণী তাল মেলাতে অপারগ! এলোমেলো চুলগুলো তার, হুট করেই অবাধ্যের ন্যায় আসন বসালো রমণীর সুশ্রী গৌরবর্ণা মুখখানায়। মুগ্ধ নিরবে দেখল তা। বিমুগ্ধতায় সপ্তদশীর মুখের ওপর আসন গেঁড়ে বসে থাকা অবাধ্য চুলগুলো সযত্নে নিজ রুক্ষ আঙুলের ডগা দিয়ে সরায় সে। নিজ সবটুকু মোহ ঢেলে পরমুহূর্তেই মেয়েটার মসৃণ গালে ডোবায় ঠোঁটদুটো। সেথায় ঠোঁট ডুবিয়ে রেখে মোহাচ্ছন্ন কন্ঠে শুধালো,
“ ঘুমিয়ে পড়। আ’ম ঠু টায়ার্ড নাউ!”
ঘুমের অতল থেকে ধীরলয়ে চেতনার কিনারায় ফিরে আসার উপক্রম রূঢ় মানবের। চোখের বদ্ধ পাতার আড়ালে এখনো লেপ্টে আছে রাতের শেষ ঘুমটুকু। পাহাড়সম বলিষ্ঠ দেহটা তার, ততক্ষণে উবুড় থেকে চিৎ হয়েছে। খানিকবাদেই অদূরের দেয়ালঘেরা জানালার পর্দা ভেদ করে ছুটে আসা সকালের নরম রোদের ঝিলিক মুখ ছুঁয়ে যেতেই ভ্রু যুগল কুঁচকে গেল মুগ্ধের। হঠাৎ বুকের কাছে টের পেলো খানিক তীক্ষ্ণ কিছুর পরশ। যেন ধীরেসুস্থে সুই ঢোকাচ্ছে কেউ। এহেন উপলব্ধিতে একসময় ভারী চোখের পাতা মেলে তাকাল সে। ঝাপ্সা দৃষ্টিযুগলে হুট করেই ধরা পড়ল কারো অবয়ব। রূঢ় মানবের কুঁচকে রাখা ভ্রূদ্বয় কুঁচকে গেল আরও কিছুটা। ধীরলয়ে সম্মুখে সব স্পষ্ট হতেই সে দেখল — অগ্নিমূর্তি সপ্তদশী একহাত দুরত্বে দাঁড়িয়ে আছে! তার ডানহাতে শোভা পেয়েছে একখানা ফল কাঁটার চা কু। চকচকে চা কু টার তীক্ষ্ণ ডগা ইতোমধ্যেই স্থান পেয়েছে মুগ্ধের বুকের চামড়ায়। এতক্ষণ তবে এর জন্যই সুচ ঢোকা ব্যথা অনুভব করছিলো মুগ্ধ। মাহি সাপের ন্যায় ফোঁস ফোঁস করছে দাঁড়িয়ে। রাগের তোড়ে মুখটা হয়েছে লাল। মুগ্ধ ভাবলেশহীন কায়দা ধরল। তক্ষুনি দু’হাত উঠিয়ে এনে আলগোছে রাখল নিজ বলিষ্ঠ মাথার নিচে। অধর নাড়িয়ে ঘুম জড়ানো কন্ঠে যেই না কিছু বলবে, ওমনি সম্মুখ থেকে ধেয়ে আসে মাহি’র চিড়বিড় কন্ঠ!
“ সত্যি করে বলুন অসভ্য লোক! কাল রাতে আপনি আমার সাথে কি কি করেছেন? সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমি আমার গায়ে আপনার কাপড় পেলাম কেনো? আপনি… আপনি…”
সহসা মুখের কাছে তুড়ি বাজিয়ে হামি টানলো রূঢ় মানব। ভাবলেশহীন কন্ঠে রয়েসয়ে প্রতুত্তর করল —
“ স্ট্রেঞ্জ! আমি কি করব? যা করার তুই নিজেই তো করলি গতকাল। আমি কেবল তোর নিচে ছিলাম।”
তৎক্ষনাৎ ঘৃণায় নাকমুখ কুঁচকে গেল মাহি’র। দাঁতে দাঁত চেপে কিড়মিড় করতে করতে আওড়াল,
“ তাহলে আপনি আমায় থামালেন না কেনো বেয়াদব লোক?”
