রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৫
সিমরান মিমি
‘তুই বাবাকে শামসুল সরদারের সামনে বসে অমানুষ কেনো বললি?’
সোভাম চমকে স্পর্শীর দিকে তাকালো। মেয়েটা নির্জীব, দৃষ্টি ফ্লোরে নিবদ্ধ। কন্ঠে স্পষ্ট অভিমানের ছাঁপ। কিন্তু এই প্রশ্নের কি উত্তর দিবে সোভাম? তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী রেগে বলে ফেলেছিলো কথাটা। ভাবেনি এর বিপরীতে কোনো প্রশ্ন ছুঁড়বে স্পর্শী। ভাতের প্লেট গুলো গোছানো শেষ। আজ আর দানাপানি পড়ে নি পেটে। সোভামকে ওষুধ খাওয়ানোরও নেই কোনো তাড়া। বিছানা টা গুছিয়ে দিয়ে জানালার পাশে রাখা টেবিলটার কাছে দাঁড়ালো স্পর্শী। দুরান্তের কালো-নীল আকাশের দিকে চেয়ে পুণরায় বলে উঠলো,
– আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি, ভাইয়া।
এবারে আর কন্ঠে অভিমান নেই। আছে উত্তর জানার আকাঙ্ক্ষা। তবে বোনের এই আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ করতে অক্ষম সোভাম। বিছানায় উঠে শুয়ে ভাবলেশহীন কন্ঠে বললো,
– তোর প্রশ্নের কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। তখন রাগের মাথায় কি না কি বলে দিয়েছি, সেটা নিয়ে বসে আছিস। ঘুমা, অনেক রাত হয়েছে।
– রাগের মাথায় মানুষ অনেক কথাই বলে। কিন্তু অন্য একজন লোকের সামনে নিজের বাবাকে অমানুষ বলে আখ্যা দেয় না। তুই আব্বুকে অপমান করেছিস। তখন কিছু বলি নি বলে ভাবিস না এখন ছেড়ে দেবো।
‘আব্বু’ শব্দটা শুনতেই ঘিলু টগবগ করে ফুটতে থাকে সোভামের। চোখের সামনে ভেসে ওঠে শামসুল সরদারের বিকৃত এক রুপ। তৎক্ষণাৎ ঘৃণা বেরিয়ে আসে। স্পর্শীর দিকে তাকিয়ে ধমক মেরে বলে,
– অনেক হয়েছে। আসার পর থেকে কম নাটক দেখাসনি। লাইফ টা হেল করে দিচ্ছিস। কে আসতে বলেছে পিরোজপুরে? তোর জন্য আমাকে পদে পদে অপমানিত হতে হচ্ছে স্পর্শীয়া। রাত টা ঘুমিয়ে সকালে চলে যাবি। আমি অনেক ক্লান্ত!
স্পর্শীয়া ! সোভাম স্পর্শীয়াকে নাম ধরে ডাকলো? বিশ্বাস হলো না স্পর্শীর। কেমন যেনো ঘোরের মধ্যে চলে গেলো। বিগত কবে তাকে নাম ধরে ডেকেছে তা স্মরণ হচ্ছে না। সে নিস্তব্ধ চোখে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ঘরের আলো নিভিয়ে দিলো। এরপর এসে বসলো চেয়ারে। গ্রীষ্মের একটানা খরায় রোদে নেতিয়ে পড়া চারাগাছের মতো মাথা ঝুকালো টেবিলের উপর। কষ্ট হচ্ছে, ভীষণ! সে এসেই কি সোভামের বিপদ বাড়িয়ে দিলো? যদি নাও হয়, তবুও তো তার ভাই সেটাই বিশ্বাস করে। নিজেকে বড্ড ছোটো মনে হলো স্পর্শীর। সিদ্ধান্ত নিলো সকালেই চলে যাবে ঢাকায়। সোভাম হাটতে পারে। এক হাত দিয়ে রান্না টা করে ফেলবে কষ্ট হলেও। শুধু শুধু এখানে থেকে বিপদ বাড়ানোর প্রশ্নই আসে না।
সকালে ঘুম ভাঙতে ভাঙতে প্রায় আট’টা বেজে গেলো। স্পর্শী তাড়াহুড়ো করে পাক্কা গৃহিনীর মতো সকাল এবং দুপুরের রান্না শেষ করলো। পুরো ঘর মুছে, গুছিয়ে এরপর গেলো গোসলে। সোভাম এখনো ঘুমায়। গোসল শেষে খাবার বেড়ে স্পর্শীয়া ব্যাগ গোছালো। সদ্য ঘুম ভাঙা চোখে তা দেখে চমকালো সোভাম। কিছু বলার প্রয়াস করতেই মনে পড়লো রাতের কথা। মুহুর্তে’ই নিজেকে সামলে চুপ করে বসে রইলো। স্পর্শীয়া যদি রেগে চলে যায়, তাও সেটা মঙ্গল। একবার ঢাকা যাক, তারপর সব অভিমান ভেঙে ফেলতে সময় লাগবে না।
সোভাম গম্ভীর মুখে ফ্রেশ হয়ে এলো। চুপচাপ ভাত খেয়ে দু হাজার টাকা বের করলো। স্পর্শীর দিকে বাড়িয়ে ক্ষীণ আওয়াজে বললো,
– ভাড়া!
