মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬৩
Tahmina Akhter
অচেতন আলোকে সীটে বসিয়ে সিটবেল্ট বেঁধে দেয়ার পরও আলোর ঘাড় বারবার নেতিয়ে যাচ্ছে। তাই মেঘালয় অতিদ্রুত ড্রাইভিং সীটে বসে একহাত দিয়ে আলোকে ধরে রাখে। অন্যহাত দিয়ে ড্রাইভ করতে শুরু করবে ঠিক তখনি শান্ত এসে মেঘালয়কে বলল,
— আপনি একা হাতে পারবেন না। আমি না-হয় ড্রাইভ….
— আমি পারব।
কথাটি বলেই শান্তকে পাশ কাটিয়ে গাড়ি নিয়ে রওনা হল মেঘালয়। শান্ত ধ্যাত বলেই মাটিতে লাথি মারল। পরক্ষনেই উদাস ভঙ্গিতে আকাশ পানে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— আলো আমাকে কেমন করে চাইবে বলুন তো? যার এত সুন্দর বর আছে, যার বর এত চমৎকার গুছিয়ে কথা বলতে পারে। যার বর সারাক্ষণ স্ত্রীকে চোখে হারায় সেই স্ত্রী কি কারো সামান্য ভালোবাসা পাবার লোভে তাকে ছেড়ে আসবে? মোটেও না। কিন্তু, শালার আমার মনটাকে তো বোঝাতে পারছি না। আমার তো ইচ্ছে করছে আলোকে সেই মানুষটার বুক থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসতে। ওই বুকে যতটা শান্তি আছে আমার বুকে কি ততটা শান্তি নেই? আমি কি আলোকে ভীষণ যত্ন নিয়ে ভালোবাসতে পারব না? অবশ্যই পারব। কিন্তু আলো মানছে না কেন? ওই প্রফেসর ডাক্তার এর জন্যই তো!! আচ্ছা, কেমন হয় যদি প্রফেসর মানুষটাই না থাকে?
শেষ বাক্যটুকু কেমন পাষানের মত করে বলল শান্ত।
আলোকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পর তৌহিদ সাহেব আলোর এমন হাল দেখে মেঘালয়কে বিরক্তিভরা সুরে জিজ্ঞেস করলেন,
— মেয়েটাকে যদি মেনে নিতে না চাও তবে পারিবারিক একটা মিউচুয়াল ডিসিশন নিয়ে সেপারেশনে চলে যাও।
তৌহিদ সাহেব এর কথা শোনার পরও মেঘালয় কিছুই বলল না। একপ্রকার চাচাকে এড়িয়ে আলোকে কোলে নিয়ে দোতালায় রিনির ঘরে গেল। রিনির বিছানায় শুয়ে দেবার পর মেঘালয় ফোস করে শ্বাস ছাড়ল। তারপর, আলো’র ব্যাগ এবং মোবাইল আলোর বালিশের পাশে রাখল। আলোর মুখের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। একটা সময় পর আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই মেঘালয়ের মনে হলো,,
” আলো’র ওপর সে কখনো রেগে থাকতে পারে না। রাগ যদি উঠেও যায় তবুও সেই রাগের স্থায়িত্ব খুবই কম। কারণ, আলোকে ভালো রাখা কিংবা ভালোবাসার দায়িত্ব তার বলেই কিনা?’
আলো’র হাতের ওপর হাত রেখে মেঘালয় বিষাদ মেশানো স্বরে বলে,
— তুমি আমার মায়ের শ্যামকন্যা। ইতি ভাবির কৃষ্ণবতী। আর আমার কাছে….
