রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ১৪
রিক্তা ইসলাম মায়া
বিয়ে বাড়ির হৈচৈ দেখার মতো। আত্মীয়-স্বজনরা সবাই উপস্থিত খানবাড়ির ফাংশনে। দিনটা বৃহস্পতিবার। শুক্রবারে মেজবান। পরিবারের সকলের চাওয়ায় রিদ-মায়া, আয়ন-জুইয়ের মেহেদী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। দুই জুটির আগে থেকেই বিয়ে হয়ে গেছে বলে কেউ হলুদের ফাংশন করতে চাইল না। মেহেদী আয়োজন করা হলো বাড়ির ছাদে। মেয়েরা সবাই মেহেদী রঙা শাড়ি পরেছে। ছোট-বড়, বয়স্ক-বৃদ্ধ কেউ বাদ যায়নি। সকলেই একই রঙের একই ডিজাইনের জামদানি শাড়ি পরেছে। শুধু মায়া আর জুই কনে হওয়ায় ওদের দুজনের শাড়িটা মেহেদী রঙা হলেও ডিজাইনটা ভিন্ন। সন্ধ্যা রাত। রিদ বাদে সবাই খানবাড়িতে উপস্থিত। সারাক্ষণ ‘ভাই ভাই’ করতে থাকা আসিফও খানবাড়িতে উপস্থিত। রিদের দেখা কোথাও নেই। আসিফ বাদে রিদ একা বাইরে—সেটা কল্পনা করাও মুশকিল। অথচ সেটিই হলো। আসিফ নিহাল খানের সঙ্গে। আরাফ খান; আয়ন, রাদিফ, ফাহাদ সবাইকে নিয়ে আড্ডায় বসেন। কত কী কথা বলতে ব্যস্ত আরাফ খান। সন্ধ্যায় ফেউরি লাইটের আলোয় ঝলমল করছে খানবাড়ির আঙিনা। মেয়েরা সবাই সাজুগুজুতে ব্যস্ত। সুফিয়া খান বাকি সবার মতো করেই মেহেদী রঙা জামদানি শাড়ি পরেছেন। দুহাতে দুটো সোনার বালা, গলায় সিম্পল সোনার নেকলেস। চুলগুলো খোঁপা করা। সব সময়ের মতো আজ সুফিয়া খানের খোঁপা খালি নেই। আজ খোঁপায় তাজা ফুল গুঁজে দিয়েছে মায়া। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর পরিপাটি সুফিয়া খানকে দারুণ দেখাচ্ছে। সার্ভেন্ট দিয়ে বাড়ির মেহমানদের তদারকির দায়িত্বটা সুফিয়া খান করছেন। এর ফাঁকে সুফিয়া খানের পেছনে এসে দাঁড়াল শুভা। বেশ জড়সড় আর ভয় নিয়ে ডাকল সুফিয়া খানকে…
‘আন্টি!
কাজে ব্যস্ত থাকা সুফিয়া খান পেছন ঘুরে শুভার দিকে তাকিয়ে, শুভার জড়সড় হাবভাব বুঝে তীক্ষ্ণ গলায় বললেন…
‘কোনো সমস্যা?
‘জি আন্টি।
‘কী হয়েছে?
শুভা ইতস্তত বোধ করল। খানিকটা ভয় নিয়ে বলল…
‘আন্টি, আমি বিয়ে করতে চাই না।
সুফিয়া খানের জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হয়তো একটু বিচলিত হতো শুভার কথায়। কিংবা শুভাকে নিয়ে খারাপ মনোভাব দেখাত—পাত্রের মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি ‘বিয়ে করব না’ এই কথা বলায়। অথচ সুফিয়া খানের মধ্যে বিচলিত ভাব দেখা গেল না, আর না শুভাকে খারাপ ভাবলেন। খুব স্বাভাবিকভাবে সুফিয়া খান দুহাত বুকে বেঁধে দাঁড়িয়ে বললেন…
‘কাউকে পছন্দ করো?
‘না আন্টি।
‘তাহলে কারণ কী?
