Home রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ১৩

রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ১৩

রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ১৩
রিক্তা ইসলাম মায়া

জেফার বাবা আলমগীরের জন্মস্থান চট্টগ্রামে। চাকরি সূত্রে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। আলমগীর সুফিয়া খানের কলিগ। সেই সাথে উনার বড় মেয়ে জেফা রিদ-আয়নের সঙ্গে প্রাইমারি একই স্কুলে পড়ত। জেফার বিয়ে হয়েছে। স্বামী আর একটা সন্তান আছে। আলমগীর পুরো পরিবারকে সুফিয়া খান বিশেষ কারণে দাওয়াত করেছেন। কারণ হলো আলমগীরের ছোট মেয়ে শুভার জন্য। আলমগীরের দুটো মেয়ে, ছেলে নেই। জেফা শুভা থেকে এগারো বছরের বড়। জেফার জন্মের পর আলমগীরের স্ত্রীর কোনো সন্তান হচ্ছিল না। অনেক চিকিৎসা, অনেক দোয়ার পর সুন্দরী দেখতে শুভার জন্ম হয়। তারপর আর সন্তান হয়নি আলমগীরের। আলমগীরের সপরিবারের দাওয়াত দেয় সুফিয়া খান কিন্তু আলমগীর আর তার স্ত্রী জানান ওরা বিয়ের দিন আসবে, কিন্তু সুফিয়া খানের কথার মান রাখতে শুভাকে দিয়ে বড় মেয়ে জেফাকে পাঠান তিনি খান বাড়িতে।

জেফা স্বভাব একটু চঞ্চল। কিন্তু শুভা শান্তশিষ্ট ভদ্র মেয়ে। যে যেটা বলে সেটাই মেনে চলে। বড়দের খুব সম্মান করে। শুভার বয়স আঠারো পেরুতে চলল। সে এ বছর অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনায় ভালো স্টুডেন্ট। সুফিয়া খান শুভাকে ছোট থেকেই চিনে, দেখেছেন বেশ কয়েকবার আলমগীরের সঙ্গে সুফিয়া খানের অফিসে আসতে। আলমগীর মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সুফিয়ার ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব ছিল স্বপ্নের মতো। রাদিফের জন্য সুফিয়া খান শুভাকে ঠিক করেছেন। এতে কারও আপত্তি নেই। শুভা-রাদিফ দুজনকে চেনা-জানার জন্য সুফিয়া খান আলমগীরকে বলে তিন-চার দিন আগেই শুভাকে খান বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। মঙ্গলবার দিনটা গিয়ে আজ বুধবার পড়ল।
রাত তখন ১:২৩। রিদ-মায়া কাল বাংলাদেশ ফিরবে এখন ফ্লাইটে আছে। খবরটা রাদিফ নিজেই জেনেছে আসিফ থেকে। আসিফ ঢাকায় তারমানে রিদও ঢাকা নামবে। হয়তো কাল সময় নিয়ে চট্টগ্রামে ফিরবে। রাদিফ ক্লান্তিতে বাসায় ফিরে কলিংবেল চাপল। নিহাল খান নয়টার দিকে বাসায় ফিরে এসেছিলেন। রাদিফের একটু লেট হয়েছে কারণ সে একটা কাজে আটকে ছিল। নিহাল খান রাদিফকে বলেছিল জেলা মন্ত্রীর বাসায় দাওয়াত পৌঁছে দিতে তাই রাদিফের দেরি করে ফেরা। বিয়ের আয়োজনে বাকি দুই-তিন দিন রাদিফ বাসায় থাকবে কোথাও যাবে না।

“আসসালামু আলাইকুম।
রিনরিনে গলা স্বরে সালাম পেয়ে রাদিফ ধ্যান ভেঙে ওপরে তাকাতে, মিষ্টি একটা মুখ চোখে পড়ল। রাদিফ কপাল কুঁচকে মেয়েটির সালামের উত্তর মনে মনে দিয়ে প্রকাশ্যে বলল,
“সরি, বাট আপনাকে চিনলাম না? কে আপনি?
শুভা মাথার কাপড়টা টেনে পাশে সরে রাদিফকে ঘরে ঢোকার জায়গা দিয়ে কিছু বলবে তার আগেই পিছন থেকে শোনা গেল সুফিয়া খানের গম্ভীর স্বর, তিনি বললেন,
“তোমার আলমগীর চাচার ছোট মেয়ে শুভা ওহ।
আলমগীর লোকটাকে রাদিফ চিনে। বেশ কয়েকবার সুফিয়া খানের অফিসে দেখেছিল। জেফাকেও চিনে ছোটবেলায় রিদের সঙ্গে একই স্কুলে পড়ত। কিন্তু কখনো শুভাকে দেখেনি। তাই রাদিফ বেশ একটা মনোযোগ দিল না। মায়ের কথার উত্তরে কিছু না বলে শুভাকে পাশ কাটিয়ে ঘরে প্রবেশ করল। শুভা দরজা লাগাল। সুফিয়া খান রাদিফকে বললেন,

“ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো খাবে।
“জি আচ্ছা।
রাদিফ চলে গেল। সুফিয়া খান শুভাকে বললেন,
“তুমি গিয়ে ডাইনিংয়ে বসো। আমার তোমার সাথে আমার কথা আছে।
“জি আচ্ছা।
দুজনই একই উত্তর দিল। সুফিয়া খান কী বলবে শুভা জানে না। তবে সে কথা মতো গিয়ে বসল। রাদিফ খাচ্ছে। শুভা বসে। সে আরও আগেই খেয়ে নিয়েছিল। সুফিয়া খান মালাকে বলে পাকা আম কেটে দিলেন। শুভা ধীরে সুস্থে সেগুলো খাচ্ছে। রাদিফ শুভা থেকে দুই চেয়ার পরে বসেছে। সুফিয়া খান শুভার মুখোমুখি আর রাদিফের পাশের চেয়ারে বসে বলল,
‘ আমি তোমাদের দুজনের বিয়ের ডিসিশন নিয়েছি। এতে পরিবারের কারও কোনো অমত নেই। আশা করছি তোমাদের দুজনেরই অমত হবে না। আমি যতটুকু জানি এই বিয়েতে শুভারও অমত নেই। আমি আশা করব তুমিও মায়ের কথা রাখবে রাদিফ।
দুজনের খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। লজ্জায় শুভার নত মস্তিষ্ক আরও নত হয়ে গেল। হাতের চামচ ফলের প্লেটের ওপর রেখে হাত গুটিয়ে নিল শুভা। রাদিফ কয়েক সেকেন্ড খাওয়া থামিয়ে ফের খেতে শুরু করল। খাওয়া শুরু করার পূর্বে চোখের পলকে একবার শুভাকেও দেখে নিল। মেয়েটা লজ্জায় হাঁসফাঁস করছে। রাদিফ ছোট উত্তরে সম্মতি দিয়ে বলল,

“তোমার ডিসিশনে আমার কোনো আপত্তি নেই।
সুফিয়া খান ভেবেছিলেন রাদিফ রাজি হবে না অস্বীকার করবে কিন্তু তার কিছুই হলো না। রাদিফ রাজি হতেই সুফিয়া খান উঠে দাঁড়ালেন। অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে দুজনকে একা থাকতে দিয়ে তিনি বললেন,
“দুজনে কথা বলো। পরিচিত হও। তাড়াহুড়ো নেই, সময় নাও। আমি তোমাদের ওপর আমার ডিসিশন চাপিয়ে দিচ্ছি না। দুজনে কথা বলে আমাকে নিজেদের মতামত জানাও।
সুফিয়া খান চলে যেতে অস্বস্তিকর পরিবেশটা আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠল। শুভার নত মস্তিষ্ক আরও নত হয়ে গেল। অতিরিক্ত অস্বস্তিতে হাঁসফাঁস করতে লাগল। বিষয়টা রাদিফ না তাকিয়ে বুঝতে পারছে। রাদিফ স্বল্প কথায় ক্ষীণ স্বরে বলল,

“আপনি ঘরে যান। গিয়ে ঘুমান।
এই কথাটার অপেক্ষাতেই ছিল হয়তো শুভা। রাদিফের বলার সঙ্গে সঙ্গেই চট করে উঠে দাঁড়াল। চেয়ারটা হালকা শব্দ হলো উঠায়। রাদিফের কথার উত্তর না দিয়ে তৎক্ষণাৎ হাঁটল শুভা। প্রথমে ধীর পায়ে তারপর একপর্যায়ে দৌড়ে নিজেদের ঘরে গেল। রাদিফ শুভার চলে যাওয়ার দিকে চোখ তুলে তাকাল। মেয়েটা চঞ্চল নাকি শান্তশিষ্ট বুঝল না। তবে শুভার দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া দেখে রাদিফ ধরে নিল মেয়েটা হয়তো চঞ্চল প্রকৃতির। মায়ের পছন্দের ওপর রাদিফের বিশ্বাস আছে। সুফিয়া খানের মতো মানুষ কখনোই রাদিফের জন্য যাকে-তাকে বাছাই করবেন না। এই মেয়েকে যদি রাদিফের জন্য ঠিক করে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই এই মেয়ে রাদিফের জন্য উত্তম হবে। রাদিফ নিজের পছন্দে একবার ঠকেছে এবার মায়ের পছন্দে দেখতে চায় সে জেতে কি না। তবে মেয়েটির সঙ্গে তারও একান্ত কিছু কথা আছে। সময় পেলে কাল সেরে নিবে।

