Home মেরিগোল্ড সেনোরিটা মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ১৮

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ১৮

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ১৮
ফারহানা নিঝুম

সাদা রঙের বিস্তীর্ণ শূন্যতার ঠিক কেন্দ্রস্থলে স্থির হয়ে আছে এক বিন্দু কৃষ্ণচিহ্ন হ্যাঁ, একে দাগ ব্যতীত অন্য কোনো অভিধায় সংজ্ঞায়িত করা দুঃসাধ্য! অথচ সেই তুচ্ছ কালিমাখচিত ক্যানভাসটিই ভারী সোনালি ফ্রেমে আবদ্ধ হয়ে শোভা পাচ্ছে অভিজাত দেয়ালের বুকে।
চিত্রখানার দিকে নিবিড় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রহস্য উদ্ধারের ব্যর্থ প্রয়াস চালাচ্ছে আর্টিস্ট ঝুমঝুম ওরফে মাশা। তার শিল্পীমন যেন বারংবার প্রশ্ন তুলছে এ আবার কোন ধারার শিল্পকর্ম?
সম্পূর্ণ শুভ্রতার মাঝে ক্ষুদ্র এক কালো বিন্দু! অপূর্ব মোনালিসার পেইন্টিংয়ের পাশে ঝুলে থাকা এই ফ্রেমটিকে ভীষণ বেমানান, এমনকি অস্বস্তিকরও লাগছে।

“এত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কী পর্যবেক্ষণ করছিস?”
পেছন থেকে ভেসে আসা শয্যের গম্ভীর, দুর্বোধ্য কণ্ঠে চমকে উঠল কন্যা।
তড়িঘড়ি করে ডানদিকে দৃষ্টি ফেরাতেই মুখোমুখি হলো জুনেদ শয্য বাদশাহর। পরণে কেবল কালো ট্রাউজার; ঊর্ধ্বাঙ্গ সম্পূর্ণ অনাবৃত।
উন্মুক্ত প্রশস্ত বক্ষ, ফর্সা চামড়ার উপর স্পষ্ট পেশির রেখা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঝুমঝুমের দৃষ্টি প্রথমেই সেখানে গিয়ে স্থির হলো।
পরক্ষণেই লজ্জায় পিটপিট করে চোখ সরিয়ে নিল সে।
মনে মনে নিজেকেই ধিক্কার দিল কন্যা। ছিঃ! সে কি তবে ধীরে ধীরে নির্লজ্জ হয়ে উঠছে? সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই পুরুষটি যে সম্পর্কে তার ভাই!
“ই-ইয়ে মানে আমি আসলে এই পেইন্টিংটা দেখছিলাম। ভীষণ অদ্ভুত লাগছে!”
শয্য ধীর দৃষ্টিতে দেয়ালে টাঙানো ছবিটির দিকে তাকাল।
কন্যা কি আদৌ জানে জুনেদ শয্য বাদশাহ ঝুমঝুমের চোখের পাপড়ি দিয়ে আগলে রেখেছে এই ফ্রেম? জানবে কি করে শয্য যে চুপিচুপি গিয়ে তার আঁকা পোট্রেট এবং চোখের পাপড়ি চুরি করে নিয়ে এসেছে।
তার কাছে এ শুধুমাত্র একটি চিত্র নয়; বরং বহু অপ্রকাশিত অনুভূতির নীরব সমাধিফলক। ঝুমঝুম দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনরায় বলল,

“কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগে! এটা তো আসলে একটা কালো দাগ ছাড়া কিছুই না। আচ্ছা, আপনি এটা কোথা থেকে এনেছেন? দামই বা কত?”
শয্য এবার দৃষ্টি স্থির করল উৎকণ্ঠিত কন্যার সুশ্রী মুখাবয়বে। তার অধরে ধীরে ফুটে উঠল এক দুর্লভ, অমূল্য হাসি । যে হাসি দেখার সৌভাগ্য ঝুমঝুমের হলো না।
কারণ মুহূর্তের মধ্যেই পুরুষটি নির্মম দক্ষতায় মুছে ফেলল সেই কোমলতার রেখা।
“এটা অমূল্য!”
অমূল্য শুনে চকিতে তার দিকে ফিরে তাকালো ঝুমঝুম! বিস্ময়াভিভূত হয়ে চাপা স্বরে চেঁচিয়ে উঠলো,
“কী? অমূল্য? এই কালো দাগ পড়া পেইন্টিং অমূল্য? নির্বোধ শয্য ভাইয়া আপনাকে তো বোকা বানিয়ে দিলো?”

