Home মেরিগোল্ড সেনোরিটা মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ২৬

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ২৬

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ২৬
ফারহানা নিঝুম

সিউলের নিশীথ রাত।
শহরের নিয়ন আলো যেখানে শেষ হয়ে যায়, ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় অন্ধকারের আরেক সাম্রাজ্য‌ নাইট বক্সিং ক্লাব!
একটি সরু, স্যাঁতসেঁতে গলি। দুই পাশের পুরনো ইটের দেয়ালে জমাট বেঁধে আছে ধোঁয়া, রক্ত আর অসংখ্য অপরাধের ইতিহাস। গলির একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা জরাজীর্ণ দালানটিকে বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কেমন নরক লুকিয়ে আছে। কোনো সাইনবোর্ড নেই। কেবল মরিচা ধরা লোহার দরজার গায়ে আঁকা একজোড়া রক্তরাঙা বক্সিং গ্লাভস যেন নীরব কোনো মৃ’ত্যুর আহ্বান।
দরজার সম্মুখে এসে থামল ধূসর ছায়ার মতো এক ব্ল্যাক মার্সিডিজ। গাড়ির কালো কাচে রাতের আলোও নিজের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায় না।

দরজা খুলে নামতেই ধীর ভঙ্গিতে জ্যাকেট গায়ে চাপাল জুনেদ শয্য বাদশাহ। চোখের সানগ্লাস খুলে কালো মাফলার দিয়ে মুখের অর্ধেক ঢেকে ফেলল সে। তার চলনে ছিল এমন এক শীতল দম্ভ, যা মানুষকে একইসাথে আতঙ্কিত এবং আকৃষ্ট করে।
অবাক চোখে তাকিয়ে রইল জিয়ান, হিউন জে আর মেহবুব।
জিয়ান ঠোঁট কামড়ে ফিসফিস স্বরে বলল,
“ব্রাদার ,তুই কি আজ ফাইট করবি নাকি?”
শয্য কেবল চোখে হাসল। উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না। নীরব পায়ে এগিয়ে গেল ক্লাবের ভেতরে। বাকিরাও অনুসরণ করল তাকে।
জুনেদ শয্য বাদশাহ। একদিকে আন্তর্জাতিক কেপপ আইডল, অন্যদিকে আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইটিং রিংয়ের নির্মম যোদ্ধা। নিজের ব্যক্তিগত জীবন আর রক্তা’ক্ত বাস্তবতাকে সে দুই ভিন্ন জগতে আটকে রেখেছে বহুদিন।
ক্লাবের ভেতর ইতোমধ্যেই অপেক্ষা করছিল জন এবং তার দলবল।
গালভর্তি দাড়ি, চোখে বিষাক্ত বিদ্বেষ, দুহাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে ছিল সে। প্রভাবশালী বিজনেস টাইকুনের ছেলে জন এই অন্ধকার জগতের নিয়মিত মুখ। এখানে মানুষ আসে টাকা, প্রতিশোধ আর অহংকারের নেশায়।
শয্যকে দেখেই উচ্চহাস্যে বলে উঠল জন,

“শয্য! ইউ’ভ অ্যারাইভড!”
শয্য গ্লাভস হাতে নিতে নিতে ঠান্ডা গলায় বলল,
“ইয়েস। আই’ম হিয়ার টু বিট ইউ। তোকে পেটাতে অদ্ভুত শান্তি লাগে।”
জনের ঠোঁট বেঁকে গেল তাচ্ছিল্যে।
“অলরাইট… লেট’স সি হু বিটস হুম।”
চারপাশের আলো আরও ম্লান হয়ে এলো যেন।
মেহবুব বিরক্তিতে চোয়াল শক্ত করল। শয্য ইতোমধ্যেই জ্যাকেট খুলে টি-শার্ট ছুড়ে ফেলেছে। পেটানো শরীরে রিংয়ের আলো পড়তেই চারপাশে চাপা গুঞ্জন উঠল।
সে গ্লাভস পরতে পরতে বলল,
“আজ জনের চেহারা চিনতে পারবে না কেউ।”
শয্য কেবল বাঁকা হাসল। পরক্ষণেই শুরু হলো ফাইট।
লোহার রিং কেঁপে উঠছে প্রতিটি আঘাতে। ঘুষির পর ঘুষি। র’ক্ত, ঘাম আর উন্মত্ত চিৎকারে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।