থেমে যায় মেঘালয়। তারপর, মৃদু হেসে বলল,
— আর তুমি আমার মিসেস. মেঘালয়, আমার মিথ্যাবতী, আমার বাবুর আম্মু, আমার জীবনের আলো। যে তুমি আমার এতকিছু সেই তুমিটাকে কেউ অন্যায়ভাবে আবদার করবে আর আমি তাকিয়ে থাকব! No away. আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং মন্দবাসী। একটা বৃত্তের যেমন কেবল একটি নির্দিষ্টি কেন্দ্রবিন্দু থাকে। ঠিক তেমনি আমার জীবনের বৃত্তকার সীমানার কেন্দ্রবিন্দু তুমি।
কথাগুলো বলতে বলতে মেঘালয় সামান্য উবু হয়ে আলোর কপালে দীর্ঘ সময় নিয়ে চুমু খেলো সে। তারপর, আলো’র পালস চেক করল। না এবার ঠিক আছে। কিন্তু, এত ঘন ঘন সেন্স হারাবার তো কথা না। ব্যাপারটা কি ফেলে দেবার মত….,
আলো’র বন্ধ চোখের পাতা নড়ছে। তারমানে আলো’র সেন্স ফিরে এসেছে। মেঘালয় আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি বের হয়ে যায় রিনির ঘরে থেকে।
আলো চোখ খোলার পর সর্বপ্রথম নজরে এলো রিনির ঘরের ছাঁদটা। তারমানে এখন সে বাড়িতেই আছে!! আলো এলোমেলো ভঙ্গিতে উঠে বসল৷ তারপর, চারদিকে তাকিয়ে তার নিজের মানুষটাকে খুঁজে পাবার বৃথা চেষ্টা করল। কিন্তু, মানুষটা থাকলে তো…
মেঘালয়ের সেই রাগান্বিত স্বর, অভিব্যক্তি মনে পড়ার পর আলো ফিক করে হেসে ফেলল। তারপর, আবারও ভাবনার জগতে হারিয়ে ফেলল নিজেকে। বারবার সেই একই দৃশ্যকে ভাবছে । ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে আলো প্রশান্তির শ্বাস ছাড়ল। তারপর, বিছানা থেকে নেমে পা ঝুলিয়ে বসল। বালিশের পাশ থেকে মোবাইল হাতে নিয়ে গ্যালারি ঘেঁটে মেঘালয়ের ছবি বের করে ছবিটার দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেই বলল,
— আমি আবারও আপনার প্রেমেই পরলাম, ডাক্তার সাহেব। আমার জীবনের আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো আমি আমার জীবনে আমার প্রথম প্রেম, প্রথম অনূভুতি, প্রথম ভালোবাসা সবটা আপনার নামে উৎসর্গ করেছি। কিন্তু দেখুন না কি অদ্ভুত ব্যাপার! আমি রোজ আপনার প্রেমে পড়ি।
এমন অদ্ভুত ব্যাপার এর সমীকরণ সমাধান করতে গিয়ে ফলাফল পেলাম, আমি আপনার প্রেমে প্রথম
দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ অসংখ্যবার পড়েছি, পড়ছি এবং পড়ব৷ যার প্রেমে অসংখ্যবার হাবুডুবু খাওয়া যায় আর যাইহোক তার রাগের আড়ালে চাপা পড়ে যাওয়া ভালোবাসা পেতে একটুআধটু রাগ হজম করা কোন অসাধ্য ব্যাপার নয়।
আলো বিছানা থেকে নেমে সোজা ঘর থেকে বের হয়ে নীচে চলে গেল। নীচে গিয়ে দেখল তৌহিদ সাহেব টেলিভিশন দেখছেন। রান্নাঘর থেকে খুটখাট শব্দ হচ্ছে। আলো ভাবল রিনি ফিরে এসেছে হয়ত! তাই রান্নাঘরে চলে গেল। রান্নাঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই আলোর চোখ ছানাবড়া। কারণ, মেঘালয় রান্না করছে।
মেঘালয় খুন্তি দিয়ে ভুনা খিচুড়ি নেড়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দম দিয়েছে মাত্র ঠিক তখনি দরজার সামনে আলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিছুক্ষণ থম মেরে রইল সে। আলো মেঘালয়ের অনুমতি পাবার অপেক্ষা না করেই সোজা চুলার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মেঘালয়ের হাত থেকে খুন্তি নিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে বলল,
— আপনি কষ্ট করতে গেলেন কেন?
আলোর এই কথাখানি শোনার পর মেঘালয় কেমন করে যেন হাসল। চোখের কোনায় জল জমে ওঠার আগেই মেঘালয় নিজেকে স্বাভাবিক রেখে মৃদু স্বরে বলল,
— কারো অনুপস্থিতিতে আমি গত কয়েকবছর ধরে অনেক অনেক কষ্ট করেছি। কই তখন তো সে এসে জিজ্ঞেস করল না, আমার কষ্ট হচ্ছে কি না। আর আজ সামান্য চুলার তাপকে আমি সহ্য করতে পারব না বলে তার এত আপত্তি কেন?