‘নির্বোধ’ কথাটা শুনে চোয়াল শক্ত হয়ে এলো শয্যের অথচ কন্যা একনাগাড়ে বলেই চলেছে,
“এই ফালতু পেইন্টিং অমূল্য? হায় আল্লাহ! এরচেয়ে তো আমি হাজার গুণ ভালো ছবি আঁকতে পারি!”
অকস্মাৎ শয্যের বলিষ্ঠ হাতটি কন্যার বক্ষে ঝুলতে থাকা ফিতেটা টেনে নিজের নিকটে নিয়ে এলো! অতি সন্নিকটে!
আগ্রাসী হাতটা তৎক্ষণাৎ চেপে ধরে তার গাল! দাঁতের মাড়ির সাথে গাল একদম সেঁটে যাচ্ছে! ব্যাথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে কন্যা,
শয্য থামেনি বিন্দুমাত্র। উন্মত্ত ক্রোধে কন্যাটিকে নিজের দিকে টেনে এনে কর্কশ স্বরে উচ্চারণ করল,
“ওটা অমূল্য! তুই সেটাকে তুচ্ছ বলার দুঃসাহস কোথা থেকে পেলি? হাউ ডেয়ার ইউ! আর আমাকে নির্বোধ বলছিস? কোন স্পর্ধায়? হুঁ বল?”

অসহ্য চাপের যন্ত্রণায় ঝুমঝুমের চক্ষুদ্বয় সংকুচিত হয়ে এলো। নিজেকে মুক্ত করার ব্যর্থ প্রয়াসে সে শয্যের উন্মুক্ত বক্ষে ধাক্কা দিল, কিন্তু তাতেও রক্ষা মিলল না। গাল থেকে হাত সরিয়ে শয্য এবার তার ক্ষীণ কব্জিটা নির্মমভাবে চেপে ধরল।
ঝুমঝুম তৎক্ষণাৎ ফুঁপিয়ে উঠল,
“ব্যথা পাচ্ছি আমি। প্লিজ, ছাড়ুন!”
শয্যের কণ্ঠে তখনও অনুভূতির লেশমাত্র নেই; বরফশীতল স্বরে সে বলল,
“কি বলেছিলি? আবার বল।”
ঠোঁট কামড়ে নীরবে কাঁদছিল ঝুমঝুম। ভয় আর অস্বস্তি ধীরে ধীরে তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলছিল। এ কেমন স্পর্শ? কোনো ভাই কি তার বোনকে এভাবে আগলে ধরে? মনের ভেতর অজানা আতঙ্কের কালো ছায়া ঘনীভূত হতে লাগল।
“শয্য!”
ঠিক সেই মুহূর্তেই কিচেন কাউন্টারের পাশ থেকে বেরিয়ে এলেন জেসমিন বাদশাহ। দৃশ্যটা চোখে পড়তেই তাঁর মুখমণ্ডল কঠোর হয়ে উঠল। শয্য তখনও ঝুমঝুমকে পুরোপুরি ছাড়েনি; কেবল কোমরে রাখা হাতটা ধীরে সরিয়ে নিল।
নিকটে এসে কঠিন স্বরে ধমকে উঠলেন তিনি,