সুফিয়া খানের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে শুভা আরও জড়সড় হয়ে গেল। সে এমনিতে বেশ সাহসী কিন্তু সুফিয়া খানের সামনে দাঁড়িয়ে যেন সব সাহস ফুরিয়ে যাচ্ছে। শুভা জিব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল…
‘রাদিফ ভাইয়া বলল উনাকে বিয়ে করতে হলে আমাকে পড়াশোনা ছাড়তে হবে। উনার পছন্দ না উনার বউ পড়ুক। আমি যদি উনাকে বিয়ে করি তাহলে উনি আমাকে পড়াশোনা করতে দেবেন না আন্টি। আমার বিয়ে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আপনি জানেন আমার অনেক বড় স্বপ্ন আমি পড়াশোনা করে ডাক্তার হব। পড়াশোনা ছাড়তে হলে আমি এই বিয়েটা করতে চাই না আন্টি।
শুভার কথায় সুফিয়া খান বেশ বিরক্তসহকারে আশেপাশে তাকিয়ে রাদিফের খোঁজ করলেন। রাদিফকে না পেয়ে তিনি শুভাকে শুধিয়ে বললেন…
‘তোমার পড়াশোনা নিয়ে কারও কোনো সমস্যা নেই। এমনকি রাদিফেরও না। রাদিফ নিজে একজন ডাক্তার। ও পড়াশোনার মর্ম বোঝে। ও শুধু তোমাকে ভয় দেখানোর জন্য বলেছে সে তোমাকে পড়তে দেবে না। বিশ্বাস রাখো, তোমাদের বিয়ে হলে সবচেয়ে বেশি রাদিফই তোমার পড়াশোনায় হেল্প করতে পাবে।
শুভা কনফিউজড হয়ে সুফিয়া খানের দিকে তাকিয়ে বলল…
‘কিন্তু ভাইয়া যে বলল…
শুভাকে থামিয়ে সুফিয়া খান বললেন…
‘ও মিথ্যা বলেছে। এখন যাও। ফাংশন এনজয় করো। গো!
শুভা কনফিউজড হয়ে সেখান থেকে সম্মতি জানিয়ে চলে এল। শুভার খোঁপাতেও সুফিয়া খানের খোঁপার মতো একই ফুল গোঁজা ছিল। এটা মায়া করেছে। সুফিয়া খান, শুভা, মায়া তিনজনই একই রকম ফুল খোঁপায় গুঁজেছে। শুভার সঙ্গে রাদিফের বিয়ের বিষয়টা মায়া বাংলাদেশে ফিরেই শুনেছে। তখন থেকেই মায়া শুভাকে নিজের জার মতোই ট্রিটমেন্ট করছে। সবকিছুতে শুভাকেও ভাগ দিচ্ছে। বিষয়টা সুফিয়া খান লক্ষ্য করেছেন। এতে তিনিও সন্তুষ্ট।
বেশ অনেকদিন পর রাফাকে পাওয়া গেল ভিডিও কলে। মায়া মেহেদী রঙা শাড়ি পরে বসে আছে। মায়ার রুমে জুই, টিয়া, নোহা তিনজনই রেডি হচ্ছে। ওদের সবাইকে রেডি করানোর জন্য সুফিয়া খান বেশ কিছু মেকআপ আর্টিস্ট মেয়ে আনিয়েছেন। সবাই রেডি হচ্ছে। মায়া শাড়িটা পরেই ভিডিও কলে রাফার সঙ্গে কথা বলছে। রাফা কেন মায়ার বিয়েতে থাকছে না সেই নিয়ে দুই বান্ধবীর মন খারাপ। রাফা বলল…
‘তুই যখন টিয়াদের বাসায় লুকিয়ে ছিলি দুদিন, তখন ভাইয়া তোর খোঁজে আমার শ্বশুরবাড়িতে এসেছিল। পুলিশ নিয়ে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে, নাদিমকে পুলিশে দিয়েছে। এই নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছিল আমার শশুর বাড়িতে। আমরা অনেক বললাম তুই আশুগঞ্জ আসিসনি, তারপরও ভাইয়া কারও কথা শোনেনি। আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষকে হেনস্তা করেছে। নাদিম গোটা একদিন জেলে ছিল। তোকে খুঁজে পাওয়ার পর পুলিশ নাদিমকে জেল থেকে ছাড়ে। এই নিয়ে আমার তোর ওপর অনেক রাগ ছিল। সেজন্য এতদিন কথা বলিনি। আসিফ ভাইয়া সেদিন নাদিমকে কল করে তোদের বিয়ের দাওয়াত দিয়েছিল। আমি রেগে ছিলাম বলে তোর সাথে কথা বলতে চাইনি কিন্তু নাদিম বোঝাল এতে তোর দোষ নেই। তোর সাথে সম্পর্কটা নষ্ট না করতে। আমিও তোকে অনেক মিস করছিলাম সেজন্য কল করলাম। নাদিম আমাকে তোর বিয়েতে নিয়ে আসতে চেয়েছিল কিন্তু আমিই আসিনি। প্রেগন্যান্সির অবস্থায় দূরে জার্নি করা নিষেধ আমার। সেজন্য আসতে পারিনি, সরি দোস্ত।
রাফার কথায় মায়া হতবাক, বাকরুদ্ধ হয়ে বসে রইল। মায়ার অনুপস্থিতিতে রিদ এত কিছু করেছে মায়ার জানা ছিল না। মায়া স্তব্ধ হয়ে আওড়াল…
‘আমার অনুপস্থিতিতে এত কিছু হয়েছে আমি তার কিছুই জানতাম না রাফা। সত্যি বল…
মায়াকে থামিয়ে রাফা বলল…
‘আমি জানি।
মায়া বেশ অনুতপ্ত এবং অপরাধীর ন্যায় বলল…
‘সরি রাফা। আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমার জন্য তোদের এত হেনস্তা হতে হয়েছে। আমি উনার হয়ে তোর কাছে, নাদিম ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।
‘তোর ক্ষমা চাইতে হবে না বোকা। আমরা জানি রিদ ভাইয়া তোর জন্য কতটা পাগল। আমি শুধু একটাই অনুরোধ থাকবে এরপর ভাইয়া যেন কোনো কারণে নাদিমকে হেনস্তা না করে। নাদিম অতীতে তোকে পছন্দ করলেও বর্তমানে নাদিম বিবাহিত। সে তোকে ডিস্টার্ব করার মতো ছেলে না। তুই জানিস।
মায়া অপরাধবোধে কথা বলতে পারছে না। চঞ্চল রাফাকে বেশ ম্যাচিউরড দেখালো। মায়াকে বেশ করে বুঝিয়ে বলল। দুই বান্ধবীর বেশ কথা চলল। প্রথমে মায়া অনুতাপের কারণে রাফার প্রেগন্যান্সির ব্যাপারটা লক্ষ্য করেনি, কিন্তু কথা শেষে ফের রাফার প্রেগন্যান্সির খবরটা শুনে মায়া খুশিতে লাফিয়ে উঠল। খুব করে রাফাকে অভিনন্দন জানাল। কিন্তু তার পরের মুহূর্তেই মন খারাপও হয়ে গেল। মায়ার বড় বোন মুক্তা প্রেগন্যান্ট, রাফা প্রেগন্যান্ট, তাহলে মায়া কেন প্রেগন্যান্ট হচ্ছে না? মায়ার সমস্যা কোথায়? এই নিয়ে মায়ার ভীষণ মন খারাপ হলো। রিদকে এত করে বলার পরও মায়ার কেন বাবু হচ্ছে না এই নিয়ে কষ্ট পেল। কষ্টে কষ্টে মায়া রিদের সঙ্গে কথা বলা অফ করে দিল। রিদ সন্ধ্যায় একবার বাড়িতে এসে মায়ার খোঁজ করেছে কিন্তু মায়া সামনেও যায়নি, দেখাও করেনি। রিদ কী জন্য ঘরে এল, তারপর পরের মুহূর্তেই আবার তাড়াহুড়ো করে বেরিয়েও গেল। আসিফও বুঝতে পারছে না রিদ কী নিয়ে এত ব্যস্ত। রিদ ফের বাসায় এল রাত এগারোটার পরে। তখন মেয়েরা সবাই দুহাত ভর্তি মেহেদী পরছে। ছাদে আসন পেতে মেহেদী আর্টিস্ট নিয়ে বসে সবাই মেহেদী পরছে। এখানে ছোট-বড়, বাচ্চা, বয়স্ক সবাই আছে। এর মাঝে মালা এসে মায়াকে জরুরি তলবে বলল…