শয্য আচমকা নিখুঁত লক্ষ্যভেদে জনের নাকে প্রচণ্ড ঘু’ষি বসাল। জন ছিটকে পড়ল দূরে। সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে উল্লাসের বিস্ফোরণ।
কিন্তু পরমুহূর্তেই জন উঠে দাঁড়িয়ে সজোরে আঘা’ত করল।
ভারসাম্য হারিয়ে ভাঙা কাঁচের উপর গিয়ে পড়ল শয্যের হাত। কাঁচ চিরে দিল তালু। পিঠেও তীব্র ব্যথা ছড়িয়ে পড়ল।
এক মুহূর্তে বদলে গেল তার চোখের রং।
রাগে যেন দপদপ করে জ্বলে উঠল মস্তিষ্ক।
অতঃপর উন্মাদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল জনের উপর।
চারপাশ থেকে মেহবুব, হিউন জে আর জিয়ানের চিৎকার,
“কাম অন শয্য!”
“ফিনিশ হিম!”
র’ক্তা’ক্ত ঠোঁটেও হাসল শয্য। আর ঠিক কয়েক মিনিট পরেই বিজয়ের উল্লাসে তার হাত তুলে ধরল বাকিরা।
“ইয়েস ভাই! জিতে গেছি!”
জন মাটিতে থুথু ফেলে গালি দিল। তা দেখে শয্য অশ্রাব্য ভাষায় গালি ছুড়ে ,
“সান অফ আ বিচ!”
জিয়ান দাঁত বের করে হেসে ফেলল।
এইসব গা’লাগা’লি টিম আলফার কাছে নতুন কিছু নয়।

“আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আপু ওটা আমার খরগোশ ছিল!”
অভিমানে কাঁপছিল ঝুমঝুমের কণ্ঠ। রিমঝিম হেসে ফেলল বোনের শিশুসুলভ আচরণ দেখে।
ঝুমঝুম সবার কাছে না হলেও রিমঝিম, মেহরিমা, আব্রাহাম আর রাকিবের কাছে ভীষণ আহ্লাদি। হুটহাট অভিমান, অভিযোগ সব তাদের কাছেই। ঠিক তখনই পিউনিও এসে সাপের মতো শরীর পেঁচিয়ে উঠল ঝুমঝুমের কাঁধে।
রিমঝিম মজা করে বলল,
“দেখলি পিউনিও? তোর মাশা এখন তোর সতিন আনতে চায়।”
ঝুমঝুম মুখ ফুলিয়ে রইল। কিন্তু হঠাৎ করেই তার মনে পড়ল
বাড়িতে তো কেউ নেই। তারা বাদশাহ শয্যের সাথে কথা বলেন না। রিমঝিম ভয়ে তার আশেপাশেও যায় না।
শয্য কি খেয়েছে? তৎক্ষণাৎ ঝুমঝুমের মনে পড়ল বাড়িতে তো কেউ নেই। তারা বাদশাহ তো শয্যের সাথে কথাই বলেনা এদিকে রিমঝিম ভয়ে শয্যের আশেপাশেও যায়না! আচ্ছা শয্য কগ কি খেয়েছে? অবশ্য খাবেই মিসেস ইয়েরিন নিশ্চয় খাবার দেবে। অকারণে বুকের ভেতর অদ্ভুত খচখচে অনুভূতি জন্ম নিল।‌হঠাৎই বলে উঠল