কথাগুলো শেষ করার পর মেঘালয় ছুরি হাতে নিয়ে সালাদ কাটার প্রিপারেশন নেয়। আলো খুন্তি হাতে নিয়ে খিচুড়ি নাড়তে নাড়তে মেঘালয়ের প্রশ্নের জবাবে বলল,
— কষ্ট কি সে একাই পেয়েছে? তাকে যে ছেড়ে চলে গেছে সে মোটেও ভালো ছিল না। ভালো থাকার মানুষটাকে ছেড়ে সার্ভাইভ করা যায় ঠিকই তবে এই বেঁচে থাকার কোন আনন্দ নেই, উৎসাহ নেই। শরীরটাকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখতে হয় বলে দুমুঠো খাবার খেতে হয়। ঘুমাতে হয়। যেই জীবনের কোন লক্ষ্য নেই সেই জীবনের এক একটি দিন কাটিয়ে দেয়া বড্ড কষ্টকর। সবাই ওপরের সুখটা দেখে হৃদয়ের ভাঙন ক’জনে দেখতে পায়, ডাক্তার সাহেব?
শসা কাটা বাদ দিয়ে মেঘালয় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়। আলো খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে গরুর মাংস চুলায় বসিয়ে কিচেন সিংকের সামনে দাঁড়িয়ে হাত ধুয়ে কিচেন টাওয়াল দিয়ে হাত মুছতে মুছতে মেঘালয়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। মেঘালয় আলোর উপস্থিতি টের পেল ঠিকই তবে আলোর দিকে ভুল করেও তাকায়নি। আলো মেঘালয়ের কান্ড দেখে মুচকি হেসে বলল,
— আমার সঙ্গে কথা বলবেন মেপে মেপে মেপে। ভুল করেও আমাকে দেখবেন না। আমার অনুপস্থিতি যেন আপনার চোখে পড়ে না! অথচ, এই আস্ত অচেতন আমিটাকে আপনি একে একে দুবার কোলে নিয়েছেন। আমার সেবা করেছেন। কিন্তু আমার সামনে এমন ভান করেন যেন আমার ভাল-মন্দ নিয়ে আপনার কোন মাথাব্যথা নেই!
আলোর কথা শুনে মেঘালয় বিষম খায়। কাশতে কাশতে মেঘালয়ের অবস্থা খারাপ। আলো ভীষণ পেয়ে যায়। শেষমেশ উপায়ন্তর না পেয়ে মেঘালয়ের পিঠে হাত বুলাতে থাকে। আচমকা আলোর স্পর্শ অনুভব করার পর অধিক বিষ্ময়ে মেঘালয়ের বিষম কেটে যায়। মেঘালয় আলোর চোখের দিকে তাকাতেই আলো দেখতে পেল মেঘালয়ের চোখের কোল ভিজে গেছে। নিশ্চয়ই মানুষটা বড্ড কষ্ট পেয়েছে? আলো’র ভীষণ মন খারাপ হল। মানুষটাকে যে কেন লজ্জা দিতে গেল! ইশশ, কেমন করছিল মানুষ?