স্পর্শী নিলো না। তার খাওয়াও প্রায় শেষ। এঁটো প্লেট গুলো গোছাতে গোছাতে বললো,
– লাগবে না। আমার কাছে আছে।
ঠোঁট চেপে অগোচরে হাসলো সোভাম। এটাই প্রথম আশ্চর্যের ঘটনা – যেখানে টাকা নিয়ে সাধার পরেও স্পর্শীয়া সরদার তা ফিরিয়ে দিয়েছে। এরপূর্বে তো পঞ্চাশ টাকা হলেও ছোঁ মেরে নিয়ে দৌড় লাগাতো। দ্বিতীয় বার আর সাধলো না সে। হেলান দিয়ে বসলো বিছানায়। একটু পর সে নিজেই চড়ুই কে নিয়ে যাবে কাউন্টারে। তখন না হয় টিকিট কেটে দিবে।
– আজ আর রান্না করতে হবে না। আমি করে দিয়ে গেছি। বাজার অল্পস্বল্প আছে। বাকিটা এনে কষ্ট করে রান্না করে নিস।
স্পর্শীর গুরুগম্ভীর কথায় সোভাম মাথা নাড়ালো শুধু। ভাইয়ের এহেন নিরবতায় দাঁত- মুখ খিঁচিয়ে বসে রইলো সে। ইচ্ছে করলো এঁটো থালাটা কপালে ছুঁড়ে মারতে। কিন্তু পারলো না। তাহলে এই অসহ্যকর সরদারের বাচ্চাটাকে আরো কয়েক দিন সহ্য করতে হবে।
ফোন বাজছে থেমে থেমে। স্পর্শী দ্রুত হাত মুখে কল রিসিভড করলো। পাভেল শিকদারের কল। এই মুহুর্তে কথা বলতে ইচ্ছে না করলেও কিছু চিন্তা করে ফোনটা তুললো স্পর্শী। ওপাশ থেকে কোনো প্রকার ভণিতা না করে সিরিয়াস কন্ঠে পাভেল বললো,
– নিচে আয়, কথা আছে। আহসান ভবনের সামনে আছি আমি।
স্পর্শীয়া কিঞ্চিৎ চমকালো। ব্যস্ত পায়ে বের হওয়ার জন্য পা বাড়াতেই সোভাম বলে উঠলো,
– ব্যাগ নিবি না?
দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে পড়লো স্পর্শী। চোখ রাঙিয়ে পিছনে ফিরে বললো,
– পড়ে এসে নিচ্ছি। তোর বাসায় থাকার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই। নিচে পাভেল দাঁড়িয়ে আছে। কথা বলে আসছি।
সোভাম বাঁধা দিলো। চিন্তিত কন্ঠে বললো,
– ওই ছেলের সাথে তোর এতো কিসের কথা! আমি চাই না আর কোনো ঝামেলা হোক, চড়ুই।
– ভাইয়া, ওই ছেলের জন্যই ঝামেলা অনেক কমেছে। নাহলে আমি এখনো জেলে বসে থাকতাম। তাছাড়া ওর সাথে অনেক বছরের পরিচয় আমার। কি বলে শুনে আসছি…
কাল রাতে কি হয়েছিলো?
পাভেলের কন্ঠে স্পষ্ট উৎকন্ঠা। চোখে চিন্তার আভাস। স্পর্শী বুঝে উঠতে পারলো না। আনমনা হয়ে বললো,
– তুই কিভাবে জানলি?
– ভাইয়া বলেছে। আসলে হয়েছিলো টা কি?
গতরাতের বিশ্রী কান্ড গুলো আবারো ভেসে উঠলো মানসপটে। এসব সহ্য করার মতো নয়। ঘৃণা জাগ্রত হয় অমানুষ গুলোর প্রতি। সেসব ভেবে মলিন কন্ঠে শুধালো,
– জানিনা কি হচ্ছিলো! হুট করে সাড়ে এগারোটার সময় বাড়িওয়ালাকে নিয়ে কতগুলো ছেলে ঢুকলো ফ্লাটে। বললো শিকদার ক্লাব থেকে এসেছে। আমাকে আর ভাইয়াকে জড়িয়ে বিশ্রী কথা, ঘটনা ইঙ্গিত করলো। বললো, আমরা যে ভাই-বোন তার প্রমাণ কি?
