Home রাজনীতির রংমহল ৩ রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৩ (২)

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৩ (২)

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৩ (২)
সিমরান মিমি

“চলো মামুনি, মামা বাড়ি কয়েকটা দিন থেকে আসবা।”
পিয়াশার আদুরে আপ্যায়ন শুনে আর্শি স্নিগ্ধ চোখে তাকালো। ভদ্রমহিলার পুরো মুখ জুড়ে মায়া। তিনি অত্যন্ত স্নেহের সাথে ওষুধ লাগানো হাতটা জড়িয়ে ধরে আছেন। আর্শি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাকে দেখলো। এই বয়সেও ভীষণ সুন্দরী তিনি। অবশ্য আমজাদ শিকদার ও কম সুপুরুষ নন। আর্শির মনে প্রশ্ন জমা হয়। যেহেতু তার মায়ের ভাই, তাহলে মাও নিশ্চিত তাদের মতোই সুন্দরী ছিলেন। সে চোখ বন্ধ করে মায়ের চেহারাটা স্মরণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু আসে না সেই মুখাবয়ব। আসবেই বা কিভাবে? তাকে তো মনেই নেই। দুধের বাচ্চা রেখে হারিয়েছেন স্বার্থপরের মতো।
পাভেল ওষুধ হাতে দাঁড়িয়ে আছে এক কোনায়। সরাসরি সম্মুখ দৃষ্টিতে ঝামেলা বাড়বে বলেই আমজাদ শিকদার এবং পরশ আসে নি। শামসুল সরদার আসার পূর্বেই আর্শিয়া কে দেখে গেছেন তারা। স্পর্শী বিরক্ত চিত্তে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর মাত্র দশ মিনিট থাকবে। এরপরেই বিদায় নিয়ে রওনা দেবে। নেহাত পাভেল বারংবার থাকার জন্য অনুরোধ করছে — না হলে এতোক্ষণে বাড়িতে গিয়ে ভাত রাঁধাও শেষ হয়ে যেতো।

শামসুল সরদার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মেয়ের ব্যান্ডেজে বাঁধা ক্ষত স্থানে নজর বোলাচ্ছেন। পাভেল শিকদারকে তিনি সেভাবে চেনেন না। হয়তো খুব একটা রাজনীতির সাথে জড়িত নয় বলেই। তিনি দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হচ্ছেন। ইচ্ছে করছে আর্শিকে নিয়ে মিনিটের মধ্যে হস্পিটাল ছাড়তে। কিন্তু তা সম্ভব নয়। এখানে পিয়াশা শিকদার উপস্থিত। তার উপর সে আর্শির হাত জড়িয়ে বসে আছেন পাশে। এক নিমিষের জন্যেও ছাড়ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে ভদ্রমহিলাকে অপমান করে মেয়েকে টেনে নিয়ে কি করে যাবেন? আজ এখানে যদি পরশ, আলতাফ বা আমজাদ শিকদার উপস্থিত থাকতেন তাহলেই সরদারদের রক্তের ফুটন্ত তেজ দেখিয়ে তবেই যেতেন।
চিৎ হয়ে একইভাবে শুয়ে থাকতে আর্শির ভালো লাগছে না। তার শরীরে ভীষণ ব্যথা। প্রচন্ড রকমের অন্তর্মুখী স্বভাবের হওয়ায় কাউকে বলতেও পারছে না উঠে বসার জন্য সাহায্য করতে। শেষে এক হাতে ভর দিয়ে নিজেই বসার চেষ্টা করলো। পাভেল অন্যমনস্ক হয়ে দু-পা এগিয়ে এলো ধরতে। পরক্ষণেই সম্মুখে মাকে দেখে থেমে গেলো। মেয়েটাকে তোলার জন্য স্পর্শীয়া, মা আছে। পিয়াশা আর্শিকে যত্নের সাথে ধরলেন। ভাবলেন, মেয়েটা বুঝি তাদের সাথে বাড়ি যাওয়ার জন্যেই উঠছে। সেই মত অনুযায়ী নরম গলায় শুধালেন,

