মিহি পর্ব ৪১
রুপন্তী সরকার
পরেরদিন সকালে…
রিদ ঘুমিয়ে আছে, মিহি সকাল সকাল একটা সুন্দর লাল রঙের শাড়ি পড়েছে। মিহি এসেই রিদের গা ঘেষে বসলো। রিদ মিহির হাত ধরে ওর বুকের উপর ফেললো।
মিহি রিদের থেকে একটু সরে এসে বললো
_”কি হয়েছে?”
রিদ ওর ঠোঁট দেখিয়ে বললো
“চুমু দাও”
“না”
“কেনো বউ? তুমি দিন দিন এমন ডাইনি হয়ে যাচ্ছো কেনো? ছোট বেলায় বলার সাথে সাথে চুমু দিতা আর এখন দিতেই চাও না, ”
“ছোট বেলায় তো আর বুঝতাম না তাই দিতাম। এখন। বুজি”
রিদ মিহি কে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বলল
“তুমি যদি ভালোই ভালোই চুমু না দাও তাহলে আমি।ছিনিয়ে নিব”
“দিবো তবে একটা শর্ত আছে”
“বলো বলো যেটা বলবা সেটা তেই রাজি”
“আজকে বাড়ির সব কাজ তুমি করবা আর আমাকে অনেক গুলো শপিং করে দিবা তাহলে তুমি যতো গুলো চুমু চাও তত গুলোই দিবো”
রিদ একটু চিন্তায় পড়ে গেলো। এর পর কিছু একটা ভেবে মিহি কে বললো
“তুমি কি শিওর?”
“১০০% সিউর”
“ওকে তাহলে আমাকে ১০০০+চুমু দিতে হবে।”
“আচ্ছা”
রিদ ফ্রেশ হয়ে বাড়ির সব কাজ করতে লেগে পরলো। প্রথমে কিচেনে থাকা বাসন গুলো মাঝলো। এর পর কাপড় চোপড় ধুয়ে দিল। ঘর ঝাড়ু দিলো। মিহি রিদ কে দিয়ে ঘর মুছিয়ে নিলো। এর পর রান্না বসিয়ে দিলো। বেচারী কাম করতে করতে শেষ। এইদিকে মিহি মজা নিতে থাকে। সাথে অবাক ও হচ্ছে। একটা লোক কি পরিমান চুমুখর হতে পারে। শুধু চুম্মার লোভে এত এত কাজ করতেও দুইবার ভাবছে না। এক দিকে ভালোই হয়েছে।
বাড়ির সব কাজ হয়ে যাওয়ার পর মিহি রিদ কে নিয়ে শপিং মলে গেলো। ইচ্ছে মতো শাড়ি চুড়িদার, বিভিন্ন কসমেটিক্স। জুতা ইত্যাদি নিল। রিদ মিহির কেনা কাটা দেখছে। এসব দেখে ও মনে মনে বলে উঠলো।
“বউ টা ভালোই চালাক। তবে আমিও সেই জিনিস। যা ইচ্ছা কিনে নাও রাতের বেলা ছাড়ছি না।”
রাতের বেলা…
মিহি তো ভীষণ খুশি অনেক গুলো শপিং করেছে আজকে। অভ্র কে নাচতে নাচতে সব জিনিস দেখলো। রিদ এবার মিহির কাছে এসে দাড়ালো। মিহি দৌড়ে অভ্রর পেছনে গিয়ে লুকালো।
রিদ মিহির উদ্দেশ্যে বললো
“এটা কিন্তু ঠিক না পালাচ্ছ কেনো? আমি আমার কথা রেখেছি এবার তুমিও তোমার কথা রাখো?”
অভ্র মিহি কে আড়াল করে রিদ কে বললো
“কি হইছে রে? কিসের কথা রাখতে বলছিস?”
“আমি ওকে চুমু দিতে বলেছি ও দেই নি উল্টে আমাকে শর্ত দিয়েছিল বাড়ির সব কাজ এবং ওকে যদি ইচ্ছে মতো শপিং করিয়ে দেই তাহলে আমাকে ১০০০+ চুমু দিবে।
রিদের কথা শুনে অভ্রর মাথায় হাত। এরা দুইজন কি পরিমাণ সাইকো। অভ্র রিদ কে বললো
“ভাই সিরিয়াসলি? এত চুমু খেয়ে কি পাস? তোর এতো ভালো লাগে চুমু খেতে?