আয়ন বারান্দায় বসে। জুই এতক্ষণ হাতের কাজগুলো সেরে বিছানা গুছিয়ে ঝাড়ু দিল। আয়ন বারান্দায় বসেছে ঘণ্টা তিনেকের বেশি হয়েছে। জুই হাতের কাজগুলো সেরে বারান্দার দরজায় দাঁড়িয়ে বলল,
“এত কী কাজ করছেন? আর কতক্ষণ লাগবে আপনার কাজ শেষ হতে?
আয়ন ল্যাপটপে কিছু ইমেইল চেক করছে রোগীদের পাঠানো রিপোর্ট রিডিং করছে। হুট করে ছুটি নেওয়ায় আয়নের ইমার্জেন্সি কিছু রোগী সিনিয়র ডাক্তারের কাছে রিকমেন্ড করতে হচ্ছে। সেই প্রসেসিংয়ে তার একটু লেট হয়ে গেল। আয়ন ল্যাপটপ থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে জুইয়ের দিকে তাকাল। জুইয়ের মধ্যে বিবাহিত মেয়েদের হাবভাব স্পষ্ট। আয়ন চোখের মোটা ফ্রেমের চশমাটা খুলে বলল,

“আপনি আমার কাছে আসুন জুই।
“কেন?” তীক্ষ্ণ স্বরে বলল জুই।
আয়ন পাল্টা জবাব দিয়ে বলল,
‘ নিজের বউকে কাছে ডাকতে আপনার ‘কেন’-র উত্তর দিতে হবে জুই? আমি বিয়ে করেছি আপনার ‘কেন’-র উত্তর দেওয়ার জন্য?
জুই হেঁটে এসে আয়নের শরীর ঘেঁষে একই সোফায় বসল। জুই বলল,
‘ পুরুষ মানুষ বিয়েই করে বউদের ‘কেন’ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। জেনে-বুঝে বিষ পান করবেন আবার চাইবেন বিষ যেন ব্যথা না দেয়। এমন অযৌক্তিক চাওয়ার কোনো মূল্য আছে বলেন?
“আপনি তাহলে বিষ।
“যদি ভাবেন তাহলে তাই।
আয়ন দুষ্টু হেসে জুইয়ের বাহুর সঙ্গে বাহু ঘেঁষে আয়ন বলল…
“আমি তো আপনাকে মধু মনে করি জুই। খুব তৃপ্তি পাই আপনাকে পান করে।
জুই কপাল কুঁচকাল। কথাটা কি আয়ন খোঁচা মারল নাকি বাজে ইঙ্গিতে বলল? জুই কপাল কুঁচকে আয়নের দিকে ঘুরে বসে বলল,

” আপনার নানি বলেছেন আমি যেন আলাদা শুই। শুক্রবার আমাদের বিয়ের পর্যন্ত। সেজন্য আপনার ঘরটা গুছিয়ে দিয়ে গেলাম। আমি আজ রাত থেকে নোহার সঙ্গে ঘুমাব।
আয়ন সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানিয়ে বলল,
“তাহলে আমি কার সাথে ঘুমাব?
“কেন একা ঘুমাবেন।
” বউ থাকতে একা কেন ঘুমাব? আমার একা ঘুমানোর অভ্যাস নষ্ট হয়ে গেছে জুই। আপনি ছাড়া আমার রাতে একা ঘুম হবে না।
জুই ঠাস করে উঠে দাঁড়াতে দাড়াতে কটাক্ষ গলায় বলল..
“ঘুম না হলে সারারাত জেগে থাকবেন তারপরও বড়দের কথা আমি অমান্য করব না।
আয়ন খানিকটা রাগ আর বিরক্তিতে জুইয়ের বাহু চেপে নিজের কাছে টেনে বলল,
‘ আপনারা সবাই মিলে আমার সাথে বাড়াবাড়ি করছেন জুই। আমি কিন্তু পরে কাউকে মানব না। বউ ছাড়া রাতে ঘুম আসে না আমার, সেটা আপনিও জানেন। আপনার কোথাও যাওয়া চলবে না। আপনি এখন আমার সাথে রুমে চলুন।