– ওখানে সবাই তোমার আপন। তোমার একটা বোন আছে, ভাইয়েরা আছে, মামারা আছে — সবার সঙ্গে কিছুদিন বেড়ালে ভালো লাগবে।
পাভেল মৃদু হাসলো। মায়ের মতো সেও ভাবলো আর্শিয়া রাজি হয়েছে। দু-পা এগিয়ে কিছুটা চিন্তিত কন্ঠে শুধালো,
– হাঁটতে পারবে? পা দিয়ে তো ভর দেওয়াই যাচ্ছে না। কোলে নেবো?
এক ঝলক দৃষ্টি বিনিময় করে মাথা নুইয়ে ফেললো আর্শি। একটা ছেলে তাকে কোলে তোলার জন্য সাধছে – ভাবতেই জমে শক্ত হয়ে গেলো। পুণরায় শুয়ে চোখ বন্ধ করলো। তাড়াহুড়ো করে কাতর গলায় বললো,
– আব্বু, আমি বাড়ি যাবো।
অবাক দৃষ্টিতে আর্শির দিকে তাকিয়ে রইলো শামসুল। সে কল্পনায় ও ভাবে নি মেয়েটা তার সাথে যেতে চাইবে। শিকদার বাড়িতে এই বুঝি চলে যায়, ভেবে রাগে মাথা ফেঁটে যাচ্ছিলো। তবুও ভদ্রতা দেখিয়ে বলে উঠতে পারে নি কিছু। তিনি বড় বড় পা ফেলে মেয়ের কাছে গেলেন। দাম্ভিকতা ছড়িয়ে কাউকে কিছু না বলেই নার্স কে ডেকে স্ট্রেচার নিয়ে আসতে বললেন। এরপর স্পর্শীর সাহায্য নিয়ে আর্শিকে নিয়ে গাড়িতে তুললেন। পুরোটা সময় চোখ খিঁচিয়ে বন্ধ করে শুয়ে ছিলো আর্শি। ওতো যত্নের সাথে কথা বলা মায়ের মুখ এবং স্বেচ্ছায় কোলে তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া যুবকের সাথে দৃষ্টি মেলাতে হিমশিম খেলো।

পাভেল রেগে গেছে। একটা মেয়ে কি করে তার মাকে এভাবে ফিরিয়ে দিলো? এতোটা আদর- যত্নের পরেও কি সুন্দর করে বলা যেতো না! কিন্তু সে বলেনি। অহংকারী বাবার অহংকারী মেয়ের মতো কোনো কথা না বলেই চলে গেছে। তবে পিয়াশা অখুশী নয়। শুধু মায়া হচ্ছে। তিনি ছেলেকে বুঝিয়ে বললেন,
– এতো রেগে যাচ্ছিস কেনো? ওর-ই বা কি দোষ? আমাদের কি চেনে? কখনো পরিচয় হয়েছে, কাছে যেতে দিয়েছে ওর বাবা? স্কুল – কলেজেও তো গাড়িতে দিয়ে-এসে যায়। সেখানে হুট করে আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য রাজী কেনো হবে মেয়েটা?
উত্তর দিলো না পাভেল। মাকে গাড়িতে পৌঁছে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বললো,

– তুমি বাড়ি যাও, আমার কাজ আছে। স্পর্শীয়া দাঁড়িয়ে আছে।
এতোক্ষণে হুশে ফিরলেন পিয়াশা। শক্ত কন্ঠে বললেন,
– ওই মেয়েটা কে ছিলো রে? ওর সাথে তোর এতো ফুসুর-ফাসুর কেনো?
আহাম্মক হয়ে চেয়ে রইলো পাভেল। হেঁসে দিয়ে বললো,
– আরে এগুলো আবার কেমন কথা? ও আমার বন্ধু। ঢাকা থেকে এসেছে। ওই যে ভাইয়া ওর ভাইকেই মেরেছিলো।
পিয়াশা চমকালেন। মুহুর্তে’ই ড্রাইভার কে ঝাড়ি দিয়ে বললো,
– এইই মাহবুব, তুমি গাড়ি চালাবা না। ওই মেয়ে আমার পরশের গায়ে ছুরি মেরেছে। ওকে তো ঠাঁটিয়ে দুটো চড় মারবো আমি। নিয়ে চল ওর কাছে।
স্পর্শী তাদের থেকে বিশ হাত দূরে দাঁড়িয়ে। পিয়াশার চোখে পড়ে নি তা। পাভেল হতভম্ব দৃষ্টিতে পিছু তাকিয়ে স্পর্শীকে দেখলো। এরপর চাঁপা ক্ষোভ ঝেড়ে বললো,
– বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে মা। তুমি প্লিজ বাড়ি যাও, জেদ করো না। এমনিতেই বিষয়টা এখানেই শেষ। সামনে
নির্বাচন — তুমি আর ভাইয়ার ঝামেলা বাড়িয়ো না।

