Home র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৫

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৫

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৫
ইয়ুশরা রিমু

সায়রের রুম থেকে বেরিয়ে আসার সময় বেলা একবারও পেছনে ফিরে তাকালো না। তার হাঁটার গতি ছিল দ্রুত, কিন্তু বুকের ভেতরের কষ্টটা যেন পা দুটোকে বারবার থামিয়ে দিতে চাইছিলো। করিডোরের প্রতিটা ইট, প্রতিটা দেয়াল, প্রতিটা আলো যেন আজ তাকে উপহাস করছে। কয়েক মুহূর্ত আগেও সে ভেবেছিল, সায়র হয়তো তাকে একটু বকবে, তারপর আগের মতোই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আজকের ঘটনাটা সম্পূর্ণ আলাদা।
সায়রের বলা প্রতিটা বাক্য বারবার তার কানে ফিরে আসছে।বেলা যতটা সম্ভব চোখের পানি আটকে রাখার চেষ্টা করছে। এই বাড়িতে সে অনেকবার কেঁদেছে, কিন্তু আজকের কান্নাটা অন্যরকম। আজ মনে হচ্ছে কেউ তার অহংকারটা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।নিজের রুমে ঢুকেই সে ভেতর থেকে দরজাটা বন্ধ করে দিলো। বইগুলো এক ঝটকায় বিছানার ওপর ছুঁড়ে ফেলে দিলো। মুহূর্তেই সমস্ত শক্তি যেন শেষ হয়ে গেলো। ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো।
তারপর চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু আর আটকানো গেল না।বালিশটা বুকের সঙ্গে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করল সে। আর বিরবির করে বলতে লাগলো,

— আমি কি এতটাই খারাপ?আমি কি সত্যিই এত অভদ্র? আপনি আমার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলতে পারলেন সায়র ভাই?
কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিল সে। বুকের ভেতরটা যেন ফেটে যাচ্ছে। সে নিজের রাগের জন্য অনুতপ্ত ছিল, কিন্তু তার থেকেও বেশি কষ্ট পাচ্ছিলো এই ভেবে যে, সায়র রুপসার সামনে তাকে এতটা অপমান করলো।বেলা কখনো চায়নি সায়র তাকে অন্য সবার মতো দেখুক। সে সবসময় বিশ্বাস করত, যতই বকুক না কেন, সায়রের কাছে সে আলাদা। কিন্তু আজ মনে হলো, সে সত্যিই অন্য সবার মতোই একজন।বরং হয়তো তাদের থেকেও কম।সে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতেই থাকলো ।

অন্যদিকে, বেলা রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ হয়ে দরজার দিকেই তাকিয়ে রইলো রুপসা। তার মুখে কষ্ট আর অপমানের ছাপ স্পষ্ট হলেও, মনের গভীরে অদ্ভুত এক তৃপ্তির ঢেউ বয়ে গেলো। বহুদিন ধরেই সে লক্ষ্য করছে, তাকে দেখলেই বেলার আচরণ বদলে যায়। কথায় কথায় খোঁচা, অকারণ বিরক্তি, চোখেমুখে অসহ্য এক বিরূপতা।এসবই যেন রুপসার অজানা ছিল না। সে বুঝতে পেরেছিল, বিষয়টা শুধু অপছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে আরও গভীর কোনো অনুভূতি লুকিয়ে আছে। আজ সেই জমে থাকা রাগ, হিংসা আর অভিমান একসঙ্গে বি’স্ফোরিত হলো। আর সবচেয়ে বড় কথা, সেই ঘটনার পর সায়র নিজেই বেলাকে কঠিন ভাষায় বকেছে। বাইরে থেকে বিষয়টা নিয়ে দুঃখিত হওয়ার অভিনয় করলেও, ভেতরে ভেতরে ঠিক এই দৃশ্যটাই যেন দেখতে চেয়েছিল রুপসা। তাই বুকের গভীরে লুকিয়ে থাকা সেই তৃপ্তিটুকু সে কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারলো না।।এটাই তো সে চেয়েছিলো।তবুও মুখে সেসবের কোনো ছাপ রাখলো না।বরং দীর্ঘশ্বাস ফেলে নরম গলায় বললো,