“এটা কেমন আচরণ, শয্য? ওকে ছাড়ো!”
শয্য বিরক্তি মিশ্রিত ঝাঁকুনিতে ঝুমঝুমকে ছেড়ে দিল। কন্যাটি তড়িঘড়ি করে জেসমিন বাদশাহর আশ্রয়ে গিয়ে দাঁড়াল। আর শয্য দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলল,
“ওকে নিষেধ করিনি আমার থেকে দূরে থাকতে?”
জেসমিন বাদশাহ এবার ক্রোধ সংবরণ করতে পারলেন না।
“ও তোমার বোন! ভুলে গেছো ছোটবেলায় কীভাবে পাগলের মতো আগলে রাখতে? সারাক্ষণ যেন বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখতে চাইতে! আর আজ তোমার এই আচরণ?”
শয্য কোনো জবাব দিল না। কঠিন মুখে সিঁড়ির দিকে ফিরে গেল। যেভাবে ঝড়ের বেগে নেমে এসেছিল, সেভাবেই হনহনিয়ে উঠে যেতে লাগল।
যেতে যেতে নিম্নস্বরে, প্রায় নিজের সঙ্গেই বিড়বিড় করে বলল,
“বোন? মাই ফুট। ও আমার লাইফ, মাই লাভ, মাই এভরিথিং। বউ। আমার বউ।”
অতঃপর শয্য বাদশাহ গুনগুন করে গেয়ে উপরে চলে গেল,
এই আশিকি,আশিকি
করল কি জাদু হায়

রিহার্সালের ক্লাসে আজ শয্যের চিত্ত সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন ও অস্থির। বাহ্যিক অনুশীলনের ছন্দোবদ্ধ গতির সঙ্গে তার অন্তর্জগতের কোনো সামঞ্জস্য নেই। মননের প্রতিটি তরঙ্গ বারংবার ভেঙে পড়ছে, পুনরায় গড়ে উঠছে কেবল ঝুমঝুম নামক এক অনিবার্য স্মৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে। গতরাতের আচরণগত ত্রুটি তাকে এমন এক অন্তর্দাহে দগ্ধ করছে, যার ভাষা সে নিজেও নির্ধারণ করতে পারছে না।
প্রবল আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে সমস্ত দূরত্ব ভেঙে, সমস্ত দ্বিধা অতিক্রম করে, ছুটে গিয়ে মেয়েটিকে বুকের গভীরে আশ্রয় দেওয়ার। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম যুক্তি তাকে বারংবার মনে করিয়ে দিচ্ছে এই আকাঙ্ক্ষাগুলো নিছকই মানসিক কল্পনার অতল, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
এই সময় অন্যমনস্ক শয্যকে লক্ষ্য করেই জিয়ান ধীর পদক্ষেপে তার নিকটে এসে বসল।
অন্যদিকে, সমগ্র টিম তখন নিখুঁত ড্যান্স অনুশীলন করতে নিমগ্ন। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে তাদের বহু প্রতীক্ষিত মেঘা কনসার্ট মাত্র দুই মাস দূরে। কেপপ ইন্ডাস্ট্রিতে টিম আলফার নামই যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টির জন্য।
পাশে রাখা তোয়ালে হাতে তুলে নিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে জিয়ান উচ্চারণ করল,

“কী হয়েছে, ব্রাদার? মুখ শুকিয়ে আছে কেন?”
শয্য হালকা মৃদু হাসি টেনে জিয়ানের ট্রাউজারের ফিতাটি টেনে ধরল।
“নাথিং।
অতর্কিতে ফিতে আঁকড়ে ধরে জিয়ান বলে উঠল,
“একদিন তুই আমার মান সম্মানের বারোটা বাজিয়ে দিবি রে, শয্য!”
শয্য তখন হো হো করে হেসে উঠল। এই বন্ধন, এই টিমের সান্নিধ্যই তার মানসিক ভারসাম্যকে সাময়িকভাবে হলেও পুনরুদ্ধার করে।
জিয়ান এবার কণ্ঠে সামান্য কৌতূহল মিশিয়ে বলল,