‘ভাবি, রিদ ভাই আইছেন। আপনেরে ডাকে। নিচে যাইতে কইছে।
মায়া দুহাতে মেহেদী পরছে। তাই ব্যস্ততা দেখিয়ে বলল…
‘আপনার ভাইকে গিয়ে বলেন আমি ব্যস্ত। আসতে পারব না।
‘ভাবি, ভাই রাগ করব।
‘করুক। আপনি যান।
মালা চলে যায়। মায়াও নিচে নামল না। মায়াকে নিচে নামতে দেখা যায় আরও ঘণ্টাখানেক পর। রাত তখন বারোটার ঘরে। মায়ার গায়ে মেহেদী রঙা জামদানি শাড়িটা পরা বাঙালিয়ানা সাজে। লম্বা চুলগুলো বেণি করে মাথায় তাজা ফুল গুঁজেছে। দুহাতে চুড়ি ছিল কিন্তু মেহেদীর জন্য খুলে রেখেছে। মায়া ছাদ থেকে নেমে কিচেনে গেল। বাড়ির সবাই ছাদে সেজন্য নিচে তেমন কেউ নেই। মালাকে কিচেনে দেখে বলল…
‘মালা আপু, আমাকে এক গ্লাস পানি খাওয়াবেন? আমার দুহাতে মেহেদী।
মালা ফ্রিজ খুলে পানির বোতল হাতে নিতে নিতে দরজার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে পানির বোতলটা র্যাকের ওপর রেখে মায়াকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে মায়া অবাক হওয়ার মতো করে দ্রুত মালাকে ডেকে বলল…
‘আরে মালা আপু, চলে যাচ্ছেন কেন? আমাকে পানি দিয়ে যান। আরেহ!
মায়া পেছনে ঘুরতেই রিদকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বুঝতে পারল মালা কেন হঠাৎ চলে গেল মায়াকে পানি না দিয়ে। মায়া রিদকে দেখে অদেখা করে নিজেই পানি নিতে চাইল। কিন্তু দুহাত ভর্তি কনুই অবধি মেহেদী থাকায় পানি ঢালতে পারছে না। তাই পানি না খেয়ে মায়া চুপচাপ রিদকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে রিদ মায়ার লম্বা চুলের বেণি টেনে আটকায়। মায়া আর্তনাদ করে বলল…
‘আরেহ! কী করছেন? চুল ছাড়ুন। উফ!
রিদ মায়ার চুলের বেণি টেনে পুনরায় ফ্রিজ অবধি নিয়ে যায়। মালার রেখে যাওয়া বোতল থেকে পানি গ্লাসে ঢেলে মায়ার মুখে ধরলে মায়া মুখ ফিরিয়ে পাশে তাকায়। রিদ কপাল কুঁচকায়। মায়ার চুল টেনে ধরা হাতটা দিয়ে রিদ মায়ার মুখ নিজের দিকে ঘুরিয়ে ফের মায়ার মুখে পানির গ্লাসটা ধরলে মায়া চুপচাপ পানি পান করে চলে যেতে নিলে চুলে টান খায়। রিদ মায়ার বেণি টেনে ধরে রেখেছে। রিদ মায়ার চুলের বেণি টেনে মায়াকে নিকটে এনে বলল…
‘কী সমস্যা?
মায়া অভিমান স্বরে বলল…
‘চুল ছাড়ুন। ব্যথা পাচ্ছি!
‘কাহিনী কী? চারবার ডাকলাম আসলে না কেন?
‘আমি আপনাকে চিনি না, তাই আসিনি।
‘ওহ আপনি আমাকে চেনেন না? সিওর আপনি?
‘হ্যাঁ, সিওর! আমি আপনাকে চিনি না।
‘না চিনেই বিয়ে করে ফেলছেন?
মায়া ফের মুখ ফিরিয়ে পাশে তাকিয়ে বলল…
‘পারিবারিক পছন্দের বিয়ে তাই করছি। নয়তো পাত্র আমার পছন্দের না।
রিদ মায়ার চুলের বেণি হালকা টেনে মায়ার মাথাটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল…
‘পাত্র পছন্দ হয়নি বলছ?