বাঁকা হাসে মুগ্ধ। অধরের কোণ কামড়ে ধরে হিসহিসিয়ে বলে উঠে,
“ উমমম…মজা লাগছিলো তাই!”
মুগ্ধের বেয়াদব কণ্ঠধ্বনিতে আকাশ থেকে ধপ করে টপকালো মাহি। মুখ ভঙ্গিতে হতবাকতার ছাপ ফুটিয়ে হতবুদ্ধির ন্যায় আওড়ায় সে,
“ কি বললেন আপনি?”
কথাটা শেষ হতে না হতেই বলিষ্ঠ মানব নিজ দক্ষ হাতের কামাল দেখিয়ে ছাড়লো। তক্ষুনি মানবীর নরম কব্জিসন্ধি আঁকড়ে ধরে, তাকে এক বেপরোয়া হেঁচকা টানে ঘুরিয়ে আনলো নিজের দিকে। এহেন অতর্কিত ঘটনাপ্রবাহে পুরোদস্তুর হতবাক মাহি। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই নিজেকে আবিষ্কার করল মুগ্ধের বলিষ্ঠ বাহুবন্ধনে। বাঁকানো শিরদাঁড়া গিয়ে ঠেকল রূঢ় মানবের রুক্ষ বক্ষভাঁজের সনে। কানের পাশে অনুভব করছে বেপরোয়া উষ্ণ নিশ্বাসের ঝাপ্টা! মুহুর্তেই স্থির হয়ে গেল বোকা মানবী। অস্বস্তিতে গা মোচড়াতেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো —
“ সিরিয়াসলি দেড়ব্যাটারী! গতকাল রাতে তুই যা যা করলি না! আ’ম ড্যাম শিওর তুই যদি ছেলে হতিস, তাহলে নির্ঘাৎ আমায় প্রেগন্যান্ট করে ছাড়তিস।”
মুহুর্তেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল মাহি। দাঁত খিঁচে আচানক লোকটাকে শুধরে দিয়ে বলে উঠল,
“ একদম মিথ্যে কথা বলবেন না অসভ্য লোক! আমি গতকাল এমন কিছুই করিনি।”
তৎক্ষনাৎ হাতের জোর বাড়ায় মুগ্ধ। মেয়েটাকে নিজ বুক পিঞ্জরের সনে আরেকটু চেপে ধরে হিসহিসিয়ে আওড়াল,
“ ওহ রিয়েলি? তাহলে গতকাল আমার কোলে চড়ে নাচছিলো কে? কে বলেছিলো — ফা’ক মি বেইবি?”
সহসা রণমুর্তির ন্যায় গর্জে উঠে মাহি। ত্বরিত মাথা ঘুরিয়ে এনে তাকাল বেয়াদব ছেলেটার মুখপানে। মুখ ঝামটি দিয়ে শুধালো,
“ অসম্ভব! আমি শুধু আপনার কোলে বসে ছিলাম আর আপনার বুকে আঙুল দিয়ে খোঁটাচ্ছিলাম! এছাড়া আর কোনোকিছুই আমি করিনি। ওসব ফা’ক… ইউউউউ!ওসব আমি কোনোদিন বলিনি বেয়াদব লোক।”
রাগের মাথায় সত্যটুকু বেভুলার ন্যায় উগড়ে দিলো বোকা মানবী। স্পষ্ট স্বীকার করে বসল — গতকাল রাতে সে মাতাল ছিলো না। করেছে নাটক! মুগ্ধের চৌকস দৃষ্টিজোড়া রমণীর পেলব মুখাবয়বে স্থির। ঠোঁটের কোণে ঝুলছে এক চিলতে কুটিল হাসির রেশ। সে দৃষ্টির অন্তরালে আটকা পড়তেই রমণীর ঘোর কাটলো। ফিরলো সম্বিতে! নিজের করা বোকামিতে চরম বিরক্তি প্রকাশ করবার পূর্বেই সম্মুখ থেকে এক আগ্রাসী থাবার আক্রমণ বসল মেয়েটার নরম চোয়ালে। তক্ষুনি ককিয়ে ওঠে মাহি। কুঁচকে নেয় চোখজোড়া! শুনতে পায় রূঢ় মানবের দাঁত কিড়মিড় কন্ঠ।
“ অভিনয়ে এতো কাঁচা হলে কি করে হয় বলতো?”