হতবাক হয়ে চেয়ে রইলো পাভেল। ব্যতিব্যস্ত হয়ে স্পর্শীর ভুল ভাঙানোর উদ্দেশ্যে বললো,
– বিশ্বাস কর চড়ুই, ওরা ভাইয়ার ক্লাবের ছেলে ছিলো না। ভাই ওদের কেনো পাঠাবে? তোরা যে ভাই-বোন তাতো জানে ও। তাছাড়া যখন তোদের বিল্ডিং এ ছেলেপেলে দেখেছে, উলটো বিপদের আশংকা করে ভাইয়াই পুলিশ ডেকেছে।
স্পর্শী অবাক হতে গিয়েও ভুলে গেলো। তাকিয়ে রইলো পলকহীন ভাবে। ঝরঝরে কন্ঠে প্রশ্ন করলো,
– তোর ভাইয়া পুলিশ ডেকেছিলো?
মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো পাভেল। বললো,
– হ্যাঁ, যেহেতু শুরু থেকেই তোদের দু- ভাই বোনের সাথে ভাইয়ার ঝামেলা, তাই কোনো ক্ষতি হলেও সেটা তার উপর চাপাবে। নির্বাচন কালীন নানাজন, নানাভাবে ছোটো করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এমনটা যেনো না হয়, সেজন্যই দ্রুত পুলিশ ডেকেছে। আর তাছাড়া তোর ভাইকেও ওইদিন ইচ্ছে করে মারে নি। ও তো ছিলোই না ওখানে। তুই আসলে কিছু জানিস না বলেই ভুল বুঝে হামলা করেছিস ভাইয়ার উপর। সোভাম ভাইকে মারার আগের দিন সরদারের লোকেরা আমাদের ক্লাবের সামনে উচ্চস্বরে বক্স বাজাচ্ছিলো খামখেয়ালি করে। পরে একটা লোক গিয়ে সাউন্ড কমাতে বলায় ওকে ইচ্ছে মতো মেরেছে — কারন ও ভাইয়াকে সাপোর্ট করতো বলে। যখন এতো ঝামেলা করার পরেও ভাইয়াকে জড়াতে পারেনি তখন প্রবীণ কে দিয়ে সবার সামনে ভাইয়ার পোস্টার ছিঁড়েছে, পা দিয়ে পিঁশেছে, ময়লা ছুঁড়েছে — এর কারনে রেগে গিয়ে সুজন ভাইরা ওর পা ভেঙেছে। মাঝখানে কোনো কিছু না বুঝেই তোর ভাই সুজন ভাইয়ের মাথা ফাঁটিয়ে দিলো। এমনিতেই তখন সে সরদার বাড়ি থেকে আসছিলো। তাই সরদারের দলের লোক ভেবে ওকেও মারছে। তুই কি বুঝতে পেরেছিস?
স্পর্শী মন্ত্রমুগ্ধের মতো মাথা নাড়ালো। তাচ্ছিল্য করে বললো,
– বাহ! কি এলাকা তোদের। সাউন্ড কমাতে বললে পেটায়, পোস্টার ছিড়লে পেটায় — মাঝখানে ফাসলো আমার ভাই। কাল রাতের ওরাও নাকি সরদার দের লোক ছিলো।
পাভেল রেগে গেলো। গিজগিজ করতে করতে বললো,
– কতটা হারামি ভাবা যায়! বুড়োটা মরবে কবে?
স্পর্শীর বুক টা ধক্ করে উঠলো। এর কারন সে জানে না, জানার চেষ্টাও করলো না। বসে রইলো নির্জীব হয়ে। কিছুটা পক্ষ নিয়ে বলে উঠলো,
– কাল রাতে গেছিলাম আমরা। ভাইয়া অনেক অপমান করেছে। কিন্তু ওনাকে দেখে মনে হলো কিছুই জানে না। হতেই তো পারে তাকে না জানিয়েই এমনটা করেছে…….
চোখ গুলো ছোটো ছোটো করে তাকালো পাভেল। এতোক্ষণ ধরে বুঝিয়ে বলেছে সে, কোথায় তার ভাইয়ের প্রতি নরম-কোমল হবে — তা না উলটো সাফাই গাইছে ওই শামসুল সরদারের। আহাম্মক মেয়ে! রেগে মেগে উঠে দাঁড়াতেই স্পর্শী পুণরায় কথা বলে উঠলো। নরম, সভ্য কন্ঠে বললো,
– তোর ভাই কালকে পুলিশ না পাঠালে হয়তো ঘটনা টা আরো বিশ্রী হতো। সাইরেন শুনেই তো চলে গেলো ওরা। নাহলে….! তোর ভাই ততটাও খারাপ না। এই উপকারের জন্য আমি কৃতজ্ঞ!
ত্যাঁড়া কন্ঠে পাভেল ব্যঙ্গ করলো। বললো,
– তো ছুরি মারতে যখন সরাসরি যেতে পেরেছিস, কৃতজ্ঞতা টুকুও ক্লাবে গিয়ে জানিয়ে আয়। এতে তোর ভাইয়ের ই মঙ্গল। ভাইয়ার সাথে ঝামেলা টা মিটিয়ে নিলে অন্তত দলের কেউ আর রেগে থাকবে তোর ভাইয়ের প্রতি। এমনিতেও সে তো এখন থেকে পিরোজপুরেই থাকবে। রাজনৈতিক নেতাদের সাথে গোঁ ধরে টিকতে পারবে না।
স্পর্শীর টনক নড়লো। মন্দ বলে নি পাভেল। যাওয়ার পূর্বে আর কিছু না পারলেও রাজনৈতিক কুট-কাছাল থেকে ভাইটাকে মুক্ত করে যেতেই পারে সে। এজন্য যদি যে-চে পড়ে গিয়েও সখ্যতা বাড়াতে হয়, তবুও গায়ে লাগাবে না স্পর্শী। ভেবেই অগ্রসর হলো পাভেলের সামনে। ক্লাবের সামনে পৌঁছাতেই দাঁড়িয়ে পড়লো । পাভেল একা ঢুকলো ভেতরে। ভাইয়ের থেকে অনুমতি না নিয়ে স্পর্শীকে নিয়ে ঢুকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। যদি রেগে যায়। সে চায় না আবারো কোনো ঝামেলা হোক। ধীর পায়ে হেঁটে ভাইয়ের সামনে গিয়ে চোরামুখে দাঁড়ালো। পরশ এক পলক তাকালো। বললো,
– কিছু বলবি?
– ভাইয়া, চড়ুই এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজেই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা স্পর্শীকে দেখে নিয়েছে পরশ। সে কারনেই অবাক হলো না। ভাবলেশহীন ভাবে বললো,
– কেনো?
– ও তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাইছে।
– সময় নেই, ব্যস্ত আছি।
পরশের কন্ঠ ঝরঝরে। যেনো এই বাউন্ডুলে মেয়ের কথা শুনতেই বিরক্ত। পাভেল ভাইয়ের মেজাজ বুঝলো। কোনো টু শব্দ না করেই চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। এরইমধ্যে ভেতরে প্রবেশ করলো স্পর্শী। তাকে দেখে শীতল চাহনিতে পাভেলের দিকে তাকালো পরশ। গম্ভীর কন্ঠে বললো,
– আমি বলেছি না ব্যস্ত আছি!
পাভেল উত্তর দিলো না। তার পরিবর্তে চেয়ারে বসতে বসতে স্পর্শীয়া বললো,
– মাত্র পাঁচ মিনিট কথা বলবো। আশা করছি এতে খুব বেশি সমস্যা হবে না।
সেদিনের পর স্পর্শীর মুখটা দেখলেই পরশের মাথা গরম হয়ে যায়। পায়ের তালু জ্বলতে থাকে রাগে। এই মেয়ে সকলের সামনে তার কলার ধরেছে। হাতে ছুরি ঢোকানোর চেয়েও বিষাক্ত ঘটনা ছিলো এটা। সে বিরক্ত হয়ে পাভেলের দিকে তাকালো। কিন্তু ইতোমধ্যে ছেলেটা বেরিয়ে গেছে ক্লাবের বাইরে। বাধ্য হয়ে ফোন বের করলো। চেয়ারে হেলান দিয়ে সামনে দাঁড়ানো মেয়েটাকে সম্পুর্ন অবজ্ঞা করে বললো,
– কি চাই?
পরশের কন্ঠস্বর গম্ভীর। তুমুল বর্ষায় আকাশের সব থেকে ভারী কালো মেঘটার মতো গর্জন হলো।স্পর্শীয়ার কিঞ্চিৎ অসস্তি লাগলো। বিরক্ত ও হলো বেশ। তবে এর থেকেও জরুরি কৃতজ্ঞতা জানানো। সে তো আর পরশ শিকদারের মতো অকৃতজ্ঞ নয়। সহজ-সরল মুখভঙ্গি নিয়ে ঝরঝরে গলায় জানালো,
– নিজেকে এতোটা ইমপর্ট্যান্ট ভাবার কিচ্ছু নেই। যে-চে যখন এসেছি নিশ্চয়ই কারন আছে। অন্ততপক্ষে আপনার এই অশুভ মুখ টা তো আর দেখতে আসি নি। এসেছি কৃতজ্ঞতা জানাতে। তবে ভাববেন না আমার ভাইকে মারার কথা ভুলে গেছি। যতই ব্যাপারটা পরিস্থিতি অনুযায়ী হয়ে থাক, কিন্তু মেরেছেন তো! সে যাই হোক, কাল রাতের সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার মতো অকৃতজ্ঞ নই বলেই স্বেচ্ছায় এসেছি।
পরশ ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো। কপাল উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“অকৃতজ্ঞ! তা তুমি আমার কি এমন উপকার করেছিলে, যার জন্য এখনো কৃতজ্ঞতা জানানো হয়নি।
চিন্তায় পড়ে গেলো স্পর্শী। ভাবতে লাগলো উপকারের কথা।অনেকক্ষণ ভেবে-চিন্তেও কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো কোনো উপকারের কথা খুঁজে পেলো না। তবে এই যে শত্রুতা ভুলে সে নিজে শিকদার ক্লাবে ঢুকেছে, এটাই তো পরশ শিকদারের কাছে অন্যতম এক সুখময়, শুভ ঘটনা। কিন্তু সে কি তা বুঝতে পারছে না? স্পর্শী মুখশ্রী থমথমে করলো। খানিকটা ধমকের সুরে বললো,
-অবান্তর প্রশ্ন! একজন রাজনৈতিক নেতার কথায় কথায় জবাব দেওয়া অযাচিত। ঘন্টায় একটা কথা বলবেন।
পরশ ক্রোধের চোখে তাকালো। বললো,
– কথা শেষ হলে বের হও।
আবারো অপমান! ক্ষুদ্ধ পায়ে উঠে দাঁড়ালো স্পর্শী। রুষ্ট হয়ে বললো,
– আপনার কাছে থাকতে আসিনি আমি। অদ্ভুত নাক উঁচু স্বভাবের লোক! শুনুন, আপনাদের এই রাজনৈতিক ফ্যাঁসাদে আমার শান্তিপ্রিয় ভাইটাকে ফাঁসাবেন না। যতটুকু হয়েছে, এ পর্যন্তই। নিজের দলের পালা সন্ত্রাসী গুলোকে বলে দেবেন — আমার ভাই থেকে একশো হাত দূরে থাকতে।
শিকদার ক্লাব থেকে বেরিয়ে বাসায় যাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গেলো স্পর্শীয়া। ভুলে গেলো অপেক্ষারত, চিন্তায় জর্জরিত ভাইয়ের কথা। তার এখন একটাই ধ্যান এবং জ্ঞান। ঢাকায় যাওয়ার পূর্বে আরেকবার শামসুল সরদারের নিকট যেতে হবে। গত রাতে যে হাঙ্গামা হয়েছে, তাতে সোভামের প্রতি যে শামসুল সরদারের ক্ষোভ বেড়েছে তা স্পষ্ট। পরবর্তীতে এই ক্ষোভের রেশ ধরে যে আবারো কোনো ঝামেলা হবে না, তার নিশ্চয়তা নেই। ঢাকায় যাওয়ার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে তবেই গাড়িতে উঠবে স্পর্শী। কিন্তু এই এগারোটার সময় সরদার বাড়িতে যাওয়া কি ঠিক হবে? হলেও গত রাতের ঘটনার পর তাকে ঢুকতে দেবে ভেতরে। ভেবে পেলো না স্পর্শী। তৎক্ষণাৎ মনে পড়লো ক্লাব ঘরের কথা। শিকদার দের মতো সরদারদের ও নিশ্চিত কোনো রাজনৈতিক অফিস থাকবে, যেখানে দিনের অধিকাংশ সময় রাজনৈতিক আলাপে ব্যস্ত থাকে দলের লোকেরা। স্পর্শী খুঁজতে লাগলো। কয়েক জনকে জিজ্ঞেস করার পর পৌঁছেও গেলো।
তবে শিকদারদের অফিসে ঢুকতে কোনো অসস্তি, ভয় না লাগলেও এবারে লাগছে। বাইরে দাঁড়ানো ছেলেগুলোকে অস্বাভাবিক লাগছে। তার দিকে ক্ষোভ নিয়ে তাকিয়ে আছে তারা। কিন্তু ভয় পেলে চলবে না। এই মুহুর্তে শান্ত হয়ে খোলাখুলি কথা বলতে হবে। ক্লাবের বাইরে গোল হয়ে বসে আছে একদল যুবক। তাদের মাঝে বাহারও আছে। স্পর্শীর দিকে চেয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বুলালো। সারা শরীর হিঢ়হিঢ় করে উঠলো। নিচু মস্তকে কোনো বাক্যব্যয় না করেই ভেতরে ঢুকলো। একটা ছেলের উদ্দেশ্যে বললো,
– আমি শামসুল সরদারের সাথে কথা বলতে এসেছি। উনি কি আছেন?
ছেলেটা অল্পবয়সী। ষোলো- সতেরো বছর হবে। ভোট না হলেও এ ধরণের তেজী, কিশোর বালকই বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। এরা চিন্তাহীন, ভাবনাহীন শরীরের তেজে ঝাপিয়ে পরে প্রতিপক্ষের উপর। স্পর্শীর দিকে তাকিয়ে সরল কন্ঠে বললো,
– ওই রুমে।
ছেলেটার আঙুলের ইশারা বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হলো না স্পর্শীর। ধীর পায়ে ওড়না খামচে ধরে এগিয়ে গেলো সেদিকে। শান্ত কন্ঠে ভদ্রতার সহিত বললো,
– আংকেল, একটু কথা ছিলো আপনার সাথে।
স্পর্শীয়াকে দেখতেই শামসুল মুখ সরিয়ে নিলেন। ভেতরে এসো না – কথাটুকু মনে আসলেও মুখে বলতে বাঁধা পেলেন। আবার আসতেও বললেন না। সর্বোপরি আর সময় ব্যয় করলো না স্পর্শী। নিজে থেকেই এসে বসলো চেয়ারে। মৃদু হেঁসে বলে উঠলো,
– আমি স্পর্শীয়া সরদার। নাম না চিনলেও, চেহারাটা নিশ্চয়ই ভোলেন নি।
শামসুল চমকে তাকালো। স্পর্শীয়ার কথা সম্পুর্ন ভুল। সে এই চেহারা না চিনলেও নাম চেনে। অতি প্রিয় নাম এটা। সেই নামের বিশেষত্বের কথা ভাবতেই বুক টা ধক্ করে উঠলো। ইদানীং অতীত গুলো হুট হাট জীবন্ত হয়ে যাচ্ছে। বড্ড পীড়া দায়ক। পঞ্চান্নোর্ধ, শক্তপোক্ত শামসুল ও সে যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে না। বুক ভার হয়ে আসে, শ্বাসে সমস্যা হয়।
শামসুলের কোনো উত্তর না পেয়ে স্পর্শী পুণরায় সহজ হলো। বললো,
– কাল রাতে হয়তো আপনার খারাপ লেগেছে। তবে ঠান্ডা মাথায় ভাবলে আপনার থেকেও শতগুণ আঘাত পেয়েছি আমি, আমার ভাই। শুনুন আংকেল, আমি বিশ্বাস করি কালকের ঘটনা আপনি জানেন না। আপনার অতি উৎসাহী পালা সন্ত্রাসী গুলো আমাদের বিপদে ফেলার জন্য এমন ঘৃণ্য একটা বিষয় নিয়ে টানা হেঁচড়া করেছে। কিন্তু এটার কি আসলেই কোনো প্রয়োজন ছিলো। আপনারা রাজনৈতিক দুই প্রতিপক্ষ। অথচ নিজেদের সুবিধার জন্য আমার ভাই টাকে বিপদে ফেললেন। পনেরো দিন ও হয় নি ও এসেছে এখানে। অথচ পিরোজপুর সম্পর্কে ঘৃণা জমে গেলো ভেতরে।
থেমে মলিন হেসে আবারো বললো,
– আংকেল, ভাইয়া এখানে রাজনীতি নয় শিক্ষকতা করতে এসেছে। ওকে প্লিজ এসবের মধ্যে জড়াবেন না। আমি আপনাকে সম্মান করি। বিশেষ করে আপনার নামটাকে। আশ্চর্যের বিষয় আমার বাবার নামও শামসুল সরদার। কিন্তু তিনি মারা গেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমার বাবার নামের লোকেরা এতো জঘন্য হতে পারে না। আশা করছি, আমার ভরসা টা রাখবেন। আপনার দলের ছেলেদেরকে আমার ভাইয়ের থেকে দূরে থাকতে বলবেন। আসছি।
শামসুল ক্রমশ অধৈর্য্য হয়ে উঠলো। মাথাটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। সারা শরীর অস্বাভাবিক মাত্রায় ঘামছে। অদ্ভুত অনুভূতিতে সারা শরীর জ্বলে উঠছে। এটা কেমন সাদৃশ্য! প্রথমে সোভাম সরদার নাম, এরপরে স্পর্শীয়া সরদার…. এখন আবার শামসুল সরদার — এতো পরিচিত নামগুলো নিতে অস্বীকার করছে মস্তিষ্ক। কন্ঠ রোধ হয়ে আসছে। অতি কষ্টে এক হাত উঁচিয়ে নাড়িয়ে বললো,
– একটু বসো, আরেকটু বসো।
স্পর্শীয়া সামনের চেয়ারে বসে থাকা ছটফট করা শামসুলের দিকে অবাক নয়নে তাকালো। তার মাথা হেলিয়ে পড়েছে চেয়ারে। ঠোঁট নড়লেও কথা অস্পষ্ট বের হচ্ছে। অস্বাভাবিক মাত্রায় ঘামছেন তিনি। সে দ্রুত চেয়ার ছেড়ে উঠলো। শামসুল সরদারের পাশে দাঁড়িয়ে উৎকন্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
– আপনি ঠিক আছেন? কি হয়েছে, শরীর খারাপ লাগছে?
স্পর্শীর চিন্তিত কন্ঠের আওয়াজে ভেতরে এলো কয়েকজন ছেলে। শামসুল সরদারের এমন করুন দশা থেকে শোরগোল পড়ে গেলো। দ্রুত পানি এবং ডাক্তার আনতে ছুটলো কেউ কেউ। কেউ আবার বাতাস করতে লাগলো অনবরত। শামসুল সরদারের হাই প্রেশার। হুটহাট অসহ্য গরমেও তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অস্পষ্ট কন্ঠে স্পর্শীর দিকে তাকিয়ে বিরবির করছেন শামসুল। তা শোনার জন্য কান পাতলো আরেকটু কাছে। চিন্তিত হয়ে বললো,
– আপনি কি বলছেন আমি তা বুঝতে পারছি না।
– তোমার মায়ের নাম পিপাসা?
অস্পষ্ট হলেও বোঝা গেলো শব্দগুলো। স্পর্শী মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো। সম্মতি দেখে পূর্বের চেয়েও ছটফট করতে লাগলেন শামসুল। চোখ বুঝে যাচ্ছে প্রায়। খপ করে হাত বাড়িয়ে ধরে ফেললো স্পর্শীর হাত। আরো বলতে লাগলো অনেক কিছু। তবে বোঝা গেলো না। ছুটে এলেন খলিলুর সরদার। বড় ভাইয়ের অবস্থা দেখে তিনি খুব একটা ঘাবড়ালেন না। এমনটা মাঝেমধ্যেই হয়। একটু ফাঁকা, নিরিবিলি শান্ত স্থান ফেলে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়। ভাইকে ধরে শান্ত কন্ঠে বললেন,
– এইতো ভাইজান, ডাক্তার আসছে। আপনি শোবেন, চলেন।
বাঁধা দিলো স্পর্শী। অস্থির হয়ে ছেলেগুলোর উদ্দেশ্যে বললো,
– ডাক্তার আসবে মানে কি? উনি তো অনেক অসুস্থ। নিয়ে যেতে হবে ডাক্তারের কাছে।
– তুমি ছাড়ো, এই ভাবে ঝাপটে ধরলে ভাইজানের কষ্ট হয় বেশি।
খলিলুর সরদারের কথায় স্পর্শী হাত ছাড়াতে চাইলো। তবে সে তো ধরেই নি। ঝাপটে ধরেছে শামসুল সরদার। খলিলের ধমক তিনি শুনেছেন। বলার চেষ্টাও করেছেন অনেক কিছু। কিন্তু বোঝা গেলো না। চেয়ার ছেড়ে ঢলে পড়ার পূর্বে স্পর্শীয়ার হাত জড়িয়ে ধরেছেন আষ্টেপৃষ্টে। ছোটোভাইয়ের উদ্দেশ্যে অস্পষ্ট গলায় বলেছেন,
– ছাড়িস না ওকে। ও যেনো আমায় ছেড়ে না যায়।
উদভ্রান্তের মতো ছুটছে সোভাম। এলোমেলো পায়ে অসুস্থ, ক্লান্ত শরীর টাকে নিয়ে থানা, হাট-বাজার সব খানে চষে বেরিয়েছে। কোথাও নেই স্পর্শীয়া। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত আট টায় পৌছেছে। সারাটা দিন খুঁজতে খুঁজতে দিশা হারিয়ে রাস্তায় বসে পড়লো সোভাম। স্পর্শীর ফোন টা সকালে ঘরে রেখেই বেরিয়েছে। বলেছিলো বাসার নিচেই পাভেলের সাথে কথা শেষ করে ফিরে আসবে। অথচ আসে নি। একে একে পাভেল, পরশ, সরদার বাড়ি — সকলের কাছে গেলেও খোঁজ পায় নি তার। পাভেল নিজেও দিশেহারার মতো ছুটছে। খানিকক্ষণ পর পর ফোন দিচ্ছে সোভামের নিকট। আদৌ খোঁজ পেয়েছে কি-না তা জানতে। সরাসরি প্রকাশ না করলেও পরশ নিজেও চিন্তিত। সকালে তার ক্লাবে আসার পরপর’ই মেয়েটা বেপাত্তা। বাহারের লোকেরা কি কেউ কিছু করেছে? এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। জেদের বশে তুলে নিলেও নিতে পারে। আর এমনটা হলে হয়তো আগামীকালের মধ্যেই কোনো ঝোঁপঝাড়ে পাওয়া যাবে ক্ষত-বিক্ষত লাশ। এতোসব নেতিবাচক ভাবনার মধ্যেও লোক লাগিয়েছে সে। অবশেষে জানা গেলো স্পর্শীর উপস্থিতি। এখান থেকে বেরিয়ে সরদারদের অফিসে গিয়েছিলো সে। ক্লাবের কোনায় থাকা চা ওয়ালা নিশ্চিত করেছে। তবে সেখান থেকে মেয়েটাকে আর বের হতে দেখেনি। এতোটুকু জানার পর চুপ রইলো পরশ। এখানে তার কিছু করার নেই। যা হওয়ার ক্লাবের মধ্যে বসেই হয়েছে। পাকনামো করে কে যেতে বলেছে?
সোভাম হতভম্ব হয়ে বসে রইলো। চিন্তায় মাথা ফেঁটে যাচ্ছে। একে তো বাবা নামক পাষাণ লোকটা স্ট্রোক করে বরিশালে ভর্তি। না চাইতেও তাকে দেখার জন্য, তার অবস্থা জানার জন্য প্রাণ ছটফট করছে। অপর দিকে স্পর্শী বেপাত্তা। তার হদিস নেই কোনো। সরদার বাড়িতে কয়েকবার ছুটেও লাভ হয় নি। গেটে তালা মারা। হয়তো অসুস্থ লোকটাকে নিয়ে ছুটেছে সবাই।
নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হলো সোভামের। কার কাছে যাবে সাহায্য চাইতে। বাবা নামক পাষাণ হৃদয়ের মানুষ টা থাকলেও হয়তো আজ পরিচয় দিতো। সর্বোচ্চ ঘৃণা ছুড়ে বলতো,
– কতটা জঘন্য জন্মদাতা তুমি, তোমায় ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত টা আমার মায়ের ভুল ছিলো না। আমার বোনকে ফিরিয়ে দাও, ও তোমারই মেয়ে। ওর গায়ে টোকা লাগতেও দিও না।
কিন্তু তা পারছে না সোভাম। নেই সেই লোক। সে নিজেই মৃত্যুর সাথে লড়ছে। ক্লাব, বাড়ি সব কিছুতে তালা লাগানো। পুলিশ ও কিছু জানাচ্ছেনা। দিশেহারা হয়ে মাকে ফোন দেওয়ার জন্য মোবাইল বের করলো সোভাম। এরই মধ্যে ব্যস্ত পায়ে ছুটে এলো পাভেল। হতদন্ত হয়ে সোভামের নিকট এসে দাঁড়িয়ে বললো,
– আপনি এখানে! কল কেনো ধরছিলেন না। চড়ুই এর খোঁজ পেয়েছি। শামসুল সরদারের এম্বুলেন্সে দেখা গেছিলো শেষবার। আমার মনে হচ্ছে ও বরিশালেই আছে।
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৪
ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে রইলো সোভাম। বিশ্বাস হতে কষ্ট হচ্ছিলো পুরোটা। এতোক্ষণের দুশ্চিন্তা ধীরে ধীরে রাগে রুপান্তর হচ্ছে। সারাদিনের ছোটাছুটি, কষ্ট, অসহায়তার পর রাত সাড়ে আটটার সময় এমন খবর পেয়ে রাগে সারা শরীর জ্বলে উঠলো। আক্রোশে ফেটে পড়লো মেজাজ। স্পর্শীয়া যদি এমনটা করেই থাকে, তাহলে ক্ষমা করবে না তাকে। কেঁটে আট ভাগ করবে।