‘হ্যাঁ।
‘তাহলে এক্সচেঞ্জ করবেন? আপনার জন্য কিন্তু এক্সট্রা অফার আছে। করবেন?
মায়া রিদের দিকে তাকাল। রিদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে রিদ বেশ সিরিয়াস মুডে কথাটা বলেছে। মায়া আগের ন্যায় উত্তর দিয়ে বলল…
‘না থাক। আম্মু কষ্ট পাবে। আমি আবার বাড়ির লক্ষ্মী বউ। এই বাড়ির ছেলে খারাপ হলে কী হবে, এই বাড়ির মানুষগুলো খুব ভালো, আমার পছন্দের। শুধুমাত্র শ্বশুরবাড়ির মানুষগুলো ভালো বলে শাশুড়ির ছেলেকে কষ্টমষ্ট করে বিয়েটা করে নিব আরকি।
‘পাত্র পছন্দ হয়নি, এতেই একই পাত্রকে চারবার বিয়ে করতে যাচ্ছেন; পাত্র পছন্দ হলে কয়বার করতেন? রোজ একবার?
মায়া মাথা নাড়ায়। সম্মতি দেয়। মায়ার সম্মতিতে রিদ কপালের একপাশ হালকা চুলকে মায়ার দিকে তাকায়। মেহেদী রঙা জামদানি শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে। দুহাতে মেহেদী পরেছে। শরীরে যা অলঙ্কার আছে সবই গোল্ডের। ফর্সা শরীরে মায়াকে মেহেদী রঙের জামদানিতে চকচকে লাগছে। রিদ হঠাৎই মায়ার গলায় ঝুঁকে পড়ে শব্দ করে চুমু খেলে মায়া চমকে, ‘এ্যা এ্যা কী করছেন!’—আহাজারি করে পিছিয়ে যেতে চাইলে রিদ দুহাতে মায়ার কোমর চেপে স্থির করে।
মায়া মেহেদীমাখা দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে দেয় যাতে নষ্ট না হয়। রিদ মায়ার গলা ছেড়ে দুগালে শব্দ করে চুমু খায়। মায়ার কপালে ঠোঁট বুলিয়ে মায়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলে…
‘আমারও পাত্রী পছন্দ হয়নি। পরিবারের চাপে বিয়ে করছি। আপনাকে আমি বিশাল বড় ডিসকাউন্টের দুটো অফার দিচ্ছি। এক নাম্বার অফার—আপনার স্বামীকে ছেড়ে আমাকে বিয়ে করে ফেলুন। আর দুই নাম্বার…
মায়া রিদকে বলতে না দিয়ে দ্রুত দুই নাম্বার অপশনটা চুজ করে বলল…
‘তাহলে আমি দুই নাম্বার অফারটা নিব।
‘তাই?
‘হ্যাঁ।
‘দুই নাম্বার অফার হচ্ছে আপনি চাইলে আমরা দুজন এখনই পালিয়ে যেতে পারি দূরে কোথাও। যেখানে আপনি আর আমি থাকব শুধু। তারপর কোনো একটা কাজি অফিস দেখে বিয়ে করে নিব আর নয়তো বিয়ে ছাড়াই থাকব। কী বলেন, পালাবেন আমার সাথে?
‘এ্যাহ?
‘হ্যাঁ।
মায়া মনে করেছিল রিদ মায়াকে বিয়ে না করার অফার দেবে। অথচ রিদ ঘুরেফিরে নিজের অফারই মায়াকে দিচ্ছে। মায়া না সূচক মাথা নেড়ে বলল…
‘আর কোনো অফার নেই?
‘আপনার চাইলে অবশ্যই আছে।
‘কী অফার?
‘আপনি চাইলে আমার সাথে পরকীয়া চালাতে পারেন। ঘরে স্বামী থাকল, বাইরে আমি। কী বলেন?
মায়া রিদকে ঠেলে দিতে চেয়ে বলল…
‘ ঘুরেফিরে নিজের অফারই দিচ্ছেন। আপনি বাদে আর কোনো অফার নেই?