চোয়ালের ব্যথায় কড়কাচ্ছে মাহি! বহুকষ্টে অধর নাড়িয়ে শুধায়,
“ আমি আপনার সাথে অভিনয় করতে চাইনি বিস্ট! আমি আসলে….”
চোয়াল শক্ত মুগ্ধের। দৃষ্টিতে লেপ্টেছে আগুন। বলিষ্ঠ হাতের জোর বাড়িয়ে আচমকা সপ্তদশীর হাতের মুঠো হতে ছিনিয়ে নেয় ধারালো ছুরিটা। পরক্ষণেই তা কৌশলে মাহি’র নরম কন্ঠা বরাবর আলতো করে চেপে ধরে কটমটিয়ে আওড়ায়,
“ এতবার করে বলেছি — আমার সঙ্গে কোনোপ্রকার ছল-চাতুরি, কিংবা অভিনয় না করতে! তবুও আমার কথা গায়ে ধরে না তোর তাই না? এবার কি করব তোকে বল? মে’রে দিলে খুব রাগ করবি কু***বাচ্চা?”
থমকায় মাহি! থমকায় তার দৃষ্টি। লোকটা এতো নিখুঁত কৌশলী কেনো? কি করে বুঝলো তার অভ্যন্তরের কথা? কি করে বুঝলো — তার করা অভিনয়ের কথাটা? ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে তৎক্ষনাৎ নজর ঝোঁকায় মাহি। অপরাধবোধে বিদ্ধ হয়ে অস্ফুটে শুধায়,
“ আ’ম সরি বিস্ট!”
নাকের পাটা ফুললো মুগ্ধের। হাতের জোরে তক্ষুনি এগিয়ে আনে রমণীর পেলব মুখখানা। হিসহিসিয়ে আওড়ায়,
“ ফা’ক ইউ এন্ড ইউর সরি! নাউ গো টু হেল জানোয়ারের বাচ্চা!”
বলেই রমণীর ক্ষুদ্র মুখটা একপ্রকার ঝটকা মে’রে সরিয়ে দেয় রূঢ় মানব। মুখাবয়ব জুড়ে চরম অসন্তোষের ছাপ ফুটিয়ে গজগজ করতে করতে উঠে দাঁড়ায় শোয়া ছেড়ে। দাঁত খিঁচে বলে ওঠে,
“ আমার ঘর ছেড়ে দূরে গিয়ে ম’র।”
সহসা ঢোক গিলে মাহি। প্রাণভয়ে পালানোর উদ্দেশ্যে ত্রস্ত কদমে ছাড়লো ঘর। তড়িঘড়ি করে রূঢ় মানবের কামরা ছেড়ে বারান্দায় এসে পিঠ ঠেকালো দেয়ালে। হাঁপাতে হাঁপাতে বিড়বিড়ালো,
“ আমি আপনার সাথে অভিনয় করতে চাইনি বিস্ট! সত্যি চাইনি। আমি গতকাল স্পষ্ট দেখেছি — যখন ঐ গৃহকর্মী আমার ঘরে খাবার রাখতে এসেছিল, তখন ওপাশের করিডরে দাঁড়িয়ে থেকে জমিদার বাড়ির কেউ একজন আমায় দেখছিলো! আমি জানতাম কালও আমার খাবারে কেউ না কেউ কিছু মিশিয়েছে। আমি…আমি আসলে..”