স্পর্শী রাস্তার মধ্যে গাড়ি না দেখেই হাঁটা ধরলো। পাভেল হতভম্ব হয়ে ধমক মারলো। বললো,
-আক্কেল- জ্ঞান সব হারাইছিস নাকি? ড্রাইভার গুলোর সাথে খামখেয়ালি করছিস কেনো? এরা সাভারের না, পিরোজপুরের। একদম পিষে চলে যাবে।
এক ঝলক পিছু তাকিয়ে অগ্নি বর্ষণ করলো স্পর্শী। এরপর রাস্তায় মাঝমাঝি দাঁড়িয়ে তাকালো টমেটো গুলোর দিকে। সেগুলো এখন সস এর ন্যায় লেগে আছে রাস্তার সাথে। কিন্তু তার ব্যাগ! বাজারের ব্যাগে এক কেজি ওজনের তেলাপিয়া মাছ ছিলো। সাথে আরো সবজি। কিন্তু সেগুলো কই? চুরি করে নিয়ে গেছে! রাগে গিজগিজ করতে করতে পাভেলের দিকে তাকালো। বললো,

– আমি না হয় মেয়েটাকে নিয়ে হস্পিটালে ঢুকলাম। কিন্তু তোর ভাই? আমার বাজারের ব্যাগ টাও দেখে রাখতে পারলো না। কতগুলো সবজি!
হতভম্বের ন্যায় চুপ করে গেলো পাভেল। আশেপাশে তাকিয়ে লোকজন কে পরোখ করে নিলো। এই কথা কি অন্যকেউ শুনে ফেলেছে? নাহ! শোনে নি। নিশ্চিত হওয়ার পরে বললো,
– তোর বাজারের ব্যাগ আমার ভাই পাহাড়া দেবে! মাথা কি ঠিক আছে তোর?
-কেনো? একটু ব্যাগটা গাড়িতে রাখলে কি হতো?
– আমার ভাই ভবিষ্যৎ এমপি চড়ুই! একটু বোঝার চেষ্টা কর। তোর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা টমেটো আর বাজারের ব্যাগ তুলে সেটা যত্নে রাখবে আমার বড় ভাই। প্লিজ! আমার মাথাটা ফাঁটিয়ে ফেল, তবুও এমন আজগুবি কথা বলিস না।
স্পর্শী বিরক্ত হয়ে পাভেলের দিকে তাকালো। বললো,
– ওহহহ, প্লিজ! তুই আমার সাথে কথা বলিস না। অসহ্য লাগছে। তোকে এক সেকেন্ড ও সহ্য হচ্ছে না।
রাস্তার পাশে এক মুদির দোকান থেকে ডাক এলো স্পর্শীর। লোকটার হাতে স্পর্শীর বাজারের ব্যাগ। সে দ্রুতপায়ে এগিয়ে গেলো। বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটার থেকে ব্যাগ টা নিয়ে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বললো,