‘সরি ম্যাডাম। নট অ্যাভেলেবল।
‘আপনার অফারগুলো আমার পছন্দ হয়নি। এমনিতেও আমার স্বামী ভালো মানুষ না। কথা বলার আগেই উনার হাত উঠে যায়। আপনি উনার বউকে ভাগাতে চাচ্ছেন কিংবা পরকীয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন—শুনলে আপনাকে গুলি করে মারবে। আমি উনার অনেক শখের বউ। আমার সাথে ঘেঁষাঘেঁষি করা চলবে না। ছাড়ুন। দূরে যান।
মায়া যেটুকু দূরে ঠেলতে চেয়েছিল রিদ ততটুকু দূরত্ব কমিয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়িয়ে বলল…
‘সমস্যা নেই ম্যাডাম। রিদ খানের বউকেই না-হয় আমিও ভাগাভাগি করেই ভালোবাসলাম। তারপরও শখের জিনিস তো আর এমনই, ছাড়া যায় না, তাই না?
রিদের হেয়ালিতে হঠাৎ করেই মায়া প্রসঙ্গ পাল্টে বলল…
‘রাফা প্রেগন্যান্ট।
‘ওকে।
‘রাফার বিয়ে আমার পরে হয়েছে। তাও ও আমার আগে প্রেগন্যান্ট হলো কীভাবে?
রিদ বিরক্তির গলায় বলল…
‘সেটা আমি কীভাবে বলব আজব? তোমার বান্ধবী কি আমাকে বলে প্রেগন্যান্ট হয়েছে যে জানব?
দুজনের কথোপকথনে মায়া রেগে বলল…
‘বাজে কথা বলবেন না। রাফার জামাই আছে বলে ও প্রেগন্যান্ট হয়েছে। আপনিও তো আমার জামাই হন, তাহলে আমি এখনো কনসিভ করছি না কেন? সত্যি করে বলুন আপনার কি সমস্যা আছে?
রিদ এবার বেশ বিরক্তি নিয়ে মায়াকে নিজের থেকে সরিয়ে দিতে দিতে শক্ত গলায় বলল…
‘জামাই, বিয়ে মানে কি তুমি বোঝো? তোমার আমার সাথে সংসার করতে যত সমস্যা। তোমার সবার আগে বিয়ে হয়েছে সেটা হিসাব করছো অথচ তুমি যে স্বামীর সাথে সংসার করছ না সেটা দেখছ না কেন? তোমার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়েছে কয়বার? চারবার? এর মাঝে তুমি বেবি ডিমান্ড করছ কিভাবে?
রিদের শক্ত গলায় মায়া দমে যায়। মায়া মিনমিন করে বলল…
রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ১৩
‘আমার বেবি চাই!
‘শোনো রিত। আমি বিয়ে করছি শুধু নিজের জন্য। আগে আমাকে সময় দাও। বেবি নিয়ে আপাতত আমার কোনো প্ল্যানিং নেই। যদি কখনো বেবি নিতে হয় তাহলে সেটা পরে। যখন সঠিক সময় হবে তখন। নট নাউ।

Rikta apuuuu please boin amar please taratari diyo part taah 🙂
Rikta apuuuu please boin amar please taratari diyo part taah amar dhojjo shokhti bariye diccho thank you 🙂💔
Apu please aktu taratari Dio next part ta🥺🥺
Next part taratari diyo apuuuu plz plz 😂
Next part taratari daw apu 😭😎🥹
Apuuuu taratari daw na plz plz plz 😌🥹😭
😀😃😄😁😆😅🤣😂🙂🙃🫠😊😉😇🥰😍😋🥲😙😚☺️😗😘🤩😛😜🤪😝🤑🤗🤭🫢😑😐🤨🤐🫡🤔🤫🫣😶🫥😶🌫️😏😒🙄😬😮💨🤥😌😔😪🤤😴😷🤒🤕🤢🤮🥵🥶🥴😵😵💫🤯🤠🥸🥳😎🤓🧐😲😯😮☹️🙁😟🫤😕😳🥺🥹😦😧😨😰😥😩😓😞😣😖😱😭😢😫🥱😤😡😠🤬😈👿👽👻👺👹🤡🙊🙉🙈😾😿🙀😺😻😼😽
Apu daw na ai part onak din wait kortesi
আপু এতো লেট করো কেন? 😭😭😭
Apu next part kobe diba??