বাকি বলার ফুরসত পেলো না মাহি। তার আগেই ডুকরে উঠলো সে। কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি তুলে আওড়াল,
“ আপনার সঙ্গ মানেই সাক্ষাৎ মৃ ত্যু বিস্ট! এই চরম সত্যি কথাটা জানার পরও আপনার কাছ থেকে দুরত্ব বাড়াতে গিয়ে বারংবার হোঁচট খাচ্ছি আমি।”
“ পিয়া যাই যাই বলো না….
পিয়া যাই যাই বলো না!”
সহসা ব্যস্ত পাদু’টো থমকায় মাহি’র। থমকায় তার অগ্রসরমান যাত্রা। এখানকার দেয়াল জুড়ে গুঁজতে থাকা ওমন সুমধুর কন্ঠে গাওয়া গান শুনে রমণী আর টিকতে পারেনি ঘরে। কৌতুহলে বাড়িয়েছে পা! শব্দের উৎস খুঁজতে খুঁজতে অন্দরমহল পেরিয়ে সদ্য পা রেখেছিলো নাচ মহলে। ওমনি খুঁজে পেলো কাঙ্ক্ষিত নাচঘর! সে এক বিশাল কামরা। চারদিকে ছোট ছোট জানালা! রমণী জানালা দিয়ে উঁকি না দিয়ে, আগ্রহে পা বাড়ালো দরজার পানে। খোলা দরজার ওপারে চোখ ফেলতেই দেখতে পেলো —
তালের মূর্ছনায় মগ্ন জমিদার পুত্রী। পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল পেরিয়ে তার কানে কেবল পৌঁছাচ্ছে নূপুরের রিনিঝিনি শব্দ! সম্মুখেই বসে আছেন শারদা দেবী। নিরুর গুরুমা। দু’হাতের দক্ষ কৌশলে সুর তুলছেন বীণায়, সুমধুর কন্ঠে গাচ্ছেন গান। সে-ই গানের তালে ছন্দের মাদকতায় নৃত্যরত রমণী। মুখাবয়বে তার সে-কি সৌন্দর্য! পরনের গোলাকার চুরিদারটা বড্ড উড়ছে গোলাকারে। ঘূর্ণনের বেগ বাড়তেই অষ্টাদশীর কাজল রাঙা চোখদুটো হুট করেই থমকাল অদূরের দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকা সপ্তদশীর পানে। মুহুর্তেই পায়ের ঘূর্ণন থেমে গেল নিরুর। থেমে গেল তার চুরিদারের ঘূর্ণন! গুরুমা হুট করেই গান থামিয়ে দিলেন এরূপ স্থিতিতে। সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে নিরুকে প্রশ্ন ছুড়ঁতেই যাবেন, ঠিক তখনি নিরু স্বর তুললো কন্ঠায়!
“ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? ভেতরে আসুন।”
সহসা চমকে ওঠে মাহি। গানের শ্রুতিমধুরতায় চোখদুটো তার সে-ই যে বুঁজে গিয়েছে, তা মাত্র খুললো নিরুর কন্ঠে! মাহি ইতস্ততায় জড়ালো ভীষণ। সম্মুখে পা বাড়াবে কি-না তা নিয়ে দোটানায় পড়তেই নিরু কেমন মুচকি হাসলো। কদম বাড়িয়ে শান্ত কন্ঠে আওড়াল,
“ ভেতরে আসুন! আমার ওপর আপনার যে বড্ড এহসান রয়েছে।”
বোধগম্যহীনের ন্যায় চেয়ে রইলো মাহি। সম্মুখে পা বাড়িয়ে সন্দিগ্ধ গলায় জিজ্ঞেস করল,
“ এহসান বলতে?”