“আপু, আমি এখনই আসছি!”
বলেই দৌড়ে বেরিয়ে গেল সে।
সন্ধ্যা যেন এক অদ্ভুত দ্বৈততার নাম। দিনের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিতেই শহরটা নতুন এক রূপে জেগে ওঠে। আকাশের শেষ প্রান্তে সূর্য ডুবে গেলে কাঁচের দালানগুলো নিয়ন আলোর ছটায় রঙ বদলাতে শুরু করে। কোথাও নীল, কোথাও বেগুনি, কোথাও রক্তিম আভা যেন পুরো শহরটাকে কেউ অন্ধকারের উপর রঙতুলি দিয়ে এঁকে দিয়েছে।
কলিংবেলের শব্দে বিরক্ত হয়ে উঠল শয্য। হাতে ব্যথা করছে। পিঠেও জ্বা’লা। সবাই জোর করেছিল হাসপাতালে নিতে, কিন্তু সে যায়নি।
কারণ জুনেদ শয্য বাদশাহ নিজের দুর্বলতা কাউকে দেখাতে পছন্দ করে না। তৎক্ষণাৎ থমাস ঘ্যাও ঘ্যাও করে উঠল। শয্য তাকে থামিয়ে বলল,

“স্টপ স্ক্রিমিং, থমাস!”
থমাস থেমে গেল, শুধু শয্যের পা চেটে চুপটি করে বসে রইল আপন জায়গায়।
বিরক্ত মুখে দরজা খুলতেই থমকে গেল সে।
দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে ঝুমঝুম। মলিন মুখ। কাঁপা চোখ।
“আপনি খেয়েছেন?”
মুহূর্তকালব্যাপী প্রতীয়মান হলো যেন নিবিড় অন্ধকারে নিমজ্জিত বাড়ির অন্তঃস্থলে আকস্মিকভাবে চন্দ্রালোক অবতীর্ণ হয়েছে।
শয্যের কণ্ঠস্বর কর্কশ ও গম্ভীরতায় অনুরণিত হলো,
“কী প্রয়োজন তোর?”
ঝুমঝুম নিম্নস্বরে, ইতস্তত ভঙ্গিতে উচ্চারণ করল,
“ফু আম্মু নেই,তাই এসেছিলাম।”
ঠিক সেই ক্ষণেই আকস্মিকভাবে সমগ্র বাড়ি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ল। কারেন্ট চলে গেল অথচ জেনারেটর অন হচ্ছেনা।
ভীতসন্ত্রস্ত ঝুমঝুম তড়িৎ শয্যের টি-শার্ট আঁকড়ে ধরে কাঁপা স্বরে বলে উঠল,
“আহ,, আমার ভয় করছে! প্লিজ, লাইট অন করুন!”
শয্য মুহূর্তেই স্থাণুবৎ হয়ে গেল। তার বক্ষগহ্বরে হঠাৎ অদ্ভুত তীব্রতায় হৃদ্‌স্পন্দন প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। রক্তপ্রবাহে যেন অজ্ঞেয় এক শিহরণ ছড়িয়ে পড়েছে।