– ওহহ থ্যাংক ইউ চাচা! আমি তো ভেবেছিলাম গাড়ির চাকার সাথে টেনে নিয়ে গেছে ড্রাইভার গুলো। নেহাত আপনি ছিলেন!
বৃদ্ধ লোকটি ফোকলা পান খাওয়া দাঁত গুলো মেলে হাসলো। তা দেখে ভালো লাগলো না পাভেলের। হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো দূরে। বললো,
– এইই বুড়োর সাথে কথা বলবি না। শামসুল সরদারের খাঁটি ভক্ত! যেনো ওর বাপ।
স্পর্শী হাত ছিটকে সরিয়ে দিলো পাভেলকে। কপাল কুঁচকে বললো,
– তাতে আমার কি? আমি তো সবার সাথে কথা বলবো। শুধু তুই বাদে।
– আমি কেনো?
– কারন তুই পরশ শিকদারের ভাই।
– তো! আমার ভাই কি করেছে?
– আমার ভাইকে মেরেছে।
রেগে গেলো পাভেল। বললো,
– তো, তোর ভাই ধোঁয়া তুলসী পাতা নাকি। সেও তো সুজন ভাইয়ের মাথা ফাঁটিয়েছে।
ফোঁসফোঁস করে উঠলো স্পর্শী। তেজ নিয়ে বললো,
– আমার ভাই কি করেছে?
মিইয়ে গেলো পাভেল। আমতা আমতা করে তাকালো আশেপাশে। তার উত্তর না পেয়ে স্পর্শী পুণরায় বললো,

– কি রে! বল, আমার ভাই কি করেছে?
– কিছু না। তোর ভাই কিচ্ছু করে নি। তোরা দুই ভাই-বোন কোনো পাপ করতে পারিস নাকি? পাপ তো আমার। এদিকে তোকে বাঁচিয়েছি বলে ভাইয়া আমায় সহ্য করতে পারে না। ওদিকে ভাইয়ের জন্য তুই আমায় সহ্য করতে পারিস না। আসলেই আমি একটা অসহ্যকর!
ফোঁসফোঁস করতে করতে চলে এলো পাভেল। স্পর্শীও আর দাঁড়ালো না। কেনো দাঁড়াবে? শেষের কথাগুলো পাভেল ব্যঙ্গ করে বলেছে। এর মানে কি? স্পর্শী কি খারাপ? নাকি তার ভাই খারাপ। আসলে খারাপ তো হচ্ছে এই পাভেল। পাপিষ্ঠ পরশ শিকদার, সাথে পাপিষ্ঠ পুরো পিরোজপুর নগরী। ছ্যাঁহ!

সোভামের মেজাজ ভারী। তাকে না বলে বাইরে বেরিয়েছে স্পর্শী। চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছিলো মস্তিষ্ক। আশেপাশে দু-চার টা চক্কর খাওয়ার পরেও খুঁজে পায় নি তাকে। শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফিরেছে। অথচ স্পর্শীর কোনো হেলদোলই নেই। সে দিব্যি এসে রান্না সেরেছে। ধমকে- ধামকে খাবার ওষুধ দুটোই খাইয়েছে সোভামকে। অবশ্য রাগ টা এখনো প্রকাশ করে নি সে। শুধু কথা না বলে চুপ করে বসে আছে।
রাতের খাওয়ার সময় হয়ে গেছে প্রায়। ঘড়ির কাঁটায় এগারোটা। দুপুরে রান্না বান্না করে খেতে খেতে চারটা বেজেছে। সে অনুযায়ী এতোক্ষণ ক্ষিদে পায় নি। দুজনেই বিছানার দু – প্রান্তে বসে ফোন টিপেছে।
সোভাম যে রেগে গেছে তা বুঝতে সেকেন্ড ও লাগেনি স্পর্শীর। তবে প্রকাশ করা যাবে না। একবার এ বিষয়ে জানালেই তেঁতে উঠবে গরম তেলে বেগুন ভাঁজার মতো। তবে এই মুহুর্তে এই ভাজাভাজি স্পর্শীর পছন্দ হচ্ছে না। তাই নিরব, নিশ্চিন্তে বসে আছে।