“এবার সত্য করে বল, কী ঘটেছে? মাশা আবার কোনোভাবে বিরক্ত করেছে কি?”
ঝুমঝুম এখন আর নিঃশব্দ উপস্থিতি নয়; সে টিম আলফার প্রতিটি সদস্যের চিন্তাজগতে এক অনিবার্য সত্তা। অল্প সময়েই নিজের মোহনীয়তা ও সহজাত আকর্ষণে সে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তাই তারা প্রায়শই তাকে “মাশা” নামেই সম্বোধন করে।
শয্য জিয়ানের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেই জিয়ান নির্দ্বিধায় দাঁত বের করে হাসল।
পরক্ষণেই শয্য ধীরে তার ফোনটি বের করল এবং প্রবেশ করল সেই গোপন ফোল্ডারে, যেখানে রাখা রয়েছে ঝুমঝুমের অসংখ্য স্মৃতি অগণিত স্থিরচিত্র, নিঃশব্দ মুহূর্তের বন্দি প্রতিচ্ছবি।
ঠিক সেই মুহূর্তেই দূর থেকে মেহবুব কণ্ঠ উঁচু করে ডাক দিল, “শয্য ব্রো, এখানে একটু আয় !”
শয্য হাত তুলে সংক্ষিপ্ত ইশারা করল,

“ফাইভ মিনিট।”
কিন্তু হিউন জে অপেক্ষা করল না। সে দ্রুত এসে শয্যের বাহু ধরে তাকে প্রায় টেনে নিয়ে গেল ড্যান্স স্টেশনের দিকে, যেখানে চলছিল পরবর্তী ফরমেশন রিহার্সাল।
হঠাৎ টানাপোড়েনের মুহূর্তে শয্যের ফোনটি তার হাত থেকে ছিটকে পড়ে ব্যাগের ওপর এসে পড়ল। মুহূর্তের ব্যস্ততায় সে আর তা তুলে নেওয়ার সুযোগ পেল না। মেহবুব ও হিউন জে তাকে তৎক্ষণাৎ ড্যান্স স্টেপ নির্দেশনায় ব্যস্ত করে তুলল।
অন্যদিকে জিয়ান তখনো মৃদু হাসিতে নিমগ্ন। হঠাৎ তার দৃষ্টি পড়ল ব্যাগের ওপর পড়ে থাকা শয্যের ফোনের দিকে।
এটি ছিল তার ব্যক্তিগত ফোন যেখানে কারো প্রবেশাধিকার নেই। আজ যেন ভাগ্যের নির্মম কৌতূহল তাকে সেই নিষিদ্ধ ফোল্ডারের প্রবেশের সুযোগ এনে দিয়েছে।
সে ভ্রু কুঁচকে ফোনটি হাতে তুলল। পাসওয়ার্ড আগে থেকেই খোলা ছিল। সেই সুযোগে সে প্রবেশ করল সরাসরি গোপন ফোল্ডারে।

পরবর্তী মুহূর্তেই তার সমগ্র সত্তা স্তব্ধ হয়ে গেল।
চোখের সামনে ভেসে উঠল অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য পুরো ফোল্ডার জুড়ে শুধুই ঝুমঝুম। শৈশব থেকে বর্তমান পর্যন্ত অসংখ্য ছবি, যত্নে রাখা প্রতিটি মুহূর্ত। কোথাও নিষ্পাপ শৈশবের হাসি, কোথাও কিশোরী বয়সের নীরব সৌন্দর্য, আবার কোথাও রিসেপশন পার্টিতে তার পরিধেয় নর্থ-সাউথ ইন্ডিয়ান লুকের অসংখ্য ছবি । স্পষ্ট বোঝা যায়, এসব ছবি কোনো অনুমতির নয় বরং দূর থেকে তোলা হয়েছে!
জিয়ান একবার ফোনের স্ক্রিনের দিকে, আরেকবার দূরে অনুশীলনরত শয্যের দিকে তাকিয়ে রইল
বিস্ময়, সন্দেহ ও অবিশ্বাস একসঙ্গে তার চেতনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। অতঃপর ধীরে তার চোখ পড়ল ফোল্ডারের নামের উপর। সেখানে স্পষ্ট, কঠিন ও নিঃসন্দেহ অক্ষরে লেখা ছিল “BETTER HALF.”(বেটার হাফ)