“কী করছিস? ছাড়!”
“না। আমাকে সরাবেন না।”
ঝুমঝুমের কণ্ঠস্বর যেন সম্মোহনের আবেশে আচ্ছন্ন।
শয্যের নিঃশ্বাস ক্রমশ ভারী হয়ে উঠল। এই নিবিড় আঁধারেও সে অনুভব করতে পারছিল এই কিশোরীসুলভ কোমল মেয়েটির মধ্যে তার সমস্ত আত্মসংযম ধ্বংস করে দেওয়ার এক দুর্নিবার ক্ষমতা নিহিত রয়েছে।
“ফোনটা সোফায়। ছাড়, ভেতরে যাই।”
কিন্তু ঝুমঝুম এবারও তাকে মুক্ত করল না; বরং আরও সন্নিকটে সরে এলো।
ফ্ল্যাশলাইট প্রজ্জ্বলিত হতেই ক্ষণিকের জন্য তাদের দৃষ্টি পরস্পরের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে গেল। এক জোড়া নয়নে অব্যক্ত মুগ্ধতার ছড়াছড়ি।
অপর জোড়ায় বিপজ্জনক, তীক্ষ্ণ ও অস্থির আবেশ।
“ভয় করছে?”
শয্যের কণ্ঠস্বর ঘোরলাগা ও মাদকতাপূর্ণ।
ঝুমঝুম ত্বরিত মাথা নাড়ল। সত্যিই সে প্রচণ্ড আতঙ্ক অনুভব করছে। তার উপর শয্যের সেই হ্যাজেলবর্ণ দৃষ্টিযুগল অদ্ভুত জ্যোতিষ্মান হয়ে উঠেছে।
আলো আঁধারের সেই অস্পষ্ট পরিবেশে শয্য একদৃষ্টিতে কন্যাটির মুখাবয়ব পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।
মুখশ্রীটি অস্বাভাবিক রকমের শান্ত ও কোমল। তাতে কোনো কৃত্রিমতা নেই; বরং সহজাত সৌন্দর্যের এক প্রশান্ত মাধুর্য বিদ্যমান। এলোমেলোভাবে বাধা কৃষ্ণবর্ণ কেশরাশি হুডের আড়াল ভেদ করে কয়েকটি আলগা গোছায় মুখের পাশে নেমে এসেছে, যা তাকে আরও স্বাভাবিক অথচ মোহনীয় করে তুলেছে।
তার চক্ষুদ্বয় বৃহৎ ও গভীর যেন নীরব অজস্র অনুক্ত বাক্য সেখানে স্তব্ধ হয়ে আছে। দৃষ্টিতে একধরনের স্নিগ্ধ কোমলতা বিরাজমান।

সুসামঞ্জস্য নাক, হালকা রক্তিম ওষ্ঠযুগল, আর গালের মাঝখানে ক্ষুদ্র তিল সমস্তকিছু মিলিয়ে তার সৌন্দর্য ছিল নির্মেদ অথচ হৃদয়স্পর্শী। উপরের ওষ্ঠের ঠিক উপরে গাঢ় আরেকটি তিল যেন তার মুখশ্রীতে এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য সংযোজন করেছে।
শয্যের হৃদয়ে প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি হলো। হৃদ্‌কম্পন ক্রমেই বেগতিক হয়ে উঠছে। দুর্বার, উগ্রস্বভাব পুরুষটি যেন নিজের ধৈর্যের প্রাচীর ভেঙে ফেলবার দ্বারপ্রান্তে উপনীত।
হঠাৎই বিচলিত ঝুমঝুমের দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো শয্যের রক্তাক্ত হস্তপৃষ্ঠে। আতঙ্কে কেঁপে উঠে সে তৎক্ষণাৎ হাতটি নিজের দিকে টেনে নিল।
“এমা! এটা কী হয়েছে আপনার? হাতে এভাবে লাগল কীভাবে?”
শয্য আগের মতোই সম্মোহিত কণ্ঠে জবাব দিল,

“বক্সিং করেছি।”
ঝুমঝুম ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কণ্ঠে উৎকণ্ঠা স্পষ্ট,
“ফু আম্মু ফিরে এসে আপনার এই অবস্থা দেখলে কী করবেন জানেন? মাত্র একটা দিন হলো ওরা গিয়েছে, আর আপনি নিজের এই কী দশা করেছেন!”
শয্য অদ্ভুতভাবে হাসল। যে মেয়েটি অজান্তে তার অন্তর দহন করে দিচ্ছে, সে-ই কিনা এখন তার সামান্য ক্ষত নিয়ে উদ্বিগ্ন!
“ফার্স্ট এইড বক্স কোথায়?”
শয্য কেবিনেটের দিকে দৃষ্টি ইঙ্গিত করতেই ঝুমঝুম ব্যস্ত পদক্ষেপে সেদিকে ছুটে গেল।
সোফায় নীরবে বসে রয়েছে শয্য। আর ঝুমঝুম কাঁপা হাতে তার ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে। বিস্ময়কর! এই কিশোরী তাকে শাসন করছে! জুনেদ শয্য বাদশাহ যে সর্বদাই নিজের ইচ্ছার একচ্ছত্র অধিপতি আজ নির্বাক হয়ে বসে আছে।