—থাক সায়র।ও ছোট মানুষ। আমার জন্য ওকে এত বকতে হলো না।
সায়র বিরক্ত গলায় বলল,
— ছোট মানুষ বলে সবসময় ছাড় দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
রুপসা নিচু স্বরে বললো,
— আমার খারাপ লাগছে। ও নিশ্চয়ই কষ্ট পেয়েছে।
কথাটা বললেও ভেতরে ভেতরে তার ঠোঁটের কোণে অদৃশ্য হাসি ফুটে উঠলো।আজকের পর হয়তো বেলা কিছুদিন তার সামনে আসতে সাহস পাবে না।সে আবার বললো,
— দেখলে? আমি এখন তোমাদের মাঝখানে ভিলেন হয়ে গেলাম।আমার জন্য তোমাদের ভাইবোনের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাক, সেটা আমি চাইনি সেটা।
সায়র কপালে হাত বুলিয়ে চুপ করে রইলো।রুপসা উঠে দাঁড়ালো,

—আমি তাহলে যাই।
— আচ্ছা যা।
দরজার কাছে গিয়ে আবার ফিরে তাকিয়ে বলল,
— প্লিজ।পরে ওর সঙ্গে ভালো করে কথা বলো। রাগ করে থেকো না।
সায়র শুধু মাথা নাড়লো।রুপসা চলে যাওয়ার পর পুরো রুমটা অদ্ভুত নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।সায়র ধীরে ধীরে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো।রাগটা যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।তার জায়গায় অন্য একটা অনুভূতি এসে বসছে।সে চোখ বন্ধ করলো।বেলা বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটা মনে পড়লো।মেয়েটা মাথা নিচু করে ছিলো।চোখদুটো লাল।ঠোঁট কাঁপছিলো।কিন্তু একফোঁটা অশ্রুও তার সামনে পড়তে দেয়নি।সায়র দীর্ঘশ্বাস ফেললো।সে জানে, বেলার ভুল হয়েছে। মস্ত বড় ভুল হয়েছে। কিন্তু সে কি একটু বেশিই বলে ফেলেছে ছোট্ট মেয়েটাকে?‌ রুপসাকে যে কথাগুলো বলেছে, সেগুলোর কোনো যৌক্তিকতা ছিলো না। একজন মানুষকে এভাবে অপমান করার অধিকার তার ছিলো না। শিক্ষক হিসেবে সেই ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া তার দায়িত্ব ছিলো।
তার বলা কথাগুলো মনে হতেই বুকের ভেতর কেমন একটা অস্বস্তি হলো।ছোটবেলা থেকে বেলাকে সে চেনে।জেদি, দুষ্টু ঝগড়াটে।মুখে যা আসে তাই বলে ফেলে।কিন্তু মেয়েটার মনটাও যে কতটা নরম, সেটা সায়রের চেয়ে ভালো আর কে জানে! একটু বকা খেলেই বাইরে মুখ ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু কিছুক্ষণ পর চুপিচুপি এসে আবার কথা বলে।আজ হয়তো আসবে না।আজ হয়তো সত্যিই অনেক কষ্ট পেয়েছে।তার ইচ্ছে করছিল উঠে গিয়ে দরজায় নক করে বলুক,
—বেলা…
কিন্তু নিজেকে থামিয়ে দিল।না আজ যদি গিয়ে তাকে মানিয়ে ফেলে, তাহলে বেলা নিজের ভুল বুঝবে না।ওর বোঝা উচিত সবসময় সবজায়গাতে উল্টাপাল্টা কথা বলা উচিত না।

রাতের খাবারের সময় সবাই টেবিলে বসেছে।শুধু বেলা নেই।নাজনীন সুলতানা তিনবার ডাকলেন।কোনো লাভ হলো না।শেষে দরজার সামনে গিয়ে বললেন,
— মা, একটু ভাত খেয়ে নে।
ভেতর থেকে মৃদু উত্তর এলো,
—খাবো না আম্মু।
— সারাদিন কিছুই ঠিকমতো খাসনি।
–খিদে নেই।পরে খিদে পেল খেয়ে নিবো। তোমরা খেয়ে নেও সবাই।
নাজনীন সুলতানা একটু আশ্চর্য হয়ে ফিরে আসলেন। মেয়েটার আবার কি হলো?
স্ত্রীর কাছে মেয়ে বিষয়ে শুনে বাশার খান অবাক হয়ে বললেন,
—বেলা ভাত খাবে না? এটা তো অসম্ভব!
সায়রের মা-ও অবাক হয়ে বললেন,
— এই মেয়ে তো জ্বর হলেও খাওয়া বাদ দেয় না।
সায়র চুপচাপ প্লেটের দিকে তাকিয়ে রইলো।তারও খেতে ইচ্ছে করছে না।সে জানে বেলা যতই রাগ করুক, খাওয়া বাদ দেয় না।আজ বাদ দিয়েছে।মানে কষ্টটা সত্যিই গভীর।