– এখন ফোন রেখে হাত ধুঁয়ে আয়। খাবার খেয়ে ওষুধ খাবি।
সোভাম উত্তর দিলো না। চুপচাপ ফোন রেখে ঢুকে গেলো বাথরুমে। স্পর্শী বিছানার উপর গামছা বিছিয়ে প্লেট রাখলো। এ ঘরে ডাইনিং টেবিল নেই। পড়ার যে টেবিল টা আছে সেটা দিয়ে খাওয়া-পড়া দুটোই সারে সোভাম। কিন্তু যেক্ষেত্রে তারা দুজন, তাই এই নিয়ম মানা গেলো না।
ভাতের লোকমা মুখে নেওয়ার পূর্বেই দরজায় ঠকঠক আওয়াজ হলো। সোভাম চমকালো। সম্পুর্ণ অপরিচিত হওয়ায় তার ফ্লাটে এ যাবৎ কেউ আসে নি। যদি বাড়িওয়ালাও হয় তাহলে এতো রাতেই বা কেনো। বিছানা থেকে নামতে গেলে স্পর্শী তাকে আটকালো। হাত ধুয়ে সে নিজে এলো দরজার কাছে। দরজায় কোনো ছিদ্র নেই। এরইমধ্যে আরো কয়েকবার সর্বোচ্চ জোরে দরজা ধাক্কালো। বাড়িওয়ালার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তিনি দরজা খুলতে বলছেন।
স্পর্শী চিন্তিত হলেও তা প্রকাশ করলো না। মনে মনে সাহস সঞ্চয় করে খুলে দিলো সিটকিনি। এরইমধ্যে বাড়িওয়ার পূর্বে হুরহুর করে ভেতরে ঢুকলো ছয় – সাত জন ছেলে। যারা প্রত্যেকেই মাস্ক পড়ে আছে। তারা ভেতরে ঢুকে এমন ভাবে ঘিরে আছে যেনো সোভাম এবং স্পর্শীয়া কোনো আসামী।
বাড়িওয়ালার বয়স অল্প নয়। ষাটের কাছাকাছি প্রায়। অত্যন্ত নরম এবং ভীতু স্বভাবের বৃদ্ধ লোকটা ছেলে গুলোর দিকে তাকিয়ে কাঁপছে। ঢোক গিলে বললো,

– ওনারা সামনের শিকদার ক্লাব থেকে আসছেন।
এরপর সোভামের দিকে তাকিয়ে কম্পিত গলায় বললেন,
– বাসা ভাড়া তো আমি তোমার কাছে দিছিলাম। বলছিলা অবিবাহিত ব্যাচেলর, একলা থাকবা। কিন্তু এই মেয়ে কে?
সোভাম হতভম্ব হয়ে স্পর্শীর দিকে তাকালো। ছেলেগুলোর দৃষ্টি মোটেও সুবিধার নয়। প্রত্যেকেই হিংস্র চোখে তাকিয়ে আছে। পা বাড়িয়ে স্পর্শীর সামনে দাঁড়িয়ে ভদ্র কন্ঠে বললো,
– চাচা, আপনাকে তো সেদিনই বললাম – ও আমার বোন। আমি অসুস্থ, তাই দেখতে এসেছে।
লোকটা কাতর চোখে তাকালেন। এসব ঝই- ঝামেলা থেকে সম্পুর্ন দূরে থাকতে পছন্দ করেন তিনি। বললেন,
– আমি ওনাদের একথা বলছি। কিন্তু….

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৩

বৃদ্ধ পুরো কথা শেষ করতে পারলেন না। এর পূর্বেই ভেতর থেকে বজ্রকন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো এক ছেলে। বয়স খুব বেশি হলে বাইশ – তেইশ হবে। সে বিশ্রী রকম ইঙ্গিত করে বললো,
– এতো কিছু তো আমাদের জানার দরকার নাই। মুখের কথা হইলেই কি বিশ্বাস করবো? ভাই-বোনের পরিচয়ে কত মেয়েই তো ঘরে আনে অনৈতিক কাজের জন্য। প্রমাণ দেন।
স্পর্শীর কানের কাছ থেকে শাঁ শাঁ শব্দে গরম ধোঁয়া বেরিয়ে গেলো। আকস্মিক বিশ্রী ইঙ্গিতের কথা ভাবতেই মাথা ঘুরে উঠলো। চোখ দুটো হয়ে উঠলো টকটকে লাল। যার কোটরে জমেছে ঘৃণার অশ্রু।

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৪