“খুব ব্যথা করছে? এই হাতে আপনি খাবেন কীভাবে?”
শয্য নীরব। ব্যান্ডেজ সম্পূর্ণ হতেই ঝুমঝুম দ্বিধাগ্রস্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি বক্সিংও করেন? আচ্ছা কার সাথে লড়লেন যে এমন অবস্থা হয়েছে? আচ্ছা আর কোথাও লেগেছে?”
শয্য মৃদু হাস্কি স্বরে বলল,
“হুঁ।”
“তাড়াতাড়ি বলুন কোথায়!”
অজান্তেই শয্য নিজের বক্ষে হাত রেখে নিমগ্ন কণ্ঠে উচ্চারণ করল,
“এখানে।”
ঝুমঝুম থমকে গেল। বেপরোয়া ও দুর্ধর্ষ শয্যকে আজ অচেনা লাগছে। তার দৃষ্টিতে, মুখাবয়বে, আচরণে এক অদ্ভুত পরিবর্তন।
শয্য হঠাৎ ঘুরে বসে শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করল।
ঝুমঝুম আঁতকে উঠল,

“এটা কী করছেন?”
ঝুমঝুমের আতঙ্কিত অবস্থা দেখে শয্যের ওষ্ঠে বাঁকা হাসির রেখা ফুটে উঠল।
“তোকে বডি দেখাতে ইচ্ছে করছে।”
বাক্যটি শুনে ঝুমঝুম হতবাক হয়ে গেল। মস্তিষ্কে ভেসে উঠল প্রিয়ার পূর্বেকার নানা ইঙ্গিতপূর্ণ কথা। হৃদস্পন্দন দ্রুততর হয়ে উঠল।
কিন্তু পরক্ষণেই শয্য নিজের পৃষ্ঠদেশ উন্মুক্ত করে বলল, “এখানেও ক্রিম লাগিয়ে দে।”
পিঠের অংশ ছড়ে গিয়ে লালচে হয়ে রয়েছে। ঝুমঝুম আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। দ্রুত স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিল।
শয্য পুনরায় শার্ট পরতে উদ্যত হতেই ঝুমঝুম লাজুক কণ্ঠে বাধা দিল,
“এখন শার্ট পরবেন না,,

শয্য তার সেই সংকোচমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে রইল ভ্রু নাচায়,
“তুই কি বাই এনি চান্স আমাকে নেকেড দেখতে চাইছিস?”
কথাটি শোনামাত্র ঝুমঝুমের কর্ণমূল রক্তিম হয়ে উঠল। সে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়াল।
“ছিঃ ছিঃ! কি সব বলেছেন?”
বলেই দ্রুত সরে যেতে উদ্যত হলো সে। কিন্তু দু’কদম এগুতেই টপসের ফিতেতে টান পড়ল। আর সামান্য টানলেই টপের ফিতে খুলে যাওয়ার উপক্রম।
অগত্যা থেমে যেতে হলো তাকে। ভয়ে তার সমগ্র দেহ কেঁপে উঠছে। শয্য ধীর পায়ে এগিয়ে এলো। তার দৃষ্টি নিবদ্ধ সেই আলগা হয়ে যাওয়া ফিতের দিকে।
“এসেছিস যখন খাবারটাও খাইয়ে দিয়ে যা।”
ঝুমঝুম শুষ্ক কণ্ঠে বলল,