— তরকারি পুড়ে যাচ্ছে।
তিনটা শব্দ বলে আর দাঁড়াল না মেঘালয়। আলোকে পাশ কাটিয়ে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে গেল। এদিকে আলো ভীষণ মন খারাপের অনুভূতি নিয়ে রান্নায় মনোযোগী হয়।
রান্নাবান্না শেষ হবার পর আলো সব খাবার পরিবেন করল টেবিলে। তৌহিদ সাহেব এবং মেঘালয় ড্রইংরুমে বসেছিল বিধায় তাদের ডাকতে হয়নি। ডাইনিং টেবিলের কাছে আসার পর তৌহিদ সাহেবের মনটা হু হু করে কেঁদে উঠল একমাত্র মেয়ে রিনির জন্য। আহারে! রিনির চেয়ার, রিনির ব্যবহৃত সবই তো এই বাড়িতে আছে। কিন্তু রিনি….।
মেয়েদের কি ভাগ্য! যে বাড়িতে জন্মায় সেই বাড়ি নাকি তাদের আসল ঠিকানা হয় না। সম্পূর্ণ অচেনা, অজানা অন্যের বাড়িটা, সেই বাড়ির মানুষগুলো নাকি মেয়েদের আসল ঠিকানা। আদৌও কি পরের বাড়িতে মেয়েরা তাদের আসল ঠিকানা খুজে পায়? নাকি ভবঘুরের মত রোজ আসল এক ঠিকানা খোঁজার আশায় আত্মাভিমান আর হাজারটা কটুকথা হাসিমুখে হজম করার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
— কি হলো চাচ্চু দাঁড়িয়ে আছেন যে? বসুন চেয়ারে।
মেঘালয়ের ডাক শুনে সম্বিত ফিরে তৌহিদ সাহেব মেঘালয়কে বলল,
— আগামীকাল সকালে আমি রিনিকে দেখতে যাব। আমাকে নিয়ে যাবি বাপ?
তৌহিদ সাহেবের কথা শুনে মেঘালয় এবং আলো দু’জনের মন খারাপ হয়। সন্তানের জন্য, মেয়ের জন্য একজন বাবার হাহাকার দুজন এতিম মানুষের ওপর যে কতটা বোঝা হয়ে চেপে বসল তা যদি জানতে পারতেন তৌহিদ সাহেব ?
— ঠিক আছে নিয়ে যাব। খাওয়াদাওয়া ঠিকমত করে ঘুমিয়ে পড়ুন। আগামীকাল আমি ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় আপনাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাব। পথিমধ্যে রিনির শ্বশুরবাড়িতে নামিয়ে দেব। এবার ঠিক আছে?
মেঘালয়ের কথা শুনে তৌহিদ সাহেবের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে। তিনি এবাট চেয়ার টেনে বসতেই আলো উনার প্লেটে ভুনা খিচুড়ি এবং গরুর মাংস বেড়ে দিলো। দেশীয় খাবার এর আয়োজন দেখে তৌহিদ সাহেব অবাক হয়ে বললেন,
— রান্না কি তুমি করেছো বৌমা?
— না চাচা। আমি গরুর মাংস রান্না করেছি। খিচুড়িটা আপনার ভাইপো রান্না করেছে।
এই কথা শোনার পর তৌহিদ সাহেব মুচকি হেসে খাবার খেতে মনোযোগী হলেন। এদিকে মেঘালয় নিজেই নিজের খাবার প্লেটে তুলে খেতে শুরু করল। আলো সেই দৃশ্য দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইল।
তৌহিদ সাহেব এবং মেঘালয়ের খাবার পর্ব শেষ হবার পর উনারা টেবিল ছেড়ে চলে গেলেন নিজেদের কক্ষে। আলো সবকিছু গুছিয়ে রেখে ড্রইংরুমের সোফায় বসে রইল। পেটের ক্ষুধায় পেট চো চো করছে কিন্তু খেতে ইচ্ছে করছে না। একটিবার কি মানুষটা তাকে বলতে পারত না যে, “আলো দাঁড়িয়ে আছো কেন? খাবার খেয়ে নাও.”