রিদ অভ্রর পেছন থেকে মিহি কে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বললো
“তুই তো সিঙ্গেল তুই কি ভাবে বুজবি চুমুর কি টেস্ট। উফফস সেই স্বাদ।”
অভ্র লজ্জায় আর কিছু বলল না। রিদ মিহির দুইহাত বেঁধে ওকে সোফায় বসিয়ে ইচ্ছে মতো চুমু খেতে লাগলো। মিহি ছটফট করছে। কিন্তু কোনো লাভ নেই। বেচারী আচ্ছাভাবে ফেঁসে গেছে। প্রায় এক ঘন্টা মিহির গালে নাকে ঠোঁটে নির্যাতন করার পর রিদ ঘোষণা দিলো
“মাত্র ২০০+ হয়েছে এখনো ৮০০+ বাকি।”
মিহি কাঁদো কাঁদো গলায় রিদ কে অনুরোধ করে বললো
“আমি আর কখনো এমন করবো না প্লিজ ছেড়ে দাও পঁচা লোক”
রিদ একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলল
“না জান শুরু টা তুমিই করেছো শেষ টা আমাকেই করতে দাও। ”
রিদ আবারো মিহির গাল নাক ঠোঁটের উপর নির্যাতন শুরু করলো। আজকে সারারাত ওদের চুমু খেতে খেতেই কাটলো।
দেখতে দেখতে কেটে গেছে ২ বছর
অভ্রর বিয়ে হয়েছে তিথি নামের একটা মেয়ের সাথে। মেয়ে টা মিহির ক্লাসমেট। অভ্র কে শুরু থেকেই খুব পছন্দ করতো। মিহি সব জানতো। অভ্র ও জানতো তবে কিছু বলতো না। একদিন তিথির পরিবার রিদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসে। রিদ রাজি হয়ে যায়। অভ্রর ফ্যামিলি কে বলে উনারাও রাজি হয়ে যায়। কিন্তু অভ্র রাজি ছিলো না। মিহি আর রিদের জোরাজুরি তে রাজি হয়ে গেছে। এর পর ছোট খাটো করে ওদের বিয়ে হয়ে যায়। এখন তিথির পেটে ২ মাসের বাবু। আর মিহি ও ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। রিদ এখন মিহি কে এক মুহুর্ত চোখের আড়াল করে না। সব জায়গায় মিহির সাথে যায়। ওকে কোনো কাজ ও করতে দেই না। আরাফ রায়ান চৌধুরী তো অনেক খুশি। কিন্তু দুঃখের বিষয় উনি আর আগের মতো চলা ফেরা করতে পারে না।
রিদ ল্যাপটপে কিছু কাজ করছে। এমন সময় মিহি গুটি গুটি পায়ে ওর কাছে এসে বসে। রিদ দ্রুত মিহির কাছে গিয়ে বসে।
“কিছু লাগবে প্রিন্সেস?”
“একটু বাহিরে যাবো।”
“কেনো? কিছু দরকার? আমাকে বলো আমি এনে দিচ্ছি”
“এমনি তেই আমার ভালো লাগছে না একটু ঘুরে আসি”
“না এই অবস্থায় যাওয়ার দরকার নেই”
“প্লিজ নিয়ে চলো আমার খুব খারাপ লাগছে”
এই বলেই মিহি কাদতে লাগলো। রিদ মিহি কে শান্ত করে বললো
“আচ্ছা যাও রেডি হয়ে আসো”
রিদ এক হাতে গাড়ি চালাচ্ছে। আরেক হাত দিয়ে মিহি কে ধরে আছে। রিদ মিহির দিকে তাকিয়ে আছে। রিদ মিহির চোখ মুখ দেখে আতকে উঠে। মেয়ে টা দেখতে খুব কালো হতে গেছে। শরীর ও শুকিয়ে গেছে। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল। মিহি রিদের দিকে তাকিয়ে ওকে বললো
মিহি পর্ব ৪০
“আচ্ছা পঁচালোক ধরো আমার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে কি আরেকটা বিয়ে করবে?”
রিদ কিছু বলার আগেই একটা বড় ট্রাক এসে রিদের গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগিয়ে দিলো। গাড়ি টা ছিটকে গিয়ে বড় গর্তের কাছে পড়লো….