“আমি?”
শয্য নিশ্চুপ, ভীতু ঝুমঝুম ফের শুধোয়।
“কি,,কী খাবেন?”
শয্যের প্রবল ইচ্ছে করল বলে উঠতে
“তোকে। তুই-ই আমার প্রিয়তম আসক্তি। মাই ফেবারিট ডিস।”
কিন্তু সে পরিবর্তে বলল,
“মিসেস ইয়েরিন আজ আসেনি। তোকে রান্না করতে হবে। আর যদি না পারিস তবে আউট।”
ঝুমঝুম যেন স্তব্ধ হয়ে গেল।
“তাহলে রান্না করার কি প্রয়োজন?ভিলা থেকে নিয়ে আসি?”
মূহুর্তের মধ্যে দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠে শয্যের। শুষ্ক ঢোক গিলল ঝুমঝুম। তারপর বাড়ির খাবার খাবেনা সে। কিন্তু ঝুমঝুম বুঝল না তার আজকে কি হয়েছে? অন্যদিনের মতো তাকে ভাই বলে সম্বোধন করতেও পারছে না।
ঠিক তখনই অন্ধকার চিরে আলোর দেখা মিলল। কারেন্ট ফিরে এলো। ঝুমঝুম দ্রুত রান্নাঘরের দিকে চলে গেল, আর শয্য উপরে ফ্রেশ হতে।
হাতের কাছে যা পেল তাই দিয়েই দ্রুত রান্না সম্পন্ন করল সে। ফ্রিজ থেকে মাংস বের করে কষিয়ে নিল, সঙ্গে অল্প ভাত।
অতঃপর প্লেট হাতে নিয়ে সোফার সামনে এসে দাঁড়াল।
শয্য নেমে এসে তার অস্বস্তি লক্ষ করে মৃদু হাসল।

“খিদে পেয়েছে। খাইয়ে দে।”
এই নির্দ্বিধা আবদারে ঝুমঝুম ভড়কে গেল। কিন্তু অস্বীকার করার সাহসও নেই। তবে আজ এই শয্য আলাদা! ভীষণ অদ্ভুত ঠেকছে তার নিকটে।
ধীরে সোফার একপাশে বসে প্লেট তুলে নিল সে।
চামচ ব্যবহার করবে কিনা ভাবছিল, ঠিক তখনই শয্য রিমোট তুলে টিভি অন করে গম্ভীর নির্দেশ দিল,
“উইথ ইয়োর হ্যান্ড।”

ঝুমঝুম শুষ্ক ঢোক গিলল। তার বুকের ভেতর অদ্ভুত উষ্ণতা জমা হচ্ছে। বাইরে শীতল বাতাস বইছে, অথচ তার অন্তর জুড়ে অনির্বচনীয় উত্তাপ।
প্রথম গ্রাসটি শয্যের মুখে তুলে দিতেই শয্য ধীরস্থির ভঙ্গিতে তা গ্রহণ করল। তার ওষ্ঠস্পর্শে ঝুমঝুমের আঙুল শিহরিত হয়ে উঠল। শয্য একদিকে টিভি অন করেছে অন্যদিকে ফোনটা নিয়ে গেইম খেলতে লাগল।
সে কি শিশু?তবে কেন এই বাচ্চা সুলভ আচরণ?
ঝুমঝুম অস্বস্তি বোধ করছে! এই পুরুষ নিজের ফোনে গেইম খেলতে মগ্ন।
খাওয়ার সময় শয্যের উলফ কাট কেশরাশি কপালের উপর ছড়িয়ে পড়ছিল। অপার সুদর্শন লাগছিল তাকে।
ঝুমঝুম তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি সরিয়ে নিল। চোখাচোখি হলেই হৃদয় অস্থির হয়ে উঠছে। সমস্ত খাওয়া শেষ হলে শয্য ধীরস্বরে বলল,

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ২৫

“আধঘণ্টা থাকতে পারবি?”
ঝুমঝুম বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকাল,
“কে,,,কেন?”
শয্য দৃষ্টি ঘুরিয়ে ঝুমঝুমের ভয়ার্ত মুখখানি দেখল! ওষ্ঠদ্বয় চেপে মৃদু হাসল।
“কিছু একটা করব তাই।”

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ২৭