আফসোস মানুষটা বলল না। নিজে খেয়ে উঠে চলে গেল। আলো যখন আকাশকুসুম ভাবছে ঠিক তখনি দোতলায় নিজের ঘরে বসে থাকা মেঘালয় রিনিকে কল দিচ্ছে অনবরত কিন্তু রিনি কল রিসিভ করছে না।
রিনিকে আরাফাত তাদের বাড়ির ছাঁদে বসে আছে। বিবাহিত জীবনের আজই তাদের প্রথম রাত। বিশেষ রাত। আরাফাত যতটা এক্সাইটেড রিনি ততটাই ঘাবড়ে গিয়েছে। যদিও আরাফাত রিনির সাথে সহজ হবার জন্য দারুণ সব ব্যাপার নিয়ে গল্প করছে।
এদিকে রিনির মনে হচ্ছে তার মোবাইলে ভাইব্রেশন হচ্ছে। প্রথমে মনের ভুল ভেবেছিল। কিন্তু, পরপর কয়েকবার যখন একইরকম অনূভুত হয় ঠিক তখনি রিনি টেবিলের ওপর থেকে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে দেখল, মেঘালয় কল করছে। রিনি তো বেশ ভয় পাচ্ছে। কোনো অঘটন হলো কিনা এই ভেবে? রিনি কল রিসিভ করে “হ্যালো” বলার আগেই মেঘালয় জিজ্ঞেস করল,
— তুমি কি আমার শত্রু? তোমাকে আমি প্রায় অনুরোধ করে বললাম যে, আলো যেদিন লন্ডনে ফিরে এসেছে সেদিনকার ঘটনাগুলো তাকে বলবে না। অথচ তুমি তাকে সব বললে!! এখন তো সে ভাবছে আমি তার ওপর মিছে রাগ করার অভিনয় করছি।
মেঘালয়ের কথা শুনে রিনি প্রথমে হতভম্ব হয়। তারপর যখন হতভম্বের রেশ কেটে যায় ঠিক তখনি রিনি দাঁতে দাঁত চেপে রাগ সংবরণ করতে করতে বলল,
— স্টুপিড কোথাকার!! বউয়ের সঙ্গে কেন তোমার মিছে রাগ করার অভিনয় করতে হবে? বয়স কি তোমার কম হইছে নাকি? মান-অভিমান ভুলে সংসারী হও। নয়তো দেখবা তোমার বউ সত্যি সত্যি চলে যাবে। দেখেছো না আজ, বাংলাদেশ থেকে এক সুদর্শন যুবক আলোর জন্য ছুটে এসেছে? এভাবেই যদি সেই ছেলেটা আলোর পেছনে হাত-পা ধুয়ে লেগে থাকে না কসম খোদার তোমার বউ একদিন না একদিন পটে….
— বাজে কথা বলবা না। আমার বউ আরেকজন এসে পটিয়ে নিয়ে যাবে! হাউ ফানি। আমার বউ যদি চলেই যেত তাহলে আটবছর সময়ের মধ্যে চলে যেত। আমার কাছে লন্ডনে এসে নিশ্চয়ই চলে যাবে না?
মেঘালয়ের কথাগুলো শুনে রাগে রিনির শরীর কাঁপছে। যদি সে এখন মেঘালয় সামনে থাকত না অবশ্যই মাথা ফাটিয়ে দিত। কিন্তু আফসোস পারছে না। রিনি মোবাইল কেটে দেবার আগে শুধু বলল,
— তোমার বউকে আমি কিছুই বলিনি। সেদিনকার ঘটনা মিসেস, জোনাস আলোকে বলেছে। আর শুনো তুমি আলো’র কাছ থেকে যথেষ্ট দূরত্ব মেনে চলবে। আমি কিন্তু এখন বাড়িতে নেই। হুটহাট আমার ঘরে গিয়ে আলোকে ভয় দেখাবা না। একবার চোর উপাধি পেলে। এবার নিশ্চয়ই ডাকাত উপাধির সঙ্গে গণপিটুনি থুক্কু বউপিটুনি খেতে পার।
মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬২
রিনি কল কেটে দেবার পর মেঘালয় থম মেরে বসে রইল। মানে কি? রিনি রেগে গেল কেন? আর কল কেটে দিলো কেন? রিনিকে তো বলাই হলো না যে, আজ আলোর সঙ্গে বহুবছর পর কথা বলেছে। আলো’র কন্ঠস্বর সেই আগের মতোই আছে। ঠিক কোকিলের সুরের মত। তাছাড়া, কল কেটে দেয়ার আগে রিনি যেই কথাগুলো বলল সেগুলো কি রিনি তাকে সতর্ক করার জন্য বলেছে নাকি পিঞ্চ মারল? সর্তক কিংবা পিঞ্চ যাই করুক বউয়ের ঘরে গেলে চোর-ডাকাত উপাধির সঙ্গে যদি পিটুনি খেতে তবুও সে রাজি আছে।। এতবছর পর বউকে কাছে পাবার পর কি দূরে থাকা যায়? তবুও তো সে দূরে থাকছে! কই মেঘালয়কে সাপোর্ট করবে তা না। উল্টাপাল্টা বকছে।