পরদিন সকাল।অ্যালার্ম বাজার আগেই উঠে পড়লো বেলা।আজ তার মুখে কোনো দুষ্টুমির ছাপ নেই।কারও সঙ্গে ঝগড়া নেই।নাস্তার টেবিলে চুপচাপ বসে রুটি খেলো।একবারও সায়রের দিকে তাকালো না।সায়রও চুপচাপ ছিল।দুজনের মাঝখানে অদৃশ্য একটা দেয়াল তৈরি হয়ে গেছে।কলেজে পৌঁছেও বেলার মন ভালো হলো না।ইরা কয়েকবার জিজ্ঞেস করলো,
—তোর কী হয়েছে?
— কিছু না।
— নিশ্চিত?
— হুম।
ইরা বুঝলো, আজ বেশি প্রশ্ন করা ঠিক হবে না।প্রথম দুইটা ক্লাস শান্তভাবেই কে’টে গেল।তৃতীয় ক্লাস শেষে করিডোরে বের হতেই সামনে পড়ে গেল তানিয়া।
ঠিক তখনই তানিয়া সামনে এসে দাঁড়াল।ঠোঁটে সেই চিরচেনা ব্যঙ্গের হাসি দিয়ে বলে,

—ওমা! আজকে এত চুপচাপ কেন? বিরহে আছিস নাকি?
বেলা তাকালও না।পাশ কা’টিয়ে যেতে নিল।তানিয়া আবার বললো,
—কালকে তো খুব তেজ দেখাচ্ছিলি। আজকে কী হলো? বাসায় রেজাল্টের জন্য মা’র খেয়ে এসেছিস নাকি?
বেলার পা থেমে গেল।সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে,
— তা জেনে তোর কী প্রয়োজন?
— প্রয়োজন আছে বলেই তো জিজ্ঞেস করছি।
বেলা রাগান্বিত স্বরে বললো,
— আমার জীবন নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। সামনে থেকে সর না হলে তোর খবর করে ছাড়বো আজ।
তানিয়া হেসে বললো,
—ওমা! ভয় দেখাচ্ছিস?
বেলা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তাকিয়ে বললো,
—বেশি বাড়াবাড়ি করিস না।
— করলে কী করবি?
—থা’প্পড় খাবি।
তানিয়া সাহসী ভঙ্গিতে বেলার সামনে এগিয়ে বলে,
— মা’র দেখি।
বাক্যটা সম্পূর্ণ করা পরের মুহূর্তেই,
—ঠাস!
করিডোরজুড়ে থা’প্পড়ের শব্দ ছড়িয়ে পড়লো। সবাই হতবাক। তানিয়া নিজের গালে হাত দিয়ে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে র‌ইলো।
চারপাশে ছাত্রছাত্রী জড়ো হতে শুরু করেছে।ইরা ফিসফিস করে বেলার হাত ধরে টেনে বললো,

—বেলা, চল এখান থেকে।
কিন্তু বেলা আর সরে গেলো না।
তানিয়া এবার ক্ষো’ভে সরাসরি বেলার কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বললো,
— হাউ ডিয়ার ইউ। তুই আমাকে থাপ্পড় কোন সাহসে?
ধাক্কাটা খুব জোরে ছিলো না।কিন্তু বেলার ধৈর্যের শেষটুকুও ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।পরের মুহূর্তেই। বেলা বিদ্যুতের গতিতে তানিয়ার হাতটা সরিয়ে দিয়ে তার চুলের মুঠি এমন শক্ত করে ধরল যে তানিয়া ব্যথায় চিৎকার করে উঠলো,
— আহ্! ছাড়!
বেলার চোখ তখন র’ক্তবর্ণ।সে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
–অনেক সহ্য করেছি তোকে! আজকে উচিত শিক্ষা দিব।
তানিয়া ছাড়ানোর চেষ্টা করলো।দু’হাতে বেলার কবজি ধরলো।কিন্তু কোনো লাভ হলো না।বেলার নরম হাত দুটো যেন আজ লোহার মতো শক্ত হয়ে গেছে।যত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে, বেলা ততই শক্ত করে চুল মুঠো করে ধরছে। তানিয়া বারবার করে বলছে,