খান বাড়ি বিয়ের আমেজে মজে। ফেয়ারি লাইটের আলোয় ঝলমল করছে চারপাশ। খান বাড়ির দারোয়ান থেকে কেয়ারটেকার পযন্ত বাদ যায়নি কেউ। সুফিয়া খান সকলকেই নতুন পোশাক কিনে দিয়েছেন ছেলের বিয়ের জন্য। রিদ-মায়া আজ ভোররাতেই সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছে। মায়ার বিয়ের শপিং দেখার মতো ছিল। মনে হচ্ছিল রিদ মায়ার জন্য সিঙ্গাপুরের গোটা শপিং মলই তুলে এনেছে বাংলাদেশে। মায়া এত শপিং করেও নারাজ। রিদ মায়াকে নিয়ে হোটেল থেকে বের হয়নি কোথাও আর না মায়াকে নিয়ে শপিংয়ে বেরিয়েছিল।

খাওয়া-দাওয়া শেষে রিদ মায়াকে নিয়ে হোটেলের নিচের লবিতে যায়, সেখানে একজন ডিজাইনার ও তিনজন সেলস গার্ল দ্বারা সাজানো ছিল মায়ার জন্য গোটা আস্ত একটা শপিং শপ। মায়াকে বলা হয়েছিল নিজের পছন্দমতো সেখান থেকে শপিং করতে। প্রথমে মায়া নারাজ ছিল কিন্তু রিদের রাগান্বিত চোখের দৃষ্টি দেখে মায়া আর দ্বিমত করেনি। বিয়ের সব কেনাকাটা সেখান থেকেই করে। মায়া শুধু নিজের জন্য নয়, খান বাড়ির প্রতিটা সদস্যের জন্য শপিং করে এনেছে সিঙ্গাপুর থেকে। রিদ মায়াকে নিয়ে সেই রাতেই ফ্লাইট করে বাংলাদেশে ফিরে ভোরে।
রিদ-মায়া দুজনই ঘরে। ওরা বাংলাদেশে ফিরেছিল ভোর চারটায়, বাড়ির সবাই তখন ঘুমে। কাজের মেয়ে মালা বাড়ির দরজা খোলে। মায়া মালাকে নিষেধ করে বাড়ির কারও ঘুম ভাঙাতে। ঘরে ফিরে মায়া রিদকে গোসলে দেখে কপাল কুঁচকায়। এই লোক এত গোসল করে কীভাবে! সকালে গোসল করে, রাতে গোসল করে, সময় পেলে বিকালেও করে—এই লোক তো এভাবেই অসুস্থ হয়ে পড়বে। মায়ারা সিঙ্গাপুর থেকে আসার পথে রিদ গোসল করে রেডি হয়েছিল। এই লোকের জন্য মায়াকেও গোসল করে রেডি হতে হয়েছিল নয়তো এই লোক পছন্দ করে না মায়া গোসল না করে থাকলে। কিন্তু তাই বলে এই লোকের মতো বারবার গোসল মায়ার দ্বারা সম্ভব নয়। দিনে একবেলা গোসল দিয়েছে মানে এটাই বেশ করেছে, এই লোকের মতো তিনবেলা গোসল করার রোগ মায়ার নেই। রাতে একবার মায়া গোসল করে বেরিয়েছিল, এখন আবার মায়াকে গোসল করার কথা এই লোক বললে মায়া সোজা রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাবে মায়া, হু!

“যাও গোসল করে এসো।
মায়া সবে নিজের কানের দুল খুলছিল ড্রেসিংটেবিলের সামনে। রিদ গোসল করে ফিরে মায়ার পিছনে দাঁড়াল। খালি গা। ফর্সা বলিষ্ঠ শরীরে বিন্দু বিন্দু পানির কণা জমে। ভেজা চুল কপালে লেপ্টে। সাদা একটা তোয়ালে কোমরে বাঁধা, আরেকটা হাতে নিয়ে মাথার চুলে ঘষতে ঘষতে মায়াকে গোসল করার কথা রিদ বলল। মায়া যেন রিদের কথাটা শুনতে পায়নি। রিদ ফের মায়ার নাম ধরে ডাকল।
“রিত গোসলে যাও।
মায়া কানের দুল ড্রেসিংটেবিলের ওপর রাখতে রাখতে বলল,
‘ আমি এতবার গোসল করি না। আমি একবেলা গোসল করলেই মনের শান্তি। আমার আপনার মতোন কোনো রোগ নেই যে সারাদিন ওয়াশরুমে পড়ে থাকব আর গোসল করব। আমি শুধু হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হব বুঝেছেন?
রিদের হাত থেমে যায় মায়ার কথায়। বেশ বিরক্ত চোখে মায়ার দিকে তাকাল সে। রিদ কারও সাথে নিজের বেড শেয়ার করা তো দূর থাক, নিজের রুমে পর্যন্ত কাউকে জায়গা দেয়নি। রাদিফ কতবার কত চেষ্টা করেছে রিদের রুমে ঘুমাতে কিন্তু রিদ জায়গা দেয়নি। সেখানে রিদ খানের বউ নাকি অপরিষ্কার হয়ে ঘুরবে! রিদ নাক সিঁটকে বলল,
‘ মেজাজ খারাপ করবে না। যাও গোসল করে এসো রিত।
“পারব না।