“আমার তো ভীষণ ভীষণ ভীষণ লজ্জা লাগছে বান্ধবী! আমি কি জানতাম ওইটা জিয়ান?‌ টিম আলফার একজন মেম্বার?”
প্রিয়ার কণ্ঠে লজ্জা আর আতঙ্কের এক অদ্ভুত মিশেল। সে যেন নিজের অজান্তেই কোনো অমার্জনীয় ভুল করে ফেলেছে এমনই এক অপরাধবোধে কুঁকড়ে আছে। সেদিন রাস্তায় চোর বলে যাকে ভেবেছিল, আসলে যে টিম আলফার জিয়ানের কথা জানার পর থেকেই তার বুকের ভেতরটা থরথর করে কাঁপছে।
সেদিনের দৃশ্যটা মনে পড়তেই তার মুখ আরও লাল হয়ে উঠল। ঝুমঝুমকে ডাকতে গিয়ে জিয়ান যখন সামনে আসে, তখন সে ভেবেই নিয়েছিল এটি কোনো অচেনা লোকের বাড়তি কৌতূহল। আর সেই ভুল বোঝাবুঝির জায়গা থেকেই সে যেসব কথা বলে ফেলেছিল এখন মনে পড়তেই লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে।

প্রিয়ার এমন নাজুক, অস্বস্তিকর অবস্থায় ঝুমঝুম নিজেকে আর সংযত রাখতে পারল না। খিলখিলিয়ে হেসে উঠল সে। প্রিয়ার মুখভঙ্গি দেখে হাসি যেন থামতেই চায় না।
প্রিয়া হঠাৎই যেন কিছু একটা ভেবে আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। কণ্ঠে কৌতূহল মিশিয়ে বলল,
“তার মানে তুই এখন সরাসরি কেপপ আইডলদের টাচে আছিস, তাই না? অবশ্য তুই তো বলেছিলি, শয্য বাদশাহ তোকে বোন হিসেবে দেখে না, কাছে আসতেও দেয় না!”
ঝুমঝুমের হাসি ধীরে মিলিয়ে গেল। প্রিয়ার কথায় তার ভ্রু সামান্য কুঁচকে উঠল। কণ্ঠে এবার একধরনের চাপা অস্বস্তি। “তুই জানিস, গত দু’দিনে কী কী হয়েছে?”
প্রিয়া মুহূর্তেই সোজা হয়ে বসল। চোখের চশমা ঠিক করে। চোখে তীব্র আগ্রহ আসলে গত দুই দিন কী ঘটেছে, সেটা জানার জন্য সে অধীর হয়ে উঠল।
ঝুমঝুম ধীরে ধীরে শুরু করল রিসেপশন থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘটনার বর্ণনা। শয্যর আচমকা কোমরবন্ধনী ঠিক রেগে নিয়ে চলে যাওয়া, রাগের ভেতরেও অদ্ভুতভাবে তার যত্ন নেওয়া, আর সকালে নিঃশব্দে তাকে জড়িয়ে ধরার সেই অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত সবকিছু একে একে সে বলে গেল।
তার কথাগুলো যত এগোতে লাগল, প্রিয়ার মুখ ততই গম্ভীর হয়ে উঠল। শেষ কথাটি শোনা মাত্রই সে প্রায় হতভম্ব হয়ে পড়ল। কপালে হাত দিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“এত কিছু, আর তুই এতটা স্বাভাবিকভাবে বলছিস?
ঝুমঝুম কিছু বলার আগেই প্রিয়া হঠাৎই খুব নিচু স্বরে, দ্বিধার সঙ্গে বলে ফেলল,
“আমার কেন জানি মনে হচ্ছে শয্য ভাই তোকে সেই চোখে দেখে না, যে চোখে তুই ওনাকে দেখিস।”
ঝুমঝুমের চোখে তখনই একরাশ বিস্ময় নেমে এলো। ডান ভ্রু ধীরে ধীরে উপরে উঠে গেল।
“মানে?”

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ১৭

প্রিয়া এবার আরও অস্বস্তিতে পড়ে গেল। চোখ নামিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
“মানে,,,তোকে শুধু বোন হিসেবে দেখে না অন্য কিছু হিসেবে।”
সহসা বাজখাঁই গলায় চিৎকার করে উঠল ঝুমঝুম,
“হোয়্যাট?”

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ১৯