— ছাড় বলছি!
বেলা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
—আজকে ছাড়ব না! আমার সাথে লাগতে এসেছিলি কেন?
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বেলা তানিয়াকে নিজের দিকে টেনে আনলো।তানিয়া ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় বেলার গায়ের ওপর পড়ে গেল।চারপাশ থেকে চিৎকার ভেসে উঠল,
— আরে ধর ওদের!ওরা মা’রামা’রি করছে। কেউ ম্যাডামকে ডাকো।
ইরা দৌড়ে এসে বেলার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো,
—বেলা! প্লিজ!
কিন্তু বেলা একটুও নড়লো না।তানিয়া এবারও সাহস দেখিয়ে বেলার হিজাব ধরার চেষ্টা করলো।কিন্তু বেলা সঙ্গে সঙ্গে তার হাতটা ঝটকা মে’রে সরিয়ে দিলো।তারপর আবার চুল ধরে এমন জোরে টান দিলো। যে তানিয়ার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছে,

— আহ্! মাথায় খুব ব্য’থা লাগছে!
— তখন মনে ছিল না? তুই প্রথমে লাগতে এসেছিলি আমি না।
তানিয়ার মুখে আর আগের সেই দেমাক নেই।সে সত্যিই বেলার সঙ্গে পেরে উঠছে না।চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রীরা মিলে বেলার হাত টানছে।দুজন ছেলে দূর থেকে বলছে,
— কেউ আলাদা করো দুটোকে!
কিন্তু কেউ হাত দিতে সাহস পাচ্ছে না।বেলার রাগ দেখে সবাই হতবাক।ইরা প্রায় কেঁদে ফেলেছে। সে কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো,
— বেলা! আল্লাহর দোহাই লাগে, ছেড়ে দে!
ঠিক তখনই করিডোরের শেষ মাথা থেকে ব’জ্রের মতো একটা গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো,
— বেলা!
শুধু একটা শব্দ।কিন্তু সেই কণ্ঠটা পুরো করিডোরকে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দিলো।সবাই সরে দাঁড়ালো।ইংরেজি বিভাগের দিক থেকে দ্রুত হেঁটে আসছেন সায়র।তার মুখ গম্ভীর।চোয়াল শক্ত।চোখে স্পষ্ট রাগ।তিনি সামনে এসে দেখলেন, তানিয়া ব্যথায় কাঁদার উপক্রম, আর বেলা এখনও তার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে আছে।সায়র কঠিন গলায় বললেন,

— চুল ছাড় ওর।
বেলা যেন শুনতেই পেলো না।তার নিশ্বাস দ্রুত উঠানামা করছে।সে শুধু তানিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।সায়রের কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে উঠলো,
— বেলা! আমি বলেছি, ছাড়।
তবুও বেলা কয়েক সেকেন্ড হাত ছাড়লো না।শেষ পর্যন্ত ধীরে ধীরে আঙুলের চাপ আলগা করলো।চুল ছাড়িয়ে যেতেই তানিয়া দুই পা পিছিয়ে গেলো।তার চোখে ভয় স্পষ্ট।এতক্ষণ যে মেয়েটা বড় বড় কথা বলছিল, এখন সে আর বেলার দিকে তাকানোর সাহসও পাচ্ছে না।করিডোর জুড়ে পিনপতন নীরবতা।সায়র একবার তানিয়ার দিকে তাকালেন।তারপর ধীরে ধীরে চোখ ফিরিয়ে বেলার দিকে তাকালেন।বেলার মুখে এখনও রাগ।কিন্তু সেই রাগের গভীরে লুকিয়ে আছে রাতভর জমে থাকা কষ্ট আর অভিমান।সায়র সেটা বুঝতে পারলেন।তবুও এই মুহূর্তে তিনি শুধু একজন শিক্ষক।নিজের সমস্ত অনুভূতি চেপে রেখে তিনি ধীর কিন্তু কঠিন গলায় বললেন,

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৪

—দুজনেই আমার সঙ্গে অফিস রুমে আসো।
করিডোরজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী যেন এক মুহূর্তের জন্য নিঃশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে রইলো। সবার চোখে-মুখে স্পষ্ট কৌতূহল আর উ’ত্তেজনা। কারণ সবাই বুঝে গেছে। এবার বড় কিছু ঘটতে চলেছে।

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here