রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৬
সিমরান মিমি
বিদ্যুতের কৃত্রিম আলোয় গোটা রাজধানী ঝলমল করলেও অমাবস্যার ঘুটঘুটে আলোয় ছেয়ে গেছে সোভামের কক্ষ। খাটের বাঁ দিকের জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই হু হু করে প্রবেশ করছে ঠান্ডা হাওয়া। সাথে বাঁ দিকের বিলাসবহুল ফ্লাটে জ্বালানো আলোর খানিক ছটা এ কক্ষেও ঢুকে পড়েছে অনুমতি বিহীন। স্পর্শীয়া উদাস ভঙ্গিতে টেবিলের উপর থুতনি লুটিয়ে তাকিয়ে আছে অন্ধকারে। লম্বা কেশগুচ্ছ খোলা। বাঁধন হীণ স্বাধীনতার স্বাদ পেতে দুপাশে লুটিয়ে পড়েছে তারা। টেবিল টা সোভামের, সেই সাথে রুম টাও। দু কামড়ার ফ্লাট হওয়ায় স্পর্শীয়া কখনো নিজের জন্য আলাদা ঘর চাওয়ার সাহস করে ওঠেনি। বরং এক সময় সোভাম নিজেই বলেছিলো, ‘তুই আমার রুমে চলে আয়। মা তার রুমে থাকুক। আর আমি নাহয় সেমি ডাবল খাট পেতে নেবো ড্রয়িংরুমে।’
একটা আলাদা ঘরের শখ কার না আছে? স্পর্শীর ও ছিলো। কিন্তু তাই বলে ভাইকে ড্রয়িং রুমে রেখে সে নিজের শখ মেটাবে? অসম্ভব! এমনি এমনি বাঁধা দিলে কখনোই মানতো না সোভাম। শেষে কায়দা করে বলেছে, ‘আমার একা থাকতে ভালো লাগে ঠিকই, কিন্তু রাতে ঘুমাতে গেলে মাঝরাতে ভয় হয়। আমি মার কাছেই ঘুমাবো।‘
অথচ আজ দেখো, সকালে ঘর ছাড়তে না ছাড়তেই স্পর্শীয়া চলে এসেছে ভাইয়ের ঘরে। দখল করেছে সব কিছু। মন টা বেজায় খারাপ। যদিও প্রতি দু ঘন্টা পর পর মায়ের সাথে কলে কথা বলছে সোভাম। কিন্তু স্পর্শীয়া বলছে না। ফোনে কথা বলে কি লাভ? ফোনে কি ভাইয়ের গন্ধ পাওয়া যায়, মারামারি করা যায়, একে অপরকে টিপ্পনী কেটে নিজের কাজ করিয়ে নিতে বাধ্য করা যায়? যায় না তো। তাহলে শুধু শুধু ঐ দু এক মিনিট কথা বলে মন খারাপ করার মানে আছে?
– এতো দেরী কেনো হলো?
শেষ বিকেলের রোদে অস্থির হয়ে ঘেমে- নেয়ে একাকার স্পর্শী। টেবিলের এক কোনায় বসতেই পাভেল প্রশ্নটা ছুড়ে মারলো। মুখ তেতো হয়ে গেলো স্পর্শীর। সাভারের এই বিশ্ববিখ্যাত জ্যামের কথা জানার পরেও কোন সাহসে পাভেল তার কাছে কৈফিয়ত চাইছে? ইচ্ছে করলো রেগে বেরিয়ে যেতে। কিন্তু সেটা করলে তারই লস। এতোটা দুর যেহেতু এসেছে কাচ্চি খেয়েই বের হবে। যদিও পাভেল বলেছিলো, রেডিও কলোনিতে থেকে তাকে নিয়ে যাবে। কিন্তু তা আর হয় নি। স্পর্শী নিজেই বলেছিলো, সে চলে যাবে। দাঁড়িয়ে থাকে না যেনো।
‘কত টাকা পাঠিয়েছে?
– দশ হাজার। সেটাও খরচ সহ।
স্পর্শী ভ্রু দুটো কুচকে পাভেলের হাতের দিকে তাকালো। সে কথা বলতে বলতে টাকাটাও বের করে দেখাচ্ছে। নোটের দিকে চেয়ে পুণরায় বলে উঠলো,
– হাত পা ধরে মাফ চেয়েছিলি নাকি? হুট করে টাকা কেনো দিলো?
দুপাশে মাথা নাড়িয়ে জিভ কাটলো পাভেল। লজ্জালু হেসে বললো,
– আরে না না। ভাইয়া নিজে থেকেই দিয়েছি। ও তো শুধু উপরে উপরে একটু কঠোরতা দেখায়।
কথা বলার এক পর্যায়ে পাভেলের হাত থেকে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিলো স্পর্শী। ধীরে সুস্থে সেগুলো গুণে পাঁচ হাজার টাকা আলাদা করে নিজের ব্যাগে ঢুকালো। বাকি চার হাজার তিনশো টাকা পাভেলের হাতে দিয়ে বললো,
– পাঠাতে পারলোনা, এর মধ্যেই সাতশো টাকা শেষ? খেয়েছিস তো শুধু দুপুরের খাবার। বাকি টাকা কোথায়? নাকি খাবারের সাথে কাগজের নোট টাও গিলেছিস।
– মামার কাছ থেকে বাকি নিয়েছিলাম, ওটাই দিয়েছি।
মাথা নাড়িয়ে মনযোগ দিয়ে শুনলো স্পর্শী। নড়ে নড়ে বসে হালকা কাশি দিয়ে গলা পরিস্কার করলো। বললো,
—শোনো পাভেল শিকদার, কাচ্চি খাও আর পান্তা খাও – আগামী দশ দিন এই চার হাজার টাকা দিয়েই চলতে হবে। বাকি পাঁচ হাজার ঠিক দশ দিন পর পাবি।
হতভম্ব হয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো পাভেল। অবাক চিত্তে বললো,
– কিহ! মানে এসব কেনো?
– কেনো টেনো কিচ্ছু বুঝি না। শুধু এটুকুই বুঝি, দশ দিন হওয়ার আগে তুই না খেয়ে মরে গেলেও স্পর্শী টাকা দেবে না। এ নিয়ে কিছু শুনতে চাই না।
ওয়েটার খাবার নিয়ে চলে এলো। পাভেল মুচকি হেসে নিরব রইলো। হুটহাট এই মিষ্টি শাসন গুলো তার বেশ লাগে। খাওয়া শেষে বিল দিতে গেলেই স্পর্শী বাঁধ সাধলো। অর্ধেক টাকা পাভেলের হাতে ধরিয়ে চোখ রাঙিয়ে বেরিয়ে এলো বাইরে।
স্পর্শীয়ার চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এলো ধীরে ধীরে। হাত দিয়ে পানি টুকু মুছতেই নজর পড়লো টাকার দিকে। হ্যাঁ, এটাই পাভেলের টাকা। রুমে নিজের জিনিসপত্র আনার সময় ব্যাগ টা পরিস্কার করতে গিয়ে টাকাটা সোভাম ভাইয়ের টেবিলের উপর রেখেছিলো।
নাহ! ও পাশের ফ্লাটের আলো টা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসছে। অন্ধকারে মশার উৎপাত ও বেড়েছে। এভাবে ভাইয়ের শোকে মশার কামড় খাওয়া উচিত না। কই, তার ভাই কি বোনের শোকে বসে আছে? সেই তো নতুন জায়গায় নতুন নতুন সুন্দরী মেয়ে দেখে চিত্ত শান্ত করবে।
স্পর্শীয়া আবছা আলোয় গুটি গুটি পায়ে সুইচ বোর্ডের দিকে গেলো। রুমের লাইট জ্বালাতেই চোখে পড়লো রুমের বেহাল দশা। জামাকাপড়ে স্তুপ পড়ে গেছে খাটের উপরে। যেনো নিউমার্কেটে কাপড় বেচতে নেমেছে স্পর্শী। এগুলো ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখার চিন্তা মাথায় আসতেই মাথা ঘুরে গেলো। ঠোঁট বাকিয়ে শুয়ে পড়লো সেই জামা কাপড়ের উপরেই। ফোন হাতে নিয়ে অনেক ক্ষণ চাপলো। কিন্তু কিছুতেই মন ভালো হচ্ছে না। পাভেলের কাছে কল দেওয়া প্রয়োজন। তাকে শর্তের কথা মনে করিয়ে দেওয়া উচিত।
যেমনি ভাবা, তৎক্ষণাৎ ই কাজ। কল লাগালো কাঙ্ক্ষিত নম্বরে। রিসিভড হতেই কন্ঠে গাম্ভীর্য তা ছাপিয়ে বললো,
– কাল থেকে আজ পর্যন্ত কত টাকা খরচ করেছিস? এক্ষুণি উত্তর দে।
পাভেল নিঃশব্দে হাসলো। বললো,
– উনিশ’শো শেষ। হাতে আছে মাত্র তিন হাজার। বাকি একশো এগারোটার মধ্যে সিগারেট খেতে লাগবে।
হতবাক হয়ে বসে রইলো স্পর্শী। খানিকক্ষণ পর শান্ত হয়ে ক্ষ্যাপাটে গলায় বললো,
– রাক্ষসের বাচ্চা! এতো গিলিস কেনো? তুই হলের ক্যান্টিনে খাবি। প্রতি বেলায় আশি করে গেলেও মাত্র তিনশো টাকা যায়। সাথে নাহয় ষাট টাকা সিগারেট ফুকতেই যাবে। একটু হিসেব করে তো চলবি…..
এতোসব পরামর্শ কি আর পাভেলের মাথায় ঢুকবে? সে তো এই কটু, ক্ষ্যাপাটে কন্ঠের মধ্যেও ভালোবাসা খুঁজতে ব্যস্ত। বললো,
– তু ই এমনভাবে আমায় শাসন করছিস কেনো? মনে হচ্ছে তুই আমার ঘরের বউ…… এটা হলেও কিন্তু মন্দ হয় না। চল না ছোট্ট একটা এক রুমের ফ্লাট নেই। তুই হিসেব করে লিস্ট দিবি, আমি বাজার করবো। তুই রান্না করবি, আমি খাবো। তুই রাত জেগে পড়বি, আমি তোর টা দেখে এক্সামে ভালো রেজাল্ট করবো। ব্যাপার টা জোশ না?
থমথমে হয়ে গেলো স্পর্শীর মুখ। পুরো মেজাজ টা বিগড়ে দিলো। এমনিতেই মন ভালো না, তার উপর নিত্য নতুন ইঙ্গিত। কন্ঠে কাঠিন্যতা এনে বললো,
– তুই কি চাস – আমি তোর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেই?
থেমে গেলো পাভেল। থতমত খেয়ে বললো,
– আমাকে কি তোর ভালো লাগে না? বল না, কোন ব্যাপার টা অপছন্দের।
সময় নিলো না স্পর্শী। সরাসরি বলে উঠলো,
– যদি হাসবেন্ড বা প্রেমিক হিসেবে বলিস, তাহলে তোর আগা-গোড়াই আমার অপছন্দ। আর যদি বলিস বন্ধুত্বের কথা, তাহলে তোর মতো পার্ফেক্ট কাউকে এখনো পাই নি আমি। এবারে তোর সিদ্ধান্ত জানা। যদি ভাবিস নিত্য নতুন ইঙ্গিত- ইশারা দিবি, আর আমি সেসব শুনে হাসবো। তাহলে ভুল! এখনই বলে দে, এই মুহুর্ত থেকে তোর নাম্বার থেকে শুরু করে তুইও আমার কাছে অপরিচিত হয়ে যাবি।
ভড়কে গেলো পাভেল। কি বলা উচিত তা বুঝে উঠতে পারলো না। শেষে অপ্রস্তুত হয়ে অপ্রয়োজনীয় ভাবে হাসলো। বললো,
– আরেহ, রেগে যাচ্ছিস কেনো? আমি তো মজা করছি। পৃথিবীতে মেয়ের কি অভাব, যে তোর মতো গুন্ডীর প্রেমে পড়বো?
স্পর্শী চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলালো। এরপর ধীর স্থির কন্ঠে বললো,
– তাহলে এখন রাখছি। ঘর এলোমেলো। গোছাতে হবে। আল্লাহ হাফেজ!
সারাদিন পার হয়েছে ঘর গোছাতে গোছাতে। বিরক্তিতে এখন ইচ্ছে করছে দেয়ালে মাথা ঠুকতে। একটা মাত্র রুম, সাথে বাথরুম থাকলেও রান্না ঘর নেই। বাজেট অনুযায়ী পার্ফেক্ট হওয়ায় এই বাসাটাকেই কনফার্ম করেছে। মায়ের পরামর্শে রুমের এক কোনায় জানালার পাশে টেবিল পেতেছে। নিচে সিলিন্ডার, টেবিলের এক কোনায় চুলা ও অন্য পাশে বাসন-কোসন সাজিয়ে রেখেছে। জামা- কাপড় গোছানো হয়নি এখনো। তা ব্যাগেই পড়ে আছে। কাল দেখেশুনে ছোটো-খাটো একট ওয়ারড্রব কিনতে হবে। তারপরই সস্তি। মায়ের করে দেওয়া লিস্ট অনুযায়ী টুকটাক বাজার করে এনেছে কিছুক্ষণ পূর্বেই। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ক্লান্ত হয়ে গেছে শরীর। এই ক্লান্তি নিয়ে রান্না করা সম্ভব নয়। ফলস্বরূপ বাইরে থেকেই খেয়ে এসেছে সোভাম।
নির্ঘুম রাতে তাড়া করে বেড়ানো শহর, চার বছর পর্যন্ত বেড়ে ওঠা অতি পরিচিত স্থান, জন্মভূমি, নিজের শহর পিরোজপুরকে একবার কাছ থেকে দেখার বড্ড সাধ ছিলো তার। কিন্তু মাকে কষ্ট দিয়ে সেই সাধ পূরণ করবার সাহস কখনোই জাগে নি মনে। তবে ভাগ্যে হয়তো ছিলো, যা টেনে নিয়ে এসেছে পুণরায় – এই নিষিদ্ধ জায়গায়। সারা দিনের ব্যস্ততায় শহরটা ঘুরে দেখা হয় নি। বাকি আছে দুটোদিন। এর পরেই শুরু হবে ব্যস্ততা।
ক্লাস চলছে আর্শির। খুবই গুরুত্বপূর্ণ নোটস দিচ্ছে টিচার। তিনি সাহিত্যের শিক্ষক ছিলেন। ব্যাকরণের জন্য সেভাবে টিচার না থাকায় তিনিই পড়াতেন এই বিষয়। মায়া ধরে গেছে একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণির এই স্টুডেন্টের জন্য। জানেন না কেমন টিচার আসবেন, কতটা গুরুত্বের সাথে বুঝিয়ে পড়াবেন। কিন্তু তাও মন খারাপ হচ্ছে। এই ঘন্টাতে এই ব্যাকরণ বই আর ছুয়ে দেখা হবে না। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা। সে জন্যই শিক্ষার্থীদের জন্য চিন্তিত হয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোটস তুলে দিচ্ছেন বোর্ডে। দ্বাদশ শ্রেণির পরিক্ষার্থীরাও মনোযোগ দিয়ে তা তুলছে খাতায়। কিন্তু মন নেই আর্শির। উদাস চিত্তে সে তাকিয়ে আছে জানালার দিকে। পাশেই লম্বা একটা কাঠাল গাছ। তিন তলা থেকে সেই গাছের শেষাংশ দেখা যায়। দূরে বড় বড় শীরিষ, কড়াই, মেহগনি গাছ। নীল আকাশ, তাতে উড়ছে ডানাওয়ালা স্বাধীন পাখি। আর্শিয়া সেই প্রান্তে তাকিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে রইলো। ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঘুমের ঘোরে।
জনাব আতাউর রহমান সশব্দে ডেকে উঠলেন। সে ডাক কানে পৌছাতেই স্যারের দিকে তাকালো আর্শি। নির্মল, নিশ্চিন্ত, দ্বিধাহীন চাহনি দেখে টিচার ধমকালেন। বললেন,
– সবাই নোট তুলছে, তুমি কেনো বসে আছো মাথা নিচু করে?
আর্শিয়া তার খাতার দিকে তাকায়। দু লাইন লেখা হয়েছে, অথচ স্যার এ যাবৎ দেড় পৃষ্ঠা লিখিয়েছে। এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। সাবলীল ভাবে বললো,
– ঘুম আসছে আমার।
স্যারের মুখে র উপরে বলা এমন উদ্ভট উত্তর শুনে সহপাঠী রা হেসে উঠলো। পরক্ষণেই প্রিয় স্যারের দিকে তাকিয়ে চুপ করে গেলো। আতাউর রহমান অসস্তিতে পরে পুণরায় ধমকালেন। বললেন,
– এটা কি ঘুমানোর জায়গা? বাড়িতে বসে কি করো?
– বাড়িতে গেলে তো ঘুম হয় না, স্যার!
আহা! এমন সহজ- সরল উত্তর শুনে মায়াবী মুখটার দিকে তাকিয়ে রইলেন টিচার। কি বলবেন ভেবে পেলেন না। এমপির মেয়ে বলে কথা। এই উত্তরের পরিপ্রেক্ষিতে কি জানতে চাইবেন তিনি? বাড়িতে কেনো ঘুম হয় না এটা? কিন্তু এটা তো ব্যক্তিগত প্রশ্ন। শেষে কি থেকে কি জিজ্ঞেস করেন, আর কিভাবেই বা তার পরিবার নেবে তা কে জানে? তিনি চুপ রইলেন। পুণরায় চক দিয়ে বোর্ডে দাগ কেটে বললেন,
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৫ (২)
– বোসো, যা লিখছি তা খাতায় তোলো।
কিন্তু তাকে অবজ্ঞা করলো আর্শি। বসলো না একবার ও। বেঞ্চ থেকে বের হয়ে স্যারের দিকে এলো। বললো,
– স্যার, আমার ক্লাস করতে ভালো লাগছে না। মাঠে হাঁটবো। আপনার নোটস পরে তুলে নেবো।
একথা বলে আর্শি এক মুহুর্ত ও দাঁড়ালো না। স্যারের অনুমতি নেওয়ার ও প্রয়োজন মনে করলো না। বেরিয়ে গেলো ক্লাসরুম থেকে। আতাউর রহমান অপমানিত হলেন। শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে অপ্রস্তুত হয়ে বললেন,
– মেয়েটার মানসিক সমস্যা আছে নাকি?
