মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৯
ফারহানা নিঝুম
সকলের দৃষ্টি যেন এক মুহূর্তেই স্থির হয়ে গেল সদর দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল জুনেদ শয্য বাদশাহ।
কেউই বিশ্বাস করতে পারেনি, এই জেদি ও একগুঁয়ে ছেলেটা সত্যিই আজ অনুষ্ঠানে আসবে। জেসমিন বাদশাহ অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন। তিনি জানতেন, তিনি চাইলে শয্য আসতে বাধ্য একটি কথাই যথেষ্ট। কিন্তু আজ তিনি ভরসা রেখেছিলেন আব্রাহামের উপর, ভেবেছিলেন দুই ভাইয়ের মধ্যে দূরত্বটা হয়তো এবার কমবে। আর সত্যিই, সেই আশা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
ছেলের আগমনে মায়ের মুখে ফুটে উঠল এক গভীর তৃপ্তি আর আনন্দের ছায়া। জেসমিন বাদশাহ ছেলেকে দেখে চওড়া হাসলেন।
কালো রঙের স্লিম-ফিট স্যুট ,যেন শরীরের গঠনের সাথে নিখুঁতভাবে মিশে গিয়েছে। ভিতলে সিল্কের অফ হোয়াইট শার্ট ,গলার উপরের শার্টের দুটো বোতাম খুলে দেওয়া। ব্লেজারের কলারে সূক্ষ্ম রূপালী এমব্রয়ডারি। চুলগুলো বরাবরের মতোই রয়েছে। ওল্ফ কাটিংয়ে বেশ মানায় এই পুরুষকে। হাতে একটি মিনিমালিস্ট সিলভার রিং , কব্জিতে ঝুলছে পাতলা সিলভার চাকতির ঘড়িটা। পায়ে পলিশ করা ব্ল্যাক লেদার জুতোটা।
“মাশআল্লাহ, আমার বাবাকে কতটা সুন্দর দেখাচ্ছে।”
মায়ের প্রশংসায় সামান্য হাসার চেষ্টা করল শয্য। তৎক্ষণাৎ পাশে এসে দাঁড়াল আব্রাহাম। দুই সুদর্শন পুরুষকে পাশাপাশি অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছে।
অতিথিদের মধ্যে অদ্ভুত এক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ফেমাস জুনেদ শয্য বাদশাহ পার্টিতে থাকবে সত্যি বিষয়টা কল্পনার্ধ্বিত। দুই ছেলেকে একসাথে দেখে অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা রাজিব বাদশাহ চোখের তৃপ্তি পান। সামনে গিয়ে শয্যের সাথে কথা বলার মতোন মুখ নেই উনার। তাছাড়া যতবারই তিনি নিজে থেকে কথা বলতে গিয়েছেন, দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, তাই আজ দূরে দাঁড়িয়েই দেখে চলেছেন তিনি।
অকস্মাৎ পিছনে কাঁধে হাত রাখল কেউ, হাতের মালিককে দেখে দৃষ্টি ফিরিয়ে তাকালো শয্য। আব্রাহামকে দেখে অভিব্যক্তি সূক্ষ্ম পরিবর্তন এলো শয্যের। আব্রাহাম মৃদু হাসি ঠোঁটে ফুটিয়ে বলল,
“থ্যাংকস, তুমি জয়েন করেছো সবাই ভীষণ খুশি হয়েছে।”
শয্য বরাবরের মতোই শীতল ও অনমনীয় গলায় জবাব দিলো,
“আমি আপনার খুশির জন্য আসিনি। আমি আমার মাম্মার খুশির জন্য এসেছি।”
শয্যের কথায় মুচকি হাসলো আব্রাহাম। কাঁধে আলতোভাবে চাপড় দিয়ে বলল,
“ওকে ব্রাদার। থ্যাংক ইয়্যু সো মাচ, তুমি মামুনির খুশির জন্য অন্তত এসেছো।”
শয্য হাসলো না। মুখাবয়বে কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটলো না।এ যেন কঠোর,নিরাবেগ,প্রায় পাথুরে হৃদয়ের এক পুরুষ।
সাদা পোশাকে আবৃত সেই রমণীকে দেখামাত্রই ব্যস্ত আব্রাহাম থমকে দাঁড়াল। তার দৃষ্টি এসে স্থির হলো জুঁইয়ের লাজুক, স্নিগ্ধ মুখশ্রীর উপর। মুহূর্তেই চারপাশের কোলাহল যেন মুছে গেল তার জন্য।
জেসমিন বাদশাহ এগিয়ে এসে জুঁইয়ের ললাটে স্নেহচুম্বন আঁকলেন। তারপর মমতাভরা কণ্ঠে বললেন,
“মাশআল্লাহ, কী অপূর্ব লাগছে তোকে! আব্রাহাম, এদিকে আয়।”
মামুনির ডাকে প্রায় তড়িঘড়ি করে এগিয়ে এলো আব্রাহাম। অতঃপর রাজকীয় সোফায় পাশাপাশি বসানো হলো দু’জনকে।
এতক্ষণ যাবৎ লোকটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে না দেখেও অনুভব করতে পারছিল জুঁই। আচমকাই শ্রবণেন্দ্রিয় ছুঁয়ে গেল সেই মোহমিশ্রিত গভীর কণ্ঠস্বর,
“জুঁই, আমাকে পাগল বানিয়ে দেওয়ার জন্য তোমাকে ভীষণ কঠিন শাস্তি পেতে হবে।”
শীতল অথচ বিপজ্জনক সেই স্বরে ভেতর থেকে কেঁপে উঠল জুঁই। বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ যেন আচমকাই বেড়ে গেল। কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলল,
“মানে? আমি আবার কী করেছি?”
আব্রাহাম তার দিকে আরও ঝুঁকে এলো। তার নিশ্বাস ছুঁয়ে গেল জুঁইয়ের কর্ণকুহু। উত্তাপ ছড়িয়ে দিলো অন্দর মহলে।
“কি করোনি সেটা বলো। আমার সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছো তুমি।”
কথাগুলো শুনে আড়ালে শুকনো ঢোক গিলল জুঁই। অনুভব করল সেই ঢোক ধীরে ধীরে কণ্ঠনালি বেয়ে নেমে যাচ্ছে অন্তঃস্থলে। হৃদস্পন্দন বেসামাল হয়ে উঠল তার। ভীত, বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে রইল নিজের হাতের দিকে।
“আমি,,, কী করলাম?”
জুঁইয়ের নিষ্পাপ, বোকাসোকা প্রশ্নে গালে হাত বুলিয়ে দিল আব্রাহাম। এই সরল মেয়েটা কি আদৌ বুঝবে তার অনুভূতির গভীরতা? বোঝার কথাও নয়। কারণ তাদের সম্পর্কের ভিত্তি তো কখনো প্রেম ছিল না। অথচ আব্রাহাম নিজেই অজান্তে ডুবে গেছে নিজের বিবাহিত স্ত্রীর প্রেমে। হ্যাঁ প্রেমে পড়েছে তার।
ছেলেটা সম্মোহিত স্বরে বলল,
“রাতে বলব।”
কথাটা শুনে জুঁইয়ের সমগ্র শরীরে কাঁটার মতো শিহরণ বয়ে গেল। নিম্নঠোঁট দাঁতে চেপে অসহায় দৃষ্টিতে নিজের হাতের দিকেই তাকিয়ে রইল সে।
মিনিট দশেক পর আচমকাই সিঁড়ির ধাপে এসে দাঁড়াল আরেক রমণী।
তার হাতভর্তি চুড়ির ছনছন শব্দ মুহূর্তেই উপস্থিত সকলের মনোযোগ কেড়ে নিল। আনমনা হ্যাজেল দৃষ্টি হঠাৎই স্থির হয়ে গেল তার দিকে। হৃদস্পন্দন যেন এক নিমিষে থেমে যাওয়ার উপক্রম। শ্বাসরুদ্ধ অনুভূতি পাক খেয়ে আটকে রইল গলদেশে। বক্ষ চিরে বেরিয়ে এলো দীর্ঘ, উত্তপ্ত নিশ্বাস।
ধীর, মাদকতাময় পদক্ষেপে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে কন্যাটি। তার হাতে পরিহিত চুড়িগুলোর মৃদু রিনিঝিনি শব্দ পরিবেশে অদ্ভুত এক সম্মোহন ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে এমন আড়ম্বরপূর্ণ রিসেপশন অনুষ্ঠানে কন্যাটির ঘাগড়া-পোশাকে উপস্থিত হওয়াটা মোটেও ভালোভাবে নিলেন না তারা বাদশাহ। তাঁর চোখদুটি ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়ে এলো, দৃষ্টিতে স্পষ্ট হয়ে উঠল অসন্তোষের গাঢ় ছায়া। বিরক্তিতে কপাল গোটালেন তিনি।পাছে যদি কেউ কোনো খারাপ মন্তব্য করে বসেন? সেই ভয়টাই পাচ্ছেন তিনি।
ঝুমঝুম খুঁজ করল এক পুরুষের। পুরুষটিকে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উজ্জ্বল চোখ দুটো আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এ যেন দুটো নক্ষত্র,যা জ্বলজ্বল করছে। নূপুরের ছন্দ তুলে ধীর কদমে নিচে নেমে এলো কন্যা। অগ্রসর হচ্ছে শয্যের দিকে। স্থির দাঁড়িয়ে থাকা শয্য দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। অসহ্যকর এই অনূভুতি হতে পালাতে চাইছে। উঁহু ভুল করেছে সে, মস্তবড় ভুল। তার এখানে আসাই উচিত হয়নি। এই কন্যা কতটা বোকা তার প্রমাণ এই তো দিচ্ছে!
ঝুমঝুম শয্যের সম্মুখে এসে নির্নিমেষ ভঙ্গিতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কন্যার চাহনিতে যেন অনুচ্চারিত বাক্যলাপের বিস্তার । অধরপ্রান্তে মৃদু স্নিগ্ধতার আবরণে এক অপার্থিব হাসির রেশ বিকাশিত হলো। সমস্ত অন্তঃকরণে যেন রঙিন প্রজাপতির উন্মত্ত বিচরণ।
শয্য দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় বারংবার, আত্মসংবরণে নিমগ্ন পুরুষটির অন্তর্লোকে ততক্ষন বিপর্যস্ত।
ঝুমঝুম ছলছলে উচ্ছ্বাস মাখা কন্ঠে বলে ওঠে,
“ভাইয়া, কেমন লাগছে আমাকে?”
এহেন প্রশ্নে শয্যের শব্দবিন্যাস বিশৃঙ্খল হয়ে উঠল। এই কন্যা তার স্থিতধী সত্ত্বাকে প্রেমোন্মত্ত অভিঘা’তে বিপর্যস্ত করে তুলছে। হৃদয়ের সুপ্ত প্রকোষ্ঠে এক মুঠো অনির্বচনীয় অনুভূতির কম্পন জেগে উঠল।
সে স্বর সামলে বলল,
“ভালো করে দেখিনি তোকে। কেমন লাগছে, জানি না।”
মুহূর্তেই কন্যার মুখাবয়বে অভিমানের ক্ষীণ ছায়াপাত ঘটল। শয্য অন্যদিকে ফিরতেই সে পুনরায় তার সম্মুখে এসে দাঁড়াল। স্বরে মৃদু মনঃক্ষুণ্ণতার অভিঘা’ত,
“তাহলে এখন দেখুন, কেমন লাগছে আমাকে?”
শয্য কপাল সামান্য কুঞ্চিত করে তাকাল। তার দৃষ্টি গিয়ে থমকে রইল কন্যার ক্ষীণ কোমরবন্দিনীতে। সহসা গলদেশে শুকনো ঢোক নেমে গেল। অন্তর্গত পৌরুষ যেন অবদমিত অস্থিরতায় ছটফট করে উঠল।
ঝুমঝুম অপেক্ষার ক্ষণগণনা করছিল। সে শয্যের প্রশংসা চায়। অন্তত একবার যেন পুরুষটি তার মুখশ্রীর দিকে নিবিড় দৃষ্টিপাত করে। এই কোমল মুখচ্ছবিটি যে শুধুই তার ভাইয়ের পরিচিত আদুরে কন্যার।
অথচ সেই কোমল হৃদয়টাই নিঃশব্দ যন্ত্রণার আধার হয়ে উঠেছে এই পুরুষের কারণে।
অবশেষে শয্য সংক্ষিপ্ত স্বরে উচ্চারণ করল,
“বিউটিফুল।”
একটি মাত্র বাক্যেই কন্যার হৃদয়প্রদেশে উষ্ণ অনুভূতির বিস্তার ঘটল। ঠিক সেই মুহূর্তে কোথা থেকে ছুটে এলো রিমঝিম। শয্যের দিকে তাকিয়ে আতঙ্কমিশ্রিত কণ্ঠে বলল,
“ভা… ভাইয়া, ফু আম্মু তোমাকে ডাকছে।”
এক মুহূর্তের বিলম্বও না ঘ’টিয়ে শয্য ত্বরিত পদক্ষেপে সেদিকে অগ্রসর হলো। পেছনে অবশ ভঙ্গিতে স্থাণুর ন্যায় দাঁড়িয়ে রইল রমণী। চপল মুখাবয়বজুড়ে অভিমানের ঘন আবরণ নেমে এসেছে; মনে হচ্ছে এইমাত্র নীলাভ মেঘরাশি জমাট বেঁধে ঝিরঝির অশ্রুবর্ষণের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
ঠিক এমন সময় জেসমিন বাদশাহ তার পুত্রের সম্মুখে একটি গিটার এনে ধরলেন। অনুষ্ঠানে যেখানে কেপপ আইডলের উপস্থিতি, সেখানে সংগীতের অনুপস্থিতি যেন অসম্পূর্ণতার নামান্তর। অতিথিবর্গ ইতোমধ্যেই জুনেদের কণ্ঠে গান শোনার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে। সে তো আর অনায়াসে কারও অনুরোধে গান পরিবেশন করবে না; তদুপরি তার কনসার্টে উপস্থিত থাকার সামর্থ্যও অধিকাংশের নেই। তাই সুযোগ পেয়ে বিনামূল্যেই তার সুরমূর্ছনা উপভোগ করতে উদগ্রীব সকলে।
অন্য কেউ এ অনুরোধ জানালে নির্দ্বিধায় প্রত্যাখ্যান করত শয্য। কিন্তু মায়ের মুখের উজ্জ্বল প্রশান্ত হাসিটুকু দেখে “না” শব্দটি উচ্চারণ করার দুঃসাহস হলো না তার। দীর্ঘ তপ্ত নিশ্বাস ফেলে সে গিটারটি নিজের করায়ত্ত করল।
পিছন ফিরতেই তার দৃষ্টি গিয়ে আটকাল আব্রাহামের উপর। আব্রাহাম হালকা ভঙ্গিতে আঙুল উঁচিয়ে অল দ্য বেস্ট জানাল। শয্য কখনোই অনুধাবন করতে পারে না এই মানুষটি তাকে কেন “ভাই” সম্বোধন করে! ভাইয়ের উপযুক্ত কোনো কর্তব্য তো সে আজ অবধি পালনই করেনি।
পরক্ষণেই তার দৃষ্টি সরে গেল অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা রমণীর দিকে। আজ সে যেন নর্থ সাউথ ইন্ডিয়ান ললনার সংমিশ্রিত আবহে সজ্জিতা। দু’জনের দৃষ্টি পরস্পরে আবদ্ধ হলো। ঝুমঝুমের ওই মায়াভরা নেত্রযুগল যেন নিষ্কলুষ সরলতার জীবন্ত প্রতিমূর্তি।
শয্য গভীরভাবে শ্বাসত্যাগ করল। মধ্যমঞ্চে স্থাপিত নান্দনিক টুলচেয়ারটিতে গম্ভীর ভঙ্গিতে বসল সে। তার সম্মুখে মাইক রাখা রয়েছে! প্রফেশনাল গায়কের ন্যায় দক্ষতায় গিটার ধারণ করেছে পুরুষটি। অতঃপর তার স্থির দৃষ্টি গিয়ে নিবদ্ধ হলো ঝুমঝুমের মুখাবয়বে। আজ শয্যের হ্যাজেলাভ নেত্রদ্বয়ে মুগ্ধতার অবাধ বিচ্ছুরণ। পরমুহূর্তেই গিটারের তারে আঙুলের মৃদু অভিঘাতে টুং করে এক সুরধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো চারপাশে। তারপর ধীর নিমগ্নতায় গাইতে আরম্ভ করল সে।
তোর ওই দুহাতের
আলতো ছোঁয়াতে
মন ছেয়ে যায় প্রেমের উষ্ণ ধোঁয়াতে।
তোর ওই দুহাতের
আলতো ছোঁয়াতে
মন ছেয়ে যায় প্রেমের উষ্ণ ধোঁয়াতে।
এসেছি তোর মনেরই দেশে
আমি এক মুসাফির বেশে
দে ঠাঁই একটু হেসে
ভালোবেসে….
এসেছি তোর মনেরই দেশে
আমি এক মুসাফির বেশে
দে না ঠাঁই একটু হেসে
ভালোবেসে….
মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৮
জুনেদ শয্য বাদশাহর কন্ঠে বাংলা গান কেউই আশাকরেনি, তবে সকলেই তা শুনে মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় চেয়ে আছে।আর জুনেদ শয্য তাকিয়ে আছে ঝুমঝুমের দিকে।
ঝুমঝুমের দৃষ্টি নড়বড়ে হলো। অকস্মাৎ অনুভূত হচ্ছে ওই হ্যাজেল চক্ষুদ্বয় অদ্ভুত! বড় অদ্ভুত ঠেকছে তার কিশোরী অনূভুতির নিকটে! এ কেমন চাহনি জুনেদ শয্য বাদশাহর?