মৃদু হাসিতে গালদুটো ভরে গেল জমিদার পুত্রীর। চকচকে মেঝেতে বসে হাত রাখল নিজ ঘুঙুর পরা পায়ে। ঘুঙুরের ডোর শক্ত করে বাঁধতে বাঁধতে কাজল রাঙা চোখদুটোর ইশারায় মাহি’কে সামনে এসে বসতে বলল মানবী! শঙ্কায় জর্জরিত মাহি, একমুহূর্ত বিলম্ব করে পরক্ষণে ঠিক গতি টানলো পায়ে। নিরুর সম্মুখে এসে পাদু’টো ভাঁজ করে বসল মুখোমুখি। নিরু এবার মুখ খুললো,
“ গতকাল আপনি ছিলেন বলেই অধীর দা’য়ের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছি। নয়তো সে যা রাগী! কাল নির্ঘাৎ মরণ ছিলো আমার কপালে।”
কথার গভীরতা বুঝতে পেরে গম্ভীর হলো মাহি। নিরুকে ওমন ঘুঙুরের সঙ্গে একপ্রকার নিরব যুদ্ধে মত্ত থাকতে দেখে আগ বাড়িয়ে হাত রাখল সে। ধীরলয়ে ঘুঙুর স্পর্শ করতেই নড়েচড়ে উঠে নিরু। দু’হাতে সৌজন্যবোধে ভরপুর মেয়েটাকে বারণ করতে গেলে, মেয়ে উল্টো বলে ওঠে,
“ আপনি খুব ভালো নাচেন! গানও করেন নিশ্চয়ই?”
হাসলো নিরু। বুক ফুলিয়ে এক লম্বা নিশ্বাস টেনে আওড়াল,
“ খুব ভালো নয়, তবে টুকটাক। পিসিমণিকে অনুকরণ করবার প্রয়াসে যা যা শিখেছি আরকি!”
ঘুঙুর বাঁধতে ব্যস্ত মাহি। সন্দিগ্ধ গলায় আনমনে জিজ্ঞেস করে,
“ আপনার পিসিমণি খুব ভালো গান গায়?”
“ গায় নয়, গাইতেন।”
থামল মাহি! দৃষ্টিযুগলে খানিকটা ব্যথা ফুটিয়ে আওড়াল,
“ দুঃখিত! আমি জানতাম না।”
নিরু মাথা নাড়ায়। আহত গলায় বলে,
“ সমস্যা নেই।”
“ নাম কি আপনার পিসিমণির?”
“ শ্যামৌপ্তি দেবী রায়। আমার অধীর দা’য়ের মা!”
চোখদুটোতে বিস্ময় লেপ্টে গেল মাহি’র। খানিকটা শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা স্বরে শুধালো,
“ উনি..না মানে। উনি গান গাইতেন?”
আচমকা হতাশায় ডুবলো নিরু। অন্যমনস্ক হয়ে শুধালো,
“ সে আর বলতে! আমার পিসি মণি ছিলো পুরো কলকাতার শ্রেষ্ঠ গায়িকা এবং নাচ শিল্পী। কি রূপ ছিলো তার! আমি কখনো দেখিনি তাকে, তবে লোকমুখে যতদূর শুনেছি আরকি! শুনেছি — পিসিমণিকে কেউ একবার দেখলে না-কি তার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যেতো। এতটা সুন্দর ছিলেন তিনি!”
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫৭ (২)
থামল নিরু! একমুহূর্ত মৌন থেকে আবারও বলে উঠল,
“ অথচ ওমন অপ্সরার, যার ঝলক পেতে মরিয়া ছিলো পুরো কলকাতা, শেষমেশ সে-ই অপ্সরাকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল এই সমাজ থেকে! তাকে ত্যাগ করতে হয়েছে তার বাড়ি, তার জীবন। কেবলমাত্র ভিন্ন ধর্মের একটা মানুষকে ভালোবেসে সংসার করার অপরাধে!”
“ আর সে-ই মানুষটা কে?”