রিদের মুখের ওপর মায়া ঠাস করে না করে দিল। রিদকে কেউ সচরাচর মুখে মুখে না করতে পারে না। সবাই ভয় পায়। কিন্তু একমাত্র রিদ খানের বউ যে কিনা রিদকে ভয় পায় না, আবার মুখে মুখে ‘না’ করে বসে। মায়ার না করার সাথে সাথে রিদ হাতের তোয়ালেটা উড়িয়ে মায়ার মাথায় ফেলে চেপে ধরে। মায়া ছটফটিয়ে ওঠে আতঙ্কে। দুই হাতে নিজের মাথা তোয়ালে থেকে বের করতে চেয়ে রিদকে বাধা দিয়ে চেঁচিয়ে বলল,
‘ অ্যাই কী করছেন? ছাড়ুন আমাকে! ছাড়ুন বলছি! উফ ব্যথা পাচ্ছি আমি!
রিদ হাতে মায়ার গলা পেচিয়ে চেপে ধরে বলল,
“আমার অবাধ্য বউ পছন্দ না রিত। মুখে মুখে তর্ক করলে দাঁত খুলে ডাস্টবিনে ফেলে দেব।
“অ্যাহ! বললেই হলো দাঁত খুলে ডাস্টবিনে ফেলে দিবেন। আপনার এসব সস্তা কথায় আমি ভয় পাই না আপনাকে! ছাড়ুন বলছি। ছাড়ুন।
মায়া ছটফটিয়ে নিজেকে ছাড়াতে চায়। রিদ দক্ষ হাতে মায়াকে ড্রেসিংটেবিলের পাশের দেয়ালে চেপে মায়ার মাথা ডেকে রাখা তোয়ালেটা উড়িয়ে ফেলে ড্রেসিংটেবিলের ওপর থেকে ছোট একটা ছুরি তুলে মায়ার গলা বরাবর বসিয়ে রিদ বলে,

‘ আমিও চাই আপনি আমাকে ভয় না পান। যারা আমাকে ভয় পায় তাদের মেরে মজা পাই না। আপনার মতো সাহসী মানুষদের মেরেই মজা পাওয়া যায় বুঝেছেন। লড়াইটা তখন সমানে সমান হয়।
রিদ গলায় ছুরি ধরতেই মায়া হকচকিয়ে ওঠে। এতক্ষণ ত্যাঁড়ামি করলেও এখন ভয়ে সোজা হয়ে যায়। মায়া মনে করেছিল ও একটু ত্যাঁড়া করলেও রিদ কিছু বলবে না, অন্য সময়ের মতো এবারও ছাড় দেবে। কিন্তু রিদ যে এখন তিলমিলিয়ে উঠবে মায়া বোঝেনি। মায়া ভয়ার্ত মুখে শুকনো ঢোক গিলে তাড়াহুড়ায় বলে,

রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ১২

“জাস্ট কিডিং! জাস্ট কিডিং! আমি তো মজা করছিলাম আপনার সাথে। আপনি তো সিরিয়াস হয়ে গেলেন। মজাও বুঝেন না।
” আপনার জাস্ট কিডিংয়ের চক্করে এক্ষুনি মারা পড়তেন ম্যাডাম। এমন মজা কেন করেন যাতে জান হারাতে হয়?

রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ১৪

8 COMMENTS

  1. Apu dohay lage next part 1koti 7lokhkho 90 bochor pore deo nh🙂🙏🏻🥲

    Please taratari dao 🫴🏻🙏🏻🙏🏻🥲🙂😩🫶🏻❤️

  2. আপু এতো দেরি করে দাও যে আগের পার্ঠে কী পড়ি তা ভুলে যাই 🥲,,,যাইহোক ,,, প্রতিটা পার্ঠ আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লাগে,, 🙂

Comments